20/09/2026
প্রশ্ন: অনলাইনে প্রতারণার কোনো আইনি প্রক্রিয়া আছে? আমি বিকাশে পেমেন্ট করছিলাম, পরে আমার পণ্য টা পাইনি।
উত্তর :
হ্যাঁ, বিকাশে বা অনলাইনে কেনাকাটা করে প্রতারিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে স্পষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যেহেতু টাকা পরিশোধ করেছেন কিন্তু পণ্য পাননি, তাই এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আপনি পর্যায়ক্রমে নিচের আইনি ধাপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
১। তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ (বিকাশ হেল্পলাইন):
বিকাশ কাস্টমার কেয়ার (16247): দেরি না করে দ্রুত ১৬২৪৭ নম্বরে কল করে ঘটনাটি জানান।
হিসাব স্থগিতের অনুরোধ: যে নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন (মার্চেন্ট বা ব্যক্তিগত নম্বর), সেটি উল্লেখ করে লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি (TxnID) সহ অভিযোগ জানান। তারা নম্বরটিতে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং তদন্তে সহায়তা করবে।
২। থানায় জিডি বা এফআইআর দায়ের:
আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি বা মামলা/এফআইআর করুন।
যেসব তথ্য/প্রমাণ সাথে রাখবেন:
বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট বা মেসেজের কপি (TxnID সহ)।
বিক্রেতার সাথে চ্যাট/কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং কল রেকর্ড (যদি থাকে)।
যে ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পণ্য অর্ডার করেছিলেন তার লিঙ্ক/ছবি।
বিক্রেতার ফোন নম্বর।
৩। সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ:
অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার অপরাধের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটে অভিযোগ জমা দিতে পারেন:
CID Cyber Crime Center: সিআইডির সাইবার হেল্পডেস্কে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বা তাদের অফিশিয়াল পেজে তথ্য জমা দিতে পারেন।
Cyber Police Center (CPC): ইমেইল করতে পারেন বা কল করতে পারেন।
'Cyber Support for Women' (যদি ভুক্তভোগী নারী হন) অথবা 'BD Police Helpdesk' অ্যাপের মাধ্যমেও অনলাইনে অভিযোগ করা যায়।
৪। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ:
আপনি যদি কোনো রেজিস্টার্ড ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বা পেজ থেকে কেনাকাটা করে প্রতারিত হন, তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তরে (DNCRP) অভিযোগ করতে পারেন।
ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানার ২৫% অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়।
ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417