ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি

ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি প্রকৃত দুস্থ/অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে ফৌজদারী (Criminal) মামলায় আইনী সেবা দেয়া হয়

19/08/2026

প্রশ্ন: আমার নানার কেনা একটি জমি নিয়ে বর্তমানে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আমার নানা বহু বছর আগে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে জমিটির মূল দলিলটি হারিয়ে যায়। এছাড়া কয়েক বছর জমির খাজনা দেওয়া হয়নি এবং জমিটি অনলাইনে/বর্তমান রেকর্ডে আমাদের নানার নামে হালনাগাদ হয়নি। সম্প্রতি এলাকার একজন জমি দালাল, যার সঙ্গে আমাদের পরিবারের এই জমি নিয়ে কোনো সম্পর্ক বা পূর্ববর্তী লেনদেন নেই, হঠাৎ করে একটি দলিল দেখিয়ে দাবি করছেন যে আমাদের নানার কেনা জমির দাগের জমিটি তার সম্পত্তি। তিনি কোথা থেকে দলিলটি পেয়েছেন এবং তার দলিলের সঙ্গে আমাদের নানার ক্রয়কৃত জমির প্রকৃত সম্পর্ক কী—তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই। অন্যদিকে, আমার নানা যাঁর কাছ থেকে জমিটি কিনেছিলেন, তাঁর ওয়ারিশরাও আমাদের দাবিকে সমর্থন করছেন এবং স্বীকার করছেন যে আমার নানা তাঁদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে জমিটি কিনেছিলেন। এখন ওই ব্যক্তি আগামীকাল একজন আমিন নিয়ে এসে জমি মাপতে চান। আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ তার দেখানো দলিল ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই না করেই জমি মাপা হলে ভবিষ্যতে সেটি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। আমাদের কাছে বর্তমানে মূল দলিল নেই, তবে জমিটির ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য, পূর্বের মালিকের ওয়ারিশদের সমর্থন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য/প্রমাণ রয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো হলো:

১। হারিয়ে যাওয়া মূল দলিলের পরিবর্তে কীভাবে সরকারি রেকর্ড/সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে নানার ক্রয় প্রমাণ করা যায়?

২। অপর পক্ষের দেখানো দলিলটি আসল এবং বৈধ কি না কীভাবে যাচাই করা যাবে?

৩। অপর পক্ষের দলিলের বায়া দলিল ও পূর্ববর্তী মালিকানার ধারাবাহিকতা কীভাবে যাচাই করা উচিত?

৪ শুধু অনলাইন রেকর্ডে আমাদের নানার নাম না থাকা কি তার মালিকানার দাবিকে দুর্বল করে?

৫। আগামীকাল অপর পক্ষের আনা আমিন দিয়ে জমি মাপার ক্ষেত্রে আমাদের কী করা উচিত?

৬। একতরফা মাপজোখ বা দখল পরিবর্তন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়?

৭।।আমাদের নানার কাছে যে লোক জমি বিক্রি করেছিল তার ওয়ারিশরা আমাদের পক্ষে থাকলে তাঁদের বক্তব্য/প্রমাণের আইনগত গুরুত্ব কতটুকু?

উত্তর :
আপনার নানার ক্রয়কৃত জমি সংক্রান্ত এই বিরোধে আইনি ও মাঠপর্যায়ের পদক্ষেপগুলো নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:

​১। হারিয়ে যাওয়া মূল দলিলের পরিবর্তে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ:
ক। ​জিডি (GD) করা: প্রথমে নিকটস্থ থানায় মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন।

খ। ​পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি: স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে দলিল হারানোর বিষয়ে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি (Proclamation) দিন।

গ। ​সার্টিফায়েড কপি (Certified Copy) সংগ্রহ: দলিলটি যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল, সেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করে জিডি ও পেপার কাটিং জমা দিয়ে দলিলের নকল বা সার্টিফায়েড কপি তুলুন।

আদালতে মূল দলিলের মতোই সার্টিফায়েড কপির আইনগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে (Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য)।

​২। অপর পক্ষের দেখানো দলিলের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই:
ক। ​সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ইনডেক্স সার্চ (Index Search): অপর পক্ষের দলিলের নম্বর, তারিখ ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাম জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ইনডেক্স সার্চ করে দেখুন যে এই নম্বরে সত্যিই কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না।

খ। ​ভুয়া বা জালিয়াতি পরীক্ষা: দলিলটিতে দেওয়া দাতার নাম, স্বাক্ষর, বায়োমেট্রিক ও সিএস/এসএ/আরএস দাগ নম্বর ভুয়া কি না তা ভলিউম বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে।

​৩। বায়া দলিল ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই:
ক। ​ধারাবাহিকতা (Chain of Title): যে ব্যক্তি জমি দাবি করছে, সে কার কাছ থেকে জমিটি কিনেছে বা পেল এবং সেই দাতা আবার কীভাবে জমির মালিক হয়েছিল—এই ধারাবাহিকতা যাচাই করতে হবে।

খ। ​বায়া দলিল সংগ্রহ: তার দলিলের পেছনে উল্লেখিত বায়া দলিলের সার্টিফায়েড কপি তুলে দেখতে হবে যে মূল মালিকের সাথে তার বায়া দলিলের কোনো মেলবন্ধন আছে নাকি কোনো ভুয়া বা জাল দলিলের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করা হচ্ছে।

​৪। অনলাইন/বর্তমান রেকর্ডে নাম না থাকার প্রভাব:
ক। ​স্বত্ব বা মালিকানার ভিত্তি: বাংলাদেশে আইনের নীতি অনুযায়ী "দলিল যার, জমি তার" (মালিকানার মূল ভিত্তি হলো দলিল ও বায়া দলিল)। কেবল নামজারি বা অনলাইন রেকর্ডে নাম না থাকলেই মালিকানা বাতিল হয়ে যায় না।

খ। ​নামজারি (Mutation) ও খাজনা: রেকর্ডে নাম না থাকা দুর্বলতা নয়, তবে প্রশাসনিক একটি ঘাটতি। আপনার নানার দলিলের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের (Tax Clearance) আবেদন করতে হবে।

​৫। আগামীকাল অপর পক্ষের আমিন দিয়ে জমি মাপার ক্ষেত্রে করণীয়:
ক। ​একতরফা মাপে আপত্তি: অপর পক্ষের আনা একক আমিনের মাপে কখনই সম্মতি দেবেন না।

খ। ​লিখিত ও মৌখিক আপত্তি: আমিন এলে তাঁকে স্পষ্ট জানাবেন যে জমির মালিকানা ও দলিল নিয়ে আইনগত বিরোধ বা অস্পষ্টতা রয়েছে।

গ। ​যৌথ মাপজোখ (Joint Survey): জমি মাপতে হলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এবং আপনাদের নিজস্ব নিরপেক্ষ সরকারি বা রেজিস্টার্ড আমিন এনে যৌথভাবে মাপতে হবে।

​৬। একতরফা মাপ বা দখল পরিবর্তন ঠেকাতে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা:
ক। ​ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা (Section 145 CrPC): জমিতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, দখলচেষ্টা বা একতরফা কাজ বন্ধ করতে দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় পিটিশন মামলা করুন। আদালত পুলিশকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার এবং সরজমিনে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেবেন।

খ। ​দেওয়ানি আদালতে স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: সিভিল কোর্টে স্বত্ব ঘোষণা ও দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের (Order 39) অধীনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Temporary Injunction) মামলা করতে পারেন, যাতে অপর পক্ষ জমিতে প্রবেশ করতে না পারে।

​৭। মূল বিক্রেতার ওয়ারিশদের বক্তব্য ও সমর্থনের আইনগত গুরুত্ব:
​অত্যন্ত শক্তিশালী দাপ্তরিক প্রমাণ: মূল বিক্রেতার ওয়ারিশদের সমর্থন আপনাদের পক্ষে সবচেয়ে বড় আইনি হাতিয়ার।

ক। ​হলফনামা (Affidavit): ওয়ারিশদের কাছ থেকে একটি লিখিত হলফনামা (Affidavit) নিন, যেখানে তাঁরা স্বীকার করবেন যে তাঁদের পূর্বপুরুষ এই জমি আপনার নানার কাছে বিক্রি করেছিলেন এবং এতে তাঁদের বা অন্য কারো কোনো মালিকানা অবশিষ্ট নেই।

খ। ​সাক্ষ্য আইনের গুরুত্ব: সাক্ষ্য আইন (Evidence Act) অনুযায়ী, মূল স্বত্বাধিকারীর ওয়ারিশদের লিখিত বা মৌখিক সাক্ষ্য আদালতে অপর পক্ষের ভুয়া দাবিকে বাতিল করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: আসামি তার নিজ বউকে জবাই করে হত্যা করে। বউ কে হত্যা করে আসামি তার নিজ মাকে জিম্মি করে রাখে পাবলিকের হাত থেকে বাঁচতে। ঘটনাস্থল থেকেই আসামিকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। আসামি আজ ১.৫ বছর কারাগারে। তার বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৭, ৩২৪, ৩৪২ ধারায় অভিযুক্ত। চার্জশীট এবং ময়নাতদন্ত আসামির বিপক্ষে। জেলা জাজ আদালত ২ বার এবং হাইকোর্ট ১ বার জামিন দেয়নি। আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বাদি, আসামির ছেলে, সাধারণ ৪ জন, পুলিশ ২ জন। আসামির ছেলে ঘটনা থেকেই আমাদের হেফাজতে। কিন্তু আজ সে তার বাপের বাড়ি চলে গেছে। তার চাচারা তাকে বিভিন্ন লোভে ফেলে প্রভাবিত করেছে। এখন সে চাচ্ছে তার আগের দেওয়া বাপের বিরুদ্ধে সাক্ষী বদলে বাপের পক্ষে সাক্ষী দিতে। তার সাক্ষী নেওয়া হয়েছে ৪-৫ মাস আগে। এখন যদি সে তার বাপের পক্ষে সাক্ষী দেয় তাহলে মামলার কোনো ক্ষতি হবে?
সে তার চাচার কথায় তার বাপকে পাগল বলতে চাচ্ছে। সে আমাদের সাথে ১.৫ বছর থেকে আমার মৃত বোনের ছেলে হয়ে বেইমানি করলো।

উত্তর:
আপনার করা প্রশ্নগুলোর উত্তর আইন অনুযায়ী নীচে বিস্তারিত দেয়া হলো:

১। আগেই শেষ হওয়া সাক্ষ্য পরিবর্তন করার আইনি সুযোগ নেই:
আপনার বোনের ছেলে (আসামির ছেলে) ৪-৫ মাস আগেই আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য দিয়ে দিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, একবার আদালতে প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তী সময়ে কেবল "চাচার কথায় পরিবর্তন করতে চাই" বললেই আদালত তা বদলে দেয় না।

​২। মামলা বা প্রসিকিউশনের কোনো ক্ষতি হবে না:
আসামির ছেলের বর্তমান মনোভাবের কারণে মামলার কোনো মূল ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রধান কারণসমূহ:
​আদালতের নথিতে আগের সাক্ষ্য বিদ্যমান: সে ৪-৫ মাস আগে বিচারকের সামনে যে সাক্ষী দিয়ে এসেছে, তা ইতিমধ্যেই আদালতের অফিশিয়াল রেকর্ডে (Deposition) নথিভুক্ত হয়ে গেছে এবং এতে তার স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ রয়েছে।

​অন্যান্য শক্তিশালী সাক্ষ্য ও প্রমাণ: মামলায় ইতিমধ্যেই ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে (বাদী, সাধারণ ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী/পাবলিক এবং ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা)।

​১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও তদন্ত প্রতিবেদন: আসামি নিজে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে ধরা হয়েছে।

​ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং চার্জশীট সরাসরি আসামির বিরুদ্ধে। পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা শক্ত অবস্থায় রয়েছে।

​৩। পরবর্তীতে পুনরায় ডাকার চেষ্টা করলেও যা ঘটবে:
আসামিপক্ষ যদি তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ ধারায় পুনরায় আদালতে ডেকে (Recall) নতুন করে সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদনও করে, তাহলেও:

​আদালত সাধারণত এ ধরনের প্রভাবিত সাক্ষীর মন পরিবর্তনকে গ্রহণ করে না।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (Public Prosecutor / PP) তাকে জেরার মাধ্যমে সহজেই প্রমাণ করতে পারবেন যে সে চাচাদের দ্বারা প্রভাবিত বা লোভের শিকার হয়ে কথা বলছে।

​কোনো সাক্ষী পূর্বে এক কথা এবং পরে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বললে আদালত তাকে "Hostile Witness" (বৈরী সাক্ষী) হিসেবে গণ্য করে এবং তার মূল (প্রথম) সাক্ষ্য ও ১৬৪ ধারার বক্তব্যকেই প্রাধান্য দেয়।

​৪। পাগল দাবির আইনি সত্যতা:
হঠাৎ করে ছেলেকে দিয়ে আসামিকে "পাগল" প্রমাণ করার চেষ্টা আইনিভাবে টিকবে না। দণ্ডবিধির ৮৪ ধারা (Insanity) অনুযায়ী আসামিকে ঘটনার সময়ে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণের দায়িত্ব আসামিপক্ষের। ঘটনার ১.৫ বছর পর কোনো চিকিৎসকের সনদ বা মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট ছাড়া কেবল ছেলের মুখে "পাগল" বললে আদালত তা সরাসরি বাতিল করে দেবে।

​আপনার বোনের ছেলের এই আচরণে হতাশ না হয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (PP)-র সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং বিষয়টি তাকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন। আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণের ভিড়ে মামলার বিচারে আসামির ছাড় পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত কম।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: পিতা যদি পরিবারের কোনো ভরণপোষণ না দেয়, বিভিন্ন রকমের হূমকি দেয়, বাজে আড্ডা দেয় তাহলে ছেলে হিসেবে কী করণীয় পদক্ষেপ নিতে পারি?

উত্তর :
পিতা যদি পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেন এবং মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করেন, তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সন্তানের বয়স ও লিঙ্গভেদে নির্দিষ্ট অধিকার ও আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

​নিচে বয়স, লিঙ্গ ও সম্পর্কিত আইনের ধারা উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১। সন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন:
​মুসলিম পারিবারিক আইন এবং বাংলাদেশ পারিবারিক আদালত আইনের মূলনীতি অনুযায়ী পিতা তাঁর সন্তানদের এবং স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য।

​(ক) ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে সন্তান:
​আইন ও বিধান: মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, একজন পিতা তাঁর ছেলে সন্তান বয়ঃসন্ধি বা ১৮ বছর বয়স অর্জন না করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ খোরপোশ ও ভরণপোষণ (আহার, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) দিতে বাধ্য।

​সংক্রান্ত আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (Family Courts Act, 2023) এর অধীনে সন্তানের পক্ষে মা বা আইনি অভিভাবক পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণের মামলা দায়ের করতে পারেন।

​(খ) ১৮ বছরের বেশি বয়সী ছেলে সন্তান:
​সাধারণ নিয়ম: সাবালক (১৮ বছর বা তার বেশি) হওয়ার পর ছেলে সন্তান সাধারণ নিয়মে পিতার কাছ থেকে আইনগতভাবে খোরপোশ দাবি করতে পারে না, কারণ আইন ধরে নেয় সাবালক ছেলে নিজে উপার্জন করতে সক্ষম।

​ব্যতিক্রম: ছেলে সন্তান যদি ১৮ বছরের বেশি বয়সেও কোনো বিশেষ শারীরিক/মানসিক শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে অপারগ হয়, অথবা উচ্চশিক্ষারত থাকে—তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের নিকট যুক্তিসঙ্গত সাহায্য দাবি করা যায়।

​(গ) কন্যা সন্তান (বয়স ১৮-এর কম বা বেশি):
​আইন ও বিধান: ছেলে ও কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ ভিন্ন। কন্যা সন্তান যতক্ষণ পর্যন্ত বিবাহিত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর বয়স ১৮-এর কম হোক বা বেশি হোক—পিতা তাঁর খোরপোশ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে আইনত বাধ্য।

​বিবাহ বিচ্ছেদের পর: কন্যা সন্তান যদি বিবাহিত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) ঘটে বা স্বামী মারা যান এবং তিনি নিজের ভরণপোষণ চালাতে অক্ষম হন, তবে পুনরায় পিতার ওপর তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব বর্তায়।

​(ঘ) মায়ের (স্ত্রীর) ভরণপোষণ:
​সন্তান সাবালক হোক বা নাবালক, পিতা যদি মায়ের (স্ত্রীর) খোরপোশ না দেন, তবে মা পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ অনুযায়ী নিজের এবং নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য আলাদাভাবে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন।

​২। হুমকি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার:
​পিতা যদি পরিবারকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বাজে আড্ডায় জড়িয়ে শান্তি বিনষ্ট করেন, তবে নিম্নলিখিত আইনি সুরক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব:

​(ক) পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১০:
​পিতা কর্তৃক পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করা (ভরণপোষণ না দেওয়া), গালিগালাজ বা মানসিক নির্যাতন করা এবং ভয়ভীতি দেখানো এই আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী "পারিবারিক সহিংসতা" হিসেবে গণ্য হয়।

​প্রতিকার (ধারা ১১ ও ১৪): ভুক্তভোগী পরিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুরক্ষা আদেশ (Protection Order) বা অন্তর্বর্তীকালীন বাসস্থানের আদেশের জন্য আবেদন করতে পারেন। আদালত পিতাকে পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করতে নিষেধ করতে পারেন এবং নিয়মিত খোরপোশ দিতে বাধ্য করতে পারেন।

​(খ) ফৌজদারি কার্যবিধি ও পেনাল কোড (হুমকি ও অসদাচরণ):
​জিডি (General Diary): পিতা যদি প্রাননাশের বা কোনো ক্ষতি করার হুমকি দেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করে রাখা উচিত।

​দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code):
​ধারা ৫০৬: অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জীবননাশের হুমকি দিলে এই ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

​ধারা ২৯৪: প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ বা গালাগালি করলে এই ধারা প্রযোজ্য।

৩। করণীয় ও ধাপে ধাপে পদক্ষেপ:
প্রথমেই মামলা মোকদ্দমা তে না গিয়ে,
ক। ​পারিবারিক ও সামাজিক শালিস: আইনি জটিলতায় যাওয়ার আগে স্থানীয় মুরুব্বি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে লিখিতভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করুন।

খ। ​আইনি নোটিশ (Legal Notice): একজন আইনজীবীর মাধ্যমে পিতাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবারকে খোরপোশ দেওয়া এবং অসদাচরণ বন্ধ করার অনুরোধ জানান।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: স্ট্যাম্প আইন ২০২২ অনুসারে কি লেটার অব গ্যারান্টি, মেমোরান্ডাম অব ডিপোজিট অব চেক, মালামাল বন্ধকীকরণ চুক্তি এইগুলাতে স্ট্যাম্প এর দরকার আছে?

উত্তর :
বাংলাদেশে বর্তমানে পৃথক কোনো "স্ট্যাম্প আইন ২০২২" নেই; মূলত 'অর্থ আইন, ২০২২' (Finance Act, 2022)-এর মাধ্যমে মূল আইন 'The Stamp Act, 1899'-এর তফসিল-১ (Schedule I) সংশোধন করে নতুন স্ট্যাম্প ডিউটি বা শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

হ্যাঁ, লেটার অব গ্যারান্টি, মেমোরান্ডাম অব ডিপোজিট অব চেক এবং মালামাল বন্ধকীকরণ চুক্তিপত্রসমূহে স্ট্যাম্প ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা, তফসিল এবং প্রযোজ্য স্ট্যাম্পের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১। লেটার অব গ্যারান্টি (Letter of Guarantee):
আইনি ধারা ও তফসিল: সংশোধিত The Stamp Act, 1899-এর Schedule I-এর Article 36 অনুসারে এটি পরিচালিত হয়। এই আর্টিকেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, "LETTER OF GUARANTEE, See Agreement (No. 5)"।

স্ট্যাম্পের হার: আর্টিকেল ৫ (Agreement) এবং আর্টিকেল ৩৬-এর যৌথ বিধান অনুযায়ী, লেটার অব গ্যারেন্টির জন্য নির্ধারিত স্ট্যাম্প ডিউটি হলো ৫০০ টাকা (Fixed)।

২। মেমোরান্ডাম অব ডিপোজিট অব চেক (Memorandum of Deposit of Cheques):

আইনি ধারা ও তফসিল: এটি The Stamp Act, 1899-এর Schedule I-এর Article 6 ("Agreement relating to deposit of title-deeds, pawn or pledge")-এর আওতাভুক্ত। চেক বা অন্য কোনো আর্থিক দলিল ঋণের জামানত বা সিকিউরিটি হিসেবে জমা রাখার চুক্তি এই ধারায় পড়ে।

স্ট্যাম্পের হার (Ad Valorem/মূল্যানুপাতিক): ঋণের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে স্ট্যাম্প শুল্ক নির্ধারিত হয়:

৩ মাসের বেশি বা চাহিবামাত্র (On demand) পরিশোধযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে: মোট ঋণের বা বিবেচ্য মূল্যের ০.৫% (সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা)।

৩ মাসের কম সময়ে পরিশোধযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে: মোট ঋণের বা বিবেচ্য মূল্যের ০.৩% (সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা)।

৩। মালামাল বন্ধকীকরণ চুক্তি (Pawn or Pledge of Movable Property):
আইনি ধারা ও তফসিল: মালামাল বা স্থাবর-অস্থাবর পণ্য বন্ধক রাখার চুক্তিটিও The Stamp Act, 1899-এর Schedule I-এর Article 6(2)-এর আওতাভুক্ত।

আইনের এই উপ-ধারায় স্পষ্টভাবে "pawn or pledge of movable property where such deposit... has been made by way of security for the repayment of money" উল্লেখ রয়েছে।

স্ট্যাম্পের হার: মেমোরান্ডাম অব ডিপোজিটের মতোই ঋণের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এর শুল্ক হিসাব করা হয়:

৩ মাসের বেশি বা অন-ডিমান্ড ঋণের বিপরীতে বন্ধক: মোট মূল্যের ০.৫% (অনূর্ধ্ব ৩ কোটি টাকা)।

অনূর্ধ্ব ৩ মাস মেয়াদি ঋণের বিপরীতে বন্ধক: মোট মূল্যের ০.৩% (অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা)।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরামর্শ (Legal Advice):
ক। প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা (Admissibility): The Stamp Act, 1899-এর Section 35 অনুযায়ী, কোনো দলিলে যদি আইনানুযায়ী সঠিক মূল্যের স্ট্যাম্প যুক্ত করা না হয়, তবে আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে সেটি আদালতে বা কোনো ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য বা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

খ। জরিমানা (Penalty): অপর্যাপ্ত বা স্ট্যাম্পবিহীন দলিলকে আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ করতে হলে Section 35 অনুযায়ী মূল ঘাটতি স্ট্যাম্প ডিউটির পাশাপাশি ১০ গুণ পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে।

সতর্কতা: বাণিজ্যিক বা ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে এই দলিলগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চুক্তি সম্পাদনের দিন বা তার পূর্বেই সরকারি ভেন্ডর থেকে সঠিক মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প কিনে তার ওপর চুক্তিপত্রটি প্রিন্ট করা এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা উচিত।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: আমি একটা দোকানে চাকরি করি ২ বছর যাবত। আমি এখন চাকরিটা ছেড়ে দিব। হিসাব করে আমি এখন ৭৬ হাজার টাকা পাবো। দোকানের মালিক আমাকে টাকা দিবে না। এখন আমি আইনের সাহায্য পাব কিনা?

উত্তর :
আপনার ২ বছরের পরিশ্রমের বকেয়া পাওনা টাকা অবশ্যই আপনার আইনি অধিকার। আপনি বাংলাদেশে শ্রম আইন ও সাধারণ আইনের আওতায় আইনি সহায়তা পেতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরাসরি মামলায় না গিয়ে ধাপে ধাপে এগোলে দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

​১। বকেয়া দাবির প্রমাণ সংগ্রহ করুন:
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কিছু লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ নিজের কাছে গুছিয়ে রাখুন:

ক। ​আপনার চাকরির নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র (যদি থাকে)।
​বেতন পাওয়ার প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশ মেমো, বা খাতার হিসাব)।

খ। ​বেতনের বকেয়া ও হিসাব সংক্রান্ত কোনো মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, বা অডিও রেকর্ড।

গ। ​দোকানের অন্যান্য কর্মচারী বা পরিচিত সাক্ষী, যারা জানেন আপনি সেখানে চাকরি করেছেন।

​২। স্থানীয় পর্যায়ে বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা:
​স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি / মালিক সমিতি: দোকানটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেখানকার দোকান মালিক সমিতি বা বাজার কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব কমিটির হস্তক্ষেপে পাওনা আদায় সম্ভব হয়।

​এলাকার গণমান্য ব্যক্তি বা মেম্বার/কাউন্সিলর: স্থানীয় কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে পারেন।

৩। আইনি নোটিশ (Legal Notice): কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে মালিকের ঠিকানায় ৭ বা ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। অনেক সময় লিগ্যাল নোটিশ পেলেই মালিক পাওনা বুঝিয়ে দেন।

​৪। আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহায়তা:
যদি আলোচনায় কাজ না হয়, তবে নিচের পথগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

ক। ​কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE): শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি কর্মরত শ্রমিক/কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে। আপনার নিকটস্থ DIFE অফিসে গিয়ে আপনার বকেয়া বেতনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। তারা মালিককে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে।

খ। ​শ্রম আদালত (Labour Court):
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, বকেয়া বেতনের জন্য শ্রম আদালতে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

মূল কথা, আপনার দাবিকৃত টাকার পরিমাণ যেহেতু কম, তাই আপনার জন্য পরামর্শ হচ্ছে, মামলা মোকদ্দমায় না গিয়ে প্রথমে স্থানীয় বাজার সমিতি বা DIFE-এর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা। এতে আপনার টাকা ও শ্রম দুইটাই সাশ্রয় হবে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: আমার নানার একমাত্র মেয়ে আমার মা। আমার মায়ের ২জন কন্যা সন্তান হলাম আমি আর আমার বোন। ২০২৫ সালে আমার নানা মারা যান। আমার মা মারা যান ২০১৮ সালে। আমার নানী জীবিত। আমার নানার আপন বোন জীবিত। তার ২ জন আপন ভাতিজা আছে। আরও আছে ৩ জন সৎ বোন। নানার রেখে যাওয়া সম্পদ হল ১০৭ শতক পারিবারিক জমি। এখন কথা হচ্ছে ১৯৬১ সালের আইন অনুযায়ী আমরা নানার সম্পদ কে কতটুকু পাব?

উত্তর :
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (Muslim Family Laws Ordinance, 1961) ৪ ধারা অনুযায়ী আপনার নানার সম্পত্তি বণ্টন করা হবে।

​এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর আগে যদি তাঁর সন্তান মারা যায়, তবে ওই সন্তানের সন্তানেরা (নাতি/নাতনি) প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী ঠিক ততটুকু অংশই পাবে, যতটুকু তাদের বাবা বা মা বেঁচে থাকলে পেতেন।

​যেহেতু আপনার নানা ২০২৫ সালে মারা যান এবং আপনার মা ২০১৮ সালে মারা গেছেন, তাই আপনার মা বেঁচে থাকলে নানার সম্পত্তি থেকে যতটুকু পেতেন, আপনারা দুই বোন যৌথভাবে ঠিক ততটুকুই পাবেন।

​ওয়ারিশদের বিবরণ ও নিয়ম:
​১. নানী (মৃতের স্ত্রী): ১/৮ অংশ (১২.৫%)।
২. মৃত মায়ের অংশ (আপনি ও আপনার বোন): ১/২ অংশ (৫০.০%)।
৩. নানার আপন বোন (আসাবা বা অবশিষ্টভোগী): বাকি ৩/৮ অংশ (৩৭.৫%)।

​অন্যান্য আত্মীয়: আপন ভাতিজা এবং ৩ জন সৎ বোন এই অবস্থায় আইনগতভাবে কোনো সম্পত্তি পাবেন না (কারণ আপনার নানার আপন বোন ও নাতনিদের উপস্থিতিতে তারা বঞ্চিত হবেন)।

​১০৭ শতক জমির বণ্টন হিসাব:

ওয়ারিশ আইনগত অংশ (ভগ্নাংশ) এবং প্রাপ্ত জমি (শতক):

১। নানী (স্ত্রী) ১/৮ অংশ অর্থাৎ ১৩.৩৮ শতক

২। আপনি (নাতনি) ১/৪ অংশ অর্থাৎ ২৬.৭৫ শতক

৩। আপনার বোন (নাতনি) ১/৪ অংশ অর্থাৎ ২৬.৭৫ শতক

৪। নানার আপন বোন ৩/৮ অংশ অর্থাৎ ৪০.১৩ শতক

মোট১ (পূর্ণাঙ্গ)১০৭ শতক

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: আমার মা ১.৫ শতাংশ জমি তার বাবার কাছে থেকে পেয়েছে। খালার ১.৫ শতাংশ ও ৩ শতাংশ কিনে নিয়েছে। তাহলে মোট জমি ৬ শতাংশ। এর কিছুদিন পরে আমরা বিক্রি করছি ৫.৫ শতাংশ। এর মধ্যে খালার কাছ থেকে কেনার সময় কোন দলিল হয় নি, কিন্তু আমরা যখন বিক্রি করি তখন খালা সাথে ছিল এবং বিক্রি দলিলে সই স্বাক্ষর দিয়েছিল। এখন ওই আধা কাঠা জমি কিভাবে বের করব?আমার মা ১.৫ শতাংশ জমি তার বাবার কাছে থেকে পেয়েছে। খালার ১.৫ শতাংশ ও ৩ শতাংশ কিনে নিয়েছে। তাহলে মোট জমি ৬ শতাংশ। এর কিছুদিন পরে আমরা বিক্রি করছি ৫.৫ শতাংশ। এর মধ্যে খালার কাছ থেকে কেনার সময় কোন দলিল হয় নি, কিন্তু আমরা যখন বিক্রি করি তখন খালা সাথে ছিল এবং বিক্রি দলিলে সই স্বাক্ষর দিয়েছিল। এখন ওই আধা কাঠা জমি কিভাবে বের করব?

উত্তর :
মায়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত কাগজপত্রে বৈধ জমি ছিল ৪.৫ শতাংশ (১.৫ শতাংশ উত্তরাধিকার + ৩ শতাংশ ক্রয়) এবং খালার ১.৫ শতাংশ ছিল লিখিত দলিল ছাড়া। ৫.৫ শতাংশ বিক্রির সময় খালার সই থাকায় বিক্রিটি আইনত গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তবে অবশিষ্ট আধা শতাংশ (০.৫ শতাংশ) জমি বাস্তব দখলে আনা ও কাগজপত্রে স্থায়ী করার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

১। ​বিক্রি দলিল পর্যালোচনা:
বিক্রি দলিলে খালার স্বাক্ষরটি কীভাবে নেওয়া হয়েছে (সহ-বিক্রেতা, দাতা নাকি প্রামাণ্য সাক্ষী) এবং দলিলের 'চৌহদ্দি' (চারপাশের সীমানা) কীভাবে লেখা হয়েছে তা পরীক্ষা করুন। খালা সহ-বিক্রেতা বা দাতা হিসেবে সই করে থাকলে খালার অরেজিস্ট্রিকৃত ১.৫ শতাংশ থেকেই বিক্রির হিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া যায়।

​খালার কাছ থেকে দলিল বা ঘোষণা গ্রহণ:
খালা যদি জীবিত ও সম্মত থাকেন, তবে তার কাছ থেকে অবশিষ্ট জমির জন্য একটি সাফ-কবলা, হেবা বা রেজিস্ট্রিকৃত 'ঘোষণা দলিল' (Deed of Declaration) করে নিন। এতে খালার অন্যান্য ওয়ারিশদের পরবর্তীতে দাবি তোলার সুযোগ থাকবে না।

২। ​আমিন দ্বারা জমি পরিমাপ ও চিহ্নিতকরণ:
একজন সরকারি বা অভিজ্ঞ আমিন (সার্ভেয়ার) দিয়ে মূল আরএস/বিএস নকশা, খতিয়ান এবং বিক্রি দলিলের চৌহদ্দি মেপে বাস্তব জমিতে অবশিষ্ট অংশ চিহ্নিত করুন। বিক্রি হওয়া ৫.৫ শতাংশ বাদ দিয়ে বাকি জমি লাল নিশানা বা খুঁটি পুঁতে সীমানা সুনির্দিষ্ট করে নিন।

৩। ​ই-নামজারি (e-Mutation) আবেদন:
সীমানা চিহ্নিত করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে মায়ের নামে ই-নামজারির আবেদন করুন।

আবেদনপত্রে ওয়ারিশ সনদ, মূল ক্রয় দলিল এবং ৫.৫ শতাংশ বিক্রির দলিলের সত্যায়িত কপি যুক্ত করতে হবে।

৪। ​আপস-বন্টননামা রেজিস্ট্রি:
যদি দাগটিতে খালার বা অন্য শরিকদের অংশ যৌথ থেকে থাকে, তবে ভবিষ্যতে সীমানা নিয়ে বিতর্ক এড়াতে সব শরিক মিলে একটি রেজিস্ট্রিকৃত 'আপস-বন্টননামা' সম্পন্ন করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

​খালা বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকলে আমিন দিয়ে মেপে সীমানা নির্ধারণ করার পর এসি ল্যান্ড অফিসে নামজারি করে নিলেই আধা শতাংশ জমি আইনিভাবে আপনার মায়ের অধীনে চলে আসবে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: একটা জমি আমার মামা,খালাসহ সবার নামেই রেকর্ড আছে। ২ খালা কিভাবে যেন দলিল ছাড়াই বিক্রি করে গেছে। এখন আমরা যখন দাবি করতে যাচ্ছি, তখন মামা বলতেছে, খালারা নাকি তাদের ভাগের চেয়ে বেশি বিক্রি করে গেছে, তাই বাকি যারা আছে, তাদের ভাগ কমে গেছে। এটা নাকি কারেকশনের আবেদন করছে আজকে ৮ মাস চলে। কোন সমাধান পাচ্ছি না। এখন এটা ঠিক করার উপায় কি আর কত সময় লাগে?

উত্তর :
দলিল ছাড়া বা খতিয়ানে নিজের অংশের চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আপনার মামা যে দাবি করছেন, সেটি আইনের চোখে পুরোপুরি টিকবে না। নিচে এর কারণ, সমাধানের উপায় এবং প্রয়োজনীয় সময় বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১। জমির মালিকানা ও বিক্রির আইনি নিয়ম:
ক। দলিল ছাড়া বিক্রি অসম্ভব: বাংলাদেশে দলিল ছাড়া স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি বা বিক্রি করা যায় না। খালারা যদি মৌখিকভাবে বা স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে থাকেন, তবে সেটির কোনো আইনি মূল্য নেই।

খ। অংশের বেশি বিক্রি অবৈধ: খালারা যদি কোনোভাবে দলিল করে দিয়েও থাকেন, তবে তারা কেবল নিজেদের যতটুকু অংশ (শেয়ার) ততটুকুই বিক্রি করতে পারবেন। নিজের অংশের চেয়ে এক ইঞ্চি জমিও বেশি বিক্রি করলে, সেই বাড়তি অংশের বিক্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। এর জন্য অন্য অংশীদারদের (যেমন আপনার মা বা মামা) ভাগ কখনো কমবে না।

২। বর্তমান সমস্যা ও সমাধান না হওয়ার কারণ:
আপনার মামা যে ৮ মাস ধরে "কারেকশন" বা খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করে রেখেছেন, সেটি মূলত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে মিস কেস (Mis Case) বা বিবিধ মামলা হিসেবে চলছে। ৮ মাস ধরে সমাধান না হওয়ার মূল কারণগুলো হলো:

ক। এসি ল্যান্ড অফিসে কাজের দীর্ঘসূত্রতা বা অতিরিক্ত ফাইল জট।

খ। বিবাদী পক্ষ (যারা জমি কিনেছে) সময়মতো শুনানিতে হাজির না হওয়া বা বারবার সময় নেওয়া।

গ। আপনার মামা সঠিকভাবে তদ্বির (Follow up) না করা।

৩। সমস্যা সমাধানের কার্যকরী উপায়:
আপনারা শুধু মামার কথার ওপর ভরসা না করে নিজেরা সরাসরি উদ্যোগ নিন। নিচে ৩টি ধাপ দেওয়া হলো:

ক। জরুরি নথিপত্র সংগ্রহ করুন:
জমির সর্বশেষ খতিয়ান (বিএস/বিআরএস/নামজারি খতিয়ান)।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তল্লাশি (Search) দিয়ে বের করুন খালারা আসলেই কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন কি না। যদি করে থাকেন, তবে সেই দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলুন।

খ। ভূমি অফিস বা এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে খোঁজ নিন:
মামা যে আবেদনটি করেছেন, সেটির মামলা নম্বর (Case Number) মামার কাছ থেকে নিন।

নিজে বা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে মামলার বর্তমান অবস্থা (Status) এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ জেনে নিন।

শুনানির দিন আপনার মা ( মা মৃত হলে তার উত্তরাধিকার গন) এবং অন্য অংশীদাররা উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করুন যে, খালারা বেশি বিক্রি করায় আপনাদের অংশ কমে যাচ্ছে, যা আইনসম্মত নয়।

গ। দেওয়ানি আদালতে মামলা (চূড়ান্ত সমাধান):
যদি ভূমি অফিস থেকে দীর্ঘদিনেও সমাধান না আসে, তবে দেওয়ানি আদালতে (Civil Court) "বণ্টন মামলা" (Partition Suit) এবং দলিলের আংশিক বাতিলের মামলা করতে হবে। আদালত তখন সরকারি আমিন পাঠিয়ে সবার অংশ মেপে যার যার সীমানা বুঝিয়ে দেবেন এবং খতিয়ান সংশোধনের আদেশ দেবেন।

৪। কত সময় লাগতে পারে?:
ক। ভূমি অফিসে (মিস কেস): সাধারণত একটি মিস কেস সমাধান হতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে। যেহেতু ইতিমধ্যে ৮ মাস হয়ে গেছে, সঠিক তদ্বির করলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আদেশ পাওয়া সম্ভব।

খ। দেওয়ানি আদালতে (বণ্টন মামলা): যদি আদালতে যেতে হয়, তবে মামলা শেষ হতে ২ থেকে ৫ বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

জরুরী বিষয় :
জমিটি বর্তমানে কার দখলে আছে তা নিশ্চিত করুন। যদি খালারা যাদের কাছে বিক্রি করেছে তারা আপনাদের জমি দখল করতে আসে, তবে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ বা আদালতে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: আমার নানার সম্পদ মায়ের নামে আর এস রেকর্ডে আসছে। এর মধ্যে আমার মা জমি বিক্রিও করছে, তখন আমরা ছোট ছিলাম। মা মারা গেছে প্রায় ১০ বছর। কেউ বলতে পারেনা আমার মা কতটুকু জমি বিক্রি করেছিল। এখন প্রশ্ন হলো আমার মা কতটুকু বিক্রি করলো আর কতটুকু এখনো আছে তা জানার উপায় কি?

উত্তর :
আপনার মায়ের নামে রেকর্ডকৃত মোট জমির পরিমাণ এবং তিনি ঠিক কতটুকু বিক্রি করেছেন বা বর্তমানে কতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা বের করা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে স্থানীয় ভূমি অফিস এবং রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

​নিচে ধাপে ধাপে পুরো উপায়টি দেওয়া হলো:
​১। আরএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি (পর্চা) সংগ্রহ:
​প্রথমে আপনার নানার কাছ থেকে মায়ের নামে আসা আরএস (RS) খতিয়ানের সত্যায়িত নকশা বা কপি সংগ্রহ করুন।

​এটি আপনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (DC Office) রেকর্ড রুম অথবা অনলাইন 'ই-খতিয়ান' পোর্টালে আরএস খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে আবেদন করে সংগ্রহ করা যায়।

​এই খতিয়ান থেকে আপনি জানতে পারবেন আপনার মায়ের নামে মোট কতটুকু জমি রেকর্ড হয়েছিল।

​২। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে 'দলিল তল্লাশি' (Search):
​আপনার মায়ের জমি যে রেজিস্ট্রি অফিসের অধীনে পড়ে, সেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে 'দলিল তল্লাশি' দিন।

​তল্লাশি দেওয়ার জন্য মায়ের নাম, নানার নাম, জমির মৌজা এবং আরএস দাগ নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

​আপনার মায়ের নামে ওই দাগে কী কী রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদিত হয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য একজন অভিজ্ঞ দলিল লেখক (মুহুরি) বা আইনজীবীর সাহায্য নিন।

​সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বাৎসরিক বালাই/সূচি (Index) বই দেখে বের করা যাবে আপনার মা কার কার কাছে, কতটি দলিলে, কতটুকু জমি বিক্রি করেছিলেন।

​৩। বিক্রীত দলিলের নকল/সত্যায়িত কপি তোলা:
​তল্লাশিতে প্রাপ্ত দলিলে উল্লিখিত মোট জমির পরিমাণ যোগ করলে পাওয়া যাবে মা মোট কতটুকু জমি বিক্রি করেছেন।

​৪। নামজারি ও বর্তমান বিএস/সিটি জরিপ যাচাই:
​এসএ/আরএস থেকে বিএস বা বর্তমান জরিপ: আপনার মায়ের বিক্রি করা জমির পর যদি এলাকায় নতুন জরিপ (BS/BD/City Survey) হয়ে থাকে, তবে বর্তমান খতিয়ান পরীক্ষা করুন।

​ক্রেতারা তাদের কেনা অংশ নামজারি (Mutation) করে নিজেদের নামে নতুন খতিয়ান তৈরি করে নিয়েছে কি না, তা জানার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে (তহসিল অফিস) গিয়ে ওই খতিয়ান ও দাগের হোল্ডিং ট্যাক্স/খাজনার রেকর্ড যাচাই করুন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/08/2026

প্রশ্ন: ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে আমাকে ৭ জুলাই। কিন্তু নগর ভবন (সাউদ) এ খোজ নিয়ে জানতে পারলাম তাদের কাছে এখনও লেটার আসে নি। তারা বলল, তারা হাতে পাওয়ার পর ৯০ দিন কাউন্ট হবে। আসলে এই নিয়ম টা ঠিক? তাছাড়া আমার কাবিন পরিশোধ করে নি। সে বিদেশ চলে যাওয়ার প্লান করতেছে। এক্ষেত্রে কি ইমিগ্রেশন মামলা দেয়া যাবে?

উত্তর :
নগর ভবনের বক্তব্য এবং আপনার উদ্ভূত সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারিবারিক ও দেওয়ানি আইন অনুযায়ী বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

​১। ৯০ দিন গণনার আইনি নিয়ম:
​নগর ভবন (সিটি কর্পোরেশন) আপনাকে যে তথ্যটি দিয়েছে, আইন অনুযায়ী তা শতভাগ সঠিক।

​সংশ্লিষ্ট আইন: ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-এর ৭ নম্বর ধারা।

​নিয়মের ব্যাখ্যা: ধারা ৭(১) অনুযায়ী, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে বা তালাকের নোটিশ পাঠালে, তার কপি স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মেয়র/চেয়ারম্যান (আপনার ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ নগর ভবন)-কে একই সাথে প্রদান করতে হবে।

​ধারা ৭(৩) স্পষ্ট উল্লেখ করে যে, মেয়র বা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে লিখিত নোটিশটি 'পৌঁছানোর (Delivered) বা প্রাপ্তির' তারিখ থেকে ৯০ দিন গণনা শুরু হবে।

​আপনি ৭ জুলাই নোটিশ পেলেও, নগর ভবন যদি তা এখনো হাতে না পেয়ে থাকে, তবে তালাকের ৯০ দিনের কাউন্টডাউন এখনো শুরুই হয়নি। তারা যেদিন রেজিস্ট্রি ডাক মারফত বা সরাসরি হাতে লিখিত নোটিশটি গ্রহণ করবে, ঠিক সেদিন থেকে ৯০ দিন শুরু হবে।

​নোট: এই ৯০ দিন মূলত আপস-মীমাংসার সময় (Arbitration Council)। এই সময়ের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন দুই পক্ষকে ডেকে নোটিশ পাঠাবে। যদি স্বামী নগর ভবনে নোটিশ না দিয়ে থাকে, তবে আইনগতভাবে তালাক কার্যকরী (Effective) হবে না এবং বিবাহ বলবৎ থাকবে।

​২। দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়:
​তালাক হোক বা না হোক, দেনমোহর (কাবিন) পরিশোধ করা স্বামীর জন্য আইনি ও বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

​আইনি পদক্ষেপ: আপনার স্বামী কাবিন পরিশোধ না করে থাকলে, আপনি অবিলম্বে আপনার স্থানীয় একতিয়ারভুক্ত পারিবারিক আদালতে (Family Court) গিয়ে "দেনমোহর ও খোরপোষ (Maintenance) আদায়ের মামলা" দায়ের করতে পারেন।

​আপনি এই মামলাতে বিয়ের পর থেকে পাওয়া বাকি থাকা দেনমোহর এবং তালাক চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত (বা ইদ্দতকালীন সময় পর্যন্ত) আপনার খোরপোষ দাবি করতে পারবেন।

​৩। বিদেশ যাত্রা রোধ এবং "ইমিগ্রেশন মামলা / নিষেধাজ্ঞা":
​আইনত সরাসরি "ইমিগ্রেশন মামলা" নামে নির্দিষ্ট কোনো আলাদা মামলা নেই, তবে স্বামী যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আপনার প্রাপ্য দেনমোহর না দিয়ে চলে যেতে পারে, সেটার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব:

​(ক) দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ (Order 39 of CPC) ও পারিবারিক আদালত:
​আপনি পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও খোরপোষের মামলা দায়ের করার সময় সাথে সাথে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction / Restraint Order) চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।

​সেখানে উল্লেখ করবেন যে, বিবাদী (স্বামী) দেনমোহরের দায় এড়াতে বিদেশ চলে যাওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে।

​আদালত সন্তুষ্ট হলে স্বামীর দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা (Travel Ban / Restraint from leaving the country) জারি করতে পারেন এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) / ইমিগ্রেশন পুলিশকে তা কার্যকর করার আদেশ প্রদান করতে পারেন।

​(খ) পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর অধীনে সম্পত্তি ক্রোক:
​আপনার স্বামী বিদেশ চলে গেলেও যাতে দেনমোহর এর টাকা আদায় করা যায়, সে জন্য মামলা চলাকালীন তার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা ব্যাংক ব্যালেন্স থাকলে তা ক্রোক (Attachment before Judgment) করার আবেদনও করা যায়।

​আপনার জন্য এখন করণীয় পদক্ষেপসমূহ:

ক। ​প্রমাণাদি সংগ্রহ করুন: আপনার দেনমোহরনামা/কাবিননামা, উনি যে তালাকের চিঠি পাঠিয়েছেন তার কপি, এবং উনি যে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন তার কোনো প্রমাণ (টিকিট, ভিসা বা মেসেজ) থাকলে তা গুছিয়ে রাখুন।

খ। ​নগর ভবনের খোঁজ রাখুন: ঢাকা দক্ষিণ নগর ভবনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন, তিনি আদৌ সেখানে নোটিশ পাঠিয়েছেন কি না। নোটিশ জমা না পড়লে তালাক আইনি রূপ পাবে না।

গ। ​জরুরি ভিত্তিতে মামলা করুন: সময় নষ্ট না করে একজন পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে অবিলম্বে পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও খোরপোষের মামলা করুন।

ঘ। ​দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আর্জি জানান: মামলার সাথেই স্বামীর বিদেশ যাত্রা ঠেকানোর জন্য জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন দিন, যেন আদালত ইমিগ্রেশনে নোটিশ পাঠাতে পারেন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

Address

৩৩, তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, ৮ তালা, পূরানা পল্টন, Dhaka
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share