ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি

ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি প্রকৃত দুস্থ/অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে ফৌজদারী (Criminal) মামলায় আইনী সেবা দেয়া হয়

20/09/2026

প্রশ্ন: অনলাইনে প্রতারণার কোনো আইনি প্রক্রিয়া আছে? আমি বিকাশে পেমেন্ট করছিলাম, পরে আমার পণ্য টা পাইনি।

উত্তর :
হ্যাঁ, বিকাশে বা অনলাইনে কেনাকাটা করে প্রতারিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে স্পষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যেহেতু টাকা পরিশোধ করেছেন কিন্তু পণ্য পাননি, তাই এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

​আপনি পর্যায়ক্রমে নিচের আইনি ধাপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
​১। তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ (বিকাশ হেল্পলাইন):
​বিকাশ কাস্টমার কেয়ার (16247): দেরি না করে দ্রুত ১৬২৪৭ নম্বরে কল করে ঘটনাটি জানান।

​হিসাব স্থগিতের অনুরোধ: যে নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন (মার্চেন্ট বা ব্যক্তিগত নম্বর), সেটি উল্লেখ করে লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি (TxnID) সহ অভিযোগ জানান। তারা নম্বরটিতে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং তদন্তে সহায়তা করবে।

​২। থানায় জিডি বা এফআইআর দায়ের:
​আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি বা মামলা/এফআইআর করুন।

​যেসব তথ্য/প্রমাণ সাথে রাখবেন:
​বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট বা মেসেজের কপি (TxnID সহ)।

​বিক্রেতার সাথে চ্যাট/কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং কল রেকর্ড (যদি থাকে)।

​যে ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পণ্য অর্ডার করেছিলেন তার লিঙ্ক/ছবি।

​বিক্রেতার ফোন নম্বর।

​৩। সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ:
​অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার অপরাধের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটে অভিযোগ জমা দিতে পারেন:

​CID Cyber Crime Center: সিআইডির সাইবার হেল্পডেস্কে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বা তাদের অফিশিয়াল পেজে তথ্য জমা দিতে পারেন।

​Cyber Police Center (CPC): ইমেইল করতে পারেন বা কল করতে পারেন।

​'Cyber Support for Women' (যদি ভুক্তভোগী নারী হন) অথবা 'BD Police Helpdesk' অ্যাপের মাধ্যমেও অনলাইনে অভিযোগ করা যায়।

​৪। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ:
​আপনি যদি কোনো রেজিস্টার্ড ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বা পেজ থেকে কেনাকাটা করে প্রতারিত হন, তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তরে (DNCRP) অভিযোগ করতে পারেন।

​ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

​অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানার ২৫% অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়।

​
ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

20/09/2026

প্রশ্ন: যৌথ খতিয়ানের খাজনা কি হোল্ডিং খুলে ওয়ারিশ হিসেবে দিব নাকি প্রতিনিধি হিসেবে দিব?

উত্তর :
যৌথ খতিয়ানের ক্ষেত্রে আপনি ওয়ারিশ (উত্তরাধিকার) হিসেবে হোল্ডিং তথ্য যুক্ত করে খাজনা পরিশোধ করবেন।

​বর্তমানে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেমে যৌথ খতিয়ান বা মূল রেকর্ডীয় মালিকের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের জন্য "উত্তরাধিকার/ওয়ারিশসূত্রে" তথ্য এন্ট্রি করার সরাসরি সুবিধা রয়েছে।

১। ​কোন ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহার করবেন:
ক। ​ওয়ারিশ হিসেবে (সঠিক পদ্ধতি):
মূল জমির মালিক বা খতিয়ানধারী যদি আপনার পিতা/মাতা বা পূর্বপুরুষ হন এবং আপনারা একাধিক ওয়ারিশ যৌথভাবে ওই জমিতে থাকেন, তবে নাগরিক প্রোফাইলে খতিয়ান যুক্ত করার সময় ওয়ারিশ/উত্তরাধিকার অপশন নির্বাচন করবেন।

এতে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহসিল অফিস) আপনার ওয়ারিশন সনদ যাচাই করে নামজারির আগেই খতিয়ানের বিপরীতে আপনার অংশের খাজনা গ্রহণ বা সমন্বিতভাবে খাজনা পরিশোধের সুযোগ দেবে।

খ। ​প্রতিনিধি হিসেবে:
অন্য কোনো জীবিত ব্যক্তির জমির খাজনা যদি আপনি তার পক্ষে পেমেন্ট করতে চান (যেমন: প্রবাসী ভাই, পরিচিত কেউ বা অন্য কোনো মালিক), কেবল তখনই "প্রতিনিধি (Representative)" অপশন ব্যবহার করতে হয়। নিজের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত করার প্রয়োজন নেই।

​
​মনে রাখবেন, জমি যদি ভাগ-বাটোয়ারা করে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা খতিয়ান বা হোল্ডিং নম্বরে খাজনা দিতে চান, তবে আপোষ বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন করে, যৌথ খতিয়ান ভাঙতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ই-নামজারি বা পৃথক জমা-ভাগ খারিজ করে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম ।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

19/09/2026

প্রশ্ন: আমার স্ত্রী রাগ করে গলায় দড়ি দিছিল। চিকিৎসার পর তিন মাস বাবার বাড়ি আছে। স্বেচ্ছায় গলায় দড়ি নিলেও তার ফ্যামিলির লোকজন আমাকে দোষ দিছিল যে আমি তাকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখছি | আমার একটা তিন বছরের সন্তান আছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে যদি আমি সংসারে নিয়ে আসি, পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঝুঁকি আমি কিভাবে এড়াতে পারি? আইনে সমাধান কি?

উত্তর :
আইনি ও মানসিকভাবে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রেখে কীভাবে এগোবেন, নিচে তার একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো:

​১। আইনি দিক থেকে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ:
​স্ত্রী যদি পুনরায় নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন এবং তার পরিবার আবারও আপনার ওপর দায় চাপায়, তবে আইনি জটিলতা এড়াতে আপনাকে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে:

ক। ​জিডি করে রাখা: স্ত্রী পূর্বে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তার পরিবার আপনাকে মিথ্যা দোষারোপ করেছিল—এই পুরো ঘটনা বিস্তারিত উল্লেখ করে আপনার স্থানীয় থানায় একটি জিডি করে রাখুন। এতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে লিখিত প্রমাণ থাকবে যে পূর্বেও তার এমন প্রবণতা ছিল।

খ। ​চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র ও প্রমাণ সংরক্ষণ: তিনি যেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন সেখানকার মেডিকেল রিপোর্ট, ডিসচার্জ সামারি, প্রেসক্রিপশন এবং আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো বার্তা বা প্রমাণ থাকলে তা নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।

গ। ​পারিবারিক আপস বা লিখিত অঙ্গীকারনামা: তাকে সংসারে ফেরত আনার আগে দুই পরিবারের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় প্রতিনিধি বা আইনজীবীর উপস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ বৈঠক করুন। বৈঠকে সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে যে:
'​পূর্বে তিনি নিজ ইচ্ছায় এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। ​ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা তিনি নিজের ক্ষতি করলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ তার নিজের এবং তার পরিবারের, আপনার বা আপনার পরিবারের নয়। ​তার পরিবার যেন ভবিষ্যতে কোনো মিথ্যা অপবাদ না দেয়।'

​২। মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তা (মেডিকেল দিক:
​গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা গুরুতর মানসিক অস্থিরতা বা ডিপ্রেশনের লক্ষণ। চিকিৎসা ছাড়া তাকে সংসারে ফিরিয়ে আনলে পুনরায় আত্মহত্যার ঝুঁকি থেকে যায়।

​সাইকিয়াট্রিস্ট (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ): তাকে বাসায় আনার পূর্বশর্ত হিসেবে একজন অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্টের মাধ্যমে তার পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

​ডাক্তারের পরামর্শপত্র: চিকিৎসক যখন লিখিতভাবে তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে সংসার করার মতো মানসিকভাবে ফিট ঘোষণা করবেন, কেবল তখনই তাকে ফিরিয়ে আনুন।

​ওষুধ ও ফলোআপ: চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত নিশ্চিত করুন এবং বাসায় ক্ষতিকর কোনো কিছু (যেমন: দড়ি, বিষ, অতিরিক্ত ওষুধ, ধারালো বস্তু) তার হাতের নাগালে রাখবেন না। যদিও এগুলো সংসারে থাকে।

সিসি টিভি ক্যামেরা : অবশ্যই আপনার বাসায় সিসি টিভি ক্যামেরা লাগাবেন। হিডেন ক্যামেরার ব্যাবস্থাও করবেন। তার পূর্বে আপনার বউকে আনবেন না। বউকে আপনার বাসায় আনার পর, কোথাও ঘুরতে গেলে, আপনি চেস্টা করবেন আপনার সাথে হিডেন ক্যামেরা রাখতে, যেমন- ঘড়ি। তাহলে, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলে, আপনার উপর তার দায় পড়বে না।

​৩। সন্তানের ভবিষ্যৎ ও আপনার করণীয়
​তিন বছরের শিশুর মানসিক বিকাশ ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে পদক্ষেপ নিন। আপনি আপনার বউয়ের বাপেরবড়ি যাবেন। বউ, সন্তান কে সময় দিবেন। তারা সেখানে থাকলেও, ভরনপোষণ এর খরচ দিবেন। বউ পুরোপুরি সুস্থ হলে, আপনার বাসায় ক্যামেরা সেট করার পর তাকে আনবেন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

18/09/2026

প্রশ্ন: আমাদের জমির উপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইন আছে। এখন আমাদের করণীয় কি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর :
আপনার জমির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন থাকলে কি কি আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিতে পারবেন, তা নিচে ধাপে ধাপে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

​১। প্রাসঙ্গিক আইনি অধিকার ও ধারাসমূহ:
ক। ​বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ (The Electricity Act, 2018):

​ধারা ৭ (বিদ্যুৎ লাইন বা প্ল্যান্ট স্থানান্তর): আপনার জমিতে স্থাপিত বিদ্যুৎ লাইনটি যদি আপনার ব্যবহারের জন্য বাধা সৃষ্টি করে বা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে আপনি তা সরানোর বা পুনঃস্থাপন করার আবেদন করতে পারেন। লাইসেন্সি (বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা) আবেদন বিবেচনা করে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা ও খরচ নির্ধারণ করবে।

​ধারা ১২ (ক্ষতিপূরণ প্রদান): বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, লাইন নির্মাণ বা অবকাঠামো স্থাপনের কারণে আপনার জমি, ফসল বা সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হলে অথবা জমির বাজারমূল্য কমে গেলে লাইসেন্সি (বিদ্যুৎ অফিস) আপনাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।

​ধারা ১৪ (আপিল): লাইসেন্সির কোনো সিদ্ধান্ত বা ক্ষতিপূরণের পরিমাণে সংক্ষুব্ধ হলে সরকারের নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

খ। ​দ্য টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৮৮৫ (The Telegraph Act, 1885):
​বাংলাদেশে সাধারণত জমি অধিগ্রহণ না করে যখন ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন বা টাওয়ার বসানো হয়, তখন টেলিগ্রাফ অ্যাক্টের ধারাগুলো সরাসরি প্রযোজ্য হয়।

​ধারা ১০ (ক্ষতিপূরণের বাধ্যবাধকতা): বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জমি ব্যবহার করলেও জমির মালিকানা আপনারই থাকবে। তবে ব্যবহারের কারণে যে ক্ষতি হবে তার জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

​ধারা ১৬ (জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার): বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে যদি জমির মালিক হিসেবে আপনি আপত্তি জানান, অথবা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DC) বিষয়টি শুনানি করবেন এবং আদেশ জারি করে বিরোধ নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবেন।

গ। ​স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ :
​যদি কোনো উচ্চ ভোল্টেজের সাবস্টেশন বা গ্রিড টাওয়ারের জন্য আপনার জমি স্থায়ীভাবে সরকারের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়, তবে এই আইনের অধীনে বাজারমূল্যের অতিরিক্ত হারে ক্ষতিপূরণ (বেসরকারি/ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০০% বা মোট ৩ গুণ) পাওয়ার বিধান রয়েছে।

​২। আপনার করণীয় ও কার্যপদ্ধতি:
ক। তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রস্তুতি:
​জমিটির মালিকানার সঠিক কাগজপত্র (খতিয়ান/পর্চা, নামজারি জমাভাগ, এবং দাখিলা/খাজনার রশিদ) প্রস্তুত রাখুন।

​বিদ্যুৎ লাইনের কারণে আপনার জমির ব্যবহার বা মূল্যের কি ক্ষতি হচ্ছে, কিংবা নিরাপত্তার কি কি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে তা বর্ণনা করে স্পষ্ট ছবি বা বিবরণ প্রস্তুত করুন।

​খ। বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন :
​প্রথমে আপনার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী/সঞ্চালনকারী কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (XEN) বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (যেমন: PGCB, BPDB, REB/পল্লী বিদ্যুৎ ইত্যাদি) বরাবরে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিন।

​আবেদনে ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৭ অনুযায়ী লাইনটি সরানোর অনুরোধ জানান অথবা ধারা ১২ অনুযায়ী আপনার ভূমির ক্ষতির জন্য উপযুক্ত অর্থ বা ক্ষতিপূরণ দাবি করুন।

​জমা দেওয়ার সময় আবেদনের একটি রিসিভ কপি (প্রাপ্তিস্বীকার) নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।

​গ। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DC) কার্যালয়ে আবেদন:
​বিদ্যুৎ অফিস যদি আপনার আবেদন উপেক্ষা করে, লাইন সরাতে না চায় বা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আপনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DC)-এর কাছে যাওয়া।

​‘দ্য টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৮৮৫’-এর ধারা ১৬ এবং ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’-এর ধারা ১২ উল্লেখ করে "জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট" বরাবরে একটি আইনি আবেদন দায়ের করুন।

​জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষকে (আপনাকে এবং বিদ্যুৎ অফিসকে) নিয়ে শুনানি করবেন এবং উপযুক্ত নির্দেশ বা ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দেবেন।

​ঘ। বিচারিক আদালতে পদক্ষেপ (প্রয়োজন সাপেক্ষে):
​যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্তে আপনি অসন্তুষ্ট হন, তবে দ্য টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৮৮৫-এর ১৬(৩) ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য আদালতের আশ্রয় নিতে পারবেন। ​যদি আপনার অনুমতি ছাড়া জবরদস্তিমূলকভাবে কোনো কাজ শুরু করা হয়, তবে জমি রক্ষার্থে চিরস্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Injunction) জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

17/09/2026

প্রশ্ন: সাবরেজিস্টার অফিসে দাতা গ্রহীতার নামের ও মৌজা ভিত্তিক দাগের সূচি বই ও ফি বই নষ্ট হয়ে গেলে, পুরাতন দলিল খুঁজে বের করার উপায় কী?

উত্তর :
সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দাতা-গ্রহীতার নামের সূচি বই (Index Book), মৌজাভিত্তিক দাগের সূচি এবং ফি বই নষ্ট বা বিনষ্ট হয়ে গেলেও পুরাতন দলিল খুঁজে বের করার জন্য বেশ কিছু বিকল্প ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়:

​১। জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ডরুমে অনুসন্ধান:
সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সব দলিলের বালাম বই (Volume Book) এবং সূচিপত্রের একটি অতিরিক্ত প্রতিলিপি (Duplicate copy) জেলা সদর রেকর্ডরুমে সংরক্ষণ করা হয়।

​সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সূচি নষ্ট হলেও জেলা সদরের জেলা রেজিস্টার (DR) কার্যালয়ের রেকর্ডরুমে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে এনডোর্সমেণ্ট/সূচি বা বালাম তল্লাশি দেওয়া যায়।

​২। জেলা মহাফেজখানা (Collectorate Record Room):
অনেক পুরনো দলিলের রেকর্ড বা মৌজাভিত্তিক রেকর্ডের কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মহাফেজখানায় স্থানান্তরিত হয়। সেখানে তল্লাশি দিয়ে দলিলের নম্বর বা বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হতে পারে।

​৩। বালাম বই অক্ষত থাকলে পৃষ্ঠা নম্বর দিয়ে বের করা:
সূচি বই নষ্ট হলেও যদি বালাম বই (যেখানে মূল দলিলের নকল লেখা থাকে) অক্ষত থাকে:

​আপনার কাছে যদি আনুমানিক রেজিস্ট্রি করার সাল বা বছর জানা থাকে, তবে ওই নির্দিষ্ট বছরের বালাম বই একে একে দেখে (Physical/Manual Search) দলিল খুঁজে বের করা যায়।

​এজন্য অভিজ্ঞ দলিল লেখকের সহায়তা নিলে কাজটা অনেক সহজ হবে।

​৪। ভূমির অন্য তথ্যসূত্রের মাধ্যমে দলিল নম্বর উদ্ধার:
দলিলের নাম বা সূচি না পাওয়া গেলেও নিচের তথ্যগুলোর মাধ্যমে দলিলের নম্বর ও তারিখ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে:

ক। ​নামজারি (Mutation) ও খতিয়ান: জমিটি যদি নামজারি হয়ে থাকে, তবে নামজারির মূল আবেদনপত্র, খতিয়ান বা নামজারির কেস ফাইলের তথ্যে পূর্ববর্তী মূল দলিলের নম্বর ও তারিখ উল্লেখ থাকে।

খ। ​এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিস ও তহশিল অফিস: স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রক্ষিত বাটার খতিয়ান বা হোল্ডিং ট্যাক্স/খাজনার রশিদে দলিলের তথ্য বা রেফারেন্স থাকতে পারে।

গ। ​বিগত বা পরবর্তী মালিকানার দলিল: জমিটির আগের বা পরের কোনো দলিলের বিবরণীতে (বায়া দলিলে) উক্ত দলিলের নম্বর ও তারিখের উল্লেখ থাকতে পারে।

​ঘ। আদালতের সার্টিফাইড কপি বা মামলার নথি:
উক্ত জমি নিয়ে পূর্বে কোনো দেওয়ানি মামলা, বণ্টন মামলা বা আইনি বিরোধ হয়ে থাকলে আদালতের নথি, আরজি বা জবানবন্দিতে দলিলের বিবরণ সংযুক্ত থাকে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

17/09/2026

প্রশ্ন: ছাদক আলী অনুমতি দং নজু মিঞা এই কথার মানে কি? আর নজু মিঞার পিতার নাম চেক করার উপায় কি?

উত্তর :
"ছাদক আলী অনুমতি দং নজু মিঞা" কথার অর্থ:

​ভূমি বা জমির খতিয়ানে "দং" শব্দটি সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যার পূর্ণ অর্থ "দখলকার"।

​মূল মালিক: ছাদক আলী (জমির স্বত্বাধিকারী)।

​অনুমতি দং (অনুমতি দখলকার): নজু মিঞা।

​অর্থাৎ, জমিটির আসল মালিক ছাদক আলী, কিন্তু তিনি নজু মিঞাকে জমিতে বসবাস বা চাষাবাদের জন্য অনুমতি সাপেক্ষে দখল বা ভোগের সুযোগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নজু মিঞা জমির মালিক হননি; কেবল ছাদক আলীর অনুমতিক্রমে সেখানে সাময়িকভাবে দখলকার হিসেবে আছেন।

​নজু মিঞার পিতার নাম চেক করার উপায়:
​দলিল বা খতিয়ানে সরাসরি পিতার নাম না থাকলে নিচে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে তথ্যটি খুঁজে বের করা সম্ভব:

​বাস্তব বা স্থানীয় অনুসন্ধান: সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি, স্থানীয় মেম্বার/কাউন্সিলর বা চৌকিদারের কাছ থেকে বংশীয় বা পারিাবরিক পরিচয় সম্পর্কে জানুন।

​সার্টিফাইড কপি (CS/SA/RS/BS খতিয়ান) সংগ্রহ: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (DC Office) রেকর্ড রুম থেকে ওই খতিয়ানের মূল প্রজা বা দখলকারের পূর্ণাঙ্গ সার্টিফাইড কপি বা 'পর্চা' তুলুন। সার্টিফাইড কপিতে দখলকার বা স্বত্বাধিকারীর নামের নিচে সাধারণত তার পিতার নাম বা সাকিন (ঠিকানা) বিস্তারিত লেখা থাকে।

​বায়া দলিল বা মূল দলিল অনুসন্ধান: জমি হস্তান্তরের কোনো পুরানো 'বায়া দলিল' বা রেজিস্ট্রি দলিল থাকলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি দিয়ে মূল দলিলে উল্লেখিত পক্ষে ও সাক্ষী/সংলগ্ন ব্যক্তিদের তালিকায় পিতার নাম পেতে পারেন।

​অনলাইন ভূমি সেবা পোর্টাল : বাংলাদেশের অফিসিয়াল ভূমি সেবা পোর্টালে গিয়ে মৌজা, দাগ বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেখা যায়।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

17/09/2026

প্রশ্ন: আমার বাবা ওয়ারিশ সূত্রে ২৯ শতক জমি পেয়েছিল। রেকর্ড হচ্ছে আমার বাপ চাচাদের নামে। সেখান থেকে ২১ শতক জমি বিক্রি ও করেছে আমার বাবা ২০১৬ সালে। আমার বাপ চাচাদের ভিতর রেজিস্টার্ড বন্টননামা দলিল আছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর, আমার বাবার অবশিষ্ট ৮ শতাংশ জমির নামজারি হয় আমার, আমার মা ও আমার বোনের নামে। কিন্তু ওই ৮ শতক জমি বন্ধক দিয়েছে আমার দাদার চাচাতাও ভাইয়ের ওয়ারিশগন অন্য একজন মানুষ এর কাছে। আমার দাদার চাচাতো ভাইয়ের ওয়ারিশগণ এর দখলে থাকা আমাদের ৮ শতাংশ জমি আমরা কিভাবে উদ্ধার করতে পারব?

উত্তর :
আপনার জমিটির আইনি অধিকার সম্পূর্ণ শক্তিশালী, কারণ আপনাদের কাছে বাবার রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল রয়েছে এবং বাবার মৃত্যুর পর আপনাদের (আপনি, আপনার মা ও বোন) নামে সরকারি নামজারি (Mutation) খতিয়ান ও জমা-খারিজ প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে।

যেকোন আইনি পদক্ষেপ নেবার পূর্বে আপনাদের পক্ষ থেকে নীচের ​জরুরি কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন:
ক। ​আপনার দাদার মূল স্বত্ব/রেকর্ড ও বাবার নামে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল।

খ। ​২০১৬ সালে আপনার বাবার ২১ শতক জমি বিক্রির দলিল।

গ। ​আপনার, আপনার মা ও বোনের নামে তৈরি হওয়া নামজারি (Mutation) খতিয়ান ও হালনাগাদ খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধের রশিদ।

ঘ। ​স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত ওয়ারিশান সনদপত্র।

কোন মামলা মোকদ্দমায় যাবার পূর্বে স্থানীয় শালিশ বা লিগ্যাল নোটিশ দেবার ব্যাবস্থা করা ভালো-

১। বন্ধক গ্রহীতাকে সতর্ক করা (স্থানীয় পন্থায় মীমাংসা):
​যিনি জমিটি বন্ধক নিয়েছেন, তাকে আইনি নোটিশ বা লিখিতভাবে জানান যে—যাদের কাছ থেকে তিনি বন্ধক নিয়েছেন, রেজিস্টার্ড বণ্টননামা ও সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী উক্ত জমিতে তাদের কোনো স্বত্ব বা অধিকার নেই।
​অবৈধ স্বত্ব থেকে নেওয়া বন্ধক আইনিভাবে বাতিল বলে গণ্য হয়। এতে বন্ধক গ্রহীতা তার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য মূল অপরাধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং জমি ছেড়ে দেবে বলে আশা করা যায়।

এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আইনি পন্থায় আগাতে হবে।

​বাংলাদেশের প্রচলিত আইন—বিশেষ করে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং প্রথাগত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিবেচনা করে জমিটি পুনরুদ্ধারের জন্য ধাপে ধাপে সুনির্দিষ্ট আইনি পরামর্শ নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

​২। নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী ব্যবস্থা (সবচেয়ে দ্রুত প্রতিকার):

​যেহেতু আপনাদের নামে বৈধ নামজারি খতিয়ান রয়েছে এবং প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ স্বত্ব ছাড়া জমিটি দখলে রেখে অন্য ব্যক্তির কাছে বন্ধক দিয়েছে, তাই এই আইনে আপনারা দ্রুত সমাধান পেতে পারেন:

ক। ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) / এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন (ধারা ৮):
ধারা ৮ (১) অনুযায়ী, উপযুক্ত আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে তার জমি থেকে দখলচ্যুত করা হলে বা অবৈধভাবে দখল করে রাখা হলে, দখল পুনরুদ্ধারের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা যায়।

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আপনার নামজারি খতিয়ান ও রেজিস্টার্ড বণ্টননামা সংযুক্ত করে জমি ফেরত পাওয়ার লিখিত আবেদন করুন।

খ। ​অবৈধ দখলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (ধারা ৭):
হালনাগাদকৃত সর্বশেষ খতিয়ান (যা আপনাদের আছে) বা আইনানুগ দলিল ব্যতীত কোনো ব্যক্তি জমি দখলে রাখতে পারবেন না।

​প্রতিপক্ষের নামে কোনো বৈধ খতিয়ান বা দলিল না থাকায় তাদের দখল রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

গ। ​প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ (ধারা ৪ ও ৫):
​নিজেদের মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও আপনার দাদার চাচাতো ভাইয়ের ওয়ারিশগণ অন্য ব্যক্তির কাছে জমি বন্ধক দিয়ে প্রতারণা করেছে।

​এই অপরাধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী সরাসরি এখতিয়ারভুক্ত থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলযোগ্য ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

​৩। প্রথাগত ফৌজদারি ও প্রশাসনিক প্রতিকার:
ক। ​সহকারী কমিশনার (ভূমি) / AC Land কার্যালয়ে আবেদন:
​আপনারা এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে নামজারিকৃত জমির সীমানা নির্ধারণ (Demarcation) এবং অন্যায়ভাবে অন্যের দখলে থাকা জমি চিহ্নিত করে উচ্ছেদের প্রশাসনিক আবেদন করতে পারেন।

খ। ​ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলা::
​জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলা করতে পারেন। আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেবে প্রতিপক্ষ যেন বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করতে না পারে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পারে।

গ। ​পেনাল কোডের অধীনে প্রতারণার মামলা:
​জমি নিজের না হয়েও বন্ধক দিয়ে অন্যের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করায় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা) এবং ৪৪৭ (অনধিকার প্রবেশ) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বা থানায় সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন।

​৪। দেওয়ানি প্রতিকার:
​যদি প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে জমিটি উদ্ধার না হয় বা জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষ জটিলতা সৃষ্টি করতে চায়, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে:

ক। ​স্বত্ব সাব্যস্তপূর্বক খাস দখল উদ্ধারের মামলা (Suit for Declaration of Title and Recovery of Possession):
​সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৮ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হবে।

​আদালতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অবৈধ বন্ধক চুক্তিকে বাতিল ঘোষণা করানো এবং আদালতের সহায়তায় বা নাজির পাঠিয়ে জমিতে আপনাদের শারীরিক দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া যাবে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

17/09/2026

প্রশ্ন: বন্টন দলিল করতে যদি ৬ জন শরিক এর মধ্যে ১ জন অনুপস্থিত থাকে তাহলে কি বন্টন দলিল রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হবে না ? তার স্বাক্ষর যদি কোন ভাবে মেনেজ করা যায় তাহলে, স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারবে না সে এখন কি করণীয়, জানাবেন বিস্তারিত।

উত্তর :
বাংলাদেশের দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন (Registration Act, 1908) অনুযায়ী বন্টন দলিল সম্পন্ন করার জন্য সকল শরিকের সম্মতি ও তাদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সমস্যাটি দুটি অংশে সমাধান করা হলো:

​১। ১ জন অনুপস্থিত থাকলে বা সই না দিলে বন্টন দলিল হবে কি?:
না, সকল শরিকের স্বশরীরে উপস্থিতি ও স্বাক্ষর ব্যতীত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো আপস-বন্টন দলিল (Amicable Partition Deed) রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব নয়।

​আইনগতভাবে কোনো এক শরিক বাদ পড়লে বা অসম্মত থাকলে সেটিকে "আপস-বন্টন" বলা যায় না।

​সাব-রেজিস্ট্রার আইনত এই ধরণের অপূর্ণাঙ্গ দলিল রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ করবেন না।

​২। শরিক যদি স্বশরীরে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে করণীয় কি?:
তার অনুপস্থিতিতে অন্য উপায়ে বা অবৈধভাবে স্বাক্ষর "ম্যানেজ" বা জাল করার চেষ্টা করলে পুরো দলিলটিই বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা ফৌজদারি অপরাধ (Fraud/Forgery) হিসেবে গণ্য হবে।

​অনুপস্থিত ব্যক্তি যদি বন্টনে সম্মত থাকেন কিন্তু কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে (যেমন: বিদেশে অবস্থান, অসুস্থতা বা দূরে থাকা) স্বশরীরে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে আইনি উপায়ে এটি সম্পন্ন করার ৩টি মূল পথ রয়েছে:

ক। ​পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney):
​দেশে থাকলে: অনুপস্থিত শরিক নিজের পক্ষ থেকে যেকোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা অন্য কোনো শরিককে একটি "পাওয়ার অব অ্যাটর্নি" (আমমোক্তারনামা) দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যেতে পারেন। পরবর্তীতে উক্ত পাওয়ার হোল্ডার অনুপস্থিত শরিকের হয়ে দলিলে স্বাক্ষর করবেন ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হবেন।

​বিদেশে থাকলে: অনুপস্থিত শরিক যে দেশে আছেন, সেখানকার বাংলাদেশ হাই কমিশন/দূতাবাসে গিয়ে একটি "পাওয়ার অব অ্যাটর্নি" সম্পাদন করবেন। কনস্যুলার সেকশন থেকে সত্যায়িত করার পর ওই নথি বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশে এটি আসার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs) ও সংশ্লিষ্ট ডিসি অফিস (Revenue branch) থেকে সত্যায়ন ও স্ট্যাম্পিং করিয়ে নিলে পাওয়ার হোল্ডার তার পক্ষে বন্টন দলিলে স্বাক্ষর করতে পারবেন।

খ। কমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (Commission for Registration):
​অনুপস্থিত ব্যক্তি যদি মারাত্মক অসুস্থ হন বা চলাচলে অক্ষম হন, তবে রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে লিখিত আবেদন করা যায়। নির্দিষ্ট সরকারি ফি জমা দিলে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা নিজেই অসুস্থ ব্যক্তির বাড়ি বা হাসপাতালে গিয়ে উপস্থিত হয়ে তার স্বাক্ষর ও বায়োমেট্রিক গ্রহণ করে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

গ। ​আদালতে বন্টন মোকদ্দমা (Partition Suit):
​যদি ওই অনুপস্থিত শরিক জমি বন্টনে সম্মত না থাকেন বা কোনোভাবেই যোগাযোগ করা না যায়, তবে বাকি ৫ জন শরিককে বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে "বন্টন মোকদ্দমা" দায়ের করতে হবে। আদালত নোটিশ জারি করবেন এবং শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে বন্টন নামা চূড়ান্ত হবে।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

16/09/2026

প্রশ্ন: হিন্দু আইনে বাবার কন্যা সন্তানেরা কি বাবার জমি -সম্পত্তি, বসত-ভিটার ভাগ পায়? বাংলাদেশের আদালত-আইন কি বলে?

উত্তর :
আইনি কাঠামোর আলোকে বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে কন্যাদের অধিকার নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

​বাংলাদেশের হিন্দু আইন প্রধানত দায়ভাগ (Dayabhaga) মতবাদ দ্বারা পরিচালিত হয়। এই আইন অনুসারে বাবার সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের অধিকার সাধারণ (ইসলামিক বা সিভিল) উত্তরাধিকার আইনের মতো নয়, বরং বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

​১। বাবার সম্পত্তিতে কন্যাদের উত্তরাধিকারের মূল নিয়ম:
বাবার মৃত্যুর পর যদি তাঁর কোনো পুত্র, পৌত্র (নাতি) বা প্রপৌত্র (পুতি) না থাকেন এবং স্ত্রী (বিধবা) বেঁচে না থাকেন, কেবল তখনই কন্যা সন্তানরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। যদি পুত্র জীবিত থাকেন, তবে প্রচলিত দায়ভাগ আইনে কন্যারা সাধারণ নিয়মে পিতার সম্পত্তির ভাগ পান না।

​যদি পুত্র না থাকেন এবং কন্যারা উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ পান, সে ক্ষেত্রেও সব কন্যা সমান অধিকার পান না।

আইনানুসারে উত্তরাধিকারের অগ্রাধিকার ক্রম:
​কুমারী বা অবিবাহিত কন্যা: সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার পান।

​পুত্রসন্তান আছে বা পুত্রসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিবাহিত কন্যা: অবিবাহিত কন্যা না থাকলে তারা সম্পত্তি পান।

​সন্তানহীন বা বন্ধ্যা অথবা কেবল কন্যাসন্তানের জননী: প্রচলিত দায়ভাগ হিন্দু আইনে এই কন্যারা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

​২। জীবনস্বত্ব বা সীমিত মালিকানা (Limited Ownership / Women's Estate):
কন্যা সন্তানরা যদি আইনানুসারে উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার সম্পত্তি বা বসত-ভিটার অংশ পানও, তবে তাঁরা ‘সীমাবদ্ধ মালিকানা’ (Life Interest) লাভ করেন। অর্থাৎ:
​তাঁরা জীবিত থাকা অবস্থায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল বা ব্যবহার করতে পারবেন।

​তাঁরা নিজের ইচ্ছামতো এই সম্পত্তি কারো কাছে বিক্রি, দান বা হস্তান্তর করতে পারবেন না (জরুরি বা আইনি প্রয়োজন ব্যতীত)।

​তাঁদের মৃত্যুর পর এই সম্পত্তি তাঁদের নিজস্ব সন্তানরা পাবেন না; সম্পত্তিটি আবার মূল মালিক অর্থাৎ পিতার নিকটতম জীবিত পুরুষ উত্তরাধিকারীদের (Reversioners) কাছে ফিরে যাবে।

​৩। বাংলাদেশের আদালত ও আইনের বর্তমান অবস্থান:
​১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার আইন (Hindu Women's Rights to Property Act, 1937): এই আইনের মাধ্যমে মূলত বিধবা স্ত্রীদের স্বামীর সম্পত্তিতে সীমিত অধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা ২০২০ ও ২০২১ সালের বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিভিন্ন রায়ে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কন্যাদের ক্ষেত্রে দায়ভাগ আইনের প্রাচীন কাঠামোগুলোই মূলত বহাল রয়েছে।

​বসত-ভিটা ও কৃষিজমি: বাবার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী কন্যা যদি উত্তরাধিকারী হন, তবে কৃষি জমি ও বসত-ভিটা উভয়েই তাঁর অধিকার জন্মায়। কিন্তু সেক্ষেত্রেও ওপরের শর্তসমূহ এবং 'সীমিত মালিকানা' নীতি প্রযোজ্য থাকে।

​বাবার সম্পত্তি সরাসরি অর্জনের সুযোগ না থাকলেও, পিতা যদি জীবিত অবস্থায় তাঁর নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি কন্যাসন্তানকে দান বা উইল বা ট্রাস্টের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যান, তবে কন্যারা সম্পূর্ণ মালিকানা লাভ করতে পারেন।

ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

16/09/2026

প্রশ্ন: আমার বাপ চাচারা ৪ ভাই। গ্রামের বাড়িতে দুইটা হাফ বিল্ডিং ঘর। আমার বাবা সবার বড়। এক বিল্ডিং দিছে দুই কাকারে, আর হিসাব মত আরেক বিল্ডিং এর ভাগ আমার বাবা আর আরেক কাকা পাবে। কিন্তু আমার যে কাকা আর বাবা মিলে ঘর টা পাবে সেই কাকা আমার বাবারে ঘরের ভাগ দিতে চাচ্ছে না। সে বলে অন্য জায়গায় বাড়ি করে নিতে। সে একা দখল করতে চায়। অথচ আমার বাবা দুই বিল্ডিংয়ে হাফ টাকাও দিয়েছে। আমার বাবা তার বেতনের টাকা আর শ্রম পুরোটাই দিছে ওই ঘর করার জন্য। আবার, জিনিসপত্র আনা নেওয়া, দেখাশোনা, সব একা করেছে ওই হাফ বিল্ডিং করার জন্য। এখন ভাগ চাইলেই ঝগড়া করে। দুইটা বিল্ডিং এ আমার বাবার বেতন, আরেক কাকার বেতন, আর ফসলের জমি সবার একসাথে ছিল, সেখান থেকে খরচ করেছে হাফ বিল্ডিং দুইটা করার জন্য। এমন অবস্থাতে কি করতে পারি? কি আইনী সাহায্য নিতে পারি? এত কিছু আইন সম্পর্কে বুঝিনা। কখনো এইসব বিষয়ে যাইওনি। এখন আমাদের করণীয় কি?

উত্তর:
আপনি যেহেতু আপনার প্রশ্নের ভিতর উল্লেখ করেন নি যে আপনার বাপ চাচাদের ভিতর সম্পত্তি নিয়ে কোন বন্টননামা হয়েছিল কিনা, তাই আমি দুই ভাবেই উল্লেখ করে পরামর্শ দেবার চেস্টা করেছি:

​১। লিখিত বণ্টননামা (Partition Deed) থাকা ও না থাকার ওপর আইনি প্রভাব:
​পারিবারিক সম্পত্তি বা যৌথ ঘরের ক্ষেত্রে লিখিত বণ্টননামা দলিল আছে কি না, তার ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করে:

ক। ​যদি রেজিস্ট্রি করা লিখিত বণ্টননামা দলিল থাকে:
​এটি আপনার বাবার জন্য সবচেয়ে শক্ত ও শক্তিশালী প্রমাণ। বণ্টননামা দলিলে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে কোন ভাই কোন অংশ বা ঘরের কতটুকু মালিক হবেন।

​কাকা যদি রেজিস্ট্রি করা বণ্টননামা না মেনে ঘর ছেড়ে না দেন বা আপনার বাবাকে উঠতে না দেন, তবে আইনিভাবে এটি "বেআইনি দখল" হিসেবে গণ্য হবে। পুলিশ বা আদালতের মাধ্যমে দলিলে উল্লিখিত নিজের সীমানা দখল বুঝে নেওয়া অনেক সহজ ও দ্রুত হয়।

খ। ​ যদি লিখিত বা রেজিস্ট্রি করা বণ্টননামা দলিল না থাকে (মৌখিক বণ্টন বা যৌথ সম্পত্তি):
​আইন অনুযায়ী এখনও চার ভাই-ই পুরো সম্পত্তির (দুইটি হাফ বিল্ডিং সহ) যৌথ মালিক বা সহ- অংশীদার। কাকা একা একটি পুরো ঘরের একক মালিক বা স্বত্বাধিকারী দাবি করতে পারেন না।

কাকা জোর করে একা থাকতে চাইলে বা বাবাকে অন্য জায়গায় বাড়ি করতে বললে তা আইনত বাতিল হবে কারণ সম্পত্তি যতক্ষণ বণ্টন না হচ্ছে, ততক্ষণ প্রতিটি ইঞ্চিতে চার ভাইয়েরই সমান অধিকার থাকে। এর সমাধানের জন্য আপনাকে দেওয়ানি আদালতে "বণ্টন মামলা" (Partition Suit) করতে হবে।

​২। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের করণীয়:
​আদালতে দীর্ঘমেয়াদী মামলায় যাওয়ার আগে সামাজিক ও প্রাথমিক আইনি মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

​ক। স্থানীয়ভাবে পারিবারিক ও সামাজিক আপস-মীমাংসা:
​গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় মুরুব্বি এবং ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বারের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান।

আপনার বাবা যে টাকা দিয়েছেন, কেনাকাটা ও দেখাশোনা করেছেন এবং যৌথ ফসলের টাকা ব্যবহার হয়েছে—এসব তথ্য সালিশে প্রমাণ সহ দেখান।

সালিশে সমাধান হলে চার ভাইয়ের মধ্যে জায়গা ও ঘর বণ্টন করে একটি লিখিত আপস-বণ্টননামা দলিল (Compromise Partition Deed) তৈরি করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিন।

​খ। আইনি পদক্ষেপ:
​সালিশে কাকা না মানলে বা ঝগড়া-বিবাদ করতে থাকলে আপনাকে আইনি পথ অনুসরণ করতে হবে:

​i) লিগ্যাল নোটিশ (Legal Notice):
একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর মাধ্যমে কাকাকে একটি লিখিত লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ থাকবে যে, তিনি যেন বাবাকে ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দেন, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে। অনেক সময় লিগ্যাল নোটিশ পেলেই প্রতিপক্ষ আপসে রাজি হয়ে যায়।

​ ii) বণ্টন মামলা (Partition Suit) দায়ের::
যদি লিগ্যাল নোটিশেও কাজ না হয়, তবে দেওয়ানি আদালতে বণ্টন মামলা করতে হবে।

​আদালত মামলার ভিত্তিতে সব প্রমাণ (টাকা দেওয়ার হিসাব, জমির কাগজপত্র, সাক্ষ্য) পর্যালোচনা করে চার ভাইয়ের মধ্যে জমি ও ঘর আইনগতভাবে ভাগ করে সীমানা চিহ্নিত করে দেবেন।

​ নিষেধাজ্ঞা (Injunction): মামলা চলাকালীন কাকা যেন পুরো ঘর একা ব্যবহার বা দখল করতে না পারেন বা পরিবর্তন করতে না পারেন, সেজন্য আদালতে ইনজাংশনের (Injunction) আবেদন করা যায়।

​৩। ফৌজদারি প্রতিকার (জোরজুলুম ও হুমকির বিরুদ্ধে):
ভাগ চাইতে গেলে কাকা যদি মারামারি বা গালিগালাজ করেন, তবে স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি জিডি (General Diary) করে রাখুন। এতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আপনারা আইনি সুরক্ষা পাবেন। প্রয়োজনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করতে পারেন যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে।

​
​ধন্যবাদান্তে
ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
01794336417

Address

৩৩, তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, ৮ তালা, পূরানা পল্টন, Dhaka
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share