Universal Law Firm

Universal Law Firm Committed For Best Legal Solution.

02/01/2026
17/11/2025

অনেকেই জমি মাপার পদ্ধতি জানি না। তাই, সাধারণত জমি মাপার সময় আমরা একজন আমিন বা সার্ভেয়া্রের শরণাপন্ন হই। এই ব্যাপারে তখন আমাদের সেই সার্ভেয়ার বা আমিনের উপর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হয়। সেক্ষেত্রে, প্রতারিত হবার কিছুটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। জমি পরিমাপের ব্যাসিক ধারণা পারে এই সমস্যা থেকে সমাধান দিতে।
এ ছাড়া জমি পরিমাপ জানা থাকলে জমি কেনার সময় জমির পরিমাণ নিজেই মেপে বের করা যায়। এই আর্টিকেলে জমি মাপার বিভিন্ন সূত্র এবং নিয়মগুলো খুব সহজ করে বর্ণনা করা হয়েছে।
সুত্র এবং নিয়ম গুলো জানা থাকলে আশা করি, জমি মাপার বিষয়টি আপনাদের কাছে খুবই স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
জমির মাপের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন এককঃ
১ শতাংশ = ১০০০ বর্গলিংক
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গ ফুট
১ শতাংশ = ১৯৩.৬০ বর্গহাত
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
১ শতাংশ = ৪০.৪৭ বর্গ মিটার
জমি কেনার আগে আপনাকে যা যা জানতে হবে
বিভিন্ন পরিমানে জমির হিসাবঃ
১ শতক = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতক = ৪৮.৪০ বর্গগজ
১ শতক ৪০.৪৬ বর্গমিটার
১ শতক = ১৯৪.৬০ বর্গহাত
১ শতক ১০০০ বর্গলিংক
১ কাঠা = ১.৭৫ শতক (৩৫ এর মাপে)
১ কাঠা = ১.৬৫ শতক (৩৩ এর মাপে)
১ কাঠা = ১.৫০ শতক (৩০ এর মাপে)
১ একর = ৬০.৬০ কাঠা
১ একর = ৩.০৩ বিঘা
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৪০৪৬ বর্গমিটার
১ একর = ১৯৪৬০ বর্গহাত
১ একর = ১০০০০০ বর্গলিংক।
উদাহরণঃ একটি জমির দৈর্ঘ্য উত্তর আইল ৫০ ফুট, দক্ষিণ আইল ৫৪ ফুট, প্রস্থ পশ্চিম আইল ৩০ ফুট, ভিতরে এক অংশে ৩৪ ফুট, এক অংশে ৩৮ ফুট এবং পূর্ব আইল ৪০ ফুট জমিটির পরিমাণ কত ?
জমিটির দৈর্ঘ্য ৫০+৫৪ = ১০৪ (দুই দিকের দৈর্ঘ্য যোগ করা হলে) তাই ২ দিয়ে ভাগ করলে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় (১০৪ ভাগ ২) = ৫২ ফুট।
জমিটি প্রস্থে অসম হওয়ায় এর ২ দিকের বাউন্ডারীর প্রস্থ ছাড়াও ভিতরের দিকে অন্তত ২াট প্রস্থ পরিমাপ এবং তা গড় করে মূল প্রস্থ বের করা যায় ৩০+৪০+৩৪+৩৮ = ১৪২ (ফুট) এর গড় (১২৪ ভাগ ৪) ৩৫.৫ ফুট।
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ৫২ x ৩৫.৫ = ১৮৪৬ বর্গফুট (জমিটির ক্ষেত্রফল)
সূত্র মতে ৪৩৫.৬০ বর্গফুট = ১ শতাংশ।
অতএব উপরের জমিটির পরিমাণ (১৮৪৬ ভাগ ৪৩৫.৬০) = ৪.২৪ শতাংশ।
পরচা, দাখিলনামা, জমাবন্দি, দাখিলা, দাগ নাম্বার, ছুটদাগ কি?
ক্ষেত্রফল আকৃতির জমির মাপঃ
প্রথমেই সুত্রগুলো জেনে নেয়া যাক-
ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু
কর্ন = ১ বাহু X ১.৪১৪
পরীসিমা= ১ বাহু X ৪
এখন যদি প্রশ্ন হয় একটি বর্গক্ষের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য ১২০ লিংক করে হলে উহার ক্ষেত্রফল এবং জমির পরিমাণ বের কর।
তাহলে আমরা জেনেছি যে, ক্ষেত্রফল= বাহু X বাহু = ১২০ X ১২০= ১৪৪০০ বর্গলিংক (যদি ক্ষেত্রফলের একেকটি বাহু ১২০ লিংক হয়)।
এখন আমরা আগেই জেনেছি যে, ১ শতাংশ = ১০০০ বর্গ লিংক তাহলে জমির পরিমান,
১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ
১ বর্গ লিংক = ১০০০ ভাগের ১ ভাগ
১৪৪০০০ বর্গ লিংকে কত হবে?
সুতরাং ১৪৪০০০ বর্গ লিংকে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিলে যা হবে তাই হচ্ছে তার ফল অর্থাৎ ১৪.৪০ শতাংশ হবে।

জমি মাপের সহজ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতিঃ
গ্যান্টার জরিপঃ
ইংরেজ বিজ্ঞানী গ্যান্টার জরিপ কাজে ব্যবহৃত চেইন আবিস্কার করেন। তাই তার নামানুসারে এ চেইনের নামকরন করা হয়েছে “গ্যান্টর্র্স চেইন”। এ চেইনের দের্ঘ্য ২২ গজ বা ৬৬ ফুট। এতে ১০০টি লিংক আছে। প্রতি লিংকের দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি এর দু মাথায় দুটো হাতল এবং দশম লিংক একটি করে “পেন্ডিল” বা পুলি আছে।
ইদানিং ফিতা/টেপ ব্যবহার করেও জমি পরিমাপ করা হয়। সার্ভেয়ার বা আমিন সব সময় পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হিসাব ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি নিজেই জমি পরিমাপ করতে পারবেন।
হিসাবটি হলোঃ
১০০০ বর্গ লিংক (৩১.৬২x৩১.৬২ লিংক) ১ শতাংশ।
১৯৪.৬ বর্গ হাত (১৩.৯৫x১৩.৯৫ হাত) = ১ শতাংশ।
১০.০০০ বর্গ লিংক (১x১ চেইন) = ১০ শতাংশ।
৩৩.৩ শতাংশ কার্যত ৩৩ শতাংশ = ১ বিঘা। (ষ্টান্ডার্ড বিঘা)
১০০ শতাংশ বা ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর।
৪৮৪০x৯ (৯ বর্গফুট = ১ বর্গ গজ বলে = ৪৩৫৬০ বর্গফুট।
৪৩৫৬০ ১০০ (১০০ শতাংশ ১ একর বলে)= ৪৩৫.৬ বর্গফুট।
অতএব ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট বা ৪০.৪৬ বর্গমিটার (প্রায়)।

আমাদের দেশে কোথাও ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, কোথাও ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা আবার ইদানিং ৩০ শতাংশে ১ বিঘা বলা হচ্ছে।
যদিও সরকারি বিঘা ৩৩ শতাংশেই করা হয়। অপরদিকে কাঠার পরিমাণ শতাংশের পরিমাণে স্থান বিশেষ পার্থক্য হলেও ২০ কাঠায় ১ বিঘার হিসেবে সর্বত্র প্রচলিত ও স্বীকৃত আছে।

ডায়াগনাল স্কেলঃ
ডায়াগনাল স্কেল একটি চার কোনা বিশিষ্ট তামা ব্রোঞ্জের তৈরি স্কেল। ইহার চার পাশে ১০ টি ঘর বা কক্ষ থাকে প্রতিটি ঘরের মান ১০০ লিংক। ১৬”=১ মাইল স্কেলে ইহা তৈরি করা হয়। এবং গান্টার চেইনের সাথে মিল আছে বলে একে গান্টার স্কেলও বলা হয়।

আভার অফসেটঃ
এটি একটি প্লাষ্টিকের তৈরি স্কেল এই স্কেলের সাথে গান্টার স্কেলের মিল আছে। ইহার দৈর্ঘ্য ২ ” এবং প্রস্ত .৫” (ইঞ্চি) এই স্কেলের সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব সহজে মাপা যায়। এটা ছাড়া অফনেট নেয়ার ক্ষেত্রে ইহা বিশেষ সুবিধাজনক। গুনে গুনে সংখ্যা হিসাব করা যায় বলে একে গুনিয়া বলা হয়।

ডিভাইডার বা কাটা কম্পাসঃ
ইহা একটি জ্যামিতিক কম্পাস। ইহার সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব নিয়ে ডাইগোনাল স্কেলে মাপ নেয়া যায় এবং দুরত্ব গুনিয়া গুনিয়া সংখ্যা বুঝা যায়।

জোনাল জরিপঃ
ভূমি সংস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রিভিশনাল সেটেলমেন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে স্থায়ী পদ্ধতির জোনাল সেটেলমেন্ট আরম্ভ হয়। ১০ টি বৃহত্তর জেলায় জরিপ কাজ হয় এবং এ জরিপে সৃষ্ট খতিয়ানকে বাংলাদেল সার্ভে বা বি. এস. খতিয়ান বলে। কেউ আবার একে আর. এস. খতিয়ান বলে।
দিয়ারা জরিপঃ দরিয়া শব্দ থেকে দিয়ারা শব্দের উদ্ভব। যে সকল এলাকায় নদী বা সাগরের কারনে জমির ভাঙ্গাগড়া বেশী হয় সে অঞ্চলে দিয়ারা জরিপ পরিচালিত হয়।
বিঘা থেকে কাঠা ও শতাংশ বের করার পদ্ধতি :
১ কাঠা = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট x৩৫ (৩৫ শতাংশে বিঘা হিসাবে) ২০ (২০ কাঠায় বিঘা বলে)। ১ কাঠা = ১৫২৪৬২০ = ৭৬২.৩ বর্গ ফুট, ১ কাঠা ৭৬২.৩ ৪৩৫.৬ = ১.৭৫ শতাংশ। অনুরুপভাবে ৩০ শতাংশে ১ বিঘা ধরলে ১ কাঠা সমান = ১.৫০ শতাংশ। সংগৃহীত। ফটো এডিটিং সুশান্ত বিশ্বাস। ゚ ゚ #ভূমিসেবা #আইনী

08/10/2025

সোনা কেনার আগে এটা না জানলে বিপদ নিশ্চিত ১০০% 😨❌

এই বিষয়গুলি জানা থাকলেই গোল্ড কিনতে গেলে আর ঠকার ভয় নেই ।

১ ভরি - ১৬ আনা - ৯৬ রতি - ৯৬০ পয়েন্ট - ১১.৬৬৪ গ্রাম
১ আনা - ৬ রতি - ৬০ পয়েন্ট - ০.৭২৯ গ্রাম
১ রতি - ১০ পয়েন্ট - ০.১২১৫ গ্রাম
১ পয়েন্ট - ০.০১২১৫ গ্রাম

সোনা দুইভাবে পরিমাপ করা হয় গ্রাম এবং আনা / রতি । সোনার দামের হিসাব কিভাবে করবেন ?

ধরা যাক, প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকা । হিসাবের সুবিধার জন্য রাউন্ড ফিগার গণনা করছি ।

১ ভরি - ১৬ আনা / ৯৬ রতি - ১১.৬৬৪ গ্রাম
ওজনের হিসাবঃ সোনার ওজন * (২ লাখ টাকা / ১১.৬৬৪ গ্রাম)

১ আনা - ৬ রতি - ০.৭২৯ গ্রাম
ওজনের হিসাবঃ সোনার ওজন * (২ লাখ টাকা / ১১.৬৬৪ গ্রাম/১৬)

১ রতি - ১০ পয়েন্ট - ০.১২১৫ গ্রাম
ওজনের হিসাবঃ সোনার ওজন * (২ লাখ টাকা / ১১.৬৬৪ গ্রাম/৯৬)

উল্লেখ্য যে, আনার হিসাবে ১৬ এবং রতির হিসাবে ৯৬ দিয়ে ভাগ হয়েছে । এসব গাণিতিক পয়েন্টগুলি মুখস্ত রাখবেন ।

বাজারে যেহেতু ১ গ্রামের নিচে সোনার কয়েন বিক্রি হয় না তাই দেখা যাক ১ গ্রাম সোনার দাম কত হয় ?

মনে করি, ১ ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকা
১ ভরির ওজন - ১১.৬৬৪ গ্রাম
১ গ্রাম - ২ লাখ টাকা / ১১.৬৬৪ গ্রাম = ১৭,১৪৭ টাকা প্রায়

যে জিনিসগুলি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে
১. কেনার সময় খেয়াল করুন কত ক্যারেট চাচ্ছেন ও আপনাকে কত ক্যারেট প্রদান করা হচ্ছে এবং এটা পরীক্ষা করে নিন ।

২. গয়না কেনার সময় মজুরি বা মেকিং চার্জ, ভ্যাটের পরিমাণ ও অন্যান্য গোপন খরচ থাকলে জেনে নিশ্চিত হউন । ভ্যাট নরমালি ৫% ধরা হয় ।

৩. হলমার্ক ও সার্টিফিকেট চেক করে নিন । আসল সোনা কেনার সময় এই দুইটার ব্যাপারে কোন এক্সকিউজ চলবে না । অন্যথায় বিক্রি করতে পারবেন না বা ঝামেলায় পড়বেন ।

৪. অবশ্যই নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকেই সোনার কয়েন কিনুন যদি বিনিয়োগ উদ্দেশ্য থাকে । অন্যথায় আপনার পছন্দের যেকোনো দোকান থেকে গহনা কিনতে পারেন ।

এগুলি যদি আপনার জানা থাকে তাহলে আপনার মস্তিস্ক বিকৃতি ব্যতীত কেউ আপনাকে ঠকাতে পারবে না ।

অবশ্যই শেয়ার করুন এবং সেভ করে রাখুন । ধন্যবাদ

25/09/2025

✅ কীভাবে বুঝবেন আপনার জমির দলিল বৈধ কি না?
জমি কেনা বা বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন, এবং এর সাথে জড়িত আইনি প্রক্রিয়াগুলি বোঝা জরুরি। জমির দলিল হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি যা মালিকানার অধিকার প্রমাণ করে। তাই, জমি কেনার আগে দলিলটি সঠিকভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জমি কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ, এবং আইনি জটিলতা এড়াতে জমির দলিলের বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি জমির দলিল বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

১. দলিলের মূল কপি পরীক্ষা করুন:

👉নিশ্চিত করুন যে দলিলটি সঠিকভাবে সাব-রেজিস্ট্রারের দ্বারা স্বাক্ষরিত এবং সিল করা আছে।
👉দলিলের মূল কপিতে থাকা ছবি এবং মালিকের বর্তমান ছবি মিলে যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করুন।
👉দলিলের সকল পাতায় সঠিকভাবে স্ট্যাম্প লাগানো আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

২. দলিলের তথ্য যাচাই করুন:

👉দলিলে উল্লেখিত মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ইত্যাদি তথ্য সঠিক কিনা তা খতিয়ান, দাগ খতিয়ান, এবং সরকারি রেকর্ডের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
👉দলিলে উল্লেখিত সাক্ষীদের নাম এবং ঠিকানা সঠিক কিনা তা যাচাই করুন।

৩. আইনি পরামর্শ নিন:

👉একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জমির দলিলের বৈধতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
👉আইনজীবী দলিলের সকল দিক বিশ্লেষণ করে আপনাকে দলিলটি বৈধ কিনা তা জানাতে পারবেন।

৪. অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করুন:
👉সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে জমির দলিলের তথ্য অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।
👉কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জমির দলিলের বৈধতা যাচাই করার সার্ভিস প্রদান করে।

৫. সতর্কতা অবলম্বন করুন:

👉দলিলের বৈধতা সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকলে দলিলটি ক্রয় করা থেকে বিরত থাকুন।
অসৎ ব্যক্তিদের প্রতারণার শিকার হতে সাবধান থাকুন।
👉জমি কেনার আগে জমির দলিলের বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে আপনি একটি জমির দলিল বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করতে পারবেন।

জমির দলিল বৈধ কিনা তা বোঝার জন্য কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

১) দলিলে কি সকল প্রয়োজনীয় তথ্য আছে?

দলিলে জমির মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মৌজা, উপজেলা, জেলা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা?
,👉দলিলের সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা?
👉দলিলের স্বাক্ষর ও তারিখ স্পষ্টভাবে আছে কিনা?

২) দলিলের স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন

👉দলিলে সরকার নির্ধারিত স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়েছে কিনা?
👉দলিলটি সঠিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কিনা?
রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর ও তারিখ স্পষ্টভাবে আছে কিনা?

৩) দলিলের মালিকানার ধরণ।

👉দলিলের মাধ্যমে মালিকানা কিভাবে অর্জিত হয়েছে (উত্তরাধিকার, ক্রয়, বিনিময়, দান ইত্যাদি)?
👉মালিকানার ধরণ কি (মালিকানা, দখল, ভাগচাষ ইত্যাদি)?
👉মালিকানার কোনো শর্ত বা বাধা আছে কিনা?

৪) জমির অবস্থা

👉জমি কি বাস্তবে বিদ্যমান?
👉জমির মালিকানা বিতর্কমুক্ত কিনা?
👉জমির উপর কোনো ঋণ বা বন্ধক আছে কিনা?

৫) আইনি পরামর্শ
জমির দলিল বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. দলিলের বয়স:
প্রশ্ন: কত বছরের পুরোনো দলিল বৈধ?
উত্তর: দলিলের বয়সের কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে, 1976 সালের আগের দলিলগুলো "পুরাতন দলিল" হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বৈধতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হতে পারে।

৭. দলিলের ধরন:
প্রশ্ন: কত ধরণের জমির দলিল আছে?
উত্তর: বাংলাদেশে 4 ধরণের জমির দলিল আছে:
°দাগ নম্বর খতিয়ান
°মৌজা খতিয়ান
°সিএস খতিয়ান
°আরএস খতিয়ান

৮. দলিলের মালিকানা:

প্রশ্ন: দলিলে একাধিক মালিকের নাম থাকলে কী করবেন?
উত্তর: সকল মালিকের সম্মতি ছাড়া জমি বিক্রি করা যাবে না। মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সকলের স্বাক্ষর এবং সম্মতি প্রয়োজন।

৯. দলিলের মিউটেশন:

প্রশ্ন: মিউটেশন কী?
উত্তর: মিউটেশন হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের নথিভুক্তি প্রক্রিয়া। নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মিউটেশন করা আবশ্যক।

১০. দলিলের জালিয়াতি:
প্রশ্ন: জাল দলিলের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর: জাল দলিলে ভুল বানান, অস্পষ্ট তথ্য, মিথ্যা স্বাক্ষর, এবং অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

১১. দলিল যাচাই:
প্রশ্ন: জমির দলিল যাচাই করার সর্বোত্তম উপায় কী?
উত্তর: সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: আপনি যেখানে জমি অবস্থিত সেখানকার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দলিলের মূল কপি এবং খতিয়ানের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

ভূমি অফিস: আপনি যেখানে জমি অবস্থিত সেখানকার ভূমি অফিসে গিয়ে দলিলের তথ্য অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।

আইনজীবীর পরামর্শ: একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জমির দলিলের বৈধতা যাচাই করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

১২. দলিল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা:

প্রশ্ন: জমির দলিল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সমাধানের জন্য কী করবেন?
উত্তর: জমির দলিল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সমাধানের জন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা উচিত।

উল্লেখ্য: এই তথ্যগুলো শুধুমাত্র সাধারণ ধারণার জন্য।

#সংক্রান্ত #জমিজমা #জমি_পরিমান #ভাগবন্টন #জমি_মাপা #ভূমিসেবা #ফলো #পেইজ #জমির

22/09/2025

চেক প্রতারণা মামলায় হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

চেক প্রতারণা সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আদালত বলেছেন—

🔹 প্রাপকের নাম, টাকার অঙ্ক ও তারিখ ছাড়া কোনো চেক আইনের চোখে বৈধ নয় ।
🔹 ব্ল্যাঙ্ক (ফাঁকা) চেক প্রদান করলেও দাতা অর্থ প্রদানে বাধ্য নন।
🔹 “Undated cheque” বা “Blank cheque” ব্যাংকে উপস্থাপনযোগ্য নয়।

রায়ের তারিখ: ১৯ মে ২০২৫

📖 মামলার পটভূমি
অভিযোগকারী সাইফুল ইসলাম দাবি করেন—
২০১৯ সালের আগস্টে আসামি মান্নান তার কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা ঋণ নেন এবং ফেরত না দেওয়ায় ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে উপস্থাপন করলে তা “Insufficient Funds” মন্তব্যে ফেরত আসে।

আসামি জানান, তিনি ব্যবসায়িক লেনদেনে নিরাপত্তার জন্য কিছু চেক দিয়েছিলেন, যা পরে অভিযোগকারী ও তার পিতা পুরোনো চেক ব্যবহার করে মামলা করেছেন।

🏛️ ট্রায়াল কোর্টের রায় (২৩ মে ২০২৪):

অভিযোগকারী ৪৮ লাখ টাকার উৎস প্রমাণ করতে পারেননি।
চেকের লেখার অংশে ভিন্ন হস্তাক্ষর পাওয়া গেছে।
আসামি শুধু স্বাক্ষর করেছেন, বাকি তথ্য কে লিখেছে তা স্পষ্ট নয়।
➡️ ফলাফল: আসামি খালাস পান।

⚖️ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

অভিযোগকারী কোনো বৈধ প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।
প্রাপকের নাম, অর্থের পরিমাণ ও তারিখ ছাড়া কোনো চেক বৈধ নয়।
খালি বা ব্ল্যাঙ্ক চেক প্রদানের পর আসামিকে অর্থ পরিশোধে বাধ্য করার আইনি সুযোগ নেই।
পুরোনো চেক ব্যবহার করে মামলা করা হয়েছে।

📌 আদালত A.H. Ershadul Haque vs State, 75 DLR (2023) 447 মামলার নজির উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল—

চেক প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে তা উপস্থাপন করতে হবে।
Undated বা Blank চেক আইনসঙ্গত নয়।

✅ চূড়ান্ত রায়:

* হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের খালাসাদেশ বহাল রাখেন।
* অভিযোগকারীকে **৫,০০০ টাকা জরিমানা** দিতে নির্দেশ দেন, যা ৩০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল কোর্টে জমা দিতে হবে।

BDS জরিপ শুরু হয়েছে, জমির মালিকদের জন্য ৬টি সতর্কবার্তাপ্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠবাংলাদেশে শুরু ...
18/09/2025

BDS জরিপ শুরু হয়েছে, জমির মালিকদের জন্য ৬টি সতর্কবার্তা

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

বাংলাদেশে শুরু হয়েছে BDS জরিপ (Bangladesh Digital Survey)। এবার জরিপ একেবারেই আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। আগে CS, SA, RS রেকর্ডে যে ভুলগুলো ছিল, তা ঠিক করার এটি শেষ সুযোগ। তাই জমির মালিকদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।

জমির মালিকদের জন্য ৬টি সতর্কবার্তা

1. সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন
দলিল, খতিয়ান, নামজারি (মিউটেশন), কর রশিদ, উত্তরাধিকার সনদ – সব কিছু একত্রে রাখতে হবে। জরিপ টিম প্রমাণ চাইবে।

2. জমির দখল নিশ্চিত করুন
শুধু কাগজ নয়, জমিতে বাস্তব দখল থাকতে হবে। জমি ফাঁকা থাকলে বা অন্যের দখলে থাকলে নাম ওঠাতে সমস্যা হবে।

3. সঠিক তথ্য দিন
জরিপ কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে বিপদ হতে পারে। স্বচ্ছভাবে আসল তথ্য দিতে হবে।

4. প্রতিবেশীর সাথে সীমানা মিলিয়ে নিন
পাশের জমির মালিকদের সাথে সীমানা ঠিক না থাকলে জরিপে ভুল হবে এবং পরবর্তীতে মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে।

5. ভুল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানান
নাম বাদ পড়লে বা জমির পরিমাণ কম-বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে লিখিত আপত্তি আবেদন জমা দিতে হবে।

6. ডিজিটাল রেকর্ডের গুরুত্ব বুঝুন
একবার নাম সঠিকভাবে উঠলে ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল রেকর্ড পরিবর্তন করা কঠিন হবে। এখন ভুল করলে ভবিষ্যতে সন্তানরা ঝামেলায় পড়বে।

07/03/2025

একজন স্বামী প্রতিটা কাজে স্ত্রীর খুঁত ধরেন। খুব সাধারণ বিষয়ে বিশ্রীভাবে বকাঝকা করেন। এমনকি মাঝে মাঝে গায়ে হাত তোলার জন্য তেড়ে আসেন। স্ত্রীর বলা প্রতিটি কথা এবং কাজ যেন ভুলে ভর্তি। খাবার দিতে এক মিনিট দেরী হলে ক্রুদ্ধ হয়ে স্বামী চলে যান। আবার ফিরার আগেও বলেন না। কোনো রুটিন নেই। যখন-তখন ঘরে ফিরে একই ব্যবহার করেন।

ভয়ে কুঁকড়ে থাকা স্ত্রী তার সন্তানকে পড়তে বসার কথা বললেও দোষ। স্বামীর কথা, "সারাক্ষণ পড়ার কথা বলতে হবে কেন?" আবার পড়ার কথা না বললেও দোষ। "ঘরে থেকে বাচ্চাকে কেন পড়াতে পারবে না? এতো কীসের কাজ?"

বাচ্চা দুষ্টুমি করলেও স্ত্রীর দোষ। আবার চুপচাপ থাকলে-ও দোষ। শাসন করলেও দোষ। তবে স্বামী সবকিছু করতে পারবেন। স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি সম্পূর্ণ অধিকার দেখিয়ে মারতেও পারবেন। আর স্ত্রী মানেই দোষে ভরপুর একটি মানুষ। যার ভুল-ভ্রান্তি ছাড়া আরকিছুই নজরে পড়ে না। কথায় কথায় আবার ছেড়ে দেওয়ার হুমকি!

সহ্যসীমা পাড় করে একদিন স্ত্রী স্বে-চ্ছায় বিচ্ছেদ চাইলেন। কিন্তু, স্বামী ছাড়তে নারাজ। কপাল কুঁচকে বলেন, "সন্তানদের কী হবে? এ কেমন মা যে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায়!"

কোমলমতি স্ত্রী এই বিষাক্ততা পুনরায় সহ্য করতে লাগলেন। কিন্তু, স্বামীর পরিবর্তন হলো না৷ তিনি ছাড়বেনও না, ধরবেনও না। আবার ভালো ব্যবহারও করবেন না। সারাক্ষণ রাগ-ক্ষোভ, বিরক্তি এবং হিংস্র আচরণ করেও চান স্ত্রী তার সাথে থাকুক।

এ পৃথিবীতে এমন স্ত্রীদের অভাব নেই, যারা দিনের পর দিন একটা টক্সিক মানুষকে সহ্য করে যাচ্ছেন। তিনি জানেন মানুষটি শুধরাবে না, তবুও সন্তানের দিকে তাকিয়ে সবটুকু মেনে নেন। যেন সন্তান তার বাবাকে না হারায়। অথচ, এসব বাবারা কিন্তু কখনোই সন্তানের প্রতি টান দেখান না।

উল্লেখিত ঘটনার এই নারী বর্তমানে বাইপোলার ডিসওর্ডারে আক্রান্ত। যা নিরাময়অযোগ্য। এই নারী এখন না সুখ বুঝেন, আর না তো দুঃখ। হাসতে হাসতে কান্না করে ফেলেন, আবার কাঁদতে কাঁদতে হাসেন। রাত কাটে তার টক্সিক মূহুর্ত স্মরণ করে। নিজের জীবনের প্রতি এতোটাই বিতৃষ্ণা, বিষাদ জমেছে যে, মৃত্যুকে তার মুক্তি বলে মনে হয়।

এই ধরণের রোগীরা সুযোগ পেলে পরিশেষে মৃত্যুকেই বেছে নেয়।

দুঃখজনকভাবে অসুস্থ স্ত্রী এখন স্বামীর বোঝা। এখনো সেই আগের মতো স্বামী তার টক্সিক আচরণ ধরে রেখেছেন। তবে স্ত্রীও আগের মতো কুঁকড়ে নেই। যে কোনো মূহুর্তে স্বামীকে ছাড়তে তিনি প্রস্তুত। তবুও তাদেরকে একসাথে থাকতে হচ্ছে। পারিবারিকভাবে এই বিচ্ছেদ কখনোই সম্ভবপর নয়। স্বামীও তা চান না।

এতকিছুর পরেও স্বামীর আচরণ আর বদলায় নি। তিনি স্ত্রীকে রাখতে চান, কিন্তু ভালো ব্যবহার ও ভালোবাসা দেখাতে পারবেন না। জগতের সবকিছু দিয়ে হলেও স্ত্রীকে পাশে দেখতে চান, তবে স্ত্রীকে একটু মানসিক শান্তি দিতে পারবেন না। এমনকি এই যে তার ধরে রাখার চেষ্টা, এটাও স্ত্রীকে বুঝতে দেন না।
্সিক পার্সন বরাবরই ভয়ংকর এবং বিপদজনক এক অভিশপ্তের নাম। সময়মতো তা প্রতিহত করতে না পারলে এরা একটা মানুষকে তীলে তীলে ধ্বংস করে দেয়। অন্যকে মানসিকভাবে অত্যাচার করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে এরা নিজের সুখ-শান্তি উপড়ে ফেলতেও পিছ পা হয় না।😥😥

পোস্ট কার্টেসি
Md Nuruddin

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যদি আবারো আর্লি টুয়েন্টিজে যেতে পারতাম তাহলে এখন পর্যন্ত আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে সে আলোকে আমি কি ...
01/02/2025

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যদি আবারো আর্লি টুয়েন্টিজে যেতে পারতাম তাহলে এখন পর্যন্ত আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে সে আলোকে আমি কি করতাম ।

১। আমি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করতাম । একদম ঠিক সূর্য উঠার আগে । ফজরের নামাজের পর কিছুক্ষণ চুপচাপ প্রকৃতির নিস্তদ্ধতা উপভোগ করতাম । নিস্তদ্ধতা একটা অসাধারন জিনিস । আপনি কখনো কাপ্তাই লেকের ঠিক মাঝখানে একদম সন্ধ্যায় ৫ মিনিট চুপচাপ বসে ছিলেন ? এই অভিজ্ঞতাটা নেয়ার চেষ্টা কইরেন । অসাধারণ একটা ব্যাপার ।

২। আমি খুব সিরিয়াস ক্যারিয়ার প্ল্যান করতাম না । ব্যবসা করতাম, চাকরি করতাম । সোজা কথায় যেটা ভালো লাগতো সেটা করতাম । বোঝার চেষ্টা করতাম আমার ব্যাক্তিত্ব পছন্দের সাথে ঠিক কোন ব্যাপারগুলো যায় । আমি মিড টুয়েন্টিজে যেয়ে সিদ্ধান্ত নিতাম আমার ঠিক কোন রাস্তায় আগানো উচিত ।

৩। আমি অবশ্যই এমন কোন কাজ করতাম যেটাতে প্রচুর মানুষের সাথে ১ টু ১ কথা বলতে হয় । বিশেষ করে সেলসের কাজ । আমি ক্লাস সেভেন এইট থেকে আমাদের পাঞ্জাবীর শো-রুমে শখ করে বসতাম । বিশেষ করে রোজার সময় যখন প্রচুর মানুষ পাঞ্জাবী কিনতে আসতো । মানুষের সাথে মিশে, কথা বলে আপনি যা শিখতে পারবেন সেটা পৃথিবীর কোন কিছু আপনাকে শেখাতে পারবে না । আর সেলসের কাজ অলওয়েজ রিওয়ার্ডিং । আপনার যদি বিক্রি করার মত দক্ষতা থাকে তাহলে আপনার জন্য পৃথিবীর যেকোন দেশে চাকরি বা ক্যারিয়ার অপারচুনিটি আছে । এই একটা স্কিল জীবনেও কোনদিন কোন AI খেয়ে দিতে পারবে না ।

৪। আমি অনেক ঘুরতাম । নতুন নতুন জায়গার এক্সপেরিয়েন্স নিতাম । বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ কিভাবে ভাবে, কিভাবে চিন্তা করে সেগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম । আমি দেখেছি ঢাকা, চিটাগাং, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালি প্রতিটা জায়গার মানুষ ভিন্ন ভাবে ভাবে, ভিন্ন এঙ্গেল থেকে চিন্তা করে । আপনি এই জায়গাগুলোতে না গেলে তাদের সাথে না মিশলে চিন্তার এই পার্থক্য বুঝতে পারবেন না ।

৫। আমি মিডল টুয়েন্টিজে দেশের বাইরে যেতাম অন্তত ২ বছরের জন্য । সেটা হতে পারে লেখাপড়ার জন্য, চাকরি বা ব্যবসার জন্য । নিজের কম্ফোর্ট জোন ছেড়ে দেশের যাওয়া, নিজে নিজে সব কিছু ম্যানেজ করতে শেখা এটা একটা মানুষের ম্যাচুরিটি অনেক দূর আগায় দেয় । পাশাপাশি আপনাকে পুরো জীবনকে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ দেয় ।

৬। আমি নামাজের ব্যাপারে আরো অনেক যত্নবান হতাম । নামাজকে দায়িত্ব মনে না করে উপভোগ করা শিখতাম । স্রষ্টার সাথে কিভাবে নিজের যোগাযোগটাকে আরো বাড়ানো যায় সে চেষ্টা করতাম ।

৭। প্রচুর পরিমাণে বই পড়তাম । সাইন্স-আর্টিস-ফিকশন-হিস্ট্রি-রিলিজন কোন কিছু বাদ দিতাম না । প্রতিদিন অন্তত ২০ পেজ পড়া নিজের উপর ফরজ করে নিতাম।

৮। এক্সারসাইজ এবং ফিজিক্যাল ফিটনেসকে নিজের উপর ফরজ করে নিতাম । আমি একটা সময় প্রচুর ক্রিকেট খেলতাম । ক্রিকেট খেলা বাদ দেয়া আমার জন্য অন্যতম একটা বাজে ডিসিশন ছিল । কোন অবস্থাতেই খেলাধুলা বা ফিজিক্যাল এক্টিভিটি বাদ দেয়া উচিত না । ফিজিক্যালি এক্টিভ থাকার সাথে আপনার মানসিক প্রশান্তির সিরিয়াস লিংকেজ আছে । ফিজিক্যালি ফিট এবং এক্টিভ থাকলে আপনার মধ্যে ডিপ্রেশন বা ফ্রাস্ট্রেশন আসার সম্ভাবনা একদম কমে যায় ।

৯। কালচারাল, আর্ট, সাইন্স, রিলিজিয়াস, হিস্ট্রোরিক্যাল সেমিনার-সিম্পজিয়াম-ওয়ার্কশপগুলোতে অংশ নিতাম । লাগলে টাকা খরচ করতাম । আমার থেকে যারা ওয়েল ইনফরমড তাদের উপলব্ধি, জীবনবোধ বোঝার চেষ্টা করতাম ।

১০। বাচ্চামিটা জীবন থেকে বাদ দিতাম না । পাগলামি করাটা বাদ দিতাম না । মাঝে মাঝে মনের কথা শুনতাম । সব রকম রুটিন সিরিয়াসনেস বাদ দিয়ে মন যেভাবে বলে সেভাবে কিছুদিন চলতাম । যদিও এই কাজটা এখনো করি । বাট তখন আরো বেশী করতাম ।

লাস্টলি, জীবন নিয়ে অনেক বেশী কৃতজ্ঞ হওয়ার চেষ্টা করতাম । জীবনের প্রতিটা সুযোগের জন্য স্রষ্টাকে ধন্যবাদ দিতাম, তার প্রতি কৃতজ্ঞ হতাম । এই যে মাথার উপর ছাদ আছে, গায়ে দেয়ার মত পোশাক আছে, ঘরে খাবার আছে এগুলোর জন্য স্রষ্টাকে প্রতিনিয়ত ধন্যবাদ দিতাম । এগুলো কখনোই আমি নিজের যোগ্যতায় অর্জন করতে পারতাম না । প্রতিদিন, প্রতিটা মুহুর্ত স্রষ্টার পক্ষ থেকে একটা নতুন সুযোগ । এই সুযোগকে দু হাতে ভরে গ্রহণ করতাম । প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতাম ।

গুড থিং ইজ । আপনি চাইলে এই কাজগুলো এখনো করতে পারেন । যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে ততক্ষণই জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ আছে।

একমাত্র মৃত্যুই সকল সুযোগ শেষ করে দেয় ।

মৃত্যুর আগে কেউ যেন বাঁচতে না ভুলে যাই !

Address

Chamber: House:15, Sonargaon Janapath Road, Sector:07, Uttara
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Universal Law Firm posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share