কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm

কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm এ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ট্রায়াল আইনজীবী, জজ কোর্ট, ঢাকা আইন ও অধিকার

09/06/2026

জেলখানায় কত মাসে বছর?
(প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত জেলকোড, ১৯২০ এর বিধি অনুযায়ি)
➤ আদালতের রায়ে কাউকে কারাগারে পাঠানো হলে আদালতের আর কোনো দায় থাকেনা এরপর থেকে দায়িত্ব বর্তায় কারা কর্তৃপক্ষের উপর। কারা কর্তৃপক্ষ ও কারাগারের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় Prisons Act, 1894 এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত Jail Code, 1920 মোতাবেক।
জেলকোড, ১৯২০ এর ১১শ অধ্যায়ের ৭৫০-৭৮১ বিধিতে সন্নিবেশিত আছে বন্দিদের রেয়াত (remission) মঞ্জুরের বিধানবলী। রেয়াত মানে হলো অব্যাহতি দেয়া বা ছাড় দেয়া বা রেহাই দেয়া। এই রেয়াত এর মাধ্যমেই মূলত কোনো আসামীর দণ্ডের মেয়াদ কমানোর সুযোগ চলে আসে যা কিনা ঐ বিধিগুলো মোতাবেকই হতে হবে।

✪ রেয়াত (Remission) : রেয়াত দুই প্রকারের হয়: সাধারণ ও বিশেষ রেয়াত।

➤ রেয়াত মঞ্জুর: জেলকোডের ৭৬১ বিধি মোতাবেক 'সাধারণ রেয়াত' মঞ্জুর করতে পারেন সিনিয়র জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা জেল সুপার বা তার কতৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো জেল কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ৭৬৬ বিধি মোতাবেক সরকার বা আইজি প্রিজন্স অথবা জেল সুপার কার্যকর করতে পারেন 'বিশেষ রেয়াত'।

✪ জেলকোডের বিধি মোতাবেক রেয়াতের পরিমাণ:

➤ কারাবন্দীদের সাধারণ রেয়াৎ প্রাপ্তি:
☞ কারাগারের সব নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিমাসে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (এ)]

☞ শিল্প ও দৈনন্দিন দেয়া কাজগুলো সঠিকভাবে করাে জন্য প্রতিমাসে ২ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (বি)]

☞ কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৭ দিন ও নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৬ দিন। [বিধি: ৭৫৭]

☞ শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বাবুর্চি ও সুইপারের কাজে নিয়োজিত থাকলে অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৯]

☞ দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের ১ তারিখ হতে ১ বছর পার হবার পর; কারা অপরাধের সর্বশেষ শাস্তিভোগের তারিখ হতে ১ বছর অতিক্রম করার পর বন্দি যদি অন্যকোনো কারা অপরাধ না করেন সেক্ষেত্রে বছরে আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবেন। [বিধি: ৭৬০]

◑ একজন বন্দী বিধি মোতাবেক কাজকর্ম করলে মাসে ১০-১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পেতে পারেন যা সম্ভব নয় তবে প্রত্যেক বন্দিই কিছু রেয়াত পেয়ে থাকেন। ফলে বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে দিনের পরিমাণ কমে আসে।

➤ কারাবন্দীদের বিশেষ রেয়াৎ প্রাপ্তি: বিশেষ রেয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে জেলকোডের ৭৬৫ ও ৭৬৬ বিধিতে। উক্ত বিধি দুটি মোতাবেক জেল সুপার বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিন ও আইজি প্রিজন্স অথবা সরকার বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারেন। যে যে ক্ষেত্রে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা হয়:
☞ কারাগারে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের বিষয় শনাক্ত করা কিংবা প্রতিরোধ করার কাজে সহযোগিতা করা।
☞ হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদানে কৃতিত্ব।
☞ বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ কোনো কাজ কিংবা আয় বৃদ্ধিকারক উন্নতমানের কোনো কাজ।
☞ আক্রমণ হতে কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রক্ষা করা।
☞ কারা বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আগুন বা সমপ্রকৃতির জরূরী ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করা।
☞ পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতা।
☞ টেকনিক্যাল বা একাডেমিক ট্রেনিং গ্রহণে দক্ষতা প্রদর্শন।
☞ কারাগারের বিধিবিধান পালনে মনোযোগী হওয়া ও একটানা তিন বছর কোনো কারাশাস্তি ভোগ না করা।

✪ রেয়াত প্রাপ্তির শর্তাবলী:
☞ জেলকোডের ৭৬৮ বিধি মোতাবেক এক দণ্ডের তৃতীয়াংশের বেশি রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে।
☞ বিচারাধীন বন্দি কোনো রেয়াতই পাবেন না।
☞ জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ব্যতীত ৬ মাসের কম মেয়াদের কারাদণ্ডে সাধারণ রেয়াত প্রযোজ্য নয়।
☞ বিধি ৭৫৪ মোতাবেক কারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আঘাত করার অপরাধে কারা কর্তৃপক্ষ রেয়াত বাতিল করতেও পারবেন।

✪ একজন কারাবন্দী রেয়াতের ভিত্তিতে দণ্ডাকাল কমিয়ে আনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এমনও হতে পারে বছর ৬ মাসেও হতে পারে কিংবা ৮ মাস বা ১১ মাসেও হতে পারে। একেক বন্দীর ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ রেয়াতের মাধ্যমে বন্দিরা দণ্ডকাল কমিয়ে আনতে পারবেন।

Adv Ujjal Sarker

08/06/2026

একজন আইনজীবী অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন। বিচারক একজন দায়রা জজ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আইনজীবীর মনে হলো, তদন্তে এমন কোনো উপাদান নেই যা দিয়ে অভিযোগ গঠন করা যায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অব্যাহতির আবেদন করবেন।

কিন্তু তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো।

যেহেতু বিচারক দায়রা জজ, তাহলে কি অব্যাহতির আবেদন দায়রা মামলার বিধান অনুযায়ী হবে?
নাকি অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে দেখতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে।

প্রথম ধাপ: Special Powers Act কী বলছে?
The Special Powers Act, 1974-এর Section 27(4) স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়:

“A Special Tribunal trying an offence under this Act shall try such offence summarily and in trying such offence such Special Tribunal shall follow the procedure laid down in the Code for summary trial of summons cases.”

অর্থাৎ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে মামলার বিচার করতে হবে summary trial পদ্ধতিতে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত summons case-এর summary trial-এর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আইন বিচারকের পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়নি; বরং বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: Summary Trial-এর পদ্ধতি কোথায়?

এবার আসতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 262-এ।

Section 262 অনুযায়ী:
“In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed…”
অর্থাৎ, summary trial পরিচালনার ক্ষেত্রে Chapter XX-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: Chapter XX-এ কী আছে?
Criminal Procedure Code-এর Chapter XX গঠিত হয়েছে Section 241 থেকে Section 250 পর্যন্ত ধারাসমূহ নিয়ে।

এই অধ্যায়েই রয়েছে Section 241A, যা আদালতকে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি অভিযোগ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকে।

আইনের যৌক্তিক ফলাফল যেহেতু—

১. Special Powers Act-এর Section 27(4) summary trial বাধ্যতামূলক করেছে;

২. CrPC-এর Section 262 summary trial-এর জন্য Chapter XX অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে;

৩. Chapter XX-এর অন্তর্ভুক্ত Section 241A অব্যাহতির বিধান প্রদান করেছে;

সেহেতু অস্ত্র মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হোক, বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট হোন বা দায়রা জজ হোন, অব্যাহতির আবেদন দাখিল করতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 241A অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় :

১. H.M. Ershad Vs. The State (45 DLR 534)
এই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটি যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তখন চার্জ গঠনের বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে সমন মামলার অধ্যায় অর্থাৎ Section 241A-এর পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য। বিচারকের পদমর্যাদা উচ্চতর হলেও বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ দায়রা পদ্ধতির (Section 265C) প্রয়োগ এখানে বার (Barred) বা রহিত হয়ে যায়।

২. Md. Sirajul Islam and others Vs. The State (2005 / 22 BLC (AD) 141) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সমগোত্রীয় অন্যান্য বিশেষ আদালতের বিচার কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপিল বিভাগের এই মামলাটিতে এটি প্রতিফলিত হয়েছে যে— যেখানে বিশেষ বিধান বা সংক্ষিপ্ত বিচারপতির নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে, সেখানে চার্জ শুনানির দিনে আসামিরা Section 241A CrPC-এর অধীনেই অব্যাহতির আবেদন দাখিল করবেন।

ফৌজদারি রিভিশন এখতিয়ারের অসংখ্য নজিরে (যেমন- AKMM Saleh vs State 45 DLR 386) দেখা যায়, যখনই কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৫৬১এ (561A) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashing) বা রিভিশন করা হয়, তখন উচ্চ আদালত দেখেন যে নিম্ন আদালতে ২৪১এ (241A) ধারার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কিনা।

অনেক সময় আদালতের বিচারকের পদবী দেখে আইনজীবীরা বিভ্রান্ত হন। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালতের নাম নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত বিচার-পদ্ধতি।

অস্ত্র মামলায় Special Tribunal যখন summary procedure অনুসরণ করে বিচার পরিচালনা করে, তখন অব্যাহতির প্রশ্নেও সেই একই পদ্ধতির অংশ হিসেবে CrPC-এর Section 241A-ই প্রযোজ্য হবে।

অতএব, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে গঠিত হলেও অস্ত্র মামলায় অব্যাহতির দরখাস্ত The Code of Criminal Procedure, 1898-এর 241A ধারার অধীনেই দাখিল করতে হবে।.
From Barrister Md Jakaria Habib

08/06/2026

ঈদুল আজহায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-২ আসন.....

08/06/2026

#ফৌজদারি মামলায় ঘটনার তারিখ প্রমাণ অপরিহার্য।
- Advocate Saddam Hossen

📌
[68 DLR (HCD), Page- 76
Anwar Hossain VS State]

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন যে, প্রসিকিউশন যদি ঘটনার তারিখই প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ঘটনাস্থল, সময় কিংবা ঘটনা সংঘটনের পদ্ধতি প্রমাণের দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কারণ, তারিখ, সময়, স্থান ও ঘটনা সংঘটনের পদ্ধতি পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত। ঘটনার তারিখ প্রতিষ্ঠিত না হলে পুরো অভিযোগের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

সুতরাং, অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে ঘটনার তারিখসহ সকল মৌলিক উপাদান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।

#আইন #ফৌজদারীমামলা

05/06/2026

⚖️ চেক বাউন্স মামলা মানেই কি নিশ্চিত সাজা? আইনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিশালী অভিযুক্তের আত্মপক্ষ জানেন কি? ধারা ১৩৮-এর মামলা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—চেক ডিজঅনার হওয়া আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক জিনিস নয়।

অনেক সময় অভিযোগকারী পক্ষ এমন ধারণা সৃষ্টি করেন যেন একটি চেক হাতে থাকা এবং সেটি বাউন্স হওয়াই দণ্ডাদেশের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আইন ও বিচারিক নজির সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।

একজন দক্ষ প্রতিরক্ষা আইনজীবীর প্রথম প্রশ্ন হবে—

🔹 চেকটি কীভাবে অভিযোগকারীর হাতে এলো?

🔹 চেকটি কি প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ দায় (legally enforceable liability) পূরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি নিরাপত্তা (Security Cheque) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি জোরপূর্বক, প্রতারণার মাধ্যমে অথবা বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল?

🔹 অভিযোগকারী কি প্রকৃতপক্ষে "Holder in Due Course"?

আইন স্বীকার করে যে, সব চেক সমান নয়।

যদি কোনো চেক—

✔️ চুরি হয়ে যায়,

✔️ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়,

✔️ জবরদস্তি করে নেওয়া হয়,

✔️ কোনো বৈধ consideration ছাড়া হস্তান্তরিত হয়,

তাহলে সেই চেককে কেন্দ্র করে দায়-দেনার প্রশ্ন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

এ কারণেই অনেক ধারা ১৩৮-এর মামলা বিচার শেষে ব্যর্থ হয়, কারণ আদালত শুধু চেক নয়, চেকের পেছনের গল্পও শুনতে চান।

একটি চেক কেবল একটি কাগজ।

কিন্তু সেই কাগজের পেছনে যদি বৈধ লেনদেন, আইনগত অধিকার এবং গ্রহণযোগ্য consideration না থাকে, তাহলে অভিযোগকারীকে আদালতে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

📚 প্রাসঙ্গিক নজির:

Shafiqul Islam and others Vs. Bangladesh and others, 2 SCOB [2015] HCD 1 at pp. 14-15 (Mirza Hussain Haider, J.)

মামলার ঘটনা

আবেদনকারীদের অন্যতম যুক্তি ছিল যে, সব ধরনের চেককে যান্ত্রিকভাবে ধারা ১৩৮-এর আওতায় আনা যায় না। বিশেষ করে চুরি, প্রতারণা, জোরপূর্বক সংগ্রহ অথবা বৈধ লেনদেনবিহীন চেকের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত (Ratio)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ধারা ১৩৮-এর পরিধি বিস্তৃত হলেও Negotiable Instruments Act-এর ধারা 43, 58 এবং 118 অনুযায়ী অভিযুক্তের প্রতিরক্ষা গ্রহণের অধিকার বহাল রয়েছে।

আদালত বলেন—

✔️ Fraudulently obtained cheque, stolen cheque বা unlawfully obtained cheque নিয়ে প্রতিরক্ষা তোলা যাবে;

✔️ Consideration ছাড়া ইস্যুকৃত চেক নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে;

✔️ অভিযোগকারী প্রকৃত Holder in Due Course কি না, তা বিচারযোগ্য বিষয়;

✔️ ধারা ১৩৮ কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরক্ষাহীন করে না।

অর্থাৎ, আদালতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—চেকটি কেন, কীভাবে এবং কোন আইনি সম্পর্কের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল।

একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী জানেন, অনেক সময় মামলার ভাগ্য নির্ধারণ করে চেকটি নয়—চেকের উৎস।

27/05/2026

ঈদ মোবারক

কোন নোটিশ না দিয়ে নিয়োগ বাতিল চাকরি প্রবিধানমালা ও  Fundamental rights,  principles of Natural Justice এর পরিপন্থী। কোন ...
26/05/2026

কোন নোটিশ না দিয়ে নিয়োগ বাতিল চাকরি প্রবিধানমালা ও Fundamental rights, principles of Natural Justice এর পরিপন্থী। কোন চাকরিজীবী যেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের চাকরি বিধিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন এর শর্ত না থাকলে শুধুমাত্র নিয়োগপত্রের শর্ত যুক্ত করে চাকরিচ্যুতি করা অবৈধ। এই সংক্রান্ত একটি Judgment আজকে আলোচনা করবো।

বিসিআইসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৮৮'-এর ৬ নম্বর বিধিতে চাকরি স্থায়ী করার শর্ত হিসেবে 'পুলিশ ভেরিফিকেশন'-এর কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে কেবল Provisional period সফলভাবে শেষ করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। উক্ত Judgment টি আইনজীবী, আইনের শিক্ষার্থী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আলোচনা করি।

♈Judgment on: 21.04.2026

✅Facts of the Case: রিট পিটিশনার (A.K.M. Shamsul Huda Sarkar) শিক্ষাজীবন শেষে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (BCIC) অধীন 'উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক)' পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। যথাযথ নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ০৯/০৫/২০১৭ তারিখে অফিস আদেশের মাধ্যমে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

🔴১১/০৫/২০১৭ তারিখে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং তিনি ওই দিনই জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২৪/০৫/২০১৭ তারিখে কর্তৃপক্ষ তার যোগদানপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।

🔴চাকরিতে যোগদানের পর তার পুলিশ ভেরিফিকেশন (তদন্ত) প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর, ০৬/০৩/২০১৯ তারিখে বিসিআইসি-এর সহকারী প্রধান কর্মী কর্মকর্তা একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে আবেদনকারীর নিয়োগ বাতিল করেন।

🔴নিয়োগপত্রের ৫ নম্বর শর্তের আলোকে বলা হয় যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ আবেদনকারীর নিয়োগের ব্যাপারে আপত্তি (Adverse Report) উত্থাপন করেছে।

✅ How Aggrieved: নিয়োগ বাতিল করার পূর্বে রিট পিটিশনারকে কোনো কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ দেওয়া হয়নি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

🔴যে পুলিশ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ পত্র বাতিল করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বা অভিযোগ সম্পর্কে আবেদনকারীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

🔴নিয়োগ বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদনকারী ০৭/০৪/২০১৯ তারিখে বিসিআইসি-এর চেয়ারম্যানের নিকট একটি আপিল দায়ের করলেও কর্তৃপক্ষ তা নিষ্পত্তি করিনি। appeal has not been disposed of. পরবর্তীতে রিট পিটিশনার অত্র রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

Issuance of Rule: রিট পিটিশনার এর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ তথা রেসপন্ডেন্টদের প্রতি নিম্নোক্ত মর্মে রুল জারি করেন:
Let a Rule nisi be issued calling upon the Respondents to show cause as to why the impugned office order being No. 36.091.008.01.02.444 (জেটি).2019/387 dated 06.03.2019 purportedly issued under the signature of respondent No. 12, Assistant Chief of Personnel on behalf of respondent No. 4, Chief of Personnel of BCIC, cancelling the petitioner's appointment to the post of Sub-Assistant Engineer (Mechanical) of Jamuna Fertilizer Company Ltd. Tarakandi, Jamalpur (as contained in Annexure-"H") shall not be declared to have been issued without lawful authority and is of no legal effect and or such other or further order or orders passed as to this Court may seem fit and proper."

🔴একই সাথে আদালত উক্ত বাতিল আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, যার ফলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিট পিটিশনার চাকরিতে বহাল ছিল।

✅ Submissions of the Advocate:
কোনো চাকরিচ্যুত বা নিয়োগ বাতিলের পূর্বে নোটিশ না দেওয়া 'প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার নীতি' (Principle of Natural Justice)-এর চরম লঙ্ঘন।

🔴বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করেছে। তারা স্বাধীনভাবে বা নিজস্ব কোনো প্রক্রিয়ায় এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি।

'🔴বিসিআইসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৮৮'-এর ৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রবেশন (শিক্ষানবিস) কাল ৬ মাস। কোনো বর্ধিতকরণ না থাকায় আবেদনকারী ইতিমধ্যে স্থায়ী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ফলে ৫৪ বিধি অনুযায়ী তিনি ৯০ দিনের সংবিধিবদ্ধ নোটিশ পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, যা দেওয়া হয়নি।

🔴মামলা চলাকালীন ২৬.০২.২০২৩ তারিখে গাইবান্ধার ডিএসবি-এর পুলিশ সুপার যমুনা ফার্টিলাইজারের ব্যবস্থাপকের নিকট একটি নতুন Positive Finding প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল উপাদান পাওয়া যায়নি।

✅ Submission of the Respondents:
৩ ও ৪ নম্বর রেসপন্ডেন্টের পক্ষে Affidavit in Opposition) দাখিল করে রুলের বিরোধিতা করেন।

🔴নিয়োগপত্রের ৫ নম্বর শর্ত অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার জন্য 'সন্তোষজনক পুলিশ ভেরিফিকেশন' একটি বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত ছিল। যেহেতু রিপোর্টে আপত্তি ছিল, তাই সাময়িক নিয়োগ বাতিল করা সম্পূর্ণ বৈধ।

🔴যেহেতু আবেদনকারীর চাকরি স্থায়ী করা হয়নি, তাই ১৯৮৮ সালের প্রবিধানমালা অনুযায়ী তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা বিভাগীয় মামলা রুজু করার প্রয়োজন ছিল না।

🔴আপিল দায়েরের পরপরই আবেদনকারী আদালতে চলে আসেন এবং আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের আপিলটি নিষ্পত্তি করার আইনি সুযোগ ছিল না।

🔴২০২৩ সালের ইতিবাচক পুলিশ রিপোর্টটি স্থানীয় পুলিশ সরাসরি যমুনা ফার্টিলাইজারের স্থানীয় ব্যবস্থাপককে দিয়েছিল, বিসিআইসি মূল কর্তৃপক্ষকে নয়। আবেদনকারী যদি নতুন রিপোর্টের সুবিধা চান, তবে তাকে Supplementary Rule-সম্পূরক রুল চাইতে হতো, যা তিনি করেননি। সুতরাং বর্তমান রুলটি খারিজযোগ্য।

✅Observations of the Court:
হাইকোর্ট ডিভিশন নথি ও আইনি বিধিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণসমূহ দেন:

🔴রিট পিটিশনার ১১.০৫.২০১৭ তারিখে যোগ দেন। ৬ মাসের প্রাথমিক প্রবেশন মেয়াদ ১১.১১.২০১৭ তারিখে শেষ হয়। রেকর্ড অনুযায়ী এই মেয়াদ আর বর্ধিত করা হয়নি। অথচ বিতর্কিত বাতিল আদেশটি এসেছে এর ১৫ মাস পর (০৬.০৩.২০১৯)।

🔴নিয়োগপত্রের ৫ নম্বর শর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কথা থাকলেও, কর্পোরেশনের মূল আইন অর্থাৎ 'বিসিআইসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৮৮'-এর ৬ নম্বর বিধিতে চাকরি স্থায়ী করার শর্ত হিসেবে 'পুলিশ ভেরিফিকেশন'-এর কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে কেবল প্রবেশন কাল সফলভাবে শেষ করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

🔴রিট পিটিশনার কাজের দক্ষতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি ছিল না। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন ভেরিফিকেশনের বিস্তারিত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে কোনো তদন্ত না করেই চাকরি বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।

🔴মামলা চলাকালীন ২৬.০২.২০২৩ তারিখে পুলিশের বিশেষ শাখা (DSB) আবেদনকারীসহ ১৩ জন কর্মচারীর বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত করে সম্পূর্ণ ইতিবাচক (Positive) রিপোর্ট দাখিল করেছে, যা এখন অনস্বীকার্য সত্য।

✅Judgment of the Court:
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনারের আইনজীবীর যুক্তি গ্রহণ করে এবং রেসপন্ডেন্টদের যুক্তি খণ্ডন করে Rule টি Absolute করা হয়।

🔴বিসিআইসি কর্তৃক জারিকৃত ০৬.০৩.২০১৯ তারিখের আবেদনকারীর নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত বিতর্কিত অফিস আদেশটি সম্পূর্ণ বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং বাতিল ঘোষণা করা হলো।

🔴যেহেতু রিট পিটিশনার ২০১৭ সাল থেকে (এবং আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ২০১৯ থেকে অদ্যাবধি) নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তার সর্বশেষ পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক এসেছে, সেহেতু তাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী একজন নিয়মিত ও স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

যেকোনো মতামত, সংশোধনী, পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। যাচাই-বাছাই পূর্বক সংশোধন করা হবে।

Your Gateway to Legal Excellence in Bangladesh

https://whatsapp.com/channel/0029Vb7oBAi6hENwTh8C1w19
19/05/2026

https://whatsapp.com/channel/0029Vb7oBAi6hENwTh8C1w19

Follow এ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম's WhatsApp channel. অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী। বিএসসি (অনার্স),এমএসসি(পরিসংখ্যান),এমএসএস ( অপরাধ বিজ্ঞান ও সংশোধন পরিষেবা) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা. Join 4 followers for the latest updates.

মরহুম এ্যাডভোকেট মোঃ সানাউল্লাহ মিয়া স্যার এর ভ্রাতুষ্পুত্র কে দয়া করে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে সদস্য পদে ভোট দিন
14/05/2026

মরহুম এ্যাডভোকেট মোঃ সানাউল্লাহ মিয়া স্যার এর ভ্রাতুষ্পুত্র কে দয়া করে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে সদস্য পদে ভোট দিন

24/07/2025

চেকের মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়:

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রম্নতি হিসেবে একে অপরকে ব্যাংক চেক প্রদান করে থাকি। যদি চেকের উপর বর্ণিত পরিমাণ টাকা চেক প্রদানকারীর অ্যাকাউন্টে না থাকে, তাহলে চেকটি ডিজঅনার হয়।

পরবর্তী সময়ে অর্থ পরিশোধের ব্যর্থতায় চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হয়। এতে মামলার রায় সাধারণত আসামির বিপক্ষে যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে চেকের মামলা আসামির পক্ষেও যায়, যদি আসামি সে বিষয়গুলো আদালতের সামনে প্রমাণ করতে পারেন।

একটি কেস স্টাডিতে জানা যায়, আসামি ব্যবসায়িক কারণে বাদীর কাছ থেকে নয় লাখ কুড়ি হাজার টাকা ধার গ্রহণ করেন। এরপর টাকা পরিশোধে চেক দেন। সেই চেকটি ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হয়েছে। বাদী আদালতে মামলা করে দিলেন। সেই মামলায় আসামি পক্ষে ডিফেন্স নিতে গিয়ে দেখা যায় নালিশি আরজিতে দিন, ক্ষণ, তারিখ, সময়, টাকা লেনদেনের স্থান, সাক্ষীদের উপস্থিতি এসব কোনো কথায় বাদীর উলেস্নখ নেই। এমনকি বাদী জবানবন্দিতেও এ কথাগুলো বলেননি।

এন আই অ্যাক্ট মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়। আসামির ওপর নোটিশ জারি ১৩৮ ধারার মামলার পূর্বশর্ত, ব্যর্থতায় আসামি খালাস পাবে। এ মামলায়-

১। আসামি কর্তৃক লিগ্যাল নোটিশপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো তারিখ উলেস্নখ করেননি; ২। নোটিশ প্রাপ্তির প্রমাণস্বরূপ প্রাপ্তি স্বীকার আদালতে সাবমিট করতে পারেননি; ৩। ফেরত খামও আদালতে উপস্থাপন কিংবা নালিশি আরজিতে উলেস্নখ করতে পারেননি; ৪। পোস্ট মাস্টারের কোনরুপ প্রত্যয়নপত্রও সাবমিট করতে পারেননি।

এ বিষয়ে উচ্চতর আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে ৩৯ বিএলডি পেজ নং-২২২। সেখানে বলা হচ্ছে যে, আসামির ওপর নোটিশ জারির বিষয়ে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি হলে এবং যদি লক্ষ্য করা যায় যে, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে নোটিশ উপেক্ষা করেনি, তাহলে ১৩৮ ধারার পূর্বশর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে আসামি খালাস পাবে। কারণ ১৩৮ ধারার (১) উপধারার প্রোভাইশো (বি)তে বলা হয়েছে, আসামি কর্তৃক নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। যদি আসামি নোটিশপ্রাপ্ত না হয়, সেই প্রাপ্তির তারিখ জানার সুযোগ আছে কিনা? এই ৩০ দিনের সময় না দিয়ে যদি মামলা দায়ের করা হয় তাহলে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকার পরিপন্থি।

এন আই অ্যাক্টের তামাদি বিষয় :

তামাদির মেয়াদ এ আইনের ১৪১(বি) ধারায় ধার্য করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারার ৫ উপধারায় বলা হয়েছে যে, অভিযোগ গঠনের সময় অপরাধ সংগঠনের আইনানুগ সব উপাদান অভিযোগে থাকতে হবে। যদি নালিশি দরখাস্তে আসামি কর্তৃক নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ উলেস্নখ না থাকে, সেই তারিখ থেকে ৩০ দিন সময় না দেওয়া হয়, সেই ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করা না হয়, তাহলে ১৩৮ ধারার চেক ডিসঅনারের অপরাধ সংগঠনের ০৩টি উপাদানের অনুপস্থিত থাকবে বলে তা অপরাধ সংগঠনে ব্যর্থ হবে। অনেক সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৭ ধারার বিধান তুলে ধরে কিছু লেইম এক্সকিউজ উপস্থাপন করা হয়।

চেক ডিসঅনারের অপরাধের ক্ষেত্রে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৭ ধারার বিধান প্রয়োজ্য হবে কিনা? দ্য জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট প্রণীত হয়েছে ১৮৯৭ সালে আর দ্যা নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট প্রণীত হয়েছে ১৮৮১ সালে। ১৬ বছর আগে জন্ম হয়েছে এন আই অ্যাক্টের। আর দ্য জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৭ ধারা বলছে যে, এই ধারার বিধানাবলি কার্যকরী হবে দ্য জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট চালু হওয়ার পর থেকে। এ বিষয়ে ৬৪ ডিএলআর ২৫৫ পাতায় উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নোটিশ জারির বিষয় অনুমান:

নোটিশ জারির বিষয় অনুমান প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ডাক পিওনকে পরীক্ষা করার বিষয়ে বলা আছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ৭ এসসিসি ৫১০ পৃষ্ঠায় বলছেন, বাদী ডাকপিওনকে আদালতে পরীক্ষা করে নোটিশ জারির বিষয় ২৭ ধারার অধীন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কিন্তু নোটিশ জারি হয়েছে প্রমাণের দায়িত্ব কার? নোটিশ যে জারি হয়েছে তা প্রমাণের দায়িত্ব একমাত্র বাদীর। এ বিষয়ে ৬০ ডিএলআর ৬৭৭ পৃষ্ঠায় উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ব্লাঙ্ক চেকের ক্ষেত্রে :

আবার চেকটি অনেক সময় বস্ন্যাঙ্ক চেক হয়ে থাকে। ঋণ প্রদানের আগেই কিছু বস্ন্যাঙ্ক চেক নেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বোম্বে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ডিসিআর ২নং ভলিউমের ৩১৭ পৃষ্ঠায় বলছেন, ঋণ প্রদানের আগে জামানত স্বরূপ হিসেবে বস্ন্যাঙ্ক চেক গ্রহণ করা হলে তা কোন দায়-দেনার অস্তিত্ব সৃষ্টি করে না বিধায় তার দ্বারা চেক ডিসঅনারের মামলা দায়ের করা যায় না।

আবার জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত চেক দিয়ে পক্ষদের মধ্যে কোনো দায়দেনার অধিকার সৃষ্টি করে না বলে উচ্চ আদালাতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। (এআইআর ১৯৭৫ অল ১০৪)। তবে আমাদের উচ্চ আদালত সিকিউরিটি চেক দিয়ে মামলা করলে সে মামলা চলবে বলে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

চেকের উপর ওভাররাইটিং থাকলে:

আবার চেকের উপর ওভাররাইটিং থাকলে কিংবা টেম্পারিং করে তর্কিত চেকের টাকার অংক পরিবর্তন করলেও আসামি খালাস পাবে। এক্ষেত্রে ভারতের পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্ট ২০১০ সালে ডিসিআর ১ নং ভলিউমের ১০৮ পৃষ্ঠায় একটি দারুণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

ভিন্ন হাতের লেখা হলে:

আবার আসামির স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন আই অ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইসু্যয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুণ সিদ্ধান্ত আছে। সাধারণত উপরোক্ত বিষয়গুলো প্রমাণ করতে পারলেই চেক ডিসঅনারের মামলায় আসামির খালাস পাওয়া সম্ভব।

লেখক: অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী

Address

25/1 Court House Street, R-07, Nahar Complex
Dhaka
1100

Telephone

+8801716188773

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm:

Share