07/07/2026
বিচারপতি এ কে বদরুল হক
বিচারপতি এ কে বদরুল হক পটুয়াখালী জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান, সরকারি আইনজীবী (গভর্নমেন্ট প্লিডার) ও বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম আসাদুল হকের একমাত্র পুত্র। জেলার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর পিতার প্রশংসনীয় অবদান ছিল।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি (LLB) ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি ১৯৭২ সালে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৮৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি দেশজুড়ে এক বিস্তৃত ও সফল আইন পেশা গড়ে তোলেন এবং দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং আরও কিছু স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সংগঠনের আইনি উপদেষ্টা ছিলেন।
তিনি ১৯৬০-এর দশকের একজন বিখ্যাত ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪ সালের সমাবর্তন আন্দোলন এবং অন্যান্য আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও সংগঠক ছিলেন তিনি। এসব কারণে দীর্ঘ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দী হিসেবে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬০-১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন "সংস্কৃতি সংসদ"-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৩-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন "পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন" (যা 'ইপসু' নামে পরিচিত ছিল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।
তিনি বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমি দানসহ সেসব ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছিলেন।
তিনি ১৯৯৬ সালের ১ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১৯৯৮ সালের ৩১ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
তাঁর স্ত্রী লায়লা বদরুল এবং তাঁর দুই পুত্র হলেন অমিত ও সুমিত।
👍👍 বিচারপতি এ কে বদরুল হক নিজেকে একজন দক্ষ, সৎ এবং পরিশ্রমী বিচারক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত এবং রায়গুলো আমাদের দেশের বিভিন্ন আইন সাময়িকীতে (Law Journals) প্রকাশিত হয়েছে। রায়গুলো অত্যন্ত চমৎকার এবং আইনের বিভিন্ন বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে তাঁর আইনি কাজগুলো সম্পাদন করতেন। তিনি ছিলেন একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সকলের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক।. “The judgments are remarkable and reflected true expositions of law on various subjects. He used to perform his legal work in meticulous care and caution. He was a gentleman per excellence and his attitude towards the young and aged was extremely cordial”
আজকে আমরা বিচারপতি এ কে বদরুল হক একটি বিখ্যাত রায় নিয়ে আলোচনা করবো যে রায়ের বিষয়বস্তু হলো "দেওয়ানি রিভিশন মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে পক্ষভুক্ত" , রায়টি রেফারেন্স ভুক্ত হয়েছে DLR 61 (HD) 46, MLR 13 (HD) 393
High Court Division
(Civil Revisional Jurisdiction)
Mr. Justice A.K. Badrul Huq
Civil Revision No. 2019 of 2006
Tabibullah and others -------- Petitioners
Vs.
Bangladesh and others -------- Opposite Parties.
Judgement Date : April 04, 2007
Md Nurul Amin with AKM Shahidul Huq and Md Aminul Ehsan, Advocates -------- For the Petitioners. Md Abdullah Assistant Attorney-General -------- For the Government Opposite Party. MA Jabbar; Advocate -------- For addition of Opposite Parties.
Judgment
The controversy attracting the attention of this Court is, whether Ms Chameli Glass Works represented by its Proprietors Alhaj Abdur Rab, Alhaj Md Nurul Islam, Alhaj Md Hanif, Md Shahjahan, Md Zakir Hussain, Shahnaz Amir and Shahanaz Alam can be added as opposite parties in Civil Revision Case in hand.
2. The verdict proposed to be bestowed does not demand a detailed disclosure of facts except those which can shed light in resolving the war of words which are:
A. Predecessors of First-Fourteenth petitioners in Civil Revision Case Sheikh Tabibullah as plaintiff laid a suit being Title Suit No. 582 of 1984 in First Court of the then Munsif, Dhaka impleading Government of The People's Republic of Bangladesh represented by Secretary, Ministry of Works and Urban Development and others as defendants for declaration that the notice contained in Memo No. 1107 dated 3-10-1984 issued by Sub-Divisional Engineer, PWD Tejgaon Industrial Area, Tejgaon, Dhaka, First opposite party of Civil Revision Case directing plaintiff to hand over possession of suit property mentioned in schedule to the plaint, within seven days from the date of receipt of notice of authorities is illegal, inoperative, malafide, void, without jurisdiction and, also, for permanent injunction restraining defendants from disturbing peaceful possession of plaintiff on suit property. The Suit was renumbered as Title Suit No. 13 of 1985 on transfer to Second Court of Munsif, Dhaka.
B. Government of The People's Republic of Bangladesh being First-defendant contested the suit on presentation of a written statement traversing all material allegations made in the plaint.
C. Learned Munsif by judgment and decree dated 9-11-1985 dismissed the suit.
D. Plaintiffs having felt dissatisfied with the aforesaid judgment and decree carried an appeal being Title Appeal No. 272 of 1985 before learned District Judge, Dhaka. Appeal was heard by Second Court of Subordinate Judge, Dhaka. Appeal was allowed ex parte. Judgment and Decree is dated 12-11-1991.
E. First-defendant, Government of The People's Republic of Bangladesh having been aware of ex parte judgment and decree passed in Title Appeal bestowed a petition under Order XLI, rule 21 of the Code of Civil Procedure for rehearing of the appeal. The said petition had been numbered as Miscellaneous Case No. 28 of 1995.
F. In the said Miscellaneous Case Chameli Glass Works represented by its proprietors had been made opposite parties through their Attorney by Court's order dated 26-6-2005.
G. Ms Chameli Glass Works represented by their proprietors had not been made respondents in the.
মামলার বিবরণ ও পটভূমি
আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানি রিভিশন এখতিয়ার)
বিচারক: বিচারপতি এ. কে. বদরুল হক।
মামলা নম্বর: ২০০৬ সালের দেওয়ানি রিভিশন নং ২০১৯।
মূল বিরোধ (Issue)
মামলার মূল বিষয় ছিল—'মেসার্স চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস' (তার স্বত্বাধিকারীদের মাধ্যমে) এই দেওয়ানি রিভিশন মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে পক্ষভুক্ত (Added as opposite party) হতে পারবে কি না।
মামলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মূল মামলা: আবেদনকারীদের পূর্বসূরি শেখ তবিবুল্লাহ ১৯৮৪ সালে সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঘোষণামূলক মামলা (Title Suit) দায়ের করেন, যাতে সরকারের একটি উচ্ছেদ নোটিশকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
নিম্ন আদালতের রায়: ট্রায়াল কোর্ট (মুন্সেফ আদালত) মামলাটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে আপিল আদালত একতরফাভাবে বাদীর পক্ষে রায় দেন।
বিবিধ মামলা: সরকার উক্ত একতরফা রায় বাতিলের জন্য বিবিধ মামলা (Misc. Case) দায়ের করলে, সেখানে চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস পক্ষভুক্ত হয়। অবশেষে আপিল আদালত পূর্বের রায় বহাল রেখে বাদীর আপিল খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ হাইকোর্টে এই দেওয়ানি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-এর দাবি
তারা সরকারের কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ জমিটি (০.৭৫ একর) লিজ বা বরাদ্দ পেয়েছে।
তারা সরকারকে বিপুল পরিমাণ লিজের টাকা জমা দিয়ে ২০০৬ সালে রেজিস্ট্রিকৃত লিজ দলিল সম্পাদন করেছে এবং নিজেদের নামে নামজারি (Mutation) করে নিয়মিত খাজনা দিচ্ছে।
যেহেতু লিজ নেওয়া সম্পত্তিতে তাদের আইনগত স্বার্থ রয়েছে, তাই সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে এই মামলায় তাদের উপস্থিতি আবশ্যক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত
আইনি বিধান: দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশের ১০(২) নিয়ম [Order I, Rule 10(2) of CPC] অনুযায়ী, মামলার যেকোনো পর্যায়ে (এমনকি রিভিশন পর্যায়ও) সম্পূর্ণ ও কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য আদালত যেকোনো প্রয়োজনীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
নজির: আদালত পূর্ববর্তী বিভিন্ন জুডিশিয়াল নজির (যেমন: 44 DLR (AD) 253, 39 DLR 352) উল্লেখ করে বলেন যে, লিজ গ্রহীতার (Lessee) লিজকৃত সম্পত্তিতে সুনির্দিষ্ট স্বার্থ থাকে এবং তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা ন্যায়বিচারের জন্য জরুরি।
চূড়ান্ত আদেশ: চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-এর লিজ দলিল ও নামজারি থাকায় উক্ত সম্পত্তিতে তাদের স্পষ্ট স্বার্থ রয়েছে। তাই আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মেসার্স চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-কে এই রিভিশন মামলায় ৮ম থেকে ১৫তম প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দেন। এই আদেশে কোনো খরচ (No cost) ধার্য করা হয়নি।
বিচারপতি এ কে বদরুল হক এর আরো অসংখ্য রায় আছে যেগুলো বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে এবং আইনজীবীদের জন্য সব সময় পাথেয় হয়ে থাকবে। পরবর্তীতে বিচারপতি এ কে বদরুল হক আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রায় নিয়ে আপনাদের সম্মুখে আলোচনা করব আশা করি সবাই সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।
(সংকলিত)