কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm

কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm এ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ট্রায়াল আইনজীবী, জজ কোর্ট, ঢাকা আইন ও অধিকার

11/07/2026

একজন আইনজীবী অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন। বিচারক একজন দায়রা জজ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আইনজীবীর মনে হলো, তদন্তে এমন কোনো উপাদান নেই যা দিয়ে অভিযোগ গঠন করা যায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অব্যাহতির আবেদন করবেন।

কিন্তু তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো।

যেহেতু বিচারক দায়রা জজ, তাহলে কি অব্যাহতির আবেদন দায়রা মামলার বিধান অনুযায়ী হবে?
নাকি অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে দেখতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে।

প্রথম ধাপ: Special Powers Act কী বলছে?
The Special Powers Act, 1974-এর Section 27(4) স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়:

“A Special Tribunal trying an offence under this Act shall try such offence summarily and in trying such offence such Special Tribunal shall follow the procedure laid down in the Code for summary trial of summons cases.”

অর্থাৎ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে মামলার বিচার করতে হবে summary trial পদ্ধতিতে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত summons case-এর summary trial-এর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আইন বিচারকের পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়নি; বরং বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: Summary Trial-এর পদ্ধতি কোথায়?

এবার আসতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 262-এ।

Section 262 অনুযায়ী:
“In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed…”
অর্থাৎ, summary trial পরিচালনার ক্ষেত্রে Chapter XX-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: Chapter XX-এ কী আছে?
Criminal Procedure Code-এর Chapter XX গঠিত হয়েছে Section 241 থেকে Section 250 পর্যন্ত ধারাসমূহ নিয়ে।

এই অধ্যায়েই রয়েছে Section 241A, যা আদালতকে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি অভিযোগ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকে।

আইনের যৌক্তিক ফলাফল যেহেতু—

১. Special Powers Act-এর Section 27(4) summary trial বাধ্যতামূলক করেছে;

২. CrPC-এর Section 262 summary trial-এর জন্য Chapter XX অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে;

৩. Chapter XX-এর অন্তর্ভুক্ত Section 241A অব্যাহতির বিধান প্রদান করেছে;

সেহেতু অস্ত্র মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হোক, বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট হোন বা দায়রা জজ হোন, অব্যাহতির আবেদন দাখিল করতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 241A অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় :

১. H.M. Ershad Vs. The State (45 DLR 534)
এই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটি যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তখন চার্জ গঠনের বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে সমন মামলার অধ্যায় অর্থাৎ Section 241A-এর পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য। বিচারকের পদমর্যাদা উচ্চতর হলেও বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ দায়রা পদ্ধতির (Section 265C) প্রয়োগ এখানে বার (Barred) বা রহিত হয়ে যায়।

২. Md. Sirajul Islam and others Vs. The State (2005 / 22 BLC (AD) 141) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সমগোত্রীয় অন্যান্য বিশেষ আদালতের বিচার কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপিল বিভাগের এই মামলাটিতে এটি প্রতিফলিত হয়েছে যে— যেখানে বিশেষ বিধান বা সংক্ষিপ্ত বিচারপতির নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে, সেখানে চার্জ শুনানির দিনে আসামিরা Section 241A CrPC-এর অধীনেই অব্যাহতির আবেদন দাখিল করবেন।

ফৌজদারি রিভিশন এখতিয়ারের অসংখ্য নজিরে (যেমন- AKMM Saleh vs State 45 DLR 386) দেখা যায়, যখনই কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৫৬১এ (561A) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashing) বা রিভিশন করা হয়, তখন উচ্চ আদালত দেখেন যে নিম্ন আদালতে ২৪১এ (241A) ধারার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কিনা।

অনেক সময় আদালতের বিচারকের পদবী দেখে আইনজীবীরা বিভ্রান্ত হন। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালতের নাম নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত বিচার-পদ্ধতি।

অস্ত্র মামলায় Special Tribunal যখন summary procedure অনুসরণ করে বিচার পরিচালনা করে, তখন অব্যাহতির প্রশ্নেও সেই একই পদ্ধতির অংশ হিসেবে CrPC-এর Section 241A-ই প্রযোজ্য হবে।

অতএব, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে গঠিত হলেও অস্ত্র মামলায় অব্যাহতির দরখাস্ত The Code of Criminal Procedure, 1898-এর 241A ধারার অধীনেই দাখিল করতে হবে।
Collected

আমাদের এলাকায় একসময় প্রসিদ্ধ ঈশা খাঁ সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জনাব শরীফ আহম্মেদ
08/07/2026

আমাদের এলাকায় একসময় প্রসিদ্ধ ঈশা খাঁ সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জনাব শরীফ আহম্মেদ

08/07/2026

স্ত্রী স্বেচ্ছায় দেনমোহরের কোনো অংশ মওকুফ না করলে, স্বামী সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন এবং দেনমোহরের পরিমাণ কমানোর কোনো অধিকার আদালতের নেই।

[ 2 BLR = 17 BLD 4]

07/07/2026

বিচারপতি এ কে বদরুল হক
​বিচারপতি এ কে বদরুল হক পটুয়াখালী জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান, সরকারি আইনজীবী (গভর্নমেন্ট প্লিডার) ও বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম আসাদুল হকের একমাত্র পুত্র। জেলার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর পিতার প্রশংসনীয় অবদান ছিল।
​তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি (LLB) ডিগ্রি লাভ করেন।

​তিনি ১৯৭২ সালে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৮৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি দেশজুড়ে এক বিস্তৃত ও সফল আইন পেশা গড়ে তোলেন এবং দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং আরও কিছু স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সংগঠনের আইনি উপদেষ্টা ছিলেন।

​তিনি ১৯৬০-এর দশকের একজন বিখ্যাত ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪ সালের সমাবর্তন আন্দোলন এবং অন্যান্য আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও সংগঠক ছিলেন তিনি। এসব কারণে দীর্ঘ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দী হিসেবে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬০-১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন "সংস্কৃতি সংসদ"-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৩-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন "পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন" (যা 'ইপসু' নামে পরিচিত ছিল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।
​তিনি বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমি দানসহ সেসব ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছিলেন।
​তিনি ১৯৯৬ সালের ১ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১৯৯৮ সালের ৩১ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

​তাঁর স্ত্রী লায়লা বদরুল এবং তাঁর দুই পুত্র হলেন অমিত ও সুমিত।

👍👍 ​বিচারপতি এ কে বদরুল হক নিজেকে একজন দক্ষ, সৎ এবং পরিশ্রমী বিচারক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত এবং রায়গুলো আমাদের দেশের বিভিন্ন আইন সাময়িকীতে (Law Journals) প্রকাশিত হয়েছে। রায়গুলো অত্যন্ত চমৎকার এবং আইনের বিভিন্ন বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা এতে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে তাঁর আইনি কাজগুলো সম্পাদন করতেন। তিনি ছিলেন একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সকলের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক।. “The judgments are remarkable and reflected true expositions of law on various subjects. He used to perform his legal work in meticulous care and caution. He was a gentleman per excellence and his attitude towards the young and aged was extremely cordial”

আজকে আমরা ​বিচারপতি এ কে বদরুল হক একটি বিখ্যাত রায় নিয়ে আলোচনা করবো যে রায়ের বিষয়বস্তু হলো "দেওয়ানি রিভিশন মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে পক্ষভুক্ত" , রায়টি রেফারেন্স ভুক্ত হয়েছে DLR 61 (HD) 46, MLR 13 (HD) 393

​High Court Division
​(Civil Revisional Jurisdiction)
​Mr. Justice A.K. Badrul Huq
​Civil Revision No. 2019 of 2006
​Tabibullah and others -------- Petitioners
Vs.
Bangladesh and others -------- Opposite Parties.
​Judgement Date : April 04, 2007
​Md Nurul Amin with AKM Shahidul Huq and Md Aminul Ehsan, Advocates -------- For the Petitioners. Md Abdullah Assistant Attorney-General -------- For the Government Opposite Party. MA Jabbar; Advocate -------- For addition of Opposite Parties.
​Judgment
​The controversy attracting the attention of this Court is, whether Ms Chameli Glass Works represented by its Proprietors Alhaj Abdur Rab, Alhaj Md Nurul Islam, Alhaj Md Hanif, Md Shahjahan, Md Zakir Hussain, Shahnaz Amir and Shahanaz Alam can be added as opposite parties in Civil Revision Case in hand.
​2. The verdict proposed to be bestowed does not demand a detailed disclosure of facts except those which can shed light in resolving the war of words which are:
​A. Predecessors of First-Fourteenth petitioners in Civil Revision Case Sheikh Tabibullah as plaintiff laid a suit being Title Suit No. 582 of 1984 in First Court of the then Munsif, Dhaka impleading Government of The People's Republic of Bangladesh represented by Secretary, Ministry of Works and Urban Development and others as defendants for declaration that the notice contained in Memo No. 1107 dated 3-10-1984 issued by Sub-Divisional Engineer, PWD Tejgaon Industrial Area, Tejgaon, Dhaka, First opposite party of Civil Revision Case directing plaintiff to hand over possession of suit property mentioned in schedule to the plaint, within seven days from the date of receipt of notice of authorities is illegal, inoperative, malafide, void, without jurisdiction and, also, for permanent injunction restraining defendants from disturbing peaceful possession of plaintiff on suit property. The Suit was renumbered as Title Suit No. 13 of 1985 on transfer to Second Court of Munsif, Dhaka.
​B. Government of The People's Republic of Bangladesh being First-defendant contested the suit on presentation of a written statement traversing all material allegations made in the plaint.
​C. Learned Munsif by judgment and decree dated 9-11-1985 dismissed the suit.
​D. Plaintiffs having felt dissatisfied with the aforesaid judgment and decree carried an appeal being Title Appeal No. 272 of 1985 before learned District Judge, Dhaka. Appeal was heard by Second Court of Subordinate Judge, Dhaka. Appeal was allowed ex parte. Judgment and Decree is dated 12-11-1991.
​E. First-defendant, Government of The People's Republic of Bangladesh having been aware of ex parte judgment and decree passed in Title Appeal bestowed a petition under Order XLI, rule 21 of the Code of Civil Procedure for rehearing of the appeal. The said petition had been numbered as Miscellaneous Case No. 28 of 1995.
​F. In the said Miscellaneous Case Chameli Glass Works represented by its proprietors had been made opposite parties through their Attorney by Court's order dated 26-6-2005.
​G. Ms Chameli Glass Works represented by their proprietors had not been made respondents in the.

​মামলার বিবরণ ও পটভূমি
​আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানি রিভিশন এখতিয়ার)
​বিচারক: বিচারপতি এ. কে. বদরুল হক।
​মামলা নম্বর: ২০০৬ সালের দেওয়ানি রিভিশন নং ২০১৯।

​মূল বিরোধ (Issue)
​মামলার মূল বিষয় ছিল—'মেসার্স চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস' (তার স্বত্বাধিকারীদের মাধ্যমে) এই দেওয়ানি রিভিশন মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে পক্ষভুক্ত (Added as opposite party) হতে পারবে কি না।
​মামলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
​মূল মামলা: আবেদনকারীদের পূর্বসূরি শেখ তবিবুল্লাহ ১৯৮৪ সালে সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঘোষণামূলক মামলা (Title Suit) দায়ের করেন, যাতে সরকারের একটি উচ্ছেদ নোটিশকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

​নিম্ন আদালতের রায়: ট্রায়াল কোর্ট (মুন্সেফ আদালত) মামলাটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে আপিল আদালত একতরফাভাবে বাদীর পক্ষে রায় দেন।
​বিবিধ মামলা: সরকার উক্ত একতরফা রায় বাতিলের জন্য বিবিধ মামলা (Misc. Case) দায়ের করলে, সেখানে চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস পক্ষভুক্ত হয়। অবশেষে আপিল আদালত পূর্বের রায় বহাল রেখে বাদীর আপিল খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ হাইকোর্টে এই দেওয়ানি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
​চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-এর দাবি
​তারা সরকারের কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ জমিটি (০.৭৫ একর) লিজ বা বরাদ্দ পেয়েছে।
​তারা সরকারকে বিপুল পরিমাণ লিজের টাকা জমা দিয়ে ২০০৬ সালে রেজিস্ট্রিকৃত লিজ দলিল সম্পাদন করেছে এবং নিজেদের নামে নামজারি (Mutation) করে নিয়মিত খাজনা দিচ্ছে।
​যেহেতু লিজ নেওয়া সম্পত্তিতে তাদের আইনগত স্বার্থ রয়েছে, তাই সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে এই মামলায় তাদের উপস্থিতি আবশ্যক।

​আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত
​আইনি বিধান: দেওয়ানি কার্যবিধির ১ আদেশের ১০(২) নিয়ম [Order I, Rule 10(2) of CPC] অনুযায়ী, মামলার যেকোনো পর্যায়ে (এমনকি রিভিশন পর্যায়ও) সম্পূর্ণ ও কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য আদালত যেকোনো প্রয়োজনীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
​নজির: আদালত পূর্ববর্তী বিভিন্ন জুডিশিয়াল নজির (যেমন: 44 DLR (AD) 253, 39 DLR 352) উল্লেখ করে বলেন যে, লিজ গ্রহীতার (Lessee) লিজকৃত সম্পত্তিতে সুনির্দিষ্ট স্বার্থ থাকে এবং তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা ন্যায়বিচারের জন্য জরুরি।
​চূড়ান্ত আদেশ: চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-এর লিজ দলিল ও নামজারি থাকায় উক্ত সম্পত্তিতে তাদের স্পষ্ট স্বার্থ রয়েছে। তাই আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মেসার্স চামেলী গ্লাস ওয়ার্কস-কে এই রিভিশন মামলায় ৮ম থেকে ১৫তম প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দেন। এই আদেশে কোনো খরচ (No cost) ধার্য করা হয়নি।

বিচারপতি এ কে বদরুল হক এর আরো অসংখ্য রায় আছে যেগুলো বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে এবং আইনজীবীদের জন্য সব সময় পাথেয় হয়ে থাকবে। পরবর্তীতে বিচারপতি এ কে বদরুল হক আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রায় নিয়ে আপনাদের সম্মুখে আলোচনা করব আশা করি সবাই সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন।
(সংকলিত)

পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনে মুক্তিনামা দলিলের আইনি বৈধতা: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিশ্লেষণলেখক: মোঃ করমুল্লাহ অ্যা...
02/07/2026

পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনে মুক্তিনামা দলিলের আইনি বৈধতা: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিশ্লেষণ

লেখক:
মোঃ করমুল্লাহ
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জজ কোর্ট
প্রকাশকাল: জুলাই ২০২৬

ভারতীয় উপমহাদেশে পারিবারিক ও পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনে ‘মুক্তিনামা’ (Release Deed) বা ‘নাদাবী দলিল’ (Relinquishment Deed) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত আইনি হাতিয়ার। পরিবারের অভ্যন্তরে বিরোধ এড়িয়ে সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তরের জন্য এই দলিলের ব্যবহার সুদীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়শই উদয় হয়—কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রতিদান বা সমমূল্যের বিনিময় ছাড়া সম্পাদিত এই দলিল কি আদৌ আইনত বৈধতা পায়? ২০০৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া Ranganayakamma Versus K.S. Prakash মামলার যুগান্তকারী রায় এই জটিল প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান দিয়েছে, যা দেওয়ানি ও পারিবারিক সম্পত্তি আইনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

মামলার পটভূমি:
কে. শ্রীনিবাসুলু নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর প্রথম স্ত্রী সিংগারাম্মা ও তাদের কন্যা (বোনেরা) এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের (ভাই) মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে জটিলতা দেখা দেয়। ১৯৮৩ সালের ৫ আগস্ট একটি বণ্টন ও মুক্তিনামা দলিল স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে মা সিংগারাম্মাকে একটি সম্পত্তির ১/৩ অংশ প্রদান করা হয় এবং বোনেরা তাদের সমস্ত অধিকার মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে ভাইদের কাছে হস্তান্তর করেন।

১৯৯০ সালে, অর্থাৎ ৭ বছর পর, বোনেরা আদালতে মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে, ভাইদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। তাঁদের মূল যুক্তি ছিল—‘১ টাকা’ কোনো বৈধ প্রতিদান (Consideration) হতে পারে না, তাই দলিলটি আইনত বাতিলযোগ্য (Voidable)।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়:

মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট বোনদের আপিল খারিজ করে দিয়ে মুক্তিনামা দলিলটিকে সম্পূর্ণ বৈধ, কার্যকর ও আইনগতভাবে সিদ্ধ ঘোষণা করেন। রায়ের ভিত্তি ছিল নিম্নলিখিত মৌলিক আইনি নীতিগুলো—

১. প্রতিদান ছাড়াও দলিল বৈধ হতে পারে (ভারতীয় চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২৫)

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদান (Consideration) ব্যতীত চুক্তি বাতিল (Void)। কিন্তু ভারতীয় চুক্তি আইনের ধারা ২৫-এর ব্যতিক্রমী বিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি কোনো দলিল লিখিত ও নিবন্ধিত হয় এবং তা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে প্রাকৃতিক স্নেহ ও ভালোবাসার (Natural Love and Affection) ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়, তবে তা প্রতিদান নিরপেক্ষভাবেও সম্পূর্ণ বৈধ। এই মামলায় বোনেরা স্বীকার করেছেন যে তাঁদের ভাইদের প্রতি গভীর স্নেহ ও আস্থা ছিল। তাই এখানে ১ টাকার প্রতিদানকে অপ্রাসঙ্গিক ও নামমাত্র বিবেচনা করা হয়েছে (রায়ের অনুচ্ছেদ ৪৭)।

২. মুক্তিনামাকে দান (Gift) হিসেবেও গণ্য করা যায় (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ১২২ ও ১২৩)

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো মুক্তিনামা দলিলে স্বত্ব ত্যাগের সুস্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ পায় এবং তা দুজন সাক্ষী দ্বারা প্রত্যয়িত (Attested) হয়ে নিবন্ধিত (Registered) হয়, তবে তা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের অধীনে দান (Gift) হিসেবেও আইনি স্বীকৃতি লাভ করতে পারে। এ অবস্থায় কোনো আর্থিক প্রতিদানের প্রয়োজন হয় না (রায়ের অনুচ্ছেদ ৪৫)।

৩. নিবন্ধিত দলিলের প্রমাণ ও জালিয়াতি প্রমাণের ভার (Onus of Proof)

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, একটি নিবন্ধিত দলিল বৈধ বলে অনুমান করা হয় (Presumption of Validity)। যদি কেউ জালিয়াতি বা প্রতারণার অভিযোগ তোলেন, তবে তা প্রমাণের জন্য উচ্চ মানের প্রমাণ (Higher Standard of Proof) উপস্থাপন করতে হবে। শুধু অস্পষ্ট বা সাধারণ অভিযোগ যথেষ্ট নয় (রায়ের অনুচ্ছেদ ৩৩ ও ৩৪)। এই মামলায় বোনেরা জালিয়াতির কোনো নির্দিষ্ট বিবরণ (Particulars of Fraud) প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা সিভিল প্রসিডিউর কোডের অর্ডার ৬ রুল ৪-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

৪. পারিবারিক নিষ্পত্তি হিসেবে বৈধতা (Family Arrangement)

আদালত জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবারের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে যে ‘পারিবারিক নিষ্পত্তি’ (Family Settlement) সম্পাদিত হয়, তা আইনত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। এমনকি যদি তা কিছুটা অসম হয় বা তাতে কোনো প্রত্যক্ষ বিরোধ না থাকে, তবুও তা বৈধ বলে গণ্য হবে। এই মামলায় বোনেরা নিজেরাই সেই নিষ্পত্তির সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রহণও করেছিলেন (রায়ের অনুচ্ছেদ ২৪ ও ৪৩)।

৫. তামাদি আইনের কঠোর প্রযোজ্যতা (তামাদি আইন, ১৯৬৩-এর ধারা ৫৯)

সুপ্রিম কোর্ট তামাদি আইনের ৫৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 59) প্রয়োগ করে স্পষ্ট বলেন, কোনো দলিল প্রতারণামূলক বলে চ্যালেঞ্জ করতে হলে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। এই মামলায় বোনেরা ১৯৮৩ সালে দলিল স্বাক্ষর করেন এবং ১৯৮৫ সাল থেকে তাঁরা ওই সম্পত্তির ভাড়া গ্রহণ করছিলেন, যা দলিল সম্পর্কে তাঁদের পূর্ণ জ্ঞান ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচায়ক। তাই ১৯৯০ সালে মামলা দায়ের করা তামাদিতে বারিত (Barred by Limitation) বলে গণ্য হয়েছে (রায়ের অনুচ্ছেদ ৫৭)।

---

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতিসমূহ:

১. মুক্তিনামা দলিল একতরফা হলেও তা আইনত বৈধ ও কার্যকর হতে পারে।
২. নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সম্পাদিত লিখিত ও নিবন্ধিত দলিলে ‘প্রেম ও স্নেহ’ বৈধ প্রতিদান হিসেবে গণ্য হয়।
৩. প্রতারণার অভিযোগে নির্দিষ্ট বিবরণ (Particulars of Fraud) দিতে হবে; অস্পষ্ট অভিযোগ আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. কোনো দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা যদি কার্যকর করা হয় (Acted Upon), তবে পরবর্তীকালে সেই দলিলকে চ্যালেঞ্জ করা অত্যন্ত কঠিন হয়।
৫. পারিবারিক নিষ্পত্তি আদালত কর্তৃক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয় এবং বিরোধের অনুপস্থিতিতেও তা বৈধ হতে পারে।
৬. নিবন্ধিত দলিল বৈধ বলে অনুমিত হয় এবং তা খণ্ডনের ভার অভিযোগকারীর উপর বর্তায়।
৭. দলিল বাতিলের আবেদন তামাদি আইনের সীমার মধ্যে দায়ের করতে হবে; অন্যথায় তা সময়ে বারিত হয়।

বাস্তব জীবনের আইনি শিক্ষা ও সতর্কতা:

· অফেরতযোগ্য সিদ্ধান্ত: একবার মুক্তিনামা দলিল যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত ও নিবন্ধিত হলে, সেই সম্পত্তির ওপর কোনো প্রকার দাবি আর করা যায় না। এটি একটি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় (Irrevocable) হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

· নিবন্ধন অপরিহার্য: মুক্তিনামা দলিলকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হলে তা লিখিত হতে হবে এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিবন্ধিত (Registered) হতে হবে। মৌখিক বা অরেজিস্ট্রিকৃত দলিলের কোনো আইনি মূল্য নেই।

· সচেতন সিদ্ধান্ত ও আইনি পরামর্শ: কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের পূর্বে অবশ্যই স্বাধীন ও অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। দলিলের ভাষা, শর্ত ও ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পূর্ণ বুঝে তবেই স্বাক্ষর করা উচিত।

· নারীদের অধিকার ও স্বেচ্ছা ত্যাগ: হিন্দু উত্তরাধিকার আইন (Hindu Succession Act, 1956) অনুযায়ী কন্যাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার রয়েছে, কিন্তু তারা যদি নিজ ইচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে সে অধিকার ত্যাগ করেন, তবে তা আইনত বৈধ এবং পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়।

· প্রতারণার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন: কেবল ‘প্রতারিত হয়েছি’ বলে অভিযোগ করলেই চলে না; কে, কখন, কীভাবে এবং কী প্রতারণা করেছেন—তার স্পষ্ট, লিখিত ও প্রামাণ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের Ranganayakamma Versus K.S. Prakash (2008) রায়টি ভারতীয় দেওয়ানি আইনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এটি সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছে যে, মুক্তিনামা দলিল কোনো সাধারণ কাগজ নয়; এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও চূড়ান্ত একটি আইনি হাতিয়ার, যা চিরতরে সম্পত্তির মালিকানা বদলে দিতে পারে। তাই এই ধরনের দলিলে স্বাক্ষর দেওয়ার আগে আইনগত ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা আবশ্যক। দেওয়ানি আইনে পরবর্তীতে ‘অজ্ঞতা’ বা ‘ভুল বোঝাবুঝি’—এই অজুহাত খুব কমই আদালতে গ্রহণযোগ্যতা পায়। সুতরাং, সতর্ক হোন, আইনি পরামর্শ নিন এবং তারপরই যেকোনো হস্তান্তর দলিলে আবদ্ধ হন।

23/06/2026

▪ ​স্বায়ত্তশাসন –– Autonomy
▪ অধ্যাদেশ –– Ordinance
▪ বিচারসংক্রান্ত –– Judicial
▪ আইনসভা –– Legislation
▪ প্রচার করা –– Promulgate
▪ সংশোধন –– Amendment
▪ নিয়োগ করা –– Appoint
▪ কমিটি –– Committee
▪ আলোচনা –– Discourse
▪ পরামর্শ –– Consultation
▪ বাস্তবায়ন –– Implementation
▪ তত্ত্বাবধান –– Supervision
▪ স্বাধীনতা –– Independence
▪ পৃথকীকরণ –– Segregation
▪ সংস্কার –– Reform
▪ অঙ্গীকার –– Pledge
▪ বৈপরীত্য –– Contradiction
▪ কাঠামো –– Framework
▪ অভিযোগ –– Allegation
▪ অন্তর্বর্তী –– Interim
▪ পরীক্ষামূলক –– Experimental
▪ যোগ্যতা –– Qualification
▪ যোগ্য –– Competent
▪ নিরপেক্ষ –– Impartial
▪ অনুমোদন –– Ratification
▪ বৈধতা –– Legitimacy
▪ সমর্থন করা –– Uphold
▪ আইনপ্রণয়ন সংক্রান্ত –– Legislative
▪ প্রস্তাব –– Resolution
▪ সচিবালয় –– Secretariat
▪ তত্ত্বাবধান করা –– Supervise
▪ পার্থক্য করা –– Discern
▪ পর্যবেক্ষণ করা –– Scrutinize
▪ নির্ধারণ করা –– Stipulate
▪ বাতিল করা –– Repeal
▪ সংরক্ষণ –– Preservation
▪ লঙ্ঘন করা –– Contravene
▪ জবাবদিহিতা -- Accountability
▪ স্বচ্ছতা –– Transparency
▪ অনুমোদন করা –– Ratify
▪ দুর্দশা –– Predicament
▪ শাসন ব্যবস্থা –– Governance
▪ দ্বিপক্ষীয় –– Bipartisan
▪ অসম্পূর্ণ –– Unfulfilled
▪ পৃথক করা –– Segregate
▪ বিচারাধীন এলাকা –– Jurisdiction
▪ আদেশ –– Mandate
▪ আনুগত্য –– Allegiance
▪ তদারকি –– Oversight
▪ সমর্থন করা –– Endorse

17/06/2026

চেক ডিজনার মামলায় আসামিপক্ষের শক্তিশালী ঢাল: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা দৈনন্দিন আর্থিক প্রয়োজনে চেকের ব্যবহার অপরিসীম। আর এই চেকের বিশ্বস্ততা ও আইনি সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’ (NI Act)। এই আইনের ১৩৮ ধারার অধীনে চেক ডিজনারের মামলাগুলোতে সাধারণত আইন প্রাথমিকভাবে ফরিয়াদি বা অভিযোগকারীর পক্ষেই হেলে থাকে। আইন ধরে নেয়, চেকটি কোনো বৈধ দেনা বা ঋণ পরিশোধের জন্যই দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এই আইনি অনুমান কি অকাট্য? একেবারেই নয়। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট "K. Subramani v. K. Damodara Naidu" [(2015) 1 SCC 99] মামলায় আসামিপক্ষের সুরক্ষায় এবং আইনের অপব্যবহার রোধে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনা:
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে ৩% সুদে অভিযোগকারীর কাছ থেকে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে তিনি একটি পোস্ট-ডেটেড (অগ্রিম তারিখযুক্ত) চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে "তহবিল অপর্যাপ্ত" (Funds Insufficient) জনিত কারণে তা প্রত্যাখ্যাত বা ডিজনার হয়।

মামলাটি যখন আদালতে যায়, তখন আইনের প্রাথমিক অনুমানের কারণে আসামিপক্ষ স্বাভাবিকভাবেই বেশ চাপে ছিল। কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট বা বিচারিক আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সওয়াল-জবাব শেষে আসামিকে খালাস দেয়। পরবর্তী আইনি লড়াইয়ে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
সুপ্রিম কোর্ট রায়ে কী বললেন?
মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় ট্রায়াল কোর্টের খালাসের সিদ্ধান্তকে পুনরুজ্জীবিত ও বহাল রাখেন। রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইনি নীতি প্রতিষ্ঠা করেন:
১. আয়ের উৎস প্রমাণের বাধ্যবাধকতা:
আদালত স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেন যে, অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি কোনোভাবেই আদালতে এটি প্রমাণ করতে পারেননি যে, নগদ ১৪ লক্ষ টাকার মতো একটি বড় অংক ঋণ হিসেবে দেওয়ার মতো তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস বা পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা (Financial Capacity) ছিল।

২. আইনি অনুমান খণ্ডন:
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসামিপক্ষ যখন ফরিয়াদির টাকা ধার দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলতে সক্ষম হয়েছেন, তখনই আইনের প্রাথমিক অনুমানটি (Presumption) খণ্ডিত হয়ে গেছে।
আসামিপক্ষের জন্য এই রায় কেন একটি ‘শক্তিশালী অস্ত্র’?
সাধারণত ফৌজদারি মামলায় যেকোনো অভিযোগ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ’ করার দায়িত্ব থাকে প্রসিকিউশন বা অভিযোগকারীর ওপর। কিন্তু চেক ডিজনার মামলায় ধারা ১১৮ এবং ১৩৯ এর কারণে এই দায় আসামির ওপর বর্তায় যে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন।
এই যুগান্তকারী রায় আসামিপক্ষকে একটি বিশাল স্বস্তি দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন:
আসামিকে তার নির্দোষিতা ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণ করতে হবে না। তিনি কেবল ‘সম্ভাবনার ভারসাম্য’ (Preponderance of probabilities) তৈরি করতে পারলেই চলবে।
আসামিপক্ষ যদি মামলার শুনানিতে ফরিয়াদির আর্থিক সক্ষমতা বা আয়ের উৎসকে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন এবং আদালতে একটি যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি করতে পারেন, তবে প্রমাণের সম্পূর্ণ দায় (Legal Burden) আবার ফরিয়াদির ওপর ফিরে যায়।
ফরিয়াদি যদি তখন তার অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে পুরো মামলাটিই ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে এবং আসামি খালাস পাওয়ার যোগ্য হন।
শেষ কথা
এই ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্টটি প্রমাণ করে যে, আইন যেমন চেকের মর্যাদা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর, তেমনি ভুয়া বা ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করার সুযোগও আইন দেয় না।

15/06/2026

অর্থঋণ ও জারি মামলায় পক্ষ না হয়েও তৃতীয় পক্ষে (Third party) রিট পিটিশন দায়ের করতে আইনগত বাধা নেই।মোঃ ফজলুর রহমান ​-বনাম-বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য এই সংক্রান্ত রুল Absolute করা হয়েছে। যা আইনের ছাত্র, ব্যাংকিং ল নিয়ে প্রাকটিস করা আইনজীবীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেখানে অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর জটিল আইনি ব্যাখ্যা একজন নিরীহ তৃতীয় পক্ষের (Third Party) স্বত্ব রক্ষার বিষয়টিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আসুন উক্ত Judgment আলোচনা করি।

✅ Facts the Case:
মামলার ২ নং রেসপন্ডেন্ট (ব্যাংক) মূল ঋণগ্রহীতা ৩ নং রেসপন্ডেন্টের বিরুদ্ধে ৩৮৩/১৯৯২ নং অর্থ ঋণ মামলা দায়ের করে এবং মামলাটি একতরফাভাবে ডিক্রি হয়।

🔴ডিক্রিকৃত পাওনা (১১,০৭,১১৭/- টাকা) আদায়ের জন্য ব্যাংক ৩৮/১৯৯৬ নং অর্থ জারি মামলা দায়ের করে। দেনাদার টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(৭) ধারার অধীনে আদালত থেকে একটি মালিকানা সার্টিফিকেট লাভ করে।

🔴উক্ত সার্টিফিকেটের ক্ষমতাবলে ব্যাংক ২৭.১১.২০২৫ তারিখে "দৈনিক করতোয়া" পত্রিকায় তফসিলভুক্ত বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির জন্য একটি নিলাম নোটিশ প্রকাশ করে।

🔴পরবর্তীতে রিট পিটিশনার (যিনি মূল ঋণ বা জারি মামলার কোনো পক্ষ ছিলেন না, অর্থাৎ একজন সম্পূর্ণ তৃতীয় পক্ষ) হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

✅ How Aggrieved: রিট পিটিশনার (মোঃ ফজলুর রহমান) নিম্নোক্ত কারণে এই নিলাম নোটিশের দ্বারা চরমভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন:

🔴প্রকৃত মালিকানা ও দখল: বিতর্কিত ৩৩.৭৫ ডেসিমেল সম্পত্তিটি আবেদনকারীর প্রয়াত পিতা (যিনি একজন শিল্পপতি ছিলেন) এবং তাঁর ভাইয়ের ছিল। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৮ সালের ৬৪ নং বাটোয়ারা (বণ্টন) মামলার ডিক্রি মূলে আবেদনকারী তাঁর পৃথক সহমে (অংশে) এই সম্পত্তি প্রাপ্ত হন।

🔴সর্বশেষ আর.এস খতিয়ান নং ৩১৬-এ সম্পত্তিটি আবেদনকারীর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। তিনি নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করে নিয়মিত দাখিলা/খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন এবং সম্পত্তিটি তাঁর বৈধ দখলে ছিল।

🔴মূল ঋণগ্রহীতা (৩ নং রেসপন্ডেন্ট) সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আবেদনকারীর এই সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক রেখেছিলেন।

🔴এর আগে ৩০.০৯.২০২৫ তারিখে এই সম্পত্তি নিলামে তোলা হলে আবেদনকারী অংশ নেন। দাম কম হওয়ায় তা বাতিল হলেও ব্যাংক আশ্বাস দিয়েছিল সম্পত্তিটি তাঁর কাছেই হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস ভঙ্গ করে ব্যাংক পুনরায় নিলাম নোটিশ দেওয়ায় আবেদনকারীর মৌলিক স্বত্বাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়ে।

✅Issuance of the Rule & Interim Order)
আবেদনকারীর আবেদনের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিভাগ একটি **রুল নিসি (Rule Nisi)** জারি করেন:

🔴২ নং রেসপন্ডেন্ট (ব্যাংক) কর্তৃক প্রকাশিত বিতর্কিত নিলাম নোটিশটি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা প্রদর্শনের জন্য রেসপন্ডেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

🔴রুল জারির সময়ে আদালত বিতর্কিত নিলাম নোটিশটির কার্যকারিতা ৪ (চার) মাসের জন্য স্থগিত করেন। একই সাথে আবেদনকারীকে ৪ মাসের মধ্যে ব্যাংকের মোট বকেয়া পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়; এবং বলা হয় যে এই নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে রুলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ (discharged) হয়ে যাবে।


✅ Submission of the Advocate: অর্থ ঋণ আদালত আইনের ৩৩(৯) ধারা অনুযায়ী, ৩৩(৫) বা ৩৩(৭) ধারার অধীনে সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই জারি মামলাটি আইনত নিষ্পত্তি (disposed of) হয়ে যায়। যেহেতু নিলামের সময় কোনো জারি মামলা কার্যকর ছিল না, তাই আইনের ৩২ ধারার অধীনে ১০% টাকা জমা দিয়ে বিবিধ (Misc.) মামলা করার কোনো সুযোগ আবেদনকারীর ছিল না।

🔴দেওয়ানি কার্যবিধির অপ্রযোজ্যতা: যেহেতু কোনো জারি আদালতের মাধ্যমে এই নিলাম হচ্ছে না, বরং ব্যাংক নিজে এটি করছে, তাই অর্থ ঋণ আইনের ২৬ ধারা টেনে এনে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯০ বা বিধি ৫৮ অনুযায়ী প্রতিকার খোঁজার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। রিট মামলাই একমাত্র কার্যকর পথ।

🔴রুল জারির শর্তানুযায়ী আবেদনকারী ব্যাংকে বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে গিয়েছিলেন (পে-অর্ডার অ্যানেক্সার ‘এফ-১’), কিন্তু ব্যাংক তা গ্রহণ করেনি। অতএব, আবেদনকারী খেলাপি নন, ব্যাংকের অনিচ্ছার কারণেই টাকা জমা নেওয়া যায়নি।

✅২ নং রেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবীর যুক্তি: রিট পিটিশনার এর Locus Standi নেই: আবেদনকারী মূল মামলার ঋণগ্রহীতা বা সাজাপ্রাপ্ত দেনাদার নন। তাই ব্যাংকের পক্ষে তাঁর কাছ থেকে বকেয়া টাকা গ্রহণ করার আইনগত সুযোগ নেই।

🔴আবেদনকারীর উচিত ছিল অর্থ ঋণ আইনের ৩২ ধারা বা দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯০/৫৮ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৯১ ধারার অধীনে দেওয়ানি আদালতে যাওয়া। সরাসরি রিট রক্ষণীয় নয়।

✅ Disputed Question of Facts: যেহেতু এখানে জালিয়াতি ও মালিকানার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা সাক্ষ্য-প্রমাণ সাপেক্ষ, তাই রিট এখতিয়ারে এর নিষ্পত্তি সম্ভব নয় (নজির: 64 DLR (HC) 281)।

✅ Observations of the Court৷
হাইকোর্ট বিভাগ উভয় পক্ষের যুক্তি এবং নথিপত্র (বিশেষ করে আর.এস খতিয়ান ও বাটোয়ারা মামলার ডিক্রি) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে অত্যন্ত সুচিন্তিত পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:

🔴আদালত ব্যাংকের এই যুক্তিটি সম্পূর্ণ খণ্ডন করেন যে আবেদনকারীর বিকল্প দেওয়ানি ফোরামে যাওয়া উচিত ছিল। আদালত স্পষ্ট করে বলেন—নিলাম নোটিশ জারির সময়ে দেওয়ানি বা অর্থ ঋণ আদালতে কোনো "জারি মামলা" বিচারাধীন ছিল না। যেহেতু কোনো জারি মামলা অস্তিত্বেই ছিল না, তাই অর্থ ঋণ আইনের ৩২ ধারা (যেখানে স্পষ্ট শব্দবন্ধ রয়েছে “উদ্ভুত জারি মামলায়”) বা দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১-এর বিধানগুলো এখানে কোনোভাবেই প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সুতরাং, রিট পিটিশনটিই ছিল আবেদনকারীর একমাত্র সম-কার্যকর ও আইনসংগত প্রতিকার।

🔴আবেদনকারী তাঁর স্বত্বের সপক্ষে যে আর.এস খতিয়ান (২০২০ সালে প্রস্তুতকৃত) এবং বণ্টননামা দলিল পেশ করেছেন, ব্যাংক কোনো প্রতি-হলফনামা (Counter-affidavit) দিয়ে তা খণ্ডন করতে পারেনি। ব্যাংকের কথিত নামজারির চেয়ে আবেদনকারীর সর্বশেষ আর.এস রেকর্ড আইনত শক্তিশালী।

🔴Even so, as per the direction of this court, the petitioner had offered total outstanding dues to the respondent no. 2 which was not accepted. Since the petitioner acquired the scheduled property whose name the latest record has been prepared (Annexure-'A' series to the writ petition) and the whereabouts of the respondent no. 3 cannot be traced, so for that obvious reason it prima facie proves that the petitioner is the owner of the scheduled property for which he is willing to pay total the outstanding dues but the respondent no. 2 for the reason best known to it, very unreasonably declined to receive that public money/ মূল দেনাদার (৩ নং রেসপন্ডেন্ট) পলাতক। এই পরিস্থিতিতে একজন বৈধ মালিক (তৃতীয় পক্ষ) যখন আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যাংকের পাওনা তথা জনঅর্থ (Public Money) পরিশোধ করতে চাচ্ছেন, তখন ব্যাংকের তা গ্রহণ না করাটা চরম "অযৌক্তিক এবং খামখেয়ালিপনা"।

✅ Judgment and Order of the Court: মহামান্য হাইকোর্ট আবেদনকারীর পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন:

🔴Accordingly, the rule is made absolute however without any order as to costs.

The order of stay granted at the time of issuance of the rule stands recalled and vacated.

🔴 However, the respondent no. 2 is hereby directed to receive the amount which has been annexed as of Annexure-'F-1' to the application for direction dated 09.02.2026 filed by the petitioner within a period of 01(one) month from the date of receipt of the copy of this order. If the respondent-bank no. has got any further claim towards the respondent no. 3, the same can be settled mutually by the bank with the petitioner.

09/06/2026

জেলখানায় কত মাসে বছর?
(প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত জেলকোড, ১৯২০ এর বিধি অনুযায়ি)
➤ আদালতের রায়ে কাউকে কারাগারে পাঠানো হলে আদালতের আর কোনো দায় থাকেনা এরপর থেকে দায়িত্ব বর্তায় কারা কর্তৃপক্ষের উপর। কারা কর্তৃপক্ষ ও কারাগারের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় Prisons Act, 1894 এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত Jail Code, 1920 মোতাবেক।
জেলকোড, ১৯২০ এর ১১শ অধ্যায়ের ৭৫০-৭৮১ বিধিতে সন্নিবেশিত আছে বন্দিদের রেয়াত (remission) মঞ্জুরের বিধানবলী। রেয়াত মানে হলো অব্যাহতি দেয়া বা ছাড় দেয়া বা রেহাই দেয়া। এই রেয়াত এর মাধ্যমেই মূলত কোনো আসামীর দণ্ডের মেয়াদ কমানোর সুযোগ চলে আসে যা কিনা ঐ বিধিগুলো মোতাবেকই হতে হবে।

✪ রেয়াত (Remission) : রেয়াত দুই প্রকারের হয়: সাধারণ ও বিশেষ রেয়াত।

➤ রেয়াত মঞ্জুর: জেলকোডের ৭৬১ বিধি মোতাবেক 'সাধারণ রেয়াত' মঞ্জুর করতে পারেন সিনিয়র জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা জেল সুপার বা তার কতৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো জেল কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ৭৬৬ বিধি মোতাবেক সরকার বা আইজি প্রিজন্স অথবা জেল সুপার কার্যকর করতে পারেন 'বিশেষ রেয়াত'।

✪ জেলকোডের বিধি মোতাবেক রেয়াতের পরিমাণ:

➤ কারাবন্দীদের সাধারণ রেয়াৎ প্রাপ্তি:
☞ কারাগারের সব নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিমাসে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (এ)]

☞ শিল্প ও দৈনন্দিন দেয়া কাজগুলো সঠিকভাবে করাে জন্য প্রতিমাসে ২ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (বি)]

☞ কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৭ দিন ও নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৬ দিন। [বিধি: ৭৫৭]

☞ শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বাবুর্চি ও সুইপারের কাজে নিয়োজিত থাকলে অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৯]

☞ দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের ১ তারিখ হতে ১ বছর পার হবার পর; কারা অপরাধের সর্বশেষ শাস্তিভোগের তারিখ হতে ১ বছর অতিক্রম করার পর বন্দি যদি অন্যকোনো কারা অপরাধ না করেন সেক্ষেত্রে বছরে আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবেন। [বিধি: ৭৬০]

◑ একজন বন্দী বিধি মোতাবেক কাজকর্ম করলে মাসে ১০-১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পেতে পারেন যা সম্ভব নয় তবে প্রত্যেক বন্দিই কিছু রেয়াত পেয়ে থাকেন। ফলে বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে দিনের পরিমাণ কমে আসে।

➤ কারাবন্দীদের বিশেষ রেয়াৎ প্রাপ্তি: বিশেষ রেয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে জেলকোডের ৭৬৫ ও ৭৬৬ বিধিতে। উক্ত বিধি দুটি মোতাবেক জেল সুপার বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিন ও আইজি প্রিজন্স অথবা সরকার বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারেন। যে যে ক্ষেত্রে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা হয়:
☞ কারাগারে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের বিষয় শনাক্ত করা কিংবা প্রতিরোধ করার কাজে সহযোগিতা করা।
☞ হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদানে কৃতিত্ব।
☞ বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ কোনো কাজ কিংবা আয় বৃদ্ধিকারক উন্নতমানের কোনো কাজ।
☞ আক্রমণ হতে কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রক্ষা করা।
☞ কারা বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আগুন বা সমপ্রকৃতির জরূরী ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করা।
☞ পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতা।
☞ টেকনিক্যাল বা একাডেমিক ট্রেনিং গ্রহণে দক্ষতা প্রদর্শন।
☞ কারাগারের বিধিবিধান পালনে মনোযোগী হওয়া ও একটানা তিন বছর কোনো কারাশাস্তি ভোগ না করা।

✪ রেয়াত প্রাপ্তির শর্তাবলী:
☞ জেলকোডের ৭৬৮ বিধি মোতাবেক এক দণ্ডের তৃতীয়াংশের বেশি রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে।
☞ বিচারাধীন বন্দি কোনো রেয়াতই পাবেন না।
☞ জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ব্যতীত ৬ মাসের কম মেয়াদের কারাদণ্ডে সাধারণ রেয়াত প্রযোজ্য নয়।
☞ বিধি ৭৫৪ মোতাবেক কারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আঘাত করার অপরাধে কারা কর্তৃপক্ষ রেয়াত বাতিল করতেও পারবেন।

✪ একজন কারাবন্দী রেয়াতের ভিত্তিতে দণ্ডাকাল কমিয়ে আনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এমনও হতে পারে বছর ৬ মাসেও হতে পারে কিংবা ৮ মাস বা ১১ মাসেও হতে পারে। একেক বন্দীর ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ রেয়াতের মাধ্যমে বন্দিরা দণ্ডকাল কমিয়ে আনতে পারবেন।

Adv Ujjal Sarker

Address

25/1 Court House Street, R-07, Nahar Complex
Dhaka
1100

Telephone

+8801716188773

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to কাচারি ঘর সলিসিটর ফার্ম Law's farm:

Shortcuts

Share