02/08/2025
ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ হলো ট্রেড লাইসেন্স । এটি অনুমোদন রাষ্ট্রের কাছ থেকে নেয়া হয় । ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স । আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আছেন, যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন । কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধী । ব্যবসার লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতি পত্র । তাই আপনার বৈধ ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক ।
আপনি যদি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে ট্রেড লাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক । প্রশ্ন হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন? সাধারণত সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা জেলা পরিষদ থেকে এটি প্রদান করা হয় । শুধুমাত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে ট্রেড লাইসেন্স করা যায় । ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে না জানার কারণে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন । প্রথমে আমরা জানবো-
কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন?
আবেদনের যোগ্যতা ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশী বয়সে যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন । তবে তাকে অবশ্যই কোন না কোন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকতে হবে ।
যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন । ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার পূর্বে দু’টি বিষয়ে সিন্ধান্ত নিনঃ
যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের জন্য ব্যবসার অবস্থান নির্ধারণ এবং
ব্যবসার প্রকৃতি নিরূপণ ।
আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করুন । যদি আপনার ব্যবসার অবস্থান সিটি কর্পোরেশন এলাকা যেমনঃ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে হয় তা হলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে ।
যাদি আপনার ব্যবসার অবস্থান কোন মিউনিসিপ্যাল (পৌরসভা) এলাকায় হয়ে থাকে তাহলে এ এলাকার মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে সংগ্রহ করতে হয় ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরম ।
ট্রেড লাইসেন্স কি?
ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম
ধাপ–১: নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে ।
ধাপ–২: প্রতিষ্ঠান/কারখানা/কোম্পানি লিমিটেড হলে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিক্যালস আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ–৩: প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান/কারখানা কোম্পানি’র পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ–৪: প্রতিষ্ঠান/কারখানা/কোম্পানি’র পার্খবর্তী অবস্থান/স্থাপনার মানচিত্রের অনাপত্তিনামা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ–৫: কারখানা/সি,এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থের ব্যবসার ক্ষেত্রে বিক্ষোরক অধিদপ্তর/ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে ।
ধাপ–৬: আবেদনাকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে ।
ধাপ–৭: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০/- টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাস্পে অঙ্গীকারনামা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ–৮: প্রতিষ্ঠান প্রেস/পত্রিকা হলে ডিক্লারেশন পত্র আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে |
ধাপ–৯: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর স্থানটি নিজের হলে সিটি করপোরেশনের হাল নাগাদ ট্যাক্সের রশিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ায় চুক্তিপত্র/রশিদ আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে ।
যাবতীয় কাগজপত্র দাখিলের পর করপোরেশন -এর ইন্সপেক্টর প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করার পর নির্দিষ্ট পরিমান ফি আদায় করে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করবেন ।
ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় , ট্রেড লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ।
ট্রেড লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হবে আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী । এটা যেকোনো বিভাগীয় শহর বা আপনার সিটি কর্পোরেশন অথবা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা উপজেলা পরিষদ অথবা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন ।
ধরন বা ক্যাটাগরি নির্বাচন :
আপনি যখন ব্যবসা শুরু করতে চাইবেন, তখন আপনাকে ব্যবসার ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে । আপনি যদি ভুল ক্যাটেগরী নির্বাচন করেন তাহলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হতে পারেন । ২০১৬ সালের গেজেট অনুযায়ী ২৯৪ টি ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয় । ভালোভাবে আপনার ব্যবসার প্রকৃতি বিবেচনা করে নির্ধারিত ক্যাটেগরী নির্বাচন করতে হবে ট্রেড লাইসেন্স ধরন খুঁজে পেতে ক্লিক করুন- ট্রেড লাইসেন্স ধরন
ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
সাধারণ ব্যবসার এর ক্ষেত্রে (General Business License)
দোকান ভাড়ার চুক্তি পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোদের এর ফটোকপি, আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।
ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ১৫০/৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে ।
ফ্যাক্টরির/কারখানা এর ক্ষেত্রে (Factory / factories in the case of a trade license)
পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি ।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা ।
ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র ।
ঢাকা সিটিকর্পোরেশন এর নিয়ম – কানুন মেনে চলার অঙ্গিকারনামা ১৫০/৩০০ টাকারজুডিশিয়ার স্ট্যাম্প এ স্বাক্ষরিত।
অনান্য ব্যবসায়ের জন্য ট্রেড লাইসেন্সঃ
• সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স: ভাড়ার রশিদ অথবা চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি, এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের কপি।
• শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স: উপরোক্ত সবগুলি ডকুমেন্টসমূহ, এবং এর সাথে-
– পরিবেশ সংক্রান্ত অনাপত্তি পত্র
– প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র
– অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র
– ডি.সি.সি. র নিয়মাবলি মেনে চলা হবে এমতে ১৫০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারপত্র
– ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
• ক্লিনিক অথবা ব্যক্তিগত হাসপাতালের ক্ষেত্রে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন।
• লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে:
– মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল
– সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন
• ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে – ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি
• রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে – মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স
• অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে – অস্ত্রের লাইসেন্স
• ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে – ড্রাগ লাইসেন্সের কপি
• ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে – সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি
…………..ইত্যাদি…………..