04/06/2026
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন প্রয়োজন;
সরকারি চাকুরে সন্তানদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্ববান
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ৭(২) ধারা মোতাবেক ভরণ-পোষণের মামলা পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে নেওয়া যায় না অর্থাৎ বাবা-মা ব্যতীত মামলা দায়ের করা যায় না। ফলে এই আইনের অধীনে অতি বয়স্ক, অসুস্থ, পীড়িত বা অসচেতন বাবা-মায়ের পক্ষে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া যায় না। এই আইন যখন পাশ হয় তখনকার সমাজ বাস্তবতায় এটা বাড়াবাড়ি মনে হয়েছিল। কিন্তু দিন দিন সমাজের নৈতিক অধ:পতন বাড়ায় আইনটি আরও শক্ত করা দরকার।
ধারাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
"কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।"
উক্ত আইনে অপ্রতুল সাজার বিধান আছে। জেল দেওয়ার সুযোগ নেই। আছে কেবল অর্থদণ্ড। ফলে এই আইনের প্রভাব দুর্বল। শাস্তি
বিষয়ক ৫(১) ধারা হুবহু তুলে ধরা হলো।
"কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"
এক্ষেত্রে আইন সংশোধন করে বাবা-মায়ের পাশাপাশি একজন উপযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাকে বাদী হবার বিধান করা যেতে পারে এক্ষেত্রে সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রাধান্য পেতে পারে। এবং শাস্তির বিধান যুগোপযোগী করা যেতে পারে।
যদিও দায়ী সন্তানদের বিরুদ্ধে এই আইনে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা, তথাপি সরকারি চাকরি করার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ২৮ ধারা অনুযায়ী "সরকার, জনপ্রশাসনের সকল পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতকল্পে, সরকারি কার্য সম্পাদনের নীতি, শুদ্ধাচার চর্চা এবং কর্মচারীগণ কর্তৃক অনুসরণীয় নৈতিকতার মানদণ্ডসমূহসহ অনুসরণের প্রক্রিয়া ও কৌশল প্রণয়ন করিবে।"
এই আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী, "অসদাচরণ’ অর্থ অসঙ্গত আচরণ বা চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর আচরণ, অথবা সরকারি কর্মচারীদের আচরণসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানের পরিপন্থী কোনও কাজ, অথবা কোনও সরকারি কর্মচারীর পক্ষে শিষ্টাচারবহির্ভূত কোনও আচরণ।"
নৈতিক স্খলন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। দুর্নীতি, সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত স্বভাব-চরিত্রের ব্যাপার হতে পারে। সমাজের নৈতিকতার যে মানদণ্ড সেটার নিচে নামলে সেটিকে স্খলন বলা যায়। ফলে অসদাচরণ এর সংজ্ঞায় ফেলে শাস্তির আওতায় আনা যায়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ ধারা ৩২ অনুসারে, "নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে, যথা :-
(ক) লঘু দণ্ডসমূহ -
(অ) তিরস্কার;
(আ) নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
(ই) বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
(ঈ) কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।
(খ) গুরু দণ্ডসমূহ-
(অ) নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
(আ) বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
(ই) চাকরি হইতে অপসারণ;
(ঈ) চাকরি হইতে বরখাস্ত।
যেই চাকরির ব্যস্ততা ও শান-শওকতের কারণে এতো উদাসীনতা, সেই চাকরিটা নিয়ে কিছুদিন ভুগলে জেল খাটার চেয়েও উপযুক্ত শাস্তি হয়ে যাবে।
প্রবীণ নাগরিকদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবী রাখছি।