Law Lab

Law Lab Law Lab is a criminal and constitutional law chamber. It also provides legal assistance on land and other civil matters.
(3)

এই পেজ এর উদ্দেশ্য সাবলীল ভাষায় জনসাধারণের সামনে আইনি সমাধান তুলে ধরা। সমকালীন আইনি আলোচনায় অংশগ্রহণ করে আশু সমাধান নজিরসহ উপস্থাপন করা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল স্ট্যাটাস, ছবি, অডিও-ভিডিও ও লেকচার এর মাধ্যমে প্রকাশ করা।

বশেশ্বর নাথ বনাম দিল্লি ও রাজস্থান-এর আয়কর কমিশনার এবং অন্যান্য এআইআর ১৯৫৯ সুপ্রীম কোর্ট ১৪৯১. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃআপ...
07/08/2026

বশেশ্বর নাথ বনাম দিল্লি ও রাজস্থান-এর আয়কর কমিশনার এবং অন্যান্য
এআইআর ১৯৫৯ সুপ্রীম কোর্ট ১৪৯

১. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

আপিলকারী বশেশ্বর নাথের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার Taxation on Income (Investigation Commission) Act, 1947-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী অভিযোগ আনে যে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় গোপন করে কর ফাঁকি দিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২২ জুলাই ১৯৪৮ তারিখে তাঁর মামলা Income Tax Investigation Commission-এর নিকট তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। ১৯৪৯ সালে আইনে ধারা ৮এ সংযোজনের মাধ্যমে তদন্তাধীন মামলাগুলো Settlement-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে আপিলকারী ২০ মে ১৯৫৪ তারিখে ধারা ৮এ-এর অধীনে Settlement-এর আবেদন করেন এবং ৩,৫০,০০০ রুপি প্রদানে সম্মত হন। কমিশন সেই Settlement সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করে। এরপর সরকারের নির্দেশে আপিলকারীর বিরুদ্ধে উক্ত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তিনি কিস্তিতে অর্থ পরিশোধও শুরু করেন।
এদিকে, সুরজ মল মোহতা অ্যান্ড কোং বনাম এ. ভি. বিশ্বনাথ শাস্ত্রী, শ্রী মীনাক্ষী মিলস লিমিটেড বনাম শ্রী এ. ভি. বিশ্বনাথ শাস্ত্রী এবং এম. সি. টি. মুথাইয়া বনাম আয়কর কমিশনার, মাদ্রাজ মামলায় সুপ্রীম কোর্ট রায় দেন যে Investigation Act-এর অধীনে পরিচালিত তদন্তের পদ্ধতি সাধারণ আয়কর আইনের তুলনায় অধিক কঠোর ও বৈষম্যমূলক। কোর্ট এই পদ্ধতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। এই রায়গুলোর পর বশেশ্বর নাথ দাবি করেন যে যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তই একটি অসাংবিধানিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে, তাই সেই তদন্তের ভিত্তিতে সম্পাদিত Settlement-ও অবৈধ এবং তাঁর ওপর তা কার্যকর করা যাবে না। তিনি ইতোমধ্যে প্রদত্ত অর্থ ফেরত এবং অবশিষ্ট অর্থ আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ করার আবেদন করেন। কিন্তু আয়কর কমিশনার Settlement-কে বৈধ ও বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে অর্থ আদায় অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বশেশ্বর নাথ বিশেষ অনুমতি (Special Leave) নিয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে আপিল করেন।

২. আদালতের সামনে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং উত্তর

ক) কোনো ব্যক্তি কি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪-এ প্রদত্ত সমতার মৌলিক অধিকার (Right to Equality) স্বেচ্ছায় ত্যাগ (Waiver) করতে পারেন?

প্রধান বিচারপতি এস. আর. দাস বলেন, অনুচ্ছেদ ১৪ কেবল ব্যক্তিকে একটি অধিকার দেয় না, এটি রাষ্ট্রের প্রতি সংবিধানের একটি বাধ্যতামূলক নির্দেশ (constitutional mandate)। সংবিধান রাষ্ট্রকে নির্দেশ দিয়েছে যে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বৈষম্য করবে না এবং আইনের সমান সুরক্ষা থেকে কাউকে বঞ্চিত করবে না। তাই কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রকে বলেন যে তিনি বৈষম্য মেনে নিতে প্রস্তুত, তবুও রাষ্ট্র সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হতে পারে না। আদালত জোর দিয়ে বলেন, অনুচ্ছেদ ১৪-এর উদ্দেশ্য কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া নয়; বরং রাষ্ট্রকে আইনের শাসন ও সমতার নীতি অনুসরণে বাধ্য করা। তাই এই অধিকার ব্যক্তিগত সম্মতির মাধ্যমে পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়।
সুপ্রীম কোর্ট রায় দেন যে অনুচ্ছেদ ১৪-এর অধিকার কোনো ব্যক্তি Waive করতে পারেন না। সমতার অধিকার (Right to Equality) শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। এটি রাষ্ট্রের ওপর আরোপিত একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং জননীতির (public policy) অংশ। তাই কোনো ব্যক্তির সম্মতিতেও রাষ্ট্র এই বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হতে পারে না।

খ) যদি ধারা ৫(১)-এর অধীনে পরিচালিত তদন্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ লঙ্ঘনের কারণে অবৈধ হয়, তাহলে ধারা ৮এ-এর অধীনে করা Settlement কি বৈধ থাকবে?

সরকার যুক্তি দিয়েছিল ধারা ৫(১)-এর অধীনে দুটি পৃথক প্রক্রিয়া আছে। একটি তদন্ত এবং অন্যটি Settlement।—আদালতের মতে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। ধারা ৮এ- এর Settlement কোনো স্বাধীন বা পৃথক ব্যবস্থা নয়। এটি তদন্ত প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। যখন কোনো মামলা ধারা ৫(১)-এর অধীনে কমিশনে পাঠানো হয়, তখন তা মূলত তদন্তের জন্যই পাঠানো হয়। ধারা ৮এ-তে স্পষ্টভাবে বলা আছে "during such investigation"। অর্থাৎ তদন্ত চলাকালীনই Settlement-এর আবেদন করা যায়। কমিশন Settlement গ্রহণের আগে অবশ্যই মামলার তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করে এবং তদন্ত করে সন্তুষ্ট হবে যে Settlement-এর শর্ত অনুমোদনযোগ্য। ফলে Settlement তদন্ত থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং তদন্তের ফলাফল ও ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। আদালত আরও বলেন, যেহেতু পূর্ববর্তী রায়গুলোতে ধারা ৫(১)-এর অধীনে পরিচালিত তদন্তের পদ্ধতিকে অনুচ্ছেদ ১৪ এর অধীনে বৈষম্যমূলক ঘোষণা করা হয়েছে, তাই সেই অবৈধ তদন্তের ভিত্তিতে সম্পাদিত Settlement-ও অবৈধ হবে।

৩. চূড়ান্ত রায়

সুপ্রীম কোর্ট আপিল মঞ্জুর করেন। আয়কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। ধারা ৮এ-এর Settlement বাস্তবায়নের জন্য চলমান সব কার্যক্রম বাতিল করা হয়। আদালত ঘোষণা করেন যে অনুচ্ছেদ ১৪-এর মৌলিক অধিকার পরিত্যাগ (Waive) করা যায় না, ফলে বশেশ্বর নাথের বিরুদ্ধে Settlement কার্যকর করা যাবে না।

বানেয়াজুদ্দীন আহমেদ এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র ১১ বিএলডি (এডি) ২৩৯১. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণআপীলকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ...
16/07/2026

বানেয়াজুদ্দীন আহমেদ এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র ১১ বিএলডি (এডি) ২৩৯

১. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

আপীলকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান) মামলা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের প্রত্যেককে ৪ মাসের সাধারণ কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা, এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের সাধারণ কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ আপীল খারিজ করে দণ্ড বহাল রাখেন। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬ অনুযায়ী নিম্ন আপীল আদালত তাদের ২৯ জানুয়ারি ১৯৮৯ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন, যাতে তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। আপীলকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিভিশন আবেদন করেন। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের একক বিচারক জামিন না দিয়ে আত্মসমর্পণ করে আলাদা জামিন আবেদন করতে নির্দেশ দেন।

২. আদালতের সামনে উত্থাপিত প্রশ্ন

নিম্ন আপীল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল থাকা অবস্থায়, হাইকোর্ট বিভাগ জামিন প্রত্যাখ্যান করে আসামিদের আত্মসমর্পণ ও পৃথক জামিন আবেদন করতে নির্দেশ দিয়ে আইনসঙ্গত কাজ করেছেন কিনা?

৩. আদালতের উত্তর

আপীল বিভাগ সিদ্ধান্ত দেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের একক বিচারক সঠিকভাবে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেননি। নিম্ন আপীল আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৬ অনুযায়ী বৈধভাবে আপীলকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছিলেন, যাতে তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। আপীলকারীরা সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিভিশন আবেদন দাখিল করেছিলেন। ফলে তাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত ছিল। রিভিশন আবেদনে সাধারণত জামিনের প্রার্থনা একই আবেদনের মধ্যেই করা হয়। আলাদা জামিন আবেদন দাখিল করার কোনো বাধ্যতামূলক প্রথা নেই। তাই হাইকোর্ট বিভাগের পৃথক জামিন আবেদন করতে বলা অযৌক্তিক। এছাড়া মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার। এটি একটি জামিনযোগ্য (bailable) অপরাধ। এছাড়া প্রদত্ত সাজাও মাত্র ৪ মাসের সাধারণ কারাদণ্ড। এই পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জামিনে থাকা আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত হয়নি। তাই আপীল বিভাগ বলেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের জামিন প্রত্যাখ্যান ও আত্মসমর্পণের নির্দেশ আইনসম্মত নয়। বরং আপীলকারীরা নিম্ন আপীল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত জামিনেই রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকার উচিত।

মোঃ মতি মাতবর বনাম রাষ্ট্র ৭৩ ডিএলআর ৮৯১. ঘটনার বিবরণ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর র‍্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার ওয়াইজঘাট ...
09/07/2026

মোঃ মতি মাতবর বনাম রাষ্ট্র ৭৩ ডিএলআর ৮৯

১. ঘটনার বিবরণ

২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর র‍্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকার হোটেল গোল্ডেন পিকের ৪০৫ নম্বর কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. মোতি মাতবরের কাছ থেকে ৪১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং অপর আসামির কাছ থেকে ৭০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ২,৪৩৯ টাকা জব্দ করা হয়। মোট উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ছিল ১,১১১টি, যার মোট ওজন প্রায় ১১১.০১ গ্রাম। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ধারা ১৯(১) ও ১৯(৪)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিপক্ষ দাবি করে যে তারা নির্দোষ এবং প্রকৃত অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে তাদের মিথ্যাভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

২. বিচারিক কার্যক্রম

বিচারিক আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আবেদনকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আবেদনকারী আপিল করলে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের আদালত আপিল খারিজ করে ট্রায়াল কোর্টের রায় বহাল রাখেন। পরবর্তীতে আবেদনকারী হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল রিভিশন দায়ের করেন এবং একই সঙ্গে Probation of Offenders Ordinance, 1960-এর ধারা ৫ অনুযায়ী প্রবেশন প্রার্থনা করেন।

৩. আদালতের সামনে উত্থাপিত প্রশ্নসমূহ

ক) মাদকদ্রব্যের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শাস্তি কি মাদকের বিশুদ্ধ অংশের ভিত্তিতে হবে, নাকি উদ্ধারকৃত সম্পূর্ণ পদার্থের ওজনের ভিত্তিতে হবে?

আদালত রায় দেন যে "Whole Substance Test" প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, যদি উদ্ধারকৃত পদার্থে মাদক থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি নির্ধারণে পুরো পদার্থের ওজন বিবেচনা করা হবে। শুধুমাত্র বিশুদ্ধ মাদকের পরিমাণ নয়। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ৪১১টি ইয়াবার সম্পূর্ণ ওজনই শাস্তি নির্ধারণের জন্য গণ্য হবে।

খ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে কি Probation of Offenders Ordinance, 1960 অনুযায়ী প্রবেশন সুবিধা দেওয়া যেতে পারে?

আদালত বলেন, Probation of Offenders Ordinance, 1960 অনুযায়ী অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য না হলে মাদক মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রবেশন দেওয়া যাবে। আবেদনকারীর পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না, তিনি অনুতপ্ত ছিলেন এবং প্রবেশন কর্মকর্তার প্রতিবেদনে তার পুনর্বাসনের সম্ভাবনা ইতিবাচক হওয়ায় আদালত প্রবেশন দেওয়াকে উপযুক্ত মনে করেন।

৪. চুড়ান্ত রায়

হাইকোর্ট আবেদনকারীর দোষী সাব্যস্ত করে বলেন যে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে আদালত আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থা, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়া, অনুশোচনা প্রকাশ করা এবং প্রবেশন কর্মকর্তার ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ১ বছর ৬ মাসের জন্য প্রবেশনে মুক্তি প্রদান করেন।
আদালত আরও নির্দেশ দেন যে,
ক) আবেদনকারীকে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
খ) তিনি কোনো নতুন অপরাধ করতে পারবেন না এবং মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।
গ) নিয়মিত ডোপ টেস্ট করতে হবে।
ঘ) পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ঙ) প্রবেশনের সব শর্ত সফলভাবে পালন করলে অবশিষ্ট ৩ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড কার্যকর হবে না।
চ) কিন্তু প্রবেশনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে প্রবেশন বাতিল হবে এবং তাকে অবশিষ্ট কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

08/07/2026
নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ ও রিট এখতিয়ারভুমিকা-বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্...
26/06/2026

নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ ও রিট এখতিয়ার

ভুমিকা-

বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ আইনগত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ মতে আইন অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত অন্য কোনো আদালত সাধারণত নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ফলে নির্বাচনী বিরোধের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার অত্যন্ত সীমিত।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ধারাবাহিকভাবে অভিমত দিয়েছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অথবা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্ভূত বিরোধসমূহ নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য। তবে এই সাধারণ নীতির দুটি ব্যতিক্রম রয়েছে (১) Coram Non Judice এবং (২) Malice in Law। কো্নো মামলায় Coram Non Judice অথবা Malice in Law হয়ে থাকলে, রিট দায়ের করা যেতে পারে।

>Coram Non Judice কী?

“Coram non Judice” একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ “বিচারকের উপস্থিতিতে নয়”। এটি একটি আইনি পরিভাষা, যা সাধারণত এমন কোনো বিচারিক কার্যধারাকে নির্দেশ করে যা বিচারকের অনুপস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে, অথবা কার্যধারাটি এমন কোনো আদালতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যার সংশ্লিষ্ট মামলাটি শুনানি ও নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার নেই (২৪ বিএলটি (এডি) ২১)। যখন কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা বিচারিক কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গঠন করা প্রয়োজন, কিন্তু তা আইনসম্মতভাবে গঠিত না হয়েও কোনো বিচার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন সেটা “Coram non judice” হয় (LEX/BDHC/0295/ 2015)। সহজ কথায়, যথাযথ বিচারিক ক্ষমতা বা এখতিয়ার ছাড়া পরিচালিত কোনো কার্যধারাকে Coram non Judice বলা হয়। (৪ বিএলটি (এডি) ১৮৪), (৬৬ ডিএলআর ১৪)

>Malice in Law কী?

Malice in law হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ জেনে-শুনে এবং কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই এমন কাজ করে যা আইনবিরোধী বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিদ্বেষ প্রমাণ করা জরুরি নয়। কাজটি আইনগতভাবে অন্যায় ও অযৌক্তিক হলেই তা malice in law হিসেবে গণ্য হতে পারে। “Malice in law” বলতে কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ বা বৈধ অজুহাত ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বেআইনি বা অন্যায় কাজ করাকে বোঝায় (৩৩ ডিএলআর (এডি) ২০১)। এটি এমন একটি কাজ যা কোনো যুক্তিসঙ্গত বা সম্ভাব্য কারণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় এবং এটি বিদ্বেষ, শত্রুতা বা প্রতিহিংসা থেকে করা কাজ হতে হবে এমন নয়। বরং এটি এমন একটা কাজ হবে যা অন্যের অধিকারকে উপেক্ষা করে সচেতনভাবে করা হয়। ((২০০৩) ৪ এসসিসি ৭৩৯)

জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধে রিট: আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ

১. ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর বনাম বাংলাদেশ- ৬২ ডিএলআর (এডি) ৪২৫-

মহিউদ্দীন খান আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর অধীনে একটি মামলায় বিশেষ জজ আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন এবং সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন। আপিল বিচারাধীন অবস্থায় তিনি জামিন লাভ করেন এবং তাঁর দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত থাকে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার তাঁকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাখ্যান করেন। নির্বাচন কমিশনে করা আপিলও খারিজ হয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি রিট আবেদন দায়ের করলে হাইকোর্ট বিভাগ তা অগ্রহণযোগ্য বলে summarily reject করে দেন। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর দণ্ডাদেশ ও সাজা স্থগিত করেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রাখে। এদিকে, মনোনয়নপত্র-সংক্রান্ত রিট খারিজের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায়ে বলেন যে, এ ধরনের রিট আবেদন সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না সিদ্ধান্ত coram non judice হয় অথবা malice in law দ্বারা প্রভাবিত হয়। উপর্যুক্ত বিবেচনায় সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল খারিজ করা হয় এবং হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায় ও আদেশ বহাল রাখা হয়।

২. জাতীয় পার্টি বনাম মোতাসিম বিল্লাহ- ২০ বিএলডি (এডি) ৬৯-

মামলার পক্ষগণ ছিলেন জাতীয় পার্টি, যার প্রতিনিধিত্ব করেন মো. মঈদুল ইসলাম, এবং মোতাসসিম বিল্লাহ। মামলার বিষয়বস্তু ছিল যে, যদি একজন প্রার্থী নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন তাহলে অপর প্রার্থীকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দ করা যায় কিনা। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লক্ষ্য করেন যে, হাইকোর্ট বিভাগ তাদের সিদ্ধান্ত প্রদানের সময় নির্বাচন কমিশনের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করেননি। উক্ত নির্দেশনায় বলা ছিল যে, কোনো প্রার্থী সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীকের দাবি করলে রিটার্নিং অফিসারকে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় মনোনয়নের বৈধতা যাচাই করতে হবে।
আপিল বিভাগ মত দেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিচারিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে coram non judice অথবা malice in law থাকতে হবে। বর্তমান মামলায় সেগুলোর কোনোটিই বিদ্যমান ছিল না। ফলে রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. মাহমুদুল হক বনাম মোঃ হেদায়েতুল্লাহ- ৪৮ ডিএলআর (এডি) ১২৮-

এখানে প্রার্থীর বয়স-সংক্রান্ত যোগ্যতা নিয়ে বিরোধ ছিল। আপিল বিভাগ বলেন, এ ধরনের প্রশ্নে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের প্রয়োজন হয়, যা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বিষয়। ফলে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার প্রযোজ্য নয়। নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার অত্যন্ত সীমিত। নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনো ধাপে হস্তক্ষেপ কেবল তখনই করা যেতে পারে, যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে (coram non judice) কাজ করেছে অথবা malice in law প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলায় রিটার্নিং অফিসার তাঁর বৈধ এখতিয়ারের মধ্যেই কাজ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো malice in law যথাযথভাবে উত্থাপিত বা প্রমাণিত হয়নি। ফলে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। অতএব, হাইকোর্ট বিভাগ সংসদীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কাজ করেছেন।

৪. বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বনাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার -৬৯ ডিএলআর এডি ৪১১-

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা নিয়ে বিচার করেন। আদালতের সামনে প্রশ্ন ছিল, তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাখ্যান করা আইনসম্মত হয়েছে কি না।
মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছিল এই মর্মে যে কাদের সিদ্দিকী একজন ঋণখেলাপি ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন যে সংশ্লিষ্ট ঋণ পুনঃতফসিল (rescheduled) করা হয়েছিল, ফলে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষত মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের প্রশ্ন, সাধারণত রিট আবেদনের মাধ্যমে নয়; বরং নির্বাচন পিটিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। তবে যদি কোনো সিদ্ধান্ত coram non judice হয় অথবা malice in law দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে রিট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। যেহেতু বর্তমান মামলায় এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি প্রমাণিত হয়নি, তাই আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

৫. জি এম শফিউল লালিন বনাম বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন- (১ সিএলআর ৪৯৩)-

এই মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, জি. এম. শফিউল লালিন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদ সদস্য হিসেবে তার নির্বাচন বাতিল করা উচিত কি না।
আদালত বলেন যে, আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগসমূহ মূলত অনুমাননির্ভর এবং সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও মূল্যায়নের প্রয়োজন। এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনা (disputed questions of fact) রিটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় না। এছাড়াও আদালত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে coram non judice অথবা malice in law না থাকলে বিচারিক পুনর্বিবেচনা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত রুল ডিসচার্জ করে দেন।

৬. মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ বনাম কাজিম উদ্দিন আহমেদ ও অন্যান্য- ১৬ এলএম (এডি) ৬৬৩-

এই মামলায় আপিল বিভাগের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, ময়মনসিংহ-১১ (নির্বাচনী এলাকা নং ১৫৬)-সংক্রান্ত নির্বাচন বিরোধে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি এবং অন্তর্বর্তীকালীন (ad-interim) আদেশ প্রদান করে যথাযথভাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করেছিলেন কি না। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নির্বাচনপূর্ব হোক বা নির্বাচন-পরবর্তী হোক, সেগুলোর নিষ্পত্তির হবে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে। এ ধরনের বিরোধ সাধারণত হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আপিল বিভাগ এ বিষয়ে Bangabir Kader Siddiqui v. Chief Election Commissioner মামলাসহ পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তসমূহের ওপর নির্ভর করে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনো ধাপে আদালতের হস্তক্ষেপ কেবলমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে; যেমন coram non judice অথবা malice in law প্রমাণিত হলে সম্ভব।
যেহেতু বর্তমান মামলায় এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল না, তাই আপিল বিভাগ মত দেন যে হাইকোর্ট বিভাগ নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধে রুল জারি ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করে যথাযথ এখতিয়ার প্রয়োগ করেননি। ফলস্বরূপ, আপিল বিভাগ সিভিল পিটিশনসমূহ নিষ্পত্তি করেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের জারিকৃত রুলসমূহ খারিজ করে দেন।

উপসংহার-

বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও বিচারিক অবস্থান সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন ট্রাইব্যুনালই প্রধান ও বিশেষায়িত ফোরাম। এজন্যে এসকলের বিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণত রিটের মাধ্যমে প্রতিকার দেয়া যায় না। শুধুমাত্র যখন প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ এখতিয়ারবিহীনভাবে কাজ করেছে (Coram Non Judice) অথবা আইনের অপব্যবহার বা অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে (Malice in Law), তখনই রিট আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

22/06/2026

*NOTICE*

We are pleased to acknowledge the overwhelming response received for the position of Research Associate.

Following a thorough review and evaluation of all applications submitted, a total of 27 candidates have been shortlisted to participate in the Written Examination and Viva Voce.

The examinations are scheduled to be held on 24 June 2026.

All shortlisted candidates have been duly notified of the examination schedule, venue, and other relevant details via their email addresses.

We extend our sincere appreciation to all applicants for their interest in joining Law Lab and wish the shortlisted candidates every success in the forthcoming assessment process.

Kind regards,

Law Lab

Vacancy Announcement!
14/06/2026

Vacancy Announcement!

তারিণী কান্ত সিংহ ছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার একজন ভূমির মালিক ও দলিল লেখক। তার সঙ্গে অভিযুক্ত আব্দুল আলী, আব্দুল ব...
10/06/2026

তারিণী কান্ত সিংহ ছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার একজন ভূমির মালিক ও দলিল লেখক। তার সঙ্গে অভিযুক্ত আব্দুল আলী, আব্দুল বারী ও অন্যান্যদের জমি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। অভিযুক্তরা তার জমি দখল ও জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার ষড়যন্ত্র করছিল। মৃত ব্যক্তি এ বিষয়ে থানায় জিডি ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগও করেছিলেন। ৪ মার্চ ১৯৭৯ রাতে কিছু ব্যক্তি তারিণী কান্ত সিংহকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। কয়েকদিন পর ব্রহ্মপুত্র নদের একটি ডোবা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বস্তাভর্তি বালু ও ইট দিয়ে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
প্রথমে গফরগাঁও থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ ও পরে সিআইডি তদন্ত পরিচালনা করে। মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অতিরিক্ত দায়রা জজ, ময়মনসিংহ তিনজন অভিযুক্ত আব্দুল আলী, আব্দুল বারী ও আব্দুস সোবহানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং বাকি অভিযুক্তদের খালাস দেন। দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন।
হাইকোর্ট বিভাগ আপিল খারিজ করে ট্রায়াল কোর্টের দণ্ড বহাল রাখে। আদালত বলেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে আদালত কিছু খালাসপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে suo motu রুল জারি করেন, কারণ আদালতের মতে তাদের বিরুদ্ধেও এমন প্রমাণ ছিল যা আপিলকারী দণ্ডিত আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রমাণের সমমানের। অথচ ট্রায়াল কোর্ট তাদের খালাস দিয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগের যুক্তি ছিল ট্রায়াল কোর্ট একই ধরনের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তিনজন আসামিকে দণ্ড দিয়েছে। কিন্তু একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং একই approver সাক্ষ্য দ্বারা অভিযুক্ত অন্য কয়েকজনকে খালাস দিয়েছে। আদালতের মতে এই খালাস prima facie সঠিক ছিল না। বিশেষত PW-2 এর সাক্ষ্যে আব্দুল জব্বার, আব্দুল আজিজ, আলম @ শামসুল আলম, কামাল ও লাল মিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণের বর্ণনা ছিল। আদালত মনে করেন যে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান প্রমাণও দন্ড দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তাই হাইকোর্ট ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) কারন দর্শানোর জন্যে রুল জারি করেন যে, কেন খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের খালাসের আদেশ বাতিল করা হবে না, এবং কেন তাদেরও আপিলকারীদের মতো দোষী সাব্যস্ত করা হবে না।

ল' ল্যাবের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।ঈদ মোবারক। আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানীকে কবুল করুন।
27/05/2026

ল' ল্যাবের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

ঈদ মোবারক।

আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানীকে কবুল করুন।

Address

Flat No. A-4, House No. 95, Road No. 9/A, Dhanmondi
Dhaka
1209

Opening Hours

Monday 09:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Saturday 09:00 - 20:00
Sunday 09:00 - 20:00

Telephone

+8801765932323

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law Lab posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Law Lab:

Shortcuts

Share

Category