07/09/2026
আল্লাহর বিধান বনাম মানুষের মনগড়া সংস্কার: মানবিকতার দোহাই বনাম আল্লাহর বিধান পরিবর্তন!
যে সম্পত্তি একজনের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হবে, সেই সম্পত্তি জীবদ্দশায় দান করে দেওয়ার প্রয়োজন কেন? আমার দৃষ্টিতে, এর একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যারা উত্তরাধিকারী ও হকদার, তাদেরকে বঞ্চিত করা।
ইসলামী আইনে উসিয়ত বা Will এরও বিধান রয়েছে। পিতা-মাতা চাইলে মৃত্যুর আগে তাঁর সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ কাউকে উসিয়ত করে যেতে পারেন। তবে সেই ব্যক্তি পিতা-মাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির মালিক হয়ে যান না; মালিকানা কার্যকর হয় মৃত্যুর পর।
তাহলে পিতা-মাতার যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাঁরা হেবা না করে উসিয়তের মাধ্যমে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন। এ জন্য আল্লাহর নির্ধারিত উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তন বা পাশ কাটানোর প্রয়োজন কেন হবে?
ধরুন, কোনো ব্যক্তির কোনো পুত্রসন্তান নেই; তাঁর দুইজন কন্যাসন্তান এবং একজন ভাতিজা আছে। ইসলামী উত্তরাধিকার বিধান অনুযায়ী, প্রযোজ্য অন্যান্য উত্তরাধিকারী না থাকলে দুই কন্যা সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ এবং অবশিষ্ট অংশ ভাতিজা পাবে।
কিন্তু মৃত্যুর আগে যদি তিনি সম্পূর্ণ সম্পত্তি হেবা করে দেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর ভাতিজা তার নির্ধারিত উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
আর যদি হেবা করার পরও পিতা-মাতা বাস্তবে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখল নিজেদের কাছেই রাখেন, তাহলে ভবিষ্যতে বৈধ ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ সম্পত্তি জীবদ্দশায় হেবা করে দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এতে উত্তরাধিকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
আমাদের চোখে আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয় মানবিক, সামাজিক কিংবা কল্যাণকর মনে হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যে বিধান দিয়েছেন, তার পেছনে এমন গভীর হিকমত ও তাত্পর্য থাকতে পারে, যা আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে সবসময় উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
বরং এ ধরনের বিধান পিতা-মাতার জীবদ্দশায় সন্তানদের ওপর সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি কেউ কেউ দ্রুত সম্পূর্ণ মালিকানা পাওয়ার লোভে চরম অপরাধের পথেও যেতে পারে পিতা-মাতার ওপর নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাই আল্লাহর নির্ধারিত বিধানকে মানবিকতার দোহাই দিয়ে পরিবর্তন বা পাশ কাটানোর আগে আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
যারা আল্লাহর বিধান নিয়ে টালবাহানা, যুক্তির খেলায় পাণ্ডিত্য কিংবা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে যাবেন তাঁদের উচিত পূর্বের পরিণতিগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া।
আল্লাহর বিধান মানুষের বানানো কোনো সাধারণ বিধান নয়। এর প্রতিটি বিধানের পেছনে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা, ভারসাম্য ও কল্যাণ। আমাদের কাজ হলো সেই বিধানকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা নয়; বরং এর হিকমত বোঝার চেষ্টা করা এবং যথাযথভাবে অনুসরণ করা।
ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
হেড অব চেম্বারস, এলএসসি