05/07/2026
⚖️ ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর: আইনে কী বলা হয়েছে?
অনেকেই বিশ্বাসের সম্পর্ক, ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফাঁকা স্ট্যাম্প কিংবা ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করে অন্যের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে অসাধু ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো লেখা বসিয়ে অর্থ দাবি করেন, মিথ্যা চুক্তি তৈরি করেন বা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ ধরনের ঘটনা বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি কী?
১. Negotiable Instruments Act, 1881-এর ধারা ২০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি স্বাক্ষরযুক্ত অসম্পূর্ণ (Inchoate) স্ট্যাম্পযুক্ত দলিল বা চেক হস্তান্তর করলে, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তা পূরণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু এই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। অনুমতির বাইরে বা প্রতারণার মাধ্যমে তা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনি সুরক্ষা হারাতে পারেন।
২. বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code)-এর প্রাসঙ্গিক বিধান:
ধারা ৪১৫ ও ৪২০ — প্রতারণা ও প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ বা মূল্যবান দলিল গ্রহণ।
ধারা ৪৬৩ ও ৪৬৪ — জালিয়াতি এবং মিথ্যা দলিল তৈরি।
ধারা ৪৬৮ — প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি।
ধারা ৪৭১ — জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার।
প্রয়োজনে ধারা ৪০৬ (Criminal Breach of Trust) প্রযোজ্য হতে পারে, যদি বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান বিদ্যমান থাকে।
৩. আদালত কী বিবেচনা করেন?
আদালত কেবল স্বাক্ষর দেখেই সিদ্ধান্ত দেন না। আদালত আরও বিবেচনা করেন— ✔️ স্বাক্ষর কীভাবে নেওয়া হয়েছে। ✔️ জোর, ভয়ভীতি বা প্রতারণা ছিল কি না। ✔️ পক্ষগুলোর প্রকৃত চুক্তি কী ছিল। ✔️ পরে অনুমতি ছাড়া কোনো লেখা বা অঙ্ক যোগ করা হয়েছে কি না। ✔️ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি কী বলছে।
৪. প্রতারণার শিকার হলে করণীয়
✅ দ্রুত একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। ✅ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। ✅ ঘটনার ধরন অনুযায়ী থানায় অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করুন। ✅ প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণার মামলা দায়ের করুন।
⚠️ সচেতনতাই সর্বোত্তম সুরক্ষা। কখনোই ফাঁকা স্ট্যাম্প, ফাঁকা চেক বা অসম্পূর্ণ কোনো নথিতে স্বাক্ষর করবেন না। একটি অসতর্ক স্বাক্ষর বছরের পর বছর আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।
আইন জানুন, অধিকার রক্ষা করুন, প্রতারণার বিরুদ্ধে সচেতন হোন।
— অ্যাডভোকেট মোঃ মাসুদুজ্জামান (রুবেল)