28/06/2022
🎯আসসালামু আলাইকুম।আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো "ইনকাম ট্যাক্স/আয়কর " নিয়ে। আমরা সবাই কম বেশি এই বিষয়টির কথা শুনেছি।এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক কৌতুহল ও কাজ করে এবং অনেকেই এই বিষয় নিয়ে জানতে আগ্রহী। প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের আয়কর নিয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকা উচিৎ কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এই বিষয়গুলো জড়িত,যেকোনো সময় আপনার এই বিষয়গুলোর প্রয়োজন হতে পারে। আজকে" ইনকাম ট্যাক্স/আয়কর" নিয়ে আপনাদের কিছু প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আশা করি লেখাটি পুরো পড়ার চেষ্টা করবেন।
🎯 প্রথমেই যা জানা উচিৎ তা হলো আয়কর হিসাব হয় বাৎসরিক এবং প্রতি বছর এর আয়কর প্রতি বছর দিতে হবে। আর এই আয়কর এর বাৎসরিক হিসাব শুরু হয় "জুন/জুলাই" মাস থেকে এবং আয়কর অধিদপ্তর (NBR) প্রতি বছর একটি সময় নির্ধারণ করে দেন যে কতো দিন পর্যন্ত আয়কর দাখিল করা যাবে।
🎯আপনি বাংলাদেশের নাগরিক, আপনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী বা চাকুরীজীবি বা আপনি বৈধ আয়ের কোন পেশায় নিয়োজিত আপনার এই আয়ের উপর আয়কর প্রদান করতে হবে।
♦️প্রশ্ন আসতে পারে "আয় থাকলেই কি আয়কর দিতে হবে?"
এর উত্তর হলো "না"। আয় থাকলেই আপনাকে আয়কর দিতে হবে না, আপনার এই আয় যদি একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তাহলে আপনাকে আয়কর দিতে হবে।
♦️আবার প্রশ্ন করতে পারেন আয়কর দেওয়ার টাকার সীমা কতো? কতো টাকা আয় করলে আয়কর দিতে হিবে?
আচ্ছা এই ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে টাকার অংকে তা ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ টাকা) আর একজন নারীর ক্ষেত্রে ৩,৫০,০০০/-(তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) অর্থাৎ আপনার বাৎসরিক আয় যদি এই টাকার বেশি হয় তাহলে আপনাকে আয়কর দিতে হবে।
🎯তবে চিন্তা করবেন না,এই ক্ষেত্রে অনেক কিছু হিসাব নিকাশ করে আয়কর গননা করতে হবে। আপনার আয় (৩,০০,০০০/৩,৫০,০০০) হলেই যে আপনাকে আয়কর দিতে হবে বিষয়টি এরকম নয়, আপনার আয় এর চেয়ে ব্যয় বেশি হলে আয়কর দিতে হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনি আয়কর মওকুফের বিশেষ সুবিধাও পেতে পারেন।
যেমন ধরেনঃ
i) "আপনি ঢাকা শহরে একটি বাড়ির মালিক।আপনার বাড়ির ছাদে যদি ছাদ বাগান থাকে তাহলে আপনি ১০% পর্যন্ত আয়কর মওকুফ এর সুবিধা পেতে পারেন"।
ii) আপনি যদি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা হোন আপনার ক্ষেত্রে আরো ১,৭৫,০০০ টাকা মওকুফ/ছাড় রয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার বাৎসরিক আয় ৪,৭৫,০০০/-(চার লক্ষ পচাত্তর হাজার টাকার) কম হলে আয়কর দিতে হবে না।
iii) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ছাড় ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) পর্যন্ত।
এমন আরো কিছু কর ছাড় একজন করদাতা পেতে পারেন বা ওই টাকার উওর সেই ব্যক্তির কর দিতে হবে না।
♦️প্রশ্ন করতে পারেন "আয়কর/ইনকাম-ট্যাক্স" কিভাবে দিবেন বা কিভাবে দাখিল করবেন?
উত্তরঃ আপনি যদি নিজে নিজের আয়কর হিসাব করতে পারেন তাহলে নিজের "আয়কর রিটার্ন" নিজেই জমা দিতে পারবেন। তবে আপনি যদি সঠিক ভাবে তা নির্ণয় করতে না পারেন তা হলে ঝুঁকি নিবেন না,কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে বা আয়কর উপদেষ্টার মাধ্যমে তা নির্ণয় করিয়ে নিতে পারেন। আয়কর সবকিছু হিসেবে-নিকাশ করে দাখিল করতে হয়।
🎯🎯🎯কিছু প্রয়োজনীয় কথাঃ
👉আয়কর দিতে হবেনা বা না দিলেও হয় এই কথা ভুল।আপনার যদি আয়কর দেবার মতো আয় থেকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে আয়কর দিতে হবে।
👉"আয়কর পরে দিলেও হবে কোনো সমস্যা নেই" এইসব ভুল ধারণা।আয়কর যথা সময়ে পরিশোধ করতে হয়।
👉আয়কর যথা সময়ে পরিশোধ না করলে আপনাকে জরিমানা গুনতে হতে পারে।
👉আপনার যদি কোনো আয়/ইনকাম কর দেবার মতো না হয় তাহলেও রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে "জিরো রিটার্ন" দাখিল করতে হবে।
👉 সময়ে সময়ে প্রতি বছর আয়করের নিয়মনীতি পরিবর্তন হতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখবেন।
🎯 এই ছিলো আয়কর নিয়ে খুবই অল্প ও প্রাথমিক ধারণা। আয়কর নিয়ে আরো অনেক কিছু জানার আছে এবং বোঝার আছে। আয়কর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে "আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪" পড়তে পারেন।
আজ এই পর্যন্তই আগামী কোনো দিন "ই-টিন/টিন" ও "আয়কর রিটার্ন" খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।