Law Express ল এক্সপ্রেস

Law Express ল এক্সপ্রেস To Conduct Civil,Criminal ,VAT,Tax,Company matter Related legal support is high in demand in Bangladesh.

আইনী গল্প-10, মিনার্ভা মিলস বনাম ভারত ইউনিয়ন (১৯৮০) AIR 1980 SC 1789, মামলাটি ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গ...
15/08/2026

আইনী গল্প-10, মিনার্ভা মিলস বনাম ভারত ইউনিয়ন (১৯৮০) AIR 1980 SC 1789, মামলাটি ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী রায়। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের "মূল কাঠামো নীতি" (Basic Structure Doctrine) পুনর্প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করে।
মূল পটভূমি (Background)
• মিল জাতীয়করণ: கர்நாটকের একটি বস্ত্রকল 'মিনার্ভা মিলস' অব্যাহত ক্ষতির মুখে পড়ায় ১৯৭০ সালে কেন্দ্র সরকার তদন্ত শুরু করে এবং ১৯৭৪ সালে Sick Textile Undertakings (Nationalisation) Act-এর অধীনে এর ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণ (Nationalise) করে।
• ৪২তম সংবিধান সংশোধন (১৯৭৬): তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকার ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সংস্থান বাড়িয়ে দুটি বিতর্কিত বিধান যুক্ত করে:
1. অনুচ্ছেদ ৩৬৮(৪) ও (৫): সংসদকে সংবিধান সংশোধনের অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং স্পষ্ট করা হয় যে সংসদীয় সংশোধনীকে কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ (Judicial Review) করা যাবে না।
2. অনুচ্ছেদ ৩১সি (Article 31C)-এর ব্যাপ্তি বৃদ্ধি: নির্দেশমূলক নীতি (DPSP) বাস্তবায়নের নামে মৌলিক অধিকার (বিশেষ করে অনুচ্ছেদ ১৪ ও ১৯) ক্ষুণ্ন করার স্থায়ী ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়।
• আদালতে চ্যালেঞ্জ: মিনার্ভা মিলসের মালিক পক্ষ (আবেদনকারী) জাতীয়করণের আদেশ এবং ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর ধারাগুলোকে মূল কাঠামোর পরিপন্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন জানান।
প্রধান আইনি প্রশ্নসমূহ (Key Issues)
1. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৮-এ যুক্ত ধারা (৪) ও (৫) কি সংবিধানের মূল কাঠামো ধ্বংস করে?
2. রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (DPSP) কি মৌলিক অধিকারের (Fundamental Rights) চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেতে পারে?
3. বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review)-এর ক্ষমতা কি বাতিল করা সম্ভব?
আদালতের ঐতিহাসিক রায় (Supreme Court Judgment)
১৯৮০ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওয়াই. ভি. চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গঠিত ৫ বিচারপতির বেঞ্চ (৪:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়) গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন:
• সংসদের সীমিত সংশোধন ক্ষমতা: আদালত স্পষ্ট করে জানায়, অনুচ্ছেদ ৩৬৮-এর অধীনে সংবিধান সংশোধন করার জন্য সংসদকে দেওয়া ক্ষমতা সীমিত। সংসদ এই সীমিত ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের হাতে "অসীম ক্ষমতা" তুলে নিতে পারে না।
• বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা রক্ষা: ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ৩৬৮(৪) ও (৫) ধারা বাতিল করে আদালত বলে যে, 'Judicial Review' সংবিধানের মূল কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংসদের যেকোনো সংশোধনীর বৈধতা পরীক্ষা করার ক্ষমতা আদালতের থাকবে।
• মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির ভারসাম্য: আদালত উল্লেখ করে, মৌলিক অধিকার (Part III) এবং নির্দেশমূলক নীতি (Part IV)-এর মধ্যবর্তী ভারসাম্যই হলো ভারতের সংবিধানের মূল ভিত্তি। একটিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্যটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যাবে না।
মামলার গুরুত্ব (Significance)
• স্বৈরাচার রোধ: এই রায়ের মাধ্যমে ভারতীয় সংসদে নির্বাচিত কোনো সরকারের একচ্ছত্র বা স্বৈরাচারী ক্ষমতা প্রয়োগের পথ বন্ধ হয়।
• মূল কাঠামোর সুরক্ষা: ১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলায় যে 'Basic Structure Doctrine' বা মূল কাঠামো নীতি তৈরি হয়েছিল, মিনার্ভা মিলস মামলায় তা চূড়ান্তভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

আইনী গল্প-০9,বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে জনস্বার্থ মামলা বা Public Interest Litigation (PIL) এবং বিচারিক পর্যালোচ...
12/08/2026

আইনী গল্প-০9,বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে জনস্বার্থ মামলা বা Public Interest Litigation (PIL) এবং বিচারিক পর্যালোচনার (Judicial Review) ক্ষেত্রে কাজী মুখলেসুর রহমান বনাম বাংলাদেশ (Kazi Mukhlesur Rahman v. Bangladesh, 26 DLR (AD) 44) মামলাটি প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর।
১৯৭৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।
১. মামলার পটভূমি
১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ সম্পর্কিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি (Delimitation of Boundaries Treaty) স্বাক্ষরিত হয়, যা 'ইন্দো-বাংলা চুক্তি ১৯৭৪' নামে পরিচিত।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছে 'দক্ষিণ বেরুবাড়ী' হস্তান্তর এবং পরিবর্তে বাংলাদেশকে 'দহগ্রাম-আঙরপোতা' ছিটমহলে চলাচলের জন্য 'তিন বিঘা করিডোর' দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তির ধারা অনুযায়ী দক্ষিণ বেরুবাড়ীর ভূখণ্ডগত মালিকানা ভারতের হাতে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা ছিল।
আইনজীবী কাজী মুখলেসুর রহমান সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট আবেদন দায়ের করে এই চুক্তি কার্যকরের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানান।
২. রিট আবেদনকারীর মূল যুক্তি
• সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩ ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা: রিট আবেদনকারী দাবি করেন যে, সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ এবং সার্বিক মূল স্পিরিট অনুযায়ী বাংলাদেশের সীমান্ত বা কোনো ভূখণ্ড অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর করার এখতিয়ার সরকারের একচ্ছত্র নয়।
• সংসদের অনুমাোদনের প্রয়োজনীয়তা: তিনি যুক্তি দেখান যে, সংবিধানে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং জাতীয় সংসদের অনুমোদন বা সংশোধনী ছাড়া কোনো ভূখণ্ড হস্তান্তর করা অসংবিধানিক ও বেআইনি।
৩. প্রধান আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক (Legal Issues)
মামলাটিতে মূলত দুটি প্রধান মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়:
1. লোকাস স্ট্যান্ডাই বা ক্ষুব্ধ ব্যক্তির অধিকার (Locus Standi / Aggrieved Person): রিট আবেদনকারী কাজী মুখলেসুর রহমানের কি এই মামলা করার কোনো আইনি অধিকার (Standing) আছে? চুক্তিটির ফলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন?
2. চুক্তির বৈধতা ও ভূখণ্ড হস্তান্তর: জাতীয় সংসদের অনুমোদন ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দ্বারা রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড হস্তান্তর করা আইনসম্মত কি না।
৪. আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তসমূহ
ক. লোকাস স্ট্যান্ডাই বা 'ক্ষুব্ধ ব্যক্তি'র ধারণার সম্প্রসারণ (Locus Standi Expanded)
সাধারণত সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে রিট করার জন্য আবেদনকারীকে সরাসরি "ক্ষুব্ধ ব্যক্তি" (Aggrieved Person) হতে হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছিল কাজী মুখলেসুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।
কিন্তু আপিল বিভাগ রায় দেন:
• জনস্বার্থের প্রাধান্য: যখন কোনো সরকারি পদক্ষেপ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা সার্বজনীন সাংবিধানিক বিষয়কে প্রভাবিত করে, তখন দেশের যেকোনো নাগরিকই "ক্ষুব্ধ ব্যক্তি" হিসেবে গণ্য হতে পারেন।
• পিআইএল (PIL)-এর ভিত্তি স্থাপন: এই সিদ্ধান্তই বাংলাদেশে "Public Interest Litigation" বা জনস্বার্থ মামলার আনুষ্ঠানিক দরজা খুলে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, জনস্বার্থে যে কেউ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।
খ. ভূখণ্ড হস্তান্তর ও সংসদীয় আইনের বাধ্যবাধকতা
ভূখণ্ড হস্তান্তরের বিষয়ে আপিল বিভাগ স্পষ্ট রায় দেন:
• আইন পাসের নির্দেশ: কেবল নির্বাহী আদেশ বা চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড হস্তান্তর করা যাবে না। এর জন্য জাতীয় সংসদে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
• সংবিধানের ৩য় সংশোধনী: আপিল বিভাগের এই রায়ের পর পরই সরকার উক্ত চুক্তিকে আইনি রূপ দিতে এবং বেরুবাড়ী হস্তান্তরের অনুমোদন নিতে সংবিধানে '৩য় সংশোধনী আইন, ১৯৭৪' পাস করতে বাধ্য হয়।
৫. মামলার গুরুত্ব ও আইনি প্রভাব
• জনস্বার্থ মামলার জন্মদাতা: এই মামলার মাধ্যমেই বাংলাদেশে 'লোকাস স্ট্যান্ডাই'-এর সনাতনী সংকীর্ণ ব্যাখ্যা ভেঙে যায়। পরবর্তী সময়ে ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (FAP 20 Case) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল এই রায়।
• নির্বাহী ক্ষমতার ওপর বিচারিক নিয়ন্ত্রণ: এটি নিশ্চিত করে যে আন্তর্জাতিক চুক্তি হলেও তা যদি দেশের ভূখণ্ড বা সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন করে, তবে নির্বাহী বিভাগ এককভাবে তা করতে পারবে না; সংসদের অনুমোদন আবশ্যক।
• সংবিধানের মৌলিক সুরক্ষাকবচ: বিচার বিভাগ যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার রক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে, এটি তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

LawyersClubBangladesh.Com,

আইনী গল্প-০৮,বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে 'ফতোয়া মামলা' নামে পরিচিত Mohammad Tayeeb and Ors. v. Government of Bangladesh and...
11/08/2026

আইনী গল্প-০৮,বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে 'ফতোয়া মামলা' নামে পরিচিত Mohammad Tayeeb and Ors. v. Government of Bangladesh and Ors. (Civil Appeal Nos. 593-594 of 2001; 67 DLR (AD) 57) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২০১১ সালের ১২ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বিভাগীয় বেঞ্চ এ রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।
১. মামলার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি (Constitutional & Legal Context)
হাইকোর্ট বিভাগের স্বতঃপ্রণোদিত রুল (Suo Moto Rule) এবং পরবর্তী রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি মোহাম্মদ তৈয়ব ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ লিভ-টু-আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগে মূলত দুইটি প্রধান আইনি প্রশ্নের মীমাংসা করা হয়:
1. সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ ও স্বতঃপ্রণোদিত রুল (Suo Moto Jurisdiction): কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন (Formal Application) ছাড়া কেবল সংবাদের ওপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করতে পারে কি না।
2. ফতোয়ার বৈধতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা (Right to Freedom of Religion): ফতোয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা সংবিধানের ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা) ও ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী কি না।
২. রায়ের মূল আইনি অনুচ্ছেদ ও সিদ্ধান্তসমূহ (Key Rulings & Holdings)
আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ২০০১ সালের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আংশিক সংশোধন ও পরিবর্তন করে নিম্নে উল্লিখিত মূল সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেন:
ক. স্বতঃপ্রণোদিত রুলের এখতিয়ার (Jurisdiction of Suo Moto Rule)
• সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের প্রসার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে "ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে" (On an application of any person aggrieved) কথাটি থাকলেও, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেখানে মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) লঙ্ঘিত হয়, সেখানে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Moto) পদক্ষেপ নিতে পারে।
• প্রক্রিয়াগত নমনীয়তা: দরিদ্র, নিরক্ষর বা অসহায় নাগরিকরা যখন আদালতের দ্বারস্থ হতে অক্ষম, তখন আদালতের সংবিধান ও মানবাধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনসম্মত।
খ. ফতোয়ার সংজ্ঞা ও আইনগত মর্যাদা (Legal Status of Fatwa)
• ফতোয়া আইন নয়: ফতোয়া কোনো আইন বা বিচারিক রায় নয়। এটি কেবল একজন অভিজ্ঞ ধর্মীয় পণ্ডিত বা মুফতির ব্যক্তিগত মতামত (Private Opinion)।
• অ-বাধ্যতামূলক (Non-binding): ফতোয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো নাগরিক তা গ্রহণ করতে পারেন, আবার সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। কারও ওপর জোর করে ফতোয়া চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।
গ. ধর্মীয় আচার ও অ-বাধ্যতামূলক ফতোয়ার অনুমতি
• সীমিত অনুমতি: যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা সাধারণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনা সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন।
• ধর্মীয় অধিকার রক্ষা: আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেন যে, ঢালাওভাবে সকল ফতোয়া নিষিদ্ধ করা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে, যদি তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
ঘ. বিচারবহির্ভূত শাস্তি ও নির্যাতন সম্পূর্ণ বেআইনি (Extralegal Punishment Illegal)
• দণ্ডবিধি ও প্রচলিত আইনের প্রাধান্য: ফতোয়ার নামে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত শাস্তি—যেমন বেত্রাঘাত (Lashing), পাথর মারা, মাথার চুল কেটে দেওয়া, একঘরে করা বা জরিমানা আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি, মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
• আইনের শাসন সুরক্ষা: বিচার করার ও দণ্ড দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রীয় আদালত ও নির্দিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষের। সমাজপতি বা কোনো স্থানীয় শালিস ফোরাম কোনো নাগরিককে শাস্তি দেওয়ার অধিকার রাখে না।
৩. রায়ের বিস্তারিত আইনি বিশ্লেষণ (Detailed Analysis)
বিষয়/দিক হাইকোর্ট বিভাগের রায় (২০০১) আপিল বিভাগের রায় (২০১১/২০১৫)
ফতোয়ার বৈধতা সকল ধরনের ফতোয়াকে অবৈধ ও কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়েছিল। ধর্মীয় আচার সম্পর্কিত অ-বাধ্যতামূলক ফতোয়াকে সীমিত পরিসরে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে আইনের পরিপন্থী ফতোয়া অবৈধ।
বিচারবহির্ভূত শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
স্বতঃপ্রণোদিত এখতিয়ার সংবাদপত্র সংবাদের ভিত্তিতে সুও মোটো প্রয়োগ করা হয়। মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে সুও মোটো প্রয়োগকে সংবিধাইজড ও বৈধ ঘোষণা করা হয়।
আইনি গুরুত্ব ও প্রভাব:
1. সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: সংবিধানে উল্লিখিত অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের সমতা), অনুচ্ছেদ ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার), অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) এবং অনুচ্ছেদ ৩৫ (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কিত রক্ষণ) অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
2. নারী অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা: গ্রামাঞ্চলে 'হিল্লা বিয়ে' বা সামাজিক শালিসের নামে নারীদের ওপর যে নির্যাতন হতো, এই রায়ের ফলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে কঠোরভাবে চিহ্নিত হয়।
3. বিচারিক সক্রিয়তা (Judicial Activism): পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (PIL) এবং স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারির ক্ষেত্রে এই রায়টি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট (Precedent) হিসেবে কাজ করছে।

আইনী গল্প-০7,ইন্দিরা গান্ধী বনাম রাজ নারায়ণ মামলা (১৯৭৫) [Indira Nehru Gandhi v. Shri Raj Narain, AIR 1975 SC 2299] ভার...
10/08/2026

আইনী গল্প-০7,ইন্দিরা গান্ধী বনাম রাজ নারায়ণ মামলা (১৯৭৫) [Indira Nehru Gandhi v. Shri Raj Narain, AIR 1975 SC 2299] ভারতীয় সংবিধান এবং সাংবিধানিক আইনের ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মামলা। এটিই প্রথম মামলা যেখানে ১৯৭৩ সালের 'কেশববান্ধ ভারতী' মামলায় ঘোষিত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নীতি (Basic Structure Doctrine) প্রয়োগ করা হয়েছিল।
১. মামলার পটভূমি (Background)
• ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচন: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রায়বেরেলি আসন থেকে সমাজবাদী দলের নেতা রাজ নারায়নের বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
• এলাহাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ: রাজ নারায়ন এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951) লঙ্ঘন করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন (Corrupt Practices)।
• হাইকোর্টের রায় (১২ জুন ১৯৭৫): বিচারপতি জগমোহন লাল সিনহা ইন্দিরা গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেন। আদালত তাঁকে আগামী ৬ বছরের জন্য যেকোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা সরকারি পদে থাকা নিষিদ্ধ করেন।
২. ঘটনার মোড় এবং ৩৯তম সংবিধান সংশোধন
• জরুরি অবস্থা জারি: হাইকোর্টের এই রায়ের পরপরই, ২৫ জুন ১৯৭৫ রাতে ইন্দিরা গান্ধী সারা ভারতে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা (National Emergency) ঘোষণা করেন।
• সুপ্রিম কোর্টে আপিল: এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।
• ৩৯তম সংবিধান সংশোধন (১৯৭৫): মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পার্লামেন্টে ৩৯তম সংবিধান সংশোধন পাশ করা হয় এবং সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৩২৯-এ (Article 329A) যুক্ত করা হয়।
o এর ৪ নম্বর দফায় (Clause 4) বলা হয়— রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার স্পিকারের নির্বাচন আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। এমনকি কোনো আদালত পূর্বে এদের নির্বাচন বাতিল করলেও সংসদ আইনের দ্বারা তা বৈধ করতে পারবে।
৩. মূল বিচার্য বিষয়সমূহ (Key Issues)
১. ৩৯তম সংবিধান সংশোধনীর ৩২৯-এ (৪) অনুচ্ছেদ কি সংবিধানসম্মত নাকি তা মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘন করে?
২. ১৯৭১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বৈধ করা ঠিক হয়েছে কি না?
৩. এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে?
৪. সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় (৭ নভেম্বর ১৯৭৫)
প্রধান বিচারপতি এ. এন. রায়ের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের বিচারক বেঞ্চ (Chief Justice A.N. Ray, Justice H.R. Khanna, K.K. Mathew, M.H. Beg, and Y.V. Chandrachud) সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন:
1. অনুচ্ছেদ ৩২৯-এ (৪) বাতিল: সুপ্রিম কোর্ট ৩৯তম সংশোধনের ৩২৯-এ (৪) অংশটিকে অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করেন। আদালত বলেন:
o সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন (Free and Fair Elections) এবং বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review) সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর (Basic Structure) অন্তর্ভুক্ত।
o ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতি অনুযায়ী সংসদ বিচার বিভাগের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনকে সরাসরি 'বৈধ' ঘোষণা করতে পারে না।
2. ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বহাল: ৩৯তম সংশোধনের এই অংশটি বাতিল করলেও, সুপ্রিম কোর্ট সে সময় পাশ হওয়া জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অন্যান্য পেছনের তারিখের (Retrospective) সংশোধন বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে রায় প্রদান করে তাঁর এমপি ও প্রধানমন্ত্রী পদ বহাল রাখেন।
৫. মামলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Significance)
• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: এই রায় স্পষ্ট করে দেয় যে, সংবিধান এবং আইনের শাসনের উর্ধ্বে কেউ নয়—সংসদ বা প্রধানমন্ত্রীও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে পারে না।
• মৌলিক কাঠামো নীতি শক্তিশালীকরণ: 'কেশববান্ধ ভারতী' মামলায় যে মৌলিক কাঠামোর তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল, এই মামলার মাধ্যমে তা বাস্তবে প্রথম প্রয়োগ করা হয় এবং ভারতের বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

আইনী গল্প-০৬,Constitutional Case -02(15 BLC (AD) 49 / 29 BLD (AD) 79)Bangladesh v. Idrisur Rahman (popularly known as th...
09/08/2026

আইনী গল্প-০৬,Constitutional Case -02(15 BLC (AD) 49 / 29 BLD (AD) 79)
Bangladesh v. Idrisur Rahman (popularly known as the Ten Judges' Case,
বাংলাদেশ বনাম মো. ইদ্রিসুর রহমান অ্যাডভোকেট (Bangladesh v. Md. Idrisur Rahman, Advocate) মামলাটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি মামলা।
হাই কোর্ট বিভাগে ২০০৮ সালে রায় প্রকাশিত হয় (60 DLR 714) এবং পরবর্তীতে ২০০৯–২০১০ সালে আপীল বিভাগ এই রায়ের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করে (15 BLC (AD) 49)।
১. ঘটনার পটভূমি
বাংলাদেশের সংবিধানে ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ (Consultation) করার বিধান রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে হাই কোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারকদের স্থায়ী করার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির ইতিবাচক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী বিভাগ (সরকার) একাধিক বিচারককে স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে বাদ প্রদান করে।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইদ্রিসুর রহমান ও অন্যান্যরা রিট পিটিশন দায়ের করেন।
২. মামলার মূল বিচার্য বিষয়
• সংবিধানে উল্লেখিত রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধান বিচারপতির "পরামর্শ" (Consultation) কথাটির আইনগত তাৎপর্য কী?
• বিচারক নিয়োগ এবং অতিরিক্ত বিচারকদের স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে কার মতামত প্রাধ্যান্য (Primacy) পাবে—নির্বাহী বিভাগ নাকি প্রধান বিচারপতি?
• এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার (Independence of Judiciary) মৌলিক নীতির সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?
৩. আপীল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়
প্রধান বিচারপতির পরামর্শের বাধ্যবাধকতা এবং প্রধান বিচারপতির মতামতের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে আপীল বিভাগ এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে:
1. প্রধান বিচারপতির মতামতের প্রাধান্য (Primacy of the Chief Justice):
আদালত রায় দেন যে, বিচারক হিসেবে প্রার্থী বা অতিরিক্ত বিচারকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও স্থায়ীকরণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির মতামতই চূড়ান্ত ও প্রাধান্য পাবে।
2. পরামর্শের প্রকৃতি (Effective Consultation):
রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধান বিচারপতির "পরামর্শ" হতে হবে কার্যকর ও অর্থবহ (Effective Consultation)। একে কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা (Formalistic exercise) হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
3. নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা:
বিচারক পদে প্রার্থীর পূর্বসূরি বা চরিত্র সংক্রান্ত তথ্য (Antecedents) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের মতামত প্রাধান্য পেতে পারে, তবে পেশাগত যোগ্যতার বিচারে বিচার বিভাগের প্রধান অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির মতামতই অগ্রগণ্য।
4. নিয়োগের নির্দেশিকা তৈরির সুপারিশ:
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে নির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা বা নির্দেশিকা (Guidelines/Law) প্রণয়ন করার বিষয়ে নির্দেশনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।
গুরুত্ব ও প্রভাব
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংহতকরণ: 'মাসদার হোসেন মামলা' যেমন অধস্তন বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণে ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি 'ইদ্রিসুর রহমান মামলা' উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও স্থায়ীকরণে নির্বাহী বিভাগের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর (Bulwark) তৈরি করে।
• সংবিধানিক রীতি (Constitutional Convention): মামলাটি বাংলাদেশে সংবিধানিক রীতির আইনগত প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি জোরদার করার একটি প্রধান দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইনী গল্প-০৫, কেশবানন্দ ভারতী মামলা (Kesavananda Bharati v. State of Kerala, 1973) ভারতীয় সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার ইতি...
08/08/2026

আইনী গল্প-০৫, কেশবানন্দ ভারতী মামলা (Kesavananda Bharati v. State of Kerala, 1973) ভারতীয় সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী মামলাগুলোর একটি।
এই রায়টি ভারতের সংবিধানে "মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব" (Basic Structure Doctrine) প্রতিষ্ঠা করে, যা সংবিধান সংশোধন করার ক্ষেত্রে সংসদের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
১. ঘটনার পটভূমি
• মূল ব্যক্তি: কেশবানন্দ ভারতী ছিলেন কেরলের "এডনীর মঠ"-এর (Edneer Mutt) প্রধান বা মঠাধ্যক্ষ।
• ঘটনার সূত্রপাত: ১৯৭০ সালের দিকে কেরল সরকার ভূমি সংস্কার আইনের মাধ্যমে মঠের কিছু সম্পত্তি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
• আইনি পদক্ষেপ: কেশবানন্দ ভারতী সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের (ধর্মীয় সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার) অধীনে কেরল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন।
২. মামলার মূল বিচার্য বিষয়
এই মামলার আসল প্রশ্নটি ছিল:
সংবিধানের ৩৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ কি সংবিধানের যেকোনো অংশ (এমনকি মৌলিক অধিকারও) সংশোধন করার অসীম ক্ষমতা রাখে?
এর আগে 'গোলকনাথ মামলায়' (১৯৬৭) সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে সংসদ মৌলিক অধিকার সংশোধন করতে পারবে না। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনী (বিশেষ করে ২৪ ও ২৫তম সংশোধনী) এনে সংসদের এই ক্ষমতা পুনর্বহাল করতে চায়।
৩. ঐতিহাসিক রায় ও বেঞ্চ
• বৃহত্তম বেঞ্চ: মামলাটি শুনানির জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ১৩ জন বিচারকের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়।
• রায় প্রদান: ২৪ এপ্রিল ১৯৭৩ সালে ৭-৬ ব্যবধানে (Majority Judgment) এই ঐতিহাসিক রায়টি প্রদান করা হয়।
৪. রায়ের মূল সিদ্ধান্ত (Basic Structure Doctrine)
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে প্রধান দুটি সিদ্ধান্ত দেয়:
1. সংসদের সংশোধনের ক্ষমতা স্বীকৃত: সংসদ সংবিধানের যেকোনো অংশ (এমনকি মৌলিক অধিকার) সংশোধন করতে পারবে।
2. মৌলিক কাঠামো নীতি (Basic Structure Rule): তবে সংসদ এমন কোনো সংশোধন করতে পারবে না যা সংবিধানের "মৌলিক কাঠামো" (Basic Structure) ধ্বংস বা পরিবর্তিত করে।
৫. সংবিধানের "মৌলিক কাঠামো" বলতে কী বোঝায়?
সুপ্রিম কোর্ট কোনো নির্দিষ্ট তালিকা না দিলেও বিভিন্ন রায়ে মৌলিক কাঠামোর কয়েকটি প্রধান ভিত্তি চিহ্নিত করেছেন:
• সংবিধানের সর্বোচ্চতা (Supremacy of the Constitution)
• গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
• ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism)
• আইনের শাসন (Rule of Law)
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of Judiciary)
• ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি (Separation of Powers)
• যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো (Federal Character)
গুরুত্ব ও তাৎপর্য
কেশবানন্দ ভারতী মামলার মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় যে, সংসদে যেকোনো রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তারা ইচ্ছামত সংবিধানকে ধ্বংস বা স্বৈরাচারী কাঠামোয় রূপান্তর করতে পারবে না। বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সংসদের সংবিধান সংশোধন ক্ষমতার ওপর একটি স্থায়ী ভারসাম্য (Checks and Balances) তৈরি করে দেয়।

আইনি গল্প-০৪, মোঃ আবুল কাহের শাহিন বনাম এমরান রশীদ ও অন্য ৯25 BLC (AD) 115 = 14 SCOB 96 = 28 BLT (AD) 40মামলার বিবাদী এম...
07/08/2026

আইনি গল্প-০৪, মোঃ আবুল কাহের শাহিন বনাম এমরান রশীদ ও অন্য ৯
25 BLC (AD) 115 = 14 SCOB 96 = 28 BLT (AD) 40

মামলার বিবাদী এমরান রশীদ বাদী আবুল কাহের শাহিনকে একটি চুক্তির শর্ত সাপেক্ষে সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যমানের ৪ টি চেক প্রদান করেন। নগদায়নের জন্য চেকগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করা হয়। ব্যাংক চেকগুলো প্রত্যাখ্যান (Dishonour) করে। চেকের টাকা আদায়ের জন্য বাদী বিবাদীকে নোটিশ প্রদান করেন। বিবাদী টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বাদী এনআই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ৪টি মামলা দায়ের করেন। বিচারিক আদালত ৪টি মামলায় আসামী এমরান রশীদকে একত্রে ৪ বছর কারাদণ্ড দেন এবং মোট ৯ কোটি টাকা জরিমানা করেন। দণ্ডিত আসামী হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক পৃথক ৪ টি আপীল দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ একসাথে ৪টি আপীলের শুনানি গ্রহণ করেন। ৩১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি অন্তে আসামীকে খালাস প্রদান করেন। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে বাদী আপীল দায়ের করেন। ৪ টি আপীল একত্রে শুনানি অন্তে আপীল বিভাগ রায় প্রদান করেন।

৯ 25 BLC (AD) 115 = 14 SCOB 96 = 28 BLT (AD) 40

আপীল বিভাগের সামনে প্রশ্ন ওঠে যে, ১৩৮ ধারার মামলায় আদালত শুধু চেকের সত্যতা পরীক্ষা করবে নাকি বাদীর দাবির সত্যতা এবং বিবাদীর যুক্তি নিরূপণ ও বিবেচনা করবে? বাদীর পক্ষে বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিবেদন করেন যে, আদালত কেবলমাত্র চেকের সত্যতা যাচাই করবে; চেক প্রদানের উদ্দেশ্য দেখবে না। অপরপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ নিবেদন করেন, আদালত উভয় পক্ষের চুক্তি, দাবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় গ্রহণ করবেন। হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে তিনি বলেন, মামলার বাদী চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং তিনি প্রদত্ত চেকের টাকা প্রাপ্য হবেন না।

মূলতঃ গুলশানের একটি জমি বিক্রি সংক্রান্তে পক্ষদ্বয় চুক্তিবদ্ধ হয়। বাদী জমিটি বাজার দরে বিক্রি করে দিতে পারলে একটি অংশ কমিশন পাবে মর্মে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। বাদী উক্ত জমি বিক্রি করে দিতে ব্যর্থ হয় এবং বিবাদী নিজ জমি ৫.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে আমেরিকান এম্ব্যাসির কাছে বিক্রি করে। চুক্তি অনুসারে বাদী টাকা দাবি করলে বিবাদী চেক প্রদান করে এবং ব্যাংক কর্তৃক নগদায়ন বন্ধ করে।

আপীল বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, ধারা ১৩৮ এর অধীন মামলা করতে হলে বাদীকে চুক্তির শর্ত (Consdieration) পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, চেকে প্রদত্ত টাকা কোন শর্তাধীন হলে যদি সে শর্ত পূরণ করা না হয়, তাহলে কোন দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। এই সংক্রান্তে আদালত Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ১১৮ বিশেষভাবে বিবেচনায় গ্রহণ করেন। উক্ত ধারা অনুযায়ী বিবাদী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, বাদী শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে (non-existence of a consideration) তবে তার উপর কোন দায় বর্তাবে না। এ সংক্রান্তে ভারতীয় আদালতের Rameshwar Singh vs. Bajit Lal১০ এবং Hiralal vs. Badkulal১১ মামলার রেফারেন্স উল্লেখ করেন। আপীল বিভাগের সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

“When the amount promised shall depend on some other complementary facts or fufillment of another promise and if any cheque is issued on that basis, but that promise is not fulfilled it will not create any obligation on the part of the drawer of the cheque or any right which can be claimed the holder of the cheque.”

১০ AIR 1929 PC 95

১১ AIR 1953 SC 225

আইনী গল্প-০৩, আইনের চোখে পলাতক (Fugitive) অবস্থায় থেকে সাজা মওকুফের সুযোগ নেই সরওয়ার কামাল বনাম রাষ্ট্র [৩২ বিএলডি ৫২৯=৬...
06/08/2026

আইনী গল্প-০৩, আইনের চোখে পলাতক (Fugitive) অবস্থায় থেকে সাজা মওকুফের সুযোগ নেই

সরওয়ার কামাল বনাম রাষ্ট্র [৩২ বিএলডি ৫২৯=৬৪ ডিএলআর ৩২৯

১। ১৯৮৯ সালের ৮ জুন কক্সবাজার অতিরিক্ত দায়রা আদালত ২৫/১৯৮৭ নং দায়রা মামলায় সরওয়ার কামাল, মীর কাশেম ও দরবেশ আলীকে দণ্ডবিধির ৩০৪/৩৪ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৮৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করেন। ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে সাজার মেয়াদ পরিবর্তন করে ৮ বছর করে দেয়।
২। ১৯৯৩ সালের ১২ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এক আদেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সরওয়ার কামাল, মীর কাশেম ও দরবেশ আলীকে ক্ষমা করে দেন। আদেশ পাওয়া মাত্র জেলে থাকা মীর কাশেম ও দরবেশ আলী কারামুক্তি লাভ করেন। ক্ষমা লাভের আদেশ নিম্ন আদালতে না পৌঁছানোয় দায়রা আদালত ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই সরওয়ার কামালের রিরুদ্ধে এরেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করে। সরওয়ার কামাল তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরেস্ট ওয়ারেন্ট রিকল করার জন্য আবেদন করেন।দায়রা আদালত শুনানি শেষে এরেস্ট ওয়ারেন্ট বৈধভাবে জারি হয়েছে মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হন। যেহেতু তিনি হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নি সেহেতু তিনি আইনের চোখে পলাতক। এই আদেশের বিরুদ্ধে সরওয়ার হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করেন। শুনানির সময় হাইকোর্ট বিভাগ ১৯৯৩ সালের ১২ এপ্রিল স্বাক্ষরিত আদেশের অসঙ্গতি তুলে ধরেন।
৩। আদালতের সামনে প্রশ্ন উঠেছিল যে, আইনের চোখে পলাতক অপরাধীর সাজা রাষ্ট্রপতি কিংবা সরকার মওকুফ করতে পারে কি না?
আইনের চোখে পলাতক আসামী/অপরাধী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়সমূহ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বিভাগ দায়রা আদালতের আদেশের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, আইনের দৃষ্টিতে পলাতক অপরাধী আদালতের নিকট থেকে কোনো সাহায্য বা প্রতিকার পেতে পারে না। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আরো বলেন,
“The action of the President or the Government, as the case may be, must be based on some rational, reasonable, fair and relevant principle which is nondiscriminatory and it must not be guided by any extraneous or irrelevant considerations. It is well settled that all public power including constitutional power shall never be exercisable arbitrarily or malafide and ordinarily, guideline for fair and equal ex*****on are guarantors of the valid play of power and when the mode of power of exercising a valid power is improper or unreasonable, there is an abuse of power.” (Para 39)
‘It is presumed that the President and the concerned authorities of the Government are well conversant with the law that if a fugitive from law is given pardon knowing his status then the exercise of power under, Article 49 of the Constitution or section 401(1) of the Code of Criminal Procedure certainly be arbitrary, malafide, unreasonable, irrational and improper and such exercise of power is against the principle of the rule of law and an abuse of the power. If the President or the Government given such indulgence to a fugitive, ignoring and avoiding the direction of the Court and allow the fugitive to approach him/them straight and give him pardon exercising extraordinary power, a day will come when the Criminal administration of justice certainly be collapsed. In view of the principle of rule of law the Court cannot approve such exercise of power, in favor of a fugitive, which is absolutely malafide, arbitrary and unreasonable. Fairness, reasonableness and bonafide are the essence of the rule of law.’. Para 53

একজন পলাতক আসামী (সাজা প্রাপ্ত) সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত সুবিধা পেতে পারে না। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও শেখ মো: জাকির হোসাইন [৩২ বিএলডি ৫২৯]
Citation from Law Lab
Hossain Mohammad Ershad
Advocate
Supreme Court of Bangladesh
01711-208730

পড়ার এবং জানার কোনো শেষ নেই।প্রতিদিন নতুন একটি করে কেইস নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। DLR, MLR,BLC সহ সকল রেপােরন্স থাকবে...
06/08/2026

পড়ার এবং জানার কোনো শেষ নেই।
প্রতিদিন নতুন একটি করে কেইস নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। DLR, MLR,BLC সহ সকল রেপােরন্স থাকবে।
Hossain Mohammad Ershad
Advocate
Supreme court of Bangladesh
Cell-01711208730

আইনী গল্প-০2,জনাব শাজিরুদ্দিন জেল থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সাজা মওকুফের আবেদন করেছিলেন, পলাতক থেকে নয়। বাংলাদেশ বনাম কাজী শ...
05/08/2026

আইনী গল্প-০2,জনাব শাজিরুদ্দিন জেল থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সাজা মওকুফের আবেদন করেছিলেন, পলাতক থেকে নয়।
বাংলাদেশ বনাম কাজী শাজিরুদ্দিন আহমেদ
১১ বিএলসি (এডি) ২৩১

১। কাজী শাজিরুদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অবৈধ পন্থায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ইউএস ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। স্পেশাল মার্শাল ল কোর্ট- ১ শাজিরুদ্দীন আহমেদকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। চীফ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটর স্পেশাল মার্শাল ল কোর্টের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে শাজিরুদ্দীনকে Prevention of Corruption Act ধারা ৫(২)এ দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা প্রদান করেন এবং তার বসতবাড়ী ক্রোক করে জরিমানার টাকা আদায়ের নির্দেশ দেন। রায় মোতাবেক সরকার গুলশানে অবস্থিত শাজিরুদ্দিনের বাড়ির দখলদারিত্ব বুঝে নেয়।
২। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সাজিরুদ্দিনের স্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবর এক চিঠিতে সাজিরুদ্দিনের অসমাপ্ত সাজা মওকুফের আবেদন করেন। দখলকৃত গুলশানের বাড়িটির মালিকানা সাজিরুদ্দিন দাবী করবেন না এই মর্মে রাষ্ট্রপতি সাজিরুদ্দিনের অসমাপ্ত সাজা মওকুফ করে দেন। পরবর্তীতে সাজিরুদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গুলশানের বাড়ীটি ফেরতের নিষ্ফল আবেদন করেন।
৩। রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন সাজীরুদ্দিন। হাইকোর্ট বিভাগ সরকারকে শাজীরুদ্দিনের বাড়ি নিলামে না তুলে ফেরত দানের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাস্ট্রপতিকে শর্তসাপেক্ষ আদেশ প্রদানের অনুমোদন দেয় না। সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় খারিজ করেন দেন।
৪। এই আবেদন পলাতক থেকে করেননি। জেলে থাকা অবস্থায় করেছেন।

Address

Kakrail
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law Express ল এক্সপ্রেস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share