এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? কথাসাহিত্যিক ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী। কোর্টরুম আমার গল্পের মঞ্চ। বাংলা সাহিত্যে প্রথম লিগাল থ্রিলার লেখক। He is a U.S.-trained lawyer, holding an LL.M.

Ferdows Hossen is an Advocate of the Supreme Court of Bangladesh and the Managing Partner of Just Legal Ltd., a law firm specializing in intellectual property, technology, data, and AI governance. He has over eight years of experience advising on intellectual property, technology law, constitutional issues, regulatory compliance, and cross-border legal matters, with a particular focus on the inter

section between law, technology, and public policy. from Northeastern University School of Law, and has also completed executive legal education at Harvard Law School. He earned his LL.B. (Honours) from the University of Dhaka. His professional work spans intellectual property, technology regulation, constitutional law, and the legal governance of emerging technologies. Ferdows began his professional journey in legal journalism, working as a court reporter for The ATN Times and The Daily Manobkantha, where he reported on legal developments and court proceedings. This experience strengthened his ability to analyze and communicate complex legal matters to diverse audiences. He has authored and presented research in intellectual property, technology law, and constitutional law, with his work recognized by academic and professional institutions in South Asia and beyond. His research has been featured in journals including the Commonwealth Law Review Journal, South Asian Law Review Journal, and the Indian Journal of Law and Legal Research. He has received international recognition for his contributions to intellectual property law, including being named a Top 25 IP Rising Star by Digital Confex. Ferdows is the founder of HuTech Rights, a pro bono legal initiative dedicated to protecting women and children from online abuse and technology-facilitated harm. Through this initiative, he works at the intersection of human rights, technology governance, and access to justice. Alongside his legal and academic work, Ferdows is an established literary writer. He is the author of a Bengali novel and a poetry collection exploring the relationship between artificial intelligence, humanity, and society. He currently serves as Associate Editor of Meghchil, a leading Bengali literary magazine. Before founding and leading Just Legal Ltd., Ferdows served as a Senior Associate at Dhaka Legal, an intellectual property law firm, and earlier practiced corporate and regulatory law at Legum Consultants Limited and MAK & Associates Inc., with experience in corporate, tax, VAT, and customs matters. He has also served as a panel lawyer and legal consultant to the Dhaka Metropolitan Police. He is a member in good standing of multiple Bar Associations in Bangladesh, including the Bangladesh Supreme Court Bar Association.

আজ সারাদিন আটলান্টিক সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকলাম। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে। মাথার উপর আকাশ। মেঘলা। ঘুমঘুম। পাশে একটা ছোট্ট বো...
18/08/2026

আজ সারাদিন আটলান্টিক সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকলাম। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে। মাথার উপর আকাশ। মেঘলা। ঘুমঘুম। পাশে একটা ছোট্ট বোট। জং ধরা। মেশিনে মরিচা। রশি ছেঁড়া। কেউ একদিন বেঁধে রেখেছিল। আর খুলতে আসে নাই। আমি স্টারবাক্সের আইস কফিতে চুমুক দিই। নীল ঢেউ এসে পায়ে লাগে।

পিছনে এক আমেরিকান পরিবার। গ্রান্ড মা। মা। আর মেয়ে। মেয়েটা ছোট্ট। হাসে। কয়— হায়।
আমিও হাসি। বলি— হায়।
আমেরিকান কার্টেসি। এর বেশি কিছু না।
সমুদ্রে ইয়ট চলে। ‘ইয়ট’ এর বাংলা কি ভ্রমণ তরী? হয়ত। হয়ত না।
ইয়ট আসে। যায়। আবার আসে। আবার যায়। নীল ঢেউ পায়ে বারি খায়।
একটা আলবাট্রস উড়ে এসে বোটের স্টিয়ারিংয়ে বসে। যেখানে হাত রেখে কেউ একদিন বোট চালাত। এখন পাখি বসে। তারপর ডানা মেলে। চলে যায়। সমুদ্রের দিকে। যেদিকে খুশি।

পাশেই লোগান বিমানবন্দর। বিমান আসে। বিমান যায়।

ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামে। মেঘের আড়ালে সূর্য ডুবে যায়। নীল ঢেউয়ে অন্ধকার নামে।
ইয়ট বন্দরে ফেরে। ঢেউ পাড়ে ফেরে। বিমান সব যাত্রী নিয়ে ফেরে। সেই আমেরিকান পরিবার— গ্রান্ড মা। মা। মেয়ে। বাড়ি ফেরে। ভিড় পাতলা হয়। বন্দর খালি। ফাঁকা ফাঁকা। সবাই কোথাও ফেরে।
আমি উঠি না।

আকাশ তখনও ভারী। ঘুমঘুম।
বোটটা নড়ে না। নীল ঢেউয়ে দোলে। রশি ছেঁড়া। তবু কোথাও যায় না। কোথাও না।
আমি বসে থাকি। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে। পাশে ছোট্ট বোট। অর্ধেক নীল ঢেউয়ে ডোবা।
সমুদ্রে গভীর রাত নামে। নীল জল কালো হয়। আমরা বসে থাকি। দুইজন। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
বস্টন হারবার, যুক্তরাষ্ট্র।
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।

পর্ব-১১: হলুদ ফাইলফোন টাওয়ারের ডেটা এসেছে। হলুদ ফাইলে মোড়ানো। কোর্টের সিল। প্রসিকিউশনের কপি। আজ ডিফেন্সেরও কপি পেলাম। র...
15/08/2026

পর্ব-১১: হলুদ ফাইল

ফোন টাওয়ারের ডেটা এসেছে। হলুদ ফাইলে মোড়ানো। কোর্টের সিল। প্রসিকিউশনের কপি। আজ ডিফেন্সেরও কপি পেলাম।
রাজার দেউরীর চেম্বারে বসে আছি। টেবিলে হলুদ ফাইল । খুলি।
পাতার পর পাতা। নম্বর। সময়। টাওয়ার আইডি। কেরানীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল এলাকা। রাত আটটা থেকে মধ্যরাত। চার ঘণ্টা। শত শত নম্বর।
প্রথমে রায়হানের নম্বর খুঁজি। পেলাম। রাত ৮:৪৫ — টাওয়ারে ধরেছে। ৯:১৫ — আবার ধরেছে । ৯:৩০ — আবার। ১০:২০-এর পর নাই। ও ফোন বন্ধ করেছিল। বা ফোন ফেলে দিছিল।
আরমানের নম্বর। রাত ৮:০০ থেকে ৯:২৫ পর্যন্ত। ৯:২৫-এর পর নাই। সেই সময়ে আরমান হয় খুন হয়ে গেছে, নয়ত খুন হয়ে যাচ্ছিল।
তারপর অন্য নম্বরগুলো দেখি। এলাকার মানুষ। সামসুদ্দিনের নম্বর — আছে। রাত ১০:১৫-এ একটা কল। কাকে? নম্বরটা লিখি। চেক করব।
রহিমার নম্বর — আছে। রাত ৯:৪৫-এ একটা কল। কাকে? সেই নম্বরটাও লিখি।
আরেকটা নম্বর — অচেনা। রাত ১১:০০টা। এই নম্বর থেকে সামসুদ্দিনের নাম্বারে কল গেছে। আর রহিমার নাম্বারেও। একই নম্বর। দুজনকে কল। রাত ১১:০০টা।
এই নম্বর কার?
নোটবুকে লিখি। নম্বরটা ফোনে সার্চ করি। ট্রুকলারে দেখি। নাম আসে না। কিন্তু এই নম্বর সামসুদ্দিন আর রহিমা দুজনকেই কল করেছে — একই রাতে, একই সময়ে। গ্যালারিতে যে মানুষটা বসে থাকে। পাঞ্জাবি। চুপচাপ। সাক্ষীরা ওর দিকে তাকায়। রহিমা সাক্ষ্য দেওয়ার দিন দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকায়ছিল। ওর মুখে ভয় দেখেছিলাম। কিন্তু যে মানুষ সাক্ষীদের নিয়ন্ত্রণ করে, সেই মানুষ সেই রাতেও কল করবে।
আজহারুল ইসলামের নম্বর।
সামসুদ্দিন আর রহিমা। দুজনকেই আজহার কল করেছে। সেই রাতে। ঘটনার পর। সাক্ষীদের কোচ করেছে। ফোনে। রাত ১১:০০-টায়। পুলিশ আসার আগে।
সাক্ষীরা স্বতন্ত্র না। সাক্ষীরা আজহারের।
আগে সন্দেহ করেছিলাম। এবার হাতেনাতে প্রমাণ।
কিন্তু।
আরো নম্বর আছে। তালিকা লম্বা। আমি পাতা উল্টাই। আঙুল চালাই। প্রতিটা নম্বর পড়ি। প্রতিটা সময় দেখি।
একটা নম্বর।
থামি।
আবার পড়ি।
নম্বরটা চিনি। এই নম্বর আমার ফোনে সেভ আছে। আঠারো মাস আগে সেভ করেছিলাম। তারপর ডিলিট করেছিলাম। জীবনে কিছু জিনিস ডিলিট করা যায় না। শুধু সরায়ে রাখা যায়। আর সরায়ে রাখা মানেই — একদিন ফিরে আসবে।
সেই মেয়ের নম্বর। ফিরে আসছে। আঠারো মাস পর।
রাত ৯:২০। টাওয়ারে ধরেছে। ৯:৫৫-তে আবার। ১০:৩০-এ শেষবার।
সেই মেয়ে সেখানে ছিল। সেই রাতে। সেই এলাকায়।
আর আমি? আমার নম্বর?
পাতা উল্টাই। খুঁজি। চোখ চালাই।
পাই না।
আবার খুঁজি। রাত ৯:০০ থেকে ১০:৩০। প্রতিটা নম্বর তন্ন তন্ন করে খঁজি। আমার নম্বর নাই।
কেন নাই?
ফোন কি বন্ধ ছিল? মনে নাই। চল্লিশ মিনিট মনে নাই। ফোন বন্ধ ছিল কি না সেটাও মনে নাই। নাকি ফোন অন্য টাওয়ারে ধরেছে — পাশের এলাকার? নাকি ডেটা অসম্পূর্ণ?
নাকি কেউ আমার নম্বর ডেটা থেকে সরায়ে দিছে?
যেভাবে পৃষ্ঠা ১৭ সরায়ে দেওয়া হইছে?
নোটবুকে লিখি — "আমার নম্বর ডেটায় নাই। কেন?"
কলম রাখি।

দুপুর।
কোর্টের বারান্দা।
শুনানির ফাঁকে বের হইছি। কাচের কাপে চা খাচ্ছি। গরম। পেছনে পায়ের আওয়াজ, বুটের।
ফিরে তাকাই।
এসআই মনিরুল। খাকি ইউনিফর্ম। আজকে হাতে ফাইল নাই। হাত পকেটে।
ও আমার পাশে দাঁড়ায়। দেয়ালে হেলান দেয় তারপর কয় —
‘উকিলসাব, একটা কথা বলি?’
‘বলেন।’
থামে। করিডোরে তাকায়। ডানে। বামে। কেউ কাছাকাছি নাই। তারপর নিচু গলায় কয় — ‘পৃষ্ঠা ১৭।’
থামে। মুখটা আমার কানের কাছে আনে। কয় —‘আমি সরাইনি।’
আমি চায়ের কাপ ধরে আছি। গরম। আঙুল পুড়ে যায়।
জিগাই — ‘কে সরাইছে?’
মনিরুল মেঝের দিকে তাকায়।
কয় — ‘সেটা বললে আমার চাকরি যাবে।’
জিগাই— ‘কার নির্দেশে?’
মনিরুলের চোয়াল নড়ে। কিছু বলতে চায়। কিন্ত গিলে ফেলে।
কয় — ‘ওসি সাব। ওসি সাবের ওপরে কে — সেটা আপনি জানেন।’
চলে যায়। বুটের আওয়াজ। ধীর। সমান। যেমন মানুষ হাঁটে যখন জানে পেছনে ফেরার রাস্তা নাই।
আমি দাঁড়ায়ে আছি। চায়ের কাপ হাতে। চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।
ওসি সাবের ওপরে কে? আজহার। আজহারের ওপরে? জানি না। হয়তো কেউ নাই। হয়তো আজহারই শেষ। এই এলাকায় আজহারের ওপরে কেউ নাই।

বিকেল।
কোর্টের বারান্দা।
জেবুন এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। আজ ওর আসার কথা না। আমি ডেকেছি।
বলি — ‘জেবুন, আমি ফোন টাওয়ারের ডেটা দেখেছি।’
‘কী পেয়েছেন?’
‘সামসুদ্দিন আর রহিমা — দুজনের ফোনে একই নম্বর থেকে কল গেছে। সেই রাতে। আজহারের নম্বর।’
জেবুন কিছু বলে না। তাকায়। বারান্দার বাইরে তারপর খোলা আকাশে।
বলি— ‘সাক্ষীরা আজহারের লোক। এটা আপনি জানতেন।’
কয় — ‘জানতাম।’
‘আগে বলেন নাই কেন?’
‘বললে আপনি কী করতেন?
থামে, আমার চোখে তাকায়। তারপর জিগায়—‘পুলিশকে বলতেন?’
আবার থামে। এবার আকাশের দিকে তাকায়ে লম্বা নিশ্বাস ছাড়ে। আর কয়—
‘পুলিশও ওর।’
এবার নীল শাড়ির আচলে চোখ মুছে। তারপর কয়—
‘আমি ভাইয়াকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু পুরো সত্য একসাথে বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। একটু একটু আসতে হবে।’
বলি — ‘আপনি আরো কিছু চাপা দিচ্ছেন।’
জেবুন তাকায়। আমার দিকে। ওর চোখ অচেনা লাগে। সেই চোখ যেটা দেখি যখন মানুষ এমন কিছু বহন করে যেটা কথায় ধরে না।
কয় — ‘সময় হলে বলব, উকিলসাব। এখনো সময় হয় নাই।’
নীল পুলিশ ভ্যানের পাশ দিয়ে জেবুন চলে যায়। আমি দাঁড়ায় থাকি। আঙুলে সিগারেট। ছাই পড়ছে। বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। খেয়াল নাই।

রাত।
রাজার দেউরীর চেম্বার।
হলুদ ফাইল টেবিলে। খোলা। নম্বরের তালিকা। লাল কলম দিয়ে দাগ কাটি —
“আজহারের নম্বর — লাল। সামসুদ্দিনের নম্বর — লাল। রহিমার নম্বর — লাল। সেই মেয়ের নম্বর — লাল।”
চারটা লাল দাগ। চারটা সুতা।
আমার নম্বর — নাই। সাদা। ফাঁকা। যেন আমি সেখানে ছিলাম না।
কিন্তু ছিলাম।
কে সরাইছে? পৃষ্ঠা ১৭ যে সরাইছে সে কি আমার নম্বরও সরাইছে? নাকি আমার নম্বর আসলেই ছিল না?
জানি না।
টেবিলে হলুদ ফাইল। জানালায় সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলো। আমি তাকায়ে থাকি।
এই হলুদ ফাইল একটা অস্ত্র। কার হাতে — সেটাই প্রশ্ন।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবি ও কথাসাহিত্যিক।
-----------------------------------------------------------------------
১ম পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হইল।

এ বছরের শুরুতে বরিশালে এক বিচারকের এজলাশ ভাঙচুর হইল। আমি তখন লিখলাম— একজন আইনজীবীর দায়িত্ব এজলাশ রক্ষা করা। ভাঙচুর করা ...
10/08/2026

এ বছরের শুরুতে বরিশালে এক বিচারকের এজলাশ ভাঙচুর হইল। আমি তখন লিখলাম— একজন আইনজীবীর দায়িত্ব এজলাশ রক্ষা করা। ভাঙচুর করা না। আরো লিখলাম— A good lawyer knows law. A great lawyer knows the judges. সোজা বাংলায়— একজন ভালো আইনজীবী আইন জানে। একজন শ্রেষ্ঠ আইনজীবী বিচারকদের জানে।

লেখাটা লাখের বেশি ভিউ হইছিল। শতাধিক শেয়ার।

তখন মাত্র বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসছে। দেশ তখনো মব সন্ত্রাসের দখলে। ভাবলাম— যেহেুতু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসছে আর এত কষ্ট করে এসব লিখতে হবে না।
আমি ভুল প্রমাণিত হইলাম।

আজ আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বিচারকের এজলাশ ভাঙা হইল। এবার ভাঙল বিচারপ্রার্থীরা নিজেরাই।

কী হইছে ঐ এজলাশে?
পত্রিকায় পড়লাম— ঐ বিচারক নাকি বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে ঐ আদালতের বিচারক, পেশকার, বা কোনো অফিসারের বক্তব্য নাই। আদৌ সমালোচনা হইছে কিনা— কেউ জানে না। কারণ, ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখলাম। বিচারকের খাস কামরা থেকে দুই পুলিশ সদস্য বারবার আকুতি করতেছে— আপনারা শান্ত হন। জামিন দেওয়া হইবে।

এর মানে কী?
ঐ এজলাশে আসলে কী হইছে— আমরা জানতে পারতেছি না। দ্রুত তদন্ত দরকার।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম ঐ বিচারক বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। করে থাকলে তিনি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সেটার বিচার করবে হাইকোর্ট আর আইন মন্ত্রণালয়। এটাই পদ্ধতি। কিন্তু একজন বিচারপ্রার্থী কি সেই বিচার করতে পারে? জামিন চাইতে এসে এজলাশ ভাঙার এখতিয়ার তাকে কে দিল?

সংবিধান কী বলে?
হাইকোর্ট চাইলে আজই আদালত অবমাননার রুল দিতে পারে। ক্ষমতা সংবিধানেই দেয়া আছে। সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ বলে— সুপ্রিম কোর্ট একটি court of record। নিজের অবমাননার তদন্ত আর শাস্তির সব ক্ষমতা তার আছে। সাথে অনুচ্ছেদ ১০৯ মিলায়ে পাঠ করলে এই ক্ষমতা শুধু হাইকার্টের নিজের জন্য না। অধস্তন আদালতের অবমাননার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এজলাশ সাব-অর্ডিনেট কোর্ট। তবু হাইকোর্ট রুল দিতে পারে।
এই ক্ষমতা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। সংসদও না।

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার Contempt of Court Act-2013 পাশ করে। হাইকোর্ট নিজেই সেই আইন বাতিল করে দেয়। কারণ ঐ আইন সরকারি কর্মকর্তা আর সাংবাদিকদের বাড়তি সুরক্ষা দিয়ে ১০৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা খর্ব করছিল। এবং ১০৯ অনুচ্ছেদ খর্ব করে হাইকোর্ট থেকে নিম্ন আদালতের অবমাননার এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া হইছিল। রায়ে হাইকোর্ট বলল— অবমাননার ক্ষমতা হাইকোর্টের সাংবিধানিক এখতিয়ার। সংসদীয় আইন করে কেড়ে নেওয়া যাবে না।

উন্নত বিশ্বে কি হয়?
ভারতে সুপ্রিম কোর্টের আদালত অবমাননার ক্ষমতা অনুচ্ছেদ ১২৯ দেয়া আছে। হাইকোর্টের অনুচ্ছেদ ২১৫। দুটোই court of record। ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার নীতি— বিচারককে ব্যক্তিগত আক্রমণ ফেয়ার ক্রিটিসিজম না।

অরুন্ধতী রায়ের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলল— যে সমালোচনা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, তা বাক-স্বাধীনতার সুরক্ষা পায় না। ১৯৬৭ সালে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী নাম্বুদিরিপাদকে পর্যন্ত আদালত অবমাননায় দণ্ড দেওয়া হইছিল। মুখ্যমন্ত্রীকেও ছাড় দেওয়া হয় নাই।

আমেরিকায় ফেডারেল আদালতের এই ক্ষমতা ১৭৮৯ সাল থেকে। সবচেয়ে বিখ্যাত নজির Chicago Seven, ১৯৬৮। আসামিরা বারবার এজলাশে বিঘ্ন ঘটায়। বিচারক ১৫৯টা অবমাননার অভিযোগ আনেন। সাজা আড়াই মাস থেকে চার বছর। এমনকি এক আসামিকে এজলাশেই বেঁধে, মুখ চাপা দিয়ে রাখার আদেশ দেয়া হয়।

আমাদের চাপাইনবাবগঞ্জের এই ঘটনা সরকারকে অজনপ্রিয় করবে। বিচারবিভাগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভিতর অনাস্থা তৈরি করবে। আমাদের হাইকোর্টের উচিত এখনই একটা সুয়োমুটো আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করা। এই ঘটনায় মহামান্য হাইকোর্টের রেসপন্স কি হয় সেটা দিয়ে ই আমরা বুঝব আদালত কতটা স্বাধীন।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।

09/08/2026

ইংল্যান্ড থেকে একটা ই-মেইল পাইলাম। গ্লস্টারশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আবদুল্লাহ আল মামুন একটা সাক্ষাৎকার চাইলেন। টপিক— Cross-Border E-Commerce in Bangladesh।

ইমেইলটা পড়েই টপিকটা মনে ধরল। কারণ দুইটা।

এক. এটা আমার ল’ প্র্যাকটিসের এরিয়া। দুই. ডেটা প্রাইভেসি আর এআই— এই দুইটা এখন ক্রস বর্ডার বিজনেসটাকে অন্য লেভেলে নিয়া যাইতেছে।

একটা কথা আগে ক্লিয়ার করি। অনেকে বলেন— বাংলাদেশে ডেটা প্রাইভেসি আইন নাই।

ভুল। এখন আছে।

Personal Data Protection Act, 2026 পাস হইছে। এপ্রিল ২০২৬-এ। এর আগে ২০২৫-এ অর্ডিন্যান্স ছিল। সংসদ সেটা রিপিল কইরা স্থায়ী আইন বানাইছে।

এই আইনের এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল রিচ আছে। মানে— বাংলাদেশের বাইরে বইসাও যদি কেউ এখানকার নাগরিকের ডেটা প্রসেস করে, আইন তারে ধরবে।

তাইলে সমস্যা কই?

সমস্যা এনফোর্সমেন্টে। আইন কাগজে আছে। কিন্তু এনফোর্সমেন্ট মেকানিজম— ডেটা অফিসার নিয়োগ, অভিযোগ, তদন্ত, জরিমানা— সব কার্যকর হইব ২০২৭ সালের মে-র দিকে। মাঝের সময়টা একটা কমপ্লায়েন্স উইন্ডো। ফাঁকা।

এবার আসি এআই রেগুলেশন এ।

এখানেও একই ভুল ধারণা। অনেকে বলেন— বাংলাদেশে এআই রেগুলেশন নাই।

আধা সত্য।

National AI Policy 2026-2030 আছে। ড্রাফট আকারে। ICT ডিভিশন ফাইনালাইজ করতেছে, ফিডব্যাক নিতেছে। রিস্ক-বেজড ফ্রেমওয়ার্ক, মাস সার্ভেইল্যান্সে নিষেধাজ্ঞা, হাই-রিস্ক সিস্টেমের জন্য অ্যালগরিদমিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট— সব প্রপোজ করা আছে।

কিন্তু পলিসি আর বাইন্ডিং আইন এক জিনিস না।

পলিসি আছে। বাইন্ডিং লেজিসলেশন নাই। এনফোর্সমেন্ট মেকানিজম নাই।

সোজা কথা— নীতি লেখা হইছে। কিন্তু কার্যকারিতা নাই।

ক্রস বর্ডার বিজনেসের জন্য এর মানে কী?

এই জায়গাটা খেয়াল করুন। এখানেই আসল গল্প।

২০২৫-এর মূল অর্ডিন্যান্সে একটা ডেটা লোকালাইজেশন শর্ত ছিল। কনফিডেনশিয়াল আর রেস্ট্রিক্টেড ডেটা বাংলাদেশের ভিতরেই রাখতে হইব।

কিন্তু পরের রিভিশনে— ২০২৬-এর সংশোধিত টেক্সটে— সেই লোকালাইজেশন শর্তটা সরানো হইছে।

এটা বড় সিদ্ধান্ত। কারণ ক্রস বর্ডার ই-কমার্স মানেই ডেটা সীমানা পার হওয়া। পেমেন্ট প্রসেসর, ক্লাউড সার্ভার, লজিস্টিকস পার্টনার— সব বিদেশে।

লোকালাইজেশন থাকলে ব্যবসা আটকায়া যাইত। সরাইয়া দেওয়ায় সেই ব্যারিয়ারটা কমল।

কিন্তু নতুন প্রশ্ন আইলো। ডেটা যদি বাইরে যাইতে পারে— কোন শর্তে যাবে? ট্রান্সফার মেকানিজম কী? আইন এখনো সেই ডিটেইলটা পুরাপুরি ক্লিয়ার করে নাই।

ব্যারিয়ার সরল। অনিশ্চয়তা রইয়া গেল।

তাইলে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়ায়া আছে?

প্যাটার্নটা দেখুন। এটা খালি বাংলাদেশের গল্প না।

শ্রীলঙ্কা PDPA করছে ২০২২-এ। সংশোধন ২০২৫-এ। ভারত DPDP Act করছে ২০২৩-এ। বাংলাদেশ করল ২০২৬-এ।

সাউথ এশিয়া একই পথে হাঁটতেছে। জিডিপিআর-এর ছায়ায়। কিন্তু নিজের শর্তে।

একটা জিনিস খেয়াল করুন। ভারতের DPDP আর বাংলাদেশের PDPA— দুইটারই পূর্ণ এনফোর্সমেন্টের তারিখ একই। ১৩ মে ২০২৭। দুই দেশই আঠারো মাসের ট্রানজিশন উইন্ডো নিছে। কাকতালীয় না। একই মডেল।

তিনটা বড় বাজার আমাদের ডেটা দেখতেছে— ভারত, আমেরিকা, ইউরোপ। প্রত্যেকের নিজস্ব রুলবুক। প্রত্যেকের নিজস্ব দাবি।

বাংলাদেশ যদি ট্রান্সফার মেকানিজম আর এআই লায়াবিলিটি ক্লিয়ার করতে না পারে— এক্সপোর্টার আর স্টার্টআপ বিজনেস চাপে পড়বে। বিদেশি পার্টনার আসতে দ্বিধা করবে।

আইন থাকা আর আইন কাজ করা— এক জিনিস না।

আইন কাগজে থাকলেই ব্যবসা নিরাপদ হয় না। নিরাপত্তা আসে এনফোর্সমেন্ট থেকে, স্পষ্টতা থেকে, ধারাবাহিকতা থেকে।

বাংলাদেশ এখন একটা ট্রানজিশন উইন্ডোতে। আইন লেখা হইছে। কিন্তু কার্যকর হয় নাই। মেকানিজম অসম্পূর্ণ।

এই ফাঁকটাই আসল ব্যারিয়ার। ডেটা প্রাইভেসির অভাব না— স্পষ্টতার অভাব।

আবদুল্লাহ আল মামুনের এই গবেষণা সময়মতো আসছে। বাংলাদেশ আর সাউথ এশিয়ান ক্রস বর্ডার ই-কমার্স নিয়া গ্রাউন্ডব্রেকিং কাজ হইতে পারে— যদি সে এই এনফোর্সমেন্ট গ্যাপটা ধরতে পারে।
--------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।

#ক্রসবর্ডারইকমার্স #ডেটাপ্রাইভেসি #বাংলাদেশ

পর্ব-১০ : যে মুখ আয়নায় দেখা যায় না‘সুস্থ মস্তিষ্কে মানুষ মানুষের মাংস খায়?’আমি পডিয়ামে দাড়াঁয়ে এই কথা বলার পর এজলাশ ...
08/08/2026

পর্ব-১০ : যে মুখ আয়নায় দেখা যায় না
‘সুস্থ মস্তিষ্কে মানুষ মানুষের মাংস খায়?’
আমি পডিয়ামে দাড়াঁয়ে এই কথা বলার পর এজলাশ গমগম করে ওঠে। গ্যালারিতে কেউ মাথা নাড়ে। কেউ ফিসফিস করে। বিচারক পেন্সিলে টোকা দেয়। একবার। দুইবার। তিনবার। । পেশকার কয়— সবাই শান্ত হন।
নাসিরুদ্দিন সাব দাঁড়ায়ে আছে। ওর মুখ ফ্যাকাশে। যেন সমস্ত রক্ত পায়ে নেমে গেছে। কিন্তু চোখ গাঢ়, লাল। সেই চোখ, ত্রিশ বছরের, তিরিশটা মৃত্যুদণ্ডের। ও চেনে এই মুহূর্ত যখন এজলাশ ঘুরে যায়।

সকালে আয়নায় তাকায়ে ভেবেছিলাম —কত দিন ঘুমাই নাই? তিন? চার? পাঁচ? জানি না।
বাইরে তাছমী বলেছিল — ‘চা ঠান্ডা হচ্ছে।’ তিনটা শব্দ। আর কিছু না।
এজলাশে আসার আগে ভেবেছিলাম — আজকে আক্রমণে যাব। আজকে দা-র মালিকানা দিয়ে শুরু করব। প্রমাণ করব খুনটা পরিকল্পিত না। তারপর মানসিক মূল্যায়নের আবেদন। দুটো আঘাত। একটার পর একটা।

শুরু থেকে বলি।
আমি উঠি। পডিয়ামে দাড়াঁয়ে বলি —
‘ইয়োর অনার, ডিফেন্স একটা তথ্য উপস্থাপন করতে চায়। খুনের অস্ত্র হিসেবে যে দা উদ্ধার করা হয়েছে — এক্সিবিট নং ৩ — সেটা আসামীর না।’
এজলাশে নড়াচড়া। ফিসফিস। বিচারক চশমার উপর দিয়ে আমার দিকে তাকায়। মাপছে, দেখছে—আমি কোন দিকে যাই। আমি দা ইঙ্গিত করে বলি—
‘এই দা মৃত আরমানের নিজের ঘরের। আসামী নিজের অস্ত্র আনে নাই। সে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে যা পেয়েছে তা ব্যবহার করেছে।’
নাসিরুদ্দিন সাব ওঠে। গাউন ঠিকঠাক আছে। তবুও ভাঁজ ঠিক করে। তারপর বলে —
‘ইয়োর অনার, অস্ত্রের মালিকানা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। অস্ত্রে রক্ত আছে। আসামীর জামায় রক্ত আছে।’
বলি — ‘অস্ত্রের মালিকানা অপ্রাসঙ্গিক না, ইয়োর অনার। যে মানুষ পরিকল্পিত খুন করে সে অস্ত্র সাথে আনে। আসামী আনে নাই। তাহলে খুনটা পরিকল্পিত না।’
নাসিরুদ্দিন সাব আবার ওঠে। এবার গাউন সত্যিই ভাঁজ হয়ে আছে কিন্ত ভাঁজ ঠিক করতে ভুলে যায়। একটু সামনে আগায় যায়, বিচারকের দিকে। তারপর কয়—
‘তাহলে মাংস কাটা? রান্না? টিফিন বক্সে ভরা? এগুলো কি অপরিকল্পিত?’
এজলাশ চুপ। ভালো প্রশ্ন। নাসিরুদ্দিন সাব জানে কোথায় মারতে হয়।
বলি — ‘এটাই ডিফেন্সের প্রশ্ন, ইয়োর অনার। খুন এক সময়ের। মাংস কাটা আর রান্না অন্য সময়ের। দুটো ভিন্ন কাজ। দুটো ভিন্ন মানসিক অবস্থা। এটা বোঝার জন্য আসামীর মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন দরকার।’
নাসিরুদ্দিন সাব বলে — ‘আসামী মানসিক রোগী না। সে সুস্থ মস্তিষ্কে খুন করেছে।’
বিচারক চশমা খোলে। মুছে না। টেবিলে রাখে। তাকায় — আমার দিকে। তারপর দেয়াল ঘরির দিকে। তারপর বলে —
‘ডিফেন্সের আবেদন নথিভুক্ত হলো। মানসিক মূল্যায়নের বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত হবে।’
নাসিরুদ্দিন সাব বসে। কলম তোলে। লেখে। কলম রাখে। আবার তোলে। আবার রাখে। ওর হাতে অস্থিরতা — প্রথমবার নয়, দ্বিতীয়বার। গতবার গাউনের ভাঁজ দুবার ঠিক করেছিল। আজকে কলম দুবার তোলে-রাখে।
তারপর ও ওঠে। আবার। বলে —
‘ইয়োর অনার, রাষ্ট্রপক্ষ একটা নতুন আবেদন করছে।’
থামে। আমার দিকে তাকায়। এক সেকেন্ড। তারপর বিচারকের দিকে।
কয়— ‘আমরা ঘটনার রাতের সম্পূর্ণ ফোন টাওয়ার ডেটা চাইছি। কেরানীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল এলাকার সব টাওয়ার। রাত আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। সব নম্বর।’
সব নম্বর।
আমি পডিয়ামে দাঁড়ায়ে আছি। নথি হাতে। নথির কোণা ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। চেপে ধরেছি। আঙুলে ঘাম জমে।
বিচারক চশমা তোলে। পরে। তাকায়।
বলে — ‘মঞ্জুর।’
এক শব্দ।
শুনানি শেষ হয়। মানুষ ওঠে। গমগম। চেয়ার সরে। পায়ের আওয়াজ।
আমি দাঁড়ায়ে থাকি, পডিয়ামে। সবাই উঠে যায়। আমি দাঁড়ায়ে থাকি যেভাবে দাঁড়ায়ে থাকে সেই মানুষ যার বসার চেয়ার কেড়ে নেওয়া হইছে।
ফোন টাওয়ার ডেটা।
সব নম্বর।
রাত আটটা থেকে মধ্যরাত।
সেই রাতে সেই এলাকায় আমার ফোন ছিল। আমি সেখানে ছিলাম। রাত সাড়ে নয়টা থেকে দশটা দশ। আমার ফোন সেই টাওয়ারে ধরবে। আমার নম্বর সেই তালিকায় থাকবে।
নাসিরুদ্দিন সাব কি জানে? ও কি এই কারণেই ডেটা চাইছে? আমাকে ধরতে? নাকি ও আসলেই রায়হানের বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজছে?
ও আমার দিকে তাকায়ে ছিল। এক সেকেন্ড। ডেটার আবেদন করার আগে। সেই এক সেকেন্ডে কী ছিল? সতর্কবার্তা? নাকি ফাঁদ?

কোর্টের বারান্দা।
বৃষ্টি নাই। রোদ নাই। ধূসর আকাশ। অক্টোবরের শেষ। না গরম না ঠান্ডা। মাঝখানে। যেমন আমি — না ভেতরে না বাইরে। ঠিক মাঝখানে।
সিগারেট ধরাই। হাত কাঁপে। আজকে কাঁপে। গতকাল কাঁপে নাই।
আজকে পর্যন্ত সবকিছু সম্ভাবনা ছিল — "হয়তো ফুটেজে আছি," "হয়তো কেউ দেখেছে।" আজকে থেকে সম্ভাবনা না — নিশ্চিত। টাওয়ার ডেটায় নম্বর থাকবে। থাকবেই।

রাত।
৭নং রাজার দেউরী। চেম্বার।
সোডিয়াম লাইট। ছাইদানিতে সাতটা ফিল্টার। সাত। আজকের রেকর্ড।
নোটবুকে লিখি —
"ফোন টাওয়ার ডেটা — মঞ্জুর। সব নম্বর। রাত ৮টা থেকে ১২টা।"
"আমার নম্বর থাকবে।"
কলম থামে।
লিখি —
"সেই মেয়ের নম্বরও থাকবে।"
কলম রাখি।
দুটো নম্বর। দুটো প্রমাণ। একটা বলবে আমি সেখানে ছিলাম। আরেকটা বলবে কেন ছিলাম।
ফোন টেবিলে। উপুড় করে রাখা। স্ক্রিন অন্ধকার। এই ফোনেই সেই রাতের প্রমাণ। এই ফোনেই সেই মেয়ের নম্বর। এই ফোনেই তাছমীর "ঠিক আছে।" এই ফোনেই জেবুনের "মেলে।" সব একটা যন্ত্রে।
ডেটা আসতে দুই-তিন দিন। এর মধ্যে ওকালতনামা প্রত্যাহার করতে পারি। আজহারের আর ব্যবস্থার কাছে সারেন্ডার করে নিজেকে গুটায়ে নিতে পারি। কিন্ত রায়হান?
অন্য উকিল আসবে। রায়হান আবার সরকারি উকিলের হাতে যাবে।
কিন্তু রায়হান বলেছিল — "আব্বা এই ঘরে ছিল।"
নোটবুক বন্ধ করি না। কলম ধরে আছি। নোটবুকে একটা ছবি তৈরি হচ্ছে — এখনো অসম্পূর্ণ।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবি ও কথাসাহিত্যিক।
-----------------------------------------------------------------------
১ম পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হইল।

একদিন উত্তরা থেকে এক বাবা আমার চেম্বারে আসলো।‌ তার দুইটা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। দুই মেয়ের নামে হেবা করে দিল। ভাবছিল, নিজের...
07/08/2026

একদিন উত্তরা থেকে এক বাবা আমার চেম্বারে আসলো।‌ তার দুইটা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। দুই মেয়ের নামে হেবা করে দিল। ভাবছিল, নিজের রক্ত, নিজের ঘাম— মেয়েরাই ভোগ করুক।

কিন্তু কয়েক বছর পর মেয়ে আর জামাইরা তারে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিল।‌ সেই বাবা আমার কাছে আসল। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারলাম না।

চাইলে হেবা দলিল বাতিলের মামলা করতে পারতাম। চাইলে আরো দুই একটা মামলা রুজু করতে পারতাম কিন্তু জানতাম— দিনশেষে একটা মামলাও টিকবে না। বাবার টাকা যাবে। সময় যাবে। রেজাল্ট শূন্য।

তাইলে সমস্যাটা কোথায়?

বাংলাদেশে কয়েকটা ইস্যুতে আমরা ইসলামিক শরিয়া আইন ফলো করি। উত্তরাধিকার আইন তার একটা। ধরুন আপনি মারা গেলেন। রেখে গেলেন দুই বা তিন বা আরো বেশি কন্যা। ছেলে নাই।

শরিয়া অনুযায়ী সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে আপনার মেয়েরা। বাকিটা যাবে আপনার ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলের কাছে।

সারা জীবনের অর্জন। শেষে বাইরে চলে গেল।

এই সমস্যা সমাধানে আইনজীবীরা একটা পথ বের করছিল। বাবা-মা বেঁচে থাকতেই কন্যাদের নামে হেবা করে দাও। তাইলে সম্পত্তি আর বাইরে যায় না।

কিন্তু এইখানে নতুন সমস্যা। উত্তরার সেই বাবার মতো। যাকে তার মেয়েরা তার নিজের ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিয়েছিল।

তাইলে উপায় কী ছিল?

শর্তসাপেক্ষ হেবা। বাবা-মা জীবিত অবস্থায় ভোগদখল করবে। মৃত্যুর পর সন্তান মালিক হবে।

এই জিনিসটা নতুন না। উপমহাদেশের উচ্চ আদালত অনেক আগে থেকেই এই প্রশ্ন নিয়ে কাজ করছে— corpus-এর হেবা আর usufruct-এর হেবা কি আলাদা? দাতা কি জীবদ্দশায় ভোগদখল রেখে দিতে পারেন? এই বিতর্ক পুরনো। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট থেকে এরকম একটা রায় আছে শর্তসাপেক্ষ হেবা করা যাবে।

কিন্তু বাংলাদেশের সাব-রেজিস্ট্রাররা এই ধরনের শর্তসাপেক্ষ হেবা রেজিস্ট্রি করতে চাইতেন না। খুব প্রভাবশালী না হইলে, লবিং-ইনফ্লুয়েন্স না থাকলে— এই জিনিস করা যেত না।
মানে, সুবিধাটা ছিল বড়লোকদের জন্য। গরিব আর মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।

এখন কী বদলাইল?

গত ৩০ জুলাই সরকার সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিছে। এখন থেকে বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি হেবা করলেও— জীবদ্দশায় মালিকানা আর ভোগদখল বাবা-মায়ের হাতেই থাকবে। তারা মারা গেলে সম্পত্তি অটো চলে যাবে যাকে হেবা করা হইছে, সেই সন্তানের নামে।

এই আইনটা আরো আগে হইলে উত্তরার সেই বাবা আজ নিজের ফ্লাটেই থাকতে পারতেন।

এই জায়গাটা খেয়াল করুন।

বর্তমান আইনমন্ত্রী Md. Asaduzzaman একজন ভালো আইনজীবী ছিলেন। নিজে পেশাজীবনে এ সমস্যাটা সম্মুখীন হইছেন। যখন তিনি সংসদে গেলেন এবং আইন সংশোধনের ক্ষমতা পেলেন তখন তিনি সেই সমস্যাটাকে অ্যাড্রেস করে সমাধানের উদ্যোগ নিলেন।

এজন্যই সংসদে বেশি বেশি আইনজীবী ও বিচারক যাওয়া দরকার। কারণ‌ একজন ব্যবসায়ী‌ সংসদ সদস্যের চেয়ে একজন আইনজীবী বা বিচারক সংসদ সদস্য সমস্যাটা দ্রুত এড্রেস করতে পারে এবং সে অনুযায়ী আইন বানানোর পরামর্শ দিতে পারে।

কারণ, তারা সমস্যাটা কেবল বইয়ে পড়ে না। রিয়েল লাইফে হ্যান্ডেল করে। উত্তরার সেই বাবার মুখটা তারা প্রতিনিয়ত এজলাসে আর চেম্বারে দেখে।

আমি সেই বাবাকে কিছু দিতে পারি নাই। কিন্তু এই আইন হয়তো অন্য কোন এক বাবাকে কিছু দিতে পারবে।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।

সেনাপ্রধান আসলেই আর্মি ইসলামাইজেশন করতে চায় কি না— এই প্রশ্নের উত্তর পাইতে হইলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৪৯ বছর আগের এক রাত...
05/08/2026

সেনাপ্রধান আসলেই আর্মি ইসলামাইজেশন করতে চায় কি না— এই প্রশ্নের উত্তর পাইতে হইলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৪৯ বছর আগের এক রাতে।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫।

জলপাই রঙের এক আর্মি জিপ দিলকুশা মাজার হয়ে শো শো আওয়াজে বঙ্গভবনে ঢুকবে। তারপর সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ নামবে সেই জিপ থেকে। যিনি বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার পর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম সেনা অভ্যুত্থানের নায়ক।

তারপর দেখব বঙ্গভবনের দরবার হলে রাতভর চলবে দরকষাকষি। কার হাতে কতটুকু ক্ষমতা— খালেদ তখন এই হিসাব কষছেন নৌ আর বিমানবাহিনী প্রধানের সাথে।
একই রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটা সাদা জিপ আসবে। ঢাকার দিকে। ধীরে ধীরে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ঢুকবে। তারপর ক্রাচে ভর দিয়ে একজন কর্নেল বের হবে। যার নাম— কর্নেল তাহের। সেই সময়ের জাসদ নেতা।

তারপর মাত্র চার দিন।

৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালের এক রাতে আমরা দেখব— সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ খুন হয়ে যাবে। নিজের সৈনিক আর জুনিয়র অফিসারদের হাতে। মাত্র চার দিনের সেনাপ্রধান।

৭ নভেম্বর নিয়ে ইতিহাসে তিনটা বয়ান আছে।
বিএনপি এটাকে বলে— সিপাহি বিপ্লব। আওয়ামী লীগ বলে— সেনা অফিসার হত্যা দিবস। আর জাসদ বলে— সিপাহি-জনতা বিপ্লব।
বয়ান যেটাই হোক। খালেদ মোশাররফ খুন হওয়ার পেছনে একটা শব্দ ছিল: ভারত।

এই জায়গাটা খেয়াল করুন।
১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দুইটা ধারা। একটা সেকুলার, ভারতপন্থী বলে অভিযুক্ত। আরেকটা প্রো-ইসলামিস্ট, পাকিস্তানপন্থী বলে অভিযুক্ত।

খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান হওয়ার পর গুজব ছড়ায়। লিফলেট বাইর হয়। বলা হয়— খালেদ আবার দেশকে মুজিবের মতো ভারতের হাতে তুলে দিবে। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস— ঠিক সেই সময় খালেদ মোশাররফের মা আর ভাই একটা মিছিল বাইর করে। মুজিব হত্যার বিচার চেয়ে। খালেদের অজান্তেই।

তাহের আর জাসদ এই দৃশ্যটাকে ক্যাশ করে। সৈনিকদের বুঝায়— দেখো, খালেদ মুজিবের লোক। ভারতের লোক।

সেই রাতে সিপাহি বিদ্রোহ হয়। খালেদ মোশাররফ নিহত হয়। মেজর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ক্যান্টনমেন্ট শান্ত করেন।
বাকিটা ইতিহাস।

এবার আসি ৫ আগস্ট, ২০২৪-এ। ৪৯ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতাচ্যুত হইল। রেখে গেল এক সেনাপ্রধানকে— জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। যিনি শেখ হাসিনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তার শাশুড়ি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর চাচাতো বোন। যিনি শেখ হাসিনাকে সেফ এক্সিট দিয়ে ভারতে পাঠায় দিছে।

৫ আগস্টের পর ছবিটা চেনা লাগতেছে?
সেনাবাহিনীর ভেতরের প্রো-ইসলামিস্ট ধারা সংশয়ে পড়ে। গুঞ্জন ওঠে— ওয়াকার আবার আওয়ামী লীগকে ফিরায় আনবে। এই গুঞ্জন সিভিল সোসাইটি থেকেও আসে। পিনাকীর মতো ইউটিউবারদের কাছ থেকে।

২০২৫-এ মিডিয়ায় দাবি ওঠে— এক প্রো-ইসলামিস্ট অফিসার, লে. জেনারেল ফয়জুর রহমান, নাকি ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। গুঞ্জন থামে না বরং বাড়ত্বেই থাক। সেনাবাহিনীর ভেতরে দুই ধারার টানাপোড়েন চলতে থাকে। পরিস্থিতি সেই ৪৯ বছর আগের রাতের দিকে যাচ্ছিল। ভারত-ট্যাগ। ভেতরের সংশয়। জুনিয়রদের অসন্তোষ। একই প্যাটার্ন।

তারপর কী হইলো?

বর্তমান সেনাপ্রধান ৪৯ বছর আগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলেন।
আমরা দেখলাম—
তিনি হজে গেলেন। মে ২০২৬। দাড়ি রাখলেন। জুন ২০২৬-এ নতুন ব্যাটালিয়ন উঠল— ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন। এর চারটা কোম্পানির নাম রাখা হ্চইল চার খলিফার নামে— হযরত আবু বকর, উমর, উসমান, আলী (রা:)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এইটা প্রথম।
তারপর ৩ আগস্ট ২০২৬-এ উদ্বোধন করলেন Army International Islamic Institute। কয়েকটা ভাষণে বললেন— সেনাবাহিনীকে ইসলামি মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। সর্বশেষ ভাষণে বললেন, বাংলাদেশকে বেদায়াতমুক্ত করতে হবে।
এবার দুইটা ডট মিলাই।

১৯৭৫ সালে যে সেনাপ্রধানকে "ভারতের লোক" ট্যাগ খেয়ে জীবন দিতে হয়েছিল—
২০২৬ সালে সেই একই ট্যাগের সামনে দাঁড়ানো আরেক সেনাপ্রধান দাড়ি রাখছেন। খলিফাদের নামে কোম্পানি করছেন। বাংলাদেশকে বেদায়াতমুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছেন।

এইটা কি কাকতালীয়?
একজন আইনজীবী এবং লেখক হিসেবে আমি বলব— ইতিহাসের প্যাটার্ন কাকতালীয় হয় না। ইতিহাসের এই দুই ডট মিলাইলে বোঝা যায়— বর্তমান সেনাপ্রধান যতটা না মন থেকে আর্মি ইসলামাইজেশন করতেছেন, তার চেয়ে বেশি করতেছেন নিজের জান বাঁচাতে। ভেতরের অভ্যুত্থান ঠেকাতে।

খালেদ মোশাররফ ভারত-ট্যাগ সামলাইতে পারেন নাই। ওয়াকার সেই ভুল করতে চান না। আর্মি ইসলামাইজেশন এখানে বিশ্বাস না। এটা সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
#ওয়াকারউজ্জামান #বাংলাদেশসেনাবাহিনী েম্বর #ফেরদৌসহোসেন
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।

গত ৩১ জুলাই। শুক্রবার সকাল। ঢাকার এক হোটেলে দুইজন মানুষ বসলেন। একজন সার্জিও গোর— ট্রাম্পের বিশেষ দূত। আরেকজন দীনেশ ত্রিব...
03/08/2026

গত ৩১ জুলাই। শুক্রবার সকাল। ঢাকার এক হোটেলে দুইজন মানুষ বসলেন। একজন সার্জিও গোর— ট্রাম্পের বিশেষ দূত। আরেকজন দীনেশ ত্রিবেদী— বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার।
বৈঠক চলল দেড় ঘণ্টা।

বৈঠক শেষে ত্রিবেদী গলফ খেলতে গেলেন না। বাসায় ফিরলেন না। সোজা এয়ারপোর্টে। বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে দিল্লির ফ্লাইট ধরলেন। জরুরি পরামর্শে। আমেরিকার দূত ঢাকায় এসে ভারতের হাইকমিশনারের সাথে বসেন। বসার পরই ভারতের হাইকমিশনার দিল্লি ছোটেন।

এই দৃশ্যটা যারা বোঝে না, তারা গত এক মাস ধরে ভুল অঙ্ক কষতেছিল।
চলেন, অঙ্কটা মিলাই।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করলেন। ইকোনমিক করিডরের প্রস্তাব পেলেন। বাংলার বুদ্ধিজীবীরা বলল— এবার ভারতের বলয় থেকে বাংলাদেশ মুক্ত। এখন থেকে সবকিছুর জন্য চায়না।
এরপর সংসদে আমেরিকান ককাস ফর্ম হইল। সবাই বলল— ভারত শেষ। আমেরিকা ভারতকে গুনতেছে না। এবার আমেরিকা বনাম বাংলাদেশ-চায়না।
কেউ কেউ বলল— ভারতের কোলে থাকার চেয়ে আমেরিকার কোলে থাকা বেটার।
আমি তখন লিখছিলাম— দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক রাজনীতি সরলরৈখিক না। জটিল। একটা ইভেন্ট দিয়ে ডিফাইন করা ভুল।
আসল কথা হইলো— অঙ্কটা বোঝা জরুরি।
দুনিয়ায় এখন দুইটা সুপার পাওয়ার— আমেরিকা আর চায়না। আমেরিকার আসল কাজ একটাই— চায়নাকে দমায়ে রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় চায়নাকে ঠেকানোর একমাত্র রাইজিং শক্তি ভারত। আমেরিকার ফরেন পলিসি দুই দশক ধরে এই লাইনেই সেট করা। ভারতকে বন্ধু বানানো হইছে শুধু একটা কারণে— চায়নাকে ঠেকানো।
সোজা কথা— অঙ্কটা: আমেরিকা-ভারত বনাম চায়না।
তাহলে ট্যারিফের গণ্ডগোলটা কী ছিল?
২০২৫ সালে ট্রাম্প আসার পর গণ্ডগোল লাগে। রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতের ওপর বাড়তি ২৫% ট্যারিফ। সব মিলিয়ে কার্যকর হার দাঁড়ায় ৫০%-এ। বছরের পর বছরের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। মনে হইতেছিল— এইবার বুঝি আমেরিকা বনাম ভারত বনাম চায়না।
কিন্তু ভাটা স্থায়ী না।
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প-মোদি ট্রেড ডিল হয়। রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ ২৫% থেকে নেমে ১৮%। রাশিয়ার তেলের শাস্তির ২৫%-ও উঠে যায়। সম্পর্ক লাইনে ফিরে আসে।
কারণটা সিম্পল— চায়না প্রশ্নে আমেরিকার নীতি বদলায় নাই। ট্রাম্প যতই চায়নার সাথে ডিল খুঁজুক, তাইওয়ান আছে, সাউথ চায়না সি আছে, টেকনোলজির যুদ্ধ আছে। এই দ্বন্দ্ব মিটবার না।
অঙ্ক যতই ঘুরুক, শেষে ফিরবে সেই একই জায়গায়— আমেরিকা-ভারত বনাম চায়না।
ঐ লেখাটা আপ দেয়ার পর কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপক কমেন্টে বললেন— আমার বিশ্লেষণ ভুল। চায়নাকে ঠেকাতে জাপান যথেষ্ট। ভারতকে দরকার নাই।
আমি বললাম— ভারত বিশ্বের ৪র্থ লার্জেস্ট ইকোনমি। ভারত নিউক্লিয়ার স্টেট। জাপান নন-নিউক্লিয়ার।
আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা জাপানকে এমনভাবে রিডিজাইন করছে যে জাপান এখন বিশাল আকৃতির একটা বিড়াল। অর্থনীতি স্বচ্ছল, সমৃদ্ধ— কিন্তু মিলিটারি ভালনারেবল। এই জাপান চায়নাকে চ্যালেঞ্জ দেয়ার সাহস আর ক্ষমতা রাখে না।
এবার শুরুতে ফিরে যাই।
গোর ঢাকায় এলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক। শুক্রবার সকালে হঠাৎ ভারতের হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক। দেড় ঘণ্টা পর ত্রিবেদী দিল্লির ফ্লাইটে।
সেই বগল-চাপড়ানো, ইমোশনাল বুদ্ধিজীবীরা সারপ্রাইজ হয়ে গেল।
কেন সারপ্রাইজ? কারণ অঙ্কটা তারা কোনোদিন বোঝে নাই।
আমেরিকার দূত ঢাকায় এসে সরকারের সাথে যতটা কথা বলেন, তার চেয়ে জরুরি ভারতের হাইকমিশনারের সাথে বসা। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার প্রথম উদ্দেশ্য— চায়নাকে দমায়ে রাখা। আর সেটা করার একমাত্র পাওয়ার— ভারত।
সার্জিও গোরের ঢাকা সফর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির সমীকরণটা আমার সেই প্রেডিকশনের কাছেই ফিরায়ে নিল— আমেরিকা-ভারত বনাম চায়না।
কমেন্টে আগের লেখাটার লিংক দিলাম। যারা পড়েন নাই, পড়ে নিতে পারেন। যারা পড়েছেন, আবার পড়ে মিলায়ে নিতে পারেন— কীভাবে আমার প্রেডিকশন সত্য হইল।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
#ফেরদৌসহোসেন

পর্ব-৯ : আব্বা এই ঘরে ছিল“বন্দী ইউসুফ কুরেশী। অসুস্থতার কারণে মুক্তি।”  ছয়টা শব্দ। এই ছয়টা শব্দে ইউসুফ কুরেশী মুছে গেছে।...
01/08/2026

পর্ব-৯ : আব্বা এই ঘরে ছিল
“বন্দী ইউসুফ কুরেশী। অসুস্থতার কারণে মুক্তি।” ছয়টা শব্দ। এই ছয়টা শব্দে ইউসুফ কুরেশী মুছে গেছে।
মেডিকেল সার্টিফিকেট। তারিখ আছে। ডাক্তারের সিল আছে। কিন্ত জেলে কী হইছে সেটা লেখা নাই।
ছয়টা শব্দ। ছয়টা শব্দে একটা মানুষ মুছে গেল।

রাত।
৭নং রাজার দেউরী।
টেবিলে ইউসুফের ফাইল খোলা। পুরনো, বাদামি, ধুলোময়। পাশে আরেকটা ফাইল — রায়হানের। নতুন, সাদা, পরিষ্কার। বাবা আর ছেলে। পনেরো বছরের ব্যবধান। একই টেবিলে।
শুরু থেকে পড়ি।
ইউসুফ কুরেশী। জন্ম কেরানীগঞ্জ। রিকশা গ্যারেজ ভাড়া দিত।
জমি আট শতক। বাবার থেকে পাওয়া। গুদামের পেছনে। এই জমিতে ঘর ছিল। টিনের ছাদ। দুটো ঘর। একটায় পরিবার থাকতো — ইউসুফ, বউ হালিমা, ছেলে রায়হান, মেয়ে জেবুন। আরেকটায় রিকশা গ্যারেজ।
আজহারুল ইসলাম। ঠিকাদার। কেরানীগঞ্জে জমি কেনাবেচা করে। শিল্পাঞ্চলে গুদামের জমি দামি হচ্ছিল। ইউসুফের আট শতক ওর দরকার।
ইউসুফ বেচতে চায় নাই।
দলিল জাল হয়। মামলা হয়। আরমান আর সামসুদ্দিন সাক্ষ্য দেয়। দুজনেই বলে জমি আজহারের। দলিল আসল।
মামলা তিন বছর চলে। ইউসুফ লিগাল এইডের উকিল নিয়ে লড়ে। আজহারের উকিল তিনজন সাথে বারের সভাপতি। ইউসুফ হারে।
রায়ের পাতায় লেখা — "বাদীর দাবি প্রমাণিত হয় নাই।" এক লাইন। এক লাইনে একটা পরিবার। কয়েকটা মানুষের জীবন।
ফাইলে আরো আছে। জমি হারানোর পর জালিয়াতির অভিযোগে ইউসুফ মামলা করে। সেই মামলাও হারে। তারপর ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আজহারের জমিতে অনধিকার প্রবেশ। ইউসুফ জেলে যায়।
জেলে কী হইছে — ফাইলে নেই। শুধু সেই সার্টিফিকেট। সেই ছয় শব্দ।
দুনিয়ার সবচেয়ে নিষ্ঠুর অস্ত্র ছুরি না, কলম। যদি কলমটা সরকারি হয়।
আমি ফাইল বন্ধ করি। চোখ বন্ধ করি।
তেরো বছর বয়সে বাবা হারানো। আমি জানি এটা কেমন। আমি জানি সেই সকালটা কেমন যখন ঘরে ফিরে দেখি বাবার জুতা আছে। বাবার গন্ধ আছে — বালিশে, আলমারিতে। কিন্তু বাবা নাই।
মৃত্যু মানুষকে নেয়। কিন্তু গন্ধ নেয় না। জুতা নেয় না। এই না-নেওয়াটাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর।
সিগারেট ধরাই। হাত কাঁপে না কিন্তু ভেতরে কাঁপে।

দুপুর।
জেলখানা।
রায়হানকে দেখতে যাই। সাক্ষাৎকার কক্ষে লোহার শিক। সেই টেবিল। কিন্ত আজ প্লাস্টিকের গ্লাস নাই।
রায়হানকে আনা হয়। আজকে ওর চোখ লাল। ঠোঁট নড়ছে। বিড়বিড়। কিছু বলছে। নিজের সাথে। শব্দ শুনি না কিন্ত ঠোঁটের নড়া দেখি।
ও বসে। হাত টেবিলে। আঙুলে রুটি নাই। কাগজ নাই। কিছুই নাই । কিন্তু আঙুল নড়ছে। গতবারের মত অদৃশ্য দাগ টানছে। বৃত্ত। আধা বৃত্ত। মুছে দিচ্ছে। আবার আঁকছে।
জিগাই — ‘রায়হান, আমি আপনার আব্বার মামলার ফাইল পড়েছি।’
রায়হানের আঙুল থামে। তাকায়। আমার দিকে। তারপর দেয়ালের খয়রি দাগে। যেন ওখানে কিছু লেখা আছে।
আমি বলি— ‘আরমান সাক্ষী ছিল। আপনার আব্বার বিরুদ্ধে।’
এবার রায়হানের চোয়াল শক্ত হয়। হাত মুঠো হয়। তারপর আলগা।
জিগাই — ‘আপনার আব্বা জেল থেকে ফিরে মারা গেছে। আপনি জানতেন?’
কয় — ‘জানতাম।’
একটা শব্দ। প্রথমবার একটা শব্দ। মনে হল গভীর রাতে সমুদ্রে একটা বড় পাথর পড়ল।
জিগাই — ‘দা-টা আপনার ছিল?’
‘না।’
‘কার?’
‘আরমানের।’
থামে। আঙুলে বৃত্ত আকে। আধা বৃত্ত। ফের মুছে দেয়।
তারপর কয়— ‘ওর ঘরেই ছিল। আমি নিয়ে যাই নাই। ওখানেই ছিল।’
আমি নোটবুকে লিখি — "দা আরমানের। রায়হান অস্ত্র আনে নাই।"
এটা পরিকল্পিত খুন না। রায়হান আরমানের ঘরে গেছে। আরমানের দা দিয়ে আরমানকে মেরেছে। অস্ত্র আগে থেকে ছিল না। মুহূর্তের সিদ্ধান্ত।
কিন্তু।
মাংস কাটা। রান্না করা। টিফিন বক্সে ভরা। বোনকে দিয়ে রান্না করানো। এগুলো মুহূর্তের না। এগুলো সময় নিয়ে করা হইছে। ঠান্ডা মাথায়। বা ঠান্ডা মাথায় না, অন্য কোনো মাথায়। এমন মাথায় যেটা সেই মুহূর্তে আর মানুষের মাথা ছিল না।
জিগাই — ‘মাংসটা কেন রান্না করাইলেন?’
রায়হান তাকায়। দেয়ালের দিকে। সেই দাগ। খয়েরি। পুরনো। আঙুলে বৃত্ত আকে। আধা বৃত্ত। ফের মুছে দেয়। বিড়বিড় করে কয় —
‘আব্বা এই ঘরে ছিল।’
আমি থামি। এক পলক খয়রি দাগে তাকাই। তারপর নিচে। টেবিলে রায়হানের হাতG খালি।
"আব্বা এই ঘরে ছিল।" এই একটা বাক্য। এই একটা বাক্যে সবকিছু আছে। ইউসুফ এই জেলে ছিল। এই জেলের সেলে। সেলের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসেছিল। এই শিক ধরে বসেছিল।
আর এখন ইউসুফের ছেলে একই শিক ধরে বসে আছে।
আমি শিকের দিকে তাকাই। লোহা। ঠান্ডা। কালো। কত হাত এই শিক ধরেছে। কত বাবা। কত ছেলে।
শরীর কাঁপে। আমার। রায়হানের না — আমার। কারণ আমিও একটা ছেলে যে বাবাকে হারায়ে শিক ধরে দাঁড়ায়ে ছিল। জানালার শিক। বৃষ্টিতে। আষাঢ় মাসে।
রায়হান প্রতিশোধ নিছে। আমি নিই নাই। রায়হানের হাতে রক্ত। আর আমার হাতে নথি।
কিন্তু ভেতরের ক্ষত একই। আমর একই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি।
হাবিলদার বলে সময় শেষ। রায়হান ওঠে। হাঁটে। দরজায় গিয়ে থামে। তারপর আমার দিকে ফিরে তাকায়।
কয় — ‘উকিলসাব।’
আমি দাঁড়াই। শিক ধরে ওর দিকে ঝুকে থাকি।
কয়— ‘আপনি কি জানতেন আব্বা এখানে ছিল?’
আমি মাথা নাড়ি। বলি— ‘না’।
ও থামে। একপা সামনে দেয়। হাঁটে। তারপর মুখ ঘুরায়ে কয়—‘এখন তো জানলেন।’
চলে যায়।
শিকের ওপাশে খালি চেয়ার। টেবিলে অদৃশ্য বৃত্ত। দেয়ালে খয়রি পুরানো দাগ। আমি শিখ ধরে দাড়াঁয় থাকি।

রাত।
চেম্বার।
দুটো ফাইল পাশাপাশি—বাবা আর ছেলে।
নোটবুকে লিখি —
"দা আরমানের। পরিকল্পিত খুন না। কিন্তু মাংস কাটা আর রান্না পরিকল্পিত। দুটো ভিন্ন সময়ের কাজ।"
থামি।
লিখি —
"নাকি দুটো ভিন্ন মানুষের কাজ? খুন করেছে একজন। রান্না করেছে অন্যজন?"
কলম রাখি।
একজন না দুজন। জানি না। কিন্তু এক মুহূর্তে আরমানকে মারা, আর তারপর ঠান্ডা মাথায় মাংস কাটা, রান্না করা, টিফিন বক্সে ভরা। এই দুটো একসাথে মেলে না। মানুষ দুভাবে শেষ হয়: হয় একবারে, নয় ধীরে ধীরে। রায়হান কোনটা?
রুটি সারিতে সাজানো। অদৃশ্য বৃত্ত। বিড়বিড়। দেয়ালের দিকে তাকানো। "আব্বা এই ঘরে ছিল।"
এই ছেলেটা শেষ হয়ে গেছে। ভেতর থেকে। কিন্তু শেষ হওয়াটা দেখা যায় না। কারণ বাইরে পাথর। যে ভেঙে পড়ে তাকে মানুষ তোলে। যে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে শেষ হয়, তাকে মানুষ সাহসী বলে।..
সিগারেট ধরাই। ছাইদানিতে পাঁচটা ফিল্টার। এটা ছয় নম্বর।
ফোন তুলি। জেবুনকে কল করি।
ধরে।
‘উকিলসাব?’
বলি — ‘দা-টা আরমানের নিজের। রায়হান অস্ত্র নিয়ে যায় নাই।’
ওপাশে চুপ।
আমি বলতে থাকি—‘এটা পরিকল্পিত খুন না, জেবুন। কিন্তু মাংস রান্না করা পরিকল্পিত। এই দুটো জিনিস একসাথে মেলে না।’
কয় — ‘মেলে, উকিলসাব, মেলে।’
জিগাই— ‘কীভাবে?’
জেবুন চুপ। দীর্ঘ চুপ। শুধু শ্বাসের আওয়াজ।
তারপর কয়— ‘সেটা এখনো বলার সময় হয় নাই’
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবি ও কথাসাহিত্যিক।
-----------------------------------------------------------------------
১ম পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হইল।

Address

54, New Eskaton Road
Dhaka
1000

Telephone

+8801977944725

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?:

Shortcuts

Share