18/08/2026
আজ সারাদিন আটলান্টিক সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকলাম। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে। মাথার উপর আকাশ। মেঘলা। ঘুমঘুম। পাশে একটা ছোট্ট বোট। জং ধরা। মেশিনে মরিচা। রশি ছেঁড়া। কেউ একদিন বেঁধে রেখেছিল। আর খুলতে আসে নাই। আমি স্টারবাক্সের আইস কফিতে চুমুক দিই। নীল ঢেউ এসে পায়ে লাগে।
পিছনে এক আমেরিকান পরিবার। গ্রান্ড মা। মা। আর মেয়ে। মেয়েটা ছোট্ট। হাসে। কয়— হায়।
আমিও হাসি। বলি— হায়।
আমেরিকান কার্টেসি। এর বেশি কিছু না।
সমুদ্রে ইয়ট চলে। ‘ইয়ট’ এর বাংলা কি ভ্রমণ তরী? হয়ত। হয়ত না।
ইয়ট আসে। যায়। আবার আসে। আবার যায়। নীল ঢেউ পায়ে বারি খায়।
একটা আলবাট্রস উড়ে এসে বোটের স্টিয়ারিংয়ে বসে। যেখানে হাত রেখে কেউ একদিন বোট চালাত। এখন পাখি বসে। তারপর ডানা মেলে। চলে যায়। সমুদ্রের দিকে। যেদিকে খুশি।
পাশেই লোগান বিমানবন্দর। বিমান আসে। বিমান যায়।
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামে। মেঘের আড়ালে সূর্য ডুবে যায়। নীল ঢেউয়ে অন্ধকার নামে।
ইয়ট বন্দরে ফেরে। ঢেউ পাড়ে ফেরে। বিমান সব যাত্রী নিয়ে ফেরে। সেই আমেরিকান পরিবার— গ্রান্ড মা। মা। মেয়ে। বাড়ি ফেরে। ভিড় পাতলা হয়। বন্দর খালি। ফাঁকা ফাঁকা। সবাই কোথাও ফেরে।
আমি উঠি না।
আকাশ তখনও ভারী। ঘুমঘুম।
বোটটা নড়ে না। নীল ঢেউয়ে দোলে। রশি ছেঁড়া। তবু কোথাও যায় না। কোথাও না।
আমি বসে থাকি। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে। পাশে ছোট্ট বোট। অর্ধেক নীল ঢেউয়ে ডোবা।
সমুদ্রে গভীর রাত নামে। নীল জল কালো হয়। আমরা বসে থাকি। দুইজন। নীল ঢেউয়ে পা ডুবায়ে।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
বস্টন হারবার, যুক্তরাষ্ট্র।
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।