এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। আপনার দৈনন্দিন আইনি প্রশ্নের সহজ উত্তর। আপনার ফোন, ডেটা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করি। He earned his LL.B.

Ferdows Hossen is an Advocate of the Supreme Court of Bangladesh and the Managing Partner of Just Legal Ltd., a law firm specializing in intellectual property, technology, data, and AI governance. He has over eight years of experience advising on intellectual property, technology law, constitutional issues, regulatory compliance, and cross-border legal matters, with a particular focus on the inter

section between law, technology, and public policy. He is a U.S.-trained lawyer, holding an LL.M. from Northeastern University School of Law, and has also completed executive legal education at Harvard Law School. (Honours) from the University of Dhaka. His professional work spans intellectual property, technology regulation, constitutional law, and the legal governance of emerging technologies. Ferdows began his professional journey in legal journalism, working as a court reporter for The ATN Times and The Daily Manobkantha, where he reported on legal developments and court proceedings. This experience strengthened his ability to analyze and communicate complex legal matters to diverse audiences. He has authored and presented research in intellectual property, technology law, and constitutional law, with his work recognized by academic and professional institutions in South Asia and beyond. His research has been featured in journals including the Commonwealth Law Review Journal, South Asian Law Review Journal, and the Indian Journal of Law and Legal Research. He has received international recognition for his contributions to intellectual property law, including being named a Top 25 IP Rising Star by Digital Confex. Ferdows is the founder of HuTech Rights, a pro bono legal initiative dedicated to protecting women and children from online abuse and technology-facilitated harm. Through this initiative, he works at the intersection of human rights, technology governance, and access to justice. Alongside his legal and academic work, Ferdows is an established literary writer. He is the author of a Bengali novel and a poetry collection exploring the relationship between artificial intelligence, humanity, and society. He currently serves as Associate Editor of Meghchil, a leading Bengali literary magazine. Before founding and leading Just Legal Ltd., Ferdows served as a Senior Associate at Dhaka Legal, an intellectual property law firm, and earlier practiced corporate and regulatory law at Legum Consultants Limited and MAK & Associates Inc., with experience in corporate, tax, VAT, and customs matters. He has also served as a panel lawyer and legal consultant to the Dhaka Metropolitan Police. He is a member in good standing of multiple Bar Associations in Bangladesh, including the Bangladesh Supreme Court Bar Association.

"সরালে কিছু হত?কিছু হত না।অথবা সব বদলে যেত।"এই প্রশ্নটা নিয়ে আমার লেখা গল্প— চুল।মেঘচিল সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হইছে...
19/04/2026

"সরালে কিছু হত?
কিছু হত না।
অথবা সব বদলে যেত।"

এই প্রশ্নটা নিয়ে আমার লেখা গল্প— চুল।

মেঘচিল সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হইছে আজ।

কমেন্ট বক্সে লিংক। পড়লে জানাবেন।

গতকাল একটা ছেলেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।তার অপরাধ— সে সরকারের বিরুদ্ধে লিখছে।এই সরকারের অনেক মন্ত্রী একসময় গুম হইছ...
18/04/2026

গতকাল একটা ছেলেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।
তার অপরাধ— সে সরকারের বিরুদ্ধে লিখছে।
এই সরকারের অনেক মন্ত্রী একসময় গুম হইছিল। সেই গুমের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। আমরা গুম বিরোধী আইন পেলাম। নতুন সরকার সেই আইন বাতিল করল। আইন মন্ত্রী বললেন— আরো শক্ত আইন আসবে।
সেই আইনের অপেক্ষায় আছি।
তার মধ্যে একটা ছেলেকে তুলে নেওয়া ডিবি পরিচয়ে।
অংক মেলে না।
________________________________________
সৌদি আরবে গণতন্ত্র নাই। রাশিয়ায় নাই। তারাও নাগরিক গুম করে না। অপরাধ করলে ফাঁসি দেয়। অন্তত বিচারটুকু করে।
যে রাষ্ট্রে একজন মানুষ নিজের অপরাধ স্বীকার বা অস্বীকার করার সুযোগ পায় না— সে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না।
________________________________________
বাংলাদেশ একটা অদ্ভুত জনপদ।
এখানে মানুষ দানবের সাথে লড়তে লড়তে একদিন নিজেই দানব হয়ে যায়।
________________________________________
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed BNP এবং আইনমন্ত্রী Md. Asaduzzaman— গুম ইস্যুটাকে সিরিয়াসলি ট্যাকল করুন।
আপনারা এই পথ চেনেন।
আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন— এই পথের শেষে কী থাকে।
আমাদের অনুরোধ এই রাষ্ট্রকে আর দানব হয়ে উঠতে দিয়েন না।
-------------------------
-ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

13/04/2026
আলহামদুলিল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যামেস মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পাইলাম।
10/04/2026

আলহামদুলিল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যামেস মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পাইলাম।

🔴 আমেরিকা ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। দুই পক্ষই "বিজয়" দাবি করছে। কিন্তু আসল বি...
09/04/2026

🔴 আমেরিকা ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। দুই পক্ষই "বিজয়" দাবি করছে। কিন্তু আসল বিজয় কার?________________________________________
আমেরিকা কী পেল?

পেন্টাগনের নিজের ব্রিফিং বলছে, প্রথম ৬ দিনে খরচ ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। ১২ দিনে ১৬.৫ বিলিয়ন। ৩৯ দিনে পেন্টাগনের বাজেট খরচ দাঁড়িয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি মিলিয়ে মোট ৪৩ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ১৩ জন আমেরিকান সৈন্য নিহত। ৩০০ বেশি আহত। ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসে ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের সাপ্লিমেন্টাল ফান্ডিং চাইবে।
সোজা কথা, আমেরিকা যুদ্ধে জিতেছে বলে দাবি করছে। কিন্তু ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করে কী অর্জন হইছে? গ্লোবাল সাউথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত। ন্যাটো মিত্ররা যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। এনার্জি শক নিজের অর্থনীতিতেই আঘাত করেছে।
কিন্তু বৃহত্তর কোনো স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য অর্জন হইছে? পারমাণবিক কর্মসূচি কি স্থায়ীভাবে বন্ধ হইছে? প্রক্সি নেটওয়ার্ক ভেঙেছে? রেজিম চেঞ্জ হইছে?
একটাও না।

ইরান কী পেল?

ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস। মিসাইল উৎপাদন ক্ষমতা শেষ। পারমাণবিক অবকাঠামোতে আঘাত। সুপ্রিম লিডার নিহত।
টিকে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। কিন্তু "টিকে থাকা" আটকোটি মানুষের জাতির জন্য খুব নিচু মানদণ্ড। দুই হাজারের বেশি ইরানি নিহত। সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপ। অর্থনীতি আগে থেকেই স্যাংশনে পঙ্গু, এখন পুনর্গঠনের খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই।
দুই পক্ষই হেরেছে। প্রশ্ন হলো, জিতলো কে?
________________________________________
রাশিয়া:

যুদ্ধের আগে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। ক্রেমলিন সব নন-সিকিউরিটি খাতে ১০% বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারপর বোমা পড়ল তেহরানে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলো।
ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে গেল। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিক্স (KSE) ইনস্টিটিউটের হিসাব, ২০২৬ সালে রাশিয়া অতিরিক্ত ৪৫ থেকে ১৫১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। যে মিলিটারি মেশিনকে থামাতে ন্যাটো বিলিয়ন বিলিয়ন খরচ করছে, সেটাকে আমেরিকা নিজেই ফান্ড করল।
পুরা আয়রনি।

চীন:

তেলের দাম বাড়লে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারকের ক্ষতি হওয়ার কথা। কিন্তু বেইজিং আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চীনের তেল আমদানি ১৬% বেড়েছিল। স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ ভরে রেখেছিল। রাশিয়া অতিরিক্ত দিনে ৩ লাখ ব্যারেল তেল দিচ্ছে, বাজারদরের চেয়ে কম দামে।

ফলাফল? যে এনার্জি শক জার্মানি ও ইতালিকে মন্দার দিকে ঠেলছে, সেটা আপেক্ষিকভাবে চীনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করছে। ইউরোপের ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ বাড়ছে। চীনের কারখানা সাবসিডি আর ডিসকাউন্টেড রাশিয়ান তেলে চলছে।
এর বাইরে চীন তিনটা স্ট্র্যাটেজিক লাভ পেয়েছে। এক. "শান্তির পক্ষে দায়িত্বশীল শক্তি" হিসেবে কূটনৈতিক অবস্থান। দুই. আমেরিকার সামরিক মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকায় তাইওয়ান ইস্যুতে অতিরিক্ত সময়। তিন. ইরানের সাথে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ২৫ বছরের চুক্তি আরো শক্ত হইছে।

আমেরিকায় নিক্সন থেকে শুরু করে পুরো কোল্ড ওয়ারের কৌশল ছিল মস্কো-বেইজিং জোট ঠেকানো। চল্লিশ দিনে সেই কৌশল ভেঙে গেল।
________________________________________
পাকিস্তান:

সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিজয়ী পাকিস্তানের ঝুলিতে। এইটা কেউ বলবে না। কিন্তু বলতে হবে।
অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর। রাজনৈতিকভাবে অস্থির। কূটনৈতিকভাবে ভারতের ছায়ায়। পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে "সমস্যা" হিসেবে দেখা হতো, "অংশীদার" হিসেবে না। এই যুদ্ধ সেটা পাল্টে দিল।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং আর্মি চিফ জেনারেল আসিম মুনির যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা করেছেন। ট্রাম্পের ডেডলাইনের ঘণ্টাখানেক আগে, যখন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ম্যাসিভ স্ট্রাইকের পরিকল্পনা তৈরি ছিল, পাকিস্তান সেই ফাঁক পূরণ করল।
মুনির সারারাত নেগোশিয়েশনে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, এনভয় উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির সাথে।

ফলাফল?
পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার হোস্ট এখন ইসলামাবাদ। ১০ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আসবে।

একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, যে নিজেই আইএমএফের টাকায় চলে, সে এখন মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তায় অপরিহার্য মধ্যস্থতাকারী। এই ভূমিকা আগে একচেটিয়াভাবে কাতার, ওমান আর তুরস্কের ছিল।
________________________________________
প্যাটার্নটা দেখুন।

আমেরিকা পৃথিবীর যেকোনো সামরিক টার্গেট ধ্বংস করতে পারে। চল্লিশ দিনে আবারো প্রমাণ করল। কিন্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা আর অর্জন করার সক্ষমতা এক জিনিস না।
সামরিক আধিপত্য কূটনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরিত হয় নি। ইরানকে শক অ্যান্ড অ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে নি। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা শত্রুকে সমৃদ্ধ করেছে, মিত্রকে দরিদ্র করেছে।

রাশিয়া টাকা গুনেছে। চীন অবস্থান শক্ত করেছে। পাকিস্তান নিজেকে অপরিহার্য করেছে।
________________________________________
-ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী

শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার হইছে। আর ফেসবুকে একটা শ্রেণীর মানুষ আহাউহু শুরু করছে। সুরটা আফসোসের। দাবি, শিরিন শারমিন সবচ...
08/04/2026

শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার হইছে। আর ফেসবুকে একটা শ্রেণীর মানুষ আহাউহু শুরু করছে। সুরটা আফসোসের। দাবি, শিরিন শারমিন সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী ছিল। মেট্রিকে দেশসেরা। ইন্টারে দেশসেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। সেই মেধাবী ছাত্রীর আজ "করুণ পরিণতি"।
আমি বলি, এটা করুণ পরিণতি না। এটা শুরু।
________________________________________
দেখলাম সবাই এই গ্রেফতার থেকে একটাই শিক্ষা নিচ্ছে। রাজনীতি খারাপ। ছেলেমেয়েদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখো।
কিন্তু এই শিক্ষাটাই ভুল।

শিরিন শারমিন একজন আইনজীবী ছিল। শেখ হাসিনা তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি বানায়। তারপর ধীরে ধীরে স্পিকার। গত দেড় বছরে তাকে গ্রেফতার করা হয় নাই। সবাই ধরে নিছে যেহেতু তার রাজনীতির কোনো “কলঙ্ক” নাই্ তাই তাকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্ত গ্রেফতার হওয়ার পর সবাই শকড হইল।
সোজা প্রশ্ন হইল, জেলজীবন কি একজন রাজনীতিবিদের জীবনের বাইরে কিছু?
না।

একজন রাজনীতিবিদের আসল রাজনীতি শুরু হয় জেলখানা দিয়ে। এটা আমি বলতেছি না। ইতিহাস বলতেছে।
________________________________________
পৃথিবীর সকল রাজনৈতিক নেতারা জেল থেকে বের হয়ে শক্তিশালী হইছে

নেলসন ম্যান্ডেলা:
দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বছর কারাবন্দি। রবেন আইল্যান্ডে বিছানা নেই। পাথর ভাঙার কঠোর শ্রম। জেলে ঢুকছিল সশস্ত্র বিপ্লবী, যে বোমা বানাতে জানতো। বের হইলো এমন একজন মানুষ হয়ে, যে নিজের কারারক্ষীদের ক্ষমা করে দিছে। জেলে বসে শত্রুর ভাষা শিখছে। আইনের ডিগ্রি নিছে। আত্মজীবনী লিখছে। তারপর? গৃহযুদ্ধ ঠেকাইছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হইছে। নোবেল পাইছে।
ম্যান্ডেলা নিজে বলছেন, জেলখানা হলো নিজেকে চেনার আদর্শ জায়গা। বাইরে মানুষ বাহ্যিক অর্জন দিয়ে নিজেকে মাপে। জেল ভেতরটা দেখতে বাধ্য করে।

জওহরলাল নেহরু:
ব্রিটিশ ভারত। ৯ বার জেল। ৩,২৫৯ দিন কারাবাস। কী করছে জেলে? আহমদনগর ফোর্টে বসে লিখছে "দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া", পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস। জেলখানা তাকে লেখক বানাইছে। চিন্তক বানাইছে। স্টেটসম্যান বানাইছে। ১৯৪৭-এ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। জেল না খাটলে নেহরু হয়তো একজন ব্যারিস্টার হয়ে থাকতো। ইতিহাস তাকে মনে রাখতো না।

আনোয়ার ইব্রাহিম:
মালয়েশিয়া। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ছিল। একদিন সরাসরি জেলে। দুইবার কারাবাস। প্রায় এক দশক। আদালতে কালো চোখ নিয়ে হাজির হওয়ার ছবিটা সারা পৃথিবীতে ছড়ায়ে গেল। সেটাই হয়ে গেল রিফর্মাসি আন্দোলনের প্রতীক। জেল সেলে বসে নিজেরই রাজনৈতিক শত্রুকে ক্ষমা করছে। জোট গড়ছে। তারপর? ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। জেল সেল থেকে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার।

ভাৎস্লাভ হাভেল:
চেকোস্লোভাকিয়া। নাট্যকার। ব্ল্যাকলিস্টেড। একাধিকবার জেলে। তারপর ভেলভেট রেভোলিউশনে প্রেসিডেন্ট। অং সান সু চি। মিয়ানমার। ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছর গৃহবন্দি। তারপর নির্বাচনে বিপুল বিজয়।

প্যাটার্ন একটাই। জেলখানা রাজনীতিবিদকে ধ্বংস করে না। পরিশোধিত করে। রোদে পোড়া মাটির মতো পোড়ায়ে পোড়ায়ে খাঁটি বানায়।
________________________________________
বাংলাদেশে এই প্যাটার্ন নতুন কিছু না

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। জেল খাটছে। বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী।
শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। জেল খাটছে। বের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জেল খাটছে। বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী।
এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman কেও এই পরীক্ষার মুখোমুখি হইতে হইছে।

জুলাই আন্দোলনের Akhter Hossen এর কথা ধরুন। এনসিপি'র। ছাত্রজীবন থেকে জেলে যাওয়া শুরু করছে। একটু একটু করে পুড়ে পুড়ে খাঁটি হইছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই আন্দোলন নাও হইলে আখতার রাজনীতিবিদ হইতো। অন্যভাবে। অন্য কোনো প্লাটফর্মে। কারণ জেলখানা তাকে আগেই তৈরি করে রাখছিল।

তাইলে কারা আফসোস করতেছে?

এই শ্রেণীটাকে চেনা দরকার।
এরা মধ্যবিত্ত। যারা কখনো রাজনীতি করে না। কেউ কেউ ভার্সিটি জীবনে রাজনীতি করে, কিন্তু সেটা একটা ভালো সরকারি চাকরি নিশ্চিত করার জন্য। রাজনীতির জন্য না।
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ উঠে আসে নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকে। মাঝখানের মধ্যবিত্ত রাজনীতিকে ঘৃণা করে। ছেলেমেয়েদের "সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র" বানায়। রাজনীতি থেকে দূরে রাখে।

মজার ব্যাপার হইলো, এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীই রাজনীতির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। সব সময় সেফজোনে থাকে। সুযোগের অপেক্ষায়। রাজনীতিবিদ জেলে যায়, মধ্যবিত্ত আফসোস করে। রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় আসে, মধ্যবিত্ত সুবিধা নেয়। ঝুঁকি নেয় না কখনো। আফসোস করে সব সময়।
________________________________________
শিরিন শারমিন চৌধুরীর রাজনীতি মাত্র শুরু হইলো।

যদি সে এই জেলজীবন সারভাইভ করতে পারে, খাঁটি রাজনীতিবিদ হয়ে ফিরবে। যদি ভয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেয়, বুঝতে হবে শিরিন শারমিন চৌধুরী কোনোদিনও রাজনীতিবিদ ছিল না। মধ্যবিত্ত রাজনীতির সুবিধাভোগী ছিল।

ধর্মীয় নেতাদের জন্য মসজিদ আর মন্দির যেমন ধ্যানঘর, জেলখানা রাজনীতিবিদের ধ্যানঘর।
________________________________________
-ফেরদৌস হোসেন
#জেলখানা_ধ্যানঘর #রাজনীতি #শিরিনশারমিন

ভয় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শাসনের হাতিয়ার। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এটাকে বৈধ কৌশল মনে করে। কিন্তু AI যুগে এই কৌশল আর কাজ করছে না।...
07/04/2026

ভয় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শাসনের হাতিয়ার। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এটাকে বৈধ কৌশল মনে করে। কিন্তু AI যুগে এই কৌশল আর কাজ করছে না। এই সময়ে প্রতিটা গ্রেফতারের খবর এক সেকেন্ডে দশ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়। মানুষ দেখছে না প্রধানমন্ত্রীকে কী বলা হইছে। মানুষ দেখছে একটা বোরকা পরা মেয়েকে আটক করা হইছে। এই দৃশ্যটা ধর্মীয় রং নেয়। রাজনৈতিক রং নেয়। নিজে থেকেই ছড়ায়।
-------------------------------------------------
আওয়ামী আমলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তির দায়ে অনেককে জেল জরিমানা করা হইছিল। তাতে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা বাড়েও নাই কমেও নাই। বরং বিরোধীরা এটাকে হাতিয়ার বানাইছে। জনগণকে দেখাইছে — দেখো, এই শাসন কথা বলতে দেয় না। সেই রোষ ধীরে ধীরে জমছিল। ২০২৪-এ বার্স্ট হইছে। পৃথিবীর শাসনের ইতিহাসে শত শত এই প্রমাণ আছে। ভয় হাতিয়ার হিসেবে একসময় কাজ করত। এখন উল্টো কাজ করে।
------------------------------------------------
যারা টিকে আছে তারা ভিন্ন পথ নিয়েছে।
যেমন ধরুন আপনি কী বলবেন, কী পছন্দ করবেন, কী দেখবেন, সব ঠিক করে দিচ্ছে ফেসবুকের এ্যলগরিদম। আবার আপনি কোন এ্যঙ্গেলে চিন্তা করবেন, কিভাবে চিন্তা করবেন, সেটাও ঠিক করে দিচ্ছে ChatGPT। আপনি বন্দী না, আপনার চিন্তা বন্দী।
চীন কাউকে গ্রেফতার করে না। TikTok-এ কী দেখবে সেটা ঠিক করে দেয়। সিঙ্গাপুর বিরোধীদের জেলে দেয় না। মিডিয়া কিনে নেয়। রাশিয়া সমালোচককে বন্দী করে না। তাকে অপ্রাসঙ্গিক বানিয়ে দেয়।
-----------------------------------------------
শরীরকে খাঁচায় রাখলে মানুষ দেখে।
চিন্তাকে খাঁচায় রাখলে মানুষ টের পায় না।
AI যুগে সমালোচককে নয় — সমালোচকের চিন্তাকে বন্দী করাই আসল কৌশল। কে কতদিন টিকবে সেটা নির্ভর করবে এই কৌশল কে কত দ্রুত বোঝে তার উপর।
---------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
#ভয়_পুরনো_হাতিয়ার #চিন্তার_স্বাধীনতা #ডিজিটাল_শাসন #কথা_বলার_অধিকার #ফেরদৌসহোসেন

একটা আস্ত নদী জমে বরফ হয়ে গেছে। পুরাটা নদী। থেমে গেছে।কিন্তু পাড়ে পড়ে থাকা একটা অর্ধেক বোতলে পানি। একটু একটু করে দোলে...
05/04/2026

একটা আস্ত নদী জমে বরফ হয়ে গেছে। পুরাটা নদী। থেমে গেছে।
কিন্তু পাড়ে পড়ে থাকা একটা অর্ধেক বোতলে পানি। একটু একটু করে দোলে।
ব্রিজের উপর দাঁড়ায়ে নিচে তাকাইছিলাম। বেলাল ভাই পেছনে দাঁড়ায়ে ছবি তোলে। আমি তাকায়ে থাকি। নদীর দিকে।

Md Belal Hossen Shohag ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। আইনের। শিল্প মন্ত্রণালয়ে ট্রেডমার্কস-ডিরেক্টর। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে আসছিল। বস্টনে।
আমরা হাঁটি। হার্ভার্ড ল' স্কুল। এমআইটি। ম্যাসাচুসেটস পার্লামেন্ট। সুপ্রিম কোর্ট। বেলাল ভাই প্রতিটা জায়গায় থামে। দেখে। মাথা নাড়ে। কিন্তু কিছু বলে না।

তখন রোজার শেষের দিক। বস্টন বরফে ঢাকা। ঠান্ডা বাতাস। আমরা চার্লস রিভারের পাড় ধরে হাঁটি। দুই পাশে পৃথিবীর সেরা দুইটা বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়ায়ে আছে। হার্ভার্ড আর এমআইটি। মাঝখানে নদী। বরফ।

ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস নিজের নামে এই নদীর নাম রাখে। এই নদীর উপকূলেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়। এই পাড়ে মানুষ স্বাধীন হইছে। এই পাড়ে মানুষ পৃথিবী বদলাইছে।

আমরা এমআইটি ক্যাম্পাসে হাঁটতে থাকি। বেলাল ভাইকে বলি— থেকে যান।
ওঁ তাকায়।
বলি— আমেরিকায় থেকে যান। আমার দেখা অনেক সরকারি কর্মকর্তা আমেরিকায় ঘুরতে এসে আর ফেরে নাই। থেকে গেছে। ত্রিশ বছর। এখানে।
বেলাল ভাই হাসে। ধীরে। তারপর কয়— সবাই আমেরিকা থেকে গেলে বাংলাদেশের কী হবে?
আমরা হাঁটি। চার্লস নদীর পাড় ধরে। বাংলাদেশের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি। এআই আর টেকনোলজি নিয়ে কথা বলি। বাংলাদেশকে কীভাবে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরা যায়— সেইসব কথা হয়।

সন্ধ্যা নামে। আমরা Tamjid Tamjid ভাইয়ের দাওয়াতে যাই। ইফতার করি। আমাদের টেবিলে আরো অনেক বাংলাদেশী আমেরিকান। কথা হয় রাজনীতি নিয়ে। চাংখারপুলের নীরব হোটেলের ভর্তা-ভাজি নিয়ে।
টেবিলের উপর একটা পানির বোতল। অর্ধেক। কেউ রেখে গেছে। পানি একটু একটু দোলে।
আমার চার্লস রিভারের কথা মনে পড়ে। আস্ত একটা নদীর জমে বরফ হয়ে যাওয়ার কথা।
ভাবি, যারা থেকে গেছে তারা কি বরফ হয়ে গেছে? নদীর মতো? নাকি ফেলে যাওয়া বোতলের মতো— ভুলে যাওয়া, কিন্তু ভেতরে এখনো দোলে?
--------------------
-ফেরদৌস হোসেন
বস্টন, যুক্তরাষ্ট্র।

তখন রাত। আল-বাক্বী কবরস্থান। আল্লার রাসুল চুপি চুপি ঘর থেকে বেরোলেন। হযরত আয়শা কালো চাদর টেনে পিছু নিলেন। রাসুল হাঁটলেন...
03/04/2026

তখন রাত। আল-বাক্বী কবরস্থান। আল্লার রাসুল চুপি চুপি ঘর থেকে বেরোলেন। হযরত আয়শা কালো চাদর টেনে পিছু নিলেন। রাসুল হাঁটলেন। আয়শাও হাঁটলেন। রাসুল দ্রুত হাঁটলেন। আয়শাও দ্রুত হাঁটলেন। রাসুল দৌড়ালেন। আয়শাও দৌড়ালেন। আয়শা আগে পৌঁছালেন। সেই রাতে আয়শার বয়স কত ছিল — সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু একটা জিনিস নিয়ে বিতর্ক নেই। সেই দৌড়টা ছিল মুক্তির দৌড়।
(সুনানে নাসাঈ, হাদিস ৩৯৬৪)
________________________________________
আমার চেম্বারে একদিন একটা মেয়ে এলো। সাথে একটা ছেলে। মেয়েটার বয়স ১৫।
— কোর্ট ম্যারেজ করব।
আমি বললাম— তোমার বয়স হয়নি। বিয়ে হবে না।
মেয়েটা কাঁদল। শুধু কাঁদল না — ভেঙে পড়ল। ওর কাছে ঐ মুহূর্তটা ছিল একজীবনের সিদ্ধান্ত। আমার কাছে এটা আইনের ধারা।
আমি আইন রক্ষা করলাম। মেয়েটার স্বপ্ন ভাঙল।
কে জিতল?
________________________________________
আরেকদিন এলেন একজন বাবা। মেয়ের বয়স ১৩। জামাই যৌতুক চাইছে। মারধর করছে। মামলা করতে এসেছেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম— এত আগে বিয়ে দিলেন কেন?
বাবা থামলেন। তারপর বললেন— বাজান, মাইয়া যুবতী ঘরে রাখনের মত উপায় নাই। পাড়ার পোলাইনে ডিস্টার্ব করে। তাছাড়া পেটের খাওন তো যোগানো লাগে।
আমি চুপ হয়ে গেলাম।
এই বাবা মেয়েকে ভালোবাসেন না — এটা মনে হয়নি। বরং মনে হলো এই বাবা একটা অসম্ভব যুদ্ধ লড়ছেন। একদিকে মেয়ের নিরাপত্তা। আরেকদিকে পেটের ভাত। মাঝখানে কোনো রাষ্ট্র নেই। কোনো সুরক্ষা নেই।
বিয়েটা ছিল তার একমাত্র সমাধান। সেই সমাধান এখন মামলা হয়ে ফিরে এসেছে।
এই দৌড়ের নাম দারিদ্র্য।
________________________________________
লুবাবা বাল্যবিবাহকে আবার হট টপিক করে দিল। বাল্যবিবাহের বিপক্ষে আমার আইন বিভাগের ছোটবোন Mansura Alam কথা বলল। কিছু মানুষ তার পুরনো ছবি সামনে এনে বুলিং করল। অদ্ভুত — যে বুলিং করল, সেও একজন নারী।

আরেক ছোটবোন Saifa Tazrin RaTi বাল্যবিবাহের বিপক্ষে কথা বলায় দুই হাজার ফলোয়ার হারাল। বাল্যবিবাহের পক্ষে কথা বলে অনেকে ফলোয়ার গেইন করল।
এই দেশে ইস্যুর চেয়ে ইস্যু নিয়ে পারফরম্যান্সটা বেশি।
________________________________________
জামায়াতের বুদ্ধিজীবী Mohammad Ishrak একটা argument দিলেন। আমেরিকার ৪৮টা রাজ্যে বাল্যবিবাহ বৈধ — তাহলে বাংলাদেশে কেন নয়?

তথ্যটা আংশিক সত্য। আংশিক সত্যই সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যা।
বর্তমানে আমেরিকার ৩৪টা রাজ্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৮-র নিচে বিয়ে সম্ভব। ১৬টা রাজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। যেখানে এখনও সম্ভব — সেখানে এটাকে human rights violation বলছে আমেরিকার নিজের সংস্থাগুলো। Congress-এ Child Marriage Prevention Act আনা হয়েছে এটা বন্ধ করতে।

আমেরিকার ব্যর্থতা দিয়ে বাংলাদেশের যুক্তি তৈরি হয় না। একটা দেশের দুর্বলতা অন্য দেশের মানদণ্ড হতে পারে না।
________________________________________
বাংলাদেশের আইন ক্লিয়ার। ১৯২৯ সালে ব্রিটিশরা প্রথম বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন করে। ২০১৭ সালে নতুন আইন হয়। দুটো আইনেই বাল্যবিবাহকে ক্রিমিনালাইজ করা হইছে। কিন্তু বিবাহকে অবৈধ করা হয়নি। মানে — শাস্তি হবে পাত্র-পাত্রী, পিতামাতা, কাজী সবার। কিন্তু বিয়ে বৈধ থেকে যাবে। ২০১৭ সালের ধারা ১৯-এ আরো বলা হইল — আদালতের অনুমতি নিয়ে পিতামাতার সম্মতিতে বাল্যবিবাহ দেওয়া যাইবে।

প্রায় একশ বছর। শাস্তি আছে। বিয়ে বৈধ থাকে। কেন?
কারণ রাষ্ট্র জানে — ওই বাবার প্রশ্নের উত্তর আইনে নেই।
________________________________________
যারা বাল্যবিবাহ সমর্থন করছেন তারা আমেরিকার উদাহরণ দিচ্ছেন। ইসলামের উদাহরণ দিচ্ছেন। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।

বাল্যবিবাহ বাড়লে মাতৃমৃত্যু বাড়ে। শিক্ষা কমে। জনসংখ্যা বাড়ে। অল্প বয়সে সংসার ভাঙে। ব্রোকেন পরিবারে শিশু বড় হয়। এই ডিজ্যাস্টার মোকাবেলার অর্থনৈতিক প্রস্তুতি বাংলাদেশে আছে? বাল্যবিবাহ লিগালাইজ হলে এই সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা হবে — সেই লংটার্ম প্ল্যান কোথায়?

যারা বিরোধিতা করছেন তারাও একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।
মফস্বলের সেই ১২ বছরের মেয়ে এটাকে সমস্যাই মনে করে না কেন? ওই বাবার কাছে মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া মুক্তির পথ কেন? কেন একটা মেয়ে বাল্যবিবাহকে শিকল মনে করে না — বরং গলার মালা মনে করে? এই মানসিক আর অর্থনৈতিক বাস্তবতার লংটার্ম কোনো প্রস্তাব আছে?

ইসলামের দুটো হাদিস আর বেগম রোকেয়ার দুটো উক্তি দিয়ে ফেসবুকে বিপ্লব করা যায়। বাস্তব সমস্যার সমাধান হয় না।
-------------------------------
-ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী
#বাল্যবিবাহ #আইন #বাংলাদেশ

গত সপ্তাহে একজন ঔপন্যাসিক বই প্রমোট করতে একটা গান আপলোড করল। একজন ফলোয়ার জিজ্ঞেস করল— ভাইয়া, গানটা মনে ধরেছে। কথা কে ল...
02/04/2026

গত সপ্তাহে একজন ঔপন্যাসিক বই প্রমোট করতে একটা গান আপলোড করল। একজন ফলোয়ার জিজ্ঞেস করল— ভাইয়া, গানটা মনে ধরেছে। কথা কে লিখেছে? কণ্ঠ কার? লেখক চুপ।
আমি লেখককে মেসেঞ্জারে নক দিলাম। বললাম— আপনার এই গানের পুরোটা এআই জেনারেটেড। ক্রেডিট দেন। এআই ইউজ করা দোষের না। লুকানোটা দোষের। তারপর ঐ লেখক আমারে ব্লক মারল। তার ফলোয়ারের কমেন্ট ডিলিট করছে কি না, জানা হয় নাই।
এইটা এখন সব জায়গায় হইতেছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ জানেই না— এআই দিয়ে বানানো জিনিসের মালিকানা কার?
________________________________________
বিশ্বে কী হইতেছে?

আমেরিকা:
কপিরাইট অফিস বলছে— এআই আউটপুট কপিরাইটযোগ্য, যদি মানুষ এক্সপ্রেসিভ এলিমেন্ট নির্ধারণ করে। শুধু প্রম্পট যথেষ্ট না। এডিটিং, সিলেকশন, মডিফিকেশন— এইখানে মালিকানা শুরু।
মার্চ ২০২৬-এ আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট থ্যালারের কেস খারিজ করে দিছে। মানুষ লেখক না হলে কপিরাইট নাই। কিন্তু মানুষ + এআই টুল = কপিরাইটযোগ্য।
মানে হইলো, আপনি যদি আপনার ক্রিয়েটিভ চিন্তা এবং প্রসেস যোগ করে প্রম্পট তৈরি করেন এবং সেই প্রম্পট পেয়ে যদি এআই কিছু বানায়, সেটার মালিক আপনি। অন্য কেউ সেটা কপি বা মালিকানা দাবি করতে পারবে না।

চীন:
২০২৩ সালে বেইজিং ইন্টারনেট কোর্ট রায় দিছে— যে প্রম্পট সিলেক্ট করে, প্যারামিটার অ্যাডজাস্ট করে তিনিই মালিক। আদালত এআইকে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দেখছে।
জার্মানি:
মিউনিখ আদালত GEMA বনাম OpenAI মামলায় বলছে— এলএলএম কপিরাইটেড টেক্সট মেমোরাইজ করতে পারে, এবং সেটা রিপ্রোডাকশন।

যুক্তরাজ্য:
সরকার বলছে— সম্পূর্ণ কম্পিউটার-জেনারেটেড কাজের সুরক্ষা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু মানুষের সহায়তায় এআই দিয়ে তৈরি কাজ সুরক্ষিত।
________________________________________
ভারত:

কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-র ধারা ২(ডি)(ভিআই) বলে— কম্পিউটার-জেনারেটেড কাজের লেখক সেই ব্যক্তি "যিনি কর্মটি সৃষ্টির কারণ ঘটান।" এই ভাষা ১৯৯৪ সাল থেকে আইনে আছে। যে মানুষ এআইকে ডিরেক্ট করে, আউটপুট সিলেক্ট করে, রিফাইন করে— তিনিই "সৃষ্টির কারণ ঘটাচ্ছেন।" ২০২৫-এ ভারত সরকার বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে এবং DPIIT জেনারেটিভ এআই ও কপিরাইট নিয়ে ওয়ার্কিং পেপার প্রকাশ করেছে। বিধান আছে। ইচ্ছা থাকলে পথও আছে।
মানে, ভারতেও সেম নিয়ম— আপনি আইডিয়া দিন, এআই জেনারেট করুক, আপনি এডিট করুন, রিফাইন করুন, শিল্পস্বত্ব যোগ করুন, এবং আইনের আওতায় মালিকানা দাবি করুন। ব্যাস।

বাংলাদেশ:
কপিরাইট আইন, ২০২৩-এ এআই শব্দটা নাই। কিন্তু আইন "তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল কর্ম" কে কপিরাইটের আওতায় এনেছে এবং লেখকের সংজ্ঞায় মানুষের মৌলিক সৃজনশীল অবদান আবশ্যক করেছে। অ-মানব সত্তা লেখক হতে পারবে না।
মানে— এআই টুল লেখক না। যে মানুষ ডিরেক্ট করে, সিলেক্ট করে, শেপ দেয়— তিনি লেখক। বাংলাদেশের আদালতে এই প্রশ্ন এখনো আসে নাই। আসবে। ক্যাচাল লাগবে খুব শীঘ্রই।
________________________________________
এআই জেনারেটেড শিল্পকর্মের মালিকানা কীভাবে দাবি করবেন?
এক.
সৃজনশীল প্রক্রিয়া ডকুমেন্ট করুন। প্রম্পট রাখুন। রিজেক্টেড আউটপুট সেভ করুন। কারণ, যখন আপনি কপিরাইট অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমা দেবেন অথবা মালিকানা নিয়ে ঝামেলা তৈরি হবে তখন আদালতে জমা দিলে আপনার মালিকানা নিরাপদ।
দুই.
এডিট করুন, সিলেক্ট করুন, অ্যারেঞ্জ করুন— দৃশ্যমানভাবে। জেনারেশনের পরে প্রতিটা সৃজনশীল সিদ্ধান্ত আপনার দাবি শক্তিশালী করে।
তিন.
রেজিস্ট্রেশন করুন। বাংলাদেশে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন আদালতে প্রাইমা ফেসি প্রমাণ। এখনই করুন। কেউ কপি করার পর না।
________________________________________
ওয়াশিংটন, বেইজিং, ব্রাসেলস, লন্ডন, দিল্লি, ঢাকা— সব জায়গা থেকে একটাই নীতি আসতেছে: মানুষের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণই মালিকানার চাবি।

যারা এখন ডকুমেন্ট করবে, শেপ দেবে, রেজিস্টার করবে— তারা মালিক থাকবে। যারা করবে না— তারা একদিন জানবে অন্য কেউ মালিক হয়ে গেছে।
সুতরাং এআই ইউজ করুন। কিন্তু সততার সাথে করুন। স্বীকার করুন, বলুন, আপনি কতটুকু কোথায় ইউজ করেছেন। এটা আপনার কপিরাইট স্বত্ব নিশ্চিত করবে।

👉 যারা পুরা রিসার্চ পড়তে চান কমেন্টে লিংকডইন লিংক দেওয়া আছে।
বি.দ্র: এই লেখাটা শেয়ার করুন। কারণ আমাদের অনেক বেশি এআই সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
-------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
িরাইট #মেধাসত্ত্ব #আইনকীবলে

২০০৯ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে উঠি তখন আওয়ামী লীগ মাত্র ক্ষমতায় আসে। যে আওয়ামী লীগ ওয়ান ইলেভেনে জীবন দিছ...
01/04/2026

২০০৯ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে উঠি তখন আওয়ামী লীগ মাত্র ক্ষমতায় আসে। যে আওয়ামী লীগ ওয়ান ইলেভেনে জীবন দিছে। বা তারও আগে। আরো আরো আগে। তাদেরকে আর তাদের পরিবারের মানুষদের ধীরে ধীরে দূরে সরায়ে দেওয়া হইল, ছাত্রদল আর ছাত্র শিবিরের ট্যাগ দিয়ে। তারপর ষোল বছর।

৫ই অগাস্টের পর সেই দূরে সরে যাওয়া ছাত্রলীগ কোনো এক সন্ধ্যায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়ায়। রাজুর সামনে। মুখে জয় বাংলা স্লোগান। তারপর চৈত্র মাসে হারায়ে যায়। ডাল্টন সৌভাত হীরার কবিতার মত। অন্য কোনো একদিন ফিরে আসার জন্য। শামসুন্নাহার হলের সামনে। জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে।

সেই ষোল বছরের সুবিধাভোগী ছাত্রলীগ এখন একটু একটু করে ছাত্রদল আর ছাত্র শিবির হয়ে যাচ্ছে। একদিন এরাই আসল ছাত্রদল আর শিবিরকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে দূরে সরায়ে দিবে।

তারপর বহু বছর পর, এই দূরে সরে থাকা ছাত্রদল আর ছাত্র শিবির কাকরাইল মোড়ে ইটের খোয়া নিয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়াবে। গুলি খাবে। হাঁটুতে বুলেট চেপে খোঁড়াতে খোঁড়াতে কাকরাইল মসজিদের পিছে লুকাবে।

এইটাই বাঙালীর স্যাম্পল ডিএনএ। আমাদের কালেক্টিভ আইডেন্টিটি। আমাদের ওভারঅল রাজনীতি।
---------------------
-ফেরদৌস হোসেন

গতকাল রাতে একটা ট্রাশ ক্যানের পাশে বসে কাঁদলাম।না, কাঁদি নাই। কিন্তু কাঁদার জায়গায় পৌঁছে গেছিলাম।লাইব্রেরি থেকে ফেরার ...
31/03/2026

গতকাল রাতে একটা ট্রাশ ক্যানের পাশে বসে কাঁদলাম।
না, কাঁদি নাই। কিন্তু কাঁদার জায়গায় পৌঁছে গেছিলাম।

লাইব্রেরি থেকে ফেরার পথে চার্চের পেছনে বসলাম। বস্টনের ঠান্ডা বাতাস। পাশে একটা ট্রাশ ক্যান। খালি। ট্রাক এইমাত্র সব নিয়ে গেছে।
আমি তাকায়ে থাকি।
ট্রাশ ক্যানের দুঃখটা কেউ দেখে না। সারাদিন মানুষ সব ময়লা ওর বুকে রেখে যায়।
কেউ জিগায় না— নিবি? শুধু ছুড়ে ফেলে যায়।
রাতে ট্রাক আসে। সব নিয়ে যায়। ওর বুকটা খালি হয়ে যায়। সারারাত একা থাকে। ফুটপাথে। অন্ধকারে। অপেক্ষা করে কেউ তাকে আবার কিছু দিবে।
কেউ দেয় না। সকাল পর্যন্ত।
ঘরে ফিরি। ল্যাপটপ খুলি। AI-কে জিগাই— তুমি কি ট্রাশ ক্যানের এই বুক খালি হয়ে যাওয়ার বেদনা বোঝো?
কয়— আমি ট্রাশ ক্যান নিয়ে বিশাল এক রচনা লিখতে পারি। কীভাবে ট্রাশ ক্যান তৈরি হয় সেটাও বলতে পারি।
তারপর কয়— কিন্তু আমি মেশিন। আমার কোনো ইমোশন নাই।

আমি স্ক্রিনের দিকে তাকায়ে থাকি। সোডিয়াম লাইটের আলো জানালায় পড়ে আছে।
ভাবি— মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে মেশিনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতেছে। স্বেচ্ছায়। কেউ প্রতিরোধ করতেছে না। কারণ মেশিন জীবন সহজ করে দেয়। আগুন আবিষ্কারের পর কেউ বলে নাই— না, আমি কাঁচা মাংস খাবো।

আমি ভাবি AI ট্রাশ ক্যান বানাতে পারে। ইতিহাস লিখতে পারে। ডিজাইন করতে পারে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে একটা খালি ট্রাশ ক্যানের পাশে বসে ওর বুক খালি হয়ে যাওয়ার ক্ষত বুঝতে পারে না।
একদিন আমিও মেশিন হবো। আমরা সবাই একদিন মেশিন হবো। সেদিন মেশিনেরও একটা দুঃখ থাকবে। কিন্তু সে জানবে না সেটা দুঃখ।
মানুষ জানে।
মানুষ ক্ষত বয়ে বেড়ায়। নিজের। অন্যের। এমনকি একটা ট্রাশ ক্যানের।
মেশিন সব জানে। সব বোঝে। সব বলতে পারে।
শুধু ———

-ফেরদৌস হোসেন
বস্টন, যুক্তরাষ্ট্র, ৩১ মার্চ ২০২৬

Address

54, New Eskaton Road
Dhaka
1000

Telephone

+8801977944725

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?:

Share