ঢাকার বাড়ী

ঢাকার বাড়ী Provide property solution all over Dhaka. Feel free for contact property consultancy .

30/07/2026

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগ-দখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী
স্টার অনলাইন রিপোর্ট (৩০ জুলাই ২৬)
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশই মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে।

বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

08/07/2026
01/07/2026

ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো কোথায় যাবে? জায়গা খুঁজতে মাঠে প্রতিনিধি দল
এই পরিদর্শন কার্যক্রমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2026, 11:52 PM



যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে রাজধানীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য জায়গা খুঁজতে মাঠে নেমেছে সরকারের প্রতিনিধি দল।

বুধবার বিকালে পূর্বাচল ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন চুনকুটিয়া, জেলখানার বিপরীতে বাঘাইর-তেঘরিয়া আন্ডারপাস এলাকা, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া)-কাঁচপুর এবং ফুলবাড়িয়া এলাকা ঘুরে দেখে দলটি।

এই পরিদর্শন কার্যক্রমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা হবে; এরপর ধাপে ধাপে স্থানান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিদর্শন দলে ছিলেন পাবনা-৫ আসনের এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান এবং ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা শামীমা পারভিন, ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে সভা হয়। সেখানে ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

01/07/2026

ডিএমপির নতুন বিভাগ হচ্ছে পূর্বাচল, বসছে চার থানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মেগা প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূর্বাচলকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের অধীনে এর সামগ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে পূর্বাচল এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

আইজিপি জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ডিএমপির চারটি নতুন থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইন স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ গতিশীল করতে তিনটি উপ-কমিশনারের (ডিসি) অফিস স্থাপনের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পূর্বাচলের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, এই নতুন ও স্বতন্ত্র বিভাগের জন্য পুলিশের প্রায় ছয় হাজার ৫২৪ জন নতুন জনবল সৃষ্টির একটি প্রস্তাবনা সরকারের বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

26/06/2026

সাউথ টাউন, কেরানীগঞ্জ।

25/06/2026

যে পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াবে আবাসন খাত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬ ০৭:৩২

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ফেরাতে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং চড়া নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে বর্তমানে এ খাতে মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করছে।

আবাসন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে আবাসন খাতের সঙ্গে দেশের ২৬৯টির বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প সরাসরি জড়িত। ফলে এ খাতের মন্দা পুরো দেশের শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতিতে আবাসন খাতের ইতিবাচক অবদান নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিশেষ কিছু নীতিগত ও আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আবাসন খাতকে কেবল রাজস্ব আদায়ের যন্ত্র না বানিয়ে একে ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলেও মত দেন তাঁরা।

নগর বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলোর মতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে চড়া নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ব্যয়। বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচার ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি ও ভ্যাট মিলিয়ে ক্রেতাদের বিপুল অঙ্কের টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। এ উচ্চ নিবন্ধন ফি সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে একটি যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে আনা হলে বাজারে ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়বে।

এতে সাময়িকভাবে করের হার কমলেও বেচাকেনা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বা জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট চুক্তির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত মূলধনি কর পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। জমির মালিক ও ডেভেলপারদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর ফলে নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ থমকে গেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহ করছে, যার প্রভাব পড়ছে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর বাজারে।
আবাসন খাত চাঙা করার আরেকটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো সহজ শর্তে ও সাশ্রয়ী মূল্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করা।

মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের গৃহায়নের স্বপ্ন পূরণ করতে একক ডিজিট বা সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ চালু করা আবশ্যক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি বিশেষ ‘পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’ বা রি-ফাইন্যান্সিং ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। এ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কম সুদে ঋণ দিলে মধ্যবিত্তরা ফ্ল্যাট কিনতে উৎসাহিত হবে। আবাসন ঋণের কিস্তি সাধারণ মানুষের মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বাজারে তারল্যসংকট কাটবে এবং আবাসন খাত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। একই সঙ্গে লাগামহীন নির্মাণসামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সিন্ডিকেট দমনের পাশাপাশি রড ও সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় দিলে উৎপাদন ব্যয় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। কাঁচামালের দাম কমলে ফ্ল্যাটের দামও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে। সেই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের টাকা আবাসন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ বন্ডসুবিধা বা করছাড় দিলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। আবাসন খাতকে কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস না ভেবে একে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, ‘আবাসন খাত অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সরকার কিছু ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আবাসন খাত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে এবং অর্থনীতির বিরাট ভূমিকা রাখতে এখন সরকারের উচিত রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো। সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রেজিস্ট্রেশন ফি ৪-৫ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ। এ দেশে ৫-৭ শতাংশ নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সিঙ্গেল ডিজিটে লোনের ব্যবস্থা করা এবং দুই বছর মেয়াদি লোন দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেভেলপাররা ১৫% সাইনিং মানি দিয়ে কাজ শুরু করে। সরকার আবার ফ্ল্যাটের দামের ওপর ১৫% কর বসিয়েছে। যেটার প্রভাব আল্টিমেটলি গ্রাহকের ওপর পড়বে। এ ছাড়া লিংকেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ইতোমধ্যে ৩১ শতাংশ বেড়েছে। বাজেটের কারণে ৪১ শতাংশ দাম বাড়বে। সুতরাং একজন ডেভেলপারের খরচ ৪৬ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে অর্ধকোটি মানুষ আবাসনের সঙ্গে জড়িত। জিডিপিতে ১৬% ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের কর এবং বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স কমে যাবে; যার প্রভাব পড়বে সরকারের ওপর। পাশাপাশি অর্থনীতির ওপর।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) মহাসচিব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘আবাসন খাতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ আবাসন খাত জিডিপিতে প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে ৫০ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে এবং দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জড়িত। এ খাতে ৪ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। একই সঙ্গে ১২ হাজার শিল্পকারখানার এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বলা যায়, এ সেক্টর অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি বিরাট ধাক্কা খাবে। এজন্য আবাসন খাতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে ফ্ল্যাটের ওপর ১৫% কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম অনেক বেড়ে যাবে। এতে ফ্ল্যাট মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না। সরকারের কর সহনশীল পর্যায়ে না এলে এ খাতের বিনিয়োগ অন্য দেশে চলে যাবে। সরকারের ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিনিয়োগ ও বৈদাশিক রেমিট্যান্স কমে যাবে। সরকার যদি আবাসন খাত ঠিক না করে তাহলে অর্থনীতির জন্য এটা সুইসাইডাল কেস হবে।’

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘আবাসন মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। কিন্তু সরকার আবাসন খাত নিয়ে কোনো পলিসি নির্ধারণ করেনি। সরকার নিজেও নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আবাসন করছে না। আবার প্রাইভেট সেক্টরে যারা আবাসন করছে তাদেরও ট্যাক্সসহ বিভিন্ন আইনের মধ্যে আটকে দিচ্ছে। সরকারের উচিত আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সব পণ্যের ওপর কর কমানো; যাতে সব মানুষই আবাসনের আওতায় আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এবার নতুন করে রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে। এটা আবাসন খাতকে বিপর্যস্ত করবে। এটা সরকারের প্রয়োজন ছিল না। সরকারের উচিত ছিল নতুন কর না বসিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো। তাহলে আবাসন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসত। কিন্তু সরকার তা না করে উল্টো বাধা তৈরি করছে। সুতরাং সরকারের উচিত আবাসন খাতে মনোযোগ দেওয়া।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আবাসন খাতের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু কাঁচামাল বা র-মেটেরিয়ালসের ওপর উচ্চ কর, মাত্রাতিরিক্ত নিবন্ধন ফি ও গেইন ট্যাক্সের কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এবারের বাজেটেও আবাসন খাতের জন্য তেমন কোনো ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত দেখা যায়নি। এ খাত পুনরুজ্জীবিত করতে হলে মূলত তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। এজন্য র-মেটেরিয়ালসের ওপর কর সহনীয় পর্যায়ে আনা। ক্রেতাদের জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি লোনের ব্যবস্থা করা এবং ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের জটিল প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত পেপারওয়ার্ক সহজ করা। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আবাসন প্রক্রিয়া যত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে, এ শিল্প তত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

24/06/2026

prothomalo.com
আবাসন খাত
নতুন করের বোঝা, আবার ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা
শুভংকর কর্মকার
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯: ০০

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আটটি আবাসন প্রকল্পের কাজ চলছে ঐশী প্রপার্টিজের। তার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেই রয়েছে ছয়টি। এই ছয় প্রকল্পে ৯৬টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মিত হবে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলেও এখনো একটি অ্যাপার্টমেন্টও বিক্রি করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ঐশী প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মো. আইয়ূব আলী প্রথম আলোর এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রতি মাসে দু-তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হওয়ার কথা, অথচ গত পাঁচ মাসে একটিও হয়নি। আসলে দুই বছর ধরেই আবাসন খাতের ব্যবসা খারাপ। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে তা হয়নি। নতুন করে করের বোঝাও চেপেছে। তাতে সামনের দিনে আবাসন ব্যবসায় টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।

আবাসন খাতের অনেক উদ্যোক্তাই এমন শঙ্কায় আছেন। কারণ, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুধু তা–ই নয়, ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপর জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনসে ট্যাক্স আরোপ করেছেন তিনি।

কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আবাসন খাতে মন্দাভাব চলছে। এ সময়ে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় সেটি হয়নি। আবার কর আরোপের কারণে ব্যবসায়ে গতি ফেরাও কঠিন হবে। তার কারণ করের প্রভাবে খরচ বাড়বে। ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

দেশের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে। তাতে ধীরে ধীরে আবাসন ব্যবসা জনপ্রিয় হতে শুরু করে। অন্যদিকে ঢাকায় জমির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক আগে থেকেই অ্যাপার্টমেন্টের দাম আকাশছোঁয়া। তাতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের নিচের মানুষের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট কেনাটা বেশ কঠিন। তারপরও এক হাজারের বেশি আবাসন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে দেশজুড়ে। তার বেশির ভাগই রাজধানী ঢাকায়। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে বছরে ৮ থেকে ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট সরবরাহ করে থাকে।

ভবন নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয় রডে। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেটে গর্দা বা মেলটেবল স্ক্র্যাপ থেকে উৎপাদন করা বিলেট এবং বিলেট উৎপাদিত প্রতি মেট্রিক টন রডের ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটের আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি টন রড উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খরচ মিলিয়ে অতিরিক্ত ১১–১২ হাজার টাকা ব্যয় বাড়তে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রাহকের ওপর।

জানতে চাইলে ইস্পাত খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রডের টনপ্রতি দাম দুই হাজার টাকা বাড়বে। এখন পর্যন্ত আমরা এই বাড়তি ব্যয়ের আংশিক সমন্বয় করেছি। বাকিটাও করতে হবে। নতুন করকাঠামোর কারণেও দাম বাড়বে। তবে আমরা বাজেট পাস না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ওপর নির্ভর করবে দাম কতটুকু বাড়বে।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জমির মালিকদের প্রাথমিক সাইনিং মানির পাশাপাশি ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। এত দিন সাইনিং মানির ওপর জমির মালিকদের শুধু ১৫ শতাংশ কর দিতে হতো।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা বলছেন, জমির মালিকদের ওপর নতুন কর আবাসন খাতে নতুন সংকট তৈরি করবে। ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে যদি ১২টি ফ্ল্যাট জমির মালিক পান এবং সেই ফ্ল্যাটগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হয়, তাহলে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এতে ফ্ল্যাটের দাম আকাশচুম্বী হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেল্‌টেকের বিক্রি ২০ শতাংশ কমেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ফ্ল্যাটের বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল। তবে চলতি মাসে বিক্রি আবার কমে গেছে। এমন তথ্য দিয়ে শেল্‌টেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, জমির মালিকদের ওপর নতুন করের কারণে আবাসন খাতের গতি কমবে। ফ্ল্যাটের নিবন্ধনও কমে যাবে। তাতে সরকারের রাজস্ব হ্রাস পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. শাহজাহান বলেন, প্রতিবছরই নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। এবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন করের কারণে আরেক দফা বাড়বে। আবার জমির মালিকদের ওপরও কর বাড়ছে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়বে।

24/06/2026

বাড়ি করার সময় কতটুকু জায়গা ছাড়তে হয়, আইনে কী আছে-------

বাড়ি নির্মাণ শুধু ইট-পাথরের কাজ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুমোদন প্রক্রিয়া, আইনি বাধ্যবাধকতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশের বিষয়ও। বাড়ি নির্মাণের সময় জমি থেকে কতটুকু জায়গা ছাড়তে হয়, না ছাড়লে কী হয়—এসব বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নাও থাকতে পারে।

বাড়ি করার সময় কতটুকু জায়গা ছাড়তে হয়, না ছাড়লে কী হয়, এই বিষয়ে আইনে কী আছে এবং বাড়ি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

১. বাড়ি করার সময় কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ যা বিবেচনায় রাখা উচিত
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাড়ি নির্মাণের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জমির আইনগত অবস্থা যাচাই করা, দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও খাজনা দাখিলা সব কিছু সঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর ভবনের নকশা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ভবনের কাঠামো তৈরি করতে একজন অনুমোদিত স্থপতি বা প্রকৌশলীর সহায়তা নেওয়া উচিত, যাতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি ২০২০) নিরাপত্তা, আলো-বাতাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নি প্রতিরোধ ও ভূমিকম্প সহনশীলতার নিয়মগুলো মানা হয়। এ ছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ড্রেনেজ ও সেপটিক ট্যাংকের পরিকল্পনাও আগে থেকেই ঠিক করা জরুরি।

২. গ্রাম ও শহরে কি একই নিয়ম প্রযোজ্য?
না, পুরোপুরি একই নয়। রাজধানীতে রাজউক, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), রাজশাহীতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এরকম অন্যান্য শহরাঞ্চলে পৌরসভা কঠোরভাবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। সেখানে নির্দিষ্ট সেটব্যাক, ওপেন স্পেস, উচ্চতা, রাস্তা বরাবর দূরত্ব ও নিরাপত্তা বিধান বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে বাড়িঘর নির্মাণ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া ন্যূনতম খোলা জায়গা রাখা, প্রতিবেশীর জমিতে অনধিকার প্রবেশ না করা, পানি ও নিকাশ ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিকল্পনা করা আবশ্যক। শহরে নিয়ম ভাঙলে জরিমানা বা ভবন ভেঙে ফেলার মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।

৩. বাড়ি করার সময় কতটুকু জায়গা ছাড়তে হয়, আইন কী বলে?
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি ২০২০) অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা বা 'সেটব্যাক' রাখা বাধ্যতামূলক। সাধারণত সামনের রাস্তার দিকে ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়, পেছনে ৪ থেকে ৬ ফুট এবং দুই পাশে ৩ থেকে ৫ ফুট খোলা জায়গা থাকতে হবে।

বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব আরও বেশি হতে পারে। মোট জমির অন্তত ৩০ শতাংশ খোলা জায়গা রাখতে হয়, যাতে আলো-বাতাস চলাচল, ড্রেনেজ ও অগ্নি নিরাপত্তা বজায় থাকে। এই নিয়ম শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও প্রযোজ্য, যদিও তদারকি তুলনামূলক কম।

৪. জায়গা না ছেড়ে বাড়ি করলে কী সমস্যা হতে পারে?
জায়গা না ছেড়ে বা অনুমোদন ছাড়া বাড়ি নির্মাণ করলে সেটি আইনের দৃষ্টিতে 'অবৈধ নির্মাণ' হিসেবে গণ্য হয়। এতে রাজউক, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন ভবনটির বর্ধিত ভেঙে দিতে পারে, এমনকি মালিকের বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা বা বিদ্যুৎ পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়। প্রতিবেশীর জমিতে অনধিকার প্রবেশ বা আলো-বাতাস বাধাগ্রস্ত হলে প্রতিবেশী আদালতে মামলা করতে পারে। তা ছাড়া অগ্নি বা ভূমিকম্পের সময় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে, জায়গা ছেড়ে আইন মেনে নির্মাণ করাই নিরাপদ, স্থায়ী ও ঝামেলামুক্ত উপায়।

৫. অনুমোদন ছাড়া বাড়ি করলে কি বৈধ করা যায়?
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে পরে রেগুলারাইজেশন প্রক্রিয়ায় বৈধ করা সম্ভব, তবে এটি খুব সীমিত পরিসরে। এজন্য জরিমানা দিয়ে এবং স্থপতি বা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নকশা পুনরায় জমা দিতে হয়। কিন্তু যদি ভবনটি রাস্তার ওপর, সরকারি জমিতে বা সেটব্যাক না রেখে তৈরি হয়, তবে রেগুলারাইজ করা যায় না, বরং ধ্বংস করা হয়।

৬. বাড়ির উচ্চতা বা তলা সংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কী?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী এলাকার ধরন, রাস্তার প্রস্থ ও জমির আকার অনুসারে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত হয়, যেমন:

সরু রাস্তায় সাধারণত চারতলার বেশি নয়।

বড় রাস্তার পাশে বা বাণিজ্যিক এলাকায় ১০-তলা বা তার বেশি হতে পারে।

তবে প্রতিটি ভবনের জন্য রাজউক বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) অনুযায়ী তলা নির্ধারণ হয়।

৭. পানি ও নিকাশ ব্যবস্থার আইনগত বাধ্যবাধকতা কী?
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, নগর বা শহর এলাকায় প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোক ওয়েল ও রেইন ওয়াটার ড্রেনেজ সিস্টেম বাধ্যতামূলক। শহরে ওয়াসা বা পৌর ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ নিতে হয়। এসব না থাকলে ভবনের অনুমতি বাতিল বা পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানা করতে পারে।

৮. ভবন নির্মাণের সময় কোন কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়?
শ্রমিকদের জন্য সেফটি হেলমেট, জুতা, বেল্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার এক্সিট, ও জরুরি সিঁড়ি রাখতে হয়।

কাজের সময় আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা ও রাস্তা অবরুদ্ধ না করা নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়ম ভঙ্গ করলে শ্রম আইন ও বিল্ডিং কোড অনুযায়ী মামলা হতে পারে।

৯. পরিবেশগত দিক থেকে কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত?
বাড়ির ডিজাইনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রবেশ, সবুজ জায়গা, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং এবং সোলার সিস্টেম রাখলে ভবনটি পরিবেশবান্ধব হয়। বিএনবিসি ও পরিবেশ অধিদপ্তর এখন টেকসই ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিল কমানো ও শীতল পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।

21/06/2026

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬ ১৭:০৬

আবাসন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: রিহ্যাব সভাপতি
রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল

একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনো বিলাসিতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল। তিনি বলেন, আবাসন খাত শুধু একটি ব্যবসায়িক খাত নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

এই খাতের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা হলে শুধু ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং লাখ লাখ শ্রমিক, প্রকৌশলী, স্থপতি, নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট শত শত শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি এসব কথা বলেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ২৬৯টি উপখাত। ফলে এই খাতের গতি কমে গেলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে।

তিনি বলেন, আবাসন খাতকে সহযোগিতা করা মানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে শক্তিশালী করা।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনো বিলাসিতা নয়।

মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য নিজের একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নীতিগত পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান ড. আলী আফজাল।

তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো পরিবার সহজ শর্তে নিজেদের স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে।

কর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই করদাতারা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হন। তাই নাগরিক হিসেবে আমাদের জানার অধিকার রয়েছে– আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে। রিহ্যাব সভাপতি কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো অসাধু স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।

Address

Dhaka

Telephone

+8801721157027

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ঢাকার বাড়ী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ঢাকার বাড়ী:

Shortcuts

Share

Category