01/04/2026
আপনি কি জানেন—কি?
বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা!!!
এই বিষয়ে স্পষ্ট বিধান দিয়েছে, যা পারিবারিক দায়িত্বকে আইনের আওতায় এনেছে।
🔹 “ভরণপোষণ” বলতে কী বোঝায়?
আইনের ধারা ২(ডি) অনুযায়ী, “ভরণপোষণ” বলতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সেবাযত্ন অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ একজন পিতা-মাতার সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই এর আওতায় পড়ে।
🔹 কোন পরিস্থিতিতে সন্তান দায়ী?
ধারা ৩ অনুযায়ী—
- প্রত্যেক সক্ষম সন্তান তার পিতা ও মাতার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য
- পিতা-মাতা যদি আলাদা থাকেন, তবুও উভয়ের জন্য দায়িত্ব বহাল থাকে
- একাধিক সন্তান থাকলে, তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করবে
এছাড়া, যদি কোনো সন্তান পিতা-মাতার সাথে বসবাস না করে, তাহলেও তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
🔹 ভরণপোষণ না দিলে কী হয়?
ধারা ৫ অনুযায়ী—
- ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
- অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড
- পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে
🔹 নৈতিক vs আইনি দায়িত্ব—পার্থক্য কোথায়?
নৈতিক দায়িত্ব আসে আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে।
কিন্তু আইন এটিকে enforceable obligation-এ রূপ দিয়েছে।
এই বিষয়ে এর অনুচ্ছেদ ১৫-এও রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে—যা পারিবারিক কাঠামোর মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।
📌 মূল কথা:
পিতা-মাতার ভরণপোষণ এখন আর কেবল আবেগ বা নৈতিকতার বিষয় নয়—এটি একটি স্পষ্ট আইনি দায়, যা অমান্য করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
👉 আপনার মতামত কী?
আইনের মাধ্যমে পারিবারিক দায়িত্ব নিশ্চিত করা—এটি কি সময়ের দাবি, নাকি পারিবারিক মূল্যবোধই যথেষ্ট ছিল?