10/05/2026
Caretaker government সংক্রান্ত review মামলাটি সাংবিধানিক আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। রায় প্রদান করা হয়েছে ২০.১১.২০২৫ খ্রিস্টাব্দে। সম্পূর্ণ রায়টি ৭৪ পাতার। মূল রায় প্রদান করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি Syed Refaat Ahmed. রায়ের philosophical point of view খুবই significant সুপ্রীম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি আপলোড করা হয়েছে। ড: বদিউল আলম মজুমদার এবং অন্যান্য নামে এটি পরিচিতি লাভ করেছে। সংবিধানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য বলে মনে করি।রায়টিকে ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে হয়েছে। সময় লেগেছে প্রায় দশ দিন। কোর্ট এর নৈমিত্তিক কাজ ও ড্রাফটিং শেষ করে রায়টি সম্পর্কে লেখার সময় বের করা খুবই কঠিন ছিল। আমি বিগত সময় অনেক রায় সম্পর্কে লিখেছি, কিন্তু এটি লিখতে গিয়ে প্রতিটি লাইন বারংবার পড়তে হয়েছে। রায়ের মাধ্যমে বিচারপতি মহোদয়ের ইংরেজি সাহিত্যের প্রজ্ঞা এবং constitutional jurisprudence বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একাডেমিক দের জন্য Caretaker review মামলাটি হতে পারে চিরন্তন আলোচনার আকড়। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় National consensus কিভাবে পরবর্তীতে Constitutional legitimacy লাভ করে, unamendable/ unalterable basic feature and mutable basic feature, impact test, social contract theory, procedural infirmity, ordinary amending power and constituent power, Amends that support basic structure becomes part of the Basic structure, legitimacy of unelected body, President position after dissolving parliament, evolution of constitution, constitutional fiduciary trust, legal transplantation, extent of review under 105, delimitation of power exercise একটি রায়ের minority view কিভাবে পরবর্তীতে authority এর স্টাটাস লাভ করতে পারে।
এই মামলায় আমার মনে হয় দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ unelected body কিভাবে sovereign will কে represent করে এবং crisis moment এ জনগণের constituent power কিভাবে activate হয়। উত্তর পেতে রায়ের প্রতিটি অক্ষর পড়তে হবে।
constitutional moment কে চিহ্নিত করা ও একটি বড় আলোচনার উৎস হতে পারে।
Dr. Badiul Alam Majumder and others vs Abdul Mannan Khan and others মামলাটি আলোচনা করব, যা Civil Appeal No. 112 of 2025 নামে পরিচিত। এই মামলাটি সাধারণভাবে “caretaker government review case” নামে পরিচিত। রায় প্রদান করা হয় ২০.১১.২০২৫ তারিখে।
মামলার ঘটনা (Facts of the Case):
এই চ্যালেঞ্জের মৌলিক ভিত্তি এই দাবির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, আদালত তার সাংবিধানিক মূল্যায়নে এমন একটি ত্রুটি করেছে যা রেকর্ডের উপর থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান (error apparent on the face of the record)।
আলোচ্য রায়ে ১৩তম সংশোধনীকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণার প্রধান ভিত্তি ছিল এই অনুমান যে, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো—বিশেষত জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের প্রজাতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক চরিত্র—লঙ্ঘন করেছে। কারণ, এর মাধ্যমে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগযোগ্য কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে আপসকামী (compromised) হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তাকে দুর্বল করতে পারে।
আদালতের নিকট যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, ১৩তম সংশোধনী গণতান্ত্রিক চেতনার একটি গভীর শক্তিশালী প্রতিফলন। ঐতিহাসিকভাবে এটি দেশের সকল রাজনৈতিক অংশীজনের মধ্যে একটি ব্যাপক জাতীয় ঐকমত্যের ফল।
এই সংশোধনীর প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
শুধুমাত্র এই আশঙ্কার ভিত্তিতে—যে ভবিষ্যতে কোনো প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টার পদলাভের আকর্ষণে প্রভাবিত হতে পারেন—কোনো আইন বাতিল করা এক ধরনের কল্পনানির্ভর বিচার (conjectural adjudication), যা আইনপ্রণেতার প্রজ্ঞা এবং বিচার বিভাগের নিজস্ব সংশোধনক্ষমতাকে খর্ব করে।
এখানে মূল যুক্তি হলো—সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রতিকার হওয়া উচিত সতর্ক বিচারিক পর্যালোচনা বা writ (judicial review), কোনো ব্যবস্থাকে আগাম বিলোপ করা নয়।
আদালতের সামনে উত্থাপিত নির্দিষ্ট যুক্তি ছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি জাতীয় ঐকমত্যের ফল—এই বিষয়টি আদালত যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
এই ব্যবস্থা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি এমন একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন হিসেবে গড়ে ওঠে, যা একটি নির্বাচিত সরকার থেকে অন্য নির্বাচিত সরকারের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ক্রমে এই ব্যবস্থা একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনসমূহ সাধারণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একাধিক নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। Hussain Muhammad Ershad এর শাসনামলে জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯০ সালে তিন জোটের যৌথ ঘোষণায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এরশাদের পদত্যাগের পর ০৬.১২.১৯৯০ তারিখে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় Shahabuddin Ahmed-এর নিকট। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
এটি কোনো পূর্ববর্তী সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়াই গঠিত হয়েছিল। যদিও এর আইনগত ভিত্তি ছিল সাময়িক (ad hoc), তবুও এর বৈধতা কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, কারণ এটি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ছিল।
পরবর্তীতে Fifth Parliament of Bangladesh এই সরকারের সকল কার্যক্রম অনুমোদন (ratify) করে।
পরবর্তী অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে Group-5 এর সদস্য প্রয়াত Barrister Ishtiaq Ahmed ২৮.০৭.১৯৯৫ তারিখে একটি মডেল প্রস্তাব করেন, যা “Ishtiaq Formula” নামে পরিচিত।
মূলত এটি ছিল একটি সাংবিধানিক বিকল্প ব্যবস্থা (workaround), যার মাধ্যমে একটি de facto তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব হয় এবং একই সাথে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এটি জাতীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি প্রতিফলন ছিল।
১৯.০৩.১৯৯৬ তারিখে গঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আইনগত স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নেয় এবং সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী প্রণয়ন করে।
এই সংশোধনী ২১ মার্চ উত্থাপিত হয় এবং ২৬.০৩.১৯৯৬ তারিখে ২৬৮-০ ভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে Articles 58B to 58E of the Constitution of Bangladesh সংযোজন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে একটি সাংবিধানিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
আইনজীবীদের সাবমিশন :
Civil Appeal No. 112 of 2025-এ Dr. Sharif Bhuiya-এর উপস্থাপনাঃ
তার যুক্তির মূল বক্তব্য হলো যে, আলোচ্য রায়টি একটি সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা-পদ্ধতির উপর নির্ভর করেছে—যেখানে সংবিধানকে একটি স্থির বিধান (static statute) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, অথচ সংবিধান প্রকৃতপক্ষে একটি জীবন্ত দলিল (living instrument), যা একটি জাতির গণতান্ত্রিক বিকাশকে পথনির্দেশ করে।
তিনি যুক্তি দেন যে, ১৩তম সংশোধনীর বৈধতা জনগণের সার্বভৌমত্বের গভীর ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত, যা সাংবিধানিক ব্যবস্থার মূল গঠনশক্তি (constitutive force) হিসেবে কাজ করে। তার মতে, এই সংশোধনী কেবল একটি আইন প্রণয়ন নয়; বরং এটি একটি বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন।
একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় প্রতিষ্ঠানের নিকট সাময়িকভাবে নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ করা জনগণের constituent power-এর সর্বোচ্চ প্রয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও উপস্থাপন করেন যে, Justice Md. Abdul Wahab Miah এবং Justice Muhammad Imman Ali-এর সংখ্যালঘু মতামতের( minority view) উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে এই অবস্থানকে শক্তিশালী করা হয়েছে। তাদের মতে, এই সংশোধনী জনগণের ইচ্ছার কেবল স্থগিতাদেশ নয়; বরং এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও শর্তাধীন প্রয়োগ।
তিনি বলেন, রূপান্তরকালীন সময়ে টেকনোক্র্যাটিক বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে একটি বৈধ ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক বৈধতা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত বিস্তৃত ম্যান্ডেট ও উদ্দেশ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, যা সংশোধনী ক্ষমতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, এই রূপান্তরকালীন সময়ে (transitional period) রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান—যা মূলত আনুষ্ঠানিক (ceremonial)—অপরিবর্তিত থাকে এবং এটিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় কাঠামোগত রূপান্তর হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
সবশেষে, তিনি উপসংহারে বলেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি প্রকৃত নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত একটি নিশ্চয়তাকারী (guarantor) ব্যবস্থা।
: তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৮ সালের Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules, 1988-এর Order X, Rule 2 অনুযায়ী শর্ট অর্ডার সংশোধনের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগত অনিয়ম বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতার ওপর এক ধরনের সন্দেহের ছায়া নিক্ষেপ করে। তিনি উপস্থাপন করেন যে, যদি এই মাননীয় আদালত আপিলে যথার্থতা খুঁজে পান, তবে তার যৌক্তিক ও আইনগত পরিণতি হবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানের স্বয়ংক্রিয় পুনর্বহাল। তিনি উক্ত সংশোধনীকে সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (intra vires) ঘোষণা করার প্রার্থনা জানান।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Ehsan A Siddiq এর উপস্থাপনাঃ
তার উপস্থাপনার মূলভিত্তি তিনটি পৃথক কিন্তু আন্তঃসম্পর্কযুক্ত তাত্ত্বিক স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত—
(১) ১৩তম সংশোধনী প্রণয়নে ব্যবহৃত ক্ষমতার প্রকৃতি,
(২) সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সাথে এর একীভূতকরণ, এবং
(৩) এটি একটি সাংবিধানিক প্রথায় (constitutional convention) পরিণত হওয়া।
তিনি Article 142 of the Constitution of Bangladesh-এর অধীনে সাধারণ সংশোধনী ক্ষমতা এবং constituent power-এর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য নির্দেশ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি অন্তর্নিহিত অবশিষ্ট (residual) constituent power সক্রিয় করেছে, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, এই constituent authority রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে একটি সুপ্ত শক্তি( dormant power) হিসেবে বিদ্যমান। তার মতে, ১৩তম সংশোধনী কেবলমাত্র পাঠ্য পরিবর্তন নয়; বরং এটি জনগণের মৌলিক সার্বভৌম ইচ্ছার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, ১৩তম সংশোধনীর মৌলিক বিষয়বস্তু সংবিধানের অখণ্ড ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমে এটি একটি বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক রীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পরিশেষে, উপযুক্ত বিচারিক প্রতিকার প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আদালতের উচিত তার সম্মুখে উত্থাপিত সাংবিধানিক প্রশ্নসমূহ নিষ্পত্তি করা, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ প্রদান করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা—কারণ এ দায়িত্ব সার্বভৌম সংসদের ওপর ন্যস্ত।
তার মতে, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক পরিণতির আশঙ্কা ছাড়াই কেবল সংবিধানের ব্যাখ্যা ও সংরক্ষণের ওপর মনোনিবেশ করতে হবে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Shishir Monir এর উপস্থাপনাঃ
তিনি তার যুক্তিকে ১৩তম সংশোধনী মামলার একটি মৌলিক পুনর্মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করেন এবং আদালতকে আহ্বান জানান সংখ্যালঘু মতামতকে দূরদর্শী ব্যাখ্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলীর মাধ্যমে সত্যায়িত(substantiate) হয়েছে।
তিনি বলেন, শর্ট অর্ডার ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা আকস্মিক নয়; বরং তা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতিফলন। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, পরবর্তী ঘটনাবলী যখন সংখ্যালঘু মতামতের যুক্তিকে সমর্থন করে, তখন সেই মতামত কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জনের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা লাভ করে।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু মতামতের মধ্যে নিহিত দূরদর্শিতা অধিক গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।
তিনি Justice Muhammad Imman Ali-এর সংখ্যালঘু ( minority view)মতামতের উপর নির্ভর করে দ্বিমাত্রিক যুক্তি উপস্থাপন করেন—
প্রথমত, এই ব্যবস্থা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়; বরং এটি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থার বহিঃপ্রকাশ;
দ্বিতীয়ত, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘন করে না।
তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বর্তমান সাংবিধানিক বাস্তবতার দিকে, যেখানে সংসদ ভঙ্গ রয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা “July Charter”-এ প্রতিফলিত হয়েছে। এই চার্টার জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা থেকে উদ্ভূত এবং একটি সংস্কারমুখী অগ্রগতির পথ নির্দেশ করে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Md. Badruddoza-এর উপস্থাপনাঃ
তিনি ১০.০৫.২০১১ তারিখে ১৩তম সংশোধনী সংক্রান্ত শর্ট অর্ডার থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সাংবিধানিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করেন।
তিনি যুক্তি দেন যে, ১৫তম সংশোধনী প্রণয়ন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা এই আদালতের বৈধ কর্তৃত্বের অবমাননার শামিল।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের মে মাসের শর্ট অর্ডারে স্পষ্টভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুইটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত একটি বাধ্যতামূলক বিচারিক নির্দেশনা হিসেবে কার্যকর ছিল।
এই সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপ করা আদালতের কার্যকর আদেশের ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায় সৃষ্টি করে।
তিনি আরও উপস্থাপন করেন যে, ১৩তম সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে maintainability (গ্রহণযোগ্যতা) বিষয়ে প্রাথমিক প্রশ্নটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করা একটি মৌলিক আইনগত ত্রুটি, যা সমগ্র কার্যধারাকে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে।
A.S.M Shahriar Kabir-এর উপস্থাপনাঃ
তিনি যুক্তি দেন যে, ১৩তম সংশোধনী কোনো সাধারণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ফল নয়; বরং এটি একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক প্রতিক্রিয়া।
তার মতে, সংসদ এ ক্ষেত্রে তার স্বাভাবিক আইন প্রণয়ন ভূমিকার সীমা অতিক্রম করে জনগণের constituent power-এর সরাসরি বাহক হিসেবে কাজ করেছে।
ফলস্বরূপ, ১৩তম সংশোধনীকে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা Article 142 of the Constitution of Bangladesh-এর অধীনে গৃহীত সংশোধনীর তুলনায় উচ্চতর মর্যাদা ধারণ করে এবং প্রচলিত সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে স্বভাবতই অধিক প্রতিরোধী।
তার মূল বক্তব্য হলো, জনগণের constituent power থেকে উদ্ভূত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিজেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
তিনি Article 48(1) of the Constitution of Bangladesh-এর অধীনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতির সাথে তুলনা করে বলেন যে, যেমন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হয়, তেমনি সংসদ গঠনকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা প্রবাহিত হয়।
তিনি উপসংহারে বলেন, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা সময়ের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী উদ্ভাবনী ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Imran A. Siddique-এর উপস্থাপনাঃ
তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত সাংবিধানিক নীতির একটি সূক্ষ্ম প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, Article 58D(1) of the Constitution of Bangladesh অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার নীতিনির্ধারণী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম,
এই কার্যকর সীমাবদ্ধতা গণতন্ত্রের মৌলিক সত্তা সংরক্ষণ করে, কারণ নীতিনির্ধারণের সার্বভৌম ক্ষমতা একান্তভাবে নির্বাচিত সংসদের নিকট ন্যস্ত থাকে।
তিনি মত দেন যে, গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিজে থেকেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যদি তা যথাযথ আইনগত ও বিচারিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Zainul Abedin-এর উপস্থাপনাঃ
তিনি বলেন, সংবিধানের নীতির প্রতি অবিচল আনুগত্য বজায় রেখে আদালতের উপর ন্যস্ত পবিত্র দায়িত্ব পালন করা অপরিহার্য।
তার মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রথা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শর্ট অর্ডার ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে একটি মৌলিক অসামঞ্জস্য বিদ্যমান।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট Md. Ruhul Quddus-এর উপস্থাপনাঃ
তিনি যুক্তি দেন যে, কোনো আদেশ এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকে, তবে তা চূড়ান্ততার নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে এবং নিজেই পুনর্বিবেচনার একটি বৈধ ভিত্তি সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, আলোচ্য রায়ে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং এতে অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তিনি যুক্তি দেন যে, যদি Justice A.B.M Khairul Haque-এর মতামত—যা সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের অংশ—অটেকসই প্রমাণিত হয়, তবে পুরো সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।
তিনি আরও সমালোচনা করেন যে, আলোচ্য রায়ে মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের একটি অতিমাত্রায় সংকীর্ণ ও কঠোর ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে।
তার মতে, ১৩তম সংশোধনী বাতিল করা নিজেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ক্ষয়( erosion) হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থাপনাঃ
বিজ্ঞ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আনিক আর. হক সকল আপিল ও রিভিউ পিটিশনের জবাবে যুক্তি প্রদান করেন যে, বিতর্কিত রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতটি রেকর্ডের উপর প্রতীয়মান ত্রুটি (error apparent on the face of the record) এবং দেওয়ানি কার্যবিধিতে (Code of Civil Procedure) উথিত অন্যান্য কারণের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
তিনি যুক্তি দেন যে, সাংবিধানিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন বিচারিক ক্ষমতার যথাযথ সীমা অতিক্রম করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিচারিক বিলোপ একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল (living instrument), যা জনগণের স্বাধীনতা থেকে উৎসারিত ক্ষমতার সনদ—এর বিপরীত নয়। তিনি আরও বলেন, এই আদালত কথিত বিচারিক সংকোচন (judicial diminution) অনুধাবন করবে এবং “আমরা জনগণ” এর নিকট ন্যস্ত সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানের উপস্থাপনাঃ
তিনি উপস্থাপন করেন যে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার দ্বারা গঠিত ও বৈধতা লাভ করে। তিনি যুক্তি দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯১ সালে একটি অসাংবিধানিক প্রথা (extra-constitutional convention) হিসেবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদ্ভূত হয়েছিল, যা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠে; পরবর্তীতে জনগণের সমর্থনে এটি অনুমোদিত হয় এবং ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে সংযোজিত হয়।
এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা একটি প্রথাকে বৈধ সাংবিধানিক আইনে পরিণত করতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে তিনি অপরিবর্তনীয় মৌলিক কাঠামো (unalterable basic structure) এবং পরিবর্তনশীল মৌলিক কাঠামো (mutable basic structure)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্দেশ করেন।
রিভিউয়ের একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তিনি “রেকর্ডে প্রতীয়মান ত্রুটি”কে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এই ত্রুটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপে প্রকাশ পেয়েছে—
প্রথমত, সংক্ষিপ্ত আদেশ (short order) এবং পূর্ণাঙ্গ যুক্তিসম্পন্ন রায়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অযৌক্তিক অসামঞ্জস্য, যা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়ম নির্দেশ করে;
দ্বিতীয়ত, একটি মৌলিক বিচারতাত্ত্বিক (jurisprudential) ভুল, যেখানে আদালত গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে এমন একটি প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা বাতিল করেছে, যা বাস্তব অভিজ্ঞতায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চ
রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থাপনাঃ
বিজ্ঞ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আনিক আর. হক সকল আপিল ও রিভিউ পিটিশনের জবাবে যুক্তি প্রদান করেন যে, বিতর্কিত রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতটি রেকর্ডের উপর প্রতীয়মান ত্রুটি (error apparent on the face of the record) এবং দেওয়ানি কার্যবিধিতে (Code of Civil Procedure) উথিত অন্যান্য কারণের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
তিনি যুক্তি দেন যে, সাংবিধানিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন বিচারিক ক্ষমতার যথাযথ সীমা অতিক্রম করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিচারিক বিলোপ একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল (living instrument), যা জনগণের স্বাধীনতা থেকে উৎসারিত ক্ষমতার সনদ—এর বিপরীত নয়। তিনি আরও বলেন, এই আদালত কথিত বিচারিক সংকোচন (judicial diminution) অনুধাবন করবে এবং “আমরা জনগণ” এর নিকট ন্যস্ত সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানের উপস্থাপনাঃ
তিনি উপস্থাপন করেন যে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার দ্বারা গঠিত ও বৈধতা লাভ করে। তিনি যুক্তি দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯১ সালে একটি অসাংবিধানিক প্রথা (extra-constitutional convention) হিসেবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদ্ভূত হয়েছিল, যা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠে; পরবর্তীতে জনগণের সমর্থনে এটি অনুমোদিত হয় এবং ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে সংযোজিত হয়।
এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা একটি প্রথাকে বৈধ সাংবিধানিক আইনে পরিণত করতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে তিনি অপরিবর্তনীয় মৌলিক কাঠামো (unalterable basic structure) এবং পরিবর্তনশীল মৌলিক কাঠামো (mutable basic structure)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্দেশ করেন।
রিভিউয়ের একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তিনি “রেকর্ডে প্রতীয়মান ত্রুটি”কে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এই ত্রুটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপে প্রকাশ পেয়েছে—
প্রথমত, সংক্ষিপ্ত আদেশ (short order) এবং পূর্ণাঙ্গ যুক্তিসম্পন্ন রায়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অযৌক্তিক অসামঞ্জস্য, যা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়ম নির্দেশ করে;
দ্বিতীয়ত, একটি মৌলিক বিচারতাত্ত্বিক (jurisprudential) ভুল, যেখানে আদালত গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে এমন একটি প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা বাতিল করেছে, যা বাস্তব অভিজ্ঞতায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকগণ পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সর্বশেষে, তিনি সংবিধানকে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার একটি সামাজিক চুক্তি (social contract) হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মাননীয় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল Mohammad Aneek R Haque সকল আপিল ও রিভিউ পিটিশনের জবাবে উপস্থাপন করেন যে, চ্যালেঞ্জকৃত রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত Code of Civil Procedure-এ বর্ণিত নীতিমালার আলোকে রেকর্ডের উপর সুস্পষ্ট ত্রুটি (error apparent on the face of the record) এবং অন্যান্য যথার্থ কারণবশত পুনর্বিবেচনার যোগ্য।
তিনি যুক্তি প্রদান করেন যে, সাংবিধানিক ব্যবস্থার মৌলিক বিন্যাসে বিচারিক হস্তক্ষেপ আদালতের যথাযথ এখতিয়ার অতিক্রম করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগ এমন এক সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করেছে। তাঁর মতে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল (living instrument), যার বৈধতা জনগণের স্বাধীন ইচ্ছা ও সার্বভৌম ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত; রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের স্বাধীনতার উৎস নয়, বরং জনগণের স্বাধীনতাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভিত্তি। তিনি আরও উপস্থাপন করেন যে, এই আদালত পূর্ববর্তী বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংঘটিত সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাকে উপলব্ধি করবে এবং “We, the People”-এ নিহিত সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট Md. Asaduzzaman -এর উপস্থাপনাঃ
তিনি উপস্থাপন করেন যে, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল, যা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার মাধ্যমে গঠিত ও বৈধতা প্রাপ্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি অতিসাংবিধানিক (extra-constitutional) রাজনৈতিক রীতি হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে জনগণের সমর্থন ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
তিনি যুক্তি দেন যে, জনগণের দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক সম্মতি কোনো সাংবিধানিক অনুশীলনকে বৈধ সাংবিধানিক নীতিতে পরিণত করতে সক্ষম। তাত্ত্বিকভাবে তিনি অপরিবর্তনীয় মৌলিক কাঠামো (unalterable basic structure) এবং পরিবর্তনশীল মৌলিক কাঠামো (mutable basic structure)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্দেশ করেন।
রিভিউয়ের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে তিনি “রেকর্ডের উপর সুস্পষ্ট ত্রুটি” চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এই ত্রুটি দুইভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—
প্রথমত, পূর্ববর্তী বেঞ্চের সংক্ষিপ্ত আদেশ (short order) এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ের (full reasoned judgment) মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ ও অযৌক্তিক অসামঞ্জস্য বিদ্যমান, যা গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়মের শামিল;
দ্বিতীয়ত, আদালত গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে এমন একটি প্রক্রিয়াগত কাঠামো বাতিল করেছে, যা বাস্তব অভিজ্ঞতায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত রাজনৈতিক পূর্বধারণা (predisposed political bias) দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তাঁর ভাষ্যমতে, সংবিধান রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার একটি সামাজিক চুক্তি (social contract)।
বিচারপতি Syed Refaat Ahmed -এর রায়ের অংশঃ
উপস্থাপিত যুক্তিসমূহকে চারটি বিস্তৃত শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়, যথাঃ
(ক) মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের (basic structure doctrine) বিচারতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ;
(খ) সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের (social contract theory) পুনর্মূল্যায়ন;
(গ) জনপ্রভুত্ব ও জনগণের ইচ্ছার ধারণার সঙ্গে এর সম্পর্ক; এবং
(ঘ) গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট।
তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, পাশ্চাত্যধর্মী গণতান্ত্রিক মডেল সরল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রে কার্যকর করা যায় না। গণতন্ত্র একটি সমাজ-আইনগত গ্রহণ (socio-legal reception), আইনগত প্রতিস্থাপন (legal transplantation) এবং স্থানীয় অভিযোজনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়।
তাঁর মতে, পর্যালোচনাধীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত একটি অনমনীয় ও সেকেলে গণতান্ত্রিক ধারণার প্রতি অনুগত ছিল, যা একপ্রকার সাংবিধানিক কল্পলোক (constitutional utopianism)-এর ন্যায়। গণতান্ত্রিক ইউটোপিয়ার বিচারিক স্বীকৃতি রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উন্নীত করেনি; বরং তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, একটি বাস্তববাদী-বহুত্ববাদী (realist-pluralist) দৃষ্টিভঙ্গি গণতন্ত্রকে একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করত। কঠোর আইনগত বিশুদ্ধতার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পরিশুদ্ধ করার প্রয়াসে পর্যালোচনাধীন রায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কেবল নীতিগত বিশুদ্ধতা নয়, বরং রাজনৈতিক স্বাধীনতার ভঙ্গুর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তববাদী প্রজ্ঞার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা একটি স্বাভাবিক ও জৈব রাজনৈতিক( organic political evolution) বিবর্তনের প্রক্রিয়া। রিভিউ পিটিশনে উত্থাপিত যুক্তিসমূহ এক গভীর সাংবিধানিক মুহূর্তের প্রতিনিধিত্ব করে। এই মামলার দার্শনিক ভিত্তি নিহিত রয়েছে মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের পুনর্ব্যাখ্যা এবং সেই তত্ত্বের অবস্থান নির্ধারণে।
পরিশেষে তিনি মত প্রকাশ করেন যে, সংবিধানের কোনো মৌলিক কাঠামোকে সুরক্ষা ও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে গৃহীত সাংবিধানিক সংশোধনী নিজেও মৌলিক কাঠামোর মর্যাদা লাভ করতে পারে:
এই আদালতের সম্মুখে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত শুনানিসমূহ এক গভীর সাংবিধানিক তাৎপর্যমণ্ডিত মুহূর্তের প্রতিনিধিত্ব করে। এতে জনগণের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, বিচারিক ক্ষমতার সীমা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রকৃতি সম্পর্কিত মৌলিক প্রশ্নসমূহ উত্থাপিত হয়েছে। মামলাটির দার্শনিক ভিত্তি নিহিত রয়েছে মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব (basic structure doctrine)-এর পুনর্ব্যাখ্যা এবং সার্বভৌম কর্তৃত্বের অবস্থান নির্ধারণে। যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ সংশোধনী নিজেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (Supreme Judicial Council) পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয় এবং পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী মামলায় একে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে পুনর্বিবেচনাধীন বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে বিচারিক দুঃসাহসিকতা (judicial misadventurism) হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায়, এই আদালত সংশোধনমূলক হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে।
ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন সাধারণ সংশোধনী ক্ষমতার ফল ছিল না; বরং এটি ছিল জনগণের গঠনমূলক সার্বভৌম ক্ষমতার (constituent power) বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ সাংবিধানিক সংশোধনী এবং জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক সংশোধনীর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ সংশোধনী বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে কার্যকর হয়; কিন্তু যে সংশোধনী ব্যাপক জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদ্ভূত হয় এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার মৌলিক সংকট নিরসনে গৃহীত হয়, তা জনগণের সেই মূল সার্বভৌম ক্ষমতার অংশীদার হয়—যে ক্ষমতা সংবিধান সৃষ্টির উৎস।
এমন একটি ব্যবস্থা, যা জনগণের সার্বভৌমত্ব স্থগিত করে, সরকার ব্যবস্থার প্রকৃতি পরিবর্তন করে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে, তা ১৪২ অনুচ্ছেদের অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে।
সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব (Social Contract Theory)-এর আলোকে গঠনমূলক সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের মধ্যেই স্বভাবগতভাবে নিহিত থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত করা হয়। এই আদালত স্বীকার করে যে, ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রদত্ত সংশোধনী ক্ষমতা মূল গঠনমূলক সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ নয়; বরং এটি জনগণ কর্তৃক তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান—সংবিধানের—উপর অর্পিত এক ধরনের বিশ্বস্ততামূলক দায়িত্ব (fiduciary trust)।
কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত বিধান তার মৌলিক তাৎপর্য ও কার্যকর প্রয়োজনীয়তার কারণে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উক্ত বিধান তার সাধারণ আইনগত উৎসকে অতিক্রম করে এবং যে মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে সুরক্ষা দেয় তার সমমর্যাদার সাংবিধানিক পবিত্রতা অর্জন করে। অতএব, এর বিলোপ বা পরিবর্তন কেবল সংশোধনী ক্ষমতার সাধারণ প্রয়োগ নয়; বরং তা সাংবিধানিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানার শামিল।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কেবল একটি প্রক্রিয়াগত সংযোজন নয়; এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৌলিক কাঠামোগত উপাদান। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদীয় অভিশংসন প্রক্রিয়ার হাতে ন্যস্ত করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংসদ তার অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগকালে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিলোপ করলে, যা মৌলিক কাঠামোর অপরিহার্য উপাদান, তা অসাংবিধানিক হিসেবে গণ্য হবে।
এই আদালত মত প্রকাশ করে যে, গঠনমূলক সার্বভৌম ক্ষমতা সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয় না; বরং তা জনগণের মধ্যেই সুপ্ত অবস্থায় বহাল থাকে। ১৯৯৬ সালে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা পুনরায় সক্রিয় করে। অতএব, ত্রয়োদশ সংশোধনী সাধারণ বিচারিক পর্যালোচনার (ordinary judicial review) আওতার বাইরে, কারণ এর উৎস সেই কর্তৃত্ব, যা সংশোধিত সাংবিধানিক পাঠেরও ঊর্ধ্বে। এই যুক্তি সরাসরি বিচার বিভাগের সেই ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে, যার মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রত্যক্ষ বহিঃ