04/09/2021
💔প্রশ্নঃ পরিবারে স্ত্রীদের দায়িত্বটা কী আসলে? কেউ জানিয়ে বাধিত করবেন।
এইটা নিয়ে অনেক পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা দেখি। ঘরের কাজও নাকি করা বাধ্যতামূলক না, স্বামীর বাবা মার সেবা করা বাধ্যতামূলক না, টাকা পয়সা সংসারে দেয়াও তাদের ইচ্ছাধীন।
তাহলে তাদের রোলটা কী? চাকরি করতে না দিলে তখন লিঙ্গ সমতা নিয়ে আসে, আবার চাকরি করার পর সংসারে টাকা দিতে বললে তখন আবার ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর হয়ে যায়।
অর্থাৎ পুরুষের সব কিছুই বাধ্যতামূলক যেমন ভরণ পোষণ, চিকিৎসা, বাচ্চাদের ভরণ পোষণ, কাবিনের টাকা ইভেন ডিভোর্সড এর পরেও 3 মাস বাধ্যতামূলক।স্ত্রীদের বাধ্যতামূলক বলে কি কি দায়িত্ব আছে জানতে চাই।
আমি আসলেই বুঝতে পারছিনা স্ত্রীদের রোলটা কী পরিবারে?
🎯উত্তরঃ এর উত্তরটা নির্ভর করছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির উপর। ইসলামিক দৃষ্টিভংগি ও সামাজিক দৃষ্টিভংগির উপর বিষয়টা নির্ভর করছে। প্রথম প্রশ্ন হল আসলে পরিবার কি? আপনার পরিবার কোনটা?
ভারতীয় সমাজে মুসলিমরা মুলত হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছিল। একারনে মুসলিম হবার পরেও তাদের হিন্দুয়ানী চিন্তাধারা বজায় রেখেছে। কারন পার্থক্যগুলো খুব সুক্ষ্ম হবার ফলে এই মুসলিম সমাজেও সেগুলো চালু থেকেছে। তাই পরিবার বলতে হিন্দু সমাজে স্বামী ও তার ১৫ গুষ্টিকে বুঝায় কিন্তু তা ইসলামে ও সামাজিক ভাবে মুলত ভুল।
💓মুল বিষয় হল আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন আপনার পরিবারের অংশ নয়। আপনি আপনার বাবার পরিবারের অংশ। আপনি বিয়ে করার পর আপনার স্ত্রী পুত্র কন্যা নিয়ে আপনার পরিবার। আপনার মা , ভাই, বোন নিয়ে আপনার বাবার পরিবার। আপনার পরিবার ও বাবার পরিবার দুটি ভিন্ন পরিবার।
💓হিন্দু সমাজে বাবা মা হল দেবতা। তাদের কোন ভুল নাই। তাদের সব মাফ। তাই হিন্দু পরিবারে একটা ছেলে যেমন তার বাবা মা কে পুজা করছে তেমনি তার স্ত্রীর প্রধান কাজ বাবা দেব আর মা দেবীর পুজা করে স্বর্গ লাভ করা।
💓কিন্তু ইসলামে সব কিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। ইসলামে বাবা মা কে সম্মান করতে বলেছে কিন্তু তাদের জন্য সারা জীবন ব্যয় করতে বলে নাই। চরম প্রচলিত হাদিস হল মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত কিন্তু এর মানে এই না যে আপনাকে আপনার মায়ের দাসে পরিনত হতে হবে।
💓যদি বলেন যে আপনি আপনার মায়ের দাস, তার সেবা আপনি করবেন আর আপনার স্ত্রীও করবে তাহলে প্রশ্ন হল আপনার স্ত্রীর ও তো মা আছে। আপনার স্ত্রী তো তার মায়ের দাসী। আপনার স্ত্রীর জান্নাত তার মায়ের পায়ের নিচে । আপনার স্ত্রীর জান্নাত তো তার শাশুড়ি অর্থাৎ আপনার মায়ের পায়ের নিচে নয়। যে হাদিস দিয়ে আপনার বাবা মা কে আপনি আপনার স্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন সেই হাদিস দিয়ে আপনার স্ত্রী আপনার বাবা মা কে ঘাড় থেকে নামিয়ে দিচ্ছে। এর মুল কারন হিন্দু দৃষ্টি ভংগিতে ইসলামকে ব্যাখ্যা করা। যেমন জাকির নায়েক বেদ গিতা, বাইবেল দিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করেছে কিন্তু ইসলামকে ব্যাখ্যা করতে হয় কুরআন ও হাদিস দিয়ে। এ কারনে জাকির নায়েকের কাছে বিষ্ণু ও আল্লাহ শব্দের একই অর্থ কিন্তু আল্লাহ কে আপনি শুধু তার ৯৯ টা নাম ধরেই ডাকতে পারেন । শব্দের অর্থ একই হলেও আপনি আল্লাহ কে বিষ্ণু বলে ডাকতে পারেন না।
💓দিত্বীয় বহুল প্রচলিত হাদিস হল “পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।” এর মানে এই নয় যে আপনার বাবার সব কথাই আপনার মানতে হবে না মানলে তিনি অসন্তুষ্ট হবেন আর তিনি অসন্তুষ্ট হলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। আল্লাহ তখনই অসন্তুষ্ট হবেন যখন আপনার পিতা আপনাকে কোন ইসলাম ভিত্তিক কোন কিছু করতে বলবেন এবং আপনি করবেন না তখন আল্লাহ আপনার উপর অসন্তুষ্ট হবেন। যেমন আপনার পিতা সুদে টাকা ধার করে আপনার ছোট চাচাকে দিয়েছে আর আপনি আপনার ইনকামের টাকা থেকে পিতার ঋনের সুদ পরিশোধ করেই যাচ্ছেন। আপনার পিতা করেছে একটা হারাম আর আপনি হারামের সিলসিলা বজায় রেখেছেন। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার পিতার সুদ পরিশোধ না করলেই আল্লাহ খুশী হবেন আপনাকে বরকত দেবেন।
💓তাই আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন নিয়ে যদি আপনার পরিবার ধরেন তাহলে সেই পরিবারে আপনার স্ত্রীর দায়িত্ব হল তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা। তাদের সেবা করে করে জীবন শেষ করা ইসলামিক ও সামাজিক কোন ভাবেই তার দায়িত্ব না। এই সব ধারনা হিন্দু দৃষ্টি ভংগি থেকে এসেছে। সেবার কথা যদি ধরতেও হয় তাহলে আপনার স্ত্রীর জান্নাত তার মায়ের পায়ের নিচে আপনার মায়ের পায়ের নিচে নয়। এখন আপনি বলতে পারেন তাহলে কি বিয়ের পর বাবা, মা কে ভুলে যেতে হবে? না, এমন কিছু করতে বলা হয় নি। তারা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন , লালন পালন করেছেন এখন তাদের দেখাশুনা করা আপনার দায়িত্ব? না। কারন আপনার বাবা মা হতে হলে তাদের তো আপনাকে জন্ম দিতে হবে। এমন তো না যে আপনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। জম্নের পর আপনাকে লালন পালন করা, আপনার ভরন পোশন করা তাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্বের বিনিময়ে তারা আপনাকে তাদের দাস বানাতে পারেন না। আর আপনিও তাদের দাস হতে পারেন না। আপনার বাবা-মা কেই আপনার ভরন পোষন করতে হবে। অন্য কেউ তো আর করবে না। তাদের দায়িত্ব তাদেরকেই পালন করতে হবে।
💓আর যদি আপনি ও আপনার স্ত্রী মিলে পরিবার ধরেন তাহলে আপনার দায়িত্ব আপনার পরিবারে ভরন পোষনের ব্যাবস্থা করা ও আপনার স্ত্রীর দায়িত্ব আপনার দেয়া ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে ভরন পোষন নিশ্চিত করা। আর এগুলো একজন নারী নিজে থেকেই করবে কারন এটা তার ঘর। আপনার স্ত্রীকে নিয়ে আপনার সংসার আর আপনাকে নিয়ে আপনার স্ত্রীর সংসার।
💓আপনার স্ত্রী মুল দায়িত্ব পরিবারে ইসলামি পরিবেশ বজায় রাখা আর আপনার দায়িত্ব তাকে এই ব্যাপারে সহায়তা করা। এর পাশাপাশি আপনার স্ত্রী অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু করতে পারে। যেমন পড়াশোনা করা, আয় রোজগার করা। কিন্তু স্ত্রীর আয় রোজগারের উপর আপনি কিছুই চাইতে পারেন না। কারন আপনি পুরুষ। এই সব দায় দায়িত্ব নেবার জন্যই আল্লাহ আপনাকে পুরুষ হিসাবে তৈরি করেছেন। আপনার স্ত্রীর সাথে শুধুই আপনার যৌন সম্পর্ক নয়। একজন ধর্ষনকারীও একজন নারীর সাথে যৌনকর্মই করে কিন্তু পার্থক্য হল একজন ধর্ষনকারী শুধু যৌনকর্ম করেই পালায় আর একজন স্বামী একজন নারীর দায়িত্ব নেয় একারনে সে পুরুষ।