Advocate Atiqur Rahman Khan

Advocate Atiqur Rahman Khan The opposite of poverty is not wealth; the opposite of poverty is justice.

24/08/2026

আইন শুধু একটি পেশা নয়, এটি ন্যায়, সত্য ও মানুষের অধিকার রক্ষার এক মহৎ দায়িত্ব ⚖️

24/08/2026
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জা...
06/08/2026

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্ত...
03/08/2026

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশই মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়। আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে।

বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।
হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।

বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।
তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।
এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে।

ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই প্রেমের পরিণতি বিয়ে। অথচ তখনও পুতুল নিয়ে খেলার বয়স পেরোয়নি জুঁইয়ের। মাত্র ১১ বছর বয়সে ২২...
31/07/2026

ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই প্রেমের পরিণতি বিয়ে। অথচ তখনও পুতুল নিয়ে খেলার বয়স পেরোয়নি জুঁইয়ের। মাত্র ১১ বছর বয়সে ২২ বছরের শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই বছর না যেতেই, মাত্র ১৩ বছর বয়সে কোলজুড়ে আসে এক শিশুসন্তান। কিন্তু মাতৃত্বের সেই আনন্দও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই মাত্র সাড়ে ৪ মাস বয়সী সন্তানকে জুঁইয়ের বুক থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, আর তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

অসহায় সেই কিশোরী মা হাল ছাড়েননি। বুকভরা কান্না আর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আড়াই মাসের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ফিরে পান তার আদরের সন্তানকে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মো. সায়েম খান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশে যেন ফিরে আসে এক কিশোরী মায়ের হারিয়ে যাওয়া পৃথিবী।

জুঁইয়ের জীবনের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানায়। ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে। চলতি বছরের শুরুতে জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান। কিন্তু সন্তানের বয়স যখন মাত্র সাড়ে চার মাস, তখনই তাকে সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই দিন থেকেই শুরু হয় একজন মায়ের সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার মরিয়া সংগ্রাম।

গত ১ জুলাই ঢাকার লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন জুঁই। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা আদালতে উপস্থিত হননি। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে চকবাজার থানাকে নির্দেশ দেন বিচারক। সোমবার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। আর মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।

শুনানির সময় বিচারকও বিস্ময় লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, "প্রথম দিন জুঁইকে দেখে বিশ্বাসই হয়নি, তার একটি সন্তান রয়েছে। কারণ, জুঁই নিজেও তো একটি শিশু।"

জুঁইয়ের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও শান্তি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে সন্তান ছাড়া বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিল এবং সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে তিনি পারিবারিক আদালতে মামলাও করেন।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, যেহেতু শিশুটিকে আদালতে আনা হয়েছে, তাই মানবিক বিবেচনায় আপাতত সে তার মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—যে মেয়েটি নিজেই এখনো শৈশবের গণ্ডি পুরোপুরি পেরোতে পারেনি, তার কাঁধে কেন এত বড় জীবনের বোঝা? আর একটি নিষ্পাপ শিশুকে কেন জন্মের পর থেকেই দেখতে হবে বিচ্ছেদ, আদালত আর আইনি লড়াইয়ের কঠিন বাস্তবতা? এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজের বিবেককেও নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

আপনি কি এমন একজন, যিনি অন্যের কথা বা আচরণে খুব সহজেই মন খারাপ করে ফেলেন? মনে রাখবেন, "Unbothered" থাকা মানে এই না যে কিছ...
29/07/2026

আপনি কি এমন একজন, যিনি অন্যের কথা বা আচরণে খুব সহজেই মন খারাপ করে ফেলেন?
মনে রাখবেন, "Unbothered" থাকা মানে এই না যে কিছুই আপনার ওপর প্রভাব ফেলবে না। বরং, এটি একধরনের শক্তি—নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা। চলুন দেখে নিই এমন ৯টি সহজ নিয়ম, যা আপনাকে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে সাহায্য করবে:

১. সব সময় সব কিছু বলতে নেই। যত বেশি বলবেন, তত বেশি ভুল বোঝাবুঝি বা সমস্যা তৈরি হবে। তাই বুঝে শুনে, সংক্ষেপে বলুন।

২. আবেগকে নয়, বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিন
কষ্ট, রাগ, অপমান—এসব আবেগ আছে, থাকবে। তবে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতেই পারে। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন।

৩. প্রত্যাশা যত বেশি, কষ্টও তত বেশি। তাই যত কম আশা করবেন, তত কম কষ্ট পাবেন।

৪. অন্যকে impress করার জন্য বেশি কথা নয়, বরং এমন কাজ করুন যাতে আপনার কাজই আপনার হয়ে কথা বলে।

৫. সবার মন জয় করতে যাবেন না
দশ জন মানুষ দশ রকম কথা বলবেই। আপনি যদি সবার পছন্দমতো নিজেকে বদলাতে থাকেন, এক সময় নিজের আসল সত্তাকেই হারিয়ে ফেলবেন।

৬. হেটার মানেই গোপন ফ্যান!
যারা আপনাকে ছোট করতে চায়, তারাও আসলে আপনার প্রতিভার ভক্ত। তারা আপনাকে দেখে, জানে, বোঝে—এই জন্যই তো হিংসা করে!

৭. নিখুঁত হবার চাপ নিবেন না
"Perfect" হবার চাপে নিজেকে ভাঙবেন না। ভুল থাকা মানেই আপনি মানুষ। আর আপনার সেই ছোট ছোট flaws-ও আপনাকে সুন্দর করে তোলে।

৮. নিজের সত্যটা জানুন
দুনিয়া যাই বলুক, আপনি জানেন আপনি কে। সেই সত্যের ওপর দাঁড়ান। আত্মবিশ্বাস তখনই আসবে।

৯. না বলতে শিখুন
সবার কথা রাখতে গেলে নিজের ক্ষতি হয়। তাই যেখানে প্রয়োজন, সেখানে স্পষ্টভাবে "না" বলুন। এতে আপনি নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন।

আজ থেকেই এই নিয়মগুলো একটু একটু করে জীবনে প্রয়োগ করুন। দেখবেন, কে কী বলল সেটা আর আপনাকে ততটা নাড়াতে পারবে না। আপনি নিজেই হবেন আপনার মনের বস! 💪

স্মার্ট থাকুন, স্থির থাকুন, Unbothered থাকুন।
#বাংলাদেশ

হয়রানি হতে রেহাই পেতে মানুষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। সেখানেও যদি এমন অবস্থা  হয় ভুক্তভোগীরা যাবে কোথায়?
29/07/2026

হয়রানি হতে রেহাই পেতে মানুষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। সেখানেও যদি এমন অবস্থা হয় ভুক্তভোগীরা যাবে কোথায়?

একজন আসামি কি নিজের মামলার নিজে লড়তে পারেন?হ্যাঁ, পারেন।  আইনে একে বলে *"Party in Person"* বা *"নিজে নিজে মামলা পরিচালনা...
26/07/2026

একজন আসামি কি নিজের মামলার নিজে লড়তে পারেন?

হ্যাঁ, পারেন।
আইনে একে বলে *"Party in Person"* বা *"নিজে নিজে মামলা পরিচালনা"*।

*আইনের ভিত্তি কোন ধারা?

*বাংলাদেশের সংবিধান + আইন ২ জায়গায় এর অনুমতি আছে:*

*১. সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ
> "প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের পক্ষে আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থাকিবে"

এখানে "আইনজীবী দ্বারা" বলা আছে, কিন্তু "শুধু আইনজীবী দ্বারাই" বলা নাই।
তাই নিজে লড়ার অধিকারও এর মধ্যে পড়ে।

২. The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর ৩২ ধারা*
> "আদালত, কোনো ব্যক্তিকে, যিনি আইনজীবী নন, তার নিজের মামলায় উপস্থিত হয়ে যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি দিতে পারবেন"

মূল কথা: আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আপনি নিজে লড়তে পারবেন।

নিজে লড়তে চাইলে কি করতে হবে?

1. আদালতে আবেদন*: বিচারককে বলতে হবে "মাই লর্ড, আমি আমার মামলা নিজে পরিচালনা করতে চাই"
2. বিচারকের অনুমতি*: বিচারক যদি মনে করেন আপনি বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাহলে অনুমতি দিবেন
3. *নথি জমা*: নিজের নামে "Party in Person" লিখে কাগজপত্র জমা দিতে হবে

৩টা বাস্তব কথা জেনে রাখুন।
সুবিধা ,,,,,,অসুবিধা
টাকা বাঁচবে** আইনের খুঁটিনাটি না জানলে মামলা হারার রিস্ক
নিজের কথা নিজে বলা যায়** জেরা, আইনি যুক্তি উপস্থাপন কঠিন
সব সময় নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে** কোর্টের ভাষা, প্রসিডিউর না জানলে সমস্যা
*বিচারক কখন "না" বলতে পারেন?
1. মামলা খুব জটিল হলে
2. আসামি মানসিকভাবে অসুস্থ হলে
3. আদালতের শৃঙ্খলা নষ্ট করার সম্ভাবনা থাকলে

আইন আপনাকে অধিকার দিয়েছে, কিন্তু দায়িত্বও দিয়েছে।
ছোট মামলা, জরিমানার মামলায় অনেকে নিজে লড়েন। কিন্তু খুন, ডাকাতি, নারী-শিশু নির্যাতন এর মতো বড় মামলায় অভিজ্ঞ আইনজীবী নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

"আইন জানা আর আইন দিয়ে লড়া এক জিনিস না"

মামলা করার আগে অবশ্যই একজন সিনিয়র আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
প্রয়োজনে লিগ্যাল এইড থেকেও ফ্রি আইনজীবী পাবেন ।

কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।

#আইন #বাংলাদেশের_আইন

23/07/2026

গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এজলাস চলতেছে। এক বিচারক একটা কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারলেন। এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফেটে গেল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হইল। সম্ভবত বাংলাদেশের জুডিশিয়ারির ইতিহাসে এরকম ঘটনা প্রথম।

এই বছরের শুরুতে বরিশালে এক আইনজীবী এজলাস ভাঙচুর করছিলেন। তখন লিখছিলাম— Good lawyer knows the law, great lawyer knows the judge। দেখাইছিলাম, আইনজীবী আর বিচারক শত্রু না, পরিপূরক। পার্ট অব দ্য সেম গেইম।

সেবার তীরটা ছিল আইনজীবীর দিকে। এবার ঘুইরা গেল বেঞ্চের দিকে।

এজলাস সামলানোর জন্য পেপারওয়েট ছুড়ে মারা ছাড়া কি আর কোন উপায় ছিল না?

আদালতে বিশৃঙ্খলা নতুন কিছু না। বৃটিশ আমল থেকেই ছিল। সেইজন্যই তারা বিচারকের হাতে কতগুলা হাতিয়ার দিয়া গেছে— ঠিক এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য।

এক.
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা। বিচারিক কাজে বসা অবস্থায় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারককে অবমাননা করলে অপরাধ। শাস্তি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা।

দুই.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা। এজলাসের সামনে ঘটা অবমাননা বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দণ্ড দিতে পারেন। এইটাই বিচারকের আসল হাতিয়ার।

তিন.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮২ ধারা। নিজে দণ্ড না দিয়া বিষয়টা সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাইতে পারেন।

চার.
Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদ। পেশাগত অসদাচরণ হইলে বিচারক বার কাউন্সিলে রিপোর্ট করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কইরা দণ্ড দেয়, সাময়িক বরখাস্ত করে।

আমার নিজের চোখে দেখা— ঢাকা জজ কোর্টে বিচারকরা ইনস্ট্যান্ট আইনজীবীকে কারাদণ্ড দিছেন, বিচারপ্রার্থীকে পুলিশি কাস্টডিতে পাঠাইছেন।

মানে হাতিয়ার আছে। যথেষ্ট পরিমানে আছে।

একজন বিচারক যখন এই আইনগুলার আশ্রয় না নিয়া পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন— তখন সেটা আর আচরণবিধির মধ্যে থাকে না। তখন সেটা নিজেই একটা ফৌজদারি অপরাধ হইয়া যায়। আর বার-বেঞ্চের ভেতর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথটাও রুদ্ধ হইয়া যায়।

যে বিচারক আইন প্রয়োগ করবেন, তিনি যখন আইন ভাঙেন— আঘাতটা কেবল একজন আইনজীবীর উপর আসে না। আঘাতটা গোটা বিচারব্যবস্থার উপর আইসা পড়ে।

কিন্তু দোষটা কি শুধু ওই বিচারকের?

কিছু বিচারক প্রশ্ন তুলছেন এজলাসের পরিবেশ নিয়া। কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো না। গরমকালে জজ কোর্টের অবস্থা ভয়ংকর হইয়া যায়। গরম আর ঘামে নিশ্বাস নেওয়া যায় না। বিচারপ্রার্থীর চেঁচামেচি। আইনজীবীদের চিল্লাচিল্লি। আমি এর জ্বলন্ত সাক্ষী। এসবের ভেতর এজলাস চালানো সত্যিই কঠিন।

কিন্তু এটা কি একজন আইনজীবীর সমস্যা?
না। এটা গোটা সিস্টেমের সমস্যা। এই সমস্যা উচ্চ আদালতে নাই। তাইলে দায়ী খোদ রাষ্ট্র। আরো স্পষ্ট কইরা বললে— আইন মন্ত্রণালয়।

সিস্টেমের ব্যর্থতার শোধ একজন আইনজীবির উপর নেওয়া যায না। পেপারওয়েট ছুড়ে মারা কোনো সমাধান না। এটা সমস্যাটাকে আরো জটিল কইরা তোলে।

এই ফাটলের ফল ভোগ করবে কে?

একজন আইনজীবীর যেমন দায়িত্ব আছে বিচারকের প্রতি— তেমনি বিচারকেরও দায়িত্ব আছে আইনজীবীর প্রতি। যে কোনো একজন তার দায়িত্ব থেকে সরে গেলেই ফাটল শুরু হয়। তখনই বার আর বেঞ্চ উত্তপ্ত হইয়া ওঠে।

ধরুন, বিচারকরা কাল থেকে ধর্মঘটে গেলেন। বেতন বন্ধ হবে না। আইনজীবীরা আদালত বয়কট করলেন। তাঁদেরও খুব ক্ষতি হবে না। কিন্তু যে মানুষটা পঁচিশ বছর ধইরা তার জমির রায়ের অপেক্ষায়? শুধু সাক্ষীর পর্যায়ে পৌঁছাইতে যার এতগুলা বছর গেছে? তার মামলা আবার ঝুইলা যাবে। তার মাথা গোঁজার ঠাঁই আবার অনিশ্চয়তায় ডুইবা যাবে। কারণ বার আর বেঞ্চ কনফ্লিক্টে।

তাইলে সমাধোনের পথ কী?

আগে একবার লিখছিলাম, কীভাবে এক জেলা জজের সামনে একটা ছোট "সরি" পুরা এজলাসের হাওয়া বদলাইয়া দিছিল। সেই "সরি"-র পরই বিচারক আমার যুক্তি শুনতে রাজি হইছিলেন, শোকজ দিছিলেন, স্টে দিছিলেন। সেদিন শিখছিলাম— Sorry is a beautiful weapon।

আজ গোপালগঞ্জ মনে করাইয়া দিল— এই weapon-টা শুধু আইনজীবীর জন্য না। বিচারকের জন্যও। জুডিশিয়ারি আর বার কাউন্সিলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের এখনই একসাথে বসা দরকার। ঠান্ডা মাথায় সমাধান দরকার।

না হইলে ফাটল বাড়বে। আর ফাটলের নিচে চাপা পড়বে সেই সাধারণ মানুষটা— যে শুধু একটা রায়ের অপেক্ষায় পঁচিশটা বছর পার কইরা দিছ ।।

Address

Fatema Monjil, Room# C-25 (1st Floor), 1 No Rajar Dewar, Kotwali
Dhaka
1100

Telephone

+8801717568343

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Atiqur Rahman Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Advocate Atiqur Rahman Khan:

Shortcuts

Share