22/03/2025
তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে: মার কাছে না বাবার কাছে?
"আমি কি বাবার কাছে থাকবো, না মায়ের কাছে?"
এই প্রশ্নটা শুনলেই যেন একটা কষ্টের অনুভূতি জাগে। তালাক শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ইতি নয়; সন্তানের জীবনের হিসাবনিকাশও বদলে দেয়। সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হয়—সন্তান কার কাছে থাকবে? মায়ের মমতা, না বাবার নিরাপত্তা? ধর্মীয় আইন কী বলে? আর আদালত কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়?
📕একটি বাস্তব গল্প: মীমের বিভক্ত জীবন:
মীমের বয়স মাত্র আট বছর। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে মায়ের কাছে থাকতে চায়। কিন্তু তার বাবা আদালতে মামলা করেছেন তাকে নিজের কাছে নেওয়ার জন্য। বাবা বলছেন, তিনি আর্থিকভাবে বেশি স্বচ্ছল, ভালো স্কুলে পড়াতে পারবেন। মা বলছেন, "সন্তানের জন্য শুধু টাকা যথেষ্ট নয়, মায়ের ভালোবাসা দরকার।" কোর্টে বিচারক প্রথমে মীমের মতামত শোনেন। শিশুটি চোখ ভেজা গলায় বলে, "আমি মায়ের কাছে থাকতে চাই। বাবা অনেক ভালো, কিন্তু মা ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।"
আদালত তার মানসিক স্বাস্থ্য, বয়স এবং ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে রায় দেন—মীম মায়ের কাছেই থাকবে, তবে বাবা নিয়মিত দেখা করতে পারবেন এবং সন্তানের খরচ বহন করবেন।
এটা শুধু মীমের গল্প নয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজারো শিশু তালাকের কারণে এই জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
📖এবার আসি ধর্মীয় আইনের দৃষ্টিকোণ এ-
বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান পারিবারিক আইন অনুযায়ী সন্তান কার কাছে থাকবে, তা ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়।
✅মুসলিম আইন: সাধারণত ছেলেশিশু ৭ বছর এবং মেয়েশিশু ৯ বছর পর্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকে।
👉এরপর বাবার অধিকার বেশি, তবে আদালত শিশুর কল্যাণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
✅হিন্দু আইন:পিতা সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক হলেও মা আদালতে দাবি করলে হেফাজত পেতে পারেন।
👉সন্তানের কল্যাণের বিষয়টি মূল বিবেচ্য।
✅খ্রিস্টান আইন: পিতাই আইনি অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হন, তবে মায়ের দাবি উপেক্ষা করা হয় না।
👉সন্তানের স্বার্থ দেখেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
⚖️আদালত কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়?
আইনগত কাঠামোর বাইরে আদালত সাধারণত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest of the Child) ভিত্তিতে রায় দেয়।
🔊কোন বিষয়গুলো বিচারক বিবেচনা করেন?
🧑🦰শিশুর বয়স ও মানসিক অবস্থা: মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুর মানসিক স্থিতিশীলতা কাদের কাছে নিশ্চিত হবে?
🤵♂️/🧕মা-বাবার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান: কে ভালোভাবে লালন-পালন করতে সক্ষম?
🧑🦳শিশুর মতামত: যদি শিশুর বয়স ১২ বছরের বেশি হয়, তাহলে তার ইচ্ছাও গুরুত্ব পায়।
🤵/🧕মা-বাবার চরিত্র ও জীবনযাপন: কেউ মাদকাসক্ত, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, সেটিও বিবেচিত হয়।
📖একটি গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে তালাকপ্রাপ্ত দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ৭০% ক্ষেত্রে শিশু মায়ের হেফাজতে থাকে। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে আদালত সবসময় মায়ের পক্ষ নেবে।
📣তাহলে, সন্তানের অভিভাবকত্ব কার?
আইন বলবে এক কথা, কিন্তু বাস্তবতা বলবে আরেক।
✅মায়ের কাছে থাকার বয়সসীমা নির্ধারিত, কিন্তু শিশুর কল্যাণ দেখেই আদালত সিদ্ধান্ত দেয়।
✅বাবা যদি দায়িত্ববান হন, আদালত তাকে হেফাজত দিতে পারে।
👉শিশুর মানসিক ও শারীরিক কল্যাণই শেষ কথা।
📕তালাক শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয়, সন্তানের জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আইন আছে, বিচার আছে, কিন্তু দিনশেষে সবচেয়ে বড় বিষয়—সন্তানের ভালো থাকা। তাই মা-বাবার উচিত নিজেদের ইগোর চেয়ে সন্তানের মঙ্গলের কথা ভাবা।
📢আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, হেফাজতের ক্ষেত্রে মাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, নাকি বাবাকেও সমান সুযোগ দেওয়া উচিত? কমেন্টে জানান!