22/04/2026
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত যেভাবে কৌশলগত সংস্কার করছে, তা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত। ৯০-এর দশক থেকেই দলটির নেতারা এমন সংস্কার চেয়েছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
তবে সাধারণ জনগণ বা সমালোচকরা কি এটি গ্রহণ করতে পারছেন? এ ব্যাপারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যারা আগে বারবার বলে আসছিল, “জামায়াত এটা কেন করে না, সেটা কেন করে না,” তারা এখনই সমালোচনা শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ৭১-এর বিরোধী শক্তি শহিদ মিনারে গেছে, স্মৃতিসৌধে গেছে। আজ যখন তারা বৈশাখ উদযাপন করল, তখন বলল-“হালাল বৈশাখ উদযাপন।”
সমালোচকরা প্রায়ই জানে না তারা আসলে কি চায়। রাজনীতি অনেক সময় অন্যের সমালোচনা করে নিজেকে ভাইরাল করার মাধ্যম হয়ে যায়।
জামায়াতের উদ্যোগ যে তাদের নেতাকর্মী বা অনুসারীরা সহজে গ্রহণ করছে, তা নয়। দলের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রাজনৈতিক দল হতে হলে সবার সঙ্গে কাজ করতে হয়, সবার গ্রহণযোগ্য মতকে সম্মান জানাতে হয়।
গত পাঁচ বছরে জামায়াতের যে রাজনৈতিক সংস্কার হচ্ছে, তা দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। জাতীয় সকল অনুষ্ঠানে তাদের আরও ওপেন হওয়া উচিত।
শুধু জামায়াত নয়, যারা ধর্মীয় রাজনীতি করছে, বিশেষ করে চরমোনাই ও অন্যান্য ইসলামীক দলগুলোও, জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে।
৪৭-এর পর থেকে ভারতীয় কালচারাল আগ্রাসন যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা পুনরায় জেগে উঠবে। ভারতীয় ছায়ানটী, উদীচী ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হবে।
ইসলামিক ও জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণে যদি বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক জোয়ার তৈরি হয়, তাহলে ওসমান হাদির স্বপ্ন- কালচারাল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হবে।