ASM International Law Forum

ASM International Law Forum Legal service
(1)

12/11/2025
06/12/2024

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি ইনকরপোরেশন কিংবা রেজিষ্ট্রেশন করার পূর্বে যা জানা আবশ্যক!!

১। আপনি যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটা দোকান বা ছোট পরিসরে একটা বিজনেস শুরু করেন, তাহলে আপনি শুধু একটা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, এবং সেক্ষেত্রে আপনি হবেন ঐ ব্যবসায়ের স্বত্বাধিকারী বা প্রোপাইটর বা মালিক

২। এবং আপনি যদি একটা কোম্পানী গঠন করেন, সেক্ষেত্রে আপনি হবেন ঐ কোম্পানীর চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ডিরেক্টরস্‌দের একজন, বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

৩। লিমিটেড কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়া অবশ্যই আপনাকে তিনটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। এই তিন সার্টিফিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে আপনার লিমিটেড কোম্পানি গঠিত হবে;

(ক) joint stock (RJSC) থেকে সার্টিফিকেট অফ ইন কর্পোরেশন গ্রহন।
(খ) কোম্পানি ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন) থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন।
(গ) জাতীয় রাজ্বস বোর্ড(NBR) থেকে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য বিন(Business Identification Number) রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।

৪। লিমিটেড কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে তিনটি ধাপে -
(ক) নামের ছাড়পত্র গ্রহনঃ একই নামে কখনো একাধিক কোম্পানি হবে না,নামের ছাড়পত্রের মাধ্যমে আপনি আপনার কোম্পানির নামের নিরাপত্তা পাবেন।

(খ) ডকুমেন্টেশন ও সাবমিশনঃ কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য আপনাকে RJSC এর ফরম্যাট অনুযায়ী MOA এবং AOA তৈরি করিতে হবে, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন হল কোম্পানির লক্ষ ও কার্যাবলী সম্পর্কে বর্ণনা, এতে ব্যবসায়ের নাম, ব্যবসার ধরন, ব্যবসার লক্ষ-উদ্দেশ্য, অনুমোধিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমান ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নামের শেষে অবশ্যই লিমিটেড শব্দটি থাকতে হবে।যেখানে শেয়ারের পরিমাণ,অথরাইজ ক্যাপিটাল,পেইড আপ সহ সব বিষয় উল্লেখ থাকবে।এতপর নির্ধারিত সকল ফি দিয়ে আপনার ফাইল RJSC তে সাবমিট করা হবে ।

(গ) সার্টিফিকেটঃ ফাইল সাবমিট ঠিক থাকলে ১৪ কার্য দিবসের মধ্যে RJSC রেজিষ্ট্রার আপনাকে Certificate of incorporation পাঠিয়ে দিবেন।

23/11/2024

আয়কর আইন ২০২৩ এর ১৬৬ এবং ১৬৭ ধারা অনুযায়ী সকল সরকারি চাকুরীজীবি ব্যাংকারদের অবশ্যই রিটার্ন সাবমিট করতে হবে।
যাদের করযোগ্য আয় ৩.৫০ লক্ষ (পুরুষ)/৪ লক্ষ (মহিলা) এর বেশি তাদের শুধু টেক্স দিতে হবে। আর যাদের আয় তার চেয়ে কম তাদের জিরো টেক্স রিটার্ন সাবমিট করতে হবে।

রিটার্ন সাবমিটের শেষ তারিখ: #৩১শে_ডিসেম্বর।

আপনি সম্পূর্ণ নির্ভুল ভাবে অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আপনার ২০২৪-২৫ কর বর্ষের আয়কর জমা দিতে পারবেন।

➡️ ইমেইল/হোয়াটসএপ এর মাধ্যমে ডকুমেন্টস পাঠিয়ে টেক্স রিটার্ন ডকুমেন্টস পেয়ে যাবেন।

যে সকল ডকুমেন্টস লাগবে:-
১. গত বছরের রিটার্ন
২. বেতন/আয় বিবরনী
৩. সম্পদ বিবরনী (নতুন দের জন্য)
৪. টিন সার্টিফিকেট
৫. মোবাইল নম্বর
৬. GPF/DPS হিসাব বিবরণী

যে সকল ডকুমেন্টস পাবেন:-
১. আয়কর সার্টিফিকেট
২. প্রাপ্তিস্বীকার সার্টিফিকেট
৩. রিটার্ন কপি ১০ পৃষ্ঠা

প্রয়োজনে কল করুনঃ +8801517136812(WhatsApp)
+8801896221732

#ফিঃ ২০০০ টাকা।

20/10/2024
07/07/2024

For young lawyer ❤️💚

21/06/2024

শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন।
নতুন দলিল লিখতে ক্রেতা বা গ্রহিতার যে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরী...
সম্পত্তির দলিল লেখার জন্য ‘দলিল লেখক' এর কাছে দায়িত্ব দিয়েই ক্রেতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কেননা পরবর্তীতে দলিলে ভুল পরিলক্ষিত হলে দলিল লেখক নয় এর মাশুল গুনতে হবে ক্রেতাকেই। তাই এতে ক্রেতার সচেতনতা আবশ্যক। সম্পত্তির দলিল লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়ে ক্রেতার লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

১। দলিল সম্পাদনকারী তথা জমি দাতা (বিক্রেতা) আইনের দৃষ্টিতে সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন কি না, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত কি না তা যাচাই করে নিতে হবে৷

২। দলিলের ধরন যেমন- (ক) সাফ কবলা (খ) বায়না পত্র (গ) দানপত্র (ঘ) হেবার ঘোষনাপত্র ইত্যাদি খেয়াল করতে হবে৷

৩। ক্রেতা যে জমিটি কিনতে যাচ্ছেন সেই প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ, বিক্রয় মূল্য (বায়না দলিল হলে বায়নায় পরিশোধিত টাকা এবং বাকী টাকা) ইত্যাদি দেখে নিতে হবে।

৪। পক্ষ পরিচয় তথ্য যেমন- দলিল গ্রহীতা/প্রথম পক্ষ, দলিল দাতা/দ্বিতীয় পক্ষ, উভয় পক্ষের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, পেশা, ধর্ম ইত্যাদি। দলিল গ্রহীতার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাতার ক্ষেত্রে আগত খতিয়ান (সর্বশেষ জরিপ/নামজারি খতিয়ান) এর সাথে মিল রেখে নাম ঠিকানা লেখা হয়েছে কি না দেখতে হবে।

৫। স্বত্ত্বের বর্ণনা যেমন- জমি দাতার মালিকানার ভিত্তি, দলিল মূলে হলে পূর্বের দলিলের নম্বর ও তারিখ, পর্চা/খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি৷

৬। জমির বিক্রেতা যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে তাহলে মূল মালিকের সাথে বিক্রেতা যোগসূত্র/সম্পর্ক সঠিক আছে কিনা তা জেনে নিতে হবে৷

৭। দলিলে প্রস্তাবিত জমির তফশিল যেমন- জেলার নাম, উপজেলার নাম, রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, মৌজার নাম, জেএল নম্বর, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং জমির শ্রেণি আগত খতিয়ানের সাথে মিল আছে কি না দেখে নিতে হবে। জমির তফশিল লেখার সময় প্রত্যেক দাগে মোট জমির পরিমাণ কত এবং অত্র বিক্রয় দলিলে উক্ত দাগের মধ্যে কত একর বা শতাংশ জমি বিক্রয় করা হচ্ছে তা প্রতি ক্ষেত্রে লিখে নিতে হবে৷ তবে উল্লেখ্য যে, কোন অবস্থাতেই কয়েকটি দাগের জমি একত্রে যোগ করে একর/শতাংশ লেখা উচিত হবে না৷

৮। ক্রেতা যে জমিটি ক্রয় করতে চাচ্ছে সেই জমিটির চৌহদ্দি ঠিক আছে কি না অর্থাত্‍ উত্তর, দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিম পাশের জমির বর্ণনা সহ মালিকের নাম উল্লেখ করতে হবে৷

৯। জমি বিক্রেতা বা দলিল দাতা দলিলের ১ম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশ্বের নীচ থেকে উপরের দিকে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করবেন অথবা নিরক্ষর হলে নিজ নামের উপরে টিপ সহি প্রদান করেছেন কি না তা দেখতে হবে৷ এছাড়াও জমি বিক্রেতা বা দাতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে স্বাক্ষর বা টিপ সহি করবেন৷ তবে দলিলের প্রতি পৃষ্ঠায় দাতার স্বাক্ষর বা টিপ সহি দিলে ভালো হয়৷

১০। জমির বিক্রেতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে যে জায়গায় তার নিজ নাম স্বাক্ষর বা টিপ সহি করেছেন ঠিক তার নীচে উক্ত দলিলটির লেখক তার নাম স্বাক্ষর করবেন। এরপর কমপক্ষে ২ জন সাক্ষী এবং অপর একজন জমির বিক্রেতাকে সনাক্ত করে সনাক্তকারী হিসাবে স্বাক্ষর করবেন।

১১। দলিলে যতদূর সম্ভব কাটাকাটি, ঘষামাঝা, অষ্পষ্টতা এড়াতে হবে তবুও যদি কোনরূপ ভুল ক্রটি ঘষামাঝা কাটাকাটি হয়েও যায় তাহলে সেক্ষেত্রে উক্ত কাটাকাটি বা ঘষামাঝা যুক্ত লাইন ও শব্দের ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত লিখে দলিল লেখককে তার নীচে স্বাক্ষর করতে হবে৷

এছাড়াও জমির ক্রেতাকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- বিভিন্ন জরিপের দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর যাতে দলিল লেখকের মাধ্যমে সঠিকভাবে লিখানো হয়৷ এজন্য জমির ক্রেতাকে জমি ক্রয় করার পূর্বেই তহসিল অফিস হতে জমির সঠিক দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর জেনে নিতে হবে৷ প্রয়োজনে খতিয়ানের সইমোহর নকল সংগ্রহ করতে হবে।

যেকোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে তাই শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রেখে দিন এবং অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ। ©

হাইকোর্ট লিখিত পরীক্ষা
16/05/2024

হাইকোর্ট লিখিত পরীক্ষা

 #জুডিসিয়ারী প্রস্তুতি। #রীট কি?রীটের উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে?রীট পিটিশন (Writ Petition) কি?রীট জারীর এখতিয়ার  কোন আদালত...
20/04/2024

#জুডিসিয়ারী প্রস্তুতি।

#রীট কি?রীটের উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে?রীট পিটিশন (Writ Petition) কি?রীট জারীর এখতিয়ার কোন আদালতের?রীটের প্রকারভেদ আলোচনা করুন।হাইকোর্ট বিভাগ স্ব-উদ্যোগে[suo motu] রীট জারি করতে পারে কিনা?রীট সম্পর্কিত বিখ্যাত মামলা সম্পর্কে বলুন।

#রীট[Writ]:
রীট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ। সর্বপ্রথম রীট (Writ) শব্দটির উৎপত্তি হয় বৃটেনে। বৃটেনের রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা অফিসারদেরকে নিজ নিজ কার্যাবলী পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোন অবৈধ কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য রীট জারী করত। পরবর্তীতে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণে ও কাজে সংক্ষুব্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা বিশেষাধিকারবলে তার অফিসারদের উপর রীট জারি করত। এক কথায় রীট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।

#রীট পিটিশন (Writ Petition):
সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রীট পিটিশন নামে পরিচিত। সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন (আবেদন) দায়ের করতে পারে। রীট পিটিশন দায়ের করা একটি মৌলিক অধিকার। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অথবা তার পক্ষে কোন ব্যক্তি অধিকারবলে (as of right) রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য আদালত ৫ ধরনের আদেশ দিতে পারেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দেওয়া এই ৫ ধরনের আদেশকে রীট আদেশ বলা হয়ে থাকে।

#রীট জারীর এখতিয়ার:
সংবিধান শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগকে একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। আদি এখতিয়ার মানে বিচারিক আদালত হিসেবে যে এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে তা রীট এখতিয়ার নামে পরিচিত।

#রীটের প্রকারভেদ:

বাংলাদেশ সংবিধানে পাঁচ ধরনের রীটের কথা বলা আছে।যথা:
(১) Writ of Habeas Corpus (হেবিয়াস কর্পাস)
(২) Writ of Mandamus (ম্যান্ডামাস)
(৩) Writ of Prohibition (প্রহিবিসন)
(৪) Writ of Certiorari ( ছারসিওরারি)
(৫) Writ of Quo Warranto (কুয়া ওয়ারেন্টো)

(১) বন্দী প্রদর্শন রীট (Writ of Habeas Corpus): যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক করা হয়,তখন বন্দী হাজির রীট পিটিশন দায়ের করা যায়। কোন ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কেউ আটক করলে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানার জন্য বন্দীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ আটককারীকে যে আদেশ দিয়ে থাকেন তাকে বন্দী প্রদর্শন রীট বলে। অবৈধভাবে কাউকে যেন আটক করা না হয়, সেজন্য বন্দী প্রদর্শন রীট জারী করা হয়। তাছাড়া নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করার জন্য ও এই রীট জারী করা হয়।

(২) হুকুম জারী রীট (Writ of Mandamus): হুকুম জারী রীটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতকে আইনগত দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিতে পারে। তার মানে কোন অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় বা অস্বীকার করে তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে উক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে বাধ্য করে তাকে হুকুম জারী রীট বলে। হুকুম জারী রীটের আরেক নাম পরমাদেশ রীট।

(৩) নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of Prohibition): এই রীটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাইব্যুনাল কিংবা আদালতকে বেআইনী কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ দিতে পারে। বৃটেনে নিষেধাজ্ঞামূলক রীটকে বিচার বিভাগীয় রীট বলা হয়। কারণ এই রীট শুধু মাত্র কোন বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যায়। যেমন- আইন কমিশনকে আধা-বিচার বিভাগীয় সংস্থা বলা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে নিষেধাজ্ঞামূলক রীটকে আর বিচার বিভাগীয় রীট বলা যায় না। কারণ ইহা বর্তমানে বাংলাদেশে যেকোন ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যায়।

(৪) উৎপ্রেষণ রীট(Writ of Certiorari): অধস্তন আদালত ক্ষমতা বহির্ভূত কোন কাজ করেছে কিনা তা তদারকি করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এই রীট জারী করা হয়।কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল,ব্যক্তি বা সংস্হা যদি তার আইনগত ক্ষমতাকে লংঘন করে কিংবা principle of natural justice যদি ভঙ্গ করে তবে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত কাজ নাকচ করে দেয় তাকে উৎপ্রেষণ রীট বলে।

নোট: নিষেধাজ্ঞামূলক রীট ও উৎপ্রেষণ রীটের মধ্যে পার্থক্য আছে। যখন কোন কর্তৃপক্ষ বেআইনী কাজ করেনি কিন্তু করতে উদ্যত হচ্ছে তখন নিষেধাজ্ঞামূলক রীট জারী করা হয়। আর যেখানে কোন কর্তৃপক্ষ বেআইনী কাজ করে ফেলেছে সেখানে উৎপ্রেষণ রীট জারী করা হয়। তার মানে নিষেধাজ্ঞামূলক রীট হল প্রতিরোধক (Preventive) আর উৎপ্রেষণ রীট হল সংশোধক (Curative)। নিষেধাজ্ঞামূলক রীট ক্ষমতা বহির্ভূত কাজকে শুরুতেই বাধা প্রদান করে। আর Writ of Certiorari এর উদ্দেশ্য হল ক্ষমতা বহির্ভূত কাজকে বাতিল বা নাকচ করে দেয়া।

(৫) কারণ দর্শাও রীট (Writ of Quo Warranto): কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন সরকারী পদ দাবী করে, যে পদের যোগ্যতা তার নেই অথবা অবৈধভাবে যদি কোন সরকারী পদ দখল করে বসে থাকে, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে তার পদ দখলের বা দাবীর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে থাকে তাকে কারণ দর্শাও রীট বলে। এই রীটের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সরকারী পদ দাবীর বৈধতা অনুসন্ধান করে। সরকারী পদের দাবী অবৈধ প্রমাণিত হলে উচ্চ আদালত তাকে পদচ্যুত করার নির্দেশ দিতে পারে। একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন। কারণ দর্শাও রীট যেকোন ব্যক্তি করতে পারে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সংক্ষুব্ধ (aggrieved) হবার প্রয়োজন নেই। দাবীকৃত সরকারী পদটি অবশ্যই সংবিধান বা আইন দ্বারা সৃষ্ট পদ হতে হবে।
নোট: তিন ধরনের রীট একমাত্র সংক্ষুব্ধ(aggrieved) ব্যক্তি করতে পারে। অন্য কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষ হয়ে এই তিন ধরণের রীট করতে পারে না। রীটের নামগুলো হল হুকুমজারী রীট, নিষেধাজ্ঞামূলক রীট এবং উৎপ্রেষণ রীট। এই তিনটি রীট একমাত্র সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিই করতে পারে। অপরদিকে বন্দী প্রদর্শন রীট এবং কারণ দর্শাও রীট যেকোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে হতে পারে। এই দুইটি রীট করতে কোন ব্যক্তিকে সংক্ষুব্ধ হবার প্রয়োজন নেই।

#হাইকোর্ট বিভাগের স্ব-উদ্যোগে[suo motu] রীট জারি করার এখতিয়ার:

কোন পত্র বা তথ্যে বা সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগের স্ব-উদ্যোগে[suo motu] রীট জারি করার এখতিয়ার সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে বলা নেই।তবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ The Supreme Court of Bangladesh(High Court Division) Rules,1973 এর ১০ বিধি অনুযায়ী কোন পত্র বা তথ্যে বা সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগ স্ব-উদ্যোগে[suo motu] রীট জারি করতে পারে।এটাকে হাইকোর্ট বিভাগের Epistolary Jurisdiction বলা হয়।তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই জনগণের মারাত্নক ক্ষতি হতে যাচ্ছে বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হতে হবে।Tayeeb vs Bangladesh (২০১৫) মামলায় আপীল বিভাগ মতামত দেন,কারো মৌলিক অধিকার লংঘন হলে হাইকোর্ট বিভাগ স্ব-উদ্যোগে[Suo motu] রীট জারী করতে পারে।তবে এক্ষেত্রে great public importance থাকতে হবে।সংবাদপত্রের রিপোর্ট, কোন তথ্যকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এক্ষেত্রে রীট এপ্লিকেশন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

#রীট সম্পর্কিত বিখ্যাত মামলা:

*মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (১৯৯৬)
এই মামলা ফ্যাপ-২০ (পরিবেশ বিষয়ক) মামলা নামেও পরিচিত। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বার্থমূলক মামলা (Public Interest Litigation) করার আনুষ্ঠানিক দ্বার খুলে যায়। আপীল বিভাগ এই মামলায় বলেন-“Aggrieved Person” কথাটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে অর্থাৎ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বুঝায় না বরং এটা জনসাধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত। তার মানে “Aggrieved Person” বলতে জোটবদ্ধ বা সমষ্টিগত ব্যক্তিকে বওভেরাল*মোখলেছুর রহমান বনাম বাংলাদেশ [২৬ DLR ১৯৭৪,(AD)৪৪]

রীটের জন্য আবেদন প্রসঙ্গে “সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি” কথাটি এই মামলায় উদারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবেদনকারী ব্যক্তি কাজী মুখলেছুর রহমান বাংলাদেশের বেড়ুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন না। হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটিকে অসময়োচিত (Pre-mature) বলে খারিজ করে দেন। আপীল বিভাগ আবেদনকারীর আবেদন করার যোগ্যতাকে [লোকাস স্ট্যান্ডি(Locus Standi) বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি] বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বৈধতা দেয়।

চাকুরী থেকে অপসারিত একজন সরকারী কর্মচারী তার অপসারণের বিরুদ্ধে রীট দায়ের করতে পারে কিনা?
আমরা জানি সরকারী চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি করেন।চাকুরী থেকে অপসারিত একজন সরকারী কর্মচারী ইচ্ছা করলে তার অপসারণের বিরুদ্ধে উৎপ্রেষণ রীট (Writ of Certiorari) দায়ের করতে পারেন। এই রীটের মূল কথা হলো, কোন অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তি তার আইনগত ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করে কিংবা স্বাভাবিক ন্যায়-নীতি ভঙ্গ করে তবে হাইকোর্ট বিভাগে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। এই ধরনের আবেদনের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগ অপসারণ আদেশ বৈধ কিনা তা যাচাই করে দেখতে পারেন। সরকারী কর্মকর্তাকে যদি অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়ে থাকে তাহলে উক্ত অপসারণ আদেশকে হাইকোর্ট বিভাগ অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন।

#রীট সম্পর্কে একটা সামগ্রিক আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এই আলোচনা থেকে আপনারা কিছুটা উপকৃত হলেও আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

18/04/2024

পারিবারিক সমস্যা নিয়ে মামলা করবেন যেভাবে।

পারিবারিক সমস্যাদি সমাধানের জন্য মামলা করতে হবে পারিবারিক আদালতে। প্রত্যেক জেলায় পারিবারিক আদালত আছে। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫’র ৬ ধারার বিধান অনুসারে এরূপ মামলা করার কারণ যে জেলায় উদ্ভব ঘটবে সে জেলার আদালতে মামলা করা যাবে, স্বামী ও স্ত্রী সর্বশেষ একত্রে যে জেলায় বসবাস করেছেন সে জেলার আদালতে এবং সর্বোপরি মােহরানা, খােরপােষ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার ও বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করছেন সে এলাকার পারিবারিক আদালতে করতে পারবেন।

পারিবারিক আদালতের উদ্দেশ্যঃ-
অল্প সময়ে ও অল্প খরচে নারীদের অধিকারের বিষয়াদি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এ আইন প্রবর্তন করা হয়েছে।

পারিবারিক আদালতঃ-
জেলা সদরে অবস্থিত প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারিত সহকারী জজ আদালতই পারিবারিক আদালত। পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্বে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে এ সকল বিষয়ের বিচার অনুষ্ঠিত হতাে। বর্তমানে উপরােক্ত বিষয়ে বিচার করার এখতিয়ার শুধুমাত্র পারিবারিক আদালতের ।

পারিবারিক_আদালতের এখতিয়ারঃ-
মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১'র বিধান অনুসারে পারিবারিক আদালত নিম্নেক্ত ৫টি বিষয়ের বিচার করে থাকেনঃ
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
(গ) দেনমােহর
(ঘ) খােরপােষ এবং
(ঙ) শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

সমন ও নােটিস খরচঃ-
পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের সময় আর্জির সাথে। মামলার নােটিস ও সমন জারীর খরচ আদালতে দাখিল করতে হবে।

আপােষ ও বিচার ব্যবস্থাঃ-
পারিবারিক আদালতের একটি প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে পক্ষদের মধ্যে আপািস-মিমাংসার চেষ্টা করা। আদালতের উদ্যোগে আপােসের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হলে আদালত সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু করবেন। আদালত উপযুক্ত মনে করলে রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার অনুষ্ঠিত করবেন।

রায় ও ডিক্রীঃ-
আপােসের মাধ্যমে বিরােধের সমাধান করা না গেলে আদালত লিখিত রাং ও ডিক্রী দানের মাধ্যমে বিচার সমাপ্ত করবেন। আদালত ডিক্রীর টাকা কিস্তিতে পরিশােধের আদেশ দিতে পারেন। বিবাদীকে ডিক্রীর টাকা অনাদায়ে ৩ মাস বা টাকা। পরিশােধ না করা পর্যন্ত সময়ের জন্য কারাদণ্ড দিতে পারেন।

আপিলের বিধানঃ-
পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা। যাবে জেলা জজের আদালতে। আপিলের সময়সীমা আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হতে ৩০ দিন। মােহরানা ৫০০০ টাকার বেশী না হলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলবে না।

24/02/2024

Address

Dhaka
1209

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ASM International Law Forum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ASM International Law Forum:

Share

Category