SM Law Firm & Legal Study

SM Law Firm & Legal Study It is such a place where you can solute your legal issues, you can learn about law and you can spread your knowledge.

30/10/2021

সিভিল বা দেওয়ানী মামলার ধারাবাহিক ধাপসমূহ:

আরজি দাখিল (Submission of Plaint)
সিভিল মামলার ধারাবাহিক ধাপগুলো মধ্যে সর্বপ্রথম পর্যায় হলো সেরেস্তাদারের নিকট মামলার আরজি দাখিল করা । আরজির সাথে ওকালতনামাসহ যে সকল দলিল এবং কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে বাদীর মামলার প্রমাণ নির্ভর করে সেই সকল দলিল ও কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় কোর্ট ফিস, প্রসেস ফিস, ডাকযোগে সমন জারীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাপ্তি স্বীকার পত্র ( এডি) সহ দাখিল করতে হবে।

বাদী সরাসরি বা তার আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা তার স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে আরজি পেশ করতে পারেন। [ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩,৪,৬ ও ৭ এবং ধারা ২৬ এর দ্রষ্টব্য ]

আরজি পরীক্ষা ( Plaint test)
আরজি দাখিলের সাথে সাথেই নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করবার জন্য আরজি পরীক্ষা করে দেখা জরুরী।

(১) আদেশ ৭ এবং রুল ৯ এর চাহিদাগুলো অনুসরণ করা হয়েছে কি না ?

(২) মামলার বিষয়বস্তুর মুল্যায়ন সঠিক আছে কি না?

(৩) আরজির সাথে যথাযথ কোর্ট ফিস দেওয়া হয়েছে কি না?
যদি আদালতের নির্দেশ অনুসারে আরজির চাহিদা পুরণ করতে না পারেন, তাহলে আর্জি ফেরত দেয়া হবে।

পেশকারের নিকট প্রেরণ (Sent to Judge’s Assistant )
আরজি এবং আরজির সাথে সকল কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর যদি কোন প্রকার ভুুল না থাকে তাহলে সেরেস্তাদার আরজিটি পেশকারের নিকট পাঠাবেন। এবার কোর্ট ফিস , প্রসেস ফিস, সমন এর কাগজপত্র এবং দলিলপত্রে অন্য কোন ক্রুটি দেখা দিলে সেরেস্তাদার আরজিটি বাদী কতৃক উক্ত ক্রুটি বা অনিয়ম সমাধান না করা পর্যন্ত উক্ত আরজি স্থগিত রাখতে পারেন।

পাঞ্চিং ও কোর্ট ফিস রেজিস্টারে লিখা (Punching and writing in the court fee register)
আরজি পাবার পর পেশকার আরজিতে সংযুক্ত কোর্ট ফি পাঞ্চিং করেন এবং কোর্ট ফি এর টাকার পরিমাণ বা অংক রেজিষ্টারে লিখেন।

আরজি পুনরায় সেরেস্তারের নিকট প্রেরণ (Plaint re-sent to Serestadar)
পাঞ্চিং এবং কোর্ট ফি রেজিষ্টারে এন্টি করবার পরে পেশকার আরজিটি পুনরায় সেরেস্তাদারে পাঠিয়ে দেবেন।

ফাইলিং রেজিস্টারে এন্ট্রি (Entry in the filing register)
এবার পেশকারের নিকট হতে আরজি পাবার পরে সেরেস্তাদার মামলার বিবরণ সুট ফাইলিং রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন এবং আরজিতে মামলার প্রকৃতি, মামলার মূল্য , প্রসেস ফি, কোর্ট ফি , আদালতের এখতিয়ার ইত্যাদি বর্ণনা করে একটি প্র্রতিবেদন লিখে বিচারকের নিকট আরজিটি পেশ করবেন।

এবার বিচারক বা জজ প্রতিবেদন পাঠ পূর্বক আরজিটি গ্রহণযোগ্য হলে আদালত প্রাথমিকভাবে তা গ্রহন করার অথবা গ্রহণযোগ্য না হলে প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দিয়ে অর্ডার সিটে প্রথম আদেশটি আদালত লিখেন।

সুট রেজিস্টারে এন্ট্রি (Entry in the suit register)
আদালত প্রথম আদেশটি লেখার পর সেরেস্তাদার আরজিটি তার সেরেস্তায় নিয়ে যান এবং সেটি টাইটেল সুট রেজিস্টারে মামলার যাবতীয় বিশদবিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।এই মামলার বিবরণ রেজিস্টারে যে ক্রমিক নাম্বারে লিখা হয় সেটাই মামলার নাম্বার হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমনঃ- দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ০১/২০২১ ।

সেরেস্তাদার কর্তৃক সীলকরণ (Attested by Serestadar)
এবার সেরেস্তাদার সকল সমন গুলোতে স্বাক্ষর করেন এবং সেই সমনগুলোতে আদালতের সীলমহর লাগান তারপর সমনগুলো পিয়নবহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

নেজারতে প্রেরণ ( Sending Nezarat )
এরপর পিয়নবহিতে লিপিবদ্ধ করার পর সেরেস্তাদার সমনগুলো পিয়ন বইয়ের মাধ্যমে নেজারতে পাঠিয়ে দেন । এবার নাজির বা তার সহকারী পিয়ন তার বহিতে প্রাপ্তি স্বীকারের দস্তখত দিয়ে সমনগুলো গ্রহণপূর্বক সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে সমনের একটি বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।

প্রসেস বন্টন (Process distribution)
এবার নাজির সমনগুলো জারি করার জন্য প্রসেস সার্ভারদের মধে বিতরণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রসেস সার্ভারের নাম ও সমন ফেরতের তারিখ রেজিস্টারে লিখে রাখেন।
সমন ফেরত ( Return of summons)
এবার সমন জারির পর প্রসেস সার্ভার ফেরত সমনের পৃষ্ঠে জারি-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সহকারে ফেরত সমন নাজিরের নিকট দাখিল করেন। তারপর নাজির ফেরত সমনের উপর যথারীতি জারি কথাগুলো লিখে তার নিচে সীলযুক্ত স্বাক্ষর প্রদান করেন। অতঃপর তিনি সেটি হাওলা-রেজিস্টারে জারিকারকের নামসহ জারি-সম্পর্কে একটি বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন।

সেরেস্তাদারের নিকট প্রেরণ (Sent to Serestadar)
এবার নাজির পিয়ন বইয়ের মাধ্যমে ফেরত সমনগুলো সেরেস্তাদারের নিকট পাঠিয়ে দেন এবং সেরেস্তাদার সমনগুলোকে মামলার নথির সাথে সংযুক্ত করেন।

[বি:দ্র: ডাক সমন রেজিট্রি করার রসিদ এবং প্রাপ্তি স্বীকার পত্র ( এডি ) নথিতে সংযুক্ত করতে হবে]

পেশকারের নিকট প্রেরণ (Sent to Judge’s Assistant)
এবার সেরেস্তাদার নথিটি বিবাদীর হাজিরার জন্য ধার্য তারিখে পেশকারের নিকট প্রেরণ করবেন। এবার পেশকার আরজিটি এজলাসের বিচারকের নিকট পেশ করবেন।

বিবাদীর হাজিরা (Defendant’s presence )
এই পর্যায়ে হাজিরার জন্য ধার্য তারিখে বিবাদী আদালতে হাজির হয়। যদি বিবাদী ধার্য তারিখে হাজির না হয় তাহলে আদালত মামলাটি একতরফাসুত্রে নিস্পত্তি করতে পারেন।বিবাদির হাজিরার তারিখে লিখিত বর্ণনা (written statement) দাখিল করতে
হয় ।।

সেদিন লিখিত বর্ণনা (written statement) দাখিল করতে না পারলে বা লিখিত বর্ণনা প্রস্তুত না থাকলে বিবাদী সময়ের প্রার্থনা ( Time petition ) এর দরখাস্ত দিতে পারে এবং আদালত ইচ্ছে করলে তা মঞ্জুর করতে পারেন।

এই পর্যাযে বাদী যদি উপস্থিত না থাকে অথবা বাদী বিবাদী উভয় পক্ষই অনুপস্থিত থাকে তাহলে আদালত মামলাটি খারিজ দিতে পারেন। [বি:দ্র: আদেশ ৯ ]

লিখিত বর্ণনা দাখিল (Submit written statement)
এবার বিবাদীর হাজিরার পর লিখিত বর্ণনা ( written statement ) দাখিলের কাজ শুরু। লিখিত বর্ণনা দাখিলের তারিখে বিবাদী লিখিত বর্ণনা ( written statement ) দাখিল করতে না পারলে আদালত বিবাদীর প্রার্থনাক্রমে লিখিত বর্ণনা ( written statement ) দাখিলের জন্য পুনরায় সময় দিতে পারেন অথবা মামলাটি একতরফাসুত্রে নিস্পত্তি করতে পারেন।[ বি:দ্র: আদেশ ৮ ]

প্রথম শুনানী ( First hearing)
এবার আদালত আরজির বর্ণনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা অর্জন এবং মামলার প্রকৃত বিচার্য বিষয় ( Cause of action ) নির্ণয়ের জন্য উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করেন। প্রথম শুনানির সময় আদালত বাদী ও বিবাদীর আরজি এবং লিখিত বর্ণনায় যে সকল বিষয় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি সেগুলো স্বীকার বা অস্বীকার করেন কিনা জিজ্ঞাসা করেন।

ছানী মামলা ( Cataract case )
(১) ছানী মামলার ক্ষেত্রে ৯ আদেশের ৪ নিয়ম অনুযায়ী মোকদ্দমার শুনানিকালে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষই অনুপস্থিত থাকায় মামলা ডিসমিস হলে, বাদী সঙ্গত কারণে দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশের ৪ নিয়মে ছানী করে পূর্ব ফাইলে ও নাম্বার মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

(২) ছানী মামলার ক্ষেত্রে ৯ আদেশের ১৩ নিয়ম অনুযায়ী মোকদ্দমার শুনানির দিন বাদীর অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হলে বাদী সঙ্গত কারনে দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশের ৯ নিয়মে ছানী করে মোকদ্দমা পূর্বের ফাইলে ও নাম্বারে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।

(৩) ছানী মামলার ক্ষেত্রে ৯ আদেশের ১৩ নিয়ম অনুযায়ী মোকদ্দমার শুনানির দিন বিবাদীর অনুপস্থিতির কারণে মোকদ্দমা এক তরফা ডিক্রি হলে , বিবাদী সঙ্গত কারণে এক তরফা ডিক্রি রদ রহিতের জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশের ১৩ নিয়মে ছানী করতে পারেন বা আপীল করতে পারেন এবং আদালত সাক্ষ্য -প্রমাণের উপর ভিত্তি করে যথাযথ মনে করলে এক তলফা ডিক্রি রদ রহিতক্রমে মোকদ্দমা পুনবির্চারের জন্য মামলাটি পুর্বের ফাইলে ও নাম্বারে পুনরুজ্জীবীত করতে পারেন।

সিভিল মামলার ধারাবাহিক ধাপগুলো একজন আইনজীবীর জন্য কতটা জরুরী!
Development of civil cases!

বিচার্য বিষয় নির্ধারণ ( Determining the subject to be judged)
লিখিত বর্ণনা ( written statement ) দাখিলের পর এবং আরজি ও বর্ণনার বিষয়বস্তুু সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা অর্জন করার পর আদালত বিচার্য বিষয় নির্ণয় করেন। মনে রাখতে হবে মামলার বিচারকালে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

মুল কারণ হলো আরজি এবং বর্ণনা নয় বরং বিচার্য বিষয়ই যথাযথ সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।বিচার্য বিষয় দু রকমের হয়ে থাকে । (১) আইনগত বিচার্য বিষয় এবং (২) ঘটনাগত বিচার্য বিষয় ।

প্রথম শুনানির সময় যদি আদালত মনে করেন যে, বাদী-বিবাদীর মধ্যে আইনের বা ঘটনার কোন বিচার্য বিষয় নেই তাহলে আদালত সাথে সাথে মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন। [ Order 15,Rule 1 & 2 ]

ডিসকভারী, ইনসপেকশন এবং এডমিশন ( Discovery, inspection and admission)
এই পর্যায়ে ডিসকভারীর দ্বারা মামলার কোন দলিল বা কোন স্বীকারোক্তি সম্পর্কে একপক্ষ অপর পক্ষকে প্রয়োজনীয় কোন বিষয় বা তথ্য প্রকাশে বাধ্য করতে পারে বা চলমান মামলার সাফল্য অথবা প্রতিপক্ষের মামলার পরাজয় বয়ে আনতে সহায়ক হয়।

আরজি বা লিখিতি বর্ণনায় বাদী বা বিবাদীর মামলা সম্পুর্ণরুপে স্পষ্ট নাও হতে পারে। এই কারণে ডিসকভারী, ইনসপেকশন এবং এডমিশন এর বিধান সংযোজিত হয়েছে।মামরার একপক্ষ অপর পক্ষকে কোন বিষয় লিখিতভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং তার পরিপেক্ষিতে অপর পক্ষকে লিখিত জবাব দিতে হয় ।

এটাকে প্রশ্নের মাধ্যমে কোন ঘটনার উৎঘাটন বলা হয় । একপক্ষ অপর পক্ষের দখল অথবা আওতাধীন কোন দলিল সম্পর্কে কোন তথ্য জানার প্রয়োজনবোধে অপর পক্ষকে উক্ত দলিল প্রকাশে বাধ্য করার জন্য আদালতে প্রার্থনা করতে পারেন।

আদালত তাকে উক্ত দলিল পর্যালোচনা করার বা পড়ার এবং তার নকল নেওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। একে দলিল উৎঘাটন বলা হয়। একপক্ষ অপর পক্ষকে মামলার কোন দলিল বা কোন ঘটনা স্বীকার করার জন্য লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আহ্বান করতে পারেন। এইরুপ নোটিশের প্রেক্ষিতে লিখিতভাবে অপর পক্ষ যদি অনুরুপ স্বীকারোক্তি করেন তাহলে তাকে নোটিশের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি বলা হয় ।

দলিল দাখিল, আটক রাখা, ফেরতদান এবং তলব (Submission of documents, detention, refund and summons)
যে সকল দালিলিক সাক্ষ্য পূর্বে দাকিল করা হয়নি প্রথম শুনানির সময় পক্ষগণকে সেগুলো অবশ্যই দাখিল করতে হবে। এছাড়াও আদালত যদি অন্য কোন দলিল দাখিলের অনুমতি দেন তাও দাখিল করতে হবে। [ Order 13, Rule 1 ]

ছোলেনামা (Solenama)
আদালত মামলার যে কোন অবস্থায় আপোস-মীমাংসা করে আদালতে ছোলেনামা দাখিল করতে পারেন এবং উক্ত ছোলেনামার শর্ত আইননানুগ হলে উক্ত ছোলেনামার শর্ত অনুসারে মামলা নিস্পত্তি হবে এবং ছোলেনামা ডিক্রির একাংশ বলে গণ্য হবে।

The-Basic-Steps-of-Civil-Litigation
The-Basic-Steps-of-Civil-Litigation
মোকদ্দমা উঠিয়ে নেওয়া ( Withdrawal of litigation)
মামলা উঠিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মামলার গঠনপ্রণালীতে কোন ক্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিলে এবং উক্তরূপ ক্রুটি সংশোধনযোগ্য না হলে বাদী তার আরজি উঠিয়ে নিয়ে আরজিটি যথাযথভাবে পুনর্গঠন করে পুনরায় মামলা দাখিল করতে পারবেন।

সাক্ষীর প্রতি সমন ( Summons to witnesses)
এবার চুড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণের পূর্বে মামলার শেষ পর্যায় হল সাক্ষীদের প্রতি সমন প্রদান করা। কমিশনের মাধ্যমে কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের প্রার্থনা যথাসম্ভব শীঘ্রই করা উচিত। [ বি:দ্র: কোন বিশেষজ্ঞকে সাক্ষী হিসেবে ডাকতে হলে তাকে দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ আদেশের ২ নং বিধান অনুযায়ী যথেষ্ট সময়ের পূর্বে আদেশটি পালন করা উচিত।

Development of civil cases!
সিভিল মামলা
চুড়ান্ত শুনানির তারিখ ( Final hearing date)
অবশেষে এই পর্যায়ে চুড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

চুড়ান্ত শুনানি ( Final hearing )
এই পর্যায়ে মামলার পক্ষগণ প্রথমে স্ব স্ব মামলার বিষয়বস্তুু সম্পর্কে আদালতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করেন এবং কাঠগঢ়ায় শপথপূর্বক বাদী-বিবাদী ও তাদের সাক্ষীগণ সাক্ষ্য-প্রদান করেন এবং আদালত সাক্ষীগনের প্রদত্ত সাক্ষ্য যথাসম্বভ হুবহু লিপিবদ্ধ করেন। তবে যদি আদালত মনে করেন কোন অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব আদালত ইচ্ছে করলে নাও লিখতে পারেন। এভাবে মামলার বিষয়বস্তুু সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত শুনানিকে মামলা শুরু বলা হয়।

যুক্তিতর্ক ( Argument )
এই পর্যায়ে শুরু হয় বিজ্ঞ কৌসুলীর আইনী যুক্তিতর্ক ‍উপস্থাপনের ধার্যকৃত দিন। এদিন বাদী-বিবাদী ও উভয় পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই যুক্তিতর্কের মূল উদ্দেশ্য হল, মামলার মুরু হতে শেষ পযন্ত সকল বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার বিচারকের সামনে তুলে ধরা হয় এবং বিচারকের যাবতীয় সন্দেহ সংশয় ও জটিলতা দুর করে বিচারকের মনে মামলা সস্পর্কে একটি নিখুত ও স্বচ্ছ ধারণা প্রতিষ্ঠা করা ।

যুক্তি তর্কের সাধারন নিয়ম হল, বিবাদী প্রথম তার যুক্তিতর্ক পেশ করবে এবং পরবর্তীতে বাদী তার জবাব দেবে। যদি বিবাদী কোন সাক্ষী না দিয়ে থাকে তবে বাদী প্রথম যুক্তিতর্ক পেশ করবে এবং বিবাদী পরবর্তীতে তার জবাব দেবে। এটা অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে, ‍যুক্তিতর্ক যেন স্পষ্ট, আইনসম্মত, গ্রহণযোগ্য, সুবিন্যস্ত এবং সংক্ষিপ্ত হয়।

রায় ঘোষণা ( Judgment announced)
এবার যুক্তিতর্ক শুনানির পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে আদালত বাদী-বিবাদীর স্ব স্ব বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তুু , মামলার বিচার্য বিষয় , সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা ও যুক্তি এবং সর্বশেষ আদেশ ইত্যাদি ধারাবাহিক ভাবে বিষদভাবে লিপিবদ্ধ করবেন।

ডিক্রি (Decree)
রায় ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে আদালতে ডিক্রি প্রস্তুত করা হয়। কোন কোন মামলায় দুবার ডিক্রি দিতে হয়। প্রথমবার প্রাথমিক ডিক্রি এবং পরে চুড়ান্ত ডিক্রি দেওয়া হয়।

ডিক্রি জারি (Decree issued )
দেওয়ানী মামলার সর্বশেষ স্তর হলো ডিক্রি জারি । ডিক্রিতে যদি বিবাদীর প্রতি ডিক্রি কার্যকর করার নির্দেশ থাকে এবং তদানুযায়ী বিবাদী যদি ডিক্রি কার্যকর না করে তাহলে বাদীকে আদালতযোগে উক্ত ডিক্রি কার্যকর করার জন্য দরখাস্ত করতে হয়। একে ডিক্রি জারি মোকদ্দমা বলা হয়। অবশ্য ডিক্রি জারি মোকদ্দমার কিছু ভিন্ন স্তর রয়েছে।

Judgment Review
রায় রিভিউকরণ (পুনঃমূল্যায়ন) (Judgment review )
বিচারকালে যদি অত্যাবশ্যকীয় দলিলাদি সম্বন্ধে পক্ষগণ অবগত না থাকে অত্যাবশ্যকীয় দলিল নথিতে থাকা সত্ত্বেও ভুলক্রমে বিচারে প্রমাণ না হয়ে থাকলে বা অন্যান্য সঙ্গত কারণে পক্ষগণ রায়টি রিভিউ করার জন্য আদালতে দরখাস্ত দিতে পারে এবং আদালত পরীক্ষান্তে সঙ্গত কারণে রায় সংশোধন করতে পারেন।

আপীল ( Appeal)
এবার পক্ষগণের মধ্যে যে কোন পক্ষ নিম্ন আদালতে অকৃতকার্য হলে, তদ্বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করতে পারেন।

(সংগ্রহীত)

23/09/2021
"মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন : প্রায় ২ লক্ষাধিক মামলা চলমান থাকলেও নেই স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল" জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ...
21/06/2020

"মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন : প্রায় ২ লক্ষাধিক মামলা চলমান থাকলেও নেই স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল" জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল BDLAWNEWS এ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে আইনের কার্যকারিতা সাদৃশ করার চেস্টা করেছি।

দেশে চলমান সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো মাদকদ্রব্য। মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ ও তার অনি...

https://www.bdlawnews.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e...
16/06/2020

https://www.bdlawnews.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%93-%e0%a6%a6%e0%a6%ae%e0%a6%a8/

সম্প্রতি লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশী হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে৷ যেখানে দেখা যায়, বা....

https://www.bdlawnews.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e...
13/06/2020

https://www.bdlawnews.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa/

আইন বিরুদ্ধ সব কাজই কি অনৈতিক? আইন ও নৈতিকতা বিষয়দুটি একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেমনিভাবে আইনের মূল ভ.....

কপিরাইট কি :কপিরাইট হলো একজন সৃজনশীল ব্যক্তির নৈতিক ও আর্থিক অধিকার যা লংঘিত হলে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইনে প্রতিকার পাওয়া...
23/05/2020

কপিরাইট কি :
কপিরাইট হলো একজন সৃজনশীল ব্যক্তির নৈতিক ও আর্থিক অধিকার যা লংঘিত হলে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইনে প্রতিকার পাওয়া যায়। এছাড়া কপিরাইট একজন সৃজনশীল ব্যক্তির আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে।

একজন সৃজনশীল ব্যক্তি যখন তার নিজস্ব চিন্তা-চেতনা ও মেধায় কোন কিছু সৃষ্টি বা তৈরী করে মূলত তখন ঐ সৃষ্টিশীল কর্মটির উপর তার একচ্ছত্র কপিরাইট বা আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়। কপিরাইটের বৈধ স্বত্বাধিকারী বা মালিক বা প্রণেতার অনুমতি ব্যতিরেকে বা রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটের ইস্যুকৃত সনদ বা লাইসেন্সর শর্ত ভঙ্গ করে যদি কেহ সৃষ্টিশীল কর্ম ব্যবহার,প্রকাশ,হস্তান্তর,ভোগ করে থাকে তখন এ ধরনের কার্যক্রম আইনত কপিরাইট লংঘন বলে বিবেচিত হবে।

যে সকল সৃজনশীলকর্ম কপিরাইটের আওতাভুক্ত :
সকল ধরনের বই বা পুস্তক, ধারণাপত্র, গবেষনাপত্র, সকল ধরনের সংগীত কর্ম, সকল ধরনের ভিডিও, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট, সকল ধরনের অ্যাপস, গেইম, ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব, নাটক, চলচিত্র, কাটুন, অ্যানিমেশন, বিজ্ঞাপন, স্লোগান, নকশা,লোগো,ফটোগ্রাফ, থিম সং, স্কেচ, ভাস্কর্য, পেইন্টিংসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম এবং লোক সাংস্কৃকিত অভিব্যক্তি ইত্যাদি ( সকল ধরনের নিষিদ্ধ বা অবৈধ কর্ম কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন যোগ্য নয়)

কপিরাইটের আওতাভুক্ত কর্মসমূহ কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করালে যে যে সুবিধাসমূহ ভোগ করা যায় :
* আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা পাওয়া যায়।
* কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন সনদ মেধাস্বত্ব বা সৃজনশীল কর্মের অবৈধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক, দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে আইনগত প্রতিকার পাওয়া যায় ।
* আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় ।
* কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন সনদ যে কোন আদালতে মালিকানা বা স্বত্বাধিকারী স্বত্ব সংক্রান্ত উদ্ভূত জটিলতার ক্ষেত্রে আইনত প্রমাণক হিসেবে বিবেচিত হয়।
* কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন সনদ উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানাস্বত্ব নিশ্চিত করে।
* কপিরাইট সনদ একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি/স্বকীয়তা তথা সুনামের আইনগত সুরক্ষা প্রদান করে।
* বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়ায় সংগীত,নাটক,চলচ্ছিত্র,ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান,যে কোন ভিডিও ইত্যাদি আপলোড বা অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন সনদ মালিকানা স্বত্বের আইনগত প্রমাণক হিসেবে দাখিল করা যায়।
* বাংলাদেশ বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার সদস্য হওয়ায় কপিরাইট সনদ বিশ্বের যে কোন দেশে উক্ত দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে আর্থিক ও নৈতিক অধিকার সংরক্ষন করে থাকে।

কোথায় কি ভাবে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করা যায় :
বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস,জাতীয় গ্রন্থগার ভবন(৩য় তলা),আগারগাঁও,শেরেবাংলা নগর,ঢাকা-১২০৭ এ উপস্থিত হয়ে অথবা কপিরাইট অফিসের http://www.copyrightoffice.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন আবেদন শীর্ষক অপশনে ক্লিক করে ম্যানুয়েল বা অনলাইন দুই পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্রে কি কি তথ্য উল্লেখ করতে হয়
* আবেনকারীর নাম,ঠিকানা ও জাতীয়তা
* আবেদনকারীর স্বার্থের ধরন ( অথাৎ প্রণেতা/হস্তান্তরসূত্রে/উত্তারিধিকারিসূত্রে)
* কর্মটির প্রকৃতি এবং বিবরণ
* কর্মটির শিরোনাম
* কর্মের ভাষা
* লেখক/রচয়িতা/প্রণেতার নাম,ঠিকানা ও জাতীয়তা
* কর্ম প্রকাশিত হয়েছে কিনা তার বিবরণ
* প্রকাশিত হলে প্রথম প্রকাশনার বছর,স্থান এবং প্রকাশকের নাম,ঠিকানা ও জাতীয়তা
* পরবর্তীকালে আরো প্রকাশ হইলে সেইক্ষেত্রে প্রকাশকের নাম,ঠিকানা ও জাতীয়তা
* কর্মটি যদি শিল্পকর্ম হয়ে থাকে তাহলে মূল কর্মটি কোথায় আছে এবং যাদের আয়েত্বে আছে তাদের নাম,ঠিকানা ও জাতীয়তা
* মন্তব্য যদি থাকে
* যোগাযেগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর,ই-মেইল নম্বর, ব্যাংক চালান নম্বর, ব্যাংকের নাম,শাখার নাম, চালান জমাদানের তারিখ,নাম ,স্বাক্ষর সীল ও তারিখ।

কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আবেদনের সাথে জমা প্রদান করতে হয় :
# ম্যানুয়েল পদ্ধদিতে আবেদন করলে আবেদনপত্র ২ কপি।
# জাতীয় পরিচয় পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি ১ কপি করে।
# আবেদিত প্রতিটি কর্মের ২ কপি,সংগীত কর্মের ক্ষেত্রে ১টি গানের তালিকা,শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে ২ কপি ( এক কপি শক্ত কভার পেজে পেস্টিং করে দিতে হবে)।
# বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায় ১-৩৪৩৭-০০০০-১৮৪১ কোড নম্বরে ১০০০/-(এক হাজার) টাকা ট্রেজাারী চালান করে তার মূল কপি এবং এক কপি ফটোকপি।
# কর্মটি মৌলিক মর্মে আদালতে কোন মামলা-মোকদ্দসা বিচারাধীন নেই এবং প্রদত্ত তথ্য নির্ভুল ঘোষনা সংবলিত লিখিত অঙ্গীকার নামা।
# কর্মের সাথে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনাপত্তিপত্র।
# হস্তান্তর বা চুক্তিপত্রমুলে কপিরাইট মালিক হলে ৩০০/- (তিনশত) টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত দলিল।

কপিরাইট লংঘন হলে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যায় :
কপিরাইট লংঘন জনিত সংক্ষুব্ধ যে কোন ব্যক্তি তার অভিযোগটি লিখিত আকারে কপিরাইট রেজিস্ট্রার বরাবর অথবা এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে দাখিল করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কর্মটি অবশ্যই কপিরাইট রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।

কপিরাইট লংঘনের শাস্তিঃ
কপিরাইট লংঘনের শাস্তি অনুর্ধ্ব ০৪(চার) কিন্তু অন্যূন ০৬(ছয়) মাস কারাদন্ড এবং অনূর্ধ্ব দুই লক্ষ টাকা কিন্তুু অন্যূন পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড।
অভিযোগের ভিত্তিকে কপিরাইট অফিস কি কি শাস্তি প্রদান করতে পারে :
কপিরাইট অফিস কোন কারাদন্ড দিতে পারে না শুধূমাত্র অর্থদন্ড প্রদান করতে পারে যা দেওয়ানী আদালতের ডিক্রীর ন্যায় কার্যকর হয়।

‌লেখক:
এ.কে.এম জাহিদ
এলএল.বি, এলএল.এম, আইন ও বিচার বিভাগ, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি।
কপিরাইট সহকারী পরীক্ষক

জনাব কে এম খালিদ ১৯৫৫ সালের ০৪ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ...

ই-পাসপোর্ট,  বৃত্তান্ত!
25/01/2020

ই-পাসপোর্ট, বৃত্তান্ত!

06/12/2019

থানায় পুলিশ মামলা না নিলে প্রতিকার
কী?
ফৌজদারি মামলার একটা বড় অংশের
কার্যক্রম শুরু হয় থানায় এজাহার দায়েরের
মধ্য দিয়ে। আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত
হওয়ার পর কোনো নাগরিক থানায় মামলা
করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা
নিতে বাধ্য। কোনো কারণে আইন-শৃঙ্খলা
বাহিনী থানায় মামলা নিতে না চাইলে
সংক্ষুব্ধ নাগরিক কী করবেন? সে বিষয়টি
তুলে ধরে হলো।
থানায় মামলাঃ
অপরাধ সংঘটনের পর বিচারপ্রার্থীর প্রথম
কাজ হলো থানায় মামলা দায়ের করা। এর
পর মামলা তদন্তের মাধ্যমে শুরু হয়
বিচারকাজ। পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা
নিতে বাধ্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়,
প্রভাবশালীদের চাপে থানার পুলিশ
মামলা নিতে চায় না। মামলার বাদী
তুলনামূলক দুর্বল হলে থানার পুলিশ এ ধরনের
আচরণ করে থাকে বলে অভিযোগ শোনা
যায়।
দৃশ্যপট-১
নিজে একজন নারী ও পুলিশ সদস্য। তিনি
গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন অপর এক পুলিশ
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, যিনি তাঁর সাবেক
স্বামী। পুলিশ হওয়া সত্ত্বেও ধর্ষণের
মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তা
নেয়নি।
দৃশ্যপট-২
রেহানাকে (ছদ্মনাম) নানাভাবে উত্ত্যক্ত
করত তারই সহপাঠী অর্ণব (ছদ্মনাম)। একদিন
স্কুল থেকে ফেরার পথে রেহানাকে বাজে
প্রস্তাব দেয় অর্ণব। প্রতিবাদ করলে অন্য
সহপাঠীদের সামনে তার শ্লীলতাহানি
করে বসে অর্ণব। এ ঘটনায় মানসিকভাবে
বিপর্যস্ত হয়ে রেহানা অভিমান করে
আত্মহত্যা করে বসে। পুলিশ অস্বাভাবিক
মৃত্যু হিসেবে বিষয়টি বর্ণনা করে একটি
মামলা করে। মৃত্যুর আগে রেহানা নিজের
সুইসাইড নোটে এই পরিণতির জন্য অর্ণবকে
দায়ী করে। রেহানার বাবা-মা থানায়
গিয়ে এ সুইসাইড নোটটি আমলে নিয়ে
অর্ণবকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ তা
আমলে নিতে গড়িমসি করে। অর্ণবের বাবা
স্থানীয়ভাবে প্রতাপশালী হওয়ায়, আগে
থেকেই তিনি থানাকে হাতে
রেখেছিলেন। অন্যদিকে নিজের আদরের
মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও প্রকৃত
অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে
না দেখে রেহানার বাবা-মা ভেঙে
পড়েন।
প্রতিকার কী?
এ রকম অবস্থায় আইনের বিধান কী? পুলিশ
যদি মামলা নিতে নাই চায়, সে ক্ষেত্রে
তাদের বাধ্য করার মতো কোনো সুযোগ
আছে কি? হ্যাঁ, চারটি উপায়ে পুলিশের
নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধে ভিকটিম বা
ভিকটিমের পরিবার প্রতিকার পেতে
পারেন। পর্যায়ক্রমে সেগুলো নিয়ে
আলোচনা করা যাক।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাঃ
থানায় পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে
একজন ভালো আইনজীবীর পরামর্শক্রমে
নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা
করা যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মামলা
করলে আদালতে সংশ্লিষ্ট থানাকে
মামলাটি রুজুপূর্বক তদন্তের নির্দেশ দেবে
এবং আদালতের এ নির্দেশ মানতে বাধ্য।
অন্যসব পন্থার মধ্যে এটি সহজতর এবং এতে
সময় কম অপচয় হবে, অর্থনীতিক ঝুঁকিও
কমবে।
হাইকোর্টে মামলাঃ
দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হলো থানা পুলিশ
মামলা নিতে না চাইলে হাইকোর্টে রিট
দায়ের করে প্রতিকার চাওয়া যায়। রিট
আবেদনে ভিকটিম বা তার পরিবার থানায়
মামলা দায়েরের অনুমতি প্রদান ও
আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ প্রার্থনা
করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ রায়
প্রদান করলে পুলিশ রায় মানতে বাধ্য।
মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ
পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে প্রতিকার
চাওয়ার তৃতীয় মাধ্যম হলো জাতীয়
মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া বেসরকারি
মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এ ধরনের
অভিযোগ দেওয়া যায়। বিশেষ করে নারী
নির্যাতন ও মানবিক বিষয়গুলো
মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন
করলে তাঁরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে
পারেন।
মামলার পদ্ধতিঃ
নালিশি মামলার ক্ষেত্রে আদালতে
রাষ্ট্রপক্ষ প্রথমেই মামলা শুরু করে না।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশকে
অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার
জন্য আদেশ দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে
মামলা পরিচালনা করবেন। তাই নালিশি
মামলার ক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ দায়ের
করে পরবর্তী শুনানির দিন যদি সংশ্লিষ্ট
বাদী আদালতে হাজির না হয় কিংবা
ঘটনা তদন্তের যদি অভিযোগের সত্যতা
প্রমাণিত না হয়, তবে ম্যাজিস্টেট
মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন।
অভিযোগকারী চাইলে এর বিরুদ্ধে জজ
আদালতে বা হাইকোর্টে যেতে পারেন।
করণীয়ঃ
পুলিশ থানায় কখনো মামলা নিতে না
চাইলে বিচলিত হয়ে নিজেকে অসহায়
ভাবার কোনো কারণ নেই। আইনানুযায়ী
যে কেউই এ রকম পরিস্থিতিতে সরাসরি
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে নালিশি
মামলা করে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে
পারেন। তবে আমাদের দেশের বাস্তবতায়
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসহায় ও দরিদ্র
বিচারপ্রার্থীরা থানায় আইনের আশ্রয় না
পেলে পুলিশকে এড়িয়ে অজ্ঞতা, দীনতা ও
নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার দরুন ম্যাজিস্ট্রেট
আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না।
জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার
নিশ্চিত করতে তাই এ ব্যাপারে সচেতনতা
বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র
জনগোষ্ঠেীর জন্য সরকারের আইনি
সহায়তা প্রদান কর্মসূচিও ব্যাপক পরিসরে
বাড়লে উপকার পাবে সাধারণ মানুষ।
(কপি)

01/12/2019

যারা ট্রেড লাইসেন্স করতে চান উনাদের
স্বার্থে পোষ্টটি করা।
★বিষয়: ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়মাবলী
এবং এটার জন্য কী কী লাগে?
পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্বীকৃত কাজের জন্য
অনুমতির প্রয়োজন হয়।এ সকল অনুমোদন
বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ
থেকে অনুমতি নেয়া হয়।
ব্যবসায় কাজের প্রথম ধাপ হলো ট্রেড
লাইসেন্স।ট্রেড লাইসেন্স এর অনুমোদন
রাষ্ট্রের থেকে নেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স
করার নিয়মাবলী না জানার কারণে
প্রায়শঃ সকলকে অনেক ভোগান্তির
শিকার হতে হয়। তাই কিভাবে এটি করতে
হয় এবং ট্রেড লাইসেন্স কি?
এ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জেনে
নিন বেশ কিছু তথ্যঃ-
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন
প্রয়োজন (What is Trade License and why it is
required)?
উত্তরঃ সিটি কর্পোরেশন কর বিধান –
১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড
লাইসেন্সের সুচনা ঘটে। এই লাইসেন্স
উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে
প্রদান করা হয়ে থাকে। ব্যবসার প্রথম এবং
অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড
লাইসেন্স (Trade Licence)। আমাদের দেশে
এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী আছেন
যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা
করছেন কিন্তু এটা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং আইন
বিরোধী।
Trade মানে হচ্ছে ব্যবসা আর Licence মানে
হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে
হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। এই ট্রেড
লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি
কর্পোরেশন কর বিধান– ১৯৮৩ (City
Corporation Taxation Rules, 1983) এর অধিনে
ইস্যু করে থাকে। যেহেতু এই ট্রেড লাইসেন্স
সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয় তাই
আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতীক হচ্ছে এই
ট্রেড লাইসেন্স।
প্রশ্নঃ কোন জায়গা/প্রতিষ্ঠান থেকে
ট্রেড লাইসেন্স করতে হয় (Places /
Institutions to get Trade Licenses)?
উত্তরঃ ক) সিটি করর্পোরেশন,
খ) পৌরসভা,
গ) ইউনিয়ন পরিষদ এর যেকোন এক স্থান
থেকে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে
থাকে।
প্রশ্নঃ কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়
(How to do Trade License)?
উত্তরঃ নির্ধারিত আবেদন ফর্মে ট্রেড
লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয়।
উদ্যোক্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই
লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আবেদন
ফরম এর সাথে উদ্যোক্তাকে কিছু কাগজপত্র
জমা দিতে হয়। ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি
করে ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য আবেদন এবং
প্রয়োজনীয়কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী
কাগজপত্র জমা দিতে হয়?
উত্তরঃ প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স করতে যেসব
কাগজপত্র জমা দিতে হয় তার তালিকাঃ
ক) সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর
ক্ষেত্রে (General Business License):-
১. নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
২. ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর স্থান ব্যক্তিগত
হলে সিটি কর্পোরেশনের হালনাগাদ
হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ, নিজের দোকান
হলে ইউটিলিটি বিল এবং ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান ভাড়ায় হলে ৩০০ টাকার
স্ট্যাম্পে ভাড়ার চুক্তিপত্রে সত্যায়িত
ফটোকপি।
৩. আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট
সাইজের ছবি।
৪. ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয়
তাহলে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল
ষ্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের
অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে
হবে।
খ) ফ্যাক্টরির ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে
(in case of a Factories):-
১) পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের কপি।
২) প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার
পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ
নকশা/লোকেশন ম্যাপ।
৩) প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার
পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের
অনাপত্তিনামা।
৪) ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র।
গ) সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার
ক্ষেত্রে (CNG Station / Combustible Materials
Business):-
বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস ও
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র।
ঘ) ক্লিনিক/প্রাইভেটহাসপাতালএর
ক্ষেত্রে (in case of Clinic / Private
Hospitals):-
ডিরেক্টর জেনারেল – স্বাস্থ্য, কর্তৃক
অনুমতিপত্র।
ঙ) লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে (In Case
of Limited Company):-
কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল
অথবা সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।
চ) প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল
এর ক্ষেত্রে (in case of Printing Press and
Residential Hotel):-
ডেপুটি কমিশনার, কর্তৃক অনুমতিপত্র।
ছ) রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে (In case of
Recruiting Agencies):-
মানব সম্পদ রপ্তানী ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত
লাইসেন্স।
জ) অস্ত্র ও গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রে (In case
of Weapons and Ammunition):-
অস্ত্রের লাইসেন্স।
ঝ) ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে (In case of
Medicines and Drugs Case) :-
ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি
ট) ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে (In case
of Travel Agencies) :-
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স করতে কতো টাকা
(ফি) লাগে (How do you need money (fees)
for Trade License )?
উত্তরঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও
সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার
বিভাগ, পৌর- ১ শাখা হতে বিশেষ
প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স এর
ফি নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসার ধরণ এর উপর
ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি
নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। স্থানীয়
কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য জানা
যাবে।
প্রশ্নঃ কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে
পারবেন (Who can get the Trade License)?
উত্তরঃ নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স
করতে হবে তবে অবশ্যই তাকে কোন না
কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে।
বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে।
প্রশ্নঃ একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক
ব্যবসায় ব্যবহার করা যায় (Does a Trade
License allow to use for multiple business)?
উত্তরঃ না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র
একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য অর্থাৎ যে
ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি
করা হয় শুধু সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য
ব্যবহার করা যাবে অন্য কোন ধরনের
ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নতুন
কোন ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড
লাইসেন্স করতে হবে।
প্রশ্নঃ একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক
ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবেন (Would a
license allow to use more than one person)?
উত্তরঃ না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র
একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে
পারবেন অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার
নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি
শুধু তার জন্যই প্রযোজ্য। এটা কোনভাবেই
হস্তান্তর যোগ্য নয়।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে এবং
কোথা থেকে নবায়ন করতে হয় (How and
Where from to renew license)?
উত্তরঃ যে অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স
ইস্যু করা হয়, সেখান থেকেই ট্রেড
লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স
সাধারণত ১ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। প্রতি
বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।
পুরানো ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে নতুন করে
ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।
(কপি পোস্ট)

01/12/2019

গ্রেপ্তার হবার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে
আপনার করণীয়ঃ গ্রেপ্তারের আদ্যোপান্ত,
(পর্ব-১)
Shamim Anwar
এএসপি, ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ...............................................................
টিভির রিমোট চাপলে বা পত্রিকার পাতা
ওল্টালে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন
প্রান্তে কি অভিযোগে কতজন গ্রেপ্তার/
এরেস্ট হয়েছেন তার অনুপুঙ্খ বর্ণনা দেখতে
পাওয়া যায়। নিত্যদিনের বাস্তববতা বলে
আমরা সাধারণত এসব খবরকে এড়িয়ে যাই
বা গুরুত্ব সহকারে দেখি না। কিন্তু জানেন
কি, দোষে- নির্দোষে এই গ্রেপ্তারের
মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন আপনিও। কে
জানে, হয়ত আজ কিংবা কাল।
এরেস্ট কিভাবে করা হয়ঃ
বদ্ধ কোন ঘরে হত্যা বা ধর্ষণে উদ্যত
অপরাধী। আচমকা সদলবলে অস্ত্র উঁচিয়ে
পুলিশ অফিসারের পদার্পণ- "হ্যান্ডস আপ!
ইও আর আন্ডার এরেস্ট!!!"
যারা নাটক সিনেমা দেখেন, তাদের
কাছে এ এক অতিপরিচিত দৃশ্য হলেও সব
গ্রেপ্তারই যে এমন নাটকীয় ভঙ্গীতে হতে
হবে, এমন কোন কথা নেই। বেশিরভাগ সময়
পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা আটক
ব্যক্তির সাথে কৃত আচরনে বা কথায় তিনি
নিজের গ্রেপ্তার হবার বিষয়টি বুঝে নেন।
কখনো কখনো অপরাধ সংঘটিত হবার পর
'পিও' এর আশপাশ থেকে সন্দেহমূলকভাবে
অনেককে আটক করা হয়ে থাকে। রয়েছে
পলায়নপর অপরাধীকে পশ্চাদ্ধাবন করে
গ্রেপ্তারের কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়াও। এসব
ক্ষেত্রে দেহ স্পর্শের / শক্তি প্রয়োগের
মাধ্যমে গ্রেপ্তার কার্যকর করা হয়। আইন
অনুযায়ী কোন অপরাধী বা অভিযুক্ত
ব্যক্তির ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করে
আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে সরকারী
হেফাজতে বা পুলিশ হেফাজতে বা
আদালতের হেফাজতে নেওয়াটাই হল
গ্রেফতার।[কাঃ বিঃ ৪৬ ধারা, পিআরবি
৩১৬ বিধি।]
কে কে এরেস্ট করতে পারেনঃ
আমাদের অনেকেরই ধারনা শুধু পুলিশ,
র্যাব, এবং বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরাই
কেবল এরেস্ট করার ক্ষমতার অধিকারী। এই
ভাবনা থেকেই পুলিশ দেখলে, কখন আবার
গ্রেপ্তার করে ফেলে, ভয়ে দূরেদূরে
থাকেন। ভুলের রাজ্যে আছেন ভাই! আইনের
পরিভাষায় শুধু পুলিশ/র্যাব নয়,
গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রয়েছে প্রতিটি
নাগরিকেরই। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবার
কিছু নেই, হ্যা, গ্রেপ্তার আপনিও করতে
পারবেন।।
দেখেন, আপনি কত বড় ক্ষমতার মালিক হয়ে
বসে আছেন, যা কিনা এতদিন জানতেনই
না!! তো, এখন কি রাস্তায় যেয়ে মানুষকে
গণহারে গ্রেপ্তার করে নিজের ক্ষমতার
প্রমাণ দেওয়া শুরু করবেন!! "র্যাবের এএসপি
শামীম আনোয়ার বলসে, আমার নাকি
গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা আছে। কে কোথায়
আছস, সাহস থাকলে সামনে আয়, আজ
সবগুলারে চৌদ্দশিকের ভেতরে ঢুকাব"
বীরদর্পে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করার
আগে জেনে নিন, আইন আপনাকে ক্ষমতা
দেওয়ার পাশাপাশি সেই ক্ষমতার সীমাও
নির্ধারণ করে দিয়েছে। আইনের বিধান
অনুযায়ী, আপনি (বেসরকারি ব্যক্তি) শুধু
দুইজন মানুষকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।
ভাবছেন, আজ কোন দুই শালাকে শায়েস্তা
করা যায়? আরে ভাই, এত্ত ক্রেজি অয়েন
না। আইনে ওই দুই ব্যক্তির পরিচয়ও কিন্তু
দেওয়া আছে।
১) যদি কোন ব্যক্তি আপনার সামনে
আমলযোগ্য ও জামিনের অযোগ্য কোন
অপরাধ করে। যেমনঃ যদি দেখেন একজন
ব্যক্তি আরেকজনের হাত-ঠ্যাং ভেঙে
দিয়ে পালাচ্ছে, কোন কথা নেই, তার
সামনে আঙ্গুল উচিয়ে সদর্পে ঘোষণা দিন,
"ইও আর আন্ডার..."
২) কিংবা কোন ব্যক্তিকে যদি অপরাধী
হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে
দিনেরাতে যেখানে পান, গ্রেপ্তার করতে
পারবেন।
গ্রেপ্তার তো করলেন। পুলিশ গ্রেপ্তার
করলে তো তাদের হাজতে নেয়, আপনার
তো আর সেরকম হাজতটাজত নেই। তাহলে
এখন আপনি আপনার আসামিকে কি করবেন।
নিজ বাড়ির খাটের তলাকে হাজত ঘোষণা
করে সেখানে আসামিকে বন্দী রাখবেন?
নাহ, এখানেও আইনের বিধান! আইনে বলা
আছে যে, গ্রেফতার করে বিলম্ব না করে
পুলিশে খবর দিতে হবে অথবা থানায় নিয়ে
যেতে হবে। আপনার ক্ষমতার দৌড় এখানেই
শেষ। বাকি কাজ আবার সেই পুলিশেরই।
দুঃখ! দুঃখ!!
এরেস্ট হবার মুখোমুখি হলে করনীয়ঃ
গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে অনেকের মধ্যেই
ঘাবড়ে যাবার একটি প্রবণতা দেখা যায়।
অনেকেই আবার নির্দোষ হবার পরও দৌড়ে
পালাতে চেষ্টা করেন, যা পুলিশ
কর্মকর্তার নিকট আপনাকে দোষী
প্রতীয়মান করা ব্যতীত অন্য কোন
উপকারেই আসে না।
১. আপনি যদি কোন কগনিজেবল( ধর্তব্য)
অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন বা কোন
মামলায় আসামি / সাজাপ্রাপ্ত হয়ে
থাকেন, তাহলে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা
করার বদলে গ্রেপ্তার মেনে নিন এবং
অভিজ্ঞ কোন আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন
এবং তৎপরবর্তী আইনি লড়াই চালিয়ে
যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করুন। এটাই আপনার
জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করি।
২. যদি আপনি সন্দেহমূলক গ্রেপ্তারের
মুখোমুখি হন, তাহলে উপস্থিত পুলিশ
কর্মকর্তার নিকট নিজের নাম, ঠিকানা ও
পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরুন। প্রযোজ্য
ক্ষেত্রে নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে
পারেন। উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণের
ভিত্তিতে তাকে এই মর্মে নিশ্চিত করার
চেষ্টা করুন যে, আপনি এই অপরাধে জড়িত
নন।
৩.পুলিশের হাতে আটক হওয়া মানেই এই নয়
যে, আপনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঘটনা ঘটার পর সন্দেহবশত অনেককে আটক
করা হলেও থানায় নিয়ে যাবার পর
যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সেরে নির্দোষ
ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ
সময় সেই প্রক্রিয়ায় সিনিয়র অফিসারগণ
উপস্থিত থাকেন। তখন তাদের কাছে
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করুন।
সবচেয়ে বড় কথা, অপরাধে হোক আর
নিরপরাধে হোক আপনি একটা বড় বিপদে
পড়েছেন। "যে আপনার চৌদ্দগোষ্ঠীতে
কোনদিন কেউ কোর্টকাছারির রাস্তা
মাড়ায়নি, আজ সেই আপনার হাতে
হাতকড়া পড়বে!!!" ভেবে কান্নাকাটি বা
পুলিশের হাতেপায়ে ধরে অনুনয়বিনয় করার
বদলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে তথ্যপ্রমাণের
মাধ্যমে, যুক্তির নিরিখে পরিস্থিতি
মোকাবিলা করুন। আপনাদের সবার জন্য
নিরন্তর শুভকামনা।

Address

Dhaka Judge Court
Dhaka
1204

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SM Law Firm & Legal Study posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share