04/07/2025
ভালো ও মন্দ দিক গুলো আলোচনা করে দেখিঃ
১। সাংবিধানিক আদালত কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু ঢাকায় থাকলে আইনজীবীগণের সুবিধা। মোটামুটি একই জায়গায় সবগুলো কাজ করে নেয়া যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের যে অঞ্চল থেকই মামলা আসুক সেটা ঢাকায় সমাধান করা যায়। যেমন ধরুন আমার বাড়ি নওগাঁ কিন্তু নওগাঁর বাহিরে ছাড়া আরো অনেক জেলার মামলা আমি ঢাকায় করতে পারছি। এমন না হলে নওগাঁর বেশী মামলা পরিচালনা করার জন্য আমাকে রাজশাহী বিভাগের হাইকোর্ট ডিভিশনে থাকতে হতো। তখন চট্টগ্রাম বা সিলেটের মামলা পেলে আমার একার পক্ষে সেখানে গিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব না।
২। ঢাকার বাহিরে হাইকোর্ট ডিভিশন থাকলে আবার সুবিধা ক্লায়েন্টদের জন্য। যেমন ধরুন নওগাঁ থেকে আমার ক্লায়েন্টকে সর্বনিম্ন ৬০০ টাকা বাস ভাড়া দিয়ে ৮ ঘন্টা জার্নি করে ঢাকায় আসতে হয় মামলা পরিচালনা করতে। এটা বেশ ব্যয়বহুল এবং ক্ষরচসাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু রাজশাহীতে হলে মাত্র ১০০ টাকায় ২ ঘন্টা সময় ব্যয় করে চলে যাওয়া সম্ভব।
৩। শুধু ঢাকায় কোর্ট থাকলে আবার সুবিধা বিচার প্রক্রিয়ায় কারন হাইকোর্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিচারপতিগণকে বিভিন্ন বিষয়ে এখতিয়ার দেয়া হয়। সব বিচারপতি আবার সব বিষয়ে রেমেডি দিতে চান না। যারা আইনজীবী আছেন তারা কাষ্টম্সটা জানেন। জেনে বুঝে মামলা গুলো পরিচালনা করেন বিভিন্ন আদালতে। ঢাকার বাহিরে হলে তখন বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাবে এবং আইনজীবীগণের হাতে অপশন্স কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের প্রতিকারের সীমাবদ্ধতা রয়ে যাবে বা একটু লেন্দী প্রসেস হবে।
৪। হাইকোর্ট ডিভিশনের কোন সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপীলেট ডিভিশনে যাওয়া যায়। অথবা অপরপক্ষ গেলে সেখানে অ্যাপিয়ার হতে হয়। এখন হাইকোর্ট ডিভিশন বিভাগীয় পর্যায়ে গেলেও আপীলেট ডিভিশন যাবেনা। তাই আপীলেট ডিভিশনের জন্য আবার ঢাকায় আসতে হবে। এটা বেশ হ্যাসেল হবে আইনজীবী গণ এবং বিচারপ্রার্থী উভয়ের জন্য।
৫। সিনিয়র আইনজীবীগণের জন্য আরো বেশী সমস্যা। বর্তমানে সিনিয়র আইনজীবীগণ আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ মিলিয়েই মামলা করে। আমরা যখন কোন মামলায় আটকে যাই বা বুঝতে না পারি তখন সিনিয়র আইনজীবী গণের সহায়তা নেই তাঁরা আমাদের পক্ষে হাইকোর্টে মামলা শুনানী করে দেই কিন্তু বিকেন্দ্রীকরণ হলে এই সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হবো।
৬। বিকেন্দ্রীকরণ হলে আবার অঞ্চল ভিত্তিক আইনজীবীগণ হাইকোর্টে আইনজীবী হবার প্রবণতা বাড়বে । পুরো দেশে মোটামুটি প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী আছে এর মধ্যে ঢাকা বারেই আমরা ৩০ হাজারের বেশী। বাকী ৬৩ জেলা মিলে ৫০ হাজার। হাইকোর্ট, ঢাকা কোর্টের পাশাপাশি হওয়ায় ঢাকা বারের আইনজীবগণই বেশী হাইকোর্টের আইনজীবী হয় বা হতে চায় আর বিকেন্দ্রীকরণ হলে অন্যান্য বারের আইনজীবীগণও আগ্রহ বোধ করবে পড়াশোনা করে হাইকোর্ট এ এনরোল্ড হবার চেষ্টা করবে। এতে ডাইভার্স ওয়ার্কফোর্স তৈরি হবে।
লিখতে গেলে এমন আরো হাজারো সুবিধা এবং অসুবিধা বের করা সম্ভব। তবে মোরাল অফ দ্যা স্টোরি হলো বিকেন্দ্রীকরণ হলে মোটাদাগে বিচারপ্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সুবিধা পাবে কিন্তু আইনজীবীগণ সহ বিচারপতিগণ বেশ অসুবিধায় পরতে পারে।
মোঃ সোহেবুজ্জামান (সুপ্ত)
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
০১৯৭২-৩৭১৩৩৩