The Jurists & Lawyers

The Jurists & Lawyers "The Jurists & Lawyers" provides all kinds of legal support and service.

27/08/2022

ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন?

সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের সুচনা ঘটে । এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে । ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স(ঞৎধফব খরপবহপব), আমাদের দেশে এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী আসেন যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন কিন্তু এটা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধি । ঞৎধফব মানে হচ্ছে ব্যবসা আর খরপবহংব মানে হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র । এই ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর অধিনে ইস্যু করে থাকে । যেহেতু এই ট্রেড লাইসেন্স সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয় তাই আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতিক হচ্ছে এই ট্রেড লাইসেন্স ।

কোন জায়গা/প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয় ?
সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে ।

কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয় ?
নির্ধারিত আবেদন ফর্মে ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয় । উদ্যোক্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে । আবেদন ফরম এর সাথে উদ্যোক্তাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয় । ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর আবেদন এর সাথে কি কি কাগজ পত্র জমা দিতে হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবেন । নি¤েœ বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার জন্য কি কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে তার একটি তালিকা দেয়া হলো:
সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে :

দোকান ভাড়ার চুক্তি পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোদের এর ফটোকপি ।
আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।
ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ২,০০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনারশিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে ।
ফ্যাক্টরির/কারখানা ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে :

পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি ।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/্েলাকেশন ম্যাপ ।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা ।
ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র ।
ঢাকা সিটিকর্পোরেশন এর নিয়ম – কানুন মেনে চলার অঙ্গিকারনামা ১৫০/৩০০ টাকারজুডিশিয়ার স্ট্যাম্প এ স্বাক্ষরিত ।
সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে :

বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র ।
ক্লিনিক/প্রাইভেটহাসপাতালএর ক্ষেত্রে :

ডিরেক্টর জেনারেল
স্বাস্থ্য , কর্তৃক অনুমতিপত্র ।
লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে :

কোম্পানির মেমোরেন্ডামঅবআর্টিকেল ।
সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন ।
প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল এর ক্ষেত্রে:

ডেপুটি কমিশনার, কর্তৃক অনুমতিপত্র ।
রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে :

মানবসম্পদ রপ্তানী বুরে‌্যা কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রে:

অস্ত্রের লাইসেন্স ।
ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে :

ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি ।
ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে :

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ।
ট্রেড লাইসেন্স করতে কতো টাকা (ফি) লাগে ?
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর – ১ শাখা হতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয় । ব্যবসার ধরন এর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয়ে থাকে । স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য জানা যাবে।

কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন ?
নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে তবে অবশ্যই তাকে কোন না কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে । বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে ।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যায়?
না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য অর্থাৎ যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয় শুধু মাত্র সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্য কোন ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না । নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে ।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যাক্তি ব্যবহার করতে পারবেন ?
না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে পারবেন অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি শুধু মাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য । এটা কোনভাবেই হস্তান্তর যোগ্য নয় ।

ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে এবং কোথা থেকে নবায়ন করতে হয় ?
যে অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয় । ট্রেড লাইসেন্স সাধারনত ১ বছর এর জন্য ইস্যু করা হয় । প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় । পুরানো ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় ।

27/08/2022

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধান বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

25/08/2022

প্রশ্ন:আপিল কাকে বলে?
------------------------------
উত্তর:
” রায় সমর্থনযোগ্য কী না তা নির্ণয়ের লক্ষ্যে কোন মোকদ্দমা নিম্ন আদালত হতে উর্ধ্বতন আদালতে আনবার অধিকারকে’আপিল’ বলা হয়।
আপিল আইনের সৃষ্টি এবং স্বাভাবিক অধিকার নয়।”

- Karam Dad v. Emperor
[AIR1941 Lah 414]

ফৌজদারি কার্যবিধিতে আপিলের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি, তবে বিভিন্ন পর্যালোচনায় বলা যায়: কলকাতা হাইকোর্ট একটি মামলায় আপিল সম্পর্কে বলেন: - নিম্ন আদালত কর্তৃক কোন মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্দ পক্ষ উক্ত রায় সংশোধনী বা বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন আদালতে যে দরখাস্ত করে তাকে আপিল বলে।

অক্সফোর্ড অভিধানের সংজ্ঞা অনুযায়ী:- নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য কোন মামলা নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে স্থানান্তর হওয়াই হল আপিল।

প্রশ্ন: যিনি আপিল দায়ের করতে পারেন;
------------------------------------------
উত্তর: কোন আদালতের রায় বা আদেশে যে পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা যে পক্ষ সন্তুষ্ট হতে পারে না, সেই পক্ষ আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান থাকলে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করতে পারে। মেমোরেন্ডাম বা দরখাস্ত আকারে আপিল আবেদন করতে হয়। আপিল আবেদনের সাথে যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে তার একটি নকল সংযুক্ত করতে হয়।

প্রশ্ন আপিল আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলী বা পরিসর:
-----------------------------------------------------------
উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৩ ধারা অনুযায়ী কোনো মামলার নথিপত্র তলব বা মামলা খারিজ করা। কোন মামলার নথিপত্র যদি পূর্ব থেকে আদালতে না থাকে তাহলে আপিল আদালত উক্ত নথি তলব করবেন। তলবকৃত নথি পরীক্ষা করার পর আপিলকারী বা তার আইনজীবী হাজির হলে তাদের বক্তব্য শ্রবন করবেন এবং সরকারি উকিল হাজির হলে তার বক্তব্য শ্রবণ করে এবং ৪১৭ ধারা অনুযায়ী আপিলের ক্ষেত্রে আসামী হাজির হলে তার বক্তব্য শ্রবণ করে আপিল আদালত যদি মনে করেন যে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত অজুহাত নেই তাহলে উক্ত আপিল খারিজ করতে পারবেন।

যদি খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয়,
---------------------------------------------
আপিল আদালতে যদি খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয়, তাহলে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন এবং আরও নির্দেশ দিতে পারেন তদন্ত করার জন্য বা আসামির পুনর্বিচার হবে বা তাকে বিচারের জন্য পাঠাতে হবে অথবা তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে বা দন্ড দিতে পারবেন।

আপিল আদালতে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলে
আপিল আদালতে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলে আদালত নিম্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবেন:- আসামিকে খালাস অথবা অব্যাহতি দিতে পারবেন, দণ্ড রদ করতে পারবেন, পুনর্বিচারের জন্য অধস্তন কোন আদালতকে আদেশ দিতে পারবেন। অথবা দন্ড হ্রাস করে বা না করে তার প্রকৃতির পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে ১০৬ (৩) ধারার বিধান সাপেক্ষে দন্ড বৃদ্ধি করতে পারবেন না।

দন্ড বৃদ্ধির জন্য আপিল হলে
-----------------------------------
দন্ড বৃদ্ধির জন্য আপিল হলে আদালত নিম্ন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন:- দন্ড রদ করতে পারবেন বা আসামিকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারবেন বা সংশ্লিষ্ট আদালতে তাঁর পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারবেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দণ্ড বহাল রাখতে পারবেন বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে প্রকৃতি এমন ভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন যার ফলে দন্ড হ্রাস বা বৃদ্ধি হয়।

অন্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলে
------------------------------------------------
আপিল আদালতে অন্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলে উক্ত আদেশ পরিবর্তন করতে পারবেন অথবা বিপরীত কোন আদেশ দিতে পারবেন।
আপিল আদালত ন্যায় সঙ্গত কোন সংশোধন করতে পারবেন বা প্রাসঙ্গিক কোন আদেশ প্রদান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে দন্ড বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য আসামিকে সুযোগ না দিয়ে দন্ড বৃদ্ধি করা যাবে না।

আপিল আদালতে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলে সেই দন্ড বা আদেশ দানকারী আদালত একই অপরাধের জন্য আসামিকে যে দণ্ড প্রদান করতে পারতেন, আপিল আদালত তার চেয়ে বেশি দণ্ড প্রদান করবেন না।

প্রশ্ন: আপিল ও রিভিশন এর পার্থক্য:
-----------------------------------------
উত্তর: ১।নিম্ন আদালতের কোনো আদেশ বা রায় সংক্ষিপ্ত রায় বা আদেশ বাতিল বা সংশোধন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করাকে আপিল বলে।
কিন্তু
অধস্তন আদালতের কার্যক্রম এ কোন অনিয়ম লক্ষ্য করলে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ কারো আবেদনে অথবা স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে উক্ত নথি তলব করে তা পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারেন। একে রিভিশন বলে।
২। আপিল কে ইংরেজিতে Appeal বলে।
কিন্তু
রিভিশন কে ইংরেজিতে Revision বলে।
৩। কতিপয় বিষয় ছাড়া সকল বিষয়ে আপিল করা যায়।
কিন্তু
যে ক্ষেত্রে আপিল চলে না সে ক্ষেত্রে কেবল রিভিশন করা যায়।
৪। অধিকার হিসেবে আপিল দাবী করা যায়।
কিন্তু
অধিকার হিসেবে রিভিশন দাবি করা যায় না।
৫। আপিল আদালতের ক্ষমতা সীমিত।
কিন্তু
রিভিশন আদালতের ক্ষমতা ব্যাপক।
৬। খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
কিন্তু
খালাসের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় না।

প্রশ্ন: ফৌজদারি আদালতে যে সকল দণ্ড আপিল যোগ্য নয়:
---------------------------------------------------------------
উত্তর: ১। নালিশ কৃত মামলা আদালত খারিজ করলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। ধারা ২০৩
২। বর্তমান বলবৎ কোন আইনে বা অন্য কোন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিলের বিধান না থাকলে আপিল করা যায় না। ধারা ৪০৪
৩। আসামি যদি তার নিজের দোষ স্বীকার করে তাহলে দায়রা আদালত বা মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলেনা। ধারা ৪১২
৪। দায়রা আদালত যদি অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে অথবা দায়রা আদালত বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যদি অনধিক ৫০ টাকা জরিমানা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। ধারা ৪১৩
৫। সংক্ষিপ্ত বিচারের ২০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। ধারা ৪১৪

প্রশ্ন: কোন কোন অবস্থায় সংক্ষিপ্ত বিচারের শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল চলে এবং কখন চলে না।
-----------------------------------------
উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৪ ধারা অনুযায়ী সাধারণ বিচারে ৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে না। সংক্ষিপ্ত বিচারের ২০০ টাকার বেশি জরিমানা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। সংক্ষিপ্ত বিচারে ২০০ টাকা বা তার কম জরিমানা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে না। সুতরাং বলা যায় সংক্ষিপ্ত বিচারের ২০০ টাকার বেশি জরিমানা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় এবং ২০০ টাকা বা তার কম জরিমানা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না।

প্রশ্ন: আপিলকারী মৃত্যু হলে উক্ত আপীল এর অবস্থা:
---------------------------------------------------
উত্তর: ফৌজদারী কার্যবিধি ৪৩১ ধারা অনুযায়ী-ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ এবং ৪১৭ (এ) ধারা অনুযায়ী আসামির মৃত্যু হলে আপিল চূড়ান্তভাবে পন্ড হয়ে যাবে। কিন্তু জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল হলে তা চূড়ান্তভাবে পন্ড হয়ে যাবে না।

প্রশ্ন: খালাসের বিরুদ্ধে আপিল:
------------------------------------
উত্তর: ফৌজদারী কার্যবিধি ৪১৭ ধারা অনুযায়ী- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে যদি কোনো বাধা না থাকে তাহলে সরকার যে কোনো মামলায় কৌঁসুলি কে আপিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
কৌঁসুলি দায়রা আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করবেন। কৌশলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিল করবেন। ধারা ৪১৭ (১)
কোন ফরিয়াদি কর্তৃক আনীত মামলায় খালাস আদেশ হলে ৪১৮ ধারায় যাই থাকুক না কেন ফরিয়াদি উক্ত খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। দায়রা আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাসের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপিল করবেন। ধারা ৪১৭ (২)
খালাস আদেশ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। ৬০ দিন অতিক্রম করার পর ফরিয়াদি আপিল দায়ের করলে তা হাইকোর্ট বা দায়রা বিভাগে গ্রহণীয় হবেনা। ধারা ৪১৭ (৩)
খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে উপধারা ১ অনুসারে আপিল করা যাবেনা ধারা ৪১৭
(৪)

প্রশ্ন: অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:
----------------------------------------
উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ (এ) ধারা অনুযায়ী- সরকার কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ যদি অপর্যাপ্ত হয় তাহলে কৌঁসুলি কে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার নির্দেশ দিতে পারেন ধারা ৪১৭ (এ)(১)
কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ যদি অপর্যাপ্ত হয় তাহলে নালিশ কারী আপিল আদালতে আপিল করতে পারেন। তবে উক্ত দণ্ডাদেশের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। ৬০ দিন অতিক্রম করলে আপিল গৃহীত হবে না। অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের কারণে আপিল দায়ের করা হলে আদালত দণ্ডবিধির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য আসামিকে যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিবেন এবং কারণ দর্শানোর সময় আসামি তার খালাস প্রাপ্তি বাদ দন্ড হ্রাসের জন্য প্রার্থনা করতে পারবে ধারা ৪১৭ (এ) (৩)

25/08/2022

সরকারি কর্মচারীদের সরকারের অনুমতি ব্যতীত গ্রেফতার করা যাবে না এমন বিধান বাতিল করে দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ ধারা ৪১(১) কে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক (Inconsistent with the Constitution of Bangladesh, 1972) বলে ঘোষণা করেছেন।

20/08/2022
দলিল তল্লাশি (Searching) ও দলিলের নকল (Certified Copy) প্রাপ্তির নিয়মাবলীঃ♦রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৫৭(১) ধারা মোতাবেক, ...
20/08/2022

দলিল তল্লাশি (Searching) ও দলিলের নকল (Certified Copy) প্রাপ্তির নিয়মাবলীঃ
♦রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৫৭(১) ধারা মোতাবেক, প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, যে কোন ব্যক্তি ১ নং (স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলের) ও ২ নং (রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকার করা দলিলের) রেজিস্টার বহি ও ১ নং রেজিস্টার বহি সম্পর্কিত সূচিবহি পরিদর্শন করতে পারে এবং উক্ত আইনের ৬২ ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে উক্ত বহিসমুহে লিপিবদ্ধ বিষয়ের নকল (অর্থাৎ দলিলের সার্টিফাইড কপি) গ্রহন করতে পারে।
♦একই আইনের ৫৭(২) ধারা মোতাবেক, প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, দলিল সম্পাদনকারী বা তার এজেন্ট এবং সম্পাদনকারীর মৃত্যুর পর (পূর্বে নয়) যে কোন আবেদনকারী ৩ নং বহি (নিবন্ধিত উইলের রেজিস্টার বহি) তে লিপিবদ্ধ বিষয়ের (অর্থাৎ উইল বা অছিয়ত দলিলের নকল বা সার্টিফাইড কপি) এবং ৩ নং বহি সম্পর্কিত সূচিপত্রের নকল গ্রহন করতে পারে।
♦একই আইনের ৫৭(৩) ধারা মতে, প্রয়োজনীয় ফিস পূর্বে পরিশোধ সাপেক্ষে, দলিলের সম্পাদনকারী বা দাবীদার ব্যক্তি বা তার এজেন্ট অথবা প্রতিনিধি ৪ নং বহিতে লিপিবদ্ধ বিষয়ের নকল গ্রহন করতে পারে।
একই আইনের ৫৭(৪) ধারা মতে, ৩ নং ও ৪ নং বহিতে লিখিত বিষয়ের তল্লাশি, সাব-রেজিস্ট্রার এর মাধ্যমে করা যাবে।
♦কিভাবে তল্লাশ করবেন?
যদি মূল দলিল থাকে- রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষ হলে মূল দলিলের শেষ পৃষ্টার উল্টোদিকে “দলিলটি কত সালের, কত নম্বর বালাম বইয়ের, কত পৃষ্ঠা থেকে কত পৃষ্ঠায় নকল করা হয়েছে” তা লিখে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষর করা হয়। এটা থেকে সহজেই রেজিস্ট্রি অফিসে থেকে দলিলের নকল উঠানো যায়।
মূল দলিল না থাকলে- রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি শেষ হলে দলিলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য নিয়ে সূচিবহি তৈরি করা হয়। একটি সূচিবহি তৈরি হয় দলিলে উল্লিখিত জমির দাতা/বিক্রেতা, গ্রহিতা/ক্রেতা বা অন্য কোন পক্ষের নাম দিয়ে, আর একটি তৈরি হয় জমির মৌজার নাম দিয়ে।
♦দলিলের নকল প্রাপ্তির আবেদনের নিয়মাবলিঃ
রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা ২০১৪ এর ১০৮ অনুচ্ছেদে সূচিবহি তল্লাশ ও দলিলের নকলের জন্য আবেদনের নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ আছে।
♦এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে সকল ক্ষেত্রে তল্লাশ ও পরিদর্শনের জন্য কোন ফিস পরিশোধযোগ্য নহে, সে সকল ক্ষেত্র ব্যতিত, সকল ক্ষেত্রে নকলের জন্য আবেদন দাখিল করিবার পূর্বে (৩৬ নং ফরম অনুযায়ী) তল্লাশ ও পরিদর্শনের জন্য আবেদন করিতে হইবে। এরপর ৩৭ নং ফরমে নকলের জন্য আবেদন করিতে হইবে। — at Tejgaon, satrasta_তেজগঁও, সাতরাস্তা

11/08/2022

#খতিয়ান বা স্বত্বলিপি (Record-of-Rights): খতিয়ান শব্দের আভিধানিক অর্থ হল হিসাব। এক বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিমাণ ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে ভূমিস্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে। অন্যভাবে বলা যায়, স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতার নাম, অথবা স্বামীর নাম, পূর্ণঠিকানা এবং দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, শ্রেণী, খাজনার পরিমাণ, জেলা, থানা, মৌজার নাম, জে.এল.নম্বর, সর্বোপরি মন্তব্য সম্বলিত যে স্বত্বতালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় এদের প্রত্যেকটিকে খতিয়ান বলা হয়। খতিয়ানকে Record of Right বা স্বত্বলিপি বা স্বত্বের রেকর্ডও বলা হয়। খতিয়ানগুলি ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যার আকারে সাজানো থাকে, এগুলোকে ‘খতিয়ান নম্বর' বলা হয়। এছাড়া খতিয়ানের মধ্যে দাগের হিস্যা থাকবে। খতিয়ানভুক্ত দাগগুলির সমষ্টি হবে খতিয়ানের মোট জমির পরিমাণ। খতিয়ানে জমির খাজনা কত টাকা তা লেখা থাকে। খতিয়ান পৃথককরণের ফলে যদি কোন জমির খাজনা ১.০০ টাকার কম হয় তবে সেক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই ১.০০ টাকা পুরা দিতে হবে।

খতিয়ানের মধ্যে অত্র জমি কোন জেলায় অবস্থিত তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকবে। যেমন- খুলনা, যশারে, কুষ্টিয়া ইত্যাদি। এছাড়া খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি কোন থানার অন্তর্গত তা লেখা থাকে। যেমন- দৌলতপুর, ফুলতলা ইত্যাদি। খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে মৌজার নাম অবশ্যই থাকবে। এছাড়া প্রত্যেকটি খতিয়ানে অবশ্যই জে.এল, নম্বর থাকবে। সর্বোপরি, খতিয়ানের মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তার মন্তব্য থাকবে।

 খতিয়ানের সত্যায়িত কপিকে বলা হয় পর্চা।

খতিয়ানে প্রকারভেদ (Classifications of Khatian)- খতিয়ান প্রণয়নের উপর ভিত্তি করে ২ প্রকার হতে পারে:
১) জরিপ খতিয়ান (Survey or Jareep Khatian);

২) নামপত্তন খতিয়ান (Mutation Khatian)|

জরিপ খতিয়ান (Survey or Jareep Khatian) আবার নিম্নলিখিত ধরণের হতে পারে। যথা-

i) সি.এস খতিয়ান (C.S. Khatian)- C.S. এর পূর্ণ রূপ হল Cadestral Survey। কারো মতে ‘ক্যাডাস্ট্রাল’ ফরাসী শব্দ হতে উৎপত্তি হয়েছে যার অর্থ হলো জনসাধারণের রেজিস্ট্রার (পাবলিক রেজিস্ট্রার)। আবার কারো কারো মতে ক্যাডাস্ট্রাল ল্যাটিন শব্দ ক্যাপিটেস্টাম (Capitrastium) হতে উৎপত্তি যার অর্থ জনসংখ্যার জনপ্রতি বিবরণ (স্টেটমেন্ট অব পপুলেশন হেড বাই হেড)। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ক্যাডাস্ট্রাল শব্দটি ফরাসী হোক; আর ল্যাটিন হোক, কোনভাবেই এ শব্দ দ্বারা জরিপ সংক্রান্ত কাজ বুঝায় না।

 তবে আমাদের দেশে C.S. (সি.এস) বলতে প্রথম ভূমি জরিপকে বুঝায় এবং সি.এস খতিয়ানকে ভূমি রেকর্ডীয় কাগজপত্রের মূল ভিত্তি মনে করা হয়। সর্বপ্রথম ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থানায় পরীক্ষামূলকভাবে C.S. (সি.এস) জরিপ কাজ শুরু করা হয় এবং ১৮৮৯ সালে এ জরিপ কাজ শেষ হয়। পরীক্ষামূলক জরিপে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৮৯০ সালে চট্টগ্রাম হতে C.S. (সি.এস) জরিপ শুরু করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে দেশে বিভিন্ন জেলায় জরিপ করা হয়। ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় C.S. (সি.এস) জরিপ শেষ হয়।

 C.S. (সি.এস) জরিপকে কোন কোন এলাকায় D.S. (ডি.এস) এবং কোথাও কোথাও ডিস্ট্রিক খতিয়ান বা জেলা খতিয়ানও বলা হয়।

 পার্বত্য জেলাসমূহ C.S. (সি.এস) জরিপের বহির্ভূত এলাকা ছিল।

 সি.এস খতিয়ান Bengal Tenancy Act,1885 এর ১০১ ধারা এবং Sylhet Tenancy Act, 1936 এর ১১৭ ধারার অধীন প্রস্তুত করা হয়েছিল।

 সি.এস খতিয়ানে চার শ্রেণীর মালিকানা লক্ষ্য করা যায়- ১) ভারত স¤্রাট; ২) নবাব টেস্ট; ৩) জমিদার (জমিদার শ্রেণী); এবং ৪) সাধারণ প্রজা (জনগণ)।


আর.এস খতিয়ান (R.S. Khatian)- R.S. এর পূর্ণ রূপ হল Revisional Survey| C.S. খতিয়ান প্রস্তুত করার পর দেখা যায় যে, সি.এস রেকর্ডে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্রের সাথে ভূমি মালিকানা, ব্যবহার, আকার, আকৃতি এবং রাজস্বের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ভূমির বাস্তব অবস্থার সাথে রেকর্ডীয় কাগজপত্রের বেশ কিছু গড়মিল লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে সি.এস খতিয়ান কে সংশোধন করে R.S. খতিয়ান প্রণয়ন করা হয়েছিল।

 ১৯৪০ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর ও বাকেরগঞ্জ জেলায় R.S. (আর.এস) জরিপ শুরু করা হয়। ১৯৪৫ সালে ফরিদপুর ও ১৯৫২ সালে বাকেরগঞ্জ জেলায় R.S. (আর.এস) জরিপ সমাপ্ত ও চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় এই সময় R.S. জরিপ করা হয়নি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় S.A. (এস.এ) জরিপের পরে R.S. (আর.এস) জরিপ শুরু করা হয়।

 আর.এস খতিয়ান The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪৪ ধারার অধীন প্রস্তুত করা হয়েছিল।

 আর.এস খতিয়ান, সি.এস খতিয়ানের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।

এস.এ খতিয়ান (S.A. Khatian)- S.A. এর পূর্ণ রূপ হল State Acquisition| ১৯৫০ সালে “জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন” পাস করা হয়। জমিদারী প্রথা বাতিল করার পর জমিদার দখলকার প্রজাকে (রায়ত) সরকারের অধীনে ভূমির মালিকানার স্বীকৃতি প্রদানপূর্বক সরাসরি সরকারের তত্তাবধানে নেওয়া হয়। জমিদারী প্রথা বাতিল করার পর জমিদারদের ক্ষতি পূরণের জন্য তালিকা প্রস্তুতের জন্য জরুরী ভিত্তিতে জরিপ করার প্রয়োজনীয় দেখা দেয়, যার কারণে ১৯৫৬ সাল হতে ১৯৬২ সালের (৭ বছরের) মধ্যে সংক্ষিপ্ত জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। এ জরিপ S.A. (এস.এ) জরিপ নামে পরিচিত। এস.এ জরিপের উপর ভিত্তি করে এস.এ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এস.এ জরিপের কাজ পটুয়াখালীতে শুরু হয়ে ফরিদপুরে শেষ হয়েছিল।

এস.এ খতিয়ানে ২ শ্রেণীর ভূমি মালিকানা লক্ষ্য করা যায়-
১) সরকারী সম্পত্তি (রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি); ও
২) সাধারণ প্রজার সম্পত্তি।

 ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে S.A. খতিয়ান বা হাল খতিয়ান বলে।

 The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৭ ধারার অধীন প্রস্তুত করা হয়েছিল।

 এস.এ জরিপের মাধ্যমে হাতে লিখিত ভূমি মালিকানার খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় কিন্তু সরেজমিনে কোন নকশা তৈরী করা হয় না।

 এস.এ খতিয়ান খুব সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে স্বাভাবিক কারণেই এগুলিতে অনেক ভুল ভ্রান্তি থেকে যায়। এ কারণে আইনবিদগণ S.A. খতিয়ানের কোন বিষয় Legal Presumption of Correctness দেন নাই।

বি.এস খতিয়ান (B.S. Khatian)- B.S. এর পূর্ণ রূপ হল Bangladesh Survey| বি.এস জরিপের উপর ভিত্তি করে বি.এস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। বি.এস খতিয়ানের কাজ ১৯৭০ সালে শুরু হয়ে এখনও চলমান রয়েছে। বর্তমানে কিছু কিছু জেলায় যেমন- গাজীপুর, ঢাকার সাভারেও BS খতিয়ানের কাজ চলমান। এস.এ খতিয়ানের সংশোধিত রূপ হল বি.এস খতিয়ান।

 বি.এস খতিয়ান The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪৪ ধারার অধীন প্রস্তুত করা হয়।

জমি কেনার পর যা করতে হবে।১। কেনার সময়ই জমি মেপে দখল বুঝে নিন। মাপার সময় সম্ভব হলে সংলগ্ন জমির মালিকসহ ২/১ জন প্রতিবেশী...
03/08/2022

জমি কেনার পর যা করতে হবে।

১। কেনার সময়ই জমি মেপে দখল বুঝে নিন। মাপার সময় সম্ভব হলে সংলগ্ন জমির মালিকসহ ২/১ জন প্রতিবেশীকে উপস্থিত রাখুন;
২। জমি কেনার পর নিজের পরিবার পরিজন, নিকটাত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে মাঝে মাঝে দেখতে যান। যাতে করে পরবর্তীতে ঐ জমির অবস্থান চিহ্নিত করতে কোন সমস্যা না হয়;
৩। জমি কেনার পর অবশ্যই সীমানা প্রাচীর (boundary wall) দিতে হবে, সেটি পাকা হোক বা কাঁচা;
৪। মালিকানার বিবরণসহ সাইনবোর্ড টাঙ্গাবেন;
৫। একইসাথে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এসি (ল্যান্ড) অফিসে গিয়ে নামজারী করাবেন এবং হালসন পর্যন্ত সকল খাজনা পরিশোধ করবেন। নামজারীর পড়চা, ডিসিআর এবং খাজনার রশিদ সাবধানে রাখবেন। প্রয়োজনে একাধিক ফটোকপি করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করবেন। মনে রাখবেন, ডিসিআর বা খাজনার রশিদ হারিয়ে গেলে তা পুনরায় পাওয়া যায়না। এগুলো একবারই ইস্যু করা হয়।
৬। জমি ব্যবহার না করে খালি ফেলে রাখা উচিৎ নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে ঘর বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোন স্থাপনা তৈরী করতে হবে বা কৃষি কাজ, বাগান ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করতে হবে;
৭। জমি দেখাশোনার জন্য যতটা সম্ভব নিয়মিত যেতে হবে। সম্ভব হলে দেখাশোনার জন্য কোন বিশ্বস্ত লোক রাখতে হবে;
৮। প্রতিবেশী এবং আশেপাশের জমির মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার চেষ্টা করতে হবে।
৯। কোন বিষয়ে সমস্যা হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে সেটা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সমাধান না হলে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

💥 ওয়ারিশ সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে তিনটি ডকুমেন্ট দেখে নিবেন। তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে ক্রয় বায়নাপত্র লেনদে...
02/08/2022

💥 ওয়ারিশ সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে তিনটি ডকুমেন্ট দেখে নিবেন। তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে ক্রয় বায়নাপত্র লেনদেন করবেন না।

#ডোকুমেন্ট_গুলো:-

১) ওয়ারিশ সনদ পত্র।
২) পারিবারিক ভাগবন্টন রেজিষ্ট্রেশন দলিল
৩) নামজারি, খতিয়ান। তারপর অন্যান্য কিছু বিষয় দেখতে হবে।

যেমন: বিক্রেতা যে সূত্রে মালিক হলো, তার পূর্বের মালিক কোন সূত্রে মালিক তার দলিল খতিয়ান কপি যাচাই বাছাই করে নিবে।

এই তিনিটি ডকুমেন্ট যার কাছে না থাকবে তার দখলে থাকুক বা পারিবারিক মৌখিক বন্টন হউক আপনি ক্রয় করবেন না। অনেকেই মৃত পিতা মাতার নামের সম্পত্তি অন্যান্য ভাইবোন ওয়ারিশদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়,,,কেউ কেউ যতটুকু অংশ পাবে তার বেশি বিক্রি করে ফেলে,,, কেউ কেউ আছেন ভালো পজিশনের জমি বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ আছেন ওয়ারিশদের অংশও বিক্রি করে ফেলেন। কেউ কেউ আছেন পারিবারিক মৌখিকভাবে ভাগের অংশ বিক্রি করেন।

মৌখিক ভাগ কোনো দলিল নয়। মৌলিক বন্টনের কোনো মূল্য নেই। মৌখিক কথার দাম নেই। এক লোক দীর্ঘ বছর ধরে পারিবারিক মৌখিক ভাগ করা জমি ভোগদখল করে আসছে,,, জমিটার মূল্য অন্যান্য জমির চেয়ে অনেক বেশি,,, বেশি দাম হওয়াতে তারই এক ভাই জমিটির অংশ দাবি করল,,, সবাই যতই বলে মৌখিক ভাগের কথা, ভাই তা মানতে রাজি নয়,,, ভাই বলছে মৌখিক ভাগ মানিনা, পুনরায় ভাগবন্টন করতে হবে।

তারা মৌখিক ভাগ না করে পারিবারিক বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করে নিলে ভাই কখোই দাবী করলে তা আইন সম্মত হতো না। তাই বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়ারিশ সনদ, বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল, যার আছে তার সম্পত্তিতে কখনোই কোনো ওয়ারিশ ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে পারবেনা। ওয়ারিশ সনদ পত্রটি প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশ সম্পত্তির মালিক। বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্মত্তিতে বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করা হয়। আবার দেখতে হবে ওয়ারিশ সনদ সঠিক কি না, প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ্য আছে কি না,,, বন্টননামা রেজিষ্ট্রেশন দলিলে প্রত্যেক ওয়ারিশের স্বাক্ষর নাম, ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ্য কি না।

অনেকেই বোনের অংশ না দিয়ে, বিক্রি করে দেন, যিনি ক্রয় করেন সেই লোক বিপদে পড়ে। কারণ ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত ছিল বিক্রেতা কোন সূত্রে সম্পত্তির মালিক, সেসব ডোকোমেন্ট দেখা উচিত ছিল। পৈতৃক সম্পত্তি হলে বা ওয়ারিশ সম্পত্তি হলে ক্রয়ের আগে ওয়ারিশ সনদ, রেজিষ্ট্রেশন করা বন্টননামা দলিল, নামজারি, খতিয়ান, এগুলো দেখা। এগুলো না দেখে ক্রয় করলে অন্যান্য ওয়ারিশরা অভিযোগ সালিস মামলা করলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

ওয়ারিশ সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে তিনটি ডকুমেন্ট দেখে নিবেন। তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে ক্রয় বায়নাপত্র লেনদেন ...
30/07/2022

ওয়ারিশ সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে তিনটি ডকুমেন্ট দেখে নিবেন। তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে ক্রয় বায়নাপত্র লেনদেন করবেন না।

#ডোকুমেন্ট_গুলো
১)প্রথম,ওয়ারিশ সনদ পত্র।
২)দ্বিতীয়,পারিবারিক ভাগবন্টন রেজিষ্ট্রেশন দলিল
৩)তৃতীয়,নামজারি খতিয়ান। তারপর অন্যান্য কিছু বিষয় দেখতে হবে।

যেমন বিক্রেতা যে সুত্রে মালিক হলো, তার পূর্বের মালিক কোন সুত্রে মালিক তার দলিল খতিয়ান কপি যাচাই বাছাই করে নিবে।

এই তিনিটি ডকুমেন্ট যার কাছে না থাকবে তার দখলে থাকুক বা পারিবারিক মৌখিক বন্টন হউক আপনি ক্রয় করবেন না। অনেকেই মৃত পিতা মাতার নামের সম্পত্তি অন্যান্য ভাইবোন ওয়ারিশদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়। কেউ কেউ যতটুকু অংশ পাবে তার বেশি বিক্রি করে ফেলে। কেউ কেউ আছেন ভালো পজিশনের জমি বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ আছেন ওয়ারিশদের অংশও বিক্রি করে ফেলেন। কেউ কেউ আছেন পারিবারিক মৌখিক ভাবে ভাগের অংশ বিক্রি করেন।

মৌখিক ভাগ কোনো দলিল নয়। মৌখিক বন্টনের কোনো মূল্য নেই। মৌখিক কথার দাম নেই।

এক লোক দীর্ঘ বছর ধরে পারিবারিক মৌখিক ভাগ করা জমি ভোগদখল করে আসছে জমিটার মূল্য অন্যান্য জমির ছেয়ে অনেক বেশি বেশি দাম হওয়াতে তারই এক ভাই জমিটির অংশ দাবি করলো সবাই যতই বলে মৌখিক ভাগের কথা, ভাই তা মানতে রাজি নয়,,, ভাই বোলতেছে মৌখিক ভাগ মানিনা, পুনরায় ভাগবন্টন করতে হবে।

তারা মৌখিক ভাগ না করে পারিবারিক বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করে নিলে ভাই কখোই দাবী করলে তা আইন সম্মত হতো না। তাই বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়ারিশ সনদ, বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল, জার আছে তার সম্পত্তিতে কখনোই কোনো ওয়ারিশ ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে পারবেনা। ওয়ারিশ সনদ পত্রটি প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশ সম্পত্তির মালিক। বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্মত্তিতে বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করা হয়। আবার দেখতে হবে ওয়ারিশ সনদ সঠিক কিনা, প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ্য আছে কিনা,,, বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিলে প্রত্যেক ওয়ারিশের স্বাক্ষর নাম ঠিকানা সঠিক ভাবে উল্লেখ্য কিনা।

অনেকেই বোনের অংশ না দিয়ে, বিক্রি করে দেন, জিনি ক্রয় করেন সেই লোক বিপদে পড়ে। কারণ ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত ছিলো বিক্রেতা কোন সুত্রে সম্পত্তির মালিক, সেই সব ডোকোমেন্ট দেখা উচিত ছিলো। পৈতৃক সম্পত্তি হলে বা ওয়ারিশ সম্পত্তি হলে ক্রয়ের আগে ওয়ারিশ সনদ, রেজিষ্ট্রেশন করা বন্টন নামা দলিল,নামজারি খতিয়ান। এগুলো দেখা। এগুলো না দেখে ক্রয় করলে অন্যান্য ওয়ারিশরা অভিযোগ সালিস মামলা করলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।।

Address

Corporate Lawyer
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Jurists & Lawyers posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to The Jurists & Lawyers:

Share