19/08/2026
অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন—“সার্বিয়ায় যেতে যদি সরকারি ফি এত কম হয়, তাহলে এজেন্সিগুলো ১২–১৫ লাখ টাকা কেন নেয়?”
বিষয়টা একটু সহজভাবে বুঝুন।
প্রথম কথা হলো, ভিসা ফি, ওয়ার্ক পারমিট ফি এবং অন্যান্য সরকারি ফি—এসবের মোট খরচ এক জিনিস। আর একজন কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর নেওয়া মোট টাকা আরেক জিনিস।
আপনি চাইলে Google-এ গিয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন—সার্বিয়ার ভিসা ফি কত, ওয়ার্ক পারমিটের সরকারি ফি কত এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় আর কী কী সরকারি খরচ আছে। শুধু সরকারি ফিগুলো হিসাব করলে ১২–১৫ লাখ টাকা হওয়ার কথা নয়।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এত টাকা কোথায় যায়?
এখানেই আসল বিষয়।
একজন বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য শুধু ভিসা করলেই হয় না। আগে একজন নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির প্রয়োজন হয়। সেই কোম্পানিকে কর্মী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ডকুমেন্টেশন, বেতন দেওয়ার সক্ষমতা এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় প্রমাণ করতে হতে পারে।
আর অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোম্পানি ও রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মধ্যে চুক্তি বা সার্ভিস ফি থাকে। এজেন্সি তখন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে, কর্মী খুঁজে দেয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দায়িত্ব নেয়।
এখন ধরুন, আপনি নিজে সরাসরি একটি কোম্পানিতে আবেদন করলেন এবং কোম্পানি আপনাকে সত্যিই প্রয়োজন মনে করল। আপনার যদি এমন একটি স্কিল থাকে, যেটা ওই কোম্পানির দরকার, তাহলে কোম্পানি আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাতে পারে।
কিন্তু আপনার যদি কোনো বিশেষ স্কিল না থাকে, অভিজ্ঞতা না থাকে, আর আপনি শুধু বলেন—“আমি সার্বিয়ায় যেতে চাই”—তাহলে একটি কোম্পানি আপনাকে কেন নিয়োগ করবে?
এটাই মূল বিষয়।
এজেন্সির মাধ্যমে যারা যায়, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এজেন্সি কোম্পানির সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে। সেই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির খরচ, ডকুমেন্ট প্রসেসিং, অন্যান্য প্রশাসনিক খরচসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হতে পারে।
তাই সরকারি ভিসা ফি কম মানেই এজেন্সির মোট চার্জও কম হবে—এমনটা নয়।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কেউ যদি আপনাকে বলে, “১০০% ভিসা গ্যারান্টি”, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হবেন।
কারণ শেষ সিদ্ধান্ত দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আপনার ডকুমেন্ট ঠিক আছে কি না, চাকরির অফার সত্যি কি না, কোম্পানি বৈধ কি না এবং আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না—এসব যাচাই করার পরই ভিসার সিদ্ধান্ত হয়।
আর আমরা যদি নিজে নিজে যেতে চাই, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি ভালো স্কিল, ভালো CV, সত্যিকারের চাকরির অফার এবং বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া।
তাই শুধু “এজেন্সি কত টাকা নিচ্ছে” সেটা না দেখে আগে বুঝুন—সরকারি ফি কত, কোম্পানির নিয়োগ প্রক্রিয়া কী, এজেন্সি কী সার্ভিস দিচ্ছে এবং আপনি যে চাকরির জন্য টাকা দিচ্ছেন সেটি সত্যি কি না।
কারণ ১২–১৫ লাখ টাকা খরচ করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আপনার টাকা কোথায় যাচ্ছে এবং আপনি বিনিময়ে আসলে কী পাচ্ছেন, সেটা পরিষ্কারভাবে জানা।