Taj Inspection & Survey Company Pvt Ltd

Taj Inspection & Survey Company Pvt Ltd All Kind of Survey, Digital Survey, Project Profile etc.

Previous Survey Visit Pictures.
22/09/2024

Previous Survey Visit Pictures.

13/01/2024

ভূমি মালিকদের মালিকানা সংক্রান্ত ‘সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ’ স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এ কার্ডের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মালিকদের একটি আলাদা কার্ড থাকবে। যেটার নাম হবে সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ। কার্ডে একজন ব্যক্তির কতটুকু জমি আছে তার আদ্যপান্ত উল্লেখ থাকবে। একজন জমি মালিকের কী আছে, না আছে, তা এতে থাকবে এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেমন ধরুন কোনো এক ব্যক্তির ২০ কাঠা জমি আছে, সেখান থেকে পাঁচ কাঠা বিক্রি করে ফেললেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যাবে।

কবে থেকে এ কার্ড দেওয়া হবে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, কার্ড দেওয়ার জন্য কাজ চলছে। চলতি অর্থ বছরেই দেওয়া হবে এটি।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস আর সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

13/01/2024

জমি পরিমাপের স্কেল বা সার্ভেয়ার (আমিন) দের সকল প্রকার যন্ত্রপাতি

১. ফাইবার গ্লাস ১০০ ফিট মেজারিং টেপ ফিতা ১৫০ টাকা।

২. অর্জিনাল এপেক্স একুরেট প্রিন্ট কোয়ালিটির এক্সপোর্টেড ইঞ্জিনিয়ার স্কেল যার এক পাশে ফিট স্কেল এবং অপরপাশে গুনিয়া স্কেল

৩. হলুদ এবং সাদা গুনিয়া

৪. ফাইন গুনিয়া Apex India

৫. চাইনিজ এক্সপোর্টেড অরিজিনাল হিরো ডিবাইডার বড় সাইজের দাম

৬. কাশ্মীরি HB চাইনিছ চিকন কালির পেন্সিল

৭. যন্ত্রপাতি গুলো পরিবহন এর জন্য জিপার হাত ব্যাগ

৮. রেডলিফ হাইলাইটস পেন

৯. দিক নির্ণয়ের কম্পাস

১০.ম্যাগনিফাইং গ্লাস ৭৫ মি.মি.

১১. Apex India র পিতলের গ্যান্টার স্কেল

১২ . Apex India র উন্নত মানের ৬” পিতলের গান্টার স্কেল

১৩. স্বচ্ছ ৬” গান্টার

১৪. ভালো মানের পাতলা ৩৩০ বা ফিট স্কেল

১৫. ১২ ” ফিট বা ৩৩০’ স্কেল যেটা দিয়ে একবারে ৪০০০ ফুট পর্যন্ত নক্সা থেকে দুরুত্ব নেয়া যাবে

১৬. Hero ঘুরানো ডিভাইডার

১৭. সবচেয়ে ভালো মানের ফিট বা ৩৩০’ স্কেল Apex india র high accuracy scale যেইটা বর্তমান বাজারে বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে ভালো মানের স্কেল। যারা প্রফেশনাল সার্ভেয়ার বা আমিন শুধুমাত্র তারা এটি সংগ্রহে রাখতে পারেন।

১৮. ম্যাপ পট (হোল্ডার) বা সিডিউল পট (পয়েন্টার) যেটাতে ম্যাপ রাখা হয়।

১৯. নকশা বা ম্যাপ দিয়ে জমি পরিমাপ শিখার জন্য BRS ( বি আর এস) ম্যাপ ৮০”= ১ মাইল স্কেল এর ভালো মানের স্কেন ফটোকপি ম্যাপ আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। যেটা দিয়ে জমি পরিমাপ প্র‍্যাক্টিস করতে পারবেন।

২০. জমি পরিমাপ বা আমিনশীপ ট্রেনিং এর ধারাবাহিক শীট ও বই সংগ্রহ করতে পারবেন।

13/08/2023

Modern Surveying Instruments | Surveying Instruments | Total Station | Latest Survey Machine

07/08/2023

জমি পরিমাপের আধুনিক ও সনাতন পদ্ধতি।

06/08/2023

জমি কেনার আগে কি কি কাগজ বিক্রেতা থেকে নিতে হবে।

06/08/2023

ভূমি জরিপ
ভূমি জরিপ কোন নির্দিষ্ট জনপদে একটি নির্ধারিত হারে রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জমির অবস্থান, তার প্রমিত পরিমাপ ও মালিকানা নির্ণয়ের জন্য পরিচালিত জরিপ। সুলতান শেরশাহের (১৫৪০-৪৫) শাসনামলে প্রথমবারের মতো উপমহাদেশে ভূমি জরিপের গুরুত্ব সবিশেষ মনোযোগ লাভ করে। শেরশাহ ভূমি পরিমাপ, ভূমির কর নির্ধারণ ও কর আদায়ের একটি নিয়মিত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তবে সম্রাট আকবরের অর্থ ও রাজস্ব মন্ত্রী তোডর মল (১৫৭১-৮২) জমির সঠিক কর নির্ধারণ, সেইসাথে জমির সর্বাঙ্গীণ জরিপ ও জমি পরিমাপের একটি একক ও অভিন্ন প্রমিতি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর কর নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা সুবায় (প্রদেশে) জমির খাজনা বা ভূমিরাজস্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। এ সময় জমিতে উৎপন্ন ফসলের নির্ধারিত একাংশ হিসেবে খাজনা আদায় করা হতো। আর্থিক প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দীউয়ান নিযুক্তির মাধ্যমে এই আমলের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন সাধিত হয়। তোডর মলের কর নির্ধারণ ব্যবস্থাটি ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় রাজস্ব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের আগে পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। তবে এর আগে, ১৬৮৫ ও ১৭৫০ সালে এ ব্যবস্থার কিছু কিছু উন্নতি সাধন করা হয়। তাত্ত্বিক দিক থেকে, আবাদি জমির পরিমাপ ও জমির মাটির শ্রেণীবিভাগ বা বিন্যাসের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হলেও বাংলা ও তার বাইরের প্রদেশগুলিতে বাস্তবিকপক্ষে কোন জরিপ পরিচালনা করা হয় নি। সে সময় বেশ বড় বড় এলাকা কৃষিখামার বা তালুক হিসেবে আমিল বা রাজস্ব সংগ্রাহকের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আপাতদৃষ্টে জমির কর নির্ধারণ ও সংগ্রহের বিষয়টি ছিল আমিলদের নিজস্ব ব্যবস্থার আওতায়। ১৭৬৯ সন পর্যন্ত এ ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকে, এরপর সাবেক শাসকরা বাঙালি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের কাজ দেখাশোনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। ১৭৭২ সালে এসব তত্ত্বাবধায়ককে জেলায় জেলায় রাজস্ব সংগ্রাহক কর্মকর্তা বা রেভিনিউ কালেক্টর করা হয়।

ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়ারেন হেস্টিংস, সর্বোচ্চ ডাকে চাষিদেরকে পাঁচ বছরের জন্য তালুক বন্দোবস্ত প্রদানের এক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থা পাঁচসনা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। অবশ্য এই নতুন ব্যবস্থা নিদারুণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অনাদায়ি ভূমিকর জমে উঠতে থাকে, রাজস্ব আদায় কমে যায়। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকবর্গ একটি উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পিট-এর ভারত আইন, ১৭৮৪ পাশ হয়। এই আইনের আওতায় স্থির করে দেওয়া হয় যে, ভারত সরকারকে দেশের জমিদারদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয় আইনকানুন, রীতি-আচারের ভিত্তিতে রাজস্ব সংগ্রহের জন্য স্থায়ী বিধিবিধান প্রবর্তন করতে হবে। ১৭৮৬ সনে লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতে আসার সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকদের একটি নির্দেশপত্রও সঙ্গে নিয়ে আসেন। এই পত্রের মর্মানুযায়ী, কোম্পানি পরিচালকরা একটি যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য রাজস্ব প্রদানের শর্তে ভারতে ভূমির স্থায়ী বন্দোবস্ত দানকে সর্বোত্তম ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেন। আর এ শর্ত পূরণসাপেক্ষে জমির এই স্থায়ী বন্দোবস্ত আর সেইসাথে তালুকে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার হবে একমাত্র সার্বিক নিরাপত্তা বিধায়ক ব্যবস্থা। প্রথমে ১৭৮৯-৯০ সনে এক দশসনা বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তন করা হয়। আর এ ব্যবস্থায় জমিদার, স্বতন্ত্র সত্তার তালুকদার ও অন্যান্য ইজারদার ইত্যাদি মধ্যস্বত্বাধিকারীই প্রকৃতপক্ষে কর সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তবে ১৭৯৩ সনে, দশসনা বন্দোবস্তের শর্তগুলি ঐ বছরের ১নং নিয়ন্ত্রণবিধি অনুসারে স্থায়ী করা হয়। এই ব্যবস্থাটি ছিল চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। আজকের বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ৯১% শতাংশ ছিল চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্তের আওতায়।

এই ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা প্রদেশের (বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি) সকল জমির নিয়মিত জরিপ কার্যের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৭৮৯ সন অবধি তৎকালীন তালুকগুলির সীমা, পরিসীমা ও আকার-আয়তন সম্পর্কিত সংগৃহীত তথ্য অসম্পূর্ণ ও সম্ভবত, কোন কোন ক্ষেত্রে খুবই ভ্রান্তিপূর্ণ ছিল। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে জেলা কর সংগ্রাহক কর্মকর্তারা (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) ঐ বন্দোবস্তগুলিতে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা নির্ণয় করতে গিয়ে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে যেসব দলিল-দস্তাবেজ জেলা কর সংগ্রাহক কর্মকর্তাদের হাতে ছিল সেগুলিতে ঐসব বন্দোবস্তে জমির সত্যিকারের সীমা-চৌহদ্দির বড়জোর একটি রূপরেখা থাকলেও তার সংজ্ঞা স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ছিল না। জমির চাষিরা প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের আবাদকার্য নিজ নিজ বন্দোবস্তির সীমা-চৌহদ্দি ছাড়িয়ে বনজঙ্গল এলাকাতেও বাড়াতো। আর এভাবে চাষাবাদ সম্প্রসারিত হওয়ার পর জমিদাররাও এ ধরনের জমির জন্য যথারীতি খাজনা আদায় করতে থাকে, যদিও এরকম জমি প্রকৃতপক্ষে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন ছিল না। ঐ সময় আবার মূল তালুকগুলি দ্রুত ভেঙে যেতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বকেয়া খাজনা বা অন্যসব কারণে এসব তালুক বিক্রয় হয়ে যায়। এগুলি সরকার বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে ক্রয় করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রেই সরেজমিনে এ ধরনের অনেক তালুকের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সকল এবং আরও অনেক কারণে স্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন এলাকাগুলির দক্ষভাবে প্রশাসন পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠায় রাজস্ব জরিপ বিশারদদের সাহায্য চাওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, এই তালুকগুলির সীমা-চৌহদ্দির স্থায়ী নিষ্পত্তি ও সেভাবে জমির মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ বিরোধ-বিসম্বাদের আশঙ্কা দূর করার উদ্দেশ্যে এসব তালুক সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ করা।

অস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন তালুকগুলির বেলায় অবস্থা ছিল ভিন্ন। এসব তালুকের ক্ষেত্রে সরকার সাধারণত সীমিত কয়েক বছরের জন্য একটি খাজনা বা ভূমিরাজস্ব নির্ধারণ করে দিত অথবা এগুলিকে বিভিন্ন আবাদি এলাকায় ভাগ করে দিয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিদের ইজারায় ছেড়ে দিত, আর তারাই আবার ঐ জমিতে প্রজাপত্তনি দিয়ে তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করত। অবশ্য, উভয় ক্ষেত্রেই জমির প্রকৃত চাষিরা যাতে যথাযথ আচরণ পায় তার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব ছিল সরকারের। এ কারণে, জমির রায়তওয়ারি বন্দোবস্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৭৯৩-এ (চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের বছর) স্থায়ী বন্দোবস্তের অধীন এলাকাগুলির বেলায় ইউনিট বা জোতের একক ছিল বিদ্যমান অবস্থাধীন তালুক, আর অস্থায়ী বন্দোবস্তি এলাকার জন্য ঐ ইউনিট বা জোত ধার্য হয় পুনঃবন্দোবস্ত প্রদানকালে ঐ চাষির মালিকানাধীন জোতের সমপরিমাণ জমি।

কোন এলাকা স্থায়ী বা অস্থায়ী যে কোন ভূমি বন্দোবস্তের আওতায়ই থাক না কেন, দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি রয়েছে এমন কোন গ্রামকে জরিপের সত্যিকার ইউনিট হিসেবে ধরে নেওয়াই ছিল সুবিধাজনক। কেবল প্রশাসনিক কারণেই নয়, পরিসংখ্যানগত উপাত্ত সংগ্রহের জন্যও এটি সুবিধাজনক। তাছাড়া, একটি গ্রাম সর্বদাই একটি ক্ষুদ্র ভূমি-ইউনিটও (জোত) বটে, যাতে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটত না বললেই চলে। পরগনা ছিল প্রাচীন জমিবিভাগ পদ্ধতির ইউনিট। তবে স্বীকৃত প্রশাসনিক জোত-ইউনিট হিসেবে পরগনা ক্রমান্বয়ে অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল, তারপরও রাজস্ব জরিপের বিবেচনায় পরগনা বিপুল গুরুত্বের দাবিদার, কেননা জরিপের রেকর্ড বা নথিপত্র প্রধানত পরগনাভিত্তিতেই সংগ্রহ করা হতো।

অতীতে যেসব বড় ধরনের জরিপ কার্যক্রম প্রচলিত ছিল সেগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

থাকবস্ত জরিপ (১৮৪৫-১৮৭৭) ১৮৪৫-৭৭ মেয়াদে রাজস্ব জরিপের বেলায় সর্বদাই পূর্বশর্ত হিসেবে একটি থাকবস্ত বা চৌহদ্দি চিহ্নিতকরণ জরিপ পরিচালিত হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল, জরিপের অধীন সকল গ্রাম ও তালুকের মধ্যকার সীমা-চৌহদ্দিগুলি সরেজমিনে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা। কার্যত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাজস্ব জরিপ শুরুর আনুমানিক এক বছর আগে গ্রাম ও তালুকগুলির প্রকৃত সীমা-চৌহদ্দি সরেজমিনে চিহ্নিত করার জন্য যেতেন। সীমা-চৌহদ্দি সম্পর্কিত সকল বিরোধ এভাবে আগে থেকেই নিষ্পত্তি হয়ে থাকার ফলে রাজস্ব জরিপ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় কোনরকম বিলম্ব ছাড়াই সাবলীল গতিতে সম্পন্ন করতে পারতেন।

থাকবস্ত জরিপের প্রকৃত ইউনিট বা জোত একটি গ্রাম হওয়ার কারণে যে খসড়া নকশা বা ম্যাপ তৈরি করা হতো তাতে একটি পরগনার আওতায় সকল গ্রামকে দেখানো হতো। সেইসাথে বিভিন্ন গ্রামের জন্য বরাদ্দ নাম ও নম্বরযুক্ত একটি তালিকাও প্রণয়ন করা হতো। এ মানচিত্রটি অভিহিত হতো থাক মুজমিলি নামে। এতে সীমা-চৌহদ্দি নির্ধারক কর্মকর্তা কর্তৃক স্বীকৃত সকল গ্রামের নাম ও ঐসব গ্রামের থাক নম্বর থাকত। পরিশেষে, রাজস্ব জরিপ কর্মকর্তা ঐ গ্রামগুলির জন্য জরিপ নম্বর বরাদ্দ করতেন। প্রতিটি পরগনায় থাক জরিপের লব্ধ ফলগুলি রাজস্ব জরিপ কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হতো যাতে তিনি তা থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেতে পারেন। থাক জরিপ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা সাধারণত ছিলেন একজন কর সংগ্রাহক কর্মকর্তার পূর্ণ ক্ষমতাধারী বিশেষ অধিকারভোগী আমলা। ১৮৫২ সালের আগে প্রণীত থাক মানচিত্রগুলির বেশিরভাগই ছিল চোখে দেখার ভিত্তিতে অাঁকা নকশাবিশেষ। তবে পরের দিকে তৈরি এ রকম কিছু নকশার মান ছিল একটু উন্নত। আর এসবের মধ্যেও সর্বশেষ পর্যায়ে তৈরি কিছু মানচিত্র যুক্তিসঙ্গতভাবেই নির্ভুল বলে বিবেচিত। অবশ্য, এই মানচিত্র বা নকশাগুলির উদ্দেশ্য ছিল, রাজস্ব জরিপ কর্মকর্তাকে মোটামুটি একটা নির্দেশক রূপরেখা দেওয়া, তার বেশি কিছু নয়। থাক মানচিত্রের স্কেল ছিল বিভিন্ন। চোখে দেখা ধারণায় অাঁকা নকশাগুলির অবশ্য কোন স্কেলে তৈরি করা হয় নি। অন্যান্য সব মানচিত্র ৪ ইঞ্চি = ১ মাইল থেকে শুরু করে ২৪ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে অাঁকা।

রাজস্ব জরিপ (১৮৪৬-১৮৭৮) থাক জরিপের উপাত্ত ও জমির জন্য বরাদ্দ সংখ্যার ওপর ভর করে রাজস্ব জরিপ কর্মকর্তা তাঁর কাজ শুরু করতেন। ভূ-সংস্থানগত বিবরণসহ গ্রামের সীমা-চৌহদ্দি, কোন কোন ক্ষেত্রে তালুকের সীমানার নির্ভুল মানচিত্র তৈরি, সাধারণ প্রশাসনিক কাজের জন্য কিছু উপাত্ত প্রণয়ন, প্রতিটি গ্রামের মানচিত্র (সাধারণত, ৪ ইঞ্চি =১ মাইল) ও পরগনার মানচিত্র (সাধারণত, ১ ইঞ্চি = ১ মাইল) প্রণয়ন ছিল রাজস্ব জরিপের উদ্দেশ্য। কোন গ্রামের অভ্যন্তরের বিস্তারিত খুঁটিনাটি বিবরণ এতে প্রদর্শন করা হয়। আর এটি বস্ত্ততপক্ষে এমন প্রাথমিক বা মৌল বিষয় যার বুনিয়াদে পুরো জরিপ কাজটি পরিচালিত হয়ে থাকে। এই মূল বা বুনিয়াদটি তত্ত্বগতভাবে বিরাট এক ত্রিকোণমিতিক জরিপের (১৮৪০-১৮৬৫) একটি কেন্দ্রবিশেষ। এ জরিপের প্রতিবেদন বিস্তারিত দুটি শিরোনামের আওতায় বিবেচনা করা যায়: সীমা-চৌহদ্দি ও ভূ-সংস্থানগত বিবরণ। এ জরিপের অভ্যন্তরীণ বিশদ বিবরণকে সঠিক ও নির্ভুলভাবে জরিপকৃত বলে গণ্য করা যায়, কেননা আড়াআড়ি অবস্থানের জরিপ কেন্দ্রগুলি পর্যাপ্ত বিন্দু ও ভিত্তির (ভূমি) সুবিধা দেয়, যার ভিত্তিতে খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্যগুলিরও মানচিত্রণের সুবিধা পাওয়া যায়। এর কারণ এই যে, রাজস্ব জরিপের সবচেয়ে নির্ভুল কাজ হয়েছে আড়াআড়ি জরিপ পদ্ধতিতে আর এতে কেবল আড়ি (cross) বিন্দুগুলিই ছিল রিলে কাজে গ্রহণযোগ্য, অবশ্য সেগুলি যদি পাওয়া সম্ভব হয়। রাজস্ব জরিপ গোটা দেশের উপরিতল এলাকার পরিমাপ নিয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে একেকটি গ্রামকে তার গোটা জমি বা ভূমি বরাদ্দ করেছে। রাজস্ব জরিপে লব্ধ ফল সাধারণত পরগনা মানচিত্র (১ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেল) তৈরিতে ব্যবহূত হয়েছে। পরে, সার্ভেয়র জেনারেল এই এক ইঞ্চি স্কেলের মানচিত্রগুলিকে ১ ইঞ্চি স্কেলের জেলা মানচিত্র ও ৪ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলের মানচিত্রকে ভারতবর্ষের মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহার করেন।

খসড়া জরিপ কার্যক্রম (১৮৪৬-১৮৫৪) অস্থায়ী বন্দোবস্তাধীন জমিতে এবং স্থায়ী জমিতে বিভিন্ন স্বত্ব জট পাকিয়ে থাকার কারণে ও থাক মানচিত্রে কিংবা থাকবস্ত জরিপের কাগজপত্রে সরেজমিন খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত প্রদর্শন ব্যয়বহুল বলে এ ধরনের জমিতে খসড়া জরিপ কার্যক্রম পরিচালনাই সাধারণ রীতি। এ কাজে সাধারণত ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলই ব্যবহূত হয়। এ জরিপের আওতায় সংগৃহীত বিস্তারিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে প্লট বা জমির দাগ নং, কালেক্টরের রেন্ট রোল-এর তৌজি নম্বর, তালুকের নাম, স্বত্বাধিকারীর নাম, চাষি বা প্রজার নাম, জমির (দাগ/প্লটের) বিবরণ, এলাকার নাম, উৎপাদিত ফসলের নাম ইত্যাদি। খসড়া মানচিত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৈরি করা হয় না। আর যদি করাও হয় তাহলেও সেগুলি অধিকাংশই নির্ভুল নয়, অসম্পূর্ণও বটে। তবে খসড়া জরিপের মানচিত্র আধুনিক কালের সিএস জরিপ বা ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের মানচিত্রের অনেকটাই কাছাকাছি। আজকের প্রচলিত সিএস পদ্ধতির জরিপ উনিশ শতকের সত্তরের দশকে প্রথমবারের মতো যুক্তপ্রদেশে (বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশ) ব্যাপক পর্যায়ে কাজে লাগানো হয়। পরে এই জরিপ ব্যবস্থা পূর্ববঙ্গসহ (আজকের বাংলাদেশ) সমগ্র বাংলায় সম্প্রসারিত হয়। কর্নেল জে.আর স্যান্ডিম্যন বাংলায় এই পদ্ধতি প্রথম প্রবর্তন করেন ও বাংলা প্রদেশ (বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি) জরিপ বিভাগের প্রথম পরিচালক হিসেবে পূর্ববঙ্গের জরিপগুলিতে এর ব্যাপক ব্যবহার করেন। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার জরিপ বিভাগীয় পরিচালক ছিলেন লে. কর্নেল আর.টি ক্রিচটন। তিনি তাঁর অঞ্চলে তৎকালীন বিরাজমান অবস্থা অনুযায়ী ঐ পদ্ধতিতে নানা রদবদল করেন।

দিয়ারা জরিপ (১৮৬২-১৮৮৩) ১৮৪৭ সনের ৯ নং আইনে সন্নিবিষ্ট বিধানের আওতায় বাংলার গঙ্গা ও অন্যান্য বড় নদীর গর্ভদেশ এলাকা ৪ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে জরিপ করা হয়। ১৭৮৯ সনের দশসনা বন্দোবস্তের পর থেকে এ যাবৎ গঠিত নতুন ভূমি নিরূপণের একটি ভিত্তি বের করার জন্য এসব জরিপ পরিচালনা করা হয়। দিয়ারা জরিপ থেকে লব্ধ ফলগুলির কারণে নির্ভুল তুলনামূলক মানচিত্র তৈরি করা সুবিধাজনক হয়েছে। এই মানচিত্রে রাজস্ব, দিয়ারা (নদীগর্ভ এলাকা) ও ভৌগোলিকভাবে আধুনিক সীমা প্রদর্শন করা যায়। এই জরিপ কাজের গুরুত্ব সমধিক এ কারণে যে, এই জরিপ প্রায় ক্ষেত্রেই নদীগর্ভ এলাকা নিয়ে বিবাদ-বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সত্যিকার একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বাংলার ব্যাপারে বলা চলে, ১৮৬২-৬৫ মেয়াদে গোটা গঙ্গা নদী ও উত্তর-পশ্চিম বিহারের কোন কোন নদীর জরিপ পেশাদারি মানে সম্পন্ন করা হয়।

কিশত্ওয়ার জরিপ (Cadastral Survey) সত্যিকার অর্থে আধুনিক কিশত্ওয়ার জরিপ খসড়া জরিপের উন্নততর সংস্করণ। খসড়া জরিপ চলত রাজস্ব জরিপের আগে। কিশত্ওয়ার জরিপ পদ্ধতি আড়ি জরিপ, কিশত্ওয়ার কার্যক্রম ও ভূবাসন কার্যক্রম এই তিন অংশে বিভক্ত। আড়ি জরিপের কাজ করতেন পেশাদার জরিপ বিশারদগণ। এই কাজটি বাস্তবিকপক্ষে রাজস্ব জরিপে পরিচালিত আড়ি কার্যক্রমেরই অপর ভাগ। তবে এই কার্যক্রমে কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা উন্নত পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। কিশত্ওয়ার পর্যায়ের কার্যক্রম ভূপৃষ্ঠের জমির বিষমকোণী প্লট/ক্ষেত্রগুলিকে মোটামুটি আকারের কয়েকটি চতুষ্কোণ ক্ষেত্রে বিভক্ত করে। এই ক্ষেত্রগুলি প্রত্যেকটি হয় গড়ে পনেরো থেকে পঁচিশ একরের মতো জমি। চতুষ্কোণ ক্ষেত্রগুলির ভিত্তি বা বুনিয়াদ অবস্থিত থাকে আড়াআড়ি রেখাগুলির বিন্দুসমূহের উপর। এরপর এই চতুষ্কোণ ক্ষেত্রগুলিকে মোটামুটি আয়তক্ষেত্রে উপবিভক্ত করা হয় আর এগুলির একেকটির আয়তন তখন দাঁড়ায়, কী কী খুটিনাটি বিষয় জরিপ করতে হবে তার সূক্ষ্ম জটিলতা সাপেক্ষে দুই থেকে চার একর। বিভিন্ন চতুষ্কোণ ক্ষেত্রের পাশগুলি থেকে একটি গ্রামের ভিতরের সকল খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্য সহকারে অপটিকাল স্কয়ার ও পরিমাপক চেইন ব্যবহারের মাধ্যমে মানচিত্র তৈরি করা যায়।

কিশত্ওয়ার কার্যক্রমের ফল হিসেবে তৈরি হয় একটি মানচিত্র যা কার্যত সর্বদাই প্রতিটি গ্রামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে। এই মানচিত্রে গ্রামগুলির যথার্থ অবস্থান ও সেগুলির আবাদি জমির সত্যিকারের সীমা-চৌহদ্দি প্রদর্শিত হয়। কিশত্ওয়ার জরিপের কাজ আগে জরিপ বিভাগ পরিচালনা করত। এই জরিপকে সাবেক খসড়া জরিপের অপর (পাল্টা) ভাগ হিসেবে গণ্য করা যায়। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে খসড়া জরিপের সাথে কিশত্ওয়ার জরিপের ভিন্নতা রয়েছে, যেমন, এই জরিপের আওতায় জমি বা প্লটকে তার মোটামুটি গড় আকারে না দেখিয়ে এর প্রকৃত আকৃতিতে দেখানো হয়। এসব ক্ষেত্র বা জমির আয়তন সরাসরি ম্যাপ থেকে পরিগৃহীত হয় বলেই সরেজমিনে তৈরি মূল নকশা বা মানচিত্র থেকে যান্ত্রিক উপায়ে তা পুনরুৎপাদন করা যায় আর ক্ষেত্র বা জমির সীমা নিখুঁতভাবে কিশত্ওয়ার মানচিত্র থেকে নিয়ে এতে বসিয়ে দেওয়া যায়।

বিমান জরিপ বাংলাদেশের পরিবেশ ও অবস্থা বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিশ্ত্ওয়ার মানচিত্রণের জন্য বেশ উপযোগী। আর এ কাজটি করা যেতে পারে উল্লম্ব বিমান আলোকচিত্র পদ্ধতিতে। বাংলাদেশের বেলায় এ পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো, দেশটি সমতল আর জমির সীমা-চৌহদ্দিগুলি আকাশ থেকে ভাল করেই পরিদৃশ্যমান। তবে এ ধরনের কোন মানচিত্র প্রণয়নকর্মই স্পষ্টত সন্তোষজনক হয় না, কেননা জমির বিভিন্ন এলাকা নানারকম গাছপালা ও বাস্ত্তভিটার ঝোপঝাড়ে অস্পষ্ট হয়ে উঠতেই পারে, যার ফলে বিস্তারিত খুঁটিনাটি বা ভূমির অন্যান্য তথ্যও চাপা পড়তে পারে। অবশ্য, পল্লী জনপদের অপেক্ষাকৃত খোলা এলাকাগুলির বেলায় এই জরিপ বেশ উপযোগী হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রেও মানচিত্র প্রণয়নের স্কেল ক্ষুদ্রতম প্লট চিহ্নিত করার জন্য পর্যাপ্ত রকমে বড় হতে হবে। ১:১২,০০০ অনুপাতের স্কেল সম্ভবত বাংলাদেশের প্রায় সকল স্থানের জন্যই যথেষ্ট হবে। কিন্তু তারপরেও এ ধরনের সব এলাকাতেও, আকাশ থেকে নেওয়া আলোকচিত্র সব চাহিদা পুরোপুরি মিটাতে সক্ষম হবে না। কারণ, ঝোপঝাড়ময় বাস্ত্তভিটা এলাকাগুলির বিবরণ সম্পূর্ণভাবে পেতে হলে তার জন্য সরেজমিনে মাঠজরিপ সর্বদাই আবশ্যক হয়ে থাকে। তদুপরি, আকাশ থেকে তোলা আলোকচিত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এই ব্যয় সর্বদা লাভজনক নাও হতে পারে।

রিমোট সেন্সিং (কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক জরিপ) বিমান থেকে আলোকচিত্র গ্রহণের মতোই কোন কোন নির্বাচিত এলাকার জন্য রিমোট সেন্সিং ব্যবস্থায় চিত্রগ্রহণ ফলদায়ক বলে বিবেচিত হতে পারে। চর এলাকাগুলির দিয়ারা জরিপে অনেক গলদ রয়েছে। সেদিক থেকে দূর আকাশের কক্ষপথে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে রিমোট সেন্সিং ব্যবস্থায় সংগৃহীত উপাত্তগুলি উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করার কাজে সহায়ক হতে পারে। বাস্তবিক পক্ষেও জরুরি ভিত্তিতে এসব এলাকার জরিপ হওয়া দরকার। রিমোট সেন্সিং ভূমির পরিমাণগত পরিমাপ দিতে সক্ষম। আর তাতে নতুনভাবে ঐসব গড়ে ওঠা কিংবা জেগে ওঠা ভূমির এখতিয়ার নির্ণয়ের প্রশাসনিক সমস্যাও লাঘব হতে পারে। বাংলাদেশ জরিপ বিভাগ ও স্পারসো (SPARSO) সরকারের উদ্যোগে গৃহীত পাইলট প্রকল্পে সহায়তা দিতে পারে। একই উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগের ব্যয় সার্থকতা বা সাশ্রয় কতটুকু হতে পারে, তাতে কী ধরনের উপকার পাওয়া যাবে এখন তার নিরূপণ প্রক্রিয়া চলছে।

06/08/2023

ভুমি জরিপ কার্যক্রম ও এর ইতিহাস

ভূমি জরিপ বা ল্যান্ড সার্ভে একটি টেকনিক্যাল কার্যক্রম। এর সাহায্য একটি এলাকার সকল বা নির্দিষ্ট ভূমিখন্ডের একটি নিদিষ্ট স্কেলে নিদিষ্ট মানের কাগজে পরিমাপ গ্রহণক্রমে এর অবস্থান, আয়তন ও সীমানা (পেরিফেরি) নির্ণয় করা হয়। এরূপ কার্যক্রম দ্বারা একটি মৌজা নকশা অংকিত হয় এবং নকশার ভূমি খন্ডের দখল ও মালিকানার বর্ণনা নিয়ে একটি খতিয়ান প্রণীত হয়। এ দুটো মিলে রেকর্ড অব রাইট বা স্বত্বলিপি প্রস্তুত হয়।

জরিপে প্রণীত এরূপ স্বত্বলিপি অত্যন্ত মূল্যবান দলিলরূপে পরিগণিত। একটি দেশের প্রশাসনিক সীমানা ও অভ্যন্তরীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র নির্ধারণের জন্য গ্রাম বা মৌজার সীমানা সুনিদিষ্ট থাকা আবশ্যক। সুনিদিষ্ট স্কেলে বাস্তব ভূমি খন্ডের চিত্রায়িত নকশা মামলা মোকদ্দমায় সাক্ষ্য যাচাঁই এবং Place of occurrence অর্থাৎ ঘটনাস্থল নির্ধারণ করতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভূমি জরিপের আবশ্যকতার সাথে এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সুষ্ঠুভাবে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা না গেলে সরকারের জমি যেমন বেহাত হতে পারে তেমনি ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে দাংগা হাংগামা, খুন ইত্যাদি কারণে মামলা মোকদ্দমা বেড়ে গিয়ে সামাজিক বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে।

ভূমি জরিপের ইতিহাস
পাঠান সম্রাট শেরশাহ সর্ব প্রথম এ উপমহাদেশে জরিপ প্রথা চালু করেন। পরবর্তীতে মোঘল সম্রাট আকবরের একজন অন্যতম সভাসদ টোডরমল সার্ভে ও সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু উক্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ এবং plot-to-plot সার্ভে কার্যক্রম ছিলনা বরং একটি সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম ছিল।

ক্যাডাস্ট্র্যাল সার্ভে (সি.এস.জরিপ)
১৮৮৫ সালের বংগীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম পরিচ্ছেদের বিধান অনুসারে ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সাআ দেশে সি.এস.জরিপ সম্পন্ন করা হয়। এ কর্মসূচীতে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ করে ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট অপারেশন শেষ করার মাধ্যমে সি.এস.জরিপের পরিসমাপ্তি ঘটে। ঐ সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অর্ন্তভূক্ত থাকায় বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের আওতাভূক্ত ছিলনা বিধায় সিলেট জেলায় সি.এস.জরিপ হয়নি। তবে জরিপ কার্যক্রম জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়। উক্ত জরিপে নকশা ও রেকর্ড উভয়ই প্রস্তুত করা হয়। সি.এস.জরিপের মাধ্যমে প্রতিটি মৌজার জন্য নকশা (ম্যাপ) প্রস্তুত করে প্রতিটি ভূমি খন্ডের বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, জমির পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ করে খতিয়ান প্রণয়ন করা হয়। সি. এস.খতিয়ান ও নকশা খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য ছিল। সি.এস. জরিপে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে লেখা থাকত এবং দখলকার রায়তের নাম নিচে লেখা থাকত। তখন জমির মালিক ছিলেন সরকার পক্ষে জমিদারগণ এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন।

নামজারী কি?
ভূমি ব্যবস্থাপনায় মিউটেশন বা নামজারী একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। জমি ক্রয় বা অন্য কোন উপায়ে জমির মালিক হয়ে থাকলে হাল নাগাদ রেকর্ড সংশোধন করার ক্ষেত্রে মিউটেশন একটি অপরিহার্য নাম। ইংরেজী মিউটেশন (Mutation) শব্দের বাংলা অর্থ হলো পরিবর্তন। আইনের ভাষায় এই মিউটেশন শব্দটির অর্থই হলো নামজারী। নামজারী বা নাম খারিজ বলতে নতুন মালিকের নামে জমি রেকর্ড করা বুঝায়। অর্থাত্‍‍ পুরনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নামে জমি রেকর্ড করাকে নামজারী/নাম খারিজ বলে। ভূমি মালিকানার রেকর্ড বা খতিয়ান বা স্বত্বলিপি হালকরণের জন্য জরিপ কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। যে সময়ের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে, এওয়াজ সূত্রে বিক্রয়, দান, খাস জমি বন্দোবস্ত ইত্যাদি ভূমি মালিকানার পরিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে। যে কারণে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ভূমি মালিকানার রেকর্ড হালকরণের সুবিধার্থে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৩ ধারায় কালেক্টরকে (জেলা প্রশাসক) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা বলে জমা, খারিজ ও নামজারী এবং জমা একত্রিকরণের মাধ্যমে রেকর্ড হাল নাগাদ সংরক্ষণ করা হয়।

কমিশনার (ভূমি) ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল ১ঌঌ০ এর ২০ অনুচ্ছেদ বলে নামজারী বা মিউটেশনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পূর্বে নামজারীর বা মিউটেশনের দায়িত্ব উপজেলা রাজস্ব বা অফিসার বা সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) পালন করতেন।

খাস জমি কি:
কোনো জমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সেই জমিগুলি যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সরকার,এই জমিগুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারেন অথবা অন্য কোনো ভাবে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে উক্ত ভূমিগুলিকে খাস জমি বলে। ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৭৬ ধারার ১ উপধারায় খাস জমি সম্বন্ধে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে যে,কোনো ভূমি যদি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং সেই জমিগুলি যদি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে তাহলে সরকার,এই ভূমিগুলি সরকার কর্তৃক প্রণীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারেন,অথবা অন্য কোনো ভাবে ব্যবহার করতে পারেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন উপরোক্ত ভূমিগুলিকে খাস জমি হিসাবে বুঝাবে।

তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যথা বন বা পূর্ত কিংবা সড়ক ও জনপথ এর স্বত্বাধীন বা মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমিকে সরকারের খাস জমি হিসাবে গন্য করা যাবে না।

(১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৭৬ ধারা এবং ৮৭ ধারা)
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ)

মৌজা: ভূমি জরিপের ভৌগলিক ইউনিটকে মৌজা রাজস্ব নির্ধারণ এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য এক ইউনিট জমির ভৌগোলিক আভিব্যক্তি হলো মৌজা। একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট-বড় হয়। ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের(CS) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিতি নম্বর নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০ টি।

দাগ নম্বর:- একটি মৌজার বিভিন্ন মালিকের বা একই মালিকের বিভিন্ন শ্রেণিভূক্ত জমিকে নকশায় যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকে দাগ বলে। মৌজা মাপের উত্তর-পশ্চিম কোন থেকে দাগ নম্বর প্রদান শুরু হয় এব দক্ষিন-পূর্ব কোনে এসে শেষ হয়।

দাখিলা:- ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের পর তহসিল অফিস হতে ভূমি মালিককে যে রশিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

পর্চা:- জরিপের খানাপুরি স্তর পযন্ত কাজ শেষ করে খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করে এর অনুলিপি মালিকের নিকট বিলি করা হয়। খতিয়ানের এই অনুরিপি ‘পর্চা’ নামে পরিচিত।

খতিয়ান:-একটি মৌজায় এক বা একাধিক ভূমি মালিকানার বিবরণ তথা ভূমির পরিমান, শ্রেণি,হিস্যা ইত্যাদি যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

হাল খতিয়ান:- কোন এলাকার সর্বশেষ জরিপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার দ্বারা বিঙ্গপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে এমন খতিয়ানকে হাল খতিয়ান বলে।

সাবেক খতিয়ান:
হাল খতিয়ানের পূর্ব পযন্ত চালু খতিয়ানকে সাবেক খতিয়ান বলে,যা বর্তমানে চালু নেই।তবে এর গুরুত্ব অনেক বিধায় এর সংরক্ষন দরকার।

সিএস খতিয়ান:
সিএস খতিয়ানের পূর্ণরুপ Cadastral Survey (দেশব্যাপি জরিপ) খতিয়ান। ১৯১০-১৯২০ সালে জরিপ করে এই খতিয়ান তৈরী করা হয়েছিল।

এসএ খতিয়ান:
এসএ খতিয়ান এর পূর্নরুপ State Acquisition (রাষ্ট্রকতৃক অর্জন) খতিয়ান। টেস্ট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি আইন প্রণয়ন করে ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর যে খতিয়ান তৈরী করা হয় তাকে বলে এসএ খতিয়ান। ১৯৫৬ সালের জরিপে এ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

আরএস খতিয়ান:
আরএস-এর অর্থ হলো Revisional Settlement বা সংশোধণী জরিপ। এসএ খতিয়ানের পর ঐ আইনের ১৪৪ ধারা অনুসারে যে খতিয়ান প্রকাশিত হয় (বা হবে) তাকে আর এস খাতয়য়ান বলে।

হোল্ডিং নম্বার:
খতিয়ান শব্দের অর্থ যা হোল্ডিং শব্দের অর্থ তাই। ১৯৫০ সালে State Acquisition(SA) আইন অনুসারে ‘হোল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহন:
কোন স্থবর সম্পত্তি সরকারী প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে আবশ্যক হলে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রসাসক কতৃক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহনের বিধান ভূমি অধিগ্রহন নামে পরিচিত।

অর্পিত সম্পত্তি:
১৯৫৬ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্থনি নাগরিক দেশ ছেড়ে ভারকে গমন করে পাকিস্থান প্রতিরক্ষা সার্ভিস কতৃক বিধি মোতাবেক তাদের শত্রু বলে ঘোসণা করা হয় এবং তাদের এদেশে রেখে যাওযা সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলে। ১৯৭৪ সালে উক্ত সম্পুত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি নামকরণ করা হয়।

05/08/2023

কিভাবে ডিজিটাল সার্ভে করতে হয় দেখুন ।

05/08/2023

Address

126/A-B, Monipuripara
Dhaka
1215

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Taj Inspection & Survey Company Pvt Ltd posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category