S Rahman & Associates

S Rahman &  Associates আইনি পরামর্শ ও সহায়তা

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ  সাবেক স্পীকার ও ...
12/07/2026

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ
সাবেক স্পীকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব‍্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার স‍্যার আর নেই।

তিনি আজ ভোর ৪:১৯ মিনিটে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হেবা ও দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরে ই-চালানে দিতে হবে দানকর, স্পষ্ট করল এনবিআরনিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ০৭ জুলাই ২০২৬ (২৩ ...
07/07/2026

হেবা ও দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরে ই-চালানে দিতে হবে দানকর, স্পষ্ট করল এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ০৭ জুলাই ২০২৬ (২৩ আষাঢ় ১৪৩৩)

হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকালে ই-চালানের মাধ্যমে প্রযোজ্য হারে দানকর আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই কর প্রযোজ্য হবে না।

আজ মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর নীতি উইং থেকে জারি করা এক স্পষ্টীকরণ পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে আয়কর আইন ও দানকর আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ের বিভ্রান্তি দূর করা হয়।

নতুন উপধারা সংযোজন ও নতুন নিয়ম পরিপত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দানকর পরিশোধের বিষয়ে আয়কর আইনে নতুন বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। ‘আয়কর আইন, ২০২৩’-এর ধারা ১২৫ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, চলমান ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে উক্ত ১২৫ ধারায় দানকর বিষয়ক একটি নতুন উপধারা ‘(২ক)’ যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সংযুক্ত উপধারা (২ক) অনুযায়ী— সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ এর প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর ই-চালানের (e-Chalan) মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন।

কাদের জন্য প্রযোজ্য এবং কারা অব্যাহতি পাবেন? জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নতুন উপধারাটি শুধুমাত্র হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দানকর প্রযোজ্য হবে না। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে যিনি সম্পত্তি দান করছেন (দাতা), তার জন্যই কেবল দানকর প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দানকরের হার, পরিমাণ ও কর অব্যাহতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ এর আলোকেই নির্ধারিত হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে হেবা বা দান দলিলের নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দাতার কাছ থেকে নির্ধারিত হারে দানকর সংগ্রহ করে তা ই-চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিশ্চিত করবেন। এই ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কোনো উৎসে কর সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।

ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম অপরিবর্তিত অন্যদিকে, সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এই ধরণের দলিলের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রযোজ্য হারে উৎসে কর (Source Tax) সংগ্রহ নিশ্চিত করবেন।

এনবিআর-এর এই স্পষ্টীকরণের ফলে মাঠপর্যায়ের সাব-রেজিস্ট্রার ও সম্পত্তি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে করের হার ও পরিধি নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। পরিপত্রটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনবিআর-এর সকল সদস্য, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কর পরিদর্শন পরিদপ্তর এবং সকল কর কমিশনার বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

Alhamdulillah. Allah has blessed me with the opportunity to stand by people in their time of need. A distressed mother c...
06/07/2026

Alhamdulillah. Allah has blessed me with the opportunity to stand by people in their time of need. A distressed mother came to me seeking bail for her son, who had been implicated in a murder case due to previous enmity. By the infinite mercy of Allah and the kind consideration of the Hon'ble Court, the Court was convinced by my submissions and granted bail to her son. All praise is due to Allah alone. Thank you for placing your trust and confidence in me.

11/06/2026

শুধুমাত্র Joint Account Holder হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তিকে Negotiable Instruments Act-এর ১৩৮ ধারার অধীনে ফৌজদারি দায়ে অভিযুক্ত করা যাবে না। ১৩৮ ধারার দায় মূলত সেই ব্যক্তির উপর বর্তায়, যিনি চেকটি ড্র, স্বাক্ষর ও ইস্যু করেছেন। ফৌজদারি আইনের সাধারণ নীতি হলো, আইন স্পষ্টভাবে অনুমোদন না করলে একজনের কাজের জন্য অন্যজনকে দায়ী করা যায় না। তাই স্বামী-স্ত্রীর যৌথ হিসাব থেকে চেক ইস্যু হলেও, চেকে স্বাক্ষর না করা Joint Account Holder-এর বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার কার্যক্রম আইনসম্মত নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, Negotiable Instruments Act-এর ১৪০ ধারায় কোম্পানির ক্ষেত্রে Vicarious Liability-এর বিধান থাকলেও সেই বিধান Joint Account Holder-এর ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করা যায় না। কোনো ব্যক্তি ঋণের জন্য দেওয়ানি দায়ে আবদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু কেবল সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার ফৌজদারি দায় আরোপ করা যাবে না। সুতরাং, চেকটি ড্র, স্বাক্ষর বা ইস্যু করার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে Joint Account Holder-এর বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার মামলা টেকসই হবে না।

Rouson Ara Mia Vs State & Another (Criminal Misc. Case No. 27569 of 2023)

08/03/2026

চেকের মামলায় সাজা হলে ৫০% টাকা জমা না দিয়ে জামিন পাওয়া যায় কিনা?
আমরা সবাই জানি, চেকের মামলায় রায় হলে নালিশি চেকের ৫০% টাকা জমা দেওয়া ব্যতীত সাধারণত জামিন ও আপিল করা যায় না। তবে আইনের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে ৫০% টাকা জমা না দিয়েও একজন দণ্ডিত ব্যক্তি আইনত জামিন পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন।

কারণ অনেক সময় ৫০% টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যক্তির কিছু সময়ের প্রয়োজন হয় এবং আপিল দায়েরের প্রস্তুতিতেও যুক্তিসঙ্গত সময় দরকার হতে পারে। এই বিষয়টি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারলে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আইনের সাধারণ বিধান:
চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে নালিশি চেকের সমপরিমাণ টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হয়। এটি আইনের সাধারণ বিধান।

অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারা অনুযায়ী বলা হয়েছে—যদি কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তিনি আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে আদালত আপিল দায়েরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন দিতে পারেন।

এ সময় পর্যন্ত সাজা কার্যকর থাকবে না এবং আসামি জামিনে মুক্ত থাকবেন বলে গণ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নজির:
চেকের মামলায় সাজা হওয়ার পর জরিমানা বা চেকের টাকার ৫০% জমা না দিয়েও জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে “পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম চৌধুরী শামীম হামিদ ও অন্যান্য” (২০২৪, ৩১ ALR (AD) ৫৮) মামলাটি বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।

এই মামলায় আসামি বিচারিক আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাজা ও জরিমানার আদেশ পান। মামলাটির মূল প্রশ্ন ছিল—

টাকা জমা না দিয়ে কি সাজা স্থগিত বা জামিন পাওয়া সম্ভব?

টাকা জমার বিধান কি আসামির আপিল করার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে?

উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০% টাকা জমা দেওয়া একটি বিধিবদ্ধ শর্ত হলেও আসামির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা একটি পৃথক বিষয়।

আদালত ব্যাখ্যা করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (১) ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত সাজার কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে পারেন এবং আসামিকে জামিন দিতে পারেন।

যদি আসামি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অত্যন্ত দরিদ্র বা তার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জমা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কেবল টাকার অভাবে তাকে কারাগারে রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।

এই মামলায় উচ্চ আদালত বিবাদীর সাজা স্থগিত করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন প্রদান করেন এবং নির্দেশ দেন যে এই সময়ের মধ্যে তাকে আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
আব্দুল মজিদ বনাম রাষ্ট্র (২০১৭) মামলায়ও আদালত বলেন, ১৩৮এ ধারার বিধানটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হলেও এটি আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করে না।

যদি আসামি রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত থাকেন এবং তাৎক্ষণিক জামিন প্রার্থনা করেন, আদালত তাকে আপিল করার জন্য সময় দিয়ে জামিন দিতে পারেন।

কারণ টাকা জমা দেওয়ার শর্ত আপিল করার মৌলিক অধিকারের প্রতিবন্ধক হতে পারে, যা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

রিট ও হাইকোর্টে জামিনের সুযোগ:
যদি বিচারিক আদালতের রায়ে গুরুতর আইনি ত্রুটি থাকে, তাহলে আসামি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে রিট শুনানির সময় আদালত ৫০% টাকা জমা দেওয়ার শর্ত শিথিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দেন।

এছাড়া বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর যদি আপিল আদালত জামিন না দেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জামিন আবেদন করা যায়।

হাইকোর্ট মামলার গুণাগুণ বিবেচনা করে অনেক সময় টাকা জমা দেওয়া ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করতে পারেন।

আইনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা
চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারা একসাথে পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে—

৫০% টাকা জমা দেওয়া আপিল গ্রহণের শর্ত, জামিন পাওয়ার শর্ত নয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে প্রণীত, আর চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা ২০০৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে।

কিন্তু এই সংশোধনের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারায় প্রদত্ত জামিনের সুবিধা রহিত করা হয়নি। ফলে আইনগতভাবে সেই সুবিধা এখনও বহাল রয়েছে।

সুতরাং, সঠিক আইনি ভিত্তি ও যুক্তি উপস্থাপন করতে পারলে চেকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৫০% টাকা জমা দেওয়ার আগেই সাজা স্থগিত ও জামিন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ আইনি গ্রাউন্ড উপস্থাপন করা।

- খন্দকার হাসান শাহরিয়ার
অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
মোবাইল: ০১৬৭৭৭২৯৫১৮
চেকের মামলায় সাজা হলে ৫০% টাকা জমা না দিয়ে জামিন পাওয়া যায় কিনা?
আমরা সবাই জানি, চেকের মামলায় রায় হলে নালিশি চেকের ৫০% টাকা জমা দেওয়া ব্যতীত সাধারণত জামিন ও আপিল করা যায় না। তবে আইনের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে ৫০% টাকা জমা না দিয়েও একজন দণ্ডিত ব্যক্তি আইনত জামিন পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন।

কারণ অনেক সময় ৫০% টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যক্তির কিছু সময়ের প্রয়োজন হয় এবং আপিল দায়েরের প্রস্তুতিতেও যুক্তিসঙ্গত সময় দরকার হতে পারে। এই বিষয়টি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারলে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আইনের সাধারণ বিধান:
চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে নালিশি চেকের সমপরিমাণ টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হয়। এটি আইনের সাধারণ বিধান।

অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারা অনুযায়ী বলা হয়েছে—যদি কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তিনি আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে আদালত আপিল দায়েরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন দিতে পারেন।

এ সময় পর্যন্ত সাজা কার্যকর থাকবে না এবং আসামি জামিনে মুক্ত থাকবেন বলে গণ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নজির:
চেকের মামলায় সাজা হওয়ার পর জরিমানা বা চেকের টাকার ৫০% জমা না দিয়েও জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে “পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম চৌধুরী শামীম হামিদ ও অন্যান্য” (২০২৪, ৩১ ALR (AD) ৫৮) মামলাটি বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।

এই মামলায় আসামি বিচারিক আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাজা ও জরিমানার আদেশ পান। মামলাটির মূল প্রশ্ন ছিল—

টাকা জমা না দিয়ে কি সাজা স্থগিত বা জামিন পাওয়া সম্ভব?

টাকা জমার বিধান কি আসামির আপিল করার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে?

উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০% টাকা জমা দেওয়া একটি বিধিবদ্ধ শর্ত হলেও আসামির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা একটি পৃথক বিষয়।

আদালত ব্যাখ্যা করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (১) ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত সাজার কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে পারেন এবং আসামিকে জামিন দিতে পারেন।

যদি আসামি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অত্যন্ত দরিদ্র বা তার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জমা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কেবল টাকার অভাবে তাকে কারাগারে রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।

এই মামলায় উচ্চ আদালত বিবাদীর সাজা স্থগিত করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন প্রদান করেন এবং নির্দেশ দেন যে এই সময়ের মধ্যে তাকে আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
আব্দুল মজিদ বনাম রাষ্ট্র (২০১৭) মামলায়ও আদালত বলেন, ১৩৮এ ধারার বিধানটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হলেও এটি আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করে না।

যদি আসামি রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত থাকেন এবং তাৎক্ষণিক জামিন প্রার্থনা করেন, আদালত তাকে আপিল করার জন্য সময় দিয়ে জামিন দিতে পারেন।

কারণ টাকা জমা দেওয়ার শর্ত আপিল করার মৌলিক অধিকারের প্রতিবন্ধক হতে পারে, যা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

রিট ও হাইকোর্টে জামিনের সুযোগ:
যদি বিচারিক আদালতের রায়ে গুরুতর আইনি ত্রুটি থাকে, তাহলে আসামি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে রিট শুনানির সময় আদালত ৫০% টাকা জমা দেওয়ার শর্ত শিথিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দেন।

এছাড়া বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর যদি আপিল আদালত জামিন না দেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জামিন আবেদন করা যায়।

হাইকোর্ট মামলার গুণাগুণ বিবেচনা করে অনেক সময় টাকা জমা দেওয়া ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করতে পারেন।

আইনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা
চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারা একসাথে পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে—

৫০% টাকা জমা দেওয়া আপিল গ্রহণের শর্ত, জামিন পাওয়ার শর্ত নয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে প্রণীত, আর চেকের মামলায় ১৩৮এ ধারা ২০০৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে।

কিন্তু এই সংশোধনের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ (২ক) ধারায় প্রদত্ত জামিনের সুবিধা রহিত করা হয়নি। ফলে আইনগতভাবে সেই সুবিধা এখনও বহাল রয়েছে।

সুতরাং, সঠিক আইনি ভিত্তি ও যুক্তি উপস্থাপন করতে পারলে চেকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৫০% টাকা জমা দেওয়ার আগেই সাজা স্থগিত ও জামিন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ আইনি গ্রাউন্ড উপস্থাপন করা।

11/01/2026
23/12/2025

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসংক্রান্ত অধ্যাদেশের সংশোধন জারি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে বয়স ৩২ করার ঘোষণা দেয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশও জারি করা হয়। এবার সেই অধ্যাদেশে সংশোধন এনে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশে মূলত কয়েকটি জায়গা থেকে ‘আধা স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশোধিত গেজেটে বলা হয়েছে, ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলো সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ (২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ নং অধ্যাদেশ) এর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন, যথা:- সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন। এ অধ্যাদেশ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।’

২০২৪ সালের ১১ নম্বর অধ্যাদেশের পূর্ণাঙ্গ শিরোনামের সংশোধনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ (২০২৪ সনের ১১ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর এই অধ্যাদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এর পূর্ণাঙ্গ শিরোনামে উল্লিখিত ‘আধা স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দগুলো ও চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হইবে।’

২০২৪ সালের ১১ নং অধ্যাদেশের প্রস্তাবনার সংশোধনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘উক্ত অধ্যাদেশের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত ‘আধা স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দগুলো ও চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হইবে।’

২০২৪ সালের ১১ নং অধ্যাদেশের ধারা ১–এর সংশোধনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ১–এর উপধারা (১) এ উল্লিখিত ‘আধা স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দগুলো ও চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হইবে।

২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ নং অধ্যাদেশের ধারা ৩–এর সংশোধনের ক্ষেত্রে গেজেটে বলা হয়েছে, ‘এ অধ্যাদেশের ধারা ৩ এর দফায় (গ) উল্লিখিত ‘আধা স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দগুলো ও চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হইবে।

২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ নং অধ্যাদেশে ধারা ৩ক এর সন্নিবেশ—‘উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-৩ ক। চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ সম্পর্কিত অন্য বিধানের কার্যকারিতা। এই অধ্যাদেশের ধারা ৩ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহের স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধানমালার কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বৎসরের অধিক নির্ধারিত রহিয়াছে, সেই সকল ক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত বয়সসীমা অপরিবর্তিত ও বহাল থাকিবে।’

Address

Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 08:00 - 16:00
Tuesday 08:00 - 16:00
Wednesday 08:00 - 16:00
Thursday 08:00 - 16:00
Sunday 08:00 - 16:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when S Rahman & Associates posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share