22/05/2026
যারা রামিসার বিপক্ষে উকালতি না করার ঘোষণা দিচ্ছে বা উকিল না থাকার দাবী করছে এরা কি আইন জেনে করছে? আইন বুঝে করছে? পপুলিস্ট নাকি অজ্ঞতা? এসবে রামিসার পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে? নাকি উল্টো?
দেশের Supreme Law , ৭২ এর সংবিধান( Bangladesh Constitution ) এর অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুসারে একজন ব্যক্তি ডাকাতি,খুনে, রেইপে যে অপরাধে অভিযুক্ত হোক সে একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে পারবে। এটা তার সাংবিধানিক অধিকার। এটা তার মৌলিক অধিকার। এখন যে Constitution আমরা মেনে চলছি সেটা থেকে বল্লাম।
নিম্ন আদালতে বিচারে কেউ আসামীর পক্ষে উকিল হিসেবে না দাড়ালে আদালত নিজেই তার জন্য উকিল নিযুক্ত করবে। উকিল ছাড়া বিচার হলে এবং রায় হলে , এই রায়ের বিরুদ্ধে সেই আসামী সুপ্রিম কোর্টে যাবে। সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছে। তারা Custodian of The Constitution. তারা অনুচ্ছেদ ৩৩ মেনে চলতে বাধ্য কিনা?। বিচারে ৩৩ মানা হয়েছে কিনা ,দেখবে কিনা? মানা না হলে এই রায় টিকবে কিনা? কার লাভ হবে?
দুনিয়ার সব দেশের সংবিধানে আসামীর আইনজীবীর নেওয়ার অধিকারের বিধান আছে। কিছু দিন আগে এক হুজুরকে রেইপের অপরাধে অভিযুক্ত করে ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়। পরে DNA TESTএ দেখা গেলো হুজুর জড়িত না। এই হুজুর এখন মানসিক রোগী হয়ে আছে। এক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন?
দেশের আইনমতে একটি অপরাধের রায় কী হবে? মুক্তি না খালাস সবকিছু ফিক্সড করে জজ সাহেব। এখানে উকিলের বাপের হাত নেই কিছু করার। যে খুনী , যার খুনের অপরাধ দুনিয়ার মানুষ জানে , সব প্রমাণিত। এসবে উকিলের ক্ষমতা নেই বাচানোর। উকিল কেবল তার মক্কেলের বক্তব্যটা আদালতে সাবমিট করে।
দুনিয়ার সব দেশে উকালতির সিস্টেম রাখা হয়েছে নিখুঁতভাবে বিচার করার জন্য। কেউ যাতে অবিচারের ভিক্টিম না হয়। পক্ষে বিপক্ষে আলাপের মাধ্যমে সত্য বের করার জন্য।
যেসব উকিল আমি এই পক্ষে থাকবো, এই পক্ষে থাকবো না। এসব বলে লম্বা লম্বা লেকচার দিচ্ছে এদের উচিত উকালতি ছেড়ে দিয়ে বিচারক বা ইমাম সাহেব হওয়ার চেষ্টা করা। তাকে উকিল হিসেবে রাখা হয়েছে যেকোনো এক পক্ষে থেকে আদালতকে সহায়তা করার জন্য এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য।
আমাদের দাবী হোক দেশের বিচারকের সংখ্যা ২৩০০ থেকে ১০,০০০ করা হোক। বিচার বিভাগের জন্য বাজেট ১০ হাজার কোটি মিনিমাম হোক। আদালত বাড়ানো হোক। আইনজীবীদের জন্য নানামুখী ট্রেনিং প্রোগ্রাম হোক, ট্রেনিং ইন্সটিটিউট হোক।
এসব বাস্তবায়ন হলে ২০২৫ সালের আসিয়া, ২০২৬ সালের রামিসা , শহীদ তনুদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। দ্রুত মানুষ ন্যায়বিচার পেলে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা দ্রুত আসবে।
এসব বাদ দিয়ে উকিল থাকবে কি থাকবে না, এসব কেবল অযুহাত ,অযুহাত ও অযুহাত। মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার অযুহাত। এমন অযুহাতে ফোকাস না দিয়ে দাবী হোক যথাযথ।
আমাদের মেয়ে , আমাদের বোন শহীদ রামিশার খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। এই বিচার দ্রুত হোক। সবাই ন্যায়বিচার পাক।।
Collected