02/11/2025
আমি বিভ্রান্ত
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক— কালের কণ্ঠ— “১০ হাজার ডাক্তারের কর ফাঁকি ৬,২৫০ কোটি টাকা” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
কিন্তু, এই দাবিটি কি তথ্যনির্ভর?
গাণিতিকভাবে কি এটি সম্ভব?
একটু থামুন, চলুন বিশ্লেষণ করি।
গাণিতিক বাস্তবতা বনাম প্রচারিত সংখ্যা
যদি ১০,০০০ ডাক্তারের মোট কর ফাঁকি ৬,২৫০ কোটি টাকা হয়,
তাহলে প্রতি ডাক্তারের কর ফাঁকি দাঁড়ায়—
৬,২৫০ কোটি ÷ ১০,০০০ = ৬২.৫ লক্ষ টাকা (৬২,৫০,০০০) ।
এখন, বর্তমান করহারে একজন ব্যক্তির কর যদি হয় ৬২.৫ লক্ষ টাকা,
তাহলে তার করযোগ্য আয় হতে হবে প্রায় ২.২২ কোটি টাকার বেশি ।
অর্থাৎ, সংবাদটি সত্য হলে, বাংলাদেশের ১০ হাজার ডাক্তারের প্রতিজনের বার্ষিক নীট করযোগ্য আয় ২.২২ কোটি টাকার উপরে!
তাহলে ১০,০০০ ডাক্তারের মোট আয় হবে—
২.২২ কোটি × ১০,০০০ = ২২,২০০ কোটি টাকা।
আর যদি এই আয় তাদের মোট প্রাপ্তির ২৫% হয়,
তাহলে মোট টার্নওভার দাঁড়ায় প্রায় ৮,৮৮০ কোটি টাকা।
বাস্তব চিত্র কী বলে
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত ডাক্তার সংখ্যা প্রায় ১,১০,০০০,
যার মধ্যে সক্রিয় চিকিৎসক ৬০–৭০ হাজার জন।
এর অধিকাংশই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত,
যাদের বার্ষিক আয় ১০–২০ লক্ষ টাকার মধ্যে।
প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের গড় আয় কিছুটা বেশি—
বছরে ৩০–৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে।
মাত্র অল্প কয়েকজন স্পেশালিস্ট বা হাসপাতাল-মালিক শ্রেণির চিকিৎসকই কোটি টাকার ওপরে আয় করেন।
অতএব, ১০,০০০ চিকিৎসক মিলে ৬,২৫০ কোটি টাকার কর ফাঁকি—
এটি কেবল গণিতের ভুল নয়, বরং একটি অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি।
বিভ্রান্তিকর সংবাদে সমাজে যে ক্ষতি হয়
১। কর সংস্কৃতির প্রতি আস্থা নষ্ট হয়
এমন সংবাদ সাধারণ করদাতার মনে প্রশ্ন জাগায়—
“যখন ডাক্তাররাই হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেয়, আমি কেন কর দেব?”
ফলে কর পরিশোধে অনীহা ও নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়,
যা রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে বাধা সৃষ্টি করে।
২। একটি সম্মানিত পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়
চিকিৎসক সমাজ বাংলাদেশের মানবসেবার অন্যতম স্তম্ভ।
তাদের প্রতি এমন অবাস্তব অভিযোগ সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি করে।
৩। কর প্রশাসনে ভুল বার্তা যায়
এই ধরনের প্রচারণা কর প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করতে পারে,
ফলে নিরীহ চিকিৎসকদের হয়রানি বা অতিরিক্ত নজরদারির শিকার হতে হয়—
যা পেশাগতভাবে অন্যায্য ও নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য।
৪। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা জনআস্থা গড়ে তোলে।
কিন্তু তথ্য-অযাচিত বা অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে,
এবং পাঠকের মনে সন্দেহ তৈরি করে— কোন সংবাদই বা সত্য?
আমাদের উচিৎ মানুষকে কর সচেতন করা , অসত্য বা অতিরঞ্জিত সংবাদ মানুষকে কর ফাঁকির যুক্তি খোঁজার প্ররোচনা দেয়।
Aman Ullah Sarker
CEO- Income Tax BD
Chief Advisor- Tax Bondhu. Com - ট্যাক্স বন্ধু. কম