24/04/2026
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫(৭) অনুযায়ী স্বামীর বাড়ি থেকে স্ত্রীর আসবাবপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পদ উদ্ধারের আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।
এই ধারার সঠিক ব্যাখ্যা ও মামলা প্রক্রিয়ার প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: ধারা ১৫(৭)-এর মূল কথা আদালত যদি মনে করেন যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (স্ত্রী বা শিশু) তার বৈধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তবে তিনি প্রতিপক্ষকে (স্বামী বা পরিবারের সদস্য) নিম্নলিখিত সম্পদগুলো ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন: স্ত্রীধন ও উপহার: বিবাহের সময় উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র বা অন্যান্য সামগ্রী।
অস্থাবর সম্পত্তি: সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মূল্যবান দলিল: জন্ম সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জমির দলিল বা অন্য যেকোনো মূল্যবান জামানত।
স্থাবর সম্পত্তি: সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির মালিকানাধীন কোনো জমি বা ঘর যা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মামলা করার প্রক্রিয়া ও আদালতের দায়িত্ব
১. আদালত: মামলাটি আপনার এলাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করতে হয়।
২. আবেদন: আসবাবপত্র উদ্ধারের জন্য আইনের ১৫ ধারার অধীনে "বসবাস আদেশ" বা সম্পদ ফেরত পাওয়ার আবেদন করতে হয়।
৩. তদন্ত: আদালত অভিযোগ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
৪. সময়সীমা: এই আইনের অধীনে আবেদনসমূহ (ক্ষতিপূরণ ছাড়া) সাধারণত নোটিশ জারির পর থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে।
৫. পুলিশি সহায়তা: আদালত আদেশ দিলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মালামাল উদ্ধারে সহায়তা করতে বাধ্য থাকেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রমাণ সংরক্ষণ: আসবাবপত্র বা গয়নাগুলো যে আপনার বা আপনার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা, রসিদ বা বিবাহের ছবির মতো প্রমাণাদি সংগ্রহে রাখা ভালো।
নিরাপত্তা: মামলার পাশাপাশি যদি শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তবে একই সাথে সুরক্ষা আদেশ (ধারা ১৩) এবং বসবাসের অধিকার (ধারা ১০) চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে আপনি সরকারি লিগ্যাল এইড অফিস (জেলা জজ আদালত ভবন) থেকে বিনামূল্যে পরামর্শ নিতে পারেন অথবা একজন নিবন্ধিত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।