26/12/2025
"তোমার তো বিয়ে হয়ে গেছে, তোমার স্বামীরও অনেক সহায়-সম্পত্তি আছে। আমাদের যেটুকু জমিজমা, তাতে তোমাকে ভাগ দিলে, আমাদের আর কতটুকুই বা থাকে? এমনিতেই আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না।”- বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা শুরু করলে বোনকে এভাবেই জানালেন তাদের ভাই।
নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার দোহাই দিয়ে ভাইয়েরা বোনকে ভুল বোঝাচ্ছেন, অথচ সমাজের চাপ ও পারিবারিক কলহের ভয়ে তিনি চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এভাবেই কখনো স্বামীর সম্পদের বর্ণনা দিয়ে, কখনো নিজেদের অর্থনৈতিক দুরবস্থতার দোহাই দিয়ে, আবার কখনো আবেগতাড়িত করে বা লজ্জায় ফেলে দিয়ে হাজারো বোনকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছেন, তাদের আপন ভাইয়েরাই।
কিন্তু আইন কী বলছে? কন্যা হিসেবে একজন নারী কি তার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ভাইয়ের তুলনায় কম অধিকার পান? আর এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তার করণীয় কী? চলুন, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) এই বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়, তা স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া যাক।
আইনগত ব্যাখ্যা: পিতা-মাতার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার-
পিতা-মাতার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার বাংলাদেশের উত্তরাধিকার আইন (ফরায়েজ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত। সেখানে বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম করার কোন অবকাশ নেই। এমনকি কার অর্থনৈতিক কেমন, ধনী না গরিব, বিবাহিত নাকি অবিবাহিত, ইত্যাদি কোন কিছুর কোন বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অধিকারের ভিত্তি-
বাংলাদেশে জমিজমা সংক্রান্ত আইনসমূহ মুসলিম আইন বা ফারায়েজ (ফরায়েজ) অনুসারে পরিচালিত হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বা ফরায়েজ অনুযায়ী, পিতা-মাতার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই কন্যার সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন পুত্রের যেমন অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়, কন্যারও ঠিক তেমনই অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। তবে, কন্যা পান পুত্রের অর্ধেক। নিম্নে দেয়া হল।
সম্পত্তির অংশ: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র ও কন্যা উভয়ই থাকে, তবে কন্যা তার ভাইয়ের অর্ধেক অংশ পান। অর্থাৎ, পুত্র যে অংশ পাবে, কন্যা তার অর্ধেক অংশ পাবেন। (যেমন: ২ জন পুত্র ও ১ জন কন্যা থাকলে, মোট সম্পত্তিকে ৫ ভাগে ভাগ করে পুত্ররা ২ ভাগ করে এবং কন্যা ১ ভাগ পাবেন)।
পিতার ভিটেমাটিতে কন্যার অধিকার নিয়ে উচ্চ আদালতের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সে সস্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বঞ্চিত করার পরিণতি ও প্রতিকার-
বঞ্চনা নিষিদ্ধ: কোনোভাবেই কন্যাকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বঞ্চিত করা হলে বা ভাইয়েরা জোর করে পুরো সম্পত্তি দখলে রাখলে, কন্যা পারিবারিক আদালতে বা দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে তার অংশ বুঝে নিতে পারেন।
মিউটেশন (নামজারি): সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সব ওয়ারিশকে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করে নামজারি (মিউটেশন) করা আবশ্যক।
আপনার জন্য পরামর্শ:
আইনকানুনগুলো একই হলেও, উত্তরাধিকারের হিসেব অত্যন্ত জটিল হতে পারে। সম্পত্তি বণ্টনের আগে একজন দক্ষ ফরায়েজ বিশেষজ্ঞ বা আইনজীবীর কাছ থেকে সঠিক হিসেব জেনে নিন। আপনার অধিকার নিশ্চিত করতে অবশ্যই একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে অতি প্রয়োজনীয় আইনকানুন জানতে এবং আরও আইনি পরামর্শ পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
সম্ভব হলে শেয়ার করে আপনার বন্ধু-স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন করুন।
Follow Legal Law With Badhan