Adv Abul Hossan Law Firm & Associates

Adv Abul Hossan Law Firm & Associates Adv Abul Hossan Law Firm & Associates is a Full-Service Law Firm in Cox’s Bazar District.

The Memory of Sanad Awarding Ceremony was organized by the Bangladesh BAR Council.
03/08/2022

The Memory of Sanad Awarding Ceremony was organized by the Bangladesh BAR Council.

ভূমিক্রয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ করণীয়:ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হলে:ওয়ারিশ সূত্রে যে মালিক হয়েছেন তার জমি কিনতে হলে আপনি ওয়ারিশ...
03/08/2022

ভূমিক্রয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ করণীয়:

ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হলে:
ওয়ারিশ সূত্রে যে মালিক হয়েছেন তার জমি কিনতে হলে আপনি ওয়ারিশ বিক্রেতার ফরায়েজ সার্টিফিকেট প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাটোয়ারা দলিল ইত্যাদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন। মালিকানার ধারবাহিক পরিক্ষা তো করবেনই। জমি রেজিস্ট্রি করার সময় আইনের বিধান অনুসারে সকল অংশীদারদের নোটিশ দিতে হবে। অন্যথায় অগ্রক্রয় বা সোফা যা প্রয়েমশন এর আশংকা থেকে যাবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন ওয়ারিশের নাম ওয়ারিশানের ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ভুল বশতঃ অথবা অসচেতনতার ফলে অথবা যে কোন কারণে বাদ পরে না যায়। ওয়ারিশান বা এজমালি সম্পত্তি ক্রয় করলে অপরাপর অংশীদারদের সাফ কবলা দলিলে সাক্ষী রাখা সর্বোত্তম। এতে প্রয়েমশনসহ নানাবিধ ঝামেলার আশংকা থাকে না। এসব ক্ষেত্র্রে বিক্রেতার ফরায়েজ কৃত অংশই করা উচিত ও নিরাপদ।
দানপত্র্র বলে মালিক:
দানপত্রসহ অপরাপর বর্ণিত প্রয়োজনীয় মালিকানার সঠিকতা যাচাই করতে হবে। বর্তমানে দানপত্র দলিল অবশ্যই রেজিষ্ট্রিকৃত হবে। দানপত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্র তিনটি। দানকারীর ইচ্ছা সম্বলিত প্রস্তাব, উক্ত প্রস্তাবের দান গ্রহীতার স্বীকৃত সবচে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল দানদাতা কর্তৃক দাগ্রহীতাকে তাৎক্ষণিকভাবে দানকৃত সম্পদ বা ভূমি দখল বুঝিয়ে দেয়া।
জরিফ রেকর্ড সূত্রে মালিক হলে:
প্রয়োজনীয় সকল পরিক্ষার সাথে রেকর্ডীয় হলে পর্চা বা খতিয়ান দেখতে হবে। খতিয়ান দাগ উল্লেখ করে হিস্যা অনুসারে উল্লেখিত ভূমির মিল দেখে নিতে হবে।
আদালতের ডিক্রি মূলে মালিক:
ডিক্রি ও বিক্রয় দলিল পরিক্ষা করতে হবে। পূর্বাপর সকল পরিক্ষা তো করতেই হবে।
নিলাম খরিদ মূলে মালিক:
নিলাম খরিদ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র সহ নিলাম খরিদ সূত্রে দখল পেয়েছেন কিনা রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখতে হবে।
মালিকানা পরিক্ষা:
বিক্রেতার মালিকানার রেকর্ড পরীক্ষা করতে হবে সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডীয় খতিয়ন, নামজারী ইত্যাদি বিষয় অতি সতর্কতার সহিত ভালভাবে পরিক্ষা নিরিক্ষা করতে হবে। খতিয়ান নম্বর সঠিকভাবে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ আছে কিনা তা দেখতে হবে।
দখল পরিক্ষা:
সম্পত্তি বিক্রেতার দখলে আছে কিনা তা অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মালিকানার সকল দালিলিক প্রমাণ একদিকে দখল অন্যদিকে। মালিকানা ও দখল বলেই একজন ব্যাক্তি কোন সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হবেন। বিক্রেতার জবর দখলের কারণে উক্ত সম্পত্তির উপর তার মালিকানা বিনষ্ট হয়েছে কিনা ভবিষ্যতে উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখলে কোন বাধার সম্মুখীন হবে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
তথ্যসূমহ জানবেন কি ভাবে-কোথায় গিয়ে জানবেন তা জানতে মন্তব্য করুন যদি সম্ভব হয় আমরা আরেকটি পোস্ট করবো। কোন বিষয়ে আপনি জানতে আগ্রহী হলে আমাদের জানান আমরা সেই বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করবো।

স্বচ্ছ, দক্ষ, আধুনিক, জবাবদিহিতামূলক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ভূমি সংক্রান্ত জনবান্ধ...
03/08/2022

স্বচ্ছ, দক্ষ, আধুনিক, জবাবদিহিতামূলক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ভূমি সংক্রান্ত জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন এই হটলাইন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ হটলাইনের মাধ্যমে ভূমি সেবা গ্রহীতাগণ ভূমি সেবা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শসহ দেশে বিদ্যমান ভূমি সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

চেক ডিজঅনার: চেক ডিজঅনার বলতে কী বুঝায়?ওসমান নামে এক ব্যক্তির প্রয়োজনে, নাসির নামে একজন ব্যক্তি ওসমানকে টাকা ধার দিয়েছেন...
02/08/2022

চেক ডিজঅনার:
চেক ডিজঅনার বলতে কী বুঝায়?

ওসমান নামে এক ব্যক্তির প্রয়োজনে, নাসির নামে একজন ব্যক্তি ওসমানকে টাকা ধার দিয়েছেন। টাকা দেওয়ার সময় নাসির ওসমানকে বলেছেন, ভাই তোমাকে যে আমি টাকা দিলাম, তার প্রমাণ তো আমার কাছে থাকল না। আমার তো কিছু প্রমাণ থাকা দরকার। যাকে ধার দিলেন সে বলল, ভাই এই যে আমার চেক। এই চেক তোমাকে ফাকা স্বাক্ষর করে দিলাম। এবার যাকে (ওসমানকে) টাকা ধার দিয়েছিলেন তার চেক তো নাসিরের কাছে আছে। নাসির চেকের টাকা তুলে আনতে ব্যাংকে গেলেন। তারপর ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকের কাউন্টারে চেক দিলেন। ব্যাংক অফিসার নাসিরকে বলল, একাউন্টে টাকা নাই। তখন নাসির ব্যাংক অফিসারকে বললেন, তাহলে লিখিত দেন। ব্যাংক অফিসার, নাসিরকে একটি লিখিত মেমো দিলো। যাতে লেখা আছে, টাকার পরিমাণ কম। চেকসহ মেমো নিয়ে নাসির ফিরে আসলেন। এই চেকসহ মেমো নিয়ে ফেরত আসার ঘটনাকে চেক ডিজঅনার বলে।
চেক ডিজঅনার করার শর্তসমূহ:
চেক ডিজঅনার করার শর্তগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। যথা:
• চেকের উপরে যে তারিখ লেখা আছে, সেই তারিখ হতে ০৬ (ছয়) মাসের মধ্যে আপনাকে চেক ডিজঅনার করাতে হবে।
• ব্যাংক হিসাবে পরিমাণ মতো টাকা থাকলে আপনি চেক ডিজঅনার করাতে পারবেন না।
• ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে আপনাকে চেক ডিজঅনার করাতে হবে।
চেক ডিজঅনারের (cheque dishonour) মামলা করার কারণ
• ব্যাংকের হিসাবে অপর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকলে। তার মানে চেকে যে পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে তা অপেক্ষা কম অর্থ হিসাবে থাকা।
• যে ব্যক্তি চেক প্রদান করেছে যদি তার স্বাক্ষর না মেলে।
• যদি চেকে উল্লেখিত অর্থের অংক ও কথার গরমিল পাওয়া যায়।
• চেক মেয়াদউত্তীর্ণ হলে।
• যথাযথভাবে চেক পূরণ করা না হলে।
• চেকে ঘষামাজা করলে।
• চেকে কাটাকাটি থাকলে পূর্ণ স্বাক্ষর দিয়ে তা সত্যকরণ করা না হলে।
চেক ডিজঅনার মামলা করার পদ্ধতি কি?
• প্রথমে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে চেক ডিজঅনার করে নিয়ে আসতে হবে।
• এরপর চেকের টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় দিয়ে উকিল নোটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে।
• উকিল নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
আরো সহজ করে বলতে গেলে, চেক গ্রহীতা বা ধারক চেক ডিজঅনারের বিষয়টি জানার পর ১৩৮ ধারার বিধান মোতাবেক ৩০ দিন সময় দিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য চেক দাতাকে নোটিশ দিবেন। ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতা চেকগ্রহীতাকে চেকে উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে চেকগ্রহীতা এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন।
মামলা দায়েরের সময় বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র, চেক ডিজঅনারের স্লিপ, লিগ্যাল নোটিশের একটি করে ফটোকপি ফিরিস্তি করে জমা দিতে হবে এবং মামলা দায়েরের সময় মূল কপি আদালতে প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়াও মামলার আরজির সাথে প্রসেস ফি দাখিল করতে হবে।
চেক ডিজঅনারের মামলা করার সময়সীমা
চেকগ্রহীতা ব্যাংক থেকে চেকটি অপরিশোধিত হয়ে ফেরত এসেছে, তা জানার ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতাকে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতা চেকগ্রহীতাকে টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলো। চেকদাতা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবার ১ মাসের মধ্যে চেকগ্রহীতা মামলা দায়ের করতে পারবে।
নোটিশে দেওয়া ৩০ (ত্রিশ) দিন শেষ হওয়ার আগে চেক ডিজঅনারের মামলা করা যাবে কিনা?
নোটিশে দেওয়া ৩০ দিন সময় শেষ হওয়ার আগেও চেক ডিজঅনারের মামলা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তা না করাই ভালো। আইন মোতাবেক মামলা করাই উত্তম।
চেক ডিজঅনারের নতুন আইন
আমরা জানি পূর্বে শুধুমাত্র চেক ডিজঅনার হলেই চেকদাতাকে সাজা দেওয়া হতো কিন্তু এখন এ আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে। চেকগ্রহীতার টাকা পাওয়ার কোনো কারণ আছে কিনা, সেটি দেখা হতো না। এখন চেকগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে চেকদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনও বৈধ চুক্তি ছিল এবং মনে রাখতে হবে চেকপ্রাপ্তির বৈধ কোনও প্রমাণ দিতে না পারলে চেকদাতার আর কোন সাজা হবে না।
চেক ডিজঅনারের মামলা কোথায় দায়ের করতে হবে?
চেক ডিজঅনারের মামলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করতে হয়। মেট্রোপলিটন এলাকায় চেক ডিজঅনারের মামলা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। আর অন্য এলাকাতে এই মামলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। তারপর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অথবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি প্রস্তুত করে বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠিয়ে দিবেন। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করা হয়।
নোট: একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, চেক ডিজঅনারের মামলা কখনো চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিংবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচার করতে পারবে না। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী নালিশকারীকে পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা করার পর যদি ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন নালিশের প্রাইমা ফেসি (Prima facie) ভিত্তি আছে তাহলে তিনি মামলা আমলে নিয়ে মামলাটি প্রস্তুত করে বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠিয়ে দিবেন।তারপর মামলাটি দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার করা হবে। চেক ডিজঅনারের মামলা সবসময় সি.আর মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ এই সকল মামলা সরাসরি এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে।
চেক ডিজঅনারের মামলার বিচার সম্পর্কিত উচ্চ আদালতের নতুন রায়
১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৪১(গ) ধারা অনুযায়ী, চেক ডিজঅনার এর মামলার বিচার করতে পারে দায়রা আদালত। অর্থাৎ দায়রা জজ (Sessions Judge), অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ (Additional Sessions Judge & Joint Sessions Judge) উনারা সবাই এরূপ মামলার বিচার করতে পারেন এবং এতদিন পর্যন্ত করে আসছেন। তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে- এখন থেকে চেক ডিজঅনার এর মামলার বিচার করতে পারবে শুধুমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ [Joint Sessions Judge]।
উচ্চ আদালতের এ রায় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা
চেক ডিজঅনার মামলা শুধুমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি হবে এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতেই আপীল করতে হবে। আগে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালত শুনানি করতো। এক্ষেত্রে দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ বিচার করলে বিচারপ্রার্থীকে চেকের মামলায় আপীল করতে আসতে হতো হাইকোর্টে বিভাগে। এই বিধানটি বৈষম্যমূলক যা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ৩১ এর সাথে সাংঘর্ষিক। রায়ের নির্দেশনা মতে ১৩৮ ধারার চেকের মামলার বিচার কেবলমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালত করতে পারবে। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ চেকের মামলার বিচার করতে পারবে না।
চেক ডিজঅনার হলে দেওয়ানী আদালতে মামলা করার পদ্ধতি
আমরা জানি চেক ডিজঅনারের মামলা কিছুটা দেওয়ানী এবং কিছুটা ফৌজদারী প্রকৃতির।তাই চেক ডিসঅনার হলে দেওয়ানী আদালতে ও মামলা দায়ের করা যায়।দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের ১-৭ বিধিতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে এরকম বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। অন্যান্য দেওয়ানী মামলার ন্যায় সাধারণ পদ্ধতিতে মামলা পরিচালিত হলে অনেক সময়ের অপচয় হবে। তাই চেক ডিসঅনারের মামলা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের অধীনে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, বিবাদীকে এক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয় না।
নোট: দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের ১ বিধিতে বলা হয়েছে, হস্তান্তরযোগ্য দলিল বিষয়ে মামলা কেবলমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলা জজ আদালতে দায়ের করা যাবে। আমরা জানি “চেক(cheque)” একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। তাই চেক ডিসঅনার হলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা করা যায়। মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারার বিধান বিবেচনায় রাখতে হবে।
১৫ ধারায় বলা হয়েছে, বিচার করার এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করতে হবে। তাই বাদীকে এই ধরণের মামলা জেলা জজ আদালতে দায়ের করতে হবে। এক্ষেত্রে বাদী হাইকোর্ট বিভাগকে এই ধরণের মামলা আমলে নিতে বাধ্য করতে পারবে না। [Bengal Techno Consult v. Registrar,2005 BCR 133]
চেক ডিজঅনারের কারণে ১৩৮ ধারায় মামলা না করে দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করা যায় কিনা?
১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারার শুরুতে ” Notwithstanding anything contained in” শব্দগুলোর অনুপস্থিতি প্রমাণ করে উক্ত ধারায় কোনো “Non-obstante clause” নেই। তাই ১৩৮ ধারার অপরাধের কারণে বাদী শুধুমাত্র হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের অধীনেই মামলা করতে পারবে-এই কথাটা ঠিক নয়। দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারার অধীনে আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও বাদীর কোন বাধা নেই।
নুরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য [49 DLR(HCD) 464] মামলায় উপরোক্ত বিষয়ে আলোচনা করে হাইকোর্ট বিভাগ মতামত দেন যে, বাদীপক্ষ ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবে।
উপরের আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, চেক ডিজঅনার হলে বাদীপক্ষ আসামীর বিরুদ্ধে ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারায় মামলা করতে পারবে অথবা ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারাতেও মামলা করতে পারবে।
চেক ডিজঅনারের মামলা চলাকালীন সময়ে আসামীর মৃত্যু হলে উক্ত টাকা আদায়ের পদ্ধতি
চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করার আগেই চেকদাতা মৃত্যুবরণ করলে চেক গ্রহীতার আর কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে না। এমনকি আসামী মামলা চলমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেও তার উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ মামলা চালাতে পারে না। মামলা দায়েরের আগে বা পরে যখনই আসামী মারা যাক না কেনো উভয় ক্ষেত্রেই বাদীর প্রতিকার হলো মৃত ব্যক্তি উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে টাকার মামলা দায়ের করে উক্ত টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা।
চেক ডিজঅনার হলে শাস্তি বা জরিমানা
• এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড।
• অথবা জরিমানা যা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুণ।
• অথবা উভয়।
নোট: হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮(১) ধারায় চেক প্রত্যাখিত হবার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা আছে চেক ডিজঅনারের শাস্তি হল ১ বছরের কারাদন্ড অথবা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুণ জরিমানা অথবা উভয়। এখন কথা হল, চেক ডিজঅনারের শাস্তি যদি চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুণ জরিমানা হয়, তাহলে টাকাটা কে পাবে? এক্ষেত্রে চেকগ্রহীতাকে তার দাবীকৃত টাকাটা পরিশোধ করে বাকী টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে।
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ১৩৮(২) ধারার বলা হয়েছে, উপ-ধারা(১) মোতাবেক যেক্ষেত্রে অর্থদন্ড আদায় হয় সেক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থদন্ড হতে চেকে বর্ণিত টাকা যতদুর পর্যন্ত আদায়কৃত অর্থদন্ড হতে প্রদান করা সম্ভব চেকের ধারককে প্রদান করতে হবে।
সুতরাং চেকের ধারক বা গ্রহীতা চেকে বর্ণিত টাকার বেশী পরিমাণ অর্থ পাওয়ার অধিকারী নয়। কোন আদালত চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা করলেও বাদীকে চেকে বর্ণিত টাকা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে বাকী টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিবেন।
আপীল
• ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনার মামলায় প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।
• ১৩৮ ধারায় প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোথায় আপীল করা যাবে সে সম্পর্কে ১৩৮ থেকে ১৪১ ধারায় কিছু বলা হয়নি।
• এক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির আপীলের বিধান প্রযোজ্য হবে।
• ১৩৮ ধারায় প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে দায়রা জজের নিকট।
নোট: আপীল সম্পর্কে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনে আপীল সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এর আপীলের বিধান কার্যকর হবে। চেক ডিজঅনারের মামলাটি যখন যুগ্ম দায়রা জজ কর্তৃক বিচার হয়, তাহলে দায়রা জজের নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে। এক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এর ৪০৮ ধারার আপীলের বিধানটি প্রযোজ্য হবে। এখানে বলা হয়েছে, যুগ্ম দায়রা জজের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট আপীল করা যাবে।
আপীল দায়েরের পূর্বশর্ত
চেক ডিজঅনারের মামলায় চেকে উল্লেখিত অর্থের সর্বনিম্ন ৫০% জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে। চেক ডিজঅনারকৃত চেকের টাকার ৫০% টাকা যে আদালত শাস্তি সে আদালতে জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে। তার মানে ৫০% টাকাটা বিচারিক আদালতে জমা দিতে হবে, আপীল আদালতে নয়।
রিভিশন দায়ের
চেক ডিসঅনারের মামলায় রিভিশন দায়ের করা যায়। শুধুমাত্র আইনগত প্রশ্নে রিভিশন দায়ের করা যায়। এখানেও ফৌজদারী কার্যবিধির রিভিশনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এখানে বলা হয়েছে, আইনগত প্রশ্নে রিভিশন দায়ের করা যায়। এখন কথা হলো আইনগত প্রশ্ন বলতে আমরা কি বুঝি? যেমন-ব্যাংক থেকে চেকটি অপরিশোধিত হয়ে আসার পর ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতাকে নোটিশ না দেয়া। এটাও একটা আইনগত প্রশ্ন। আবার মামলা করার কারণ আছে কিনা এটাও একটা আইনগত প্রশ্ন। মামলাটি তামাদিতে বারিত কিনা, এটাও একটা আইনগত প্রশ্ন।
১৩৮ ধারার মামলা থেকে আইনগত বিষয় উদ্ভূত হলে ফৌজধারী কার্যবিধির ৪৩৯ ধারা মতে হাইকোর্ট বিভাগে অথবা একই আইনের ৪৩৯ক ধারা মতে দায়রা আদালতে রিভিশন দায়ের করা যায়। আগে একমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন।১৯৭৮ সালে Law Reforms Ordinance দ্বারা ফৌজদারী কার্যবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
রিভিশন দায়েরের সময়সীমা
তামাদি আইনে ফৌজদারী মামলায় রিভিশন দায়েরের সময়সীমা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের case law এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে। উচ্চ আদালত অভিমত প্রকাশ করেন, “ফৌজদারী আপীল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রচলিত সময়সীমাই রিভিশন মামলা দায়েরের সময়সীমা বলে গণ্য হবে।”
১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ১৫৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচারিক আদালত রায় প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে ফৌজদারী আপীল দায়ের করতে হয়। রিভিশন দায়েরের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। তার মানে বিচারিক আদালত কর্তৃক রায় প্রচারের ৬০ দিনের মধ্যে রিভিশন দায়ের করতে হবে।
রিভিশন নিষ্পত্তির সময়সীমা
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৪২ক(২) ধারায় বলা হয়েছে, পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিশন আদালত রিভিশন কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।

গণপরিবহনে যৌন হয়রানি: আইনের প্রয়োগ, শাস্তি ও করণীয়:দেশে পাবলিক বাসে যাতায়াত অথচ যৌন হয়রানির শিকার হয়নি এমন মেয়ে খুঁজে প...
02/08/2022

গণপরিবহনে যৌন হয়রানি: আইনের প্রয়োগ, শাস্তি ও করণীয়:

দেশে পাবলিক বাসে যাতায়াত অথচ যৌন হয়রানির শিকার হয়নি এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দেশের মহাসড়ক, ফুটপাত কিংবা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় দৈনন্দিন প্রয়োজনে চলা ফেরার সময় ঠিক কতজন যৌন হেনস্তা শিকার হন তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান জানা যায় না। গণপরিবহন, জনসমাবেশ, রাস্তা-ঘাট, জন সাধারণের সামনে নারী কেবল উত্ত্যক্তের শিকারই হন না, বরং তারা নিগৃহীত, যৌন হয়রানি বা যৌন নিপীড়নের শিকার হন। অর্থাৎ, উত্ত্যক্তের আড়ালে থাকে যৌন প্রবৃত্তির মোড়ক। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি এক ধরনের ইউফেমিজম (Euphemism)। বখাটেদের যৌন হয়রানির আড়ালে লুকিয়ে থাকা যৌন লালসার ব্যাধি সামাজিক দৃষ্টিতে কিংবা জন সাধারণের চোখে খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। একজন ভুক্তভোগীই বোঝেন এর অন্তর্নিহিত গোপন যাতনা। এ ধরনের উত্ত্যক্ত নারীর স্বাধীন ও নিরাপদে পথ চলার মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানে। যা সংবিধান লঙ্ঘন। গণপরিবহন বা যানবাহনে চলা ফেরার সময় প্রায়ই শোনা যায় এ ধরণের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার খবর।
গণপরিবহনে যৌন হয়রানি বা হেনস্থা
যেহেতু পরিবহনে বিভিন্ন ধরনের লোকের সমাগম হয় তাই যে কোন স্পর্শকেই যৌন হয়রানি বা হেনস্তা বলা যাবে না। শারীরিক যৌন হয়রানির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত বারবার স্পর্শ করা বা চিমটি কাটা, কাছ ঘেঁষে দাঁড়ানো বা আস্তে ধাক্কা দেয়া, নারীদের চুল স্পর্শ করা বা কাঁধে হাত রাখা। সংবেদনশীল স্থানে স্পর্শ করা, গায়ের সাথে ঘষাঘষি করা, চোখ টিপ মারা, জিহ্বা বের করে বাজে ইঙ্গিত দেয়া, কাপড় ছিড়ে দেয়া ইত্যাদি। বাসের সিটে চুইংগাম লাগিয়ে ইচ্ছাকৃত হেনস্তা করা।
গণপরিবহনে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির খবর আমরা প্রায়ই শুনি, এবং তা অভস্ত্যতায় পরিণত হয়ে গেছে৷ কখনো কখনো এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদও হয়৷ কিন্তু এর মাত্রাটি কোন পর্যায়ে তা হয়তো আমরা বুঝতে পারিনা৷ অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক এর সম্প্রতি দু’টি গবেষণায় এর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে৷ এর মাঝে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর গবেষণার শিরোনাম ‘সেফ সিটিজ ফর উইমেন’৷ এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শতকরা ৮৮ জন নারী রাস্তায় চলার পথে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের মুখোমুখি হন৷ এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ গণপরিবহণের চালক ও হেলপারদের দ্বারা হয়রানিমূলক মন্তব্যের শিকার হন৷
নারীর ওপর শারীরিক যৌন হয়রানির বিষয়ের বাইরে এই যে মানসিক যৌন হয়রানি, তা তেমন আমলে নেয়া হচ্ছেনা৷ কিন্তু এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে৷ এর শিকার নারীরাও ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না যে, তারা কোথায় কীভাবে এর প্রতিকার পাবেন৷
গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার হলে সেই মুহুর্তে নারীর আসলে কী করা উচিত?
বাসে যৌন হয়রানির শিকার হলে তারা কি করেন এমন প্রশ্নের একটি অনলাইন সার্ভেতে জানা যায়, বাসে যৌন হয়রানির শিকার হলে ৮১% চুপ করে থাকেন অথবা নিরবে তা সহ্য করেন এবং ৭৯ শতাংশ বলেছেন তারা আক্রান্ত হওয়ার স্থান থেকে সরে যান। অথবা না দেখার বা বুঝার ভান করে থাকেন। মনস্তাত্ত্বিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটা এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা দেয়। যারা এই ধরনের যৌন হয়রানির উত্তর প্রদান করতে পারেন না বা প্রতিবাদ করতে পারেন না তারা এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগেন। নারী নিপীড়িত-নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম বা আইনে প্রাধান্য পেলেও গণপরিবহনে নারীর সাথে ঘটে যাওয়া এই ধরনের যৌন নির্যাতন খুব কমই গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ধরনের সমস্যায় সবার পাশের যাত্রী এবং গাড়ির অন্যান্য যাত্রী এবং অন্যান্য যাত্রীদের সাহায্য চাইতে হবে।
গণপরিবহন বা বাসে যৌন নির্যাতনের শিকার হলে কোথায়, কীভাবে অভিযোগ করবেন
বাসে বা গণপরিবহনে কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হলে নিম্নে বর্ণিত উপায়ে অভিযোগ করতে পারবে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯
৯৯৯ জরুরি সেবা বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত একটি জরুরি কল সেন্টার। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা চালু রয়েছে এ সেবা। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন ব্যক্তি ৯৯৯ -এ কল করার মাধ্যমে এ সকল জরুরি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। চলন্ত গাড়িতে যে কোন ধরনের যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে সেই মুহুর্তেই ৯৯৯ এ কল করে অভিযোগ করতে পারবে। এটি খুব ফলপ্রসূ।
সর্বস্তরের নাগরিকদের জরুরি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্য ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশ এই কল সেন্টার সেবাটি চালু করে। এটি টোল ফি। ৯৯৯ নম্বরে কল করলে কোন কল চার্জ কাটা হয় না অর্থাৎ মোবাইলে টাকা না থাকলেও ৯৯৯ নম্বরে কল করা যায়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে জাতীয় হেল্পলাইন সেন্টার ১০৯
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সহায়তা প্রদান করা হয় টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ থেকে। কেউ গণপরিবহন অথবা বাসে যাতায়াত কালে নির্যাতনের শিকার হলে এখানে জানাতে পারেন।
মেয়েদের জন্য সুরক্ষা অ্যাপ ‘বাঁচাও’
‘বাঁচাও’ অ্যাপ মূলত স্মার্ট ফোনের একটি অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে একজন নারী তার বিপদের সময় ‘বাঁচাও’ অ্যাপস ব্যবহারকারী সকলের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এক ক্লিকেই সাহায্য চাওয়া নারীর কাছাকাছি পরিবার, বন্ধু, স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের কাছে চলে যাবে বার্তা। জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাহয্য চাওয়া নারীর অবস্থান নির্দেশ করবে। এক্ষেত্রে তার নম্বর গোপন রেখে টেক্সট বা অডিও কলেও করা যাবে যোগাযোগ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত
আশপাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অবগত করা যেতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত যদি হাতেনাতে প্রমাণ পান, তাহলে ঘটনাস্থলেই শাস্তি আরোপ করতে পারবেন।
প্রচলিত আইনে গণপরিবহনে বা বাসে ইভ টিজিং বা যৌন হয়রানির শাস্তি
বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে ইভ টিজিং বা যৌন হয়রানির শাস্তির বিধান আছে। এক নজরে এই জঘন্য অপরাধের বিভিন্ন শাস্তি সম্পর্কে সামগ্রিক একটা চিত্র দেখে নেয়া যাক। দন্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং সম্পর্কে বলা হয়েছে-
এই ধারা অনুযায়ী যদি কেউ অপরাধ করে এবং তা প্রমাণিত হয় তবে সেই ব্যক্তি এক (১) বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দন্ডেই দণ্ডিত হতে পারেন। এবং এই আইনের ২৯৪ ধারা অনুযায়ী যদি কেউ এই অপরাধ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি তিন (৩) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।
তাছাড়া একই আইনের ৩৫৪ ধারায় বলা হয়েছে-
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা শালীনতা নষ্ট হতে পারে জেনেও তাকে আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে তাহলে সে ব্যক্তি ২ বৎসর পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে বা জরিমানাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৫ ও ৭৬ ধারায় ইভটিজিং বা উত্যক্তার বিষয়ে বলা হয়েছে-
৭৫ ধারা অনুযায়ী সমাজে অশালীন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের শাস্তি হিসেবে ৩ মাস মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অধ্যাদেশের ৭৬ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ১ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তা হলে তার এই কাজ হবে যৌন পীড়ন এবং এর জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ (১০) বছর কিন্তু অন্যুন তিন (৩) বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন৷
পরিশেষে, গণপরিবহনে বা বাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের এবং সাধারণ যাত্রীদের কী করণীয় কী করণীয় নয় এই ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাসরুমে যৌন হয়রানি সম্পর্কে আলোচনা এবং নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরতে হবে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে নারীরা সাহস করে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। এটা একটা আশার দিক। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। নারীদের নিরাপত্তাকে কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সংশ্লিষ্টদের সেটা বের করতে হবে। এক্ষেত্রে নারীবান্ধব যানবাহন, চালক ও সহকারী নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া পরিবর্তন আনতে হবে যাত্রীদের মানসিকতায়ও। নারী নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নারী গাড়িচালক প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। আমরা এমন একটা দেশ চাই যেখানে প্রতিটি নারীর পথচলা হবে সুন্দর।

আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে টুকিটাকি আইন সম্পর্কে অবগত করা বা জানানো। বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারী মামলা:ফৌজদারী মামলাকে দু’ভাগ...
02/08/2022

আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে টুকিটাকি আইন সম্পর্কে অবগত করা বা জানানো। বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারী মামলা:

ফৌজদারী মামলাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, একটি আমলযোগ্য মামলা, অন্যটি আমল অযোগ্য মামলা। আবার আমলযোগ্য মামলাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, একটি জি আর বা পুলিশী মামলা অন্যটি সি আর বা নালিশী মামলা।
১) আমলযোগ্য মামলা:
আইন মোতাবেক কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন। এসব অপরাধে যে মামলা হয় তাই আমলযোগ্য মামলা। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪(১) উপধারায় ক্লজ চ-এ আমলযোগ্য মামলা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২) আমল অযোগ্য মামলা:
কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে না। অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে প্রসিকিউশন রিপোর্ট বা নন-এফআইআর মামলা আদালতে দাখিল করে। এগুলো আমল অযোগ্য মামলা। এধরনের অপরাধের মামলা কোর্টের নন-জিআর রেজিস্টার ভুক্ত হয়ে পরিচালিত হয় হয় বলে এ মামলাকে নন-জিআর মামলা বলা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪ (১) উপধারার ক্লজ ঢ-এ আমল অযোগ্য মামলা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
ক. নালিশী বা সিআর মামলা:
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি গিয়েও কোর্ট ফি দিয়ে বিচার প্রার্থনা করা যায়। এক্ষেত্রে কা:বি: ২০০ ধারায় শপথ নিয়ে আবেদনের উল্টো পিঠে জবানবন্দি রেকর্ড করতে হয়। কোর্ট রেজিস্টারে মামলা এন্ট্রি হয়ে পরিচালিত হওয়ার কারণে এগুলোকে সিআর মামলা বলা হয়।
খ. পুলিশী মামলা:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এজাহার দায়েরের মাধ্যমে যে মামলা শুরু হয় তাই পুলিশী মামলা নামে পরিচিত। পুলিশী মামলাকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়:
১. জি আর মামলা:
থানায় কোন আমলযোগ্য অপরাধ ঘটার খবর পেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কা:বি: ১৫৪ ধারা অনুসারে মামলা করে আদালতে এফআইআর দাখিল করে কা:বি: ১৫৬ ধারা অনুসারে মালার তদন্ত শুরু করেন। এটিই জি আর মামলা। থানা থেকে এফআইআর আদালতে আসার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর/সাব-ইন্সপেক্টর বা জিআরও (জেনারেল রেজিস্টার অফিসার) উক্ত এফআইআর-টি মামলা হিসেবে কোর্টের জেনারেল রেজিস্টারে এন্ট্রি করে তা দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেট এর নজরে আনেন।
২. নন জি আর মামলা:
আবার থানায় আমলযোগ্য মামলা সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য না করে পুলিশ প্রবিধান এর প্রবিধি ৩৭৭ অনুসারে জিডি এন্ট্রি করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন রিপোর্ট দায়ের করতে পারেন। এগুলো নন-জিআর মামলা নামে পরিচিত।

নারী নির্যাতন বলতে নারীদের ওপর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যেকোনো ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনকে বোঝায়। আরো সহজ করে ...
02/08/2022

নারী নির্যাতন বলতে নারীদের ওপর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যেকোনো ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনকে বোঝায়। আরো সহজ করে বললে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নারীরা যখন অন্যের দ্বারা জোরপূর্বক বঞ্চনার সম্মুখীন হয় এবং শারীরিক, যৌন ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, সে পরিস্থিতিকে নারী নির্যাতন বলে।
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন (কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন) তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
এই বিষয়ে আরও জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আপনার নিকটস্থ কোন আইনজীবীর কাছে পরামর্শ নিতে পারেন।

জাল দলিল ও জবরদখলের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর জেল:কেউ জাল দলিল করলে ২ বছর এবং মালিকানার অতিরিক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিলে ৫ ...
01/08/2022

জাল দলিল ও জবরদখলের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর জেল:

কেউ জাল দলিল করলে ২ বছর এবং মালিকানার অতিরিক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিলে ৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। কারও জমি জোরপূর্বক দখল করে নিলে জেল-জরিমানা হবে ৩ বছর। এভাবে ৩০টি ধারায় পৃথকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানার বিধান রেখে দেশে প্রথমবারের মতো ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন হচ্ছে। শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২২’ শিরোনামে নতুন এ আইনের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৪ ও ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য যদি কেউ সরকারি কিংবা বেসরকারি জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন তাহলে তাকে অনধিক ২ বছর এবং কমপক্ষে ৬ মাসের জেল বা ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অপরদিকে ৬(১) ধারা অনুযায়ী দাতার মালিকানা ও দখল না থাকা সত্ত্বেও কেউ অতিরিক্ত জমি লিখে নিলে ২ থেকে ৫ বছরের জেল এবং তিন থেকে দশ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি প্রতারণামূলক বেশ কিছু অপরাধকে করা হয়েছে জামিনঅযোগ্য।
যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি পূর্বে বিক্রি বা হস্তান্তর করার তথ্য গোপন করে পুনরায় কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন তাহলে ৫ বছর কারাভোগের মুখোমুখি হতে হবে। একই শাস্তি হবে যদি কেউ একজনের সঙ্গে বায়না দলিল করার পর পুনরায় অন্য কারও সঙ্গে বায়না চুক্তি করেন। এছাড়া কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে ভুল বুঝিয়ে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে কোনো জমির দান দলিল সৃষ্টি করেন তাহলে ২ বছরের কারাদণ্ড হবে।
যদি কেউ উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করে নিজের প্রাপ্যতার বাইরে বেশি জমি নিজের নামে দলিল করে নেয় তাহলে তাকেও অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া কেউ যদি বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সরকারি খাস জমিসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মালিকানাধীন ভূমি জোরপূর্বক দখল করেন অথবা দখল অব্যাহত রাখেন তাহলে অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে।
কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে সরকারি বা বেসরকারি ভূমি, নদীর পাড়, তলদেশ বা অন্য কোনো ভূমি ইত্যাদি হতে মাটি কাটেন বা কাটান, বালি উত্তোলন করেন বা করান, তাহলে প্রকৃত ক্ষতিসাধন হোক বা না হোক এই অপরাধের জন্য জড়িত ব্যক্তিকে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে মাটি ভরাট করে বা অন্য কোনোভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেন বা করান তাহলে ২ বছরের কারাদণ্ড হবে। কেউ যদি ভূমির উপরের স্তর হতে মাটি কেটে নেন, বা কাউকে দিয়ে করান তাহলেও তাকে অনধিক ২ বছরের কারাভোগ করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ করার বিষয়টি জানতে পেরে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণের পূর্বে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করেন তাহলে সেটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে।
কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের ব্যবহার্য বা পাবলিক ইজমেন্ট, খেলার মাঠ, জলাশয় প্রভৃতি দখল করলে বা ওয়াকফ এস্টেট, দেবোত্তর, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, ঈদগাহ, প্যাগোডা, মাজার শরিফ, দরগা, শ্মশান প্রভৃতির জমি দখল করলে অনধিক ২ বছরের জেল হবে। এছাড়া চিকিৎসা, শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন প্রভৃতি দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত জমি বেআইনিভাবে দখল করেন বা দখল গ্রহণে সহায়তা করলেও একই শাস্তি হবে। মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও পাহাড় বা টিলার পাদদেশে যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করলে ৩ মাসের কারাদণ্ড হবে।
আইনের ২০ ধারায় বলা আছে, রিয়েল এস্টেট কর্তৃক জমি, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি জমি একাধিক ব্যক্তির বরাবর দলিল সম্পাদন করলে, চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রাপ্তির পর ঘোষিত সময়ের মধ্যে জমির দখল হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হলে, ফ্ল্যাট বিক্রির পর ঘোষিত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করতে না পারলে এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার পর ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হলে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে। কমপক্ষে ৬ মাসের জেল। এছাড়া জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া এ আইন বাস্তবায়নের সময় রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর সঙ্গে যাতে এই আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয় সেটি আইনে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি জমি দখল করে সেখানে কেউ স্থাপনা গড়ে তুললে তাহলে জড়িত ব্যক্তিকে ২ বছরের কারাভোগ করতে হবে। সঙ্গে থাকছে জরিমানা। নদী, হাওড়, বিল ও অন্যান্য জলাভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ২৩ ধারায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে এসব স্থান থেকে মাটি, বালি বা আবর্জনা দ্বারা বা অন্য কোনো উপায়ে আংশিক বা পরিপূর্ণ ভরাট করে তাহলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেউ আংশিক ভরাট করলে অনধিক ১ বছর এবং পরিপূর্ণ ভরাট করলে অনধিক ২ বছর সাজা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
কেউ যদি একক বা দলগতভাবে অবৈধভাবে ভূমির দখল গ্রহণ করেন এবং দখল বজায় রাখতে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা ব্যবহার করেন তাহলে এ অপরাধের জন্য ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া এটি হবে জামিনঅযোগ্য অপরাধ।
এই আইনের অধীনে কেউ একই অপরাধ পুনরায় করলে তাকে নির্ধারিত ধারায় দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া যাবে। এখানেও বিচারের ক্ষেত্রে জামিন পাবেন না। এছাড়া ধারা ৬-এ বর্ণিত দলিল বা কাগজ যদি এক একর অপেক্ষা বেশি হয় বা বিষয়টিতে ল্যান্ড ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাজা হবে ৫ বছর। কমপক্ষে ২ বছর।
এদিকে আইনে সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছু থাকুক না কেন, এ আইনের অধীন কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে অনুমোদিত যে কোনো অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন।
এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্তভার পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।

This Law Firm is founded upon knowledge, experience, commitment, sincerity, discipline, and ethical practice. Adv Abul H...
01/08/2022

This Law Firm is founded upon knowledge, experience, commitment, sincerity, discipline, and ethical practice. Adv Abul Hossan Law Firm & Associates is a Full-Service Law Firm in Cox’s Bazar, which offers a wide variety of legal services for clients. Focuses on representing clients with cases involving corporate & commercial laws, arbitration, administrative, real estate sectors, business law, and various civil and criminal litigation matters. Adv Abul Hossan Law Firm & Associates is one of the most developing law firms in Cox's Bazar District.

Address

B-12 (Ground Floor), Anex Building, District Lawyers Building, Laldigir Par
Cox's Bazar
4700

Opening Hours

Monday 10:00 - 06:00
Tuesday 10:00 - 06:00
Wednesday 10:00 - 06:00
Thursday 10:00 - 06:00
Sunday 10:00 - 06:00

Telephone

+8801857741377

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv Abul Hossan Law Firm & Associates posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Adv Abul Hossan Law Firm & Associates:

Share