06/12/2022
আগাম জামিন কি??কখন মঞ্জুর হবে বা হবে না??
🔳বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণের অধিকার প্রদান করেছে, উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনে বর্নিত বিধান ব্যতীত জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার থেকে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।
⏹️আইনের আরেকটি সাধারণ নীতি হল- “Everyone shall be presumed to be innocent unless he is found guilty by a competent court” অর্থাৎ আইন দ্বারা গঠিত উপযুক্ত আদালত যতক্ষন না কাউকে দোষী বলে রায় দিচ্ছে ততক্ষণ তাকে আইনের চোখে অপরাধী বলার সুযোগ নেই।
⏹️ সুতরাং, অপরাধে অভিযুক্ত হলেই কোন ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না। খুব গুরুতর অবস্থা না হলে কোন ব্যক্তির স্বাধীনতা নষ্ট করা উচিৎ নয়। আইনের চোখে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী নয়, আসামী মাত্র। সুতরাং বিশেষ কোন হেতু ভিন্ন কোন ব্যক্তিকে আটকের পর আদালত আইন ও তার সু-বিবেচনা মূলক এখতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতের আদেশমত নিদৃষ্ট স্থানে এবং নিদৃষ্ট সময়ে আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে সাময়িক মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন যাকে আইনের চোখে জামিন বলা হয়।
⏹️ফৌজদারী কার্যবিধিতে জামিন প্রসঙ্গে ২ ধরনের অপরাধের কথা সু-স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হয়েছে—
১) জামিনযোগ্য অপরাধ (৪৯৬ ধারা); এবং
২) জামিন অ-যোগ্য অপরাধ (৪৯৭ ধারা)।
⏹️জামিন যোগ্য মামলায় জামিন পাওয়া আসামীর অধিকার অন্যদিকে জামিন অযোগ্য মামলায় আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতার ব্যবহারে আসামির বয়স, শারীরিক অবস্থা,লিঙ্গ ও অন্যান্য মানবিক দিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। এছাড়া, গ্রেফতার পূর্ব জামিন বা anticipatory bail নামীয় আরেক ধরনের জামিনের চর্চা হাইকোর্ট সহ দায়রা আদালতে হতে দেখা যায়।
🔳আগাম জামিন
ফৌজদারী কার্যবিধির অধীনে দুই ধরনের জামিনের চর্চা আছে, সাধারণ জামিন(Regular Bail) যা আসামীর আটকের পর আদালত কর্তৃক মঞ্জুর হয়; আর আরেক ধরনের জামিন হল আগাম জামিন (Anticipatory Bail) যা আসামীর গ্রেফতারের পূর্বে আদালত মঞ্জুর করে থাকেন। আগাম জামিনের আভিধানিক অর্থ গ্রেফতারের পূর্বেই প্রাপ্ত জামিন। আর্থাৎ গ্রেফতারের পূর্বে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কোন ব্যাক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতের সামনে সময় সময় হাজির হবার শর্তে যে জামিন মঞ্জুর করে থাকেন তাকেই আগাম জামিন বলা হয়।