Adv Nasrul Hasan Apu

Adv Nasrul Hasan Apu Welcome to my official page Adv Nasrul Hasan Apu.I am here for help you about any legal problem.Your problem my solution.

20/02/2026

ড. রহমান মানে শফিকুর রহমান অথবা তারেক রহমান নন তিনি মিস্টার খলিলুর রহমান।আশ্চর্যের বিষয় হল, এত বড় নিয়োগ হয়ে গেল, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে এত কাদা ছোড়াছুড়ি হল অথচ নির্বাচনের পরেও একজন দ্বৈত নাগরিককে ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হল! যোগ্য মানুষের কি এত ই অভাব ছিল! এই নিয়োগ নিয়ে কিন্ত তিন দল ই নীরব।কারো কোন প্রতিবাদ নেই।
মিস্টার ড.রহমান শপথ গ্রহনের পর ই বলেছেন তিনি "বাংলাদেশ ফার্স্ট " নীতিতে বিশ্বাসী কিন্তু বিগত ১৮ মাসের তার কর্মকাণ্ড এবং তৎপরতা প্রমান করে ঠিক উলটো যা হল " আমেরিকা ফার্স্ট " নীতি।
ফ্লেচার স্কুল অব ল এন্ড ডিপ্লোম্যাসি এর গ্র‍্যাজুয়েট হিসেবে তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ে আমলা পর্যায়ে ২৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDCs) পক্ষে তার ওকালতি এবং ২০০১ সালের ব্রাসেলস কনফারেন্সে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার রূপরেখা প্রণয়নে তার ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্রে একজন অপরিহার্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করে ।

২০২৫ এর জানুয়ারি তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যালিসন হুকার এবং পল কাপুরের সাথে বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ নীতিগতভাবে গাজায় মোতায়েনযোগ্য একটি "আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে" (International Stabilization Force) যোগ দিতে আগ্রহী । এই প্রস্তাবটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার অংশ ছিল, যা অনেক মুসলিম দেশ এবং ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিল ।এই ঘোষণার সাথে সাথেই বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও নীতিগত সমর্থন যেখানে প্রশ্নাতীত, সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এমন একটি বাহিনীতে অংশগ্রহণের আগ্রহকে অনেকে "ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র" হিসেবে চিহ্নিত করেন
ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে দ্বিতীয় প্রধান বিতর্কটি ছিল "আরাকান করিডোর" বা একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের প্রস্তাব। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি করিডোর স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল, যা চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রাখাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অভিযোগ রয়েছে যে, ড. রহমান এই করিডোর স্থাপনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে এবং সরকারের ভেতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এই করিডোর স্থাপনের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ তীব্র আপত্তি জানায়। তাদের আশঙ্কা ছিল যে, একবার এ ধরনের পথ তৈরি হলে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশটিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে নিয়ে যাবে। ড. খলিলুর রহমান এই করিডোরকে কেবল একটি "মানবিক উদ্যোগ" হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও, বিশ্লেষকরা একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি"র (IPS) একটি অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা "Agreement on BD-US Reciprocal Trade (ART)" নামে পরিচিত। এই চুক্তিটি ড. খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক দক্ষতার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে প্রচার করা হলেও, এর ভেতরের শর্তগুলো ছিল চরম বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে একপেশে।
​চুক্তিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য কিছু সুবিধার কথা বলা হলেও, তার বিনিময়ে বাংলাদেশকে এমন সব শর্ত মেনে নিতে হয়েছে যা দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নীতিকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।

তার সময়কালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ যে কোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।২০২৫ সালের জুনে মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের যে ফোনালাপ হয়, তার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল খলিলুর রহমানের।
​তিনি এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করেন যেখানে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রধান্য পায়। "Acquisition and Cross-Servicing Agreement" (ACSA) এবং "General Security of Military Information Agreement" (GSOMIA) এর মতো চুক্তিগুলো স্বাক্ষরের জন্য তিনি পর্দার আড়ালে ব্যাপক তৎপরতা চালান।

ড. খলিলুর রহমানের এই অতি-উদ্যমী মার্কিনপ্রীতি সামরিক বাহিনীর অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যখন পেশাদারিত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন ড. রহমানের সাথে তার বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয় যে, ড. রহমান চেয়েছিলেন সামরিক কেনাকাটায় ওয়াশিংটনের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে, যা সেনাবাহিনীর প্রচলিত বহুমুখী সরবরাহ কৌশলের (Diversified Supply Chain) পরিপন্থী ছিল। ( চলমান)

12/02/2026

আমরা ২০১৪,২০১৮,২০২৪ এ আওয়ামী লীগ আমলের এই ৩ টি নির্বাচন কেন বৈধ অথবা গনতান্ত্রিক নির্বাচন বলি না?
কারন নির্বাচনে বিএনপি র নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় ঐক্যজোট অংশগ্রহণ করেনি নি যারা কিনা ২০০১ এর নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৪৬.৯৩% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।তাই স্বাভাবিক এতবড় একটি জোটকে বাইরে রেখে নির্বাচন একটি সুষ্ঠু গনতান্ত্রিক পালা বদল হতে পারে না কিন্তু আপনি যদি আইনের কূটতর্কে যান,তাহলে ঐ ৩ টি নির্বাচন ই বৈধ।
২০ দলীয় মহাজোটের সমর্থক গোষ্ঠী যারা আছে তারা কিন্তু ঐ নির্বাচন গুলোতে মহা আনন্দে ভোট দিয়েছিল।(যদিও আমি যাই নি ভোট দিতে কারন আমার দৃষ্টিতে ওগুলো নির্বাচন ই ছিল না)ঠিক এখনকার মত তারা ও মহা আনন্দে ভোট দিয়ে কালিমা লিপ্ত বৃদ্ধাংগুলীর ছবি তুলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেছিল " আহা আমরা স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম "। যখন ই তাদের ৪ দলীয় জোটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হত,তারা নাসান্দ্র ফুলিয়ে, গাল ফুলিয়ে, ঠোঁট বাকিয়ে বলত,,, "তাদের ভোটে আসতে নিষেধ করছে কে "।
৪ দলীয় জোট নির্বাচনে আসেনি সত্য কিন্ত তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কি কিছু ছিল?
এখন আসি ২০২৬ এর নির্বাচনে। এই নির্বাচন হল ২০১৪,১৮,২৪ নির্বাচনের ঠিক অপর পিঠ।এই নির্বাচনে ২০ দলীয় মহাজোট নেই ( জাতীয় পার্টি বাদে) যারা কিনা ২০০৮ এর নির্বাচন অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৫৭.৩০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।ওই নির্বাচন গুলো যদি স্বাভাবিক গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না হয়ে থাকে তাহলে এই নির্বাচন কিভাবে একটি গনতান্ত্রিক ঐতিহাসিক নির্বাচন হল যেখানে কিনা ৫৭.৩০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব ই নেই।আপনি হয়ত বলছেন ১৭ বছর পর আপনি ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু আপনি কি ৫৭.৩০ শতাংশের কথা মাথায় রেখেছেন যাদের স্বাধীন ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হল ঠিক যেমন ওরা কেড়ে নিয়েছিল বিগত ১৭ বছর।আপনাকে জিজ্ঞেস করলে আপনিও হয়ত তাদের মত নাসান্দ্র ফুলিয়ে,গাল ফুলিয়ে, ঠোঁট বাকিয়ে বলছেন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন ফ্যাসিস্ট কিন্তু ভাই এটা আপনারা ব্যাক্তিগত মতামত মাত্র,একটি জনগোষ্ঠীর মতামত নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভোটাধিকার দিতে হবে।আপনি যা বলছেন সেটা হয়ত আইনত বৈধ ঠিক যেমন আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলত।
সেই হিসেবে আমি ২০১৪, ২০১৮,২০২৪ এবং ২০২৬ এর নির্বাচন কে আমি একই ব্রেকেটে রাখব।সে সাথে যোগ হবে ১৯৯৬ এর নির্বাচন। পরিসংখ্যান গত ভাবে এই ৫ টি নির্বাচনের অনেক মিল ও রয়েছে, যেমন :
১৯৯৬ এ ভোট পড়েছিল ২১.০০%
২০১৪ এ ভোট পরেছিল ৪০.৩০ %
২০১৮ এ ভোট পরেছিল ৮০.২০% ( যদিও সেটা মিথ্যা)
২০২৪ এ ভোট পরেছিল ৪০.৪১ %
২০২৬ এ ভোট পরল ৪৭.৯০%।
এই ৫ টা নির্বাচনের বাইরে অন্য ৮ টি নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫.০০% এর উপরে।
আপনি আসলেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন নাকি "আপনি আপনার স্বৈরাচারী আচরনের বৈধতা দিলেন,ঠিক যেমন বিগত ১৭ বছর ওরা দিয়েছিল"।

বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭১ একমাত্র এবং খুব উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যময় ঘটনা। একই সাথে একটি জাতির জন্য এটাও খুব লজ্জার ব্যাপ...
04/02/2026

বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭১ একমাত্র এবং খুব উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যময় ঘটনা। একই সাথে একটি জাতির জন্য এটাও খুব লজ্জার ব্যাপার যে আমরা এখনও মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্মোহ ইতিহাস নির্মান করতে পারিনি যা সকলের নিকট গ্রহনযোগ্য হবে।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দল কেন্দ্রিক। যখন যে দল আসবে সে দল তার মত বয়ান চেঞ্জ করে ফেলছে,পাঠ্যক্রম বদলে ফেলছে,নির্মোহ ইতিহাসের বই গুলো আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলছে।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে " ফাউন্ডিং ফাদারস" থিউরিতে বিশ্বাস করি।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ব্যাক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের কাউকে ই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না, অবদানকেও ছোট করা যাবে না।ঠিক তেমনি তাদের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যতম সেটাও ইতিহাস মেনে নিতে হবে।সে সাথে অন্যান্য যারা স্থপতি আছে তাদেরকেও অস্বীকার করা ৭১ কে অস্বীকার করার শামিল।

লজ্জাজনক ভাবে গতকাল ও স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে পুনরায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।ফাউন্ডিং ফাদারস থাকতে পারে কিন্তু ঘোষক ত একজন কেই হতে হবে।
ঘোষণার ব্যাপারটা প্রায় দিবালোকের মত পরিষ্কার থাকার পরে দলীয় বয়ান সৃষ্টির প্রয়াসে এটা নিয়ে প্রতিবার বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।অথচ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য, তৎকালীন বেতার কেন্দ্রগুলো,সাংবাদিক, গণমাধ্যমের এরকম অনেক রিপোর্ট ট্রেস করা যাবে, যেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করলে "proclamation of independent" বিতর্কটি অবসান করা যায়, একটা পরিষ্কার রূপ দেয়া যায়।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আজ সে প্রয়াস ই চালাব বিভিন্ন পর্বে। এখানে খুব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাচ্ছি
"আমার প্রতিটি তথ্যের রেফারেন্স আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউ ইচ্ছে করলেই পেতে পারেন,চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।এই লিখায় বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে আমি শুধু বিদেশি রেফারেন্স ব্যবহার করেছি।দেশীয় বই গবেষণা পত্র এড়িয়ে গিয়েছি"।

প্রথমেই আমি যেটা আলোকপাত করব সেটা হল ২৭ মার্চ বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা গুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারের( এটা কি আদৌ আত্নসমর্পণ ছিল) ব্যাপারে কি রিপোর্ট করেছিল।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (যুক্তরাষ্ট্র)
১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল হুবহু এরকম : "Leader of Rebels in East Pakistan Reported Seized; Sheik Mujib Arrested After a Broadcast Proclaiming Region’s Independence" (পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহী নেতা আটক; অঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিব গ্রেপ্তার)।
এই প্রতিবেদনের ভেতরে স্পষ্ট করে লেখা হয়:
"Sheikh Mujibur Rahman, the nationalist leader of East Pakistan, has been arrested only hours after he had proclaimed his region independent..." ।
এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে, শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের ঠিক আগেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে গিয়েছিল।

এখন আসুন দেখি ঐদিন লন্ডন টাইমস পত্রিকা কি বলছে।

দ্য টাইমস (লন্ডন, যুক্তরাজ্য)
ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ ২৭শে মার্চ তাদের প্রধান সংবাদে শিরোনাম করে: "Heavy Fighting as Sheikh Mujibur Declares East Pakistan Independent" (শেখ মুজিবুর কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর তুমুল লড়াই)। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন ।

যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান ওই রিপোর্ট করে

দ্য গার্ডিয়ান (যুক্তরাজ্য)
২৭শে মার্চ ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা রিপোর্ট করে যে, শেখ মুজিবুর রহমান তার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গার্ডিয়ান লিখেছিল:
"Sheikh Mujib declared independence for his countrymen before his arrest." ।

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস ও অন্যান্য
‘দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস’ ২৭শে মার্চ লিখেছিল, "Civil War in East Pakistan: Sheikh Mujib Declares Independence"। এছাড়া ‘দ্য বাল্টিমোর সান’, ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং ‘দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’-এর মতো পত্রিকাগুলোও একই ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে। প্রতিটি প্রতিবেদনেই ‘শেখ মুজিব’ এবং ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ শব্দগুলো অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত ছিল ।

থাইল্যান্ডের ‘ব্যাংকক পোস্ট’ ২৬শে মার্চ শিরোনাম করে: "Pak Near Civil War: East Declares Independence"। আর্জেন্টিনার ‘বুয়েনস আইরেস হেরাল্ড’ এবং ভারতের ‘দ্য স্টেটসম্যান’ ও ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবের ঘোষণার বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করে ।
বিশ্ব গনমাধ্যমের রিপোর্ট গুলো বিবেচনায় নিলে খুব পরিস্কার হয়ে যায়,আসলে ২৬ মার্চ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমান বেতারে স্বাধীনতার ঘোষন দিয়ে যান এবং পরবর্তীতে তিনি গ্রেফতার হন।
পরবর্তী পর্বে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং বেতার সংস্থা গুলো বঙ্গবন্ধু ওই ঘোষণা কি চিহ্নিত করতে পেরেছিল সে বিষয়ে আলোচনা করব।(চলমান)

গন ভোটের আন্তর্জাতিক মানদন্ড সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নেয়া যাক।নেয়ার পর আন্তর্জাতিক মানদন্ডের মাপ কাঠিতে আপনি মাপতে পারবেন ...
31/01/2026

গন ভোটের আন্তর্জাতিক মানদন্ড সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নেয়া যাক।নেয়ার পর আন্তর্জাতিক মানদন্ডের মাপ কাঠিতে আপনি মাপতে পারবেন আয়োজিত গণভোট কতটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হচ্ছে।
​ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাংবিধানিক আইন বিষয়ক উপদেষ্টা পর্ষদ 'ভেনিস কমিশন' গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণভোটের জন্য এই মানদণ্ডগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

​বিষয়বস্তুর ঐক্য (Unity of Content): এটি গণভোটের সবচেয়ে মৌলিক নীতি। ভোটারদের সামনে উত্থাপিত প্রশ্নটি অবশ্যই স্পষ্ট এবং একক বিষয়ভিত্তিক হতে হবে। একটি প্রশ্নের মধ্যে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন এবং সম্পর্কহীন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা (যা Omnibus Question নামে পরিচিত) অনুচিত, কারণ এতে ভোটারের স্বাধীন মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। একজন ভোটার হয়তো প্রস্তাব 'ক' সমর্থন করেন কিন্তু প্রস্তাব 'খ' সমর্থন করেন না; গুচ্ছ প্রশ্নে তাকে হয় সব মেনে নিতে হয় অথবা সব প্রত্যাখ্যান করতে হয় ।

​প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা: গণভোট চলাকালীন সরকারি প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সরকারি তহবিল বা সম্পদ ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের (সাধারণত 'হ্যাঁ' ভোটের) প্রচারণা চালানো যাবে না।

​স্বচ্ছ অর্থায়ন: রাজনৈতিক দল বা প্রচারণাকারী গোষ্ঠীগুলোর আয়ের উৎস এবং ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ হতে হবে। যুক্তরাজ্যে ইলেক্টোরাল কমিশন গণভোটের প্রচারণায় ব্যয়ের সীমা (Spending Limits) কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

​তথ্যের অবাধ প্রবাহ: ভোটারদের কাছে প্রস্তাবিত আইনের প্রভাব সম্পর্কে নিরপেক্ষ তথ্য পৌঁছাতে হবে। অনেক দেশে সরকার ভোটারদের জন্য একটি নিরপেক্ষ তথ্যপুস্তিকা সরবরাহ করে, যেখানে প্রস্তাবের পক্ষে এবং বিপক্ষের যুক্তিগুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।
আমাদের ২০২৬ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে গণভোট আয়োজিত হতে যাচ্ছে তার সাথে ভেনিশ কমিশনের নির্দেশনা কত টুকো অনুসরণ করা হচ্ছে সেটা বিচারের ভার আপনার উপর।
এখন আসুন একটু ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের ৪ টা গণভোট দেখে আসি,,,কি ছিল সেই গণভোট গুলো তে,,প্রশ্ন এবং ফলাফল ই বা কি ছিল।

১৯৭৭ সালের গণভোট: সামরিক শাসনের বৈধতা
​১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। নিজের শাসনের বৈধতা প্রমাণের জন্য তিনি ১৯৭৭ সালের ৩০ মে একটি গণভোট আয়োজন করেন।
​প্রশ্ন: "আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং তাঁর কর্তৃক গৃহীত নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থাশীল?"

​ফলাফল ও বিতর্ক: সরকারি হিসেবে এই গণভোটে ৯৮.৮৮% 'হ্যাঁ' ভোট এবং মাত্র ১.১২% 'না' ভোট পড়েছিল। ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল ৮৮.০৫%। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ছিল অবাস্তব এবং অতিরঞ্জিত। এটি ছিল মূলত সামরিক ফরমানকে গণতান্ত্রিক মোড়ক দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

১৯৮৫ সালের গণভোট: এরশাদের ক্ষমতা সংহতকরণ
​একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ গণভোট আয়োজন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নির্বাচন দেবেন, কিন্তু তার পরিবর্তে নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে এই গণভোটের আশ্রয় নেন।
প্রশ্ন: "আপনি কি রাষ্ট্রপতি এরশাদের নীতির সমর্থন করেন এবং তিনি কি বেসামরিক সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন পরিচালনা করবেন?"

ফলাফল: সরকারি হিসেবে ৯৪.৪৭% 'হ্যাঁ' ভোট পড়ে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২%। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই গণভোট বর্জন করে এবং নির্বাচনের দিন হরতাল পালন করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত ভোটার উপস্থিতি ছিল ১৫-২০%-এর বেশি নয়। এটি ছিল নির্বাচনী কারচুপির একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।

১৯৯১ সালের গণভোট: গণতন্ত্রে উত্তরণ
​বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটটি হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর।
​প্রেক্ষাপট: এরশাদ সরকারের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস করা হয়। যেহেতু সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছিল, তাই তৎকালীন সংবিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন ছিল।
​প্রশ্ন: "রাষ্ট্রপতি কি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল, ১৯৯১-এ সম্মতি প্রদান করবেন কি না?"

​ফলাফল: ৮৪% ভোটার 'হ্যাঁ' ভোট দেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে গণভোট জাতীয় সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে আমাদের গণভোটের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুবিধাজনক নয় যদি ১৯৯১ এর গণভোট হিসেবের বাইরে রাখি।
আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে চিলির সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তন গণভোট ও এর পরবর্তী কার্যক্রম হতে পারে আদর্শ কেস স্টাডি।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিলির সাম্প্রতিক সাংবিধানিক গণভোটের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। চিলিতে ২০১৯ সালের ব্যাপক বিক্ষোভের পর পিনোশের আমলের সংবিধান বাতিলের দাবি ওঠে।
২০২০ সালের গণভোটে ৭৮% মানুষ নতুন সংবিধান রচনার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু ২০২২ সালে নির্বাচিত সাংবিধানিক পরিষদ (Constitutional Convention) যে খসড়া সংবিধান পেশ করে, তা ৬২% ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয় ।
​ব্যর্থতার কারণ:
বিশ্লেষকদের মতে, চিলির প্রথম সাংবিধানিক পরিষদটি ছিল অত্যধিক বামঘেঁষা এবং তারা সমাজের মূলধারার বা মধ্যপন্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করে একটি 'সর্বোচ্চবাদী' (Maximalist) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। প্রস্তাবিত সংবিধানে বিচার ব্যবস্থা, আদিবাসী অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে এত ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ডানপন্থীদের নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাটিও ব্যর্থ হয়।
চিলির এই গণভোট থেকে আমরা অভিজ্ঞতা নিতে পারি যে সংবিধান পুনর্লিখনের ক্ষেত্রে কেবল আবেগের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সমাজের সকল শ্রেণির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। অত্যধিক উচ্চাভিলাষী সংস্কার প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে।
নাছরুল হাসান অপু (এডভোকেট)

28/01/2026
৫ আগস্ট অথবা তার আশেপাশের সময় গুলোতে যে সহিংসতা হয়েছে,যত মানুষ নিহত হয়েছে,সেই নিহত হওয়ার ঘটনা অথবা হত্যাকে কি আমরা কোনভা...
27/01/2026

৫ আগস্ট অথবা তার আশেপাশের সময় গুলোতে যে সহিংসতা হয়েছে,যত মানুষ নিহত হয়েছে,সেই নিহত হওয়ার ঘটনা অথবা হত্যাকে কি আমরা কোনভাবে গনহত্যা বলতে পারি?
ঢালাও মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডায় গনহত্যা হিসেবে যাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে গনহত্যার কনভেনশন অনুসারে এই ঘটনাকে কি আসলেই গনহত্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়?

ব্যাপারটা কিছুটা বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন অবশ্য ই।
Genocide (গনহত্যা) টার্ম টি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন রাফায়েল লেমকিন নামে একজন পোলিশ ইহুদি আইনজীবী। ১৯৪৪ সালে তাঁর Axis Rule in Occupied Europe গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন যা বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় গ্রিক শব্দ 'genos' (গোত্র বা জাতি) এবং ল্যাটিন শব্দ 'cide' (হত্যা) - এই দুটির সমন্বয়ে গঠিত এই শব্দটি কেবল হত্যাকাণ্ড বোঝায় না, বরং এটি একটি জাতির অস্তিত্বের বুনিয়াদ—ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—ধ্বংস করার এক সমন্বিত যোজনাকে নির্দেশ করে।
তাঁর মতে, গণহত্যা হলো একটি জাতির জীবনধারণের অপরিহার্য ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যার চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো সেই গোষ্ঠীর শারীরিক বিলুপ্তি। লেমকিনের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ 'গণহত্যা অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি বিষয়ক কনভেনশন' (CPPCG) গ্রহণ করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে প্রথম মানবাধিকার চুক্তি হিসেবে স্বীকৃত।

১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর গৃহীত এই কনভেনশনটি গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। কনভেনশনের ২য় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত কাজগুলো করলে তা গণহত্যা বলে গণ্য হবে।
ধারা ২(ক): গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা।

ধারা ২(খ):গোষ্ঠীর সদস্যদের গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি সাধন করা।

ধারা ২(গ):ইচ্ছাকৃতভাবে গোষ্ঠীর ওপর এমন জীবনযাপনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া যা তাদের সম্পূর্ণ বা আংশিক শারীরিক ধ্বংস ডেকে আনে।

ধারা ২(ঘ):গোষ্ঠীর মধ্যে জন্ম প্রতিরোধে ব্যবস্থা আরোপ করা।

ধারা ২(ঙ):এক গোষ্ঠীর শিশুদের জোরপূর্বক অন্য গোষ্ঠীতে স্থানান্তর করা।
৫ আগস্ট অথবা তার আশেপাশের সময়ে সংগঠিত ঘটনার সাথে আপনি জেনোসাইড কনভেনশনের কোন ধারাটি সংগতিপূর্ণ মনে করেন প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন।

জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ড. গ্রেগরি স্ট্যানটন গণহত্যার দশটি স্তরের একটি মডেল প্রদান করেছেন, যা এই অপরাধের মনস্তত্ত্ব ও প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়ক। এই স্তরগুলো রৈখিক নয় এবং একই সময়ে একাধিক স্তর চলতে পারে, তবে 'শ্রেণিকরণ' বা বিভাজন ছাড়া গণহত্যা শুরু হতে পারে না।
নিচে এই মডেলটি সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রয়ে যায়।
ড.গ্রেগর স্ট্যানটন এর মডেলটি মূলত ১০ টা ধাপে বিভক্ত।ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন জেনোসাইডে এই ধাপ গুলো পর্যায়ক্রমিক ভাবে সম্পন্ন করে তারপর একটি জেনোসাইড চূড়ান্ত পরিনতি লাভ করেছে।

* প্রথম ধাপ শ্রেণিকরণ (Classification):
সমাজকে 'আমরা' বনাম 'তারা' হিসেবে বিভক্ত করা। জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে এই বিভাজন তৈরি হয়।
রুয়ান্ডায় হুতু ও তুতসিদের পরিচয়পত্র দ্বারা আলাদা করা।

* দ্বিতীয় ধাপ প্রতীকায়ন (Symbolisation):
নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দৃশ্যমানভাবে চিহ্নিত করতে নাম বা প্রতীক ব্যবহার করা।নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের পোশাকে হলুদ তারকা বাধ্যতামূলক করা।

* তৃতীয় ধাপ বৈষম্য (Discrimination):
প্রভাবশালী গোষ্ঠী আইন বা প্রথার মাধ্যমে অপর গোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করে।
মিয়ানমারে ১৯৮২ সালের আইনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল ।

* চতুর্থ ধাপ অমানবিকীকরণ (Dehumanization):
ভিকটিমদের মানুষের মর্যাদা থেকে নামিয়ে পশু, পোকা বা রোগের সাথে তুলনা করা হয়, যাতে তাদের হত্যা করা মানসিকভাবে সহজ হয়।
তুতসিদের 'আরশোলা' এবং ইহুদিদের 'ইঁদুর' বলা ।

* পঞ্চম ধাপ সংগঠন (Organization):
গণহত্যা সর্বদা সংগঠিত হয়, সাধারণত রাষ্ট্র বা মিলিশিয়াদের দ্বারা। বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়া হয়।সুদানের জানজাউইদ মিলিশিয়া বা জার্মানির এসএস বাহিনী।

* ষষ্ঠ ধাপ মেরুকরণ (Polarization):
ঘৃণাসূচক প্রচারণার মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা হয়। মধ্যপন্থীদেরও স্তব্ধ বা হত্যা করা হয়।
নাৎসি প্রোপাগান্ডা এবং রুয়ান্ডার রেডিও আরটিএলএম।

* সপ্তম ধাপ প্রস্তুতি (Preparation):
হত্যার চুড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। ভিকটিমদের চিহ্নিত করে মৃত্যু তালিকা তৈরি করা হয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন ।

* অষ্টম ধাপ নিপীড়ন (Persecution):
ভিকটিমদের পৃথকীকরণ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ঘেটো বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দীকরণ।
পোল্যান্ডের ইহুদি ঘেটো এবং বর্তমানে চীনের উইঘুর ক্যাম্প ।

* নবম ধাপ নির্মূলীকরণ (Extermination):
গণহত্যাকাণ্ড শুরু করা। হত্যাকারীদের কাছে এটি অপরাধ নয়, বরং সমাজকে 'পবিত্র' করার কাজ।
গ্যাস চেম্বার, গণকবর, ডেথ স্কোয়াড।

* দশম এবং সর্বশেষ ধাপ অস্বীকার (Denial):
অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া, কবর ধ্বংস করা, সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং তদন্তে বাধা দেওয়া।

খুব সহজ ভাষায় উপরোক্ত ঘটনা গুলো কালেক্টিভলি সংগঠিত হলে ই সেটা কে গনহত্যা এবং জেনোসাইড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
এখন আপনার বিবেচনার বিষয় ৫ আগস্ট এবং তার আশেপাশের ঘটনাবলীকে কি আপনি গনহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করবেন? যদি মনে হয় সেটা গনহত্যা নয় তাহলে মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার বিচারের আইনী ভিত্তি কি? -- নাছরুল হাসান অপু (এডভোকেট)
বিঃ দ্রঃ কারো রেফারেন্স প্রয়োজন হলে জানাবেন।

আমি হইলাম দেশের আম জনতা ক্ষুদ্র নাদান সামান্য একজন আইনজীবী। তারেক রহমান সাহেব ১৭ বছর পর দেশে আসছেন।উনার বক্তব্য গুলোর সব...
24/01/2026

আমি হইলাম দেশের আম জনতা ক্ষুদ্র নাদান সামান্য একজন আইনজীবী। তারেক রহমান সাহেব ১৭ বছর পর দেশে আসছেন।উনার বক্তব্য গুলোর সব কিছু ছাপাইয়া একটা ব্যাপার এই কয়দিন আলোচনার তুংগে আছে। সেটা হল মনোরেল।উনি অবশ্যই লন্ডনের প্রবাসজীবনে মনোরেল নিয়া পড়ছেন জানছেন চিন্তা করছেন।
যেহেতু মেট্রোরেল নিয়ে ঢাকা শহরের মানুষ ব্যাপক খুশি সেই খুশির মইধ্যে মেট্রোরেল বন্ধ হইয়া মনোরেল চালু করার পরিকল্পনা অনেকের কাছেই ভাল লাগে নাই।
আমি আবার অন্ধ ভাবে সব বাছ বিচার করি না,,গোস্বা ও হই না কিন্তু খুতখুতানি রইয়া যায়,তাই নিজের তাগিদে ব্যাপারডা লইয়া কিছুডা পড়াশোনা করলাম।আমার আবার এসাইনমেন্ট করতে ভাল লাগে, তাই সাজাইয়া লইলাম যা যা পড়ছি।কারো যদি জানার খায়েশ জাগে পড়তে পারেন। যদি সোর্স চান দিয়া দিমুনে।

পর্ব -১

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে বিশ্বজুড়ে নগরায়ণের গতিপ্রকৃতি এক নজিরবিহীন বাঁক নিয়েছে। মেগাসিটিগুলোর জনসংখ্যা বিস্ফোরণ এবং স্থানিক সীমাবদ্ধতা নগর পরিকল্পনাবিদদের এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে প্রচলিত পরিবহন ব্যবস্থা আর কার্যকর থাকছে না। এই প্রেক্ষাপটে 'মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট' (Mass Rapid Transit - MRT) বা দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা শহরের লাইফলাইন বা জীবনরেখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নীতিমালার স্তরে এবং জনমানসে প্রায়শই দুটি প্রধান রেলভিত্তিক প্রযুক্তির মধ্যে তুলনা এবং বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়: 'মেট্রোরেল' এবং 'মনোরেল'। এই বিশদ আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো এই দুটি প্রযুক্তির মধ্যে বিদ্যমান মৌলিক, কাঠামোগত এবং কার্যকারিতা-ভিত্তিক পার্থক্যগুলোকে আণুবীক্ষণিক স্তরে বিশ্লেষণ করা এবং বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে কোন প্রযুক্তিটি প্রকৃত অর্থে 'আধুনিক' বা যুগের চাহিদা পূরণে সক্ষম, তা নির্ধারণ করা।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নির্দেশ করে যে, মেট্রোরেল এবং মনোরেল একে অপরের সরাসরি প্রতিযোগী নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন নগর-বাস্তবতার সমাধান। মেট্রোরেল, বিশেষ করে হেভি রেল সিস্টেম, তার উচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা (ঘণ্টায় প্রতি দিকে ৩০,০০০ থেকে ৮০,০০০ যাত্রী) এবং দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোর কারণে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত । অন্যদিকে, মনোরেল প্রযুক্তি গত এক দশকে তার আদি 'অ্যামিউজমেন্ট পার্ক রাইড'-এর ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে একটি পরিপক্ব এবং কার্যকর আরবান ট্রানজিট সলিউশনে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চীনের চংকিং এবং ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো কঠিন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের শহরগুলোতে মনোরেল তার সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে ।
আধুনিকতার প্রশ্নে, এই প্রতিবেদনটি একটি দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত প্রদান করে। যদি 'আধুনিকতা' বলতে আমরা সর্বোচ্চ যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা এবং অপারেশনাল দক্ষতাকে বুঝি, তবে সম্পূর্ণ অটোমেটেড (GoA4) মেট্রোরেল সিস্টেম অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু যদি আধুনিকতাকে আমরা 'স্মার্ট আরবান ইন্টিগ্রেশন', কঠিন ভূখণ্ডে অভিযোজন ক্ষমতা এবং ফিউচারিস্টিক প্রযুক্তি যেমন ম্যাগলেভ (Magnetic Levitation)-এর প্রয়োগ হিসেবে দেখি, তবে মনোরেল—বিশেষ করে আধুনিক ম্যাগলেভ এবং স্কাইরেল সিস্টেমগুলো—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাহন হিসেবে নিজেদের দাবি জোরালো করছে । এই এসাইনমেন্ট এ আমি এই দুই প্রযুক্তির ইতিহাস, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং পরিবেশগত প্রভাবের গভীরতম স্তরে প্রবেশ করব।

মেট্রোরেলের উদ্ভব: মাটির নিচের শিল্পবিপ্লব

নগর পরিবহনের ইতিহাসে মেট্রোরেলের জন্ম এক বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর লন্ডনে রাস্তার ওপর অসহনীয় যানজট এবং দূষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৬৩ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত 'মেট্রোপলিটন রেলওয়ে' বা বিশ্বের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয়। এটি ছিল 'কাট-এন্ড-কভার' পদ্ধতিতে তৈরি, যা শহরের মাটির নিচ দিয়ে যাত্রী পরিবহনের ধারণাটি বাস্তবে রূপ দেয়। পরবর্তী দেড় শতাব্দীতে, বিদ্যুৎ চালিত ট্র্যাকশন মোটর, উন্নত টানেলিং প্রযুক্তি (TBM) এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে মেট্রোরেল একটি গ্লোবাল স্টান্ডার্ডে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে নিউইয়র্ক, টোকিও, মস্কো, বেইজিং এবং দিল্লির মতো শহরগুলো তাদের অস্তিত্বের জন্য মেট্রোরেলের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ।

মনোরেলের যাত্রা: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

মনোরেলের ইতিহাস মেট্রোরেলের মতোই প্রাচীন, তবে এর পথচলা ছিল ভিন্নমুখী। ১৮২৫ সালে হেনরি রবিনসন পামার প্রথম মনোরেলের প্যাটেন্ট করেন, যা প্রাথমিকভাবে মাল পরিবহনের জন্য ভাবা হয়েছিল । ১৯০১ সালে জার্মানির ভুপারটালে (Wuppertal) চালু হওয়া ঝুলন্ত মনোরেল (Suspended Monorail) বা 'শোয়েবেবান' (Schwebebahn) আজও সচল আছে এবং এটি প্রমাণ করে যে মনোরেল কেবল একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি নয় ।
তবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সুইডিশ প্রকৌশলী এক্সেল লেনার্ড ওয়েনার-গ্রেন (Axel Lennart Wenner-Gren) এর 'আলওয়েগ' (ALWEG) প্রযুক্তির উদ্ভাবন আধুনিক মনোরেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ১৯৫০ এবং ৬০-এর দশকে ডিজনিল্যান্ড এবং সিয়াটলে আলওয়েগ মনোরেল চালুর মাধ্যমে এটি ফিউচারিস্টিক বা আধুনিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে জটিল সুইচিং মেকানিজম এবং কম যাত্রী ক্ষমতার কারণে এটি মূলধারার গণপরিবহনে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে জাপানের হিটাচি এবং কানাডার বোম্বার্ডিয়ার (বর্তমান অ্যালস্টম) এবং চীনের বিওয়াইডি (BYD)-এর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে মনোরেল তার নবজাগরণ বা রেনেসাঁ প্রত্যক্ষ করছে ।

একটি শহরের জন্য কোন বাহনটি নির্বাচন করা হবে, তা মূলত নির্ভর করে পিক আওয়ারে (Peak Hour) কতজন যাত্রী পরিবহন করতে হবে তার ওপর। এই ক্ষেত্রে মেট্রোরেল এবং মনোরেলের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা বিদ্যমান।

যাত্রী ধারণক্ষমতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ (Capacity Benchmark)

হেভি মেট্রো (Heavy Rail Metro): মেট্রোরেল হলো বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নগর পরিবহন ব্যবস্থা। ৬ থেকে ১০টি কোচের একটি হেভি মেট্রো ট্রেন প্রতি ট্রিপে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারে। আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা (যেমন CBTC) ব্যবহার করে প্রতি ৯০ সেকেন্ডে একটি ট্রেন চালানো সম্ভব। এর ফলে, একটি মেট্রো লাইন প্রতি ঘণ্টায় প্রতি দিকে (Passengers Per Hour Per Direction - PPHPD) ৩০,০০০ থেকে ৮০,০০০ বা তার বেশি যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম । হংকং MTR বা টোকিও মেট্রোর মতো সিস্টেমে এই সংখ্যা আরও বেশি। তাই মেগাসিটির প্রধান করিডোরগুলোতে হেভি মেট্রোর কোনো বিকল্প নেই।

মনোরেল এবং লাইট মেট্রো: মনোরেলকে ঐতিহাসিকভাবে 'মাঝারি ক্ষমতা' (Medium Capacity) সম্পন্ন বাহন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। সাধারণত এর ক্ষমতা ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ PPHPD-এর মধ্যে থাকে। তবে আধুনিক 'লুনা' বা 'ইনোভিয়া ৩০০' (Innovia 300) সিরিজের মনোরেলগুলো এই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে।
সাও পাওলো লাইন ১৫ (ব্রাজিল): এটি বিশ্বের প্রথম হাই-ক্যাপাসিটি মনোরেল সিস্টেম। ৭ কোচের এই ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৪০,০০০-৪৮,০০০ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রাখে, যা অনেক হেভি মেট্রোর সমতুল্য ।
চংকিং রেল ট্রানজিট (চীন): চংকিং-এর লাইন ২ এবং লাইন ৩ বিশ্বের ব্যস্ততম মনোরেল নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে লাইন ৩-এ ৮ কোচের বিশাল ট্রেন ব্যবহার করা হয়, যা দৈনিক ৬,৮০,০০০-এর বেশি যাত্রী পরিবহন করে। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে মনোরেলও 'মাস ট্রানজিট' হিসেবে কাজ করতে পারে ।(চলমান)

যেখানে গাজা ভূখণ্ডের আত্ননিয়ন্ত্রনের অধিকার গাজাবাসী নিজেদের।যে অধিকারের জন্য ফিলিস্তিনিরা যুগের পর যুগ লড়াই করে এসেছে।স...
11/01/2026

যেখানে গাজা ভূখণ্ডের আত্ননিয়ন্ত্রনের অধিকার গাজাবাসী নিজেদের।
যে অধিকারের জন্য ফিলিস্তিনিরা যুগের পর যুগ লড়াই করে এসেছে।সেই অধিকারের বিপরীতে যেয়ে ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনে যোগ দেয়ার মানে কি ফিলিস্তিনি দের আত্ননিয়ন্ত্রনের এত দিনের অধিকার কে পদদলিত করা নয়?
অস্বীকার করা নয়?
এখন কোথায় আমাদের ইসলাম।
কোথায় আমাদের হেফাজত,জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন।
আমাদের আসলে সব কিছুতেই মুনাফেকি,
৭১ এর চেতনায় মুনাফেকি,
২৪ এর চেতনায় মুনাফেকি,,
এমনকি ধর্মীয় চেতনায় ও মুনাফেকি।

10/01/2026

অনেকের কাছেই এই কথাটা যথেষ্ট কটু মনে হবে,,,,তারপরও বলতে হচ্ছে,,,,
অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ওসমান হাদীর অবদান কি?
সে সাহসী ছিল,
অকুতোভয়,
সৎ
অধিপত্যবাদ বিরোধী,
২৪ এর নায়ক।
এই বিশেষণ গুলো দেয়ার মত আরও এক ডজন তরুন নেতা দেখাতে পারব যাদের সাথে এই বিশেষণ গুলো ভাল ভাবেই যায়।
তাহলে ওসমান হাদীকে এভাবে কাল্ট বানানো হচ্ছে কেন,
বাকিদের কেন নয়?
এরকম কাল্ট হওয়ার জন্য নাকি তাদেরও খুন হতে হবে?
আরেকটা ব্যাপার,ওসমান হাদির রাজনৈতিক জীবন থেকে যারা বিপ্লবী আছে, তারা কি অনুসরন করেছেন,কি অনুকরণ করেছেন,,,,,,
" শা,,য়া মা,,য়া ছিড়্রা"
ফালানো ব্যতীত।
একজন মানুষ মহান হয় তখন যখন তার ইতিবাচক ব্যাপার গুলো মানুষ অনুসরণ করবে।
আমি মনে করি একটি হলের নাম করানোর মত অতটা গ্লোরী হাদী অর্জন করেনি, যতটা করেছেন,,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সার্জেন্ট জহুরুল হক
অথবা বেগম রোকেয়া।
নাম মুছে,,,স্থাপনার নাম দিয়ে অথবা পরিবর্তন করে কাউকে অমর করা যায় নি
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটা উলটো ভিলেন হওয়ার কারন হতে পারে,,
বিগত ১৭ বছর থেকে আপনারা সেই শিক্ষা টুকো নিতে পারলেন না।

গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ হয় নি।এই কুচকাওয়াজের একটা বিশেষত্ব পৃথিবীর সব দেশ তাদের বিজয় দিবসে ত...
01/12/2025

গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ হয় নি।
এই কুচকাওয়াজের একটা বিশেষত্ব পৃথিবীর সব দেশ তাদের বিজয় দিবসে তাদের অর্জিত স্বনির্ভরতা এবং স্বকীয়তা প্রকাশ করে।
এটা প্রতিটি স্বাধীন দেশের রীতি।সেখানে প্রায় অনেক সময় বন্ধু প্রতীম দেশের রাষ্ট্র নায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এই কুচকাওয়াজ ঘিরে প্রতিটি স্কুল কলেজে একটা সাজ সাজ রব পড়ে যায়।প্যারেডের প্রস্তুতি চলে আর নানান রকম ড্রিল এর আয়োজন হয়।আমরা সবাই স্কুল জীবনে এই সময়টা পেরিয়ে এসেছি।এই প্রস্তুতির মাঝে ই দেশের প্রতি ভালবাসা তৈরী হয়।
এখন সেই প্রস্তুতি নেই,
সাজ সাজ রব নেই,
বাচ্চারা দেশকে ভালবাসার জানার একটা উপলক্ষ্য হারাচ্ছে,
কোমলমতি শিশুরা একাত্তর থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
গতবছর পাবলিক সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখে বিজয় মেলার আয়োজন হয়েছিল,এই বছর সেটাও হবে না।
তার মানে ইউনুসের সাহেবের সেই রিসেট বাটনের প্রথম পুশটা পড়ল " বিজয় দিবসের" উপর।
তার উপর,,,,
দেশের ভেতর এক জনাকীর্ণ সমাবেশ থেকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান, সেটাও বিজয়ের মাসের প্রারম্ভে।
একেবারে সোনায় সোহাগা,,,
দুনিয়ার আর কোন জাতি,, আর কোন কোন দেশ পাবেন না যারা তাদের উপর আগ্রাসন চালানো অত্যাচার চালানো রাষ্ট্র সর্বোপরি যাদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে তাদের পক্ষে স্লোগান দিতে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর জাতি রাষ্ট্রটিও এই রকম বর্বরতা দেখায় না।
আমরা দেখাচ্ছি,,
সে সাথে আমরা এটাও আশা করি,,আমরা
সংস্কার করব,,
পৃথিবীর বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হব,,
এশিয়া অর্থনৈতিক জোন হব,
গর্বিত জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাড়াব।
কি নিয়া গর্বে গর্ভবতী হবেন মিয়া,,,
আগে নিজের জন্ম পরিচয় ঠিক করেন
আপনি পাকিস্তানি নাকি বাংলাদেশী।

19/09/2025

হুমায়ুন আহমেদ জীবনের শেষ সময় গুলোতে আমেরিকা কাটিয়ে ছিলেন।বলা হত,হুমায়ুন আহমেদ খাতা কলম হাতে পেলেই সুস্থ্য হয়ে যাবেন।
লিখালিখির জায়গায় ও ঠিক ছিল,,কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ স্যারের সেটা পছন্দ হল না।
জায়গাটার জানলা দিয়ে একটা বড় ম্যাপল ট্রি গোচরে আসত ,,আসন্ন শীতে সেটার পাতা গুলো ও ঝরে পড়তে শুরু করেছে।এই প্রকৃতিতে সেক্সপিয়র লিখতে পারে কিন্ত হুমায়ুন আহমেদ নয়।তিনি ত এই বাংলার সবুজ মাটির মানুষ,, তাই স্যারের আর লিখালিখি হয়ে উঠেনি।
ফ্রেঞ্জ কাফকার লিখা গুলো ছিল ভয়ানক বিষন্ন।ধরুন তার জীবনে বিষন্নতা যদি না থাকত,তাহলে কি আমরা ফ্রেঞ্জ কাফকা কে পেতাম।
ঠিক তেমনি ফরাসি বিপ্লবের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্যতা ভলতেয়ার কে সৃষ্টি করেছিল।সেসময়ের ফরাসি অভিজাত তন্ত্রের বিরুদ্ধে হাস্য রসাত্নক লিখার কারনে তাকে জেলে নিক্ষেপ করা হয়।ওই জেল থেকে তিনি ভলতেয়ার নামে লিখা শুরু করেন।

প্রতিটি বিপ্লব শুধু সাহিত্য সৃষ্টি করে না,সে সাহিত্যিক দ্বারাই বিপ্লব অনুপ্রানিত হয়।
রাশিয়ার সাহিত্যের প্রতি আমার অন্ধ ভালবাসা আছে।সে সময়ের জারের শাসন এর সৃষ্ট শ্রেনী বৈষম্য এবং দারিদ্রতা অসংখ্য রুশ বিপ্লবী সাহিত্যিক এর জন্ম দিয়েছিল।
আপনারা হয়ত জানেন,,ম্যাক্সিম গোর্কি যখন রুটি কারখানায় চাকুরি করতেন,,দারিদ্রের কষাঘাতে তিনি ভলগার পাড়ে দাঁড়িয়ে বুকে গুলি চালিয়েছিলেন,কয়েক ইঞ্চির জন্য বুলেটটি হৃদপিণ্ড মিস করে,হয়ত বিধাতা চায় নি,,,,,,নাহয়
"মা"
" আমার ছেলেবেলা"
" পৃথিবীর পথে"
" পৃথিবীর পাঠশালায় "
নামীয় হাজারো যুগশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হয়ত বিশ্ব সাহিত্য পেত না।ঠিক তেমনি মিখাইল দস্তয়াভস্কির " নোটস ফ্রম আন্ডার গ্রাউন্ড" অথবা লিও টলস্টয়ের " ওয়ার এন্ড পিস " অথবা " আনা কারেনিনা" অথবা অন্তন চেখভের হাজারো ছোট গল্প যদি জার শাসন না থাকত তাহলে " রেড রেভ্যুলেশ " মঞ্চ তৈরি করত না এবং এই বিপ্লবী সাহিত্যিক গুলোকেও আমরা পেতাম না।
ধরুন যদি ৭১ সংগঠিত না হত,অথবা বসন্তের ২১ শে ফেব্রুয়ারী যদি না ঘটত,, তাহলে আমরা কি জহির রায়হান কে পেতাম?
তার " আরেক ফাল্গুন" " বরফ গলা নদী " অথবা "শেষ বিকেলের মেয়ে"?
হয়ত না।
এর পরের কোন বিপ্লব কি এদেশে কোন সাহিত্য সৃষ্টি করতে পেরেছে অথবা কোন বিপ্লবী সাহিত্যিক যে কিনা হাজার বিল্পবীর মনে দাগ কেটে যেতে পেরেছে?
১৯ জুলাই ২০১২,, ওই দিনটি তে বাংলা সাহিত্যের যে অন্ধকার যুগের যে সূচনা হয়েছিল,সেটা দিনকে দিন প্রগাঢ় অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।হুমায়ুন আহমেদ বেচে থাকলে,, দেশের স্বার্থে আমরা হয়ত হাজার অনুপ্রাণিত বিপ্লবী পেতাম।

Address

8 No Hall Room, Cumilla Bar Association Building
Comilla

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv Nasrul Hasan Apu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Adv Nasrul Hasan Apu:

Share