20/02/2026
ড. রহমান মানে শফিকুর রহমান অথবা তারেক রহমান নন তিনি মিস্টার খলিলুর রহমান।আশ্চর্যের বিষয় হল, এত বড় নিয়োগ হয়ে গেল, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে এত কাদা ছোড়াছুড়ি হল অথচ নির্বাচনের পরেও একজন দ্বৈত নাগরিককে ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হল! যোগ্য মানুষের কি এত ই অভাব ছিল! এই নিয়োগ নিয়ে কিন্ত তিন দল ই নীরব।কারো কোন প্রতিবাদ নেই।
মিস্টার ড.রহমান শপথ গ্রহনের পর ই বলেছেন তিনি "বাংলাদেশ ফার্স্ট " নীতিতে বিশ্বাসী কিন্তু বিগত ১৮ মাসের তার কর্মকাণ্ড এবং তৎপরতা প্রমান করে ঠিক উলটো যা হল " আমেরিকা ফার্স্ট " নীতি।
ফ্লেচার স্কুল অব ল এন্ড ডিপ্লোম্যাসি এর গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ে আমলা পর্যায়ে ২৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDCs) পক্ষে তার ওকালতি এবং ২০০১ সালের ব্রাসেলস কনফারেন্সে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার রূপরেখা প্রণয়নে তার ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্রে একজন অপরিহার্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করে ।
২০২৫ এর জানুয়ারি তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অ্যালিসন হুকার এবং পল কাপুরের সাথে বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ নীতিগতভাবে গাজায় মোতায়েনযোগ্য একটি "আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে" (International Stabilization Force) যোগ দিতে আগ্রহী । এই প্রস্তাবটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার অংশ ছিল, যা অনেক মুসলিম দেশ এবং ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিল ।এই ঘোষণার সাথে সাথেই বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও নীতিগত সমর্থন যেখানে প্রশ্নাতীত, সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এমন একটি বাহিনীতে অংশগ্রহণের আগ্রহকে অনেকে "ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র" হিসেবে চিহ্নিত করেন
ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে দ্বিতীয় প্রধান বিতর্কটি ছিল "আরাকান করিডোর" বা একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের প্রস্তাব। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি করিডোর স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল, যা চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রাখাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অভিযোগ রয়েছে যে, ড. রহমান এই করিডোর স্থাপনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলে এবং সরকারের ভেতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এই করিডোর স্থাপনের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ তীব্র আপত্তি জানায়। তাদের আশঙ্কা ছিল যে, একবার এ ধরনের পথ তৈরি হলে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশটিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে নিয়ে যাবে। ড. খলিলুর রহমান এই করিডোরকে কেবল একটি "মানবিক উদ্যোগ" হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও, বিশ্লেষকরা একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি"র (IPS) একটি অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা "Agreement on BD-US Reciprocal Trade (ART)" নামে পরিচিত। এই চুক্তিটি ড. খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক দক্ষতার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে প্রচার করা হলেও, এর ভেতরের শর্তগুলো ছিল চরম বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে একপেশে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য কিছু সুবিধার কথা বলা হলেও, তার বিনিময়ে বাংলাদেশকে এমন সব শর্ত মেনে নিতে হয়েছে যা দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নীতিকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।
তার সময়কালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ যে কোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।২০২৫ সালের জুনে মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের যে ফোনালাপ হয়, তার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল খলিলুর রহমানের।
তিনি এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করেন যেখানে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রধান্য পায়। "Acquisition and Cross-Servicing Agreement" (ACSA) এবং "General Security of Military Information Agreement" (GSOMIA) এর মতো চুক্তিগুলো স্বাক্ষরের জন্য তিনি পর্দার আড়ালে ব্যাপক তৎপরতা চালান।
ড. খলিলুর রহমানের এই অতি-উদ্যমী মার্কিনপ্রীতি সামরিক বাহিনীর অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যখন পেশাদারিত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন ড. রহমানের সাথে তার বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয় যে, ড. রহমান চেয়েছিলেন সামরিক কেনাকাটায় ওয়াশিংটনের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে, যা সেনাবাহিনীর প্রচলিত বহুমুখী সরবরাহ কৌশলের (Diversified Supply Chain) পরিপন্থী ছিল। ( চলমান)