25/02/2022
Copy Post:
সিনারিও ১ঃ
মি. এক্স ৫ বছর আগে গাড়ি কিনেছে । কেনার সময় ভুয়া TIN নাম্বার দিয়েছে। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু গতবছর BRTA সার্ভার ইনটিগ্রেশন করার পর ৫ লাখের মত গাড়ি ধরা পড়েছে। এগুলো ভুয়া TIN দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা/ অথবা রিটার্নে দেখানোই হয় নি।
এখন রেজিস্ট্রেশন নবায়ন/ ফিটনেস সনদ নিতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ছে। আর করফাঁকির জন্য বিগত বছরগুলোর জরিমানা সহ কর পরিশোধ করতে হবে।
সিনারিও ২ঃ
মি. Y সন্চয়পত্র কিনেছিল ৫০ লাখ টাকার। ১০ লাখ টাকারটা শো করেনি রিটার্নে। আর ৪০ লাখ টাকারটা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এনক্যাশ করেছে। সার্ভার ইনটিগ্রেশনের কারণে ২টা তথ্যই ধরা পড়েছে। এখন ৯৩ ধারায় পুনঃউন্মোচিত হল তার ফাইল। লুকোনোর সুযোগ নেই।
সিনারিও ৩ঃ
একজন করদাতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হওয়ার কারণে সে পূর্বের সব কর দিয়ে আর সম্পদ দেখিয়ে ফাইল ক্লিন করতে চাচ্ছিল। বাট তখন সেটা আর সম্ভব না।
সিনারিও ৪ঃ
২০২৪ সাল। ১০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট শো করলেন না রিটার্নে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট লুকোনোর সুযোগ নেই। করদাতার / রিয়েল স্টেট কোম্পানির ট্রানসেকশনেই ধরা পড়বে। এবং ব্যাংক সার্চ তখন ম্যানুয়ালি করতে হবে না। আর এলার্ট জোনে চলে যাবে ফাইল এবং অটোমেটিক আয়কর বিভাগের ফিল্ড অডিট লিস্টে আসবে।
অলরেডি ক্রেডিট কার্ড সার্ভার, সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স সার্ভার ইনটিগ্রেশনের প্রস্তাব আছে।
এখন লোকবল কম থাকায় ফিল্ড অডিট/ আয়কর অধ্যাদেশের ৯৩ ধারা য় সব ফাইল scrutinised হয় না। বিদ্যমান ৩১ টি জোনের বিপরীতে অনেকগুলো নতুন জোন হওয়ার পথে। কয়েক ধাপে হবে।
স্বাভাবিকভাবেই তখন scrutinise অনেক বেশি হবে।
শুরু থেকে ফাইলে ঝামেলা করে রাখলে পরে সেটা পরিবর্তন করা অনেক কঠিন। আর এখনকার ব্যবস্থা করবান্ধব। সামনে এই সিস্টেম নেক্সট ফেইজে যাবে।যখন শুধু TIN নাম্বার দিয়ে বিদ্যমান সেবাসমূহ পাওয়া যাবে না। আয়কর রিটার্ন স্লিপ/ ট্যাক্স সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক হবে।
কর বিভাগ সম্প্রসারণ, বিসিএস কর ক্যাডার এবং কর পরিদর্শক নিয়োগ বৃদ্ধি- এগুলোর উদ্দেশ্য ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। আর সেটা হল অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি। এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেন্জ মোকাবেলায় যেটার বিকল্প নেই।
তাই এখন থেকে ফাইল ক্লিয়ার রাখুন। আর নিজের রিটার্ন নিজেই ফিলআপ করুন। আর না পারলে ভালো উকিলের সাহায্য নিন।সেক্ষেত্রে উদাসীন থাকবেন না। দায়টা আপনার।
আর নিজের ব্যাংক একাউন্টে অন্য কারও লেনদেন করবেন না।
আসিফুর রহমান
সহকারী কর কমিশনার
বিসিএস ব্যাচ-৩৮