The Advocate 's Desk

The Advocate 's Desk Welcome to The advocate 's desk , where we provide expert legal advice and representation. Whether y

15/02/2026

বিশেষ বিবাহ (Special Marriage) কি?

বিশেষ বিবাহ হল এমন বিবাহ যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ব্যতিরেকে যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথ ভাবে পালন করা হয় এবং সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ অনুসরণ করা হয়।

কারা বিয়ে করতে পারবে এই আইনের অধীনেঃ

১. যারা কোনো ধর্মের অনুসারী নয়।

২. ভিন্ন ধর্মের দু’জন ব্যক্তি যারা ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে।

৩. আইনে উল্লেখিত আট ধর্ম ছাড়া অন্য যে কোনো ধর্মের ব্যক্তিরা ধর্ম ত্যগ না করেই এই বিয়ের সুবিধা নিতে পারে। যেমনঃ ব্রাহ্মরা।

৪. হিন্দু ধর্মের ভিন্ন বর্ণের দু’জন ব্যক্তি ধর্ম ত্যাগ না করেই বিশেষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

৫. ভিন্ন ধর্মের দু’জন ব্যক্তি জদি তারা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন এই চার ধর্মের যেকোনো দুটির অনুসারী হয় তবে ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা ছাড়াই তা করতে পারে।

এই আইনের অধীণে বিয়ের নিয়ম:

১. রেজিস্ট্রার: বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত রেজিস্ট্রার রয়েছে।

২. নোটিশ: বিয়ের দুই পক্ষের মধ্যে যে কোনো একটি পক্ষ রেজিস্ট্রারের কাছে ১৪ দিন আগে বিয়ের নোটিশ পাঠাবে। যদি না এই সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি করে থাকে তবেই বিয়ে সম্পন্ন করা যাবে।

এই আইনের অধীণে বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি সুতরাং সম্মতি অত্যন্ত জরুরী। বিয়ের দুই পক্ষ রেজিস্ট্রার ও তিনজন সাক্ষীর সামনে “আমি ‘ক’ কে আইনত স্ত্রী/ স্বামী হিসেবে গ্রহণ করছি”- এই রকম ঘোষণা দেবে। এই ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মে যেমন মহিলা সাক্ষী হলে হবেনা, কিংবা দুইজন মহিলা মিলে একজন পুরুষের সমান এই ধরণের বিধান নেই।

বিয়ে বিচ্ছেদ:
এই আইনের অধীনে বিয়ে করলে বিয়ে বিচ্ছেদের সময় ১৮৬৯ সালের “ডিভোর্স আইন” দ্বারা বিয়ে বিচ্ছেদ সম্পাদন করতে হয়।

15/02/2026

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (Nari O Shishu Nirjatan Daman Ain, 2000) বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, সহিংসতা ও অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনের জন্য প্রণীত হয়েছে। ২০২০ সালে এই আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়, যা নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আইনের প্রয়োগকে আরও কার্যকর করা।

# # # সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু:
১. **ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড**:
- ২০২০ সালের সংশোধনীতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
- এই সংশোধনীটি এসেছিল নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি এবং গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে।

২. **ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা**:
- সংশোধনীতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- মামলার তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩. **নারী ও শিশু নির্যাতনের সংজ্ঞা প্রসারিত**:
- সংশোধনীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, সাইবার অপরাধ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নির্যাতনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের হয়রানি বা নির্যাতনের শাস্তি কঠোর করা হয়েছে।

৪. **শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি**:
- শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে।
- শিশু পর্নোগ্রাফি ও শিশুদের যৌন শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

৫. **নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা ও সহায়তা**:
- সংশোধনীতে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- শিকার ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানসিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৬. **সাক্ষী সুরক্ষা**:
- মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশোধনীতে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
- সাক্ষীদের ভয়ভীতি বা হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭. **আইনের প্রয়োগে জবাবদিহিতা**:
- সংশোধনীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

# # # সংশোধনীর প্রেক্ষাপট:
২০২০ সালের সংশোধনীটি এসেছিল বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি এবং গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে সরকার এই সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আইনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

# # # সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ:
যদিও সংশোধনীটি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে এর প্রয়োগ নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন:
- মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও জনবলের অভাব।
- সাক্ষী সুরক্ষা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব।
- আইনের প্রয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্ভাবনা।

সর্বোপরি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০২০ সালের সংশোধনী নারী ও শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

17/02/2025

মূল্যবান সার্টিফিকেট হারালে কি করবেন?

Certificate আপনার বহু মূল্যবান, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট খানা হারানো গেলে নিশ্চয় পরবেন এক মহা ঝামেলায়! তাই চলুন জেনে নিই সার্টিফিকেট তোলার ধাপ গুলো।

১। প্রথমেই আপনার উচিত হবে থানায় একটি জিডি করে ফেলা। যা আপনার সার্টিফিকেট ফিরে পেতে সহায়তা করবে। দুই কপি আবেদনের মূল কপি থানায় জমা দিতে হবে এবং ফটোকপি, জিডি নম্বর ও সিলমোহর আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হবে।

২। থানায় জিডি করার পর আপনাকে জিডির কপি নিয়ে পত্রিকায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে এবং বিজ্ঞাপনে জিডির নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ২০ শব্দের বিজ্ঞাপনে খরচ হবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো। আর যদি আপনি জরুরি ফিসহ বিজ্ঞাপন দিতে চান, তাহলে তা তিনদিনের মধ্যে আবেদনকারীকে দিয়ে দেয়া হবে।

৩। আরও যা যা আপনাদের অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। যেমন- সনদপত্র, নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্রের ক্ষেত্রে পরীক্ষার নাম, শাখা, ব্যাংক ড্রাফট হিসেবে জমা দিতে হবে।

৪। আপনাকে থানায় করা জিডির কপি, পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কাটিং, প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত কপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগে আপনাকে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে বিনা মূল্যের আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করে, আবেদনপত্রটি ভালোভাবে পূরণ করতে হবে। নিয়মিত এবং অনিয়মিত প্রার্থীদের আবেদনের নীচে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষর ও সিলমোহর থাকতে হবে। আপনার সনদ তোলার নির্ধারিত আবেদনপত্রের সঙ্গে জিডি (সাধারণ ডায়েরী), মূল সনদ, প্রবশপত্র, নম্বরপত্র ইত্যাদি থাকতে হবে। ১৫ দিন পর তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনার সার্টিফিকেট পাঠানো হবে। তবে সচেতন থাকুন প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র বিষয়ে।

সরকারী খরচে আইনি সহায়তা কিভাবে পাবেন?সমাজের অধিকাংশ লোকেরই আইনি সহায়তার প্রয়োজন হয়। আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভা...
12/02/2025

সরকারী খরচে আইনি সহায়তা কিভাবে পাবেন?

সমাজের অধিকাংশ লোকেরই আইনি সহায়তার প্রয়োজন হয়। আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে অনেকেই আইনি ঝামেলায় জড়াতে চান না। সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তার কথা বিবেচনা করে সরকার চালু করেছে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা সেবা। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০’ এই আইনের আওতায় প্রণীত হয়েছে বিধিমালা। এই বিধিমালাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা।

কারা আইনি সহায়তা পাবেন :
১। অসচ্ছল ব্যক্তি, যাঁর বার্ষিক গড় আয় ৫০ হাজার টাকার উর্ধ্বে নয়

২। মুক্তিযোদ্ধা (কর্মহীন), যার বার্ষিক গড় আয় ৭৫ হাজার টাকার বেশি নয়

৩। ভিজিডি ও বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি

৪। পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশু

৫। দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু

৬। স্বামী-পরিত্যক্তা, অসচ্ছল, দুস্থ ও বিধবা নারী

৭। উপার্জনে অক্ষম ও সহায়-সম্বলহীন প্রতিবন্ধী নারী

৮। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম ব্যক্তি

৯। আদালত কর্তৃক ঘোষিত ‘অসচ্ছল’ ব্যক্তি

১০। জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘অসচ্ছল’ ব্যক্তি

কোথায় পাবেন :
দেশের ৬৪টি জেলায় এই প্রতিষ্ঠানটির কমিটি রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ছাড়াও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে এই সংস্থার কমিটি রয়েছে। যারা প্রকৃত পক্ষে দরিদ্র বা সহায়-সম্বলহীন, তারাই কেবল এ সহায়তা পাবেন।

আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্র সমূহ :
এই সংস্থাটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সহায়তা দিয়ে থাকে। যে সব মামলায় সহায়তা দেওয়া হয় তা নিম্নরুপ:

১। স্বামী তার স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে।

২। স্ত্রীকে শারীরিক নিযার্তন করলে।

৩। যৌতুকের দাবি করলে ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন করলে।

৪। কোন নারী অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হলে।

৫। ধর্ষণ, পাচার ও অপহরণের শিকার হলে।

৬। সন্তানের অভিভাবকত্ব না মানলে।

৭। সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে।

৮। দেনমোহর আদায় করতে না পারলে।

৯। দখলকৃত সম্পত্তি পাওয়ার জন্য।

১০। দলিল বাতিল ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য।

১১। চুক্তিসংক্রান্ত ও ঘোষণামূলক মামলা।

১২। সম্পত্তি বন্টন বা বাঁটোয়ারা সংক্রান্ত মামলা।

উপরের প্রত্যেকটি মামলার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়।

আবেদনের নিয়মাবলী :
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা আদালতে এই সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয় থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সরাসরি আবেদন করা যাবে। জেলখানায় অবস্থিত কারা কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও আবেদনপত্র পাওয়া যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) অথবা জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা ও উপজেলা কার্যালয়েও আবেদন ফরম পাওয়া যায়। এই আবেদন ফরম পূরণ করে জেলা আইনগত সহায়তা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এ আবেদন যাচাইয়ের পর আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

08/02/2025

বিচার বিভাগের সংস্কার জরুরী হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নিচে কিছু প্রধান কারণ উল্লেখ করা হলো:
১. **বিচার প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি**
- **মামলার জট:** অনেক দেশে বিচার বিভাগে মামলার জট দেখা যায়, যা বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। সংস্কারের মাধ্যমে মামলার জট কমিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করা যায়।
- **দ্রুত বিচার:** দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্কারের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও দ্রুতগামী করা সম্ভব।
২. **স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা**
- **দুর্নীতি রোধ:** বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ করতে সংস্কার প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
- **সুষ্ঠু প্রশাসন:** বিচার বিভাগের সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করতে সংস্কার প্রয়োজন। এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
৩. **আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার**
- **ডিজিটালাইজেশন:** আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিচার প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করা যায়, যা মামলার ব্যবস্থাপনাকে সহজতর করে।
- **ই-ফাইলিং:** ই-ফাইলিং ও অনলাইন সিস্টেম চালু করে মামলার নথিপত্র ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করা যায়।
৪. **আইনের সমতা ও ন্যায়বিচার**
- **সকলের জন্য ন্যায়বিচার:** বিচার বিভাগের সংস্কারের মাধ্যমে সকলের জন্য সমানভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ।
- **আইনের শাসন:** আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বিচার বিভাগের সংস্কার অপরিহার্য। এটি একটি দেশের গণতন্ত্র ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক।
৫. **বিচারকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি**
- **প্রশিক্ষণ:** বিচারকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। এটি বিচার প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নে সহায়ক।
- **পেশাদারিত্ব:** বিচারকদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করে বিচার বিভাগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যায়।
৬. **আইনী সংস্কার**
- **পুরনো আইন আধুনিকীকরণ:** অনেক দেশে পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক আইন রয়েছে, যা আধুনিক সমাজের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। আইনী সংস্কারের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা যায়।
- **আইনের সহজীকরণ:** আইনকে সহজবোধ্য ও প্রযোজ্য করে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও সুগম করা যায়।
৭. **জনগণের আস্থা বৃদ্ধি**
- **আস্থা প্রতিষ্ঠা:** বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে সংস্কার প্রয়োজন। এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
- **ন্যায়বিচারের প্রতীক:** বিচার বিভাগকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সংস্কার প্রয়োজন।
৮. **আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ**
- **মানবাধিকার রক্ষা:** আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচার বিভাগের সংস্কার করা যায়। এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি করে।
- **আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:** আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তা নিয়ে বিচার বিভাগের সংস্কার করা যায়।

বিচার বিভাগের সংস্কার একটি দেশের ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপরিহার্য। এটি নাগরিকদের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতি রোধ, ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিচার বিভাগের সংস্কার একটি জরুরী ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

07/02/2025

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, বাণিজ্য, ব্যবহার এবং পাচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনটি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। নিচে এই আইনের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

# # # আইনের উদ্দেশ্য:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, বাণিজ্য, ব্যবহার ও পাচার রোধ করা।
- মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
- মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ কার্যকলাপের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

# # # আইনের প্রধান ধারা ও বিধান:

# # # # ১. মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞা:
এই আইনে মাদকদ্রব্য বলতে এমন সব পদার্থকে বোঝায় যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং যার ব্যবহার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ।

# # # # ২. মাদকদ্রব্যের শ্রেণীবিভাগ:
- নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য: যেমন হেরোইন, কোকেন, গাঁজা ইত্যাদি।
- নিয়ন্ত্রিত মাদকদ্রব্য: যেমন কিছু ওষুধ যা চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় কিন্তু অপব্যবহার করা হলে ক্ষতিকর।

# # # # ৩. মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, বাণিজ্য ও পাচার:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, বাণিজ্য, পরিবহন, সরবরাহ, বিক্রয় বা পাচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- মাদকদ্রব্যের সাথে জড়িত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

# # # # ৪. মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার:
- মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা অবৈধ ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

# # # # ৫. মাদকদ্রব্যের অবৈধ দখল:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ দখল বা রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

# # # # ৬. মাদকদ্রব্যের অবৈধ আমদানি ও রপ্তানি:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ আমদানি বা রপ্তানি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- এই অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

# # # # ৭. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য প্ররোচনা:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য অন্যকে প্ররোচনা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # # ৮. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জায়গা প্রদান:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জায়গা বা সুবিধা প্রদান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # # ৯. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রদান:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রদান বা অর্থায়ন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # # ১০. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি বা প্রতারণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # # ১১. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি বা প্রতারণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # # ১২. মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহারের জন্য জালিয়াতি বা প্রতারণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

# # # শাস্তির ব্যবস্থা:
- মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, বাণিজ্য, পাচার ও ব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
- অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ইত্যাদি।

# # # মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন:
- মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
- সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

# # # জনসচেতনতা বৃদ্ধি:
- মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

# # # আইনের প্রয়োগ:
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

থানায় মামলা নিতে না চাইলে যা করবেন:ফরিয়াদী আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পর কেউ থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামল...
06/02/2025

থানায় মামলা নিতে না চাইলে যা করবেন:

ফরিয়াদী আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পর কেউ থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবে প্রায়ই এমন অভিযোগ শোনা যায় যে, পুলিশ থানায় মামলা নিতে চায় না।

যেভাবে মামলা করবেন :
কোন কারণে পুলিশ যদি কখনো থানায় মামলা নিতে না চায়, তাহলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিচারিক হাকিমের আদালতে নালিশি অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়।

তবে সংঘটিত অপরাধ আমল অযোগ্য হলে সবসময়ই সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশি মামলা দায়ের করতে হয়। আমল অযোগ্য অপরাধ হলো সেই সমস্ত অপরাধ যে সকল অপরাধ সংঘটনের দরুণ পুলিশ বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না এবং এ সকল অপরাধ বিষয়ে তদন্ত করতেও সংশ্লিষ্ট বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়।

কোনটি আমলযোগ্য এবং কোনটি অআমলঅযোগ্য অপরাধ তা ফৌজদারী কার্যবিধির দ্বিতীয় তফশীলের তৃতীয় কলামে বিধৃত করা রয়েছে।

ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী নালিশ মানে হলো কোন অপরাধ সংঘটন বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নিমিত্তে মৌখিক বা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিচারিক হাকিমের নিকট আবেদন জানানো।

যদি কোন আমলঅযোগ্য অপরাধ সংঘটনের খবর কেউ সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে যায় তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (O.C) বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (G.D) লিপিবদ্ধ করে অভিযোগসহ অভিযোগকারীকে মহানগরের ক্ষেত্রে মুখ্য মহানগর হাকিম বা মহানগর হাকিম এবং মহানগরের বাইরের এলাকার ক্ষেত্রে মুখ্য বিচারিক হাকিম বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

এক্ষেত্রে থানায় না যেয়ে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যেয়েও লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করা যায়। অথবা পুলিশ যদি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পর থানায় এজাহার নিতে অস্বীকৃতি জানায় সেক্ষেত্রেও সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশি মামলা দায়ের করা যায়।

ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতিঃ
ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে ঘটনার আদ্যোপান্ত আদালতে খুলে বলে ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আবেদন করতে হবে। তারপর দায়েরকৃত অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে কি-না তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীকে এবং প্রয়োজন মনে করলে ঘটনার কোন সাক্ষী থাকলে তাঁদেরকে শপথের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষার সারসংক্ষেপ লিখে তিনি নিজে, অভিযোগকারীর এবং কোন সাক্ষী থাকলে তাঁর স্বাক্ষর নিবেন। তবে কেউ দরখাস্ত আকারে ঘটনার পূর্ণ বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে প্রতিকার দাবী করলে এরূপ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হলে বা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগটিকে একটি সি.আর কেস নম্বর (Complaint Register case number) বা সি.আর.পি কেস নম্বর (Complaint Register Petition case number) দিয়ে নথিভুক্ত করবেন। এজন্য একে সি.আর মামলাও বলে।

তবে শপথ পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট যদি অপরাধ সংঘটন বিষয়ে অভিযোগকারীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হন অথবা যদি অভিযোগকারী মামলার ভিত্তি (Prima facie) প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তবে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে না নিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দিতে পারেন। নালিশি পিটিশনটি খারিজ হলে অভিযোগকারী খারিজাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে দায়রা জজ আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে উক্তাদেশ ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন।

অভিযোগ আমলে নেয়ার ফলাফল ও তদন্তে প্রেরণঃ
অভিযোগটি আমলে নিলে ম্যাজিস্ট্রেট বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে সমন জারী করে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারেন অথবা আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিতে থানাকে নির্দেশ দিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে আদেশপ্রাপ্ত হলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগটি থানায় এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে মামলার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করবে। আবার অআমলযোগ্য অপরাধের বেলায় বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারেন।

এক্ষেত্রেও আদিষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযোগটি বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে এবং তদন্ত কালীন সময়ে আমলযোগ্য অপরাধ তদন্ত করার মতোই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে। অভিযোগের তদন্ত শেষে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে কিংবা অভিযোগের কোন ভিত্তি খুঁজে না পেলে পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী নারাজি দিতে পারেন অর্থাৎ পুলিশ প্রতিবেদনে তিনি কেন সন্তুষ্ট নন আদালতে সে কারণ দর্শনীয় অভিযোগটির পুনঃ তদন্তের আবেদন করতে পারেন।

তবে প্রয়োজন মনে করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অথবা অধিকতর তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজে বা তাঁর অধস্তন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন। অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও তদন্ত কার্যে স¤পৃক্ত করতে পারেন।

মনে রাখা জরুরিঃ
নালিশি মামলার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, এক্ষেত্রে রাষ্ট্র প্রথম থেকেই পক্ষ হয়ে মামলা শুরু করে না। যেমনটা থানায় এজাহার রুজুর মাধ্যমে মামলা দায়ের করলে রাষ্ট্র নিজে পক্ষভুক্ত হয়ে পরবর্তীতে মামলা পরিচালনা করে। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেয়ার আদেশ দিলে রাষ্ট্র তখন মামলার পক্ষ হয়ে পরবর্তীতে মামলা পরিচালনা করে। তাই নালিশি মামলার ক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ দায়ের করে পরবর্তী শুনানির দিন যদি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির না হন কিংবা ঘটনা তদন্তান্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হয় তবে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন। অভিযোগকারী চাইলে এ ধরনের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে উক্ত আদেশ ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। নালিশি মামলা সাধারণত ক্ষতিগস্ত ব্যক্তিই রুজু করতে পারেন।

শেষ কথাঃ
কাজেই থানায় কখনও মামলা নিতে না চাইলে বিচলিত হয়ে নিজেকে অসহায় ভাবার কোন কারণ নেই। আইনানুযায়ী যে কেউই এরকম পরিস্থিতিতে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে নালিশি মামলা দায়ের করে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। তবে আমাদের দেশের বাস্তবতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থীরা থানায় আইনের আশ্রয় না পেলে পুলিশকে টপকে অজ্ঞতা, দৈনতা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার দরুণ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। জনগণের ন্যায় বিচার পাবার অধিকার নিশ্চিত করতে তাই এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের আইনগত সহায়তা প্রদান কর্মসূচীও ব্যাপক পরিসরে বাড়ানো উচিত। অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচারের জন্য আসামীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যাবশ্যক। পক্ষপাতহীন একটি তদন্ত রিপোর্ট একদিকে যেমন মামলাটিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিতে পারে ঠিক তেমনি তদন্ত প্রক্রিয়া আসামীদের দ্বারা কোনভাবে প্রভাবিত হলে তা পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়েও দিতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা রুজু করে এবং ঘটনা তদন্তের দায়ভার পুলিশের ওপরই বর্তায়। অভিযুক্ত আসামীদের অপরাধ প্রমাণে প্রশ্নাতীত তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে পুলিশে লোকবল, সময়ের, অবকাঠামোর, আনুষাঙ্গিক দ্রব্যাদির যেমন অভাব রয়েছে তেমনি কিছু পুলিশের কাছ থেকে অপরাধ তদন্তে যে সব সময় যথেষ্ট দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা ও কর্ম উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়না একথাও নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেন না। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করার অভিযোগ অনেক পুরোনো। এ ধরণের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আসামীদের সাথে পুলিশের যোগসাজশে কিংবা রাজনৈতিক, সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অথবা অনৈতিক আর্থিক লেনদেন মাধ্যমে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পুলিশকে প্রভাবিত করে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার ব্যবস্থা করে। অপরাধ সংঘটনের পর মামলা দায়ের করা হলে কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে আদেশ প্রাপ্ত হলে পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করতে বাধ্য। পুলিশের দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ স¤পন্ন করা। তবে ঘটনা বা অপরাধের মাত্রার ওপর নির্ভর করে ক্ষেত্র বিশেষে ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে পুলিশের সময় চেয়ে করা আবেদন আমলে নিয়ে তদন্তের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারেন। আবার তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলও করতে পারেন।

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। এখানে একটি গাইডলাইন দেওয়া হলো:পরীক্...
06/02/2025

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। এখানে একটি গাইডলাইন দেওয়া হলো:
পরীক্ষার ধাপ:

বার কাউন্সিল পরীক্ষা সাধারণত ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়:
* MCQ (Multiple Choice Questions)
* লিখিত পরীক্ষা
* মৌখিক পরীক্ষা
প্রস্তুতি:

* সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা: বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিলেবাসটি ভালোভাবে দেখে নিন। কোন কোন বিষয়ের উপর প্রশ্ন আসবে, তা জেনে প্ল্যান তৈরি করুন।
* সময়সূচী তৈরি: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ করুন। রুটিন করে পড়লে সিলেবাস শেষ করা সহজ হবে।
* বেসিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান: আইনের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফল করা যায়।
* নিয়মিত অনুশীলন: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ও মডেল টেস্ট নিয়মিত সমাধান করুন। এতে পরীক্ষার ধরণ সম্পর্কে ধারণা হবে এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন।
* রিভিশন: পরীক্ষার আগে একবার পুরো সিলেবাস রিভিশন করে নিন।

কিছু টিপস:

* সঠিক বই নির্বাচন: ভালো মানের বই ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করুন।
* নোট তৈরি: পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে রাখুন। এতে রিভিশনের সময় সুবিধা হবে।
* গ্রুপ স্টাডি: বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে পড়াশোনা করুন। এতে একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
* সুস্থ থাকুন: পরীক্ষার সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।

সহায়ক ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠান:

* বার কাউন্সিল ওয়েবসাইট: বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি, সিলেবাস ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়।


মনে রাখবেন:

* আত্মবিশ্বাস: নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। নিয়মিত পড়াশোনা করলে অবশ্যই ভালো ফল করতে পারবেন।
* ধৈর্য্য: প্রস্তুতি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকুন।
* সময় ব্যবস্থাপনা: পরীক্ষার সময় সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
এই গাইডলাইনটি অনুসরণ করে আপনি বার কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। শুভ কামনা!

05/02/2025

কেন এবং কিভাবে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করবেন?

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৫ ধারা অনুযায়ী নিম্মোক্ত ৫টি কারণে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। যেমনঃ-

১. বিবাহ বিচ্ছেদ
২. দাম্পত্য সর্ম্পক পুনরুদ্ধার
৩. মোহরানা
৪. ভরণপোষণ
৫. সন্তানের অভিভাকত্ব ও তত্ত্বাবধান

কোন আদালতে মামলা দায়ের করবেন?
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৬ ধারা অনুযায়ী;

১. নালিশের কারণটি যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হয়েছে

২. যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে মামলার পক্ষগণ বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন

তবে শর্ত হচ্ছে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর অথবা ভরণপোষণের মামলার ক্ষেত্রে যে এলাকায় স্ত্রী সাধারণত বসবাস করছে সেই এলাকার আদালতেও মামলা করা যাবে৷

মামলার আরজিতে কি কি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে?
আরজিতে বিরোধ সম্মন্ধীয় বিষয়ের বিস্তারিত তথ্যসহ একটি তফসিল দিবে হবে যেখানে আরজির সমর্থনে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগনের সাম ও ঠিকানা অর্ন্তভূক্ত থাকবে৷

তবে শর্ত থাকে যে,বাদী মামলা প্রমানের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতিক্রমে মামলার যে কোন স্তরে যে কোন সাক্ষী ডাকতে পারে যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য নেয়া উপযুক্ত বলে মনে করেন৷

এছাড়া মামলার আরজিতে যে বিষয়গুলির উল্লেখ থাকতে হবে-
১. যে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে সে আদালতের নাম:

২. বাদীর নাম, বর্ণণা ও বাসস্থান

৩. বিবাদীর নাম, বর্ণণা ও বাসস্থান

৪. বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা অপ্রকৃতিস্থ হলে সে সর্ম্পকিত বর্ণণা

৫. নালিশের কারণ সর্ম্পকিত তথ্য সহ, যে স্থানে ও যে তারিখে কারণের উদ্ভব হয়েছিলো তার বিবরণ৷

৬. সংশ্লিষ্ট আদালতের যে মামলাটি পরিচালনার এখতিয়ার আছে সে সর্ম্পকিত তথ্য৷

৭. বাদীর প্রার্থিত প্রতিকার৷

৮. বাদী তার দাবীর সমর্থনে যদি কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে থাকে তবে আরজি উত্থাপনের সময় দলিলটি আদালতে পেশ করতে হবে৷ দলিলটির অবিকল ফটোকৃত প্রতিলিপি আরজির সারথ নথিভূক্তির জন্য দিতে হবে৷

৯. বাদী তার দাবীর সমর্থনে এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে না থাকে সেক্ষেত্রে দলিলটি কার দখলে বা আয়ত্বাধীনে আছে সে বিষয়টি উল্লেখকরত আরজি দাখিল করতে হবে৷

১০. মামলার বিবাদীগনের উপর জারীর জন্য বিবাদীগণের সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক তপসিলসহ আরজির সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং দলিলের তালিকা দ্বিগুণ পরিমাণ আরজির সাথে থাকবে৷

যে সকল কারনে আরজি অগ্রাহ্য বা নাকচ হতে পারে
১. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৬ এর ৭ উপধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে আরজির সাথে তপসিল দেয়া হয়নি৷

২. যেক্ষেত্রে সমন জারীর খরচ এবং নোটিশের জন্য পোস্টাল খরচ পরিশোধ করা হয়নি৷

৩. যেক্ষেত্রে ২২ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত কোর্ট ফি দেয়া হয়নি৷

রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
মামলা দায়েরর পর বিবাদী পক্ষকে নোটিশ/সমন প্রদান, বিবাদী পক্ষের জবাব দেবার পর মামলাটি বিচারের জন্য ধার্য্য হয়। পারিবারিক আদালত উপযুক্ত মনে করলে এই অধ্যাদেশের অধীনে মামলার সম্পূর্ণ বিচার কার্যক্রম বা যে কোন অংশে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত করতে পারেন৷

যে বিষয়সমূহ নিয়ে পারিবারিক আদালতে বিচারকার্য পরিচালিত হয় সেই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে ভিন্ন প্রকৃতির এবং সেই ভিন্ন প্রকৃতির কারণে পারিবারিক আদালতের বিচার ভিন্ন অবস্থায় হতে পারে৷ স্বামীর সাথে স্ত্রী, স্ত্রীর সাথে স্বামীর বা সন্তানের সাথে পিতামাতার বিরোধ অনেক সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা বিব্রতকর হয়ে পড়ে৷ এ সমস্ত কারণে আইন এই মামলা রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচারের ব্যবস্থা রেখেছে৷

আপোস বা পুনর্মিলনের জন্য আদালত খাস কামরায় উভয় পক্ষকে বা যে-কোনো পক্ষকে ডেকে চেষ্টা করতে পারেন অথবা আদালত কোনো মহিলা সাক্ষীর সাক্ষ্য খাস কামরায় গ্রহণ করতে পারেন৷ আদালত নিজের ইচ্ছায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে বা খাস কামরায় বিচারানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারেন না৷ এজন্য আদালতকে উভয় পক্ষ কর্তৃক অনুরোধ করতে হবে৷ পক্ষগণ আদালতের কাছে আবেদন না করলে আদালত খাস কামরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন না৷

বিচার সমাপ্তি
সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করার পর রায় ঘোষণার পূর্বে পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে শেষ পর্যায়েও আপোষ মীমাংসার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷ যদি অনুরূপ আপোষ বা পুনর্মিলন সম্ভবপর না হয়, তা হলে আদালত তখনই অথবা ভবিষ্যতে অনধিক সাত দিনের মধ্যে যে-কোনো দিনে রায় ঘোষণা করবেন এবং ডিক্রি প্রদান করবেন৷

আপোষমূলক ডিক্রি
পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির দুটি পদ্ধতি আছে৷ প্রথমটি হচ্ছে আপোস, দ্বিতীয়টি বিচার৷ আপোস বা মীমাংসার মাধ্যমে কোনো বিরোধের সমাপ্তি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত আরোষ মীমাংসার আলোকে আদালত মামলার ডিক্রি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন৷

রায় লিপিবদ্ধকরণ
পারিবারিক আদালতের রায় বিচারক নিজেই লিখবেন৷ তার লেখার কোনো অসুবিধা হলে তিনি ডিক্টেশন দিবেন এবং অন্য কেউ লিখে দিবে৷ অতঃপর তিনি সেটি প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করবেন এবং তারিখসহ স্বাক্ষর করবেন৷ রায় আদালতের ভাষায় লিখতে হবে৷ আপিলযোগ্য সকল রায় ও আদেশসমূহের ক্ষেত্রে রায় লিপিবদ্ধকরণে পারিবারিক আদালতের বিচারের বিষয়বস্তু, সিদ্ধান্ত ও তার যুক্তি এবং কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে৷

আপিল
পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করা যাবে৷ জেলা জজ আদালত দেওয়ানি আদালত বিধায় দেওয়ানি কার্যবিধি আইন এই আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না৷
১. স্বামী যদি স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করেন বা উক্ত সম্পত্তির ওপর স্ত্রীর আইন সম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেন৷ এই অভিযোগে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করলে এই কারণে ব্যতীত অন্য কোনো কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না৷

২. মোহরানার টাকা ৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে না হলে আপিল চলবে না৷ আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় হতে এ সব কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে৷ তবে জেলা জজ যথেষ্ট কারণের জন্য উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেন৷

হঠাৎ আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হলে…কি করবেন?কেউ আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিলেন। আপনি মামলার খবর শু...
04/02/2025

হঠাৎ আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হলে…কি করবেন?

কেউ আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিলেন। আপনি মামলার খবর শুনে যতটা হতবাক, তার চেয়েও দুশ্চিন্তায় পড়লেন, কীভাবে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন। মনে রাখতে হবে, আপনি অপরাধী, না নিরপরাধ, সেটি মামলায় অভিযুক্ত হলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আইনের চোখে আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি নিরপরাধ। ধরুন, আপনার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হলো। আপনি দোষী বা নির্দোষ, সেটি পরে প্রমাণিত হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে আপনি যেন এ মামলা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে। যদি আপনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়, তাহলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। মামলার এজাহারে দেখতে হবে, অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য বা অযোগ্য কি না।

অভিযোগ তেমন গুরুতর না হলে এবং জামিনযোগ্য হলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। অনেক সময় অভিযোগ জামিন-অযোগ্য হলে অনেককে হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আগাম জামিন চাইতে দেখা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ আগাম জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এ মেয়াদের মধ্যেই নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিননামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করতে হবে। আদালতে প্রতি তারিখে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে আপনার জামিন বাতিল করে দিতে পারেন আদালত। জামিন সাধারণত পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগেই চাইতে হয়। তবে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করার আগে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে, তা প্রমাণের চেষ্টা করুন।তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে আপনার মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলি হবে। অভিযোগ গঠনের দিন আপনাকে হাজির হয়ে নতুন করে পূর্বশর্তে জামিন চাইতে হবে এবং জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। তখন আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

যদি এমন হয় যে আপনি জানতে পারলেন না, আপনার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার হয়েছে। পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেপ্তার করল। আপনাকে থানায় নিয়ে গেল। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। যদি রিমান্ড চায় পুলিশ, তাহলে আপনার আইনজীবীর উচিত হবে রিমান্ড বাতিলের জন্য আবেদন করা। যদি জামিন দেন আদালত, তাহলে একজন পরিচিত জামিনদারের জিম্মায় আপনার জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। যদি জামিন না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।

যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর মামলা) হয়, তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সিআর মামলায় অভিযুক্ত সব আসামি হাজির হলেই বিচারের জন্য মামলাটি বদলি করা হয়। আপনি কোনো কারণে হাজির না হলে আপনার জামিন বাতিল হতে পারে। পর্যায়ক্রমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হতে পারে। এতে হাজির না হলে আপনার মালামাল ক্রোকের আদেশ হতে পারে এবং আপনার অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি প্রচলিত আইনেই মামলা দায়ের করতে পারেন।

যদি আপনার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মোকদ্দমা হয়, তাহলে জবাব দাখিলের জন্য আদালত আপনাকে সমন পাঠাবেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দাখিল করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মোকদ্দমা ধারাবাহিকভাবে এগোবে.

Address

Chittagong
4000

Opening Hours

Monday 00:00 - 00:00
Tuesday 00:00 - 00:00
Wednesday 00:00 - 00:00
Thursday 00:00 - 00:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 00:00 - 00:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Advocate 's Desk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category