16/11/2024
আইনী প্রশ্ন- স্বামী পাঁচ বছর ধরে বিদেশে থাকেন। স্বামী বিদেশ থেকে আসতেও চান না, আবার তালাকও দিতে চান না। আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। আমার পরিবারর আমাকে দ্বিতীয় বিবাহ দিতে চাই, কিন্তু তালাক না দেওয়ার কারণে দিতে পারচ্ছেন না। এখন আমরা কী করতে পারি?
পরামর্শ- আপনাকে আপনার স্বামী ভরণপোষণ দেয় কিনা আপনি বলেননি। যা হোক, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দিয়ে থাকেন, তাহলে, ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কাজির মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনকে পাঠাতে হবে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১–এর ধারা ৭ অনুযায়ী স্ত্রী তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে চাইলে তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে, স্বামীকেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
আপনার স্বামী যেহেতু বিদেশে অবস্থান করছেন, তাই তাঁর বাংলাদেশের ঠিকানায় তালাকের নোটিশের একটি কপি পাঠালেই হবে। আইনের বিধান অনুযায়ী, তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরিত নোটিশের তারিখ থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ তালাক কার্যকর হবে। নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ দিনের ভেতর চেয়ারম্যান দুই পক্ষের পুনর্মিলনের উদ্দেশ্যে সালিসি পরিষদ গঠন করবেন। সালিসি পরিষদ পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আপনি যদি মনে করেন, আপনার স্বামীর সঙ্গে যে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে, তা উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তাহলে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই তালাকের নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে।
মনে রাখতে হবে যে, তালাক কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না।