17/08/2026
আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৮ সাল থেকে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর গণনা করা হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সংবাদে সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও বিস্তারিত সরকারি যুক্তি বা পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই নিচের কারণগুলোকে সরকারের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নয়, বরং সিদ্ধান্তটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক যুক্তি হিসেবে দেখা উচিত।
১. বাজেট ও বাস্তবায়নের সময়ের সমন্বয়
বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই—বর্ষা মৌসুমের মধ্যে। নতুন অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র, অর্থছাড় ও মাঠপর্যায়ের কাজ বর্ষার কারণে ধীর হতে পারে। এপ্রিল–মার্চ পদ্ধতিতে অর্থবছরের প্রথম দিকেই পরিকল্পনা ও ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২. ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সামঞ্জস্য
ভারতের অর্থবছরও ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ। বাংলাদেশের আমদানি, স্থলবন্দর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ঋণ, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন যৌথ প্রকল্পে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই অর্থবছর অনুসরণ করলে দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের বাজেট, হিসাব, তুলনামূলক পরিসংখ্যান ও অর্থায়নের সমন্বয় কিছুটা সহজ হতে পারে। ভারতের এপ্রিল–মার্চ অর্থবছরের উল্লেখ
৩. রাজস্ব পূর্বাভাস আরও বাস্তবসম্মত করা
এপ্রিলের আগে—
* আগের ক্যালেন্ডার বছরের ব্যবসায়িক ফলাফল;
* আমদানি–রপ্তানি পরিস্থিতি;
* আয়কর ও VAT সংগ্রহের প্রবণতা;
* মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতির তথ্য; এবং
* উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি
আরও পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়। ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যয়ের প্রাক্কলন তুলনামূলক বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
৪. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয়চাপ কমানো
বর্তমান ব্যবস্থায় অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক—এপ্রিল থেকে জুনে—ADP বাস্তবায়ন ও সরকারি ব্যয়ের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। এতে শেষ মুহূর্তে অর্থছাড়, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং জুনকেন্দ্রিক বিল পরিশোধের প্রবণতা তৈরি হয়। অর্থবছর পরিবর্তনের মাধ্যমে এ ব্যয়চক্র পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা থাকতে পারে।
৫. কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক
এপ্রিল–মে সময়ে বোরো ধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন বাজারে আসে। কৃষকের আয়, খাদ্য মজুত, সরকারি ক্রয়, ভর্তুকি এবং মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বছরের বাজেট বাস্তবায়ন শুরু করা যেতে পারে। তবে এটিকে সরকারি ঘোষিত কারণ হিসেবে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
৬. অর্থনৈতিক তথ্যের আন্তর্জাতিক তুলনা সহজ করা
এপ্রিল–মার্চ অর্থবছর অনুসরণকারী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে—
* সরকারি হিসাব;
* বাণিজ্য ও বিনিয়োগের তথ্য;
* দ্বিপক্ষীয় প্রকল্প;
* ঋণ ও অনুদান;
* উন্নয়ন সহযোগিতা; এবং
* আর্থিক প্রতিবেদন
তুলনা ও সমন্বয় কিছু ক্ষেত্রে সহজ হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্পষ্টতা
যদি ২০২৮–২৯ অর্থবছর সত্যিই ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত হয়, তাহলে বিদ্যমান ২০২৭–২৮ অর্থবছরের সঙ্গে এপ্রিল–জুন ২০২৮—এই তিন মাসের সময়গত overlap সৃষ্টি হবে। এটি এড়াতে সরকারকে বিশেষ “Transition Period” নির্ধারণ করতে হবে। সম্ভাব্য পদ্ধতি হতে পারে—
* কোনো একটি অর্থবছরকে নয় মাসে সীমিত করা;
* কোনো একটি অর্থবছরকে ১৫ মাসে সম্প্রসারণ করা; অথবা
* নতুন ব্যবস্থা কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা।
প্রজ্ঞাপন বা রূপান্তর নির্দেশনা ছাড়া এ বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
VAT ও Tax-এ স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন হবে না
রাষ্ট্রীয় অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেই VAT tax period, income year, assessment year, কোম্পানির accounting year বা return deadline স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে না। এর জন্য প্রয়োজন অনুসারে—
* আয়কর আইন, ২০২৩;
* মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২;
* সংশ্লিষ্ট বিধিমালা;
* অর্থ আইন;
* সরকারি হিসাব ও বাজেট বিধি; এবং
* NBR-এর e-VAT, e-Tax ও ASYCUDA ব্যবস্থা
সংশোধন বা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বর্তমানে সরকারি পরিসংখ্যানেও জুলাই–জুন অর্থবছরের ত্রৈমাসিক কাঠামো ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
সারকথা: সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হলো বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব পূর্বাভাস, উন্নয়ন ব্যয়, কৃষি–অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের সময়চক্রের মধ্যে ভালো সমন্বয় তৈরি করা। তবে প্রকৃত সরকারি কারণ, transitional fiscal period এবং VAT–Tax আইনে পরিবর্তন সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি ও পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। সংবাদসূত্র: অনলাইন নিউজ পোর্টাল