15/12/2025
যেসব কারণে বাতিল হচ্ছে নামজারি, ভূমি মালিকের যা করণীয়
দেশে জমির মালিকানা প্রমাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল হলো নামজারি। নামজারি না থাকলে ভবিষ্যতে জমির ওপর আইনি অধিকার হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই জমি কেনার পরপরই সঠিকভাবে নামজারি সম্পন্ন করা জরুরি। তবে বিভিন্ন ভুল ও অসতর্কতার কারণে অনেক সময় নামজারি আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
ভূমি মালিক বা ক্রেতাদের সাধারণত যেসব ১০টি ভুলের কারণে নামজারি বাতিল হয়—
১. দাগ নম্বরে ভুল
দলিলে উল্লেখিত দাগ নম্বর রেকর্ডের সঙ্গে না মিললে নামজারি বাতিল হয়। দলিল করার আগে খতিয়ান দেখে সঠিক দাগ নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন।
২. খতিয়ান নম্বরে অমিল
দলিলের খতিয়ান নম্বর সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী না হলে নামজারি গ্রহণযোগ্য হয় না।
৩. ভোটার আইডি ও দলিলের নামের অমিল
ভোটার আইডি কার্ডে থাকা নাম ও দলিলে থাকা নাম হুবহু এক না হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
৪. চৌহদ্দি ও বিবরণে ভুল
চৌহদ্দি, দাগ, মৌজা, সাবেক মালিকের নাম বা অন্যান্য বিবরণে ভুল থাকলে নামজারি হয় না।
৫. মালিকানা ধারাবাহিকতায় অসঙ্গতি
সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী মালিকানার ধারাবাহিক ইতিহাস সঠিকভাবে উল্লেখ না থাকলে নামজারি বাতিল হয়।
৬. জমি পূর্বে অন্যের নামে নামজারি থাকা
একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা সীমার বাইরে বিক্রি হলে নতুন নামজারি হয় না।
৭. অংশের বেশি জমি বিক্রি
ওয়ারিশদের কেউ নিজের অংশের বেশি জমি বিক্রি করলে পরবর্তী ক্রেতা নামজারি জটিলতায় পড়েন।
৮. অর্পিত সম্পত্তি
সরকারি নিয়ন্ত্রিত বা অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিগত জমি হিসেবে বিক্রি হলে নামজারি বাতিল হয়।
৯. নদীভাঙন বা সরকারি খাসজমির অংশ
জমির কোনো অংশ নদীভাঙনে বিলীন বা সরকারি খাসজমি হলে নামজারি গ্রহণযোগ্য হয় না।
১০. খাসজমির অন্তর্ভুক্তি
ব্যক্তিগত জমির মধ্যে খাসজমি থাকলে সেই অংশে নামজারি করা যায় না।
নামজারি বাতিল হলে করণীয়—
১. এসিল্যান্ড অফিস থেকে বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ জেনে নিন
২. প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করুন
৩. দালালের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনে জড়াবেন না
৪. প্রয়োজনে উপজেলা ভূমি অফিস বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিন।
সঠিক যাচাই, নির্ভুল দলিল ও নিয়ম মেনে আবেদন করলেই নামজারি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।