10/12/2023
মানবাধিকার দিবস বনাম মানবাধিকার।
আজ ১০ ডিসেম্বর ৭৫তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি সার্বজনিন ঘোষনাপত্র স্বাক্ষরিত হয় এবং জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র তাহা মেনে চলার অঙ্গিকার পূর্বক সাক্ষর করে। এই ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের সহযোগীতায় মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমূহের প্রতি সার্বজনিন সম্মান বৃদ্ধি এবং এগুলোর যথাযথ পালন নিশ্চিত করনের লক্ষ্য অর্জনে অঙ্গিকারবদ্ধ। কিন্ত নিতান্ত হতাশার কথা হচ্ছে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্র স্বাক্ষরের ৭৫ বছর পরেও মানবাধিকারের সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। আজও শক্তিধর দেশ ও সম্পদায় সমূহের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে দূর্বল দেশ ও মানব সম্পদায় সমূহ, এখনও নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নারী ও শিশুদেরকে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে অসংখ্য বনি আদমকে অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্রের আর্টিকেল ৩ এ বলা হয়েছে “Everyone has the right to life, liberty and security of person (জীবন, স্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তার অধিকার প্রত্যেক মানুষের আছে)” এই অধিকার হরনের হিসাবের খাতায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুরা যদিও বিগত ৭০ বছরের অধীক কাল হতে তাদের উপর যায়নিষ্ট আগ্রাসন চলে আসছে। গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ইং হতে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক আত্মরক্ষার অধীকারের নামে ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের উপর যে বর্বর গনহত্যা চালিয়ে আসছে তা দেখলে মনে হয় পৃথিবী আজও সেই বর্বর অন্ধকার যুগেই আছে, মুখে যতই মানবাধিকারের বুলি আওডাকনা কেন! ফিলিস্তিনে ইসরাইল যা করছে তা আর্ন্তজাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ, ইরাইলকে যারা নিলজ্জ সহযোগীতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তারাও যুদ্ধাপরাধ করছে, কিন্তু তিক্ত সত্য কথা হচ্ছে তারাই আজ মানবতার ফেরিওয়ালা! তারাই বিশ্বব্যাপি মানবাধিকারের সবক দিয়ে বেড়ায়। নিতান্ত পরিতাপের বিষয় এই মানবতার ফেরিওয়ালাদের প্রত্যক্ষ মদদে গত ৭ অক্টোবর হতে অদ্য পর্যন্ত ইসরাইল নির্বিচারে বোমা হামলা করে ফিলিস্তিনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ হত্য করেছে যার অর্ধেকেরও বেশি নারী , শিশূ ও বৃদ্ধ। স্কুল, হাসপাতাল ও সরনার্থী শিবিরে বোমা হামলা করে বেসামরিক জনসাধারনের খাদ্য, ঔষধ, পানি, বিদ্যুৎসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ বন্ধ করে দিয়ে ইসরাইল যে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তার বিচার করবে কে? আর্ন্তজাতিক অপরাধ দমন আদালত? সেতো আর এক ধোঁয়াশার নাম! ইসরাইল ও তার মিত্ররা এই নিষ্ঠর নির্যাতন ও গনহত্যার মাধ্যমে জানন দিলেন যে, তারা মুখে মানবতা ও মানবাধীকারের কথা বললেও তারা আসলে মানবাধিকারের নামে দানবাধিকারে বিশ্বাসী। যদি তাই না হলো গত ৭অক্টোবর হতে অদ্য পর্যন্ত আমরা ফিলিস্তিনে কি দেখছি, ইসরাইল ও তার পশ্চিরা মিত্রদের ক্ষেত্রে কি জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্রের ৩ ধারায় প্রযোজ্য নয়? ইসরাইলিদের চাইতে ফিলিস্তিনিদের রক্তের দাম কি কম? তা না হলে জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত ইসরাইলকে এমন বর্বর যুদ্ধাপরাধ থেকে নিবৃত করতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলো না কেন? পারবেইবা কি করে আমেরিকার মত শক্তিধর দেশগুলো জাতিসংঘকে পেলেপুষে রাখছে তাদের সকল অপকর্ম, দ্বিমুখী নীতি ও মানবতার নামে ভন্ডমীর বৈধতা দেওয়ার জন্য। নিজ ভূমিতে স্বাধীন ও নিরাপত্তার সহিত বসবাস করা জাতিসংঘের ঘোষিত মানবাধীকার সনদের মৌলিক অধীকার সে অধীকার হতে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবত বঞ্চিত করে রেখেছে ইসরাইল যা মানবাধীকারের সুস্পষ্ট লঙ্গন। আজ আর্ন্তজাতিক মানবাধীকার দিবসে মানবতাবাদী সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের আওয়াজ তোলা সময়ের দাবী যে, ফিলিস্তিনের জনগনের ন্যায্য দাবী পূরণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মধ্যচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করা সে সাথে বিশ্বর সকল নিপিড়িত মানুষের অধীকার আদায়ে জাতিসংঘকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো তা নাহলে মানবতা, মানবাধিকার দিবস এসব কেবল কাগজের ফ্রেমেই বন্ধি থাকবে আলোর মুখ দেখবে না।
এ.এম. দাউদ দীদার
অ্যাডভোকেট
জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম
০১৭৮২২২২৪২২