Law Consultancy

Law Consultancy আইনি সহায়তা ও আইনজীবীর পরামর্শ এবং প্রতিকার সম্পর্কে জানুন! ইনবক্সে আপনার প্রশ্ন পাঠিয়ে দিন! Lawyers & law firm

আদালতে কালো কোর্ট ও গাউন পড়তে হচ্ছেনা না আইনজীবীদের!করোনা ভাইরাস (কভিড ১৯) সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে মাননীয় বিচারপতি, বিচা...
12/08/2020

আদালতে কালো কোর্ট ও গাউন পড়তে হচ্ছেনা না আইনজীবীদের!
করোনা ভাইরাস (কভিড ১৯) সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে মাননীয় বিচারপতি, বিচারক এবং আইনজীবীদের পোশাকে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে টার্নড আপ সাদা কলার, সাদা ব্যান্ডসহ সাদা শার্ট , প্যান্ট/সেলোয়ার-কামিজ, শাড়ী পরিধান করে মামলা শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নিম্ন আদালতেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে সেক্ষেত্রে সাদা শার্ট এর সাথে কালো টাই পরিধান করতে হবে। এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

চেক ডিসঅনার হলে করণীয় ও আইনগত প্রতিকার।  বর্তমানে আমরা প্রাত্যহিক জীবনে পরস্পর পরস্পরের সাথে ব্যবসা,বাণিজ্য,ঋণসহ যাবতীয় ...
11/08/2020

চেক ডিসঅনার হলে করণীয় ও আইনগত প্রতিকার।

বর্তমানে আমরা প্রাত্যহিক জীবনে পরস্পর পরস্পরের সাথে ব্যবসা,বাণিজ্য,ঋণসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্তে চেকের ব্যবহার করে থাকি। উক্ত আর্থিক লেনদেনে আমরা বিভিন্ন
সময়ে চেক প্রতারণার স্বীকার হই। তাই চেক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতা ও চেকের আইনগত বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা অতীব জরুরী। কোন চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে এবং উপস্থাপিত চেকে বর্ণিত তথ্যাদির কোন প্রকার গরমিল পরিলক্ষিত হলে ব্যাংক কর্তৃক চেকটি অপরিশোধিত অবস্থায় প্রত্যাখাত কিংবা ডিসঅনার হতে পারে। চেক ডিসঅনার হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ এর ১৩৮(১) ধারার বিধানমতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।চেক ডিসঅনার বিভিন্ন কারণে হতে পারে,যেমনঃ-
# চেকে যে পরিমাণ টাকার অংক উল্লেখ করা হয়েছে তার সমপরিমাণ টাকা চেক প্রদানকারীর হিসাবে না থাকলে বা অপর্যাপ্ত তহবিল হলে
# চেকে প্রদানকারীর স্বাক্ষর না মিললে
# চেকে বর্ণিত টাকার অংকে এবং কথায় গরমিল পরিলক্ষিত হলে
# চেকে বর্ণিত হিসাব নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে
# চেক যথাযথ ভাবে পূরণ না করে থাকলে এবং ঘষামাজা করা হলে সঠিক ভাবে সত্যায়ন না করে থাকলে
# চেকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, ইত্যাদি কারণে চেক ডিসঅনার হতে পারে।
কোন কারণে চেক ডিসঅনার হলেই চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। তবে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কিছু পূর্বশর্ত ও আইনগত বাধ্যবাধকতা অবশ্যই পালন করতে হবে,যেমনঃ-
১/ চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে, চেক ইস্যু করার তারিখ (চেকে বর্ণিত তারিখ) থেকে ০৬ মাসের মধ্যে বা চেকের বৈধতা বা কার্যকারিতা বিদ্যমান থাকাকালীন সময়ের মধ্যে যেটা আগে ঘটে। অর্থাৎ চেক নগদায়নের জন্য ০৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।
২/ চেকটি ডিসঅনার এর তারিখ থেকে অর্থাৎ চেকটি যে তারিখে ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সে তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে, যে কারণে ডিসঅনার হয়েছে তার কারণ উল্লেখপূর্বক চেক দাতা কে চেকে বর্ণিত টাকা পরিশোধে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
৩/ চেক দাতা নোটিশ প্রাপ্তির পর ৩০ দিন অতিবাহিত হলে এবং চেকে বর্ণিত টাকা পরিশোধ না করলে,তার ০১ মাসের মধ্যে চেক গ্রহীতা চেক দাতার বিরুদ্ধে ডিসঅনার এর মামলা দায়ের করতে পারবে। অর্থাৎ চেক দাতা কে নোটিশ প্রদানের পর টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় দিয়ে তার অতিক্রান্তে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
উপরোক্ত বাধ্যবাধকতা পালন না করা হলে চেকের মামলা খারিজ হবে এবং আসামি অব্যাহতি কিংবা খালাস পাবে।
চেক ডিসঅনার এর মামলা দায়রা জজ,অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ন দায়রা জজ আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হবে। চেক অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হতে পারে ১বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা চেকে উল্লখিত টাকার ৩ গুন জরিমানা বা উভয় দন্ড।
চেক ডিসঅনার মামলায় প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে চেকে বর্ণিত টাকা/অর্থের ৫০%( অর্ধেক) জমা প্রদানপূর্বক (যুগ্ন দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে) ৩০ দিনের মধ্যে দায়রা জজ আদালতে এবং (অন্যান্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে) ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করা যায়।

অডিও-ভিডিও রেকর্ড : স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা। ------------------------------------------------------------তানিয়ার স...
07/04/2020

অডিও-ভিডিও রেকর্ড : স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা। ------------------------------------------------------------

তানিয়ার স্বামী সাইফুল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামের বেলাল এ সুযোগে তানিয়ার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বছরখানেক আগে সাইফুল দেশে ফিরে আসেন। তবে তার স্ত্রীর সঙ্গে বেলালের পরকীয়া সম্পর্ক থেকেই যায়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু তারপরেও দুই জনের পরকীয়া প্রেম চলতে থাকে। বিষয়টি বিয়ে বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে সাইফুল বেলালকে তার সামনে হাজির করার জন্য স্ত্রীকে শর্ত দেয়। এরই প্রেক্ষিতে এক রাতে স্বামী বাড়িতে নেই বলে সুকৌশলে তানিয়া প্রেমিক বেলালকে তার বাড়িতে আসতে বলে। বাড়িতে আসার পর তানিয়া স্বামীর কথা মতো বেলালকে দুধের সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেলাল ঘুমিয়ে পড়ে। তানিয়া তার স্বামীকে ডেকে এনে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় ধারাল দা দিয়ে গলাকেটে বেলালকে হত্যা করে। এরপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উঠানের টিউবওয়েলের পাশে খুঁড়ে রাখা ১২ ফুট গভীর গর্তে বিছানাপত্র ও ব্যবহূত মোবাইল সেটসহ তার মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

তানিয়া এবং তার স্বামি বেলালকে খুন করেছেন এটা কেও দেখে নি। পরকীয়া সম্পর্কের অডিও ভিডিও রেকর্ডিং পুলিশ উদ্ধার করেছে। অডিও ভিডিও রেকর্ডিং কি স্বাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে? এই হত্যাকান্ডের কি বিচার হবে না?

ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৭২ সালে স্বাক্ষ্য আইন প্রণয়ন করা হয়। স্বাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় আমরা দুই ধরণের স্বাক্ষ্যের ব্যপারে জানতে পারি যথা - মৌখিক স্বাক্ষ্য ও দালিলিক স্বাক্ষ্য। কোন ঘটনা যিনি দেখেছেন তিনি আদালতে এসে যা বলেন তা মৌখিক স্বাক্ষ্য। কোন ঘটনায় আদালতে যেসব কাগজ পত্র উপস্থাপন করা হয় তা হল দালিলিক স্বাক্ষ্য। ভারতে স্বাক্ষ্য আইনে ৩(১) উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। এ কারণে সেখানে অডিও ভিডিও রেকর্ডিং সরাসরি স্বাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে এধরনের কোন ধারা যুক্ত করা হয় নি। তাই এখানে অডিও ভিডিও রেকর্ডিং স্বাক্ষ্য হিসেবে সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ নেই।

অডিও ভিডিও রেকর্ডিং স্বাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আমাদের দেশে যে একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়। স্বাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার ২ নং শর্তাংশ, ফৌ্যদারী কার্যবিধির ১৬৫ ধারা ও ক্রিমিনাল রুলস এন্ড অর্ডারের ১৬১ ধারায় আমরা আরেক ধরনের স্বাক্ষ্যের ব্যপারে জানতে পারি। আর তা হল বস্তুগত স্বাক্ষ্য (material evidence)। ফৌ্যদারী মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা অপরাধ সংশ্লিষ্ট যেকোন আলামত জব্দ করতে পারেন। এসব আলামতের নির্দিষ্ট কোন প্রকার নেই, তা অডিও ভিডিও রেকর্ডিং ও হতে পারে।
মিসেস খালেদা আক্তার বনাম রাষ্ট্র মামলায় হাইকোর্ট বলেছেন ভিডিও রেকর্ড দালিলিক স্বাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারে বাধা নেই। এ মামলাটি উল্লেখ করা হয়েছে ৩৭ নং ডি.এল.আর এর ২৭৫ নং পৃষ্ঠায়। একই ধরনের মতামত দিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টও।

উদ্ধারকৃত অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক স্বক্ষ্যের যথাযথ উপস্থাপনের মাধ্যমে বেলাল হত্যার বিচার সম্ভব।
----------
(বি: দ্র: উল্লেখিত ঘটনা এবং
চরিত্র সমূহ কাল্পনিক; বাস্তবতার সাথে কোন সম্পর্ক নেই।)

রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও আইন মেনে চলুন। ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, নিজের পরিবারের প্রিয় সদস্যদের এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিরাপদ...
04/04/2020

রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও আইন মেনে চলুন।
ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, নিজের পরিবারের প্রিয় সদস্যদের এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিরাপদে রাখুন। একটি পরিবার বা সমাজে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্যে একজন মানুষের অসচেতনতাই যথেষ্ট! একজনের সংক্রমিত হওয়ার অর্থ হলো তার সংস্পর্শে আশা পুরোটা পরিবার কিংবা প্রতিবেশী বা সমাজ সংক্রমিত হওয়া। ইতালি,ব্রিটেন,স্পেন,যুক্তরাষ্ট্র,চীন কিংবা বিশ্বের তাবৎ দেশের মতো প্রিয় মাতৃভুমিতে যদি লাশের স্তুপ বানাতে না চান, তাহলে আইন মেনে চলুন ঘরে থাকুন, আইন লংঘন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ!
যাহা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ২৬৯,২৭০,২৭১ ধারায় সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে!
ধারাঃ ২৬৯--
আপনি যদি বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলক ভাবে জেনে বুঝে এমন কোন কাজ করেন যার দ্বারা জীবন বিপন্ন কারী রোগ (করোনা ভাইরাস) ছড়াতে পারে তাহলে আপনি ৬ মাস পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।
ধারাঃ- ২৭০--
আপনার দ্বারা সংঘটিত কোন বিদ্বেষমূলক বা ক্ষতিকর কাজ যা জীবন বিপন্ন কারী ( করোনা ভাইরাস) এর সংক্রমণ ছড়াতে পারে,সেক্ষেত্রে আপনি ২ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।
ধারাঃ- ২৭১----
আপনি যদি সরকার কর্তৃক ঘোষিত হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরে থাকার বিধান মেনে না চলেন,সেক্ষেত্রে আপনি ৬ মাস পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবেন।

সুতরাং সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধ ও আইন মেনে চলুন, নিজেও বাঁচুন,অন্যকেও বাঁচতে দিন!

দেনমোহর ও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার এবং প্রতিকার !!! ১/স্বামী থেকে বকেয়া দেনমোহর কিভাবে আদায় করবেন?২/স্বামী যদি স্ত্রীকে বা ...
29/11/2019

দেনমোহর ও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার এবং প্রতিকার !!!
১/স্বামী থেকে বকেয়া দেনমোহর কিভাবে আদায় করবেন?
২/স্বামী যদি স্ত্রীকে বা সন্তানের খোরপোষ বা ভরণপোষণ প্রদান না করে কি করবেন?

১/দেনমোহরঃ- "একজন মুসলিম তার বিয়েতে আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্দেশিত অপরিহার্য প্রদেয় স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী যে অর্থ-সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বলে। "
# দেনমোহর বলতে বোঝায় কিছু অর্থ অথবা অন্য কোন সম্পত্তি, যা স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিবাহ চুক্তির একটি বৈশিষ্ট হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হয়।বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর ওপর ফরজ।
মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর বিয়ের অন্যতম প্রধান শর্ত। দেনমোহর হলো স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এক ধরনের অধিকার,যাহা স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে পরিশোধযোগ্য একটি আইনগত দায় ও বটে। বিবাহের বকেয়া দেনমোহর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিশোধযোগ্য ঋণ এবং স্বামী স্ত্রীকে তাহার প্রাপ্য দেনমোহর পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য।

দেনমোহর দুই প্রকার যথাঃ তলবী দেনমোহর ও বিলম্বিত দেনমোহর (যাহা কাবিনামা/নিকাহ্নামায় মু,অজ্জল দেনমোহর ও মু,য়াজ্জল দেনমোহর হিসেবে উল্লেখ থাকে)।

তলবী দেনমোহরঃ- যাহা বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় অর্থাৎ বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়াও একজন স্ত্রী স্বামীর নিকট দাবী করতে পারেন। স্ত্রী যদি আইনের বিধানমতে স্বামীর নিকট তলবী দেনমোহর দাবী করে, তাহলে স্বামী বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায়ও তাহা পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য।

বিলম্বিত দেনমোহরঃ- যাহা বিবাহ বিচ্ছেদের পর বা বিচ্ছেদ না হলে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী স্বামীর নিকট দাবী করতে পারেন। তবে স্বামীর জীবদ্দশায় যদি দেনমোহর পরিশোধ করা না হয়,তাহলে স্বামীর মৃত্যুর পর তাহার সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর ঋণ হিসেবে বকেয়া দেনমোহর আদায়যোগ্য হবে।

তবে তলবী দেনমোহর যদি বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় দাবী করা না হয় তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের পর কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পর তলবী ও বিলম্বিত দেনমোহর একসাথে আদায় করা যাবে।

উল্লেখ্য যে, তালাকের মাধ্যমে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে, স্ত্রী বকেয়া দেনমোহর ছাড়াও তালাক প্রদানের তারিখ হইতে পরবর্তী নব্বই দিন বা তিন মাসের ইদ্দতকালীন খোরপোষ পাবে।
উল্লেখিত দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন খোরপোষ স্ত্রী স্বামীর নিকট দাবী করলে, স্বামী যদি তাহা পরিশোধ করতে অস্বীকার করে, স্ত্রী তখন পারিবারিক আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদায় করতে পারবে।

২/স্ত্রীও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপর বর্তায়ঃ-
কোন স্বামী যদি তাহার স্ত্রীকে বা সন্তান কে(যদি থাকে) ভরণপোষণ প্রদান করা হতে বিরত থাকে, তাহলে উক্ত স্ত্রী কিংবা সন্তান বাদী হইয়া ভরণপোষণের আবেদনে পারিবারিক আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন।এক্ষেত্রে প্রত্যেক স্বামী তাহার বিবাহিত স্ত্রীকে বা সন্তান কে ভরণপোষণ প্রদান করতে আইনত বাধ্য। যাহা পারিবারিক আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে রায়,ডিক্রি ও ডিক্রি জারীর মাধ্যমে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করেন।

আইনের বিধানমতে তালাক বা ডিভোর্স ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার!!! সাধারণত তালাক বলতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক চ...
16/11/2019

আইনের বিধানমতে তালাক বা ডিভোর্স ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার!!!

সাধারণত তালাক বলতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করাকেই বুঝায়,অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনত বিবাহ বিচ্ছেদই হলো তালাক। মুসলিম আইনে বিভিন্ন প্রকারের তালাকের বিধান থাকলেও হিন্দু আইনে আদালতের মাধ্যমে ব্যতীত সাধারণত তালাকের প্রচলন নেই।
তবে আমাদের দেশে মুসলিম শরীয়া আইনে বিভিন্ন প্রকারের তালাকের বিষয়ে প্রচলন থাকলেও ১৯৬১ সালের পূর্বে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ প্রেরণের কোন প্রকার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ এর ৭ ও ৮ ধারায় স্বামীর সাথে স্ত্রী কে স্বামী বা কাবিননামার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করা হয়েছে এবং তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
যেমন ঃ
১/ যেক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন,সেক্ষেত্রে তিনি তালাক উচ্চারণ করিয়া যথা শীগ্রই সম্ভব তালাক উচ্চারণ সম্পর্কে লিখিত ভাবে চেয়ারম্যান(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেয়র) কে তালাকের নোটিশ প্রেরণ করবেন এবং উক্ত তালাকের নোটিশের অনুলিপি স্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করবেন (স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদানের ক্ষেত্রেও স্ত্রী এই বিধান অনুসরণ করবেন)।
কোন পক্ষ উল্লেখিত বিধান অমান্য করিলে তিনি ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।
উল্লেখিত পদ্ধতি ব্যতীত তালাক প্রদান করা হলে তাহা আইনত গ্রহনযোগ্য নয়।

২/ চেয়ারম্যান(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেয়র) এর বরাবরে যেদিন উল্লেখিত মতে তালাকের নোটিশ প্রেরণের করা হয়, সেদিন(প্রেরণের তারিখ) হতে নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর হবে। তালাকের নোটিশ প্রেরণের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। তবে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে যেকোনো সময় নোটিশ প্রেরণ কারী পক্ষ চাইলে তালাক প্রত্যাহার করতে পারবেন।

কুসংস্কার ঃ-
***আমাদের সমাজে প্রচলন আছে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক প্রদান করা যায় না!
*** কোন পক্ষ তালাকের নোটিশ স্বেচ্ছায় গ্রহন না করলে তালাক কার্যকর হয় না!
*** স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর এর টাকা পাবে না!
এই গুলো নিতান্তই কুসংস্কার, এসবের আইনগত কোন ভিত্তি নেই এবং আইন আদালতে এসবের কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই।

৩/চেয়ারম্যান(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেয়র) তালাকের নোটিশ প্রাপ্তির পর পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পূনর্মিলন ঘটানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ(আপোষ মীমাংসা) গ্রহন করিবেন। তবে কোন পক্ষকে আপোষ মীমাংসায় কিংবা তালাক প্রত্যাহারে বাধ্য করা যাবে না। পক্ষদ্বয় আপোষ মীমাংসায় উপনীত হলে ৯০ দিনের মধ্যে তালাক প্রত্যাহার করা যাবে।

৪/ তবে তালাকের নোটিশ প্রেরণের সময় যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তাহলে সন্তান জন্মদানের পূর্বে তালাক কার্যকর হবে না।

৫/উল্লেখিত মতে যদি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তালাক কার্যকর হয় সেক্ষেত্রে উক্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পূনরায় বিবাহের ক্ষেত্রে আইনত কোন বাধা নেই।

10/11/2019

নাবালক কিংবা নাবালিকার হেফাযত বা কাস্টডি মা বাবা ব্যতীত তৃতীয় কোন ব্যক্তিও চাইতে পারেন !!!

সুমি(ছদ্দনাম) যার বয়স ১১ ইতিমধ্যে পেরিয়েছে। ৭ বছর আগে তার বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সুমি তার মায়ের হেফাজতে এবং মায়ের সাথেই বসবাস করছে। সুমির মা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হলেও প্রত্যেক মায়ের মতো তারও স্বপ্ন, তার মেয়ে হোক সুশিক্ষিত,স্বাবলম্বী ও উন্নত জীবনের অধিকারী।
সুমির বাবা ইতিমধ্যে নতুন ২য় বিবাহ করেন এবং ২ য় সংসারে সুমির বাবার আরও দুই মেয়ে আছে। সুমির বাবা তার স্বল্প আয়ে ২য় সংসারে স্ত্রী ও ২ মেয়ের পারিবারিক চাহিদা পূরণ করার পর, সুমির যাবতীয় ভরনপোষণ ও দায় দায়িত্ব পালনে আর্থিকভাবে অক্ষম। তিনি সুমির খোঁজ খবর নেন না।
মিসেস ফারজানা স্বামী সহ কানাডায় থাকেন। তিনি ও তার স্বামী বাংলাদেশ এবং কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং বর্তমানে তাহারা কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হন। মিসেস ফারজানা সম্পর্কে সুমির খালা(মায়ের বোন) হন এবং তিনি সুমিকে তার বৈধ অভিভাবকের সম্মতিতে কানাডা নিয়ে যেতে আগ্রহী এবং নিজের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে চান। ইতিমধ্যে তিনি সুমির অভিভাবকগণের সম্মতিতে কানাডায় সুমিকে দত্তক নেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন,তবে বাংলাদেশের উপযুক্ত আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে(অভিভাবক এবং হেফাযতের/কাস্টডি এর অনুমোদন) । যদিও ইসলামে দত্তক নেওয়ার নিয়ম নেই। সুমি কি কানাডায় যেতে পারবে ?
মিসেস ফারজানাকে বাংলাদেশে সুমির অভিভাবক ও হেফাজতকারী নিযুক্ত হতে হবে।
এজন্য মিসেস ফারজানা ও তার স্বামীকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে নাবালিকার(সুমির) অভিভাবক ও হেফাজতের প্রার্থনায় বাদী হইয়া মামলা দায়েরক্রমে রায় ডিক্রি লাভ করতে হবে। তারপর তিনি তাকে বৈধ ভাবে কানাডায় নিয়ে যেতে পারবেন।

01/11/2019

মুসলিম ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার (মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন)
...মুসলিম ফারায়েজ হলো ইসলামিক আইন বা শরীয়তের বিধান ও বিজ্ঞানের এমন একটি নীতিমালা যার দ্বারা মৃত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তাহার বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে বন্টন করা হয়।
মুসলিম ফারায়েজ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এর সুরা আল-নিসা তে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

একজন সুন্নী মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশ মুলতঃ দুই প্রকারের যথাঃ-
১/প্রধান শ্রেণীর ওয়ারিশ,
২/অপ্রধান শ্রেণীর ওয়ারিশ।
প্রধান শ্রেণীর ওয়ারিশ কে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন ঃ-
১/জাবিউল ফুরুজ বা অংশীদারগন
২/আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ
৩/জাবিউল আরহাম বা দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ। #উল্লেখিত জাবিউল ফুরুজ বা অংশীদারগন এর প্রাপ্ত অংশ পবিত্র কোরআন এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে কোরআানি ওয়ারিশ ও বলা হয়,পবিত্র কোরআনে এদের কে ১২ টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে,যার মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৮ জন মহিলা,এদের অংশ নির্দিষ্ট তারা নিম্নোক্ত হারে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হবে,যথা --

১/ পিতা--১/৬ অংশ এবং অবিশিষ্টভোগী।
২/ পিতামহ(দাদা)--১/৬ অংশ, পিতা না থাকিলে অবশিষ্টভোগী।

৩/স্বামী --১/৪ অংশ, সন্তান সন্ততি না থাকিলে ১/২ অংশ।
৪/ স্ত্রী---১/৮ অংশ, সন্তান সন্ততি না থাকলে ১/৪ অংশ।

৫/ মাতা--১/৬ অংশ এবং সন্তান সন্ততি না থাকলে ও অবশিষ্টাংশের ১/৩ অংশ।
৬/ মাতামহী -- ১/৬ অংশ।

৭/ কন্যা ১ জন হলে ১/২ অংশ, একের অধিক হলে ২/৩ অংশ।
৮/ পুত্রের কন্যা-- কন্যা একাধিক না থাকিলে, ঐ।

৯/ বৈপিত্রেয় ভাই-- মৃত ব্যক্তির সন্তান সন্ততি না থাকিলে ১/৬, একাধিক হলে ১/৩ অংশ।
১০/ বৈপেত্রেয় বোন-- ঐ

১১/ বোন -- একজন হলে ১/২ অংশ, একাধিক হলে ২/৩ অংশ।
১২/ বৈমাত্রেয় বোন-- একাধিক বোন না থাকিলে,ঐ।

অবশিষ্টভোগীদের তালিকা ঃ-
উল্লেখিত ১২ জন ছাড়াও নিম্নবর্গের ব্যক্তিগণ অবশিষ্টভোগী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাবে।
১৩/পূর্ণ চাচা
১৪/স্বগোত্রীয় বা রক্ত সম্পর্কীয় চাচা
১৫/পূর্ণ চাচার পুত্র
১৬/রক্ত সম্পর্কীয় চাচার পুত্র
১৭/পূর্ণ চাচার পুত্রের পুত্র
১৮/রক্ত সম্পর্কীয় চাচার পুত্রের পুত্র।
উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও আরও অবশিষ্ট ভোগী রহিয়াছে যাহা পরবর্তী পোস্টে আলোকপাত করা হবে।

তবে উত্তরাধিকার এর ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে যেমনঃ-
উত্তরাধিকার মতবাদ-- ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ এর ৪ ধারা মতে, মৃত সন্তানের উত্তরাধিকার গন তাহাদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকিলে যে অংশ পাইত,পিতা বা মাতার মৃত্যুর পরও তাহারা সেই সম্পত্তি পাবে।

বাজেয়াপ্তি ঃ- যেক্ষেত্রে কোন মুসলিম আইন অনুসারে উত্তরাধিকারী না রাখিয়া মারা যায়,সেক্ষেত্রে সরকার মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির মাধ্যমে ওয়ারিশ হইবেন,এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে মৃত ব্যক্তির সর্বশেষ ওয়ারিশ হিসেবে গণ্য করা হবে।

নরহত্যা ঃ- কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি কে হত্যা করিলে,সে ব্যক্তি ঐ নিহত ব্যক্তির সম্পত্তির ওয়ারিশ হইতে বঞ্চিত হইবে এবং ওয়ারিশ

সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন। বিচার প্রার্থী সকলের আস্থার যায়গা হয়ে উঠুক আইন ও আদালত।
01/11/2019

সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন।
বিচার প্রার্থী সকলের আস্থার যায়গা হয়ে উঠুক আইন ও আদালত।

Address

District & Session Judge, S Court Of Chattogram
Chittagong
120503029

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law Consultancy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share