এডভোকেট শফিউল আজম

Call Directions

এডভোকেট শফিউল আজম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from এডভোকেট শফিউল আজম, Contract Lawyer, Raojan, Chittagong.

মামলা ছাড়াই জমির রেকর্ড সংশোধন করবেন কীভাবে?করণিক ভুলের সহজ উদাহরণসহ বিস্তারিতজমির খতিয়ানে ভুল দেখলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান—...
26/09/2026

মামলা ছাড়াই জমির রেকর্ড সংশোধন করবেন কীভাবে?
করণিক ভুলের সহজ উদাহরণসহ বিস্তারিত

জমির খতিয়ানে ভুল দেখলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান—
“এটা ঠিক করতে হলে কি আদালতে মামলা করতে হবে?”

সবসময় নয়।

যদি ভুলটি করণিক বা লেখার/হিসাবের ভুল হয় এবং প্রকৃত মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে।

চলুন কয়েকটি সহজ উদাহরণ দেখি।

উদাহরণ–১: নামের বানান ভুল

ধরুন, আপনার নাম “মোঃ আব্দুল করিম”।

আপনার দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজে নাম সঠিকভাবে আছে। কিন্তু খতিয়ানে ভুল করে লেখা হয়েছে “মোঃ আব্দুল কোরিম”।

এখানে মালিক কে—এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। শুধু নামের বানানে ভুল।

এ ধরনের বিষয় করণিক ভুল হিসেবে সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে।

উদাহরণ–২: দাগ নম্বর লেখায় ভুল

ধরুন, আপনার বৈধ কাগজপত্রে জমির দাগ নম্বর ১২৫।

কিন্তু খতিয়ান প্রস্তুতের সময় ভুল করে ১২৬ লেখা হয়েছে।

পূর্বের রেকর্ড, দলিল, নকশা ও অন্যান্য প্রমাণে যদি স্পষ্ট হয় যে প্রকৃত দাগ ১২৫, তাহলে বিষয়টি যাচাই করে করণিক ভুল সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে।

উদাহরণ–৩: জমির পরিমাণে হিসাবের ভুল

ধরুন, আপনার জমির প্রকৃত পরিমাণ ৫০ শতক।

কিন্তু হিসাবের ভুলে খতিয়ানে ৫.০ শতক লেখা হয়েছে।

অথবা একাধিক দাগের জমির হিসাব যোগ করতে গিয়ে মোট জমির পরিমাণে ভুল হয়েছে।

প্রমাণপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে এটি যদি নিছক হিসাবগত/করণিক ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে।

উদাহরণ–৪: অংশের হিসাবে ভুল

ধরুন, তিনজনের অংশ ছিল—

রহিম — ৪০ শতক
করিম — ৩০ শতক
জলিল — ৩০ শতক

কিন্তু খতিয়ানে হিসাবের ভুলে কারও অংশ বেশি বা কম লেখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দলিল/রেকর্ড থেকে সঠিক হিসাব পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত।

এ ধরনের হিসাবগত ভুল হলে সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

উদাহরণ–৫: খতিয়ান ও দাগসূচির মধ্যে ভুল

ধরুন, মূল খতিয়ানে একটি দাগের তথ্য সঠিকভাবে আছে, কিন্তু দাগসূচিতে লেখার সময় ভুল হয়েছে।

অর্থাৎ মূল তথ্যের সঙ্গে দাগসূচির তথ্যের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।

এটি যদি শুধুই রেকর্ড প্রস্তুতের সময়ের লেখার ভুল হয়, তাহলে করণিক ভুল সংশোধনের বিষয় হতে পারে।

তাহলে কখন মামলা লাগতে পারে?

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ধরুন, খতিয়ানে আপনার নাম নেই। অন্য একজনের নাম আছে।

আপনি বলছেন—

“এই জমি আমার, কারণ আমার ১৯৮০ সালের রেজিস্ট্রি দলিল আছে।”

অন্য ব্যক্তি বলছেন—

“না, জমি আমার। আপনার দলিল বৈধ নয়।”

এখন এটি শুধু বানান বা লেখার ভুল নয়।

এখানে মালিকানা, স্বত্ব বা দলিলের বৈধতা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

তাই এমন বিরোধকে শুধু “করণিক ভুল” বলে ভূমি অফিসে আবেদন করলেই সমাধান হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সহজভাবে মনে রাখুন:

নাম ভুল → করণিক ভুল হতে পারে।

দাগ নম্বর ভুল → করণিক ভুল হতে পারে।

হিসাব ভুল → করণিক ভুল হতে পারে।

অংশের হিসাব ভুল → করণিক ভুল হতে পারে।

কিন্তু—

“জমির প্রকৃত মালিক কে?”—এ নিয়ে বিরোধ হলে বিষয়টি আর সাধারণ করণিক ভুলের মধ্যে নাও থাকতে পারে।

আবেদন করার আগে যা রাখবেন

১. সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের কপি
২. দলিলের কপি
৩. পূর্বের খতিয়ান/রেকর্ড
৪. মৌজা ম্যাপ বা প্রয়োজনীয় নকশা
৫. নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র, যদি থাকে
৬. খাজনার দাখিলা, প্রয়োজন অনুযায়ী
৭. যে কাগজে সঠিক তথ্য রয়েছে তার প্রমাণ

এরপর ভুলটি কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে—সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনের আবেদন করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—

রেকর্ডে ভুল দেখলেই মামলা নয়। আবার সব ভুলকেও করণিক ভুল ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।

আগে বুঝুন,
ভুলটা কি শুধু লেখার/হিসাবের ভুল, নাকি মালিকানা নিয়ে প্রকৃত বিরোধ?

এই পার্থক্যটা বুঝতে পারলে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও খরচ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা কি ছেলেদের চেয়ে বেশি পায়? জানুন আসল নিয়মঅনেকের ধারণা—মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা হয়তো ছেলেদের চেয়ে ব...
26/09/2026

মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা কি ছেলেদের চেয়ে বেশি পায়? জানুন আসল নিয়ম
অনেকের ধারণা—মায়ের সম্পত্তিতে মেয়েরা হয়তো ছেলেদের চেয়ে বেশি অংশ পায়। কিন্তু মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বিষয়টি এমন নয়।

মা মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে সাধারণ নিয়ম হলো—একজন ছেলে দুইজন মেয়ের সমান অংশ পাবে।

ধরুন, মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ওয়ারিশ হিসেবে শুধু ১ ছেলে ও ১ মেয়ে জীবিত আছেন।

তাহলে সম্পত্তি মোট ৩ ভাগ হিসেবে ধরা হবে—

🔴 ছেলে পাবেন = ২ ভাগ
🟢 মেয়ে পাবেন = ১ ভাগ

অর্থাৎ ছেলে ও মেয়ের অংশ সমান নয়; ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। মায়ের মৃত্যুর সময় যদি স্বামী, বাবা-মা বা অন্য কোনো বৈধ ওয়ারিশ জীবিত থাকেন, তাহলে সম্পত্তির হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু ছেলে-মেয়ের সংখ্যা দেখে পুরো সম্পত্তির চূড়ান্ত হিসাব করা ঠিক নয়।

আর মা জীবিত অবস্থায় বৈধভাবে কোনো সম্পত্তি হেবা/দান বা বিক্রি করে দিলে সেটি উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টনের বিষয় থেকে আলাদা।

তাই কারও সম্পত্তির সঠিক হিসাব জানতে হলে প্রথমে দেখতে হবে—
মৃত্যুর সময় কে কে জীবিত ছিলেন, সম্পত্তির প্রকৃতি কী এবং বৈধ ওয়ারিশ কারা।

জমির মালিক মারা গেছেন, কিন্তু কোনো ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—তাহলে জমিটা কার হবে?অনেকেই মনে করেন—মালিক মারা গেছেন, ওয়...
25/09/2026

জমির মালিক মারা গেছেন, কিন্তু কোনো ওয়ারিশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—তাহলে জমিটা কার হবে?

অনেকেই মনে করেন—মালিক মারা গেছেন, ওয়ারিশ পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে জমি হয়তো সরকারি হয়ে যাবে!

কিন্তু বিষয়টা এত সহজ নয়।

জমির মালিক মারা গেলে প্রথমেই দেখতে হবে—তাঁর কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী আছেন কি না।

স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা কিংবা প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী অন্য কোনো উত্তরাধিকারী থাকলে, তাঁরাই উত্তরাধিকারী হবেন।

তাঁরা কোথায় আছেন, বিদেশে আছেন কি না, অথবা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না—এগুলো আলাদা বিষয়।

আর যদি সত্যিই কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে সেই সম্পত্তির পরিণতি প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

শুধু ওয়ারিশকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কোনো প্রতিবেশী, আত্মীয় বা দীর্ঘদিনের দখলকারী ব্যক্তি ওই জমির মালিক হয়ে যাবেন না।

আর একটা বিষয় মনে রাখবেন—

জমিতে দীর্ঘদিন চাষ করছেন বা দখলে আছেন—এটা একাই মালিকানার প্রমাণ নয়।

তাই মালিক মারা গেছেন এবং কোনো ওয়ারিশ পাওয়া যাচ্ছে না—এমন জমি দেখলেই দখল করা বা নিজের নামে রেকর্ড করার চেষ্টা করবেন না।

আগের খতিয়ান, দলিল, নামজারি, ওয়ারিশের তথ্য এবং মৃত মালিকের পারিবারিক পরিচয় যাচাই করে তারপর আইনগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিজের সবচেয়ে ভরসার মানুষটি যখন পরকীয়ায় জড়ায়, তখন এক মুহূর্তেই পায়ের নিচের মাটি সরে যায়।এই চরম মানসিক ট্রমার পর আমা...
25/09/2026

নিজের সবচেয়ে ভরসার মানুষটি যখন পরকীয়ায় জড়ায়, তখন এক মুহূর্তেই পায়ের নিচের মাটি সরে যায়।

এই চরম মানসিক ট্রমার পর আমাদের সমাজ উল্টো ভুক্তভোগীকেই নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে। কান্নাকাটি, ডিপ্রেশন আর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছাড়া যেন আর কোনো উপায় থাকে না!

কিন্তু আপনি কি জানেন, চরম এই প্রতারণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনে আপনার অবস্থান কী? শুধু চোখের জল ফেলে নিঃশব্দে সহ্য করা নয়, বরং সঠিক আইনি জ্ঞান দিয়ে কীভাবে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করবেন?

পেনাল কোডের ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী পরকীয়ার আইনি ব্যাখ্যা, সীমাবদ্ধতা এবং ভুক্তভোগীর বাস্তবসম্মত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।।।

অবিচারের শিকার হয়ে চুপ থাকার দিন শেষ। নিজের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।।

অবশ্যই। জমি দখল/বেদখল সংক্রান্ত বিষয়ে পোস্টার বা ফেসবুক পোস্টে দেওয়ার মতো একটি সহজ লেখা:Writing⚖️ জমি বেদখল হলে কত দিনের...
24/09/2026

অবশ্যই। জমি দখল/বেদখল সংক্রান্ত বিষয়ে পোস্টার বা ফেসবুক পোস্টে দেওয়ার মতো একটি সহজ লেখা:
Writing
⚖️ জমি বেদখল হলে কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়?
আপনার বৈধ দখলে থাকা জমি কেউ জোরপূর্বক দখল করে নিলে বিষয়টি ফেলে রাখা উচিত নয়। বাংলাদেশে দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় সময়সীমা (Limitation) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে, জবরদখলের তারিখ থেকে ৬ বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করার বিষয়টি বিবেচনায় আসে—তবে মামলার ধরন, জমির প্রকৃতি, মালিকানা এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে।
তাই জমি বেদখল হওয়ার পর দ্রুত দলিলপত্র ও খতিয়ান যাচাই করে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
📌 দেরি করলে আপনার আইনগত প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

⚖️ গ্রাম আদালত কী? বর্তমানে কী কী পরিবর্তন এসেছে?গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে অনেক সময় মানুষকে দূরের আদালতে যেতে হয়। এতে স...
24/09/2026

⚖️ গ্রাম আদালত কী? বর্তমানে কী কী পরিবর্তন এসেছে?

গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে অনেক সময় মানুষকে দূরের আদালতে যেতে হয়। এতে সময়, টাকা ও পরিশ্রম—সবই বেশি লাগে।

এই ধরনের স্থানীয় বিরোধ দ্রুত ও সহজভাবে সমাধানের জন্যই বাংলাদেশে গ্রাম আদালতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালে গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক—আগে কী ছিল, এখন কী হয়েছে এবং গ্রাম আদালত আসলে কী করতে পারে।


🔹 গ্রাম আদালত আসলে কী?

গ্রাম আদালত হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির একটি স্থানীয় ব্যবস্থা।

এটি সাধারণ আদালতের মতো সব ধরনের মামলা বিচার করতে পারে না।

আইনের তফসিলে যে ধরনের মামলা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মূলত সেগুলোই গ্রাম আদালতের আওতায় পড়ে।

অর্থাৎ জমি, টাকা-পয়সা, ক্ষতিপূরণ, ছোটখাটো অপরাধসহ আইনে নির্ধারিত কিছু স্থানীয় বিরোধ দ্রুত মীমাংসার জন্য গ্রাম আদালত কাজ করে।

গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর মূল উদ্দেশ্যই হলো ইউনিয়ন এলাকার নির্দিষ্ট বিরোধ সহজ ও দ্রুতভাবে নিষ্পত্তি করা। 1 


🔹 ২০২৪ সালের পরিবর্তনের আগে কী ছিল?

২০২৪ সালের আগে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ফৌজদারি মামলার কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের সীমা ছিল ৭৫ হাজার টাকা এবং একটি ক্ষেত্রে ছিল ৫০ হাজার টাকা।

২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে এসব সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।

অর্থাৎ গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। 2 


🔹 সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—৩ লাখ টাকা পর্যন্ত

২০২৪ সালের সংশোধনের পর গ্রাম আদালত তফসিলের নির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে—

গ্রাম আদালত কারও কারাদণ্ড দেওয়ার আদালত নয়।

আইনে নির্ধারিত মামলায় এর ক্ষমতা মূলত ক্ষতিপূরণ এবং নির্দিষ্ট দেওয়ানি প্রতিকার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। 3 


🔹 দেওয়ানি মামলায়ও বড় পরিবর্তন

২০২৪ সালের সংশোধনের পর তফসিলের দ্বিতীয় অংশ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি বিরোধ এখন গ্রাম আদালতের আওতায় আসতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—

- চুক্তি, রসিদ বা অন্য দলিলের ভিত্তিতে টাকা আদায়ের দাবি।

- অস্থাবর সম্পত্তি ফেরত পাওয়া বা তার মূল্য আদায়ের দাবি।

- জমি বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা।

- অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল বা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ।

- গবাদি পশু অন্যের জমিতে অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ।

- কৃষি শ্রমিকের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ।

- স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলা।

এখানে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা ও আইনের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে। 4 


🔹 গ্রাম আদালতে নারী সদস্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে

২০২৪ সালের সংশোধনে বলা হয়েছে, মামলার সঙ্গে কোনো নারীর স্বার্থ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সদস্য মনোনয়নের সময় একজন নারীকে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেবেন।

অর্থাৎ নারীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রাম আদালতের গঠনে নারী সদস্য রাখার বিষয়টি আইনে স্পষ্টভাবে যুক্ত হয়েছে।

সাধারণভাবে গ্রাম আদালত একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের মনোনীত দুইজন করে মোট চারজন সদস্যসহ পাঁচজন নিয়ে গঠিত হয়।

প্রত্যেক পক্ষের মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হতে হবে। 5 


🔹 সদস্য মনোনয়ন না হলে কী হবে?

আগে সদস্য মনোনয়ন নিয়ে সমস্যা হলে গ্রাম আদালত গঠনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারত।

২০২৪ সালের সংশোধনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্য মনোনয়ন করা সম্ভব না হলেও সেই সদস্য ছাড়া গ্রাম আদালত গঠন করে কার্যক্রম চালানো যাবে।

অর্থাৎ শুধু সদস্য মনোনয়ন নিয়ে জটিলতার কারণে আদালতের কার্যক্রম আটকে থাকবে না। 6 


🔹 ২:২ ভোট হলে চেয়ারম্যানের নির্ণায়ক ভোট

এটিও ২০২৪ সালের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

চারজন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোনো বিষয়ে ভোট ২:২ হলে সিদ্ধান্ত আটকে যাবে না।

এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নির্ণায়ক ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

অর্থাৎ সমান ভোট হলে চেয়ারম্যানের casting vote সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে। 7 


🔹 মামলায় কোনো পক্ষ মারা গেলে কী হবে?

আগে চলমান মামলার কোনো পক্ষ মারা গেলে পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারত।

২০২৪ সালের সংশোধনে নতুন ধারা ১৫ক যুক্ত হয়েছে।

এখন দেওয়ানি বিরোধের মামলা চলাকালে কোনো পক্ষ মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা বৈধ উত্তরাধিকারী মামলায় পক্ষভুক্ত হতে পারবেন।

ফৌজদারি বিরোধের ক্ষেত্রে আবেদনকারী মারা গেলেও তার মনোনীত ব্যক্তি বা বৈধ উত্তরাধিকারী নির্দিষ্ট শর্তে মামলায় পক্ষভুক্ত হতে পারবেন।

ফলে শুধু কোনো পক্ষের মৃত্যুর কারণে মামলা থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি কমবে। 8 


🔹 মামলার প্রক্রিয়াও দ্রুত করার চেষ্টা

গ্রাম আদালত গঠনের পর প্রথম অধিবেশন সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে করার বিধান রয়েছে।

সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয় নির্ধারণ এবং আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

আপসের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

আর আপস না হলে মামলার শুনানি শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মূল আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রাম আদালত ভেঙে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। 9 


🔹 গ্রাম আদালত কী ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে পারে?

ফৌজদারি মামলায়—

আইনে নির্ধারিত অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

দেওয়ানি মামলায়—

আইনে নির্ধারিত অর্থ প্রদানের আদেশ দিতে পারে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পত্তি বা তার দখল প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার আদেশও দিতে পারে।

তবে সব ধরনের জমি বা সম্পত্তির মামলা গ্রাম আদালতে করা যায় না।

তফসিলে যেসব বিষয় নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেই এখতিয়ার সীমাবদ্ধ। 10 


🔹 গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে Appeal করা যায়?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যায়।

গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত ৩:২ ভোটে হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে Appeal করতে পারে।

ফৌজদারি বিষয়ের ক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং দেওয়ানি বিষয়ের ক্ষেত্রে সহকারী জজ আদালতে Appeal করার বিধান রয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের নতুন ২:২ ভোটের পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যানের নির্ণায়ক ভোটের বিধানও এখন যুক্ত হয়েছে। 11 


🔹 তাহলে ২০২৪ সালের মূল পরিবর্তনগুলো কী?

সহজভাবে মনে রাখুন—

- ফৌজদারি কয়েকটি মামলায় ক্ষতিপূরণের সীমা ৭৫ হাজার/৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা হয়েছে।

- দেওয়ানি মামলার আর্থিক সীমা ও বিষয়গুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

- নির্দিষ্ট দেওয়ানি বিরোধে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

- বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের নির্দিষ্ট মামলা গ্রাম আদালতের তফসিলে রাখা হয়েছে।

- নারীর স্বার্থ জড়িত মামলায় নারী সদস্য রাখার বিধান যুক্ত হয়েছে।

- সদস্য মনোনয়ন না হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম চালাতে পারবে।

- চার সদস্যের উপস্থিতিতে ২:২ ভোট হলে চেয়ারম্যান নির্ণায়ক ভোট দেবেন।

- নতুন ধারা ১৫ক-এর মাধ্যমে পক্ষের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি বা বৈধ উত্তরাধিকারীর পক্ষভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

- “নাবালক” শব্দের পরিবর্তে আইনে “শিশু” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

- স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞাও আইনে যুক্ত করা হয়েছে।

- কিছু প্রক্রিয়াগত বিধান আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। 12 


⚠️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

গ্রাম আদালত মানেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গেলেই যেকোনো মামলা সমাধান করা যাবে—এমন নয়।

কোন মামলা গ্রাম আদালতে যাবে, তার জন্য আইনের তফসিল, এখতিয়ার, সময়সীমা এবং অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে।

বিশেষ করে জমি নিয়ে বড় ধরনের স্বত্বের বিরোধ, জটিল দেওয়ানি বিরোধ বা গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার আছে কি না—তা আগে যাচাই করা জরুরি।

কারণ গ্রাম আদালতের ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ। 13 
শেষ কথা

গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো—

“ছোট ও স্থানীয় বিরোধ যেন দ্রুত, সহজে এবং কম খরচে সমাধানের সুযোগ পায়।”

২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থার আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে, কিছু নতুন দেওয়ানি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে এবং আদালত গঠন ও মামলা পরিচালনার কয়েকটি নিয়ম আরও পরিষ্কার করা হয়েছে।

তাই গ্রামের কোনো বিরোধ হলে সরাসরি বড় আদালতে যাওয়ার আগে দেখে নিন—আপনার বিষয়টি গ্রাম আদালতের তফসিলের মধ্যে পড়ে কি না।

আইন জানা থাকলে অনেক সময় মামলা কোথায় করতে হবে—এই সিদ্ধান্তটিই আপনার সময় ও খরচ দুটোই বাঁচাতে পারে।

বড় ভুল করবেন না! BDS জরিপ শুরু হওয়ার আগে আপনার জমির রেকর্ড নিয়ে মামলা করার প্রয়োজন থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন।আপনার...
23/09/2026

বড় ভুল করবেন না! BDS জরিপ শুরু হওয়ার আগে আপনার জমির রেকর্ড নিয়ে মামলা করার প্রয়োজন থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন।
আপনার দলিল এক কথা বলছে, কিন্তু খতিয়ানে অন্যের নাম? পুরোনো রেকর্ডে ভুল আছে? আপনার বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও রেকর্ড সংশোধন করা প্রয়োজন?

তাহলে BDS জরিপের কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই নজরে রাখুন।

কারণ—

১. কোনো এলাকায় রেকর্ড প্রস্তুত বা সংশোধনের জন্য জরিপ কার্যক্রম শুরু হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার আইন দ্বারা সীমিত হতে পারে। State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ১৪৪B ধারায় রেকর্ড প্রস্তুত/সংশোধনের নির্দেশের পর নির্দিষ্ট ধরনের মামলা দেওয়ানি আদালতে গ্রহণ ও চলমান মামলা অব্যাহত রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।

২. তাই আপনার জমির রেকর্ডে গুরুতর ভুল থাকলে “BDS আসুক, তখন দেখা যাবে”—এভাবে বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৩. BDS জরিপের আগে আপনার এলাকার জরিপের সময়সূচি, নোটিশ ও কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিন।

৪. আপনার দাবি যদি আদালতের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করে, তাহলে BDS কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দ্রুত আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

৫. আবার BDS চলাকালীনও আপত্তি ও অন্যান্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিজের দাবি-দাওয়া ও দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ থাকে। সরকারি জরিপ নির্দেশিকাতেও বুঝারত পর্যায়ে আপত্তি মামলা গ্রহণ ও শুনানির প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—

দলিল আছে, কিন্তু রেকর্ড অন্যের নামে—এমন হলে শুধু রেকর্ড দেখে বসে থাকবেন না। আপনার দলিল, পূর্বের খতিয়ান, নামজারি, খাজনা, দখল এবং মালিকানার ধারাবাহিকতার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন।

কারণ BDS জরিপে আপনার দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রমাণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আইনের ভাষায়, চূড়ান্ত রেকর্ডের এন্ট্রি সঠিক বলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, তবে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে তা ভুল প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে।

তাই আপনার জমিতে রেকর্ডের ভুল থাকলে—

“BDS আসার পর দেখব” নয়, বরং “BDS-এর আগে থেকেই প্রস্তুত থাকব।”

আপনার জমির রেকর্ডে ভুল থাকলে এই পোস্টটি পরিবারের সবাইকে শেয়ার করুন। একজনের সচেতনতাই হয়তো ভবিষ্যতের বড় জমি-বিরোধ থেকে একটি পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।

জমি কিনেছেন দাগে দাগে কিন্তু নামজারি করেছেন এক দাগে? জেনে নিন কেন এটা অবৈধ হতে পারে এবং কীভাবে বৈধ সমাধান করবেন এবং এর আ...
23/09/2026

জমি কিনেছেন দাগে দাগে কিন্তু নামজারি করেছেন এক দাগে? জেনে নিন কেন এটা অবৈধ হতে পারে এবং কীভাবে বৈধ সমাধান করবেন এবং এর আইনি সমাধান কী-
জমি কিনেছেন দাগে দাগে কিন্তু নামজারি করেছেন একদাগে আবার ভোগদখলও করেেছন এক দাগেও তাহলে এ দলিল বা নামজারি ভবিষ্যতে টিকবে কি-না? আপনি একদাগেই ভোগদখল থাকতে পারবেন কি-না? এসব নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত ও জিজ্ঞাসা রয়েছে।

মনে রাখবেন দাগে দাগে জমি কিনলে নামজারিও অবশ্যই দাগে দাগে করতে হবে। এক দাগে একত্রে নামজারি করা আইনগতভাবে বৈধ নয় এবং তা ভবিষ্যতে তা বাতিল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। দলিলে যদি উল্লেখ থাকে একটি দাগ থেকে ৫ শতাংশ, অন্য দাগ থেকে ৩ শতাংশ এবং আরেকটি দাগ থেকে ২ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে, তবে ক্রেতা বাস্তবে যেখানেই ভোগদখল করুন না কেন, নামজারি অবশ্যই প্রতিটি দাগ অনুযায়ী করতে হবে। এক দাগে সব অংশ একত্রে নামজারি করা হলে সেটা হবে অবৈধ এবং আদালতের বিচারে তা অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।

কাজেই সহশরিক বা বঞ্চিত ওয়ারিশরা ভবিষ্যতে মোবদ্দমা করলে আদালত যাচাই করে সহজেই বুঝতে পারবে যে বিক্রেতার অংশ সীমিত ছিল, অথচ দলিলে বেশি জমি দেখানো হয়েছে। এই অবস্থায় শুধু নামজারি নয়, দলিলও বাতিল হতে পারে। ফলে এ সমস্যার আইনগত সমাধান হচ্ছে দাগে দাগে নামজারি করাই একমাত্র বৈধ পথ। যদি বাস্তবে এক দাগে জমি ব্যবহার করতে চান, তবে সহশরিকদের সঙ্গে এওয়াজ বদল (বিনিময় দলিল) করে বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। অন্যথায় যেই অংশে বিক্রেতার সম্পত্তি ছিল না, সেই অংশে দখল রাখা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন : জমি আপনার, দখল অন্যের, কী করবেন?
আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন কারও শরিকানা সম্পত্তি কেনার আগে জমির সব কাগজপত্র, ওয়ারিশান সনদ ও দলিল ভালোভাবে যাচাই না করলে ক্রেতা হিসেবে আজীবনের কষ্টের টাকা দিয়ে “মামলা-মোকদ্দমা ক্রয়” করার ঝুঁকিতে পড়বেন।

কাজেই এখন থেকে যদি ওয়ারিশরা পারস্পরিক সম্মতিতে “আপোষ বণ্টননামা” দলিল করে থাকেন, তাহলে যে যার অংশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি দাগ থেকেই নামজারি করতে পারবেন। অর্থাৎ, কারও ভাগে যদি ১০ শতাংশ জমি পড়ে এবং তা যদি একটি নির্দিষ্ট দাগে নির্ধারিত হয়, তাহলে তিনি সেই এক দাগ থেকেই সম্পত্তির মালিক হিসেবে নামজারি করতে পারবেন এবং বিক্রি-হস্তান্তরসহ সব ধরনের আইনি কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

শরিকানা সম্পত্তি বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলছি যদি আপনি জমা ভাগ না করে শুধুই ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে নামজারি করেন, তবে দাগে দাগেই মালিকানা হবে এবং আপনি সেই দাগ অনুযায়ীই বিক্রি করতে পারবেন। তবে আপোষ বণ্টননামা দলিল করে যদি আপনি নির্দিষ্ট একটি দাগ থেকে সম্পত্তি নেন, তাহলে আপনি শুধুই সেই দাগের মালিক হবেন এবং সম্পূর্ণ আইনগত অধিকার পাবেন এবং বিক্রি করতে পারবেন।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে আপোষ বণ্টননামা দলিল ছাড়া এক দাগ থেকে অংশবিশেষ বিক্রি করলে তা বৈধ হবে না। তাই আইনি সুরক্ষার জন্য আপোষ করে বন্টন দলিল রেজিস্ট্রি করা আবশ্যক।

বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।

দলিলে ভুল, কিন্তু বিক্রেতা মারা গেছেন—এখন কী করবেন?অনেকেই মনে করেন, দলিলের বিক্রেতা মারা গেলে ভুল দলিল আর সংশোধন করা সম্...
23/09/2026

দলিলে ভুল, কিন্তু বিক্রেতা মারা গেছেন—এখন কী করবেন?

অনেকেই মনে করেন, দলিলের বিক্রেতা মারা গেলে ভুল দলিল আর সংশোধন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি এমন নয়।

দলিলে জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ, সীমানা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে লেখা হয়ে থাকলে প্রথমে দেখতে হবে—এটি কি শুধু লেখার/করণিক ভুল, নাকি দলিলের প্রকৃত বিষয়বস্তুই ভুল হয়েছে।

১. বিক্রেতা জীবিত থাকলে
ভুলটি যদি উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংশোধনযোগ্য হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশোধনী দলিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।

২. কিন্তু বিক্রেতা মারা গেলে?
বিক্রেতার মৃত্যুর কারণে আপনার অধিকার একেবারে শেষ হয়ে যায় না। যদি প্রমাণ করা যায় যে দলিলে যে বিষয়টি লেখা হয়েছে, তা পক্ষগুলোর প্রকৃত অভিপ্রায় প্রকাশ করছে না এবং এটি প্রতারণা বা পক্ষদ্বয়ের পারস্পরিক ভুলের কারণে হয়েছে, তাহলে আদালতের মাধ্যমে দলিল সংশোধনের পথ রয়েছে।

৩. আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা
Specific Relief Act, 1877-এর ধারা ৩১ অনুযায়ী, কোনো লিখিত দলিল প্রতারণা বা পক্ষগুলোর পারস্পরিক ভুলের কারণে প্রকৃত অভিপ্রায় প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তার স্বার্থের উত্তরাধিকারী/প্রতিনিধি দলিল সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারেন। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে দলিলকে প্রকৃত অভিপ্রায় অনুযায়ী সংশোধনের আদেশ দিতে পারে।

৪. বিক্রেতা মারা গেলে কার বিরুদ্ধে মামলা হবে?
বিক্রেতা মারা গেলে সাধারণত তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় পক্ষ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আসে। শুধু ‘বিক্রেতা মারা গেছেন’—এই কারণে মামলা করা যাবে না এমন নয়। তবে কারা আইনগত উত্তরাধিকারী এবং কার কী স্বার্থ রয়েছে, তা নথিপত্র দেখে নির্ধারণ করতে হবে।

৫. কী কী প্রমাণ সংগ্রহ করবেন?
মূল দলিল/সার্টিফায়েড কপি, আগের খতিয়ান, পরবর্তী খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান, খাজনার রশিদ, বায়া দলিল, দখলের প্রমাণ, নকশা এবং ভুলটি কীভাবে হয়েছে তা প্রমাণ করে এমন অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।

৬. আদালত শুধু ‘ভুল হয়েছে’ বললেই সংশোধন করবে না
সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে ধারা ৩১-এর বিষয়ে বলা হয়েছে, দলিল সংশোধনের জন্য fraud বা common/mutual mistake প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শুধু অসাবধানতাবশত ভুল হয়েছে—এমন দাবি করলেই যথেষ্ট নাও হতে পারে; প্রকৃত অভিপ্রায় ও ভুলের বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।

৭. ভুল যদি জমির মালিকানা বা অধিকারকে প্রভাবিত করে
তাহলে শুধু দলিল সংশোধনের বিষয় নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী স্বত্ব ঘোষণা, দলিল বাতিল বা অন্যান্য প্রতিকারও মামলায় প্রার্থনা করার প্রয়োজন হতে পারে। Specific Relief Act-এর ধারা ৩৯ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে void বা voidable instrument বাতিলের প্রতিকারের কথা বলে।

৮. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
বিক্রেতা মারা গেছেন বলে ভুল দলিল নিয়ে বসে থাকবেন না। প্রথমে দলিলের ভুলটি কী ধরনের তা নির্ধারণ করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজন হলে দেওয়ানি আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করুন।

আইনগত ভিত্তি: Specific Relief Act, 1877 — ধারা ৩১: Rectification of Instruments
ধারা ৩২: পক্ষগুলোর অভিপ্রায় সম্পর্কে বিধান
ধারা ৩৩: দলিলের প্রকৃত অর্থ ও আইনগত ফল বিবেচনার নীতি
ধারা ৩৯: নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দলিল বাতিলের প্রতিকার।

মনে রাখবেন—দলিলের ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রতিকার ভিন্ন হতে পারে। তাই মামলা করার আগে মূল দলিল, খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড একজন ভূমি/দেওয়ানি আইনজীবীকে দেখানো নিরাপদ।

প্রথম স্ত্রীর নামে জমি কিনেছিলেন স্বামী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর স্বামী আবার বিয়ে করলেন। এখন প্রশ্ন—দ্বিতীয় স্ত্রী ক...
22/09/2026

প্রথম স্ত্রীর নামে জমি কিনেছিলেন স্বামী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর স্বামী আবার বিয়ে করলেন। এখন প্রশ্ন—দ্বিতীয় স্ত্রী কি প্রথম স্ত্রীর নামে থাকা সেই জমির উত্তরাধিকারী হতে পারবেন?

উত্তর: দ্বিতীয় স্ত্রী প্রথম স্ত্রীর সরাসরি উত্তরাধিকারী নন। তবে পরিস্থিতির কারণে পরোক্ষভাবে ওই জমির কোনো অংশে তাঁর উত্তরাধিকার তৈরি হতে পারে।

ধরুন, স্বামী নিজের টাকা দিয়ে জমি কিনে দলিল করেছেন প্রথম স্ত্রীর নামে। দলিলে প্রথম স্ত্রীর নাম থাকলে সাধারণভাবে জমিটি তাঁর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। প্রথম স্ত্রী মারা গেলে তাঁর মৃত্যুর সময় জীবিত আইনগত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তাঁর সম্পত্তি বণ্টনের প্রশ্ন আসবে।

যদি প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর সময় তাঁর স্বামী জীবিত থাকেন এবং প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনে স্বামী উত্তরাধিকারী হন, তাহলে স্বামী প্রথম স্ত্রীর সম্পত্তির নির্দিষ্ট একটি অংশ উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে পারেন। সেই অংশ তখন স্বামীর নিজস্ব সম্পত্তির অংশ হয়ে যায়।

এরপর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। শুধু বিয়ে করার কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী প্রথম স্ত্রীর সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবেন না।

কিন্তু পরবর্তীতে স্বামী মারা গেলে, স্বামীর নিজের সম্পত্তির মধ্যে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অংশও থাকতে পারে। তখন দ্বিতীয় স্ত্রী যদি স্বামীর আইনগত উত্তরাধিকারী হন, তাহলে তিনি স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁর প্রাপ্য অংশ পেতে পারেন।

অর্থাৎ বিষয়টি এভাবে বুঝুন—

প্রথম স্ত্রী → মারা গেলেন → স্বামী তাঁর উত্তরাধিকারী হয়ে অংশ পেলেন → স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেন → পরে স্বামী মারা গেলে → দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামীর পাওয়া অংশে অংশ পেতে পারেন।

তাই বলা যাবে না যে, “প্রথম স্ত্রীর জমি দ্বিতীয় স্ত্রী পাবে”। আবার এটাও বলা যাবে না যে, “দ্বিতীয় স্ত্রী কোনোভাবেই পাবে না।”

কারা প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর সময় জীবিত ছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সন্তান ছিল কি না, তাঁর বাবা-মা জীবিত ছিলেন কি না এবং পরে স্বামীর মৃত্যুর সময় কারা জীবিত ছিলেন—এসব তথ্যের ওপর প্রকৃত হিসাব নির্ভর করবে।

জমির উত্তরাধিকার নির্ধারণে শুধু দলিল দেখলেই হবে না; মৃত্যুর সময়কার উত্তরাধিকারী এবং প্রত্যেকের আইনগত অংশও দেখতে হবে।

আপনার পরিবারের এমন কোনো ঘটনা থাকলে, উত্তরাধিকারীদের তালিকা ও জমির তথ্য যাচাই না করে জমি বিক্রি, নামজারি বা বণ্টন করবেন না।।

Address

Raojan
Chittagong
4343

Telephone

+8801825221560

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এডভোকেট শফিউল আজম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share