03/10/2021
বার কাউন্সিল প্রিলি প্রস্তুতি
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা এক সোনার হরিণ। আগের দিনগুলোতে হেসেখেলে পরীক্ষায় পাশ করা গেলেও বর্তমানে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ছাড়া এ পরীক্ষায় পাশ করা চিন্তাও করা যায় না। ২০২০ সালে ৪০৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বশেষ চূড়ান্তভাবে আইনজীবী হিসেবে মনোনীত হন মাত্র ৫৯৭২ জন। ২০১৭ সালে এ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ৩৪১৭৯ জন যাদের মধ্যে মাত্র ৭৭৫২ জন চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। সেইসাথে বর্তমানে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের উপর ন্যস্থ হওয়ায়, ভাল ফল পেতে আদাজল খেয়েই নামতে হবে।
২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একটা বড় গ্যাপ পরায় এবং সর্বশেষ এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সকল কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ায় আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই নতুন পরীক্ষার সার্কুলার আসবে।ফলে যারা আইনজীবী হিসেবে স্বাধীন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, কালো কোর্ট গাউন গায়ে দিয়ে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লড়াই করতে চান, বুদ্ধিদীপ্ত জেরায় সত্যটাকে আলোর মুখ দেখাতে চান, প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে সম্ভ্রান্ত জীবন যাপন করতে চান তাদের বলবো সময় নষ্ট না করে নিজের প্রতি সুবিচার করুন।
আমি কখনই শর্টকার্ট মেথডে বিশ্বাসী নই। এর ঝক্কিও অনেক। সবসময় আতংকে থাকতে হয়। পারবো কিনা, কমন পরবে কিনা, প্রশ্ন সহজ হবে কিনা, সারাটা সময় এমন নানান টেনশন করে হৃদ রোগের ঝুকি না বাড়িয়ে, একটু কষ্ট করে পড়লে সুবিধা হচ্ছে বুকের পাঁটা বড় করেই পরীক্ষার হলে যাওয়া যায়, কারও মুখপানে তাকিয়ে থাকতে হয় না কেননা সেটা খুবই লজ্জার।
নার্ভাসনেস ও ভয়ের মূল উৎস কি জানেন? অজানা ও অদেখা! মানুষ অন্ধকার ভয় পায়, কারণটি হচ্ছে তিনি জানেন না ,অন্ধকারে কি আছে? পরীক্ষার জগতটাও ঠিক এমন। আপনি যদি জানেন, কোন নির্দিষ্ট ৫ টি টপিক থেকেই প্রশ্ন আসবে এবং সেই ৫ টি টপিকে যদি আপনার দুর্দান্ত দখল থাকে, আপনি কি পরীক্ষা দিতে ভয় পাবেন? নিশ্চয়ই না! কারন ঐ ৫ টি টপিকে আপনি আলোকিত। কিন্তু যদি এমন হয় যে, ৫টি টপিকের ৩ টি সম্পর্কে আপনার কোন জ্ঞান নাই, এবং পরীক্ষায় এর যেকোনো একটা টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে, আপনি তখনই নার্ভাস হতে শুরু করবেন, ভয়ে মাঘ মাসের শীতের মধ্যেও আপনি ঘামতে থাকবেন। এটাই ধ্রুব বাস্তবতা।
আলোকিত হতে হলে কি সিপিসির ১৫৮ টি ধারা, ৫১ টি আদেশ, সিআরপিসি এর ৫৬৫ টি ধারা, পেনাল কোডের ৫১১ টি ধারা , সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ টি ধারা , তামাদি আইনের ২৯ টি ধারা, ১৮৩ টি অনুচ্ছেদ, সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ টি ধারা সব মুখস্থ করতে হবে?
না , সব আপনাকে মুখস্থ করতে হবে না।তাবৎ বাংলাদেশে এমন কেউ নাই যিনি উল্লেখিত সব ধারা, আদেশ , অনুচ্ছেদ মুখস্থ করেছেন। পরীক্ষক ও আশা করেন না , আপনি সব মুখস্থ করে বসে থাকেন। বাট যখন আপনি কোন আইন পড়বেন, তখন আপনাকে এমনভাবে পড়তে হবে , যেন দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলার বিভিন্ন স্টেপগুলো এবং স্টেপ এর সাথে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো আপনার চোখের সামনে ভাসে।
আইন বুঝতে “The law is nothing but common sense” এই প্রিন্সিপ্যালটা মাথায় রাখবেন।কোন একটা বিষয়ে আপনার কমন সেন্সে যেটা বাস্তবসম্মত মনে হবে, আইনের ধারাটি বের করে দেখবেন, ধারাতে মূলত সেটাই বলা আছে। ফলে আইন পড়ে না বোঝার কোন কারণই নাই। তবে আমাদের দুর্বলতা হচ্ছে আমরা সেকশন ধরে পড়তে যাই বা আমাদের একটার পর আর একটা সেকশন পড়ান হয়। একটার ধারার সাথে আরেকটা ধারার সম্পর্ক কি এটা আমরা ধরতে পারি না। যে কারনে ম্যাক্সিমাম স্টুডেন্ট মনে করে ধারা গুলো মুখস্থ করাটাই বোধহয় তার কাজ। এরচেয়ে যদি আপনি টপিক ধরে টপিকের বিষয়বস্তু বুঝে সংশ্লিষ্ট ধারা পড়েন, আইন আপনার কাছে সহজ ও বোধগম্য মনে হবে। ফলে গল্পের মত করে কোন টপিক আপনার সামনে আসলে সেই টপিকের ধারাগুলো আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে, মুখস্থ করে মাথায় রাখার মত খাটনি আপনার কমে যাবে।
যে কাজটি আজ আপনার কঠিন মনে হচ্ছে সেই কাজটিতে ১মাস লেগে থেকে করুন, দেখবেন কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। আইনের বই পুস্তকের সাথে সময় বাড়ান। কথা , গল্পে, আড্ডায় আইন নিয়ে কথা বলুন। চর্চা আপনাকে কিছুদিনের মধ্যেই ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস করতে শিখাবে। আপনি আপনার নিজের পাণ্ডিত্যে নিজেই মুগ্ধ হবেন , গ্যারান্টি দিচ্ছি।
এভাবে আইনের কনসেপ্টও ক্লিয়ার হবে সাথে ধারাগুলো নখদর্পণে থাকবে। বার কাউন্সিলের প্রিলিতে আগের মত শুধু ধারা থেকেই প্রশ্ন আসছে না, প্রচুর এনালেটিক্যাল প্রশ্নও আসছে। ফলে কনসেপ্ট ক্লিয়ার না করে প্রিলি পাশের কোন সুযোগ আমি অন্তত দেখছি না।
বই পুস্তক এর সাথে সময় বাড়ান, এই সময়ই আপনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।
সবার জন্য শুভকামনা রইলো।
কষ্ট করে পুরো পোস্ট পড়লে কমেন্ট করতে ভুলবেন না, কষ্ট করে পড়বার জন্য একটা ধন্যবাদ আপনি প্রাপ্য।
-রেজাউল করিম বাঁধন
সহকারী জজ
১১শ বিজেএস