24/01/2026
#অগ্নিবেদনা
#পর্ব_২
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া
ঠাস করে পড়া থাপ্পড়টার শব্দে হুমায়রার কান ঝাঁঝরা হয়ে গেল।
জ্বলে ওঠা গালটা হাত দিয়ে চেপে ধরে সে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে।
আয়েশা তালুকদার।
ছোট কাকী,
বিষে ভরা কন্ঠে ফিসফিশিয়ে বলল, এত বড় সাহস? তুই কী ভেবেছিস? তাজিন কে দূরে পাঠালে তুই পার পেয়ে যাবি?
হুমায়রার ঠোঁট কাঁপছে।
কাকী,আমি
চুপ!
আরেকটা থাপ্পড় দিতে গিয়ে হাত উঠিয়েও থেমে গেল। আয়েশার হাতটা মাঝপথে আটকে গেল কারণ পেছন থেকে কেউ তার কবজি চেপে ধরেছে।
সালমা আয়েশার হাতটা ধরে রেখেছে, তার হাতে খাবারের ট্রে, তাজিনের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছে। পথে আয়শাকে এমন অবস্থায় দেখে আটকালো, তুমি ওকে মারার কে? কি কারণে মারছো ওকে?
এক মুহূর্তে পরিবেশ বদলে গেল। আয়েশা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন।
সে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি ধরা পড়ে যাবে। আমতা আমতা করে বলল, আমি শুধু ওকে সাবধান করছিলাম বললেন শান্ত স্বরে, যেন কিছুই হয়নি।
সালমা হুমায়রার দিকে তাকালেন।
সে দৃষ্টিতে ছিল একরাশ মায়া, ছোট করে বললেন, রুমে যাও
হুমায়রা আর দাঁড়াল না।
সে দৌড়ে নিজের রুমের দিকে ছুটলো, বুকের ভেতর যেন আগুন জ্বলছে।
সালমা আয়শার দিখে তাকিয়ে বলল, তুমি কি আসলেই একজন মেয়ে? তুমি কি আসলেই কারো মা? এতটুকু মাতৃত্ববোধ কি তোমার মধ্যে নেই?
আয়েশ কোন প্রতি উত্তর না করে শুধু বলল আমার ভুল হয়ে গেছে, বলেই সে সেখান থেকে চলে গেল।
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো সালমার ভিতর থেকে।
রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই হুমায়রা কান্নায় ভেঙে পড়ল।
গাল, কপাল, গলা সব জ্বলছে। কিন্তু শরীরের জ্বালা কিছুই না, তার চেয়ে বেশি জ্বলছে তার বুকের ভেতরটা। তার মনে হাজারো প্রশ্ন সে উত্তর খুঁজে পায় না।
সে কেন দুশমন? কিসের শত্রুতা তার এই বাড়ির মানুষগুলোর সঙ্গে? জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই সে তাজিনের সামনে আসতে পারে না। কেনো? কি এমন ক্ষতি করেছে মানুষটার বুঝতে পারেনা হুমায়রা। অবশ্য হুমায়রা কখনো উত্তরগুলো খোঁজার চেষ্টাই করেনি , আজ মনে হচ্ছে সে উত্তরগুলো না খুঁজে অনেকটা দেরি করে ফেলেছে।
আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে সে চমকে উঠল।
চোখের দিকে তাকালে আজ নিজেকেই অচেনা লাগছে। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই হুমায়রা জেনে এসেছে সে এই তালুকদার বাড়ির মেয়ে। তবে এই বাড়িতে তার স্মৃতি খুব কম। তার শৈশব কৈশোরের অধিকাংশ সময় কেটেছে বোর্ডিংয়ে।
(