Sekh Sanawaz Ali

Sekh Sanawaz Ali This is my Professional Page for legal support and more. Contact : 9475743487 আইনের উপর বিশ্বাস রাখুন।

23/01/2026

আদালতের সমন এলে গ্রেফতার হবে এমন নয়

— সেখ শানাওয়াজ আলী | অ্যাডভোকেট | কলকাতা হাইকোর্ট

অনেক মানুষ সমনের কাগজ দেখেই ভয় পান। বাস্তবে সমন মানে গ্রেফতার নয়, বরং আদালতে উপস্থিত হওয়ার একটি আইনি আহ্বান। সমন, ওয়ারেন্ট ও নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট এক জিনিস নয়। এই তিনটির আইনি উদ্দেশ্য ও ফল আলাদা। Summons হলো আদালতের নির্দেশ, যেখানে অভিযুক্ত বা সাক্ষীকে নির্দিষ্ট দিনে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। এতে কোনো গ্রেফতার বা বলপ্রয়োগের নির্দেশ থাকে না।

পুরোনো CrPC এবং নতুন Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita, 2023 অনুযায়ী, আদালত প্রথমে সমনের মাধ্যমেই হাজিরা নিশ্চিত করতে চায়। এটি আইনের সবচেয়ে নরম পদ্ধতি। যদি সমন পাওয়া সত্ত্বেও কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির না হন, তখন আদালত Warrant জারি করতে পারে। Warrant মানে পুলিশকে সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ।

Warrant দুই ধরনের হতে পারে—Bailable Warrant এবং Non-Bailable Warrant । Bailable Warrant–এ গ্রেফতার হলেও জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু Non-Bailable Warrant বা NBW–এ গ্রেফতার হলে তাৎক্ষণিক জামিন অধিকার হিসেবে পাওয়া যায় না, আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। NBW জারি করা হয় শেষ উপায় হিসেবে। আদালত দেখে, অভিযুক্ত বারবার সমন অমান্য করছে কি না, পলাতক হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, বা বিচার এড়ানোর চেষ্টা করছে কি না।

নতুন আইনে আদালতকে আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় NBW জারি না হয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা অকারণে ক্ষুণ্ণ না হয়। মনে রাখবেন, সমন মানে সতর্কবার্তা নয়, সহযোগিতার আহ্বান। সময়মতো হাজির হলে বিষয়টি সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে। আইন ভয় দেখাতে নয়, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন পাঠায়।
সমনের মানে গ্রেফতার নয়।

Advocate Sekh Sanawaz Ali | Sheresta Advocates & Solicitors | Sekh Sanawaz Ali

SIR হেয়ারিংয়ে নামের বানান ভুল: এফিডেভিট নয়, আইন কী বলে এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কী— সেখ শানাওয়াজ আলী | অ্যাডভোকেট | ক...
23/01/2026

SIR হেয়ারিংয়ে নামের বানান ভুল: এফিডেভিট নয়, আইন কী বলে এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কী

— সেখ শানাওয়াজ আলী | অ্যাডভোকেট | কলকাতা হাইকোর্ট

সম্প্রতি SIR হেয়ারিংকে কেন্দ্র করে একটি গুরুতর ভুল ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক নাগরিক মনে করছেন যে ভোটার তালিকা বা SIR যাচাইয়ের সময় নামের বানান ভুল থাকলে কোর্টে এফিডেভিট করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই ধারণাটি আইনত সম্পূর্ণ ভুল এবং বাস্তবেও অকার্যকর। একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে বিষয়টির পূর্ণ আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

প্রথমত, SIR বা Special Intensive Revision সম্পূর্ণরূপে একটি প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এটি কোনও বিচারিক বা আদালত পরিচালিত কার্যক্রম নয়। ভারতের সংবিধানের Article 324 অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, সংশোধন, তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণের একমাত্র ক্ষমতা ভারতের নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত। এই ক্ষমতা কোনও আদালতের এফিডেভিট দিয়ে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হয় না।

Representation of the People Act, 1950 এর Section 21 স্পষ্টভাবে বলছে যে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের ক্ষমতা নির্ধারিত Electoral Registration Officer এর হাতে থাকবে এবং তা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও নোটিফিকেশনের ভিত্তিতে হবে। নামের বানান ভুল একটি clerical বা typographical error, যা সংশোধনের জন্য আইনে আলাদা পদ্ধতি নির্ধারিত আছে। Form সংশোধন, supporting documents এবং অফিসিয়াল verification এর মাধ্যমেই এই ভুল ঠিক করা যায়।

নির্বাচন কমিশন প্রতিটি SIR বা Summary Revision এর সময় স্পষ্ট নোটিফিকেশন জারি করে জানিয়ে দেয় কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে সংশোধন করা যাবে। সেই নোটিফিকেশনই আইনের শক্তি বহন করে। কোনও কোর্ট এফিডেভিট সেই নোটিফিকেশনকে অগ্রাহ্য করতে পারে না এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারকে বাধ্য করতে পারে না যে তিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে এফিডেভিটের ভিত্তিতে নাম সংশোধন করবেন।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিষয়ে একেবারে পরিষ্কার। সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে বলেছে যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি মূলত প্রশাসনিক এবং সেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ সীমিত। Election Commission of India বনাম Ashok Kumar মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেছে যে Article 324 নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয় এবং আদালত সাধারণত তখনই হস্তক্ষেপ করবে যখন স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন বা mala fide প্রমাণিত হয়। কেবল নামের বানান ভুলের মতো বিষয় আদালতের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র নয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ রায় হল Lakshmi Charan Sen বনাম A.K.M. Hassan Uzzaman মামলা। এখানে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে ভোটার তালিকার প্রস্তুতি ও সংশোধন একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এতে কিছু ত্রুটি বা বিলম্ব থাকলেও তা পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ করে না। অর্থাৎ বানান ভুল থাকলেই আপনার ভোটাধিকার শেষ হয়ে যায় না এবং এফিডেভিট দিয়ে তৎক্ষণাৎ সমাধান দাবি করাও আইনসম্মত নয়।

এছাড়া, clerical error সংশোধনের বিষয়ে আদালত বারবার বলেছে যে যেখানে আইন নির্ধারিত remedy আছে, সেখানে সেই remedy অনুসরণ করাই বাধ্যতামূলক। সরাসরি কোর্টে গিয়ে এফিডেভিট করাকে আইন উৎসাহিত করে না। এটি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়। Civil Procedure Code এর নীতিতেও স্পষ্ট যে এফিডেভিট নিজে কোনও অধিকার সৃষ্টি করে না, এটি কেবল একটি সহায়ক প্রমাণমাত্র। প্রশাসনিক হেয়ারিংয়ে এফিডেভিটের প্রমাণমূল্য প্রায় শূন্য।

নতুন আইন Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita কার্যকর হওয়ার পরও এই নীতি বদলায়নি। প্রশাসনিক যাচাই এবং নথি সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে, নথি দিতে হবে, যাচাই হবে। সেই পথ ব্যর্থ হলে তবেই আদালতের দরজা খোলা যায়। সুতরাং যারা শুধুমাত্র নামের বানান ভুলের কারণে SIR হেয়ারিংয়ে কোর্ট এফিডেভিট করাতে দৌড়াচ্ছেন, তারা বাস্তবে কোনও আইনি সুবিধা পাবেন না। বরং নোটারি খরচ, কোর্ট ফি এবং আইনজীবীর ফি দিয়ে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সঠিক পথ হল নির্বাচন কমিশনের জারি করা নোটিফিকেশন অনুযায়ী সংশোধনের আবেদন করা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। আইন ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। আইন বোঝার বিষয়। ভুল পথে খরচ নয়, সঠিক পথে সচেতনতাই নাগরিকের আসল শক্তি।

Advocate Sekh Sanawaz Ali | Sheresta Advocates & Solicitors | Sekh Sanawaz Ali

07/01/2026
নতুন বছরে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা টাকা বা ক্ষমতা নয়, আইন জানা। -- সেখ শানাওয়াজ আলীঅ্যাডভোকেটকলকাতা হাইকোর্টযে আইন জানে, তাকে স...
01/01/2026

নতুন বছরে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা টাকা বা ক্ষমতা নয়, আইন জানা।

-- সেখ শানাওয়াজ আলী
অ্যাডভোকেট
কলকাতা হাইকোর্ট

যে আইন জানে, তাকে সহজে ভয় দেখানো যায় না। কারণ আজকের ভারতে ভয় দেখানো হয় মূলত অজ্ঞতাকে লক্ষ্য করে। পুলিশি ডাক, মিথ্যা অভিযোগ, নোটিস, গ্রেফতার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার হুমকি—সবকিছুর শক্তি আসে মানুষের আইন না জানার জায়গা থেকে। ২০২৩ সালের নতুন ফৌজদারি আইন Bharatiya Nyaya Sanhita, Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita ও Bharatiya Sakshya Adhiniyam কার্যকর হওয়ার পর নাগরিক অধিকার আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন গ্রেফতার মানেই জেল নয়, নোটিস মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়, আর অভিযোগ মানেই দোষী হওয়া নয়। আইন আপনাকে কথা বলার অধিকার দেয়, নীরব থাকার অধিকার দেয়, আইনজীবীর সাহায্য নেওয়ার অধিকার দেয় এবং বেআইনি চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। যে ব্যক্তি জানে কখন পুলিশ প্রশ্ন করতে পারে, কখন পারে না, কখন মোবাইল জব্দ বৈধ, কখন অবৈধ, কখন হাজিরা বাধ্যতামূলক, আর কখন নয়—তাকে ভয় দেখানো যায় না। নতুন বছরে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হোক আইন জানা। কারণ আইন জানা মানুষ দুর্বল নয়, আইন জানা মানুষই সবচেয়ে শক্তিশালী।নতুন বছরে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা টাকা বা ক্ষমতা নয়, আইন জানা। যে আইন জানে, তাকে সহজে ভয় দেখানো যায় না। কারণ আজকের ভারতে ভয় দেখানো হয় মূলত অজ্ঞতাকে লক্ষ্য করে। পুলিশি ডাক, মিথ্যা অভিযোগ, নোটিস, গ্রেফতার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার হুমকি—সবকিছুর শক্তি আসে মানুষের আইন না জানার জায়গা থেকে। ২০২৩ সালের নতুন ফৌজদারি আইন Bharatiya Nyaya Sanhita, Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita ও Bharatiya Sakshya Adhiniyam কার্যকর হওয়ার পর নাগরিক অধিকার আরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন গ্রেফতার মানেই জেল নয়, নোটিস মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়, আর অভিযোগ মানেই দোষী হওয়া নয়। আইন আপনাকে কথা বলার অধিকার দেয়, নীরব থাকার অধিকার দেয়, আইনজীবীর সাহায্য নেওয়ার অধিকার দেয় এবং বেআইনি চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। যে ব্যক্তি জানে কখন পুলিশ প্রশ্ন করতে পারে, কখন পারে না, কখন মোবাইল জব্দ বৈধ, কখন অবৈধ, কখন হাজিরা বাধ্যতামূলক, আর কখন নয়—তাকে ভয় দেখানো যায় না। নতুন বছরে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হোক আইন জানা। কারণ আইন জানা মানুষ দুর্বল নয়, আইন জানা মানুষই সবচেয়ে শক্তিশালী।

Advocate Sekh Sanawaz Ali | Sheresta Advocates & Solicitors | Sekh Sanawaz Ali

094773 21089

31/12/2025

অসীম সরকারের কুরআন সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য: স্পষ্ট জবাব

-- সেখ শানাওয়াজ আলী, অ্যাডভোকেট || কলকাতা হাইকোর্ট

একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অসীম সরকার প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে পবিত্র কুরআনে নাকি বলা আছে—
“অমুসলিমদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের বন্দি করে নির্মমভাবে হত্যা করতে হবে।”

আমি একজন আইনজীবী হিসেবে স্পষ্ট ভাষায় বলছি—এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং কুরআনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর কুৎসা। আমি প্রকাশ্য আইনি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—অসীম সরকার কুরআনের কোন সূরা, কোন আয়াত, কোন স্বীকৃত আরবি মূল পাঠ বা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অনুবাদ থেকে এই বক্তব্য প্রমাণ করবেন। শুধু রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘৃণা ছড়ানো প্রমাণ নয়।

আইন কী বলে -
ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ 21 প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে। ধর্মের নামে হত্যা বা হত্যার আহ্বান এই অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

১) IPC ধারা 153A
ধর্ম, জাতি, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানো অপরাধ।
➡️ BNS ধারা 196
ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ, ঘৃণা বা বৈরিতা উসকে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২) IPC ধারা 295A
ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুভূতিতে আঘাত করা অপরাধ।
➡️ BNS ধারা 299
ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতায় কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৩) IPC ধারা 505
জনশান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গুজব, মিথ্যা বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার অপরাধ।
➡️ BNS ধারা 353
জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক, শত্রুতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিথ্যা, উসকানিমূলক বা উত্তেজনাপূর্ণ বিবৃতি/তথ্য প্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অসীম সরকারের বক্তব্য এই ধারাগুলির আওতায় পড়ে এবং এটি নিছক মতামত নয়, এটি হেট স্পিচ।

সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান -
Pravasi Bhalai Sangathan মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে সংযম বাধ্যতামূলক।
Amish Devgan মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে, বাকস্বাধীনতা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর লাইসেন্স নয়।
Tehseen Poonawalla মামলায় বলা হয়েছে, সহিংসতার উসকানি রাষ্ট্র কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না।

অতএব, এই বক্তব্য সংবিধানসম্মত নয়, আদালতসম্মতও নয়।

কুরআন আসলে কী বলে -

অসীম সরকারের দাবির বিপরীতে কুরআন স্পষ্টভাবে বলে— ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই (সূরা বাকারা ২:২৫৬)
একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যা মানে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা (সূরা মায়িদা ৫:৩২)
যারা যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে ন্যায় ও সদাচরণ করতে বলা হয়েছে (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮)

অর্থাৎ কুরআন কোথাও অমুসলিম হত্যা করার নির্দেশ দেয় না। বরং নিরপরাধ মানুষ হত্যা ইসলামে মহাপাপ।

প্রশ্নটা তাই ধর্মের নয়, দায়িত্বের -

অসীম সরকার যদি কুরআন না পড়ে থাকেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা। কিন্তু না জেনে, না বুঝে, একটি ধর্মগ্রন্থকে “হত্যার নির্দেশিকা” হিসেবে তুলে ধরা—এটি অজ্ঞতা নয়, এটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্ররোচনা।

একজন আইনজীবী হিসেবে আমি বলছি— এই ধরনের বক্তব্য শুধু মুসলিমদের নয়, ভারতের সংবিধান, আইনের শাসন ও সামাজিক শান্তির বিরুদ্ধেও অপরাধ। ধর্মের নামে মিথ্যা বলবেন না। আইনের চোখে সবাই সমান।
ঘৃণা ছড়ানো রাজনীতি নয়—এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Advocate Sekh Sanawaz Ali

31/12/2025

অসীম সরকার কর্তৃক কোরআনের আয়াত প্রসঙ্গছাড়া উদ্ধৃতি করে “অমুসলিম হত্যা”-র দাবি আইনত, সাংবিধানিকভাবে এবং ধর্মতাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ অসত্য ও শাস্তিযোগ্য।

— সেখ শানাওয়াজ আলী, অ্যাডভোকেট, কলকাতা হাইকোর্ট

একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অসীম সরকার প্রকাশ্যে যে দাবি করেছেন যে পবিত্র কোরআনে নাকি বলা আছে “অমুসলিমদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে”, এই বক্তব্য শুধুমাত্র ভুল ব্যাখ্যা নয়, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরআনের আয়াত বিকৃত করে উপস্থাপন করার মাধ্যমে একটি ধর্মকে সহিংস হিসেবে চিহ্নিত করার গুরুতর প্রচেষ্টা। একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কোরআনের কোনো সূরা, কোনো আয়াত, কোনো স্বীকৃত আরবি মূল পাঠ কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অনুবাদে এমন কোনো নির্দেশ নেই। এই বক্তব্য ধর্মীয় ব্যাখ্যার আওতায় পড়ে না, এটি সরাসরি হেট স্পিচ।

আইন ও ধর্মগ্রন্থ উভয়ের ক্ষেত্রেই একটি মৌলিক নীতি হলো প্রসঙ্গ। প্রসঙ্গ ছাড়া আইন পড়লে যেমন অন্যায় হয়ে ওঠে, তেমনি প্রসঙ্গ ছাড়া ধর্মগ্রন্থ উদ্ধৃত করলে তা ভয়াবহ মিথ্যাচারে পরিণত হয়। কোরআনের যেসব আয়াতকে ইচ্ছাকৃতভাবে “হত্যার নির্দেশ” বলে প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্র ও আত্মরক্ষার প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল।

সূরা বাকারা ২:১৯০ আয়াতে আরবি ভাষায় বলা হয়েছে “وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ” যার অর্থ হলো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, কিন্তু সীমালঙ্ঘন কোরো না, কারণ আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। এখানে স্পষ্টভাবে যুদ্ধরত আক্রমণকারীর কথা বলা হয়েছে, ধর্মপরিচয়ের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের কথা নয়। এর পরবর্তী আয়াত সূরা বাকারা ২:১৯১ ও ২:১৯২ এ বলা হয়েছে যে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে মোকাবিলা চলবে, কিন্তু তারা যদি বিরত হয়, তবে আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। অর্থাৎ যুদ্ধ থেমে গেলে হত্যার কোনো অনুমতি নেই।

সূরা বাকারা ২:১৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে “فَإِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ” অর্থাৎ তারা থেমে গেলে আর কোনো শত্রুতা থাকবে না, কেবল জুলুমকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা প্রযোজ্য। এই আয়াতগুলো একত্রে পড়লে স্পষ্ট হয় যে এটি আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধনীতি, কোনো ধর্মভিত্তিক হত্যার নির্দেশ নয়।

সবচেয়ে বেশি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয় সূরা তাওবা ৯:৫ আয়াতকে। অথচ এই আয়াত বোঝার জন্য সম্পূর্ণ প্রসঙ্গ জানা আইনগত ও নৈতিকভাবে অপরিহার্য। সূরা তাওবা ৯:৫ এ আরবি ভাষায় বলা হয়েছে “فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ” যা বলা হয়েছে চুক্তিভঙ্গকারী ও যুদ্ধরত মুশরিকদের প্রসঙ্গে। কিন্তু এর ঠিক আগের আয়াত সূরা তাওবা ৯:৪ এ বলা হয়েছে “إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدْتُمْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنْقُصُوكُمْ شَيْئًا” অর্থাৎ যারা চুক্তি ভাঙেনি, তাদের সঙ্গে চুক্তি পূর্ণ করতে হবে। আবার এর ঠিক পরের আয়াত সূরা তাওবা ৯:৬ এ বলা হয়েছে “وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ” অর্থাৎ যদি কোনো মুশরিক আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। একই সূরার মধ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তার নির্দেশ একসঙ্গে থাকা প্রমাণ করে যে এটি ধর্মভিত্তিক গণহত্যার অনুমোদন নয়, বরং যুদ্ধকালীন সীমিত বিধান।

এর বিপরীতে কোরআনের মৌলিক মানবিক অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত। সূরা বাকারা ২:২৫৬ এ বলা হয়েছে “لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ” অর্থাৎ ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। সূরা মায়িদা ৫:৩২ এ বলা হয়েছে “مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا” অর্থাৎ একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যা মানে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা। সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮ এ বলা হয়েছে “لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ” অর্থাৎ যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে ন্যায় ও সদাচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। এই আয়াতগুলো একত্রে কোরআনের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে।

আইনের দৃষ্টিতে এই ধরনের বক্তব্য নিছক মতামত নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১৫৩এ ধর্মের ভিত্তিতে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ধারা ২৯৫এ ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য করেছে। নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩ অনুযায়ী ধারা ১৯৬ ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিদ্বেষ উসকে দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ধারা ২৯৯ ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করাকে দণ্ডনীয় করেছে। ধারা ৩৫৩ জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন বক্তব্য আসা এই অপরাধগুলোর গুরুতর রূপ।

ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ প্রত্যেক মানুষের জীবন ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করে ধর্ম নির্বিশেষে। সুপ্রিম কোর্ট Pravasi Bhalai Sangathan মামলায় স্পষ্ট করেছে যে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে বাড়তি সংযম ও দায়িত্ববোধ আবশ্যক। Amish Devgan বনাম Union of India মামলায় আদালত বলেছে যে বাকস্বাধীনতা কখনোই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর লাইসেন্স হতে পারে না। Tehseen Poonawalla মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে যে সহিংসতার উসকানি রাষ্ট্র কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না।

অতএব বিষয়টি ধর্মের নয়, বিষয়টি দায়িত্বের। কোরআন যুদ্ধের প্রসঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেছে, কিন্তু কখনো বলেনি ধর্ম দেখে মানুষ হত্যা করতে। প্রসঙ্গ ছাড়া আয়াত উদ্ধৃতি করা ধর্মীয় ব্যাখ্যা নয়, এটি সামাজিক শান্তি ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে একটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্ররোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এই ধরনের বক্তব্য শুধু একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, এটি ভারতের সংবিধান, আইনের শাসন এবং সহাবস্থানের মূল ধারণার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

ধর্ম নিয়ে মিথ্যা বলবেন না। ঘৃণা ছড়ানো রাজনীতি নয়। আইনের চোখে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Advocate Sekh Sanawaz Ali

31/12/2025
31/12/2025
পুলিশ আপনাকে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না -- সেখ শানাওয়াজ আলীঅ্যাডভোকেটকলকাতা হাইকোর্টএই বিষয়টি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের...
31/12/2025

পুলিশ আপনাকে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না

-- সেখ শানাওয়াজ আলী
অ্যাডভোকেট
কলকাতা হাইকোর্ট

এই বিষয়টি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে অজানা অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি অধিকার। বহু মানুষ মনে করেন পুলিশ একবার থানায় নিয়ে গেলে যতক্ষণ খুশি আটকে রাখতে পারে। এই ধারণা আইন ও সংবিধান উভয়ের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল এবং বেআইনি।

ভারতের সংবিধানের Article 21 অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত। কোনো ব্যক্তিকে আইনসম্মত পদ্ধতি ছাড়া স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। থানায় রাতভর আটকে রাখা সরাসরি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সংবিধানবিরোধী কাজ।

পুরোনো ফৌজদারি আইন Criminal Procedure Code 1973 এর Section 57 স্পষ্টভাবে বলেছিল যে পুলিশ কোনো গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে আটক রাখতে পারবে না। কিন্তু এই ধারার আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো পুলিশ কাউকে থানায় ডেকে এনে বা আটক করে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের নামে রাতভর আটকে রাখতে পারে না যদি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করা হয়।

CrPC 1973 এর Section 41A অনুযায়ী পুলিশকে গ্রেফতারের পরিবর্তে হাজিরার নোটিস দিতে বলা হয়েছিল। এই নোটিসের মাধ্যমে কাউকে থানায় ডাকা হলে পুলিশ তাকে আটকে রাখতে পারে না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। এই ধারার অপব্যবহার বন্ধ করার জন্যই এই বিধান আনা হয়েছিল।

বর্তমানে নতুন আইন Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita 2023 কার্যকর হয়েছে। এই আইনে পুরোনো CrPC বাতিল করে আরও কঠোরভাবে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। BNSS 2023 এর Section 35 যা পুরোনো Section 41A এর সমতুল্য সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে হাজিরার নোটিসে ডেকে আনা ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত থানায় আটক রাখা যাবে না। তাকে অনির্দিষ্ট সময় বসিয়ে রাখা বা রাত কাটাতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

BNSS 2023 এর Section 47 এবং Section 58 অনুযায়ী গ্রেফতারের পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং গ্রেফতারের কারণ উল্লেখ করতে হবে। গ্রেফতার ছাড়া কাউকে থানায় আটকে রাখা বেআইনি হেফাজত হিসেবে গণ্য হবে।

নারীদের ক্ষেত্রে আইন আরও কঠোর। পুরোনো CrPC 46 এবং নতুন BNSS 43 অনুযায়ী সাধারণ পরিস্থিতিতে কোনো নারীকে সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের আগে গ্রেফতার করা যায় না। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হলেও লিখিত অনুমতি ও মহিলা পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ফলে নারীকে রাতে থানায় আটকে রাখা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেআইনি।

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। D K Basu বনাম State of West Bengal মামলায় আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে পুলিশ হেফাজতে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বেআইনি আটক মানে অবৈধ হেফাজত এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারেন।

আদালত আরও বলেছে যে থানায় ডেকে এনে কাউকে রাতভর বসিয়ে রাখা গ্রেফতার না করেও বেআইনি আটক হিসেবে গণ্য হতে পারে। পুলিশ চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কিন্তু সেই জিজ্ঞাসাবাদ যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ব্যক্তিকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

অনেক সময় পুলিশ ভয় দেখিয়ে বলে আজ আর যেতে দেওয়া যাবে না কাল ছাড়বো। আইন অনুযায়ী এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। যদি গ্রেফতার না করা হয় তাহলে পুলিশ কোনো নাগরিককে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না। আর যদি গ্রেফতার করা হয় তাহলে তার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক এবং পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীকে জানানো আবশ্যক।

অতএব পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে পুলিশ আপনাকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না। এটি সংবিধান বিরোধী। এটি নতুন ও পুরোনো উভয় আইনেই বেআইনি। অধিকার জানলে ভয় কমে এবং অন্যায় ঠেকানো সম্ভব।

আইন জানুন এবং নিজের স্বাধীনতা নিজেই রক্ষা করুন।

Advocate Sekh Sanawaz Ali | Sheresta Advocates & Solicitors | Sekh Sanawaz Ali

094773 21089

পুলিশ আপনাকে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না -- সেখ শানাওয়াজ আলীঅ্যাডভোকেটকলকাতা হাইকোর্টএই বিষয়টি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের...
31/12/2025

পুলিশ আপনাকে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না

-- সেখ শানাওয়াজ আলী
অ্যাডভোকেট
কলকাতা হাইকোর্ট

এই বিষয়টি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে অজানা অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি অধিকার। বহু মানুষ মনে করেন পুলিশ একবার থানায় নিয়ে গেলে যতক্ষণ খুশি আটকে রাখতে পারে। এই ধারণা আইন ও সংবিধান উভয়ের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল এবং বেআইনি।

ভারতের সংবিধানের Article 21 অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত। কোনো ব্যক্তিকে আইনসম্মত পদ্ধতি ছাড়া স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। থানায় রাতভর আটকে রাখা সরাসরি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সংবিধানবিরোধী কাজ।

পুরোনো ফৌজদারি আইন Criminal Procedure Code 1973 এর Section 57 স্পষ্টভাবে বলেছিল যে পুলিশ কোনো গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে আটক রাখতে পারবে না। কিন্তু এই ধারার আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো পুলিশ কাউকে থানায় ডেকে এনে বা আটক করে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের নামে রাতভর আটকে রাখতে পারে না যদি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করা হয়।

CrPC 1973 এর Section 41A অনুযায়ী পুলিশকে গ্রেফতারের পরিবর্তে হাজিরার নোটিস দিতে বলা হয়েছিল। এই নোটিসের মাধ্যমে কাউকে থানায় ডাকা হলে পুলিশ তাকে আটকে রাখতে পারে না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। এই ধারার অপব্যবহার বন্ধ করার জন্যই এই বিধান আনা হয়েছিল।

বর্তমানে নতুন আইন Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita 2023 কার্যকর হয়েছে। এই আইনে পুরোনো CrPC বাতিল করে আরও কঠোরভাবে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। BNSS 2023 এর Section 35 যা পুরোনো Section 41A এর সমতুল্য সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে হাজিরার নোটিসে ডেকে আনা ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত থানায় আটক রাখা যাবে না। তাকে অনির্দিষ্ট সময় বসিয়ে রাখা বা রাত কাটাতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

BNSS 2023 এর Section 47 এবং Section 58 অনুযায়ী গ্রেফতারের পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং গ্রেফতারের কারণ উল্লেখ করতে হবে। গ্রেফতার ছাড়া কাউকে থানায় আটকে রাখা বেআইনি হেফাজত হিসেবে গণ্য হবে।

নারীদের ক্ষেত্রে আইন আরও কঠোর। পুরোনো CrPC 46 এবং নতুন BNSS 43 অনুযায়ী সাধারণ পরিস্থিতিতে কোনো নারীকে সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের আগে গ্রেফতার করা যায় না। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হলেও লিখিত অনুমতি ও মহিলা পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ফলে নারীকে রাতে থানায় আটকে রাখা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেআইনি।

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। D K Basu বনাম State of West Bengal মামলায় আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে পুলিশ হেফাজতে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বেআইনি আটক মানে অবৈধ হেফাজত এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারেন।

আদালত আরও বলেছে যে থানায় ডেকে এনে কাউকে রাতভর বসিয়ে রাখা গ্রেফতার না করেও বেআইনি আটক হিসেবে গণ্য হতে পারে। পুলিশ চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কিন্তু সেই জিজ্ঞাসাবাদ যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ব্যক্তিকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

অনেক সময় পুলিশ ভয় দেখিয়ে বলে আজ আর যেতে দেওয়া যাবে না কাল ছাড়বো। আইন অনুযায়ী এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। যদি গ্রেফতার না করা হয় তাহলে পুলিশ কোনো নাগরিককে রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না। আর যদি গ্রেফতার করা হয় তাহলে তার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক এবং পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীকে জানানো আবশ্যক।

অতএব পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে পুলিশ আপনাকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে থানায় আটকে রাখতে পারে না। এটি সংবিধান বিরোধী। এটি নতুন ও পুরোনো উভয় আইনেই বেআইনি। অধিকার জানলে ভয় কমে এবং অন্যায় ঠেকানো সম্ভব।

আইন জানুন এবং নিজের স্বাধীনতা নিজেই রক্ষা করুন।

Advocate Sekh Sanawaz Ali | Sheresta Advocates & Solicitors | Sekh Sanawaz Ali

094773 21089

Address

Kolkata

Telephone

+918906367189

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sekh Sanawaz Ali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Sekh Sanawaz Ali:

Share