11/06/2026
"তাহলে আল্লাহ কোথায়?
একটা প্রশ্ন আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে,,,,.
আমরা অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজি। কীভাবে সফল হব? কীভাবে ধনী হব? মানুষ আমাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? সমাজ আমার সম্পর্কে কী বলবে?
কিন্তু একটি প্রশ্ন আছে, যা যদি আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেদের কাছে করি, তাহলে আমাদের পুরো জীবন বদলে যেতে পারে।
أَيْنَ اللّٰهُ?"
"তাহলে আল্লাহ
কোথায়?"
মদিনার উপকণ্ঠে একদিন সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) একটি রাখাল বালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বালকটি ছিল একজন গোলাম এবং তার মালিকের ভেড়ার পাল চরাচ্ছিল। তাকে পরীক্ষা করার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) বললেন, “পালের একটি ভেড়া বিক্রি করে দাও। মালিক জিজ্ঞেস করলে বলে দিও, নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে।” চারপাশে কেউ ছিল না, মালিকও উপস্থিত ছিলেন না। লাভের সুযোগও ছিল।
কিন্তু বালকটি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিল—
أَيْنَ اللّٰهُ?" — "তাহলে আল্লাহ কোথায়?"
মিথ্যা বলার আগে, অন্যের হক নষ্ট করার আগে, ঘুষ নেওয়ার আগে, কারো সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার আগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপবাদ ছড়ানোর আগে— যদি আমরা একবার নিজেদের জিজ্ঞেস করতাম, "তাহলে আল্লাহ কোথায়?", তাহলে হয়তো অনেক অন্যায়ই থেমে যেত।
সমস্যা জ্ঞানের অভাব নয়। সমস্যা হলো, আমরা জানি আল্লাহ আমাদের দেখছেন, কিন্তু অনেক সময় সেই অনুভূতিটা হৃদয়ে জাগ্রত থাকে না।
মদিনার সেই অজানা রাখাল বালক কোনো বড় আলেম ছিল না, কোনো শাসক ছিল না, কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিও ছিল না। কিন্তু তার হৃদয়ে ছিল আল্লাহর উপস্থিতির অনুভূতি। তাই নির্জন মরুভূমিতেও সে অন্যায়ের সুযোগ নেয়নি। তার একটি বাক্য এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) পরে তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। ইতিহাস তার নাম সংরক্ষণ করেনি, কিন্তু তার ঈমানের সাক্ষ্য আজও মানুষকে আলো দেখায়।
আজ আমাদের সমাজে আইন আছে, আদালত আছে, সিসিটিভি আছে, অসংখ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে। তবুও অন্যায় কমছে না। কারণ মানুষ বাহ্যিক নজরদারিকে ভয় পায়, কিন্তু অন্তরের নজরদারিকে ভুলে যায়।
হয়তো আমাদের জীবন বদলানোর জন্য নতুন কোনো বই, নতুন কোনো বক্তৃতা বা নতুন কোনো দর্শনের প্রয়োজন নেই।
প্রয়োজন শুধু একটি প্রশ্নকে হৃদয়ে জীবিত রাখা—
"তাহলে আল্লাহ কোথায়?"
(সংগৃহীত)