28/12/2025
জামাত যাদের সঙ্গে যায়, তারাই শেষ হয়ে যায়।”
বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা
এনসিপি–জামাত জোট হওয়ার পর সেকুলার মহল থেকে যে প্রতিক্রিয়াগুলো এসেছে, সেগুলো বেশ চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে বলছেন, “জামাত যাদের সঙ্গে যায়, তারা শেষ হয়ে যায়।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রতিক্রিয়াগুলো কি সত্যিই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, নাকি আরও গভীর কিছু থেকে এসেছে?
আসুন একটু পেছনে তাকাই। যখন বিএনপি জামাতকে ক্ষমতায় ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তখনও শেখ হাসিনা তসবিহ আর জায়নামাজ পাঠিয়ে গোলাম আজম সাহেবের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন। তখন তো কারো “জাত গেল” বলে চিৎকার করতে দেখা যায়নি। তখন সেকুলারদের চোখে কোনো সমস্যা ছিল না। জামাত তখন ভয়ংকর বা বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল না।
আজ ৫৪ বছর স্বাধীনতার পর মানুষ আর এই পুরোনো বিভাজন চায় না। মানুষ এখন জামাতকে জনগণের কাছ থেকে নতুন করে দেখছে। রাস্তাঘাটে, সামাজিক কাজে, ছাত্ররাজনীতিতে—মানুষ দেখছে জামাত অনেকটা আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এখন মানুষ তুলনা করছে: চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট, তেলবাজ রাজনীতি আর সেই সঙ্গে শৃঙ্খলা, ক্যাডারবাজি ছাড়া সংগঠিত কাজ। এই তুলনাই আজ অনেক মানুষের কাছে জামাতকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোও তাই দেখায়। সেখানে মানুষ নিজের চোখে দেখে, নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়। এটা আবেগ বা প্রচারণার বিষয় নয়, অভিজ্ঞতার ফল। আর এই বাস্তবতার আলোতেই এনসিপির জামাতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তটাও বোঝা যায়। এনসিপি নতুন দল। তারা বিএনপির সঙ্গে গেলে কী হতো—নূর আর রাশেদ দেখতে পাচ্ছি যে তারা নিজেদের দলও টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এনসিপি কি সেই পথে যেতে চায়? বিএনপির ছায়ায় হারিয়ে যেতে চায়? নাকি তারা আলাদা পরিচয় নিয়ে, আলাদা হিসাব করে এগোতে চায়? এই আলোকে দেখলে জামাতের সঙ্গে জোট তাদের জন্য একটি রাজনৈতিক হিসাব, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।
সমস্যা হলো, অনেক সেকুলার এই হিসাবটা বোঝে না। তারা বিশ্লেষণ করে না, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। জামাত দেখলেই অস্বস্তি, বিরাগ বা ভয়। এটি শুধু রাজনৈতিক রূপকথা নয়; এটি মানুষের শরীরে, মনে বসে থাকা অচেতন ভয়। আগে জামাত ক্ষমতার অংশ ছিল—সেটা ঠিক ছিল। এখন জনগণের কাছ থেকে এগোচ্ছে—সেকুলাররা একে ভয়ঙ্কর মনে করছে।
সবশেষে স্পষ্ট করে বলা যায়, এটি জামাতকে নির্দোষ বানানোর লেখা নয়। জামাতের সমালোচনা হতেই পারে, হওয়াই উচিত। কিন্তু সমালোচনা যদি করতে হয়, তবে সেটা হোক বাস্তবতা, যুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে। অন্ধ ভয়ের ভিত্তিতে, পুরোনো বিভাজন বা সুবিধামতো নৈতিকতার নামে নয়। আজ মানুষ আর বোকার মতো সব কথায় বিশ্বাস করে না। মানুষ দেখছে, তুলনা করছে, নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।