Barrister M A Arafin Ashraf

Barrister M A Arafin Ashraf M A Arafin Ashraf.........

16/09/2024

জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক এবং রবীন্দ্রনাথ প্রেম।

সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন নিয়ে এক তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমি, যিনি আট বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে "আমার সোনার বাংলা" গানটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই গানটি মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় দুই বাংলার একত্রিকরণের জন্য রচিত হয়েছিল এবং এটি স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের পরিপন্থী। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই সঙ্গীতটি বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিফলন করে না এবং একটি নতুন জাতীয় সঙ্গীত প্রণয়ন করা উচিত যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হবে ।

আজমির এই মন্তব্য জাতীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে দেশের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। বিশেষত, "আমার সোনার বাংলা" শুধু একটি গান নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেই সমাদৃত। বিরোধীরা মনে করেন, এটি জাতীয়তার মূল ভিত্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সম্মান করার একটি প্রতীক।

তবে এই বিতর্কের মধ্যে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি। আজমি তার পারিবারিক পটভূমির জন্য সমালোচিত হলেও, তার নিজস্ব মত প্রকাশ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। তার পিতা গোলাম আজমের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করা যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ অপরাধের দায় কখনোই পারিবারিকভাবে স্থানান্তরিত হয় না। জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের মতামতকে পিতার অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত করা একটি অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ।

জাতীয় সঙ্গীত কি?

জাতীয় সঙ্গীত একটি দেশের প্রতীকী সঙ্গীত, যা দেশের জাতীয় পরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং স্বাধীনতার চেতনা প্রকাশ করে। এটি সাধারণত দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ঐক্যকে দৃঢ় করে এবং জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে গাওয়া হয়। জাতীয় সংগীত দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল উপাদান থাকতে হয়, যা একটি দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার চেতনা প্রতিফলিত করে। যেমন, ফ্রান্সের "লা মার্সেইয়েস" ফরাসি বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে, দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সঙ্গীত জাতিগত বৈচিত্র্য এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "দ্য স্টার-স্প্যাঙ্গেলড ব্যানার" স্বাধীনতা সংগ্রামের এক দৃঢ় প্রতিচ্ছবি। এই উদাহরণগুলো দেখায় যে, একটি জাতীয় সঙ্গীত শুধু গান নয়, এটি জাতীয় চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে। জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে একটি গানকে গ্রহণ করার জন্য গানটিকে অবশ্যই সেই দেশকে উদ্দেশ্য করে রচিত হতে হবে এবং শুধুমাত্র সেই দেশ ও তার ভূখণ্ডকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।

‘আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীতটি কি বাংলাদেশকে প্রনিধিত্ব করে?

অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, ১৯০৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর, ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে বাংলা প্রদেশকে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় বিভক্ত করা হয়েছিল। বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তটি মূলত প্রশাসনিক হলেও এর পেছনে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। পূর্ব বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল, বিশেষত পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদার ও প্রভাবশালী ঠাকুরদের তুলনায়। পশ্চিম বাংলার জমিদার ও উচ্চবর্গের হিন্দু সমাজ পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগণকে তাদের অধীনস্থ ও নীচু জাতি বলে মনে করত। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার মুসলমানদের উন্নতির লক্ষ্যে প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদাররা এই বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

এই প্রতিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "আমার সোনার বাংলা" গানটি রচনা করেন, যেখানে তিনি বাংলার ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। এই গানের পেছনে থাকা প্রেরণাটি ছিল পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা, যারা পূর্ব বাংলার মুসলমানদের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং স্বাধীনতা বিরোধী ছিল। এটি তখনকার প্রেক্ষাপটে বাংলার জনগণের, বিশেষত পূর্ব বাংলার মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। মূলত, এটি পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদারদের প্রভাব ও প্রভুত্ব রক্ষা করার প্রয়াসের প্রতিফলন ছিল। মাত্র ৬ বছর পর, ১৯১১ সালে, বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় এবং দুই বাংলাকে আবার একত্রিত করা হয়। তাই বলা যায়, "আমার সোনার বাংলা" গানের রচনার প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল এবং প্রভাবশালী শ্রেণীর আধিপত্য কায়েম রাখার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।

রবীন্দ্রনাথের এই গান সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার ঐক্য এবং পশ্চিম বাংলার জমিদারদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছিল, যা অনেকের মতে পূর্ব বাংলার জনগণের বাস্তব চাহিদা ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে ছিল। তাই সন্দেহাতীতভাবে বলা চলে যে, "আমার সোনার বাংলা" গানটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধচেতনা বা বৈষম্যপূর্ণ ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এই গানটি কি সত্যিই বাংলাদেশের সার্বিক জাতীয় চেতনা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করে? একটি জাতীয় সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং জাতিগত সমতার প্রতীক হওয়া। যদি কোনও সঙ্গীত বৈষম্যমূলক ইতিহাসের প্রতিফলন হয়, তবে সেটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

জাতীয় সঙ্গীতের পুনর্মূল্যায়ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি সম্মান ও পরিবর্তনের প্রয়োজন

এই বিতর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান রেখে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা। ঠাকুরের সাহিত্যকীর্তি এবং তাঁর অবদান শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্ব সাহিত্যেও বিশাল। তিনি ছিলেন একজন নোবেল বিজয়ী এবং তাঁর কাব্য ও সঙ্গীতের গভীরতা সর্বজনবিদিত। "আমার সোনার বাংলা" গানটির রচয়িতা হিসেবে তাঁর প্রতি জাতীয়ভাবে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং সেই শ্রদ্ধা অক্ষুন্ন থাকবে।



তবে, জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি বা এই বিষয়ে আলোচনা করা মানেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অসম্মান করা নয়। একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যার নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং একটি বীরত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ রয়েছে। যদি কোনো গান সেই সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার চেতনাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত না করে, তাহলে সেই সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানানো এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পরিচয় পুনর্বিবেচনা করা দুটি ভিন্ন বিষয়। জাতীয় সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং সংগ্রামকে প্রতিফলিত করা, এবং এটি পরিবর্তন করা মানেই রবীন্দ্রনাথের কীর্তির প্রতি অসম্মান নয়। বরং এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতির পরিচয়কে পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হতে পারে।

উপসংহার
"আমার সোনার বাংলা" গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর যথাযথতা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসামান্য সাহিত্যিক ও সঙ্গীতময় অবদান অনস্বীকার্য, এবং তাঁর প্রতি সর্বদাই গভীর শ্রদ্ধা থাকা উচিত। তবে জাতীয় সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতির স্বাধীনতা, সংগ্রাম এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদি কোনও জাতীয় সঙ্গীত সেই জনগণের বৈষম্যপূর্ণ ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটায় বা বর্তমান সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতিগত ও রাজনৈতিক চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্নে গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে হবে।

অতএব, জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করা মানেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অসম্মান নয়। বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, জাতিগত সমতা, এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি পদক্ষেপ হতে পারে। আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সঙ্গীত, যা শুধুমাত্র ঐতিহাসিক একটি নির্দিষ্ট সময়কে নয়, বরং জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তির প্রতিনিধিত্ব করবে, এবং যা সকল নাগরিকের পরিচয় ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

এম এ আরেফিন আশরাফ
ব্যারিস্টার
কোর্টস অফ ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস

10/09/2024

বিপ্লবকারীরা কখনই রাষ্ট্র চালনায় সফল হয়নি। অন্তত, আমার পড়া ইতিহাসে আমার কাছে এইরকমই মনে হয়। রাষ্ট্র চালনা এবং আন্দোলন কিংবা বিপ্লব আলাদা জিনিস। রাষ্ট্র চালনায় দরকার রাজীনীতিবিদের এবং অভিজ্ঞতার।

04/09/2024

জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক

আমার পনেরো বছর বয়স থেকেই আমি জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরছি। জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে একটি গানকে গ্রহণ করার জন্য কিছু মূল উপাদান থাকা আবশ্যক। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই গানটি অবশ্যই সেই দেশকে উদ্দেশ্য করে রচিত হতে হবে এবং শুধুমাত্র সেই দেশ ও তার ভূখণ্ডকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। "আমার সোনার বাংলা" গানটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে রচনা করেননি এবং সঙ্গিতটি শুধুমাত্র দেশকে উপস্থাপন করেনা।

জাতীয় সঙ্গীতের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, সেটি অবশ্যই সেই দেশের জনগণের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীনতার প্রতীক হতে হবে। একটি সংগীত যদি সেই দেশের জনগণের বিরুদ্ধচেতনা বা বৈষম্যপূর্ণ ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে, তবে সেটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। "আমার সোনার বাংলা" গানটি যেভাবে রচিত হয়েছিল, তা মূলত পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগণের উপেক্ষা এবং তাদের ওপর হিন্দু জমিদার শ্রেণীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, ১৯০৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর "বঙ্গভঙ্গ" কার্যকর হয়, যা মূলত পূর্ব বাংলার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের উদ্দেশ্যে দুই বাংলাকে পৃথক করার একটি পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এই বিভাজন পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদার ও প্রভাবশালী ঠাকুরদের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে চাষাভুষা ও অধীনস্থ বলে মনে করত, এবং তাদের ওপর নিজেদের প্রভুত্ব বজায় রাখতে চাইত। এই কারণে তারা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন "আমার সোনার বাংলা" গানটি রচনা করেন, যা দুই বাংলাকে পুনরায় একীভূত করার আহ্বান জানায়। মূলত, এটি পশ্চিম বাংলার হিন্দু জমিদারদের প্রভাব ও প্রভুত্ব রক্ষা করার প্রয়াসের প্রতিফলন ছিল। মাত্র ৬ বছর পর, ১৯১১ সালে, বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় এবং দুই বাংলাকে আবার একত্রিত করা হয়।

তাই বলা যায়, "আমার সোনার বাংলা" গানের রচনার প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল এবং প্রভাবশালী শ্রেণীর আধিপত্য কায়েম রাখার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।

এটি সময়ের দাবি যে, আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের বিষয়ে নতুন করে ভাবি। আমাদের একটি এমন সঙ্গীত দরকার, যা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব এবং জাতিগত সমতা ও ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করবে। যে সঙ্গীতটি আমাদের সব নাগরিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে সম্মান জানাবে, সেটিই হবে প্রকৃত জাতীয় সঙ্গীত।

31/08/2024

বাংলাদেশের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে, সারা বিশ্বের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাস.....

28/08/2024

বাংলদেশে দল নিরপেক্ষ কেউই নয়। জামাতি ভিসি নিয়োগ হলেও সমস্যা নেই, যদি সমুসা সিঙ্গারা বিক্রি না করে গবেষণা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটির রন্ধে রন্ধে সমস্যা, এবং দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছেলে মেয়েদের পেয়েও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ধরে পাশেও নেই। কতটা দুঃখের সাথে বলতে হয় যে এইখানে একটা আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল পর্যন্ত নেই। এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র পড়াশুনা বাদ দিয়ে দলীয় লেজুড় ভিত্তির প্রতিযোগিতার কারণে। গোলাম মাওলা রনি ভাইয়ের উক্তির হেতু বুঝলামনা। ভদ্রলোককে উনার উক্তির অসারতার চেয়ে আরো বেশি জ্ঞানী মনেকরি। পৃথিবীতে প্রাইভেট আর সরকারি বলতে কিছুই নেই। প্রশ্ন হবে একাডেমিক যোগ্যতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে, যা এই জমাতি ভিসি সাহেবের আছে বলে বোধ করি।

25/08/2024

#মসজিদের দানের অর্থ বন্যার্তদের জন্য ব্যবহার: সাধারণ যুক্তি ও নৈতিকতা
ব্যারিস্টার এম এ আরেফিন আশরাফ

পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসই একটি নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হয় এবং ধর্মও এর ব্যতিক্রম নয়। ইসলামী শরিয়াহর নিয়ম অনুসারে, মসজিদের জন্য দানকৃত অর্থ মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যায় না। ধর্মীয় নিয়ম পালনের উদ্দেশ্যেই মানুষ স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ ও মাদ্রাসায় দান-সদকা করে থাকে। এই ক্ষেত্রে শরিয়াহর নিয়ম পালন করা অবশ্যই কর্তব্য।

শরিয়ার নিয়ম ছাড়াও সাধারণ যুক্তিতেই মসজিদের জন্য দানকৃত অর্থ অন্য কোনো খাতে খরচ করা উচিত নয়। মসজিদের দানের টাকা অন্য কোনো কাজে খরচ করা দাতাদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা। যারা মসজিদের জন্য দান করেছেন, তারা সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই অর্থ দিয়েছেন, এবং তাদের অনুমতি ছাড়া সেই অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা ওয়াদা ভঙ্গ করার সমতুল্য। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ এবং যুক্তিসংগত।

বন্যা আক্রান্তদের জন্য অবশ্যই আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে, এবং আপাতত মসজিদ মাদ্রসা সহ অন্য সকল ধরণের খাতে দান করা থেকে বিরত থেকে শুধু মাত্র বন্যা আক্রান্তদের জন্য সাধ্যের সমস্তটুকুন উজাড় করে দান করতে হবে।

বন্যা আক্রান্তদের জন্য যদি এতই দরদে চোখ ভিজে আসে, তাহলে নিজের পকেট থেকে কিছু দান করুন। আর যদি জমানো টাকা খরচ করতেই হয়, তাহলে যারা গত ১৫ বছরে শেয়ার বাজার লুট করেছে এবং প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র দেড়-দুই কোটি টাকার কাজ করে বাকি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বন্যা আক্রান্তদের জন্য খরচ করার আওয়াজ তুলুন।

আরে ভাই !! স্রেফ সালমান এফ রহমানের শেয়ার বাজার থেকে লুট করা টাকা এবং এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে যেই ৭০ হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করেছে, এই দুজনের লুট করা টাকা ফিরিয়ে আনলেই বন্যা আক্রান্তদের জন্য আগামী ১০ বছরে আর কিছু লাগবে না। মসজিদের টাকার দিকে নজর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; এই টাকা দিয়ে বন্যা আক্রান্তদের দুই দিনও টেকা সম্ভব হবে না।

ইজ্জত দেয়া এবং নেয়ার মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। মাওলানা সাঈদীকে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ফাঁসি দিয়েও তার ইজ্জতে...
23/08/2024

ইজ্জত দেয়া এবং নেয়ার মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। মাওলানা সাঈদীকে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ফাঁসি দিয়েও তার ইজ্জতের ধূলিকণা পরিমানও কমাতে পারেননি। বরং, আল্লাহ তার ইজ্জত এতটাই সুম্মন্নত করেছেন যে, প্রথিবীর সকল প্রান্তে তার জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর সেই আপনি সুপ্রিম আপীল বিভাগের বিচারক হিসেবে অবসরের পর দেশে থেকে চুরি করে পালাতে গিয়ে এখন ছাগলের দড়িতে বাঁধা। মাওলানা সাঈদীকে যদি এরকম ছাগলের দড়িতে বাঁধার দুঃসাহস কেউ দেখাত, তাহলে আজকে বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ্য মানুষ শহীদ হয়ে যেত। এখানেই ইজ্জত !!! মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে শিক্ষা নেয়ার তৌফিক দান করুন।

22/08/2024

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের অবধান।

বাংলাদেশের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে, সারা বিশ্বের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনের ঝান্ডা তুলে ধরেন। এই আন্দোলনের শক্তি এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের কঠোর আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দেশগুলোতেও তার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, দুবাইতে বাংলাদেশী শ্রমিকরা আন্দোলন করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং এবং প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে সচেতন করেন। অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের আন্দোলন ও প্রচারণা বাংলাদেশের সরকারের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল। ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কোয়ারে, যা যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাংলাদেশের বাইরের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এর ফলে, বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

প্রবাসীদের এই অবদান শুধুমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা অর্থনৈতিকভাবেও সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রবাসীরা রেমিটেন্স প্রেরণ বন্ধ করে দেন, যা সরকারের মধ্যে এক অর্থনৈতিক আতঙ্কের জন্ম দেয়। প্রবাসীদের এই সাহসী ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়, এবং তাদের পতনে প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম হয়ে ওঠে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রবাসীদের মধ্য থেকে কাউকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি এখনও পর্যন্ত আলাদা করে একজন প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টাও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যা শুধুমাত্র সরকারী পর্যায়ে নয়, পরিবার থেকেও শুরু হয়। প্রবাসীরা যাদের জন্য কষ্টার্জিত অর্থ প্রেরণ করেন, সেই পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দেশও তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করে না। অথচ, এই বৈষম্য বিরোধী সরকারের কাছে প্রবাসীরা অনেক বেশি প্রত্যাশা করেছিল, এবং সেই প্রত্যাশা এখনও নিবু-নিবু করে অটুট রয়েছে। আমরা প্রবাসীরা আশা করি, এই সরকার স্বৈরাচার হটাও আন্দোলনে আমাদের ন্যূনতম স্বীকৃতি দেবে এবং আমাদের আন্দোলনে যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তা মান্য করবে।

লন্ডনে বসবাসকারী অনেক প্রবীণ প্রবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এবং তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুক্তরাজ্যে গঠিত সেই তহবিল মুক্তিযুদ্ধের অর্থনৈতিক যোগানের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছিল।

প্রবাসীদের অবদান চিরকালই যেন উপেক্ষিত থাকে। তারা যেন চিরকালই সমাজের কলুর বলদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও তারা যেন সম্মান পায় না। প্রবাসীরা পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দেশ থেকে দূরে অবস্থান করে দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা শুধু রেমিটেন্স পাঠিয়েই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখেননি, বরং দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা, এবং সরকারের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সুসংহত রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্সের অবদান অমূল্য। ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স বাংলাদেশের মোট রিজার্ভের একটি বিশাল অংশকে ধরে রেখেছিল। এছাড়াও, তারা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করছেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করছেন এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি রক্ষায় এক অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রবাসীদের অবদান সবসময়ই মুখে মুখে প্রশংসিত হলেও, বাস্তবে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি কখনোই দেওয়া হয়নি। বরং, প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হন এয়ারপোর্টে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই, যা শেষ হয় গ্রামের পাড়া-মহল্লায় পাতি নেতাদের চাঁদা দিয়ে। যুগের পর যুগ ধরে প্রতিটি সরকারই প্রবাসীদের মূল্যায়ন ও সুরক্ষায় উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে। তবে, ছাত্র আন্দোলন প্রবাসীদেরও এক নতুন পথ দেখিয়েছে—কিভাবে রেমিটেন্স না পাঠিয়ে বা অবৈধ পথে পাঠিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।

আমরা প্রবাসীরা আমাদের অবদানের ন্যায্য স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন দাবি করি। আমরা দাবি করি, প্রতিটি সরকারের অংশীদারিত্বে প্রবাসীদেরও অংশ থাকবে এবং থাকতে হবে। এটি আমাদের যৌক্তিক অধিকার। এই অধিকার থেকে যদি আমাদের বঞ্চিত করা হয়, তবে আমাদেরও রেমিটেন্স বন্ধ করে বা অবৈধ পথে পাঠিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবেনা। আমরা দাবি করি, বর্তমান বৈষম্য বিরোধী সরকারের আমল থেকেই এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। অন্যথায়, আমাদেরকেও ছাত্রদের দেখানো পথে হাঁটতে হবে।

প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে সরকারকে যান্ত্রিক হতে হবে এবং তাদের সুরক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনটি স্তরে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথম স্তরে, বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে কাজ করতে হবে। দূতাবাসগুলোকে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, শ্রমিকদের শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা, এবং প্রয়োজনে আইনি সহযোগিতা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সাধারণ শ্রমিকদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং বিপদে পড়া প্রবাসীদের জরুরি বাসস্থান ও খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসঙ্গে, অক্ষম বা আহত প্রবাসীদের বিনামূল্যে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা এবং দেশে এসে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

দ্বিতীয় স্তরে, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রজেক্টের সুযোগ থাকতে হবে, যেখানে সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুরক্ষা দেবে। অর্থাৎ, প্রবাসীরা বিনিয়োগকৃত অর্থ কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না, এবং করলেও সরকার তার ক্ষতিপূরণ করবে। প্রবাসীরা বিদেশে থেকেই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন, যার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি আলাদা সেবা খাত থাকবে। সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জমি ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে, যাতে প্রবাসীরা প্রতারণার শিকার না হন এবং জমি ক্রয়ের পর সহজেই দখল পেতে পারেন। এছাড়াও, প্রবাসীদের জন্য খুবই অল্প সুদে বা বিনা সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যা বিদেশ থেকেই সহজে গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

তৃতীয় স্তরে, এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের জন্য আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ করা উচিত, যেখানে তাদের সম্মানের সঙ্গে ট্রিট করা হবে। তাদের আনা মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বীয় গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সরকারি তদারকির ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রবাসীদের সুরক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। প্রতিটি স্তরেই আলোচনা সাপেক্ষে আরও অনেক কিছু যোগ হতে পারে, যা প্রবাসীদের জীবনকে সহজতর করবে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।

উপসংহার
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গঠনে এবং তার সুরক্ষায় এক অমূল্য সম্পদ। তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফসল আজকের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সুসংহত রাখছে। সুতরাং, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সরকারে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার। তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীরা শুধু অর্থনৈতিক শক্তি নয়, তারা জাতির গৌরবের অংশ। তাদের এই অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি দিতে হবে, তা না হলে, তাদের সমর্থন হারিয়ে সরকারকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। প্রতিটি সরকারেরই দায়িত্ব হলো প্রবাসীদের অধিকার ও স্বীকৃতিকে নিশ্চিত করা এবং তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

এম এ আরেফিন আশরাফ
ব্যারিস্টার
কোর্টস অফ ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস

20/08/2024

ম্যাট্রিক পাশের পর ম্যাটস করে নামের আগে ডক্টর লিখতে চায়, এইটা কোন ধরণের পালগলামিরে ভাই !! এটা হাস্যস্কর দাবি এবং কোন অবস্থাতেই সমর্থন যোগ্য নয়।

18/08/2024

বাংলা অভিধান থেকে 'রাজনীতি' শব্দটি বিলুপ্ত হওয়া প্রয়োজন। এই শব্দের শাব্দিক অর্থ 'প্রজা শাসনের জন্য রাজার গৃহীত নীতি'। এখানে 'রাজা' এবং 'প্রজা' এই দুটি ধারণা দাসত্ব এবং শ্রেণি বিভাজনের প্রতীক, যা সমানাধিকারের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই, 'রাজনীতি' দ্বারা শাসক ও শাসিতের সমতা প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

অন্যদিকে, ইংরেজি 'পলিটিক্স' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'πολιτικά (politika)' থেকে, যার অর্থ হলো 'বহুজনের সমন্বয়ে গঠিত জনগোষ্ঠীর সকল বিষয় পরিচালনার জন্য গৃহীত নীতি ও পদ্ধতি'। এই শব্দটি মানুষের সমানাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। সুতরাং, 'পলিটিক্স' শব্দটির সমার্থক একটি যথাযথ বাংলা শব্দ প্রবর্তন আজ অত্যন্ত জরুরি।

বাংলা একাডেমির উচিত এই বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং এমন একটি বাংলা শব্দ প্রবর্তন করা, যা সমতা ও গণতন্ত্রের মর্মবস্তু বহন করবে।

18/08/2024

যে সকল বড় ভাইয়েরা ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন, সকল সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

Address

London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Barrister M A Arafin Ashraf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Featured

Share