10/08/2026
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রীতার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি!
কানাডার টরন্টো থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (বিজি-৩০৬) ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা, যা প্রায় ৪০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
এই পুরো সময়টায় যাত্রীদের ওপর যে অমানবিক আচরণ ও অবহেলা করা হয়েছে, তা দেশের এভিয়েশন খাতের ইতিহাসে লজ্জাজনক এক অধ্যায়।মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না।
একজন মন্ত্রী হিসেবে বিমান খাতের সার্বিক সুরক্ষা, শৃঙ্খলা এবং যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। কিন্তু এই সংকটে তাঁর এবং তাঁর মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ:
এসি বন্ধ অবস্থায় যাত্রীদের প্রায় ৮ ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অমানবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতালিতে নামার পর বিদেশি পাসপোর্টধারীদের (যেমন—মার্কিন বা কানাডিয়ান) ঠিকই হোটেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো, আর বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হলো। নিজের দেশের নাগরিকদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক ও অবহেলার নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বিমান কর্তৃপক্ষের মধ্যে ন্যূনতম যোগাযোগ বা তৎপরতা ছিল না। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সাময়িক আবাসন বা ইমিগ্রেশন জটিলতা নিরসনে মন্ত্রণালয় বা বিমান কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তার পরিচয় দিয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী একটি সংস্থার এমন চরম অব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের জীবন নিয়ে হেয়ালি করার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ মন্ত্রীর নেই। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে তাঁর পদত্যাগই এখন সময়ের দাবি।