30/11/2025
ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা ১০৭ – শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাধ্যতামূলক বন্ড গ্রহণ (Security for keeping the peace)।
ধারার উদ্দেশ্যঃ-
সাধারণত যখন কোন ব্যক্তির আচরণ, কার্যকলাপ বা পরিস্থিতির কারণে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, মারামারি, হানাহানি, বা অশান্তির আশঙ্কা দেখা যায়, তখন ম্যাজিস্ট্রেট অগ্রিম ব্যবস্থা হিসেবে ওই ব্যক্তিকে “শান্তিভঙ্গ রোধে” বন্ড দিতে বাধ্য করতে পারেন।
যে পরিস্থিতিতে ধারা ১০৭ প্রয়োগ হয়-
১) দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা।
২) জমি-জমা বিরোধে মারামারি বা ঝামেলার আশঙ্কা।
৩) স্থানীয়ভাবে জনভীতি বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা।
৪) চাঁদাবাজি, হুমকি বা বেআইনি জড়ো হওয়া।
৫) কোনো ব্যক্তির আচরণ থেকে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা।
ম্যাজিস্ট্রেট যা করতে পারেন-
১) ব্যক্তিকে তলব করা।
২) ব্যাখ্যা চাইতে শো-কজ নোটিশ দেওয়া।
৩) নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ১ বছর পর্যন্ত) জন্য শান্তি বজায় রাখার “বন্ড” দিতে বাধ্য করা।
৪) বন্ডে নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত বা গ্যারান্টর রাখতে বলা।
ধারা ১১৮ – বন্ড দিতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা (Action if person fails to give security)।
ধারার উদ্দেশ্যঃ-
ধারা ১০৭ মোতাবেক বন্ড দিতে নির্দেশ দেওয়ার পর
যদি ব্যক্তি বন্ড দিতে অস্বীকার করেন বা জামিনদার/জামানত দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ধারা ১১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ধারা ১১৮ এর মূল কার্যপ্রণালি-
১) ব্যক্তি বন্ড দিতে ব্যর্থ হলে ম্যাজিস্ট্রেট কারাদণ্ড দিতে পারেন।
২) কারাদণ্ড সাধারণত বন্ডের মেয়াদের সমান সময় পর্যন্ত হতে পারে।
৩) তবে যেকোনো সময় ব্যক্তি বন্ড দিতে রাজি হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সহজ উদাহরণঃ-
ধরুন, গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির উত্তেজনা চলছে। পুলিশ তথ্য দিয়ে জানায়—যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।
১) ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ১০৭ অনুযায়ী দুই পক্ষকে তলব করেন।
২) দুই পক্ষকে ১ বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ড দিতে নির্দেশ দেন।
যদি কোনো পক্ষ বন্ড দিতে অস্বীকার করে— সেই ক্ষেত্রে ধারা ১১৮ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।