23/09/2024
মুসলিম ফারায়েজ নীতিঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন
ইসলামী আইন অনুসারে কোন মৃত মুসলমান ব্যক্তির ত্যক্ত সম্পওির উপর তাহার উওরাধিকারগনের দাবী প্রবর্তিত হয় ।
এই সম্পওি ইসলামের বিধি বিধান অনুসারে বন্টন করার নাম ফরায়েজ ।
উওরাধিকার আইন অনুসারে একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পওি যে বা যারা ভোগ দখল করার অধিকারী তারা হলের মৃত্যু ব্যক্তির ওয়ারিশ বা উওরাধীকার ।
কে কতটা সম্পত্তির অংশ পাবে?
এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা নিসাতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ফারায়েজ আইন অনুযায়ী তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন
১. মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পত্তি থাকলে সেখান থেকে তার দাফন কাফনের যাবতীয় খরচ মেটাতে হবে।
২. তিনি যদি জীবিত থাকা অবস্থায় কোন ধার-দেনা করে থাকেন তবে তাও রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করে দিতে হবে।
৩. তার স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহর পরিশোধিত না হয়ে থাকলে বা আংশিক অপরিশোধিত থাকলে তা পরিশোধ করে দিতে হবে।
মোট কথা স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহর স্বামী মৃত অথবা জীবিত যাই থাকুক না কেন তা স্বামীর সম্পত্তি থেকে আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দিতে হবে।
৪. মৃত ব্যক্তি কোন দান কিংবা উইল করে গেলে তা প্রাপককে দিয়ে দিতে হবে।
উপরের সব কাজ সম্পন্ন করার পরে মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পত্তি ফারায়েজ আইন অনুযায়ী তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হবে।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন সন্তানকে ত্যাজ্য বলে ধরা হয় না। ফলে সম্পত্তি থেকে তাকেও বঞ্চিত করা যায় না।
তবে কোন ব্যক্তি রেজিস্ট্রিকৃতভাবে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করে গেলে এবং সন্তানকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে সন্তানের অংশ উল্লেখ না করে গেলে ঐ সন্তান আর সম্পত্তি পাবে না।
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাবে না
সৎ ছেলে-মেয়ে, সৎ বাবা বা সৎ মায়ের সম্পত্তি পায় না।
একই ভাবে সৎ বাবা বা সৎ মা, সৎ ছেলে-মেয়ের সম্পত্তি পায় না।
কেউ কাউকে হত্যা করলে হত্যাকারী তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না।
জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে কেউ কারো সম্পত্তি পাবে না।
জারজ সন্তান তার মা ও মায়ের আত্নীয়দের থেকে সম্পত্তি সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পাবে
(মুসলিম হানাফী আইন অনুসারে)।
মৃত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকার না থাকলে এবং তা তিনি জীবিতকালে কাউকে না দেয়ার ব্যবস্থা করে গেলে সরকার তার সম্পত্তির ওয়ারিশ হবে।
অংশীদারগণ
স্বামী
পিতা
আপন বোন
স্ত্রী
মাতা
বৈমাত্রেয় বোন
দাদা
দাদী বা নানী
বৈপিত্রেয় ভাই
কন্যা
পুত্রের কন্যা
বৈপিত্রেয় বোন
উত্তরাধিকার আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
আল কোরআনে বর্ণিত নির্দিষ্ট অংশের ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।
যথা :- ১/২ , ১/৩ , ১/৪ , ১/৬ , ২/৩ , এবং ১/৮
জবিউল ফুরুজঃ
এদের অংশ পবিত্র কোরআন শরীফে নির্ধারণ করে দেয়া আছে।
স্জবিউল ফুরুজ হল ১২ জন।
এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং বাকি ৮ জন মহিলা।
৪ জন পুরুষ হল –
(১) স্বামী, (২) পিতা , (৩) দাদা , (৪) সৎ ভাই (বৈপিত্রেয়)।
৮ জন মহিলা-
(১) স্ত্রী , (২) কন্যা , (৩) পুত্রের কন্যা , (৪) মাতা,(৫) দাদি এবং নানি
,
(৬) সহোদর বোন, (৭) সৎ বোন (বৈমাত্রেয়),(৮) সৎ বোন (বৈপিত্রেয়)।
আসাবা বা অবশিষ্টভোগীঃ
(১)। আসবা গণের চারটি শ্রেণী আছেঃ
শ্রেণী (১): (১)) পুত্র , (২))কন্যা , (৩))পুত্রের পুত্র, (৪)) পুত্রের কন্যা
শ্রেণী (২): (১))পিতা , (২))দাদা
শ্রেণী (৩):
(১))সহোদর ভাই,
(২))সহোদর বোন,
(৩))সৎ ভাই (বৈমাত্রেয়),
(৪))সৎ বোন(বৈমাত্রেয়),
(৫))সহোদর ভাইয়ের পুত্র,
(৬))সৎ ভাই(বৈমাত্রেয়)-এর পুত্র,
(৭))সহোদর ভাইয়ের পুত্রের পুত্র ,
(৮)) সৎ ভাই(বৈমাত্রেয়)-এর পুত্রের পুত্র ।
শ্রেণী (৪):
(১))চাচা,
(২))চাচা (বৈমাত্রেয়),
(৩))চাচাতো ভাই,
(৪))চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়),
(৫))চাচাতো ভাইয়ের পুত্র,
(৬))চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়) এর পুত্র ,
(৭))চাচাতো ভাইয়ের পুত্রের পুত্র,
(৮))চাচাতো ভাই (বৈমাত্রেয়)এর পুত্রের পুত্র
শুধুমাত্র পুরুষ অথবা মহিলা আসাবা হিসাবে থাকলে,
অবশিষ্টাংশের সম্পুর্ণ অংশ পুরুষ অথবা মহিলা পাবেন, কিন্তু
একই শ্রেণীর পুরুষ ও মহিলা একত্রে আসাবা হিসাবে থাকল
পুরুষ ও মহিলাগণ ২:১ অনুপাতে অবশিষ্টভোগী হবেন।
যারা সম্পওিতে অংশিদার হিসেবে কোন নির্দিষ্ট অংশ গ্রহন করে না কিন্তু অংশিদারদের অংশপ্রাপ্তির পর অবশিষ্টাংশ উওরাধিকারী হতে পারে তারাই অবশিষ্টভোগী বা আসাবা ।
যাবিল আরহাম হচ্ছে যাদের সাথে মৃত ব্যক্তির রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু সরাসরি মৃত ব্যক্তির উওরাধীকার নয় ।
উত্তরাধিকার আইনে কিছু সচরাচর প্রশ্ন:
১. প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীর শ্রেণীবিভাগ কিভাবে হয়?
উত্তরঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেনীর উত্তরাধিকার আছে।
যেমন : অংশীদার, অবশিষ্টাংশ ভোগী, দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ।
২. প্রশ্নঃ অংশীদার কারা?
উত্তরঃ যে উত্তরাধিকারীদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তারাই
৩. প্রশ্নঃ অবশিষ্টাংশভোগী কারা?
উত্তরঃ কোরআনের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট অংশীদারদের সম্পত্তি বন্টনের পর মৃতের সাথে যাদের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এবং
অবশিষ্ট সম্পত্তিতে যাদের অধিকার রয়েছে তারাই অবশিষ্টাংশ ভোগী।
৪. প্রশ্নঃ দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে কারা সম্পত্তি পাবে?
উত্তরঃ যাদের সাথে মৃতের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু
তারা অংশীদার বা অবশিষ্টাংশভোগী নয় তারাই মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ।
যদি মৃত ব্যাক্তির কোন অংশীদার বা অবশিষ্টাংশ ভোগী উত্তরাধিকার না থাকে তাহলেই কেবল মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ সম্পত্তি পাবেন।
৫. প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তির উত্তরাধিকার ?
উত্তর : মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মদ্ধ্যে অংশীদারগণই প্রধান উত্তরাধিকারী।
নির্ধারিত অংশ তাদেরকে দেয়ার পর যদি সম্পত্তি থাকে তবে তা অন্যদের মধ্যে বন্টন করতে হবে অর্থাৎ অংশীদারগণ সকল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার পান।
অংশীদারগণের মধ্যে স্ত্রী অন্যতম।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের ৬ জনকে কোন অবস্থায়ই উত্তরাধিকার হতে বাদ যায় না-
★পিতা ★মাতা ★ছেলে ★মেয়ে ★স্বামী ★স্ত্রী
মনে রাখবেন, স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী এবং স্ত্রীর অবর্তমানে স্বামী সম্পত্তি পাবেন।
৬. প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে আর কে কে অংশীদার আছেন?
উত্তর: মোট ১২ জন অংশীদার আছেন। তাদের ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী।
পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, কন্যাসহ
অন্যরা হলেন-দাদা, পুত্রের কন্যা, দাদী বা নানী, আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই, বৈপিত্রেয় বোন।
৭. প্রশ্নঃ ছেলে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?
উত্তরঃ মৃত ব্যক্তির ছেলে/ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি লাভ করবেন।
যেক্ষেত্রে মৃতব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে বর্তমান সেক্ষেত্রে
ছেলে/ছেলেরা, মেয়ে/মেয়েদের দ্বিগুন সম্পত্তি পাবেন।
মৃতব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে।
তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে পাবে।