23/03/2026
১৬৪ ধারার জবানবন্দি কোনো অলঙ্ঘনীয় বা চূড়ান্ত বিষয় নয়। শুধুমাত্র ১৬৪ ধারার জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কোনো সাজা বা দণ্ড দেওয়া সম্ভব নয়। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে অবশ্যই অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
এটা হচ্ছে... যখন আমি একটা কথা বলি, যখন চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়, তখন যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতের সামনে দোষ স্বীকার করে (guilty plea), আদালতের সামনে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নয় কিন্তু, সরাসরি আদালতের সামনে; সেক্ষেত্রে কি হুট করে শাস্তি দিয়ে দেওয়া যায়?
মনে রাখবে, সরাসরি শাস্তি দেওয়া যায় না। কিন্তু আদালতের সামনে যদি দোষ স্বীকার করে, তবে পেটি অফেন্স (সামান্য অপরাধ) হলে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেশন কেসের (গুরুতর অপরাধ) ক্ষেত্রে এভাবে শাস্তি দেওয়া যায় না। এর ওপর অনেক রায় (judgment) আছে।
কেন দেওয়া যাবে না? কারণ তখন সেই জবানবন্দি বা আরজিটিকে রেকর্ড করতে হয়। জজ সাহেব যখন চার্জ ফ্রেম (অভিযোগ গঠন) করবেন, তখন তিনি সেটা রেকর্ড করবেন। তিনি লিখবেন যে, 'চার্জের উত্তরে সে অপরাধ স্বীকার করেছে এবং নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করেছে'। এগুলো লিখবেন, কিন্তু শাস্তি দেবেন না। তিনি কী করবেন? তিনি ট্রায়াল বা বিচারের জন্য দিন ধার্য করবেন এবং বলবেন যে 'প্রসিকিউশন (বাদীপক্ষ), তোমরা প্রমাণ করো।' কারণ অনেক সময় মানুষ মিথ্যা কথা বলে, বা অন্য কাউকে বাঁচানোর জন্য নিজের ঘাড়ে দায় তুলে নেয়। অর্থাৎ, এই যে সে দোষ স্বীকার করল, এটা কাউকে বাঁচানোর জন্য কি না (তা যাচাই করা প্রয়োজন)।
বিচারপতি এস.এম খসরুজ্জামান