Learn for Life

Learn for Life Alhamdulillah

11/02/2026

ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করার প্রয়োজন নেই,ওষুধ না খেয়েও আপনি ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারেন। কিভাবে তা জানতে হলে এই লেখাটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে।

✅আপনার কি মনে হয় ফার্মেসির ওই রঙিন ক্যাপসুলগুলোই আপনার প্রাণভোমরা?

✅আপনি কি বিশ্বাস করেন বয়স ৪০ পেরোলেই সুগার, প্রেশার, বাতের ব্যথা আপনার বিধিলিপি? নাকি আপনি সেই দলের মানুষ, যারা মনে করেন—"ওষুধ ছাড়া আমি অচল"?

✅অধ্যায় ১: আধুনিক চিকিৎসার মায়াজাল ও আপনার শরীর (The Illusion of Medicine)
আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে সুস্থতার সংজ্ঞাটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। আজ সুস্থ থাকার অর্থ—'রিপোর্ট ঠিক রাখা'। কিন্তু আপনি কি জানেন, রিপোর্ট ঠিক থাকার মানেই সুস্থতা নয়?

আমাদের শরীর কোনো যন্ত্র নয় যে কোনো একটি পার্টস খারাপ হলে তা বদলে ফেলব বা তেল দিয়ে ঠিক করব। শরীর হলো এক মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তা (Cosmic Intelligence)। আপনি যখন সামান্য মাথাব্যথার জন্য একটি প্যারাসিটামল খান, আপনি আসলে আপনার শরীরের 'সতর্কবার্তা' বা অ্যালার্ম সিস্টেমটি বন্ধ করে দিচ্ছেন। মাথাব্যথা ছিল শরীরের ভাষা—সে বলছিল আপনার বিশ্রাম দরকার, বা জল দরকার। আপনি ওষুধ দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দিলেন।

✅ভয়ঙ্কর সত্য: দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা 'Side Effects' নতুন রোগের জন্ম দেয়। প্রেশারের ওষুধ কিডনি নষ্ট করে, ব্যথার ওষুধ লিভার পচিয়ে দেয়। একে বলা হয় 'Iatrogenics'—অর্থাৎ চিকিৎসার কারণে সৃষ্ট রোগ।

✅উপদেশ: ছোটখাটো অসুখে ওষুধের বাক্সে হাত দেবেন না। জ্বর হলে শরীরকে পুড়তে দিন, সেই উত্তাপেই ভাইরাস মরবে। পেট খারাপ হলে উপবাস করুন, শরীর আবর্জনা বের করে দেবে। শরীরের ওপর বিশ্বাস রাখুন, সে আপনাকে ঠকাবে না।

✅অধ্যায় ২: অটোফেজি – শরীরের ভেতরের ডাস্টবিন পরিষ্কার (The Magic of Fasting)

আমাদের দাদু-দিদারা বলতেন, "লংঘনম্ পরম্ ঔষধম্"। অর্থাৎ উপবাসই শ্রেষ্ঠ ওষুধ। তখন আমরা হাসতাম। আজ ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি (Yoshinori Ohsumi) নোবেল পুরস্কার পেলেন 'অটোফেজি' (Autophagy) আবিষ্কারের জন্য।

✅অটোফেজি কী?
যখন আপনি ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় না খেয়ে থাকেন, আপনার শরীর বাইরে থেকে খাবার পায় না। তখন বাঁচার তাগিদে শরীর তার ভেতরের মৃত কোষ, টক্সিন, এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক সেলগুলোকে খেয়ে ফেলে শক্তি উৎপাদন করে। সোজা কথায়, শরীর নিজের ভেতরের ডাস্টবিন নিজেই পরিষ্কার করে।
কীভাবে করবেন? ৩৫ বছরের পর তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

✅Intermittent Fasting: রাত ৮টায় খেয়ে নিন, পরদিন দুপুর ১২টার আগে ভারী কিছু খাবেন না। এই ১৬ ঘণ্টার গ্যাপে আপনার শরীর নিজেকে সারিয়ে নতুন করে তুলবে।

✅সপ্তাহে অন্তত একদিন শুধু জল বা ফল খেয়ে থাকুন। দেখবেন, আপনার বয়স ১০ বছর কমে গেছে।

✅অধ্যায় ৩: মন-ই আসল হিলিং সেন্টার (Psychoneuroimmunology)
আমাদের অসুখের শিকড় শরীরে নয়, মনে। বিজ্ঞান বলছে, ৯০% অসুখ 'সাইকোসোমাটিক' (Psychosomatic)। 'সাইকো' মানে মন, 'সোমা' মানে শরীর।

🎇🎇আপনার কি মনে আছে শেষ কবে আপনি প্রাণখুলে হেসেছিলেন? বা শেষ কবে কোনো কারণ ছাড়াই কেঁদেছিলেন? আমরা আমাদের আবেগগুলোকে দমিয়ে রাখি।

🎆• যে রাগ আপনি প্রকাশ করেননি, তা উচ্চ রক্তচাপ হয়ে বের হয়।

🎆• যে কান্না আপনি চেপে রেখেছেন, তা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট হয়ে দেখা দেয়।

🎆• যে ভয় আপনাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে, তা কিডনির অসুখ ডেকে আনে।

🎆• আর কাউকে ক্ষমা না করার জেদ ক্যান্সার তৈরি করে।

✅মনোবল শক্ত রাখার উপায়:
নিজেকে এক্সপ্রেস করুন। চিৎকার করে গান গাইলে গান, নাচতে ইচ্ছে হলে নাচুন। কে কী ভাবল—তা নিয়ে ভাবার সময় এখন আর নেই। মনের আবর্জনা বের করে দিলেই শরীর হালকা হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, "আমি আমাকে ভালোবাসি, আমি আমাকে গ্রহণ করেছি।" এই ছোট বাক্যটি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র।

✅অধ্যায় ৪: জলই জীবন, নাকি জলই বিষ? (The Water Memory)

আমরা জানি জলের অপর নাম জীবন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে জল পান করলে তা বিষের মতো কাজ করে? বেশিরভাগ মানুষ দাঁড়িয়ে জল পান করেন। এতে কিডনির ফিল্টার নষ্ট হয় এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যা বাড়ে। আবার অনেকে খাবারের মাঝখানে ঢকঢক করে জল খান। এটি পেটের জঠরাগ্নি (Digestive Fire) নিভিয়ে দেয়, ফলে খাবার হজম না হয়ে পচে যায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়।

✅সঠিক নিয়ম:
• জল সবসময় বসে, চুমুক দিয়ে (Sip by sip) পান করুন, যেন মুখের লালা (Saliva) জলের সাথে মিশে পেটে যায়। এই লালা ক্ষারীয় (Alkaline), যা পেটের অ্যাসিড প্রশমিত করে।

• খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এবং খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর জল পান করুন।

• প্লাস্টিকের বোতল বর্জন করুন। মাটির কলসি বা তামার পাত্রের জল পান করুন। এতে জলের 'Life Energy' বা প্রাণশক্তি বজায় থাকে।

✅অধ্যায় ৫: খাবার যখন ওষুধ (Let Food Be Thy Medicine)

হিপোক্রেটিস বলেছিলেন, "তোমার খাবারই হোক তোমার ওষুধ।" কিন্তু আমরা খাবারকে বানিয়েছি বিনোদন। জিহ্বার স্বাদের জন্য আমরা যা খাই, তা আমাদের অন্ত্রের (Gut) জন্য অত্যাচার।
আমাদের শরীর 'মৃত' খাবার চেনে না। প্যাকেটজাত খাবার, ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার, রিফাইন করা তেল ও চিনি—এগুলো সবই 'মৃত খাবার' (Dead Food)। এগুলো শরীরে গিয়ে কোনো শক্তি দেয় না, শুধু বোঝা বাড়ায়।
কী খাবেন?

• জীবন্ত খাবার (Living Food): প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ৫০% কাঁচা শাকসবজি, ফল এবং সালাদ রাখুন। রান্না করা খাবারে এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু কাঁচা খাবারে 'প্রাণ' থাকে।

• সাদা বিষ বর্জন: সাদা চিনি, সাদা লবণ এবং ময়দা—এই তিনটি জিনিস রান্নাঘর থেকে বিদায় করুন। এগুলো সরাসরি হাড় ক্ষয় করে এবং ডায়াবেটিস ডেকে আনে।

• চিবিয়ে খাওয়া: খাবার এমনভাবে চিবাবেন যেন তা মুখে জল হয়ে যায়। মনে রাখবেন, "পাকস্থলীতে কোনো দাঁত নেই।"

✅অধ্যায় ৬: ঘুম যখন মেরামতের সময় (The Circadian Rhythm)

আপনি হয়তো দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তবুও সকালে ক্লান্ত লাগে। কেন জানেন? কারণ আপনি প্রকৃতির ঘড়ির সাথে মিল রেখে ঘুমাচ্ছেন না। আমাদের শরীরে একটি বায়োলজিক্যাল ক্লক আছে। রাত ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত সময়টা হলো আমাদের শরীরের 'মেরামত' করার সময়। এই সময়ে আমাদের লিভার ডিটক্স করে, হরমোন ব্যালেন্স হয়।
কিন্তু আপনি যদি রাত ১টায় ঘুমান, তবে শরীর তার মেরামতের সময় পায় না। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে শরীর ভাঙতে শুরু করে।

✅টিপস:
• রাত ১০টার মধ্যে বিছানায় যান।

• শোয়ার ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। নীল আলো (Blue Light) আমাদের মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন নষ্ট করে দেয়, যা ঘুমের জন্য দায়ী।

• শোয়ার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখুন। সামান্য আলোও আপনার গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

✅অধ্যায় ৭: হাঁটা মানে জিম নয়, প্রকৃতির সাথে সংযোগ (Earthing & Movement)

৪০-এর পর জিমে গিয়ে ভারী লোহা তোলার দরকার নেই। দরকার 'ফাংশনাল মুভমেন্ট'। আমাদের শরীর তৈরি হয়েছে নড়াচড়া করার জন্য, চেয়ারে বসে থাকার জন্য নয়। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো 'Earthing' বা মাটির সাথে সংযোগ।
আমরা এখন জুতো ছাড়া মাটিতে পা ফেলি না। ফলে পৃথিবী থেকে যে নেগেটিভ ইলেকট্রন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ (Inflammation) কমানোর কথা, তা আর হতে পারে না।

✅করনীয়:
• প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট খালি পায়ে ঘাসের ওপর বা মাটিতে হাঁটুন। এটি আপনার নার্ভ সিস্টেম শান্ত করবে, প্রেশার কমাবে এবং ঘুমের উন্নতি ঘটাবে।

• সূর্যের আলো গায়ে মাখুন। ভিটামিন ডি কোনো ট্যাবলেট থেকে পাওয়া যায় না, তা পাওয়া যায় সূর্যের আলো আর চামড়ার কোলেস্টেরলের বিক্রিয়ায়। প্রতিদিন সকালে ১৫ মিনিট রোদ পোহান।

✅অধ্যায় ৮: সম্পর্ক ও ক্ষমা – হৃদরোগের আসল প্রতিষেধক (Forgiveness Detox)

শুনতে অবাক লাগবে, কিন্তু অনেক মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় শুধু মনের ভেতর বছরের পর বছর পুষে রাখা ক্ষোভের কারণে। কাউকে ক্ষমা না করা মানে হলো—নিজে বিষ পান করে আশা করা যে অন্য কেউ মারা যাবে।

আপনার বয়স যদি ৫০-এর বেশি হয়, তবে আজই একটা কাজ করুন। চোখ বন্ধ করুন এবং সেই মানুষগুলোকে ক্ষমা করে দিন যারা আপনাকে ঠকিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে। তাদের জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য। বিশ্বাস করুন, ক্ষমা করে দেওয়ার পর আপনার বুকের ওপর থেকে যে পাথরটা নেমে যাবে, তা ১০টা হার্টের ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকরী।
একাকীত্ব ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর। তাই মানুষের সাথে মিশুন। পুরানো বন্ধুদের খুঁজে বের করুন। নতুন সম্পর্ক গড়ুন। নাতি-নাতনিদের সাথে সময় কাটান। ভালোবাসার হরমোন 'অক্সিটোসিন' আপনার ইমিউনিটি বাড়াবে।

✅অধ্যায় ৯: শ্বাস – প্রাণের অদৃশ্য সুতো (The Power of Breath)

আমরা শ্বাস নিই, কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে শ্বাস নিতে হয়। আমরা বুক ভরে ছোট ছোট শ্বাস নিই, যা আমাদের শরীরকে সবসময় 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Stress Mode) মোডে রাখে। দীর্ঘ ও গভীর শ্বাস (Deep Breathing) আমাদের প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা শরীরকে শান্ত করে।

✅প্রাণায়াম: প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট 'অনুলোম-বিলোম' বা 'গভীর শ্বাস' অনুশীলন করুন। কল্পনা করুন, প্রতিটি শ্বাসের সাথে মহাবিশ্বের পজিটিভ শক্তি আপনার শরীরে ঢুকছে, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে শরীরের সব রোগ, হতাশা কালো ধোঁয়া হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেনই হলো সেই জ্বালানি যা ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করতে পারে (ক্যান্সার সেল অক্সিজেন সমৃদ্ধ পরিবেশে বাঁচতে পারে না)।

✅অধ্যায় ১০: মৃত্যুর ভয় ও আধ্যাত্মিক জাগরণ (Spiritual Acceptance)

সবশেষে, সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় বাধা হলো—মৃত্যুভয়। আমরা মরতে ভয় পাই বলেই বাঁচতে ভুলে যাই। যে মানুষ জানে যে মৃত্যু কোনো শেষ নয়, বরং এক নতুন যাত্রার শুরু, বা এক পোশাক বদলে অন্য পোশাক পরা—সে কখনো অসুস্থ হয় না। তার মনের জোর অসীম।
বার্ধক্য কোনো অভিশাপ নয়, এটি জীবনের একটি রাজকীয় অধ্যায়। চুলে পাক ধরা মানে আপনি অভিজ্ঞ, চামড়ায় ভাঁজ মানে আপনি জীবনের অনেক ঝড় সামলেছেন। নিজেকে বুড়ো ভাবা বন্ধ করুন।

জীবনের উদ্দেশ্য (Ikigai): জাপানিরা একে বলে 'ইকিগাই'। অর্থাৎ, সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি কারণ। রিটায়ারমেন্ট মানে জীবনের শেষ নয়। নতুন কিছু শিখুন। বাগান করুন, বই লিখুন, সমাজসেবা করুন। যেদিন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য শেষ হয়ে যাবে, সেদিন শরীরও হাল ছেড়ে দেবে। তাই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত স্বপ্ন দেখুন।

✅✅উপসংহার: চাবি আপনার হাতেই

প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ যা পড়লেন, তা কোনো জাদুর মন্ত্র নয়, এটিই শাশ্বত জীবনধারা। ডাক্তার আপনাকে বাঁচাবে না, হাসপাতাল আপনাকে সুস্থ করবে না। সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার রান্নাঘরে, আপনার চিন্তায়, আপনার জীবনযাত্রায়।

সৃষ্টিকর্তা আপনাকে পাঠিয়েছেন একটি নিখুঁত মেশিন হিসেবে। এর যত্ন নিন। প্রকৃতির সাথে মিশুন। হাসুন, ভালোবাসুন, ক্ষমা করুন। আপনার মনের শক্তি যখন জেগে উঠবে, তখন কোনো রোগ আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে সাহস পাবে না।

আপনি কি প্রস্তুত আপনার জীবনটাকে বদলে ফেলার জন্য? নাকি সেই ওষুধের বাক্সের কাছেই আত্মসমর্পণ করবেন? সিদ্ধান্ত আজই নিন।

সংগৃহীত

ভালো লাগলে সকলের সাথে শেয়ার করবেন

01/02/2026

আল্লাহ যা করেন ভালোর জন‍্য করুন

সমুদ্রের মাঝখানে এক জাহাজ প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পরে লন্ডভন্ড হয়ে গেল। সেই জাহাজের বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ভাসতে ভাসতে এক নির্জন দ্বীপে এসে পৌছালো। জ্ঞান ফেরার পর প্রথমেই সে আল্লাহর কাছে প্রানখুলে ধন্যবাদ জানালো তার জীবন বাঁচানোর জন্যে। প্রতিদিন সে দ্বীপের তীরে এসে বসে থাকতো যদি কোনো জাহাজ সেদিকে আসে এই আশায়।কিন্তু প্রতিদিনই তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হতো।এরই মধ্যে সে সমুদ্রতীরে তার জন্যে একটা ছোট ঘর তৈরী করে ফেললো। সমুদ্রের মাছ ধরে এবং বন থেকে ফলমূল শিকার সে বেঁচে থাকলো।

এরই মধ্যে সে একদিন খাবারের খোঁজে বনের মধ্যে গেল। বন থেকে সে যখন ফিরে এলো তখন দেখলো যে তার রান্না করার চুলা থেকে আগুন লেগে পুরো ঘরটিই ছাই হয়ে গিয়েছে এবং তার কালো ধোঁয়ায় আকাশ ভরে গিয়েছে।লোকটি চিৎকার করে উঠলো,

‘হায় আল্লাহ,তুমি আমার ভাগ্যে এটাও রেখেছিলে!’

পরদিন সকালে এক জাহাজের আওয়াজে তার ঘুম ভাঙলো।জাহাজটি সেই দ্বীপের দিকে তাকে উদ্ধার করার জন্যই আসছিলো। সে অবাক হয়ে বললো,

‘তোমরা কিভাবে জানলে যে আমি এখানে আটকা পরে আছি!’

জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালো,‘তোমার জ্বালানো ধোঁয়ার সংকেত দেখে।'

অবশেষে জনগণের স্লোগানে সত‍্য হলো ঃ- তারেক রহমান আসছে , রাজপথ কাঁপছে
25/12/2025

অবশেষে জনগণের স্লোগানে সত‍্য হলো ঃ- তারেক রহমান আসছে , রাজপথ কাঁপছে

খুব কস্ট লাগে যখন দেখি কোন মানুষের বিপদে কিংবা মৃত‍্যুতে  অন‍্য মানুষ সমবেদনা না জানিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে উল্লাস করে ।...
15/12/2025

খুব কস্ট লাগে যখন দেখি কোন মানুষের বিপদে কিংবা মৃত‍্যুতে অন‍্য মানুষ সমবেদনা না জানিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে উল্লাস করে । আমাদেরকে অন্তর কি একেবারে মরে গেছে? কোনো মানবিকতা কি আমাদের স্পর্শ করে না ? হোক না সে আমার শত্রু । সেতো মানুষ ।
আমরা রাজনীতি কেন করি জনগণের সেবা করার জন্যে । জনগণ কে কষ্ট দিয়ে কি জনগণের সেবা করা যায় । রাজনীতির উদ্দেশ্য যদি হয় অর্থ উপার্জন তাহলে সেই রাজনীতি পরিহার করা উচিত ।
মালালা'র কথা মনে আছে? মেশিন গা*নের গু*লি মাথার একদিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল! চিকিৎসার জন্য তাকে পা'কি*স্তান থেকে ইং'ল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।আল্লাহর রহমত ও উন্নত চিকিৎসা'য় তিনি জীবন ফিরে পেয়েছিল।
হাদি'র জন্য যতো টাকা লাগে লাগুক, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ করে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো হোক। যদি সরকার টাকা দিতে না চায় তাহলে প্রোয়োজনে সাহায্য তুলে তারপর তাকে বিদেশে নেওয়া হোক।
হাদি'রা প্রতিদিন জন্মায় না,যুগে যুগে কালেভদ্রে হাদি'রা আসে।এদেশে হাদি'দের খুব দরকার। হাদিরা এ দেশের জাতীয় সম্পদ ।

10/12/2025

#আল্লাহ কেন সবাইকে অঢেল সম্পদের মালিক করেন না # #

একবার হযরত মুসা (আ.) এক রাস্তার পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, অত্যন্ত দরিদ্র এক ব্যক্তি বালির ভেতরে শরীর ডুবিয়ে বসে আছে। তার গায়ে কোনো কাপড় নেই, লজ্জায় সে বালু দিয়ে শরীর ঢেকে রেখেছে।

লোকটি হযরত মুসা (আ.)-কে দেখে আর্তনাদ করে বলল, “হে আল্লাহর নবী! আমার জন্য একটু দোয়া করুন। আল্লাহ যেন আমাকে অন্তত বেঁচে থাকার মতো সামান্য কিছু রিযিক দান করেন। অভাবের তাড়নায় আমি আর বাঁচতে পারছি না।”

ফকিরের করুণ অবস্থা দেখে হযরত মুসা (আ.)-এর দয়া হলো। তিনি আল্লাহর কাছে লোকটির সচ্ছলতার জন্য দোয়া করলেন এবং চলে গেলেন। পরবর্তীতে আল্লাহর নবীর দোয়াও কবুল হলো।

কিছুদিন পর মুসা (আ.) ওই পথ দিয়ে ফিরছিলেন। তিনি দেখলেন, রাস্তায় বিশাল জটলা। অনেক মানুষ ভিড় করে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এখানে কী হয়েছে? এত ভিড় কেন?”

লোকেরা জানাল, “কিছুদিন আগে যে ভিক্ষুকটি বালির নিচে শরীর ঢেকে পড়ে থাকত, সে হঠাৎ কিছু সম্পদ পেয়েছিল। টাকা পেয়ে সে মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে। এরপর মাতলামি করতে গিয়ে ঝগড়া করে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এখন তার ‘কিসাস’ বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।”

হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর প্রজ্ঞার স্বীকারোক্তি দিলেন এবং নিজের আবদারের জন্য ইস্তিগফার করলেন।

ঘটনাটি উল্লেখ করে আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) কিছু চমৎকার উপমা ও প্রবাদ ব্যবহার করেছেন:

১. বেচারা বিড়ালের যদি ডানা থাকত, তবে সে দুনিয়া থেকে সব চড়ুই পাখির বংশ শেষ করে দিত।”(অর্থাৎ, দুর্বলরা শক্তি পেলে অত্যাচারী হয়ে ওঠে)।

২. প্লাটো (আফলাতুন) বলেছেন: “পিঁপড়ার পাখা না থাকাই ভালো। কারণ পাখা গজালে সে উড়ে বেড়াবে এবং নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।”

৩. পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন: “যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে অঢেল রিযিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত।” (সূরা শুরা: ২৭)

৪. বাবার কাছে অনেক মধু আছে, কিন্তু তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে তা খেতে দেন না। কারণ তিনি জানেন, মধু মিষ্টি হলেও জ্বরের রোগীর জন্য (শরীরে গরমের তাপমাত্রা বেশি থাকলে) তা ক্ষতিকর।

অতএব, যিনি তোমাকে ধনী করেননি, তিনি তোমার ভালো-মন্দ তোমার চেয়ে বেশি জানেন।

✒️ আল্লামা শেখ সা'দী রহ.

03/12/2025

শফি মামলা বা অগ্র ক্রয় মামলা (Pre-emption Suit)ঃ

*অগ্র ক্রয় মামলা কী?

বাংলাদেশের ভূমি আইনে অগ্র ক্রয় (Pre-emption) হলো একটি আইনি অধিকার, যার মাধ্যমে জমির নিকটস্থ প্রতিবেশী, সহ-মালিক বা contiguous land owner অন্য কাউকে বিক্রি করা জমি নিজে কেনার দাবি করতে পারেন।
এটি মূলত ইসলামী আইন থেকে এসেছে ।

অর্থাৎ, কোনো জমির মালিক যদি জমি তৃতীয় ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন, তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি আইন অনুযায়ী দাবি করতে পারেন—
“আমি এই জমিটি আগে কিনতে চাই, কারণ আমার আইনি অগ্রাধিকার রয়েছে।”

*কেন অগ্র ক্রয় মামলা করা হয়?

যখন—
একজন সহ-খতিয়ান মালিক (co-sharer)
সংলগ্ন জমির মালিক (contiguous land owner)

জমি কেনার ক্ষেত্রে আইনি অগ্রাধিকার থাকা সত্ত্বেও জমি অন্য কাউকে বিক্রি করা হয়, তখন তিনি আদালতে মামলা করেন অগ্র ক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের জন্য।

*অগ্র ক্রয় মামলা কোন আইনের অধীনে?

বাংলাদেশে এটি মূলত নিচের আইনের অধীনে পরিচালিত হয়—
State Acquisition & Tenancy Act, 1950 (SAT Act)
বিশেষ করে ৮৮, ৮৯, ৯০ ধারার মাধ্যমে

*কে অগ্র ক্রয় দাবি করতে পারেন?

1. সহ-খতিয়ান মালিক (Co-sharer in the tenancy)
2. সংলগ্ন জমির মালিক (Adjacent land owner)
3. স্থানীয় রীতিতে যাদের অগ্রাধিকার স্বীকৃত।

এদের যে কেউ বৈধভাবে দাবি করতে পারেন।

*অগ্র ক্রয় মামলা করার শর্তাবলি

১. জমি বিক্রির (রেজিস্ট্রি) ৪ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে।
২. মামলা করার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কোর্টে জমা দিতে হয়, যেমন—

*বিক্রয় মূল্য
প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়
৩. আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে—

তিনি সহ-মালিক বা সংলগ্ন জমির মালিক
যথাযথ কারণে তিনি জমিটি নিজে নিতে চান
জালিয়াতি বা উদ্দেশ্যমূলক গোপনীয়তা ছিল কিনা

*মামলা করার ধাপ (সংক্ষেপে)

১. বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর ৪ মাসের মধ্যে মামলা
জমি বিক্রি হয়েছে জেনে আবেদনকারী দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
২. আদালতে দরখাস্ত দাখিল

*নিচে প্রয়োজনীয় দলিলসহ সিভিল কোর্টে মামলা করা হয়।
৩. জামানত বা বিক্রয় মূল্য জমা
বিক্রয় মূল্য আদালতে জমা দিতে হয়।
৪. আদালতের তদন্ত

কে সহ-মালিক
কে সংলগ্ন মালিক
কার অগ্রাধিকার বেশি
বিক্রির উদ্দেশ্য
সব বিচার করে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়।

৫. রায়

মামলাকারীর অগ্রাধিকার বৈধ হলে জমিটি তার নামে ক্রয় বলে গণ্য হবে।

অন্যথায় মামলা বাতিল।

কোন পরিস্থিতিতে অগ্র ক্রয় মামলা করা যায় না?
জমি উত্তরাধিকার সূত্রে ভাগ হয়
হক সনদ বা সরকারি বন্দোবস্তে জমি দেওয়া হয়
পারিবারিক রেজিস্ট্রি বা বিবাহ-সম্পর্কিত বিনিময়
একই মালিক স্বামী/স্ত্রীকে জমি দেন
ওয়াকফ বা দান সংক্রান্ত কিছু লেনদেন

এগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত Pre-emption প্রযোজ্য হয় না।

*অগ্র ক্রয় মামলার ফলাফল

যদি আদালত আবেদনকারীকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে

জমি ক্রেতার নাম বাদ হয়ে যায়
মামলাকারীর নামে জমিটি নথিভুক্ত হয়
জমির দখলও মামলাকারী পায়

মোঃ আল-আমিন অমি
এডভোকেট
জজ কোর্ট, ঢাকা

*অগ্র ক্রয় মামলা কী?
বাংলাদেশের ভূমি আইনে অগ্র ক্রয় (Pre-emption) হলো একটি আইনি অধিকার, যার মাধ্যমে জমির নিকটস্থ প্রতিবেশী, সহ-মালিক বা contiguous land owner অন্য কাউকে বিক্রি করা জমি নিজে কেনার দাবি করতে পারেন।

অর্থাৎ, কোনো জমির মালিক যদি জমি তৃতীয় ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন, তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি আইন অনুযায়ী দাবি করতে পারেন—
“আমি এই জমিটি আগে কিনতে চাই, কারণ আমার আইনি অগ্রাধিকার রয়েছে।”

*কেন অগ্র ক্রয় মামলা করা হয়?

যখন—
একজন সহ-খতিয়ান মালিক (co-sharer)
সংলগ্ন জমির মালিক (contiguous land owner)

জমি কেনার ক্ষেত্রে আইনি অগ্রাধিকার থাকা সত্ত্বেও জমি অন্য কাউকে বিক্রি করা হয়, তখন তিনি আদালতে মামলা করেন অগ্র ক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের জন্য।

*অগ্র ক্রয় মামলা কোন আইনের অধীনে?

বাংলাদেশে এটি মূলত নিচের আইনের অধীনে পরিচালিত হয়—
State Acquisition & Tenancy Act, 1950 (SAT Act)
বিশেষ করে ৮৮, ৮৯, ৯০ ধারার মাধ্যমে

*কে অগ্র ক্রয় দাবি করতে পারেন?

1. সহ-খতিয়ান মালিক (Co-sharer in the tenancy)
2. সংলগ্ন জমির মালিক (Adjacent land owner)
3. স্থানীয় রীতিতে যাদের অগ্রাধিকার স্বীকৃত।

এদের যে কেউ বৈধভাবে দাবি করতে পারেন।

*অগ্র ক্রয় মামলা করার শর্তাবলি

১. জমি বিক্রির (রেজিস্ট্রি) ৪ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে।
২. মামলা করার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কোর্টে জমা দিতে হয়, যেমন—

*বিক্রয় মূল্য
প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়
৩. আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে—

তিনি সহ-মালিক বা সংলগ্ন জমির মালিক
যথাযথ কারণে তিনি জমিটি নিজে নিতে চান
জালিয়াতি বা উদ্দেশ্যমূলক গোপনীয়তা ছিল কিনা

*মামলা করার ধাপ (সংক্ষেপে)

১. বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর ৪ মাসের মধ্যে মামলা
জমি বিক্রি হয়েছে জেনে আবেদনকারী দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
২. আদালতে দরখাস্ত দাখিল

*নিচে প্রয়োজনীয় দলিলসহ সিভিল কোর্টে মামলা করা হয়।
৩. জামানত বা বিক্রয় মূল্য জমা
বিক্রয় মূল্য আদালতে জমা দিতে হয়।
৪. আদালতের তদন্ত

কে সহ-মালিক
কে সংলগ্ন মালিক
কার অগ্রাধিকার বেশি
বিক্রির উদ্দেশ্য
সব বিচার করে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়।

৫. রায়

মামলাকারীর অগ্রাধিকার বৈধ হলে জমিটি তার নামে ক্রয় বলে গণ্য হবে।

অন্যথায় মামলা বাতিল।

কোন পরিস্থিতিতে অগ্র ক্রয় মামলা করা যায় না?
জমি উত্তরাধিকার সূত্রে ভাগ হয়
হক সনদ বা সরকারি বন্দোবস্তে জমি দেওয়া হয়
পারিবারিক রেজিস্ট্রি বা বিবাহ-সম্পর্কিত বিনিময়
একই মালিক স্বামী/স্ত্রীকে জমি দেন
ওয়াকফ বা দান সংক্রান্ত কিছু লেনদেন

এগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত Pre-emption প্রযোজ্য হয় না।

*অগ্র ক্রয় মামলার ফলাফল

যদি আদালত আবেদনকারীকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে

জমি ক্রেতার নাম বাদ হয়ে যায়
মামলাকারীর নামে জমিটি নথিভুক্ত হয়
জমির দখলও মামলাকারী পায়

08/11/2025

টিনএজ সন্তানের বাবা-মায়েরা পোস্ট টি অবশ্যই পড়বেন।

🧠 পর্ব ১: টিনএজ মস্তিষ্কের ভেতরের রহস্য, কেন বদলে যায় সন্তান?

আমাদের সন্তান যখন টিনএজে পা রাখে, হঠাৎ করেই,,সে যেন “অচেনা” হয়ে যায়।
আগের মতো শোনে না, কথায় কথায় রাগ করে, প্রেমে পড়ে, নিজের ঘরে থাকে, বা মনে হয় সে আমাদের চেয়ে বন্ধুর কথায় বেশি বিশ্বাস করে।

অনেক বাবা-মা তখন বলে বসেন, “এই বয়সে বাচ্চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!”কিন্তু আসলে তাদের মস্তিষ্ক তখন পুনর্গঠনের বিশাল এক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

চলুন একটু বিস্তারিত জানে নেই:💁‍♀️

🌿 ১. মস্তিষ্ক তখন নতুন করে গড়ে উঠছে, রি-ওয়্যারিং চলছে।টিনএজ মানে শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়;এ সময় মস্তিষ্কের ভিতরে চলে এক “Brain Remodeling” প্রক্রিয়া।এটা শুরু হয় প্রায় ১০–১২ বছর বয়স থেকে, এবং চলে প্রায় ২৪ বছর পর্যন্ত!তাই আপনি যত যাই বলেন, একটা মানুষের ২৪ এর আগে ম্যাচিউরিটি আসে না।

🧩 এই সময়ে ঘটে তিনটি বড় পরিবর্তন 💁‍♀️

১. Synaptic Pruning:
শিশু অবস্থায় যত নিউরন কানেকশন ছিল, তার অপ্রয়োজনীয়গুলো কেটে ফেলা হয়, যেন শুধু গুরুত্বপূর্ণ কানেকশনগুলো টিকে থাকে।অর্থাৎ, “use it or lose it”, যে অভ্যাসগুলো টিনএজে বেশি হয়, সেগুলো স্থায়ী হয়ে যায়। তাই এই সময় ভালো অভ্যাস গঠন সবচেয়ে জরুরি।

২. Myelination বৃদ্ধি:
ব্রেইনের সিগন্যাল চলাচল আরও দ্রুত হয়। কিন্তু এখনো অসম্পূর্ণ!তাই তারা মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু পরিণতি ভেবে দেখে না।

৩. Prefrontal Cortex এখনো পরিপক্ক না:
এটি হলো “decision-making” এবং“self-control”-এর জায়গা।এই অংশ পুরোপুরি গঠিত হয় প্রায় ২৫ বছর বয়সে।
তাই টিনএজরা ভাবার আগেই কাজ করে ফেলে, পরে আফসোস করে।এটা “অবাধ্যতা” নয়, বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ।

🔥 ২. অ্যামিগডালা হয়ে ওঠে রাজা, আবেগে ভেসে যাওয়া স্বাভাবিক

টিনএজ ব্রেইনে এক সময়ের জন্য অ্যামিগডালা (emotion center) প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে যায়।ফলে আবেগ, প্রেম, রাগ, ভয়,সবকিছুই বেশি তীব্র হয়।

এ কারণেই,
সামান্য কথায় তারা কেঁদে ফেলে বা রেগে যায়

প্রেমে পড়ে যায় হঠাৎ

বাবা-মার কথায় “বোঝে না” এমন আচরণ করে

এগুলো আসলে মস্তিষ্কের হরমোন ও নিউরনের খেলার অংশ।

🧬 ডোপামিন তখন উর্ধ্বমুখী থাকে,
তাই নতুন কিছু করা, রিস্ক নেওয়া, এক্সপেরিমেন্ট করা,সব তাদের কাছে উত্তেজনাময় লাগে।
এই কারণেই তারা নতুন বন্ধু, নতুন অভিজ্ঞতা, প্রেম, সোশ্যাল মিডিয়া,এসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

💞 ৩. টিনএজ মস্তিষ্কে প্রেম বা আকর্ষণ খুব স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া

অনেক বাবা-মা ভাবে, “এতো ছোট বয়সে প্রেম কেন?”
কিন্তু সত্য হলো — এই বয়সে Oxytocin, Dopamine, এবং Estrogen/Testosterone হরমোন একসাথে সক্রিয় হয়,যা “bonding & attraction” তৈরি করে।

তারা আসলে ভালোবাসা বুঝতে চায়,
নিজের অস্তিত্ব যাচাই করতে চায়।
তাই এই সময় “প্রেম” মানে শুধুই সম্পর্ক নয়, বরং নিজেকে খুঁজে পাওয়া। এমন ভাবে তারা।

বাবা-মার এখানে করনিয় কিছু কাজ:
“ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা” নয়, বরং “নিরাপদে বোঝানো”।কারণ, যখন বাবা-মা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সন্তান বাইরের ভুল উৎসে উত্তর খোঁজে। বাবা -মা রেগে দূরে ঠেলে দিলে, তারা সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে আরো বেশি মিশে,আরো উল্টো পথে যায়।

🧩 ৪. বাবা-মা যা দেখেন “বিদ্রোহ” হিসেবে, তা আসলে “স্বাধীনতার খোঁজ”

প্রতিটি টিনএজারের ভিতরে জেগে ওঠে প্রশ্ন,
“আমি কে?”, “আমার সিদ্ধান্তের মূল্য কত?”
এই আত্মপরিচয় খোঁজার প্রক্রিয়া হলো Identity Formation।

যখন বাবা-মা সব কিছু নির্ধারণ করে দেয়,
তখন মস্তিষ্কের reward system rebel mode-এ চলে যায়। তাই “না” বললেই তারা আরও জেদী হয়।

🔹 Gentle parenting বলছে: এই সময় তাদের সিদ্ধান্তের অংশীদার বানাও। বাসার সকল সিদ্ধান্তে এই বয়সী সন্তানকে, অংশ নিতে দিন।
🔹 Authoritative parenting বলছে: সীমা দিন, কিন্তু সম্মান রেখেই।
🔹 Neuro parenting বলছে: কথার টোন, সময়, ও মস্তিষ্কের রিসেপশন বুঝে বলুন।

⚖️ ৫. বাবা-মার আবেগ টিনএজ মস্তিষ্কে সরাসরি ছাপ ফেলে,বাবা-মা যদি চিৎকার করে, অপমান করে, বা অবহেলা করে, সন্তানের মস্তিষ্কের “amygdala” সেটাকে threat হিসেবে রেজিস্টার করে।
এর ফলে সন্তান “fight or flight” মুডে চলে যায়।

তখন সে হয় আক্রমণাত্মক (fight),
না হয় একেবারে চুপ (flight)।

অন্যদিকে, যখন বাবা-মা শান্ত থেকে বলে,
“আমি বুঝি তুমি রাগ করেছো, কিন্তু আমরা একসাথে বুঝে নিতে পারি”। " এই বয়সে এটা তোমার কাছে স্বাভাবিক, তবে বাবা এখন এমন পথে পা বাড়ালে, বিপদ হতে পারে"।

তখন মস্তিষ্কের prefrontal cortex পুনরায় সক্রিয় হয়।
এটা হলো “co-regulation”, যেটা নিউরো প্যারেন্টিংয়ের মূল চাবিকাঠি।

🌈 ৬. এই বয়সে কীভাবে সংযোগ বজায় রাখবেন

❤️ ১. শুনুন, উপদেশ নয়:
তারা প্রথমেই চায় শোনা হোক, বিচার নয়।
একবার শোনা হয়ে গেলে তারা নিজের ভুলও বুঝে নেয়। কিন্তু জোড় করে চাপিয়ে দিলে, মেনে নিলেও মনের মধ্যে বিশাল ক্ষোভ থাকে।

❤️ ২. দৈনিক ‘১৫ মিনিট কানেকশন টাইম’ রাখুন:
যেখানে ফোন, লেকচার কিছু থাকবে না।
শুধু একসাথে গল্প, হাঁটা, চা, বা সঙ্গীত। খুব মজা করা। আপনি যখন সন্তানকে প্রপার সময়, ভালোবাসা বন্ধুত্ব দেবেন। সে আপনাকে কষ্ট দেবার আগে ১০ বার ভাববে।

❤️ ৩. সীমা রাখুন, কিন্তু ব্যাখ্যাসহ:
“তুমি পারবে না” বলার বদলে, বলুন “তুমি পারো, কিন্তু এই কারণেই এখন না।” ভালো মন্দ সবটা বুঝিয়ে বলুন। সীমারেখা বেঁধে রাখুন, কিন্তু কেন এখন এটা মানা মঙ্গল সেটাও বুঝিয়ে বলুন।

❤️ ৪. নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন:
টিনএজারকে শান্ত করতে হলে আগে নিজের সিস্টেম শান্ত করতে হয়।কারণ, তাদের মস্তিষ্ক আমাদের আবেগ ‘মিরর’ করে। তাই আগে নিজেকে কন্ট্রোল করুন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা🙏

টিনএজাররা খারাপ না, তারা পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।তাদের আচরণের পেছনে রয়েছে অসংখ্য নিউরন, হরমোন, ও আবেগের যুদ্ধ।
এই বয়সে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নিরাপদ কানেকশন দরকার।

পরবর্তী পর্ব (পর্ব ২): “টেনএজদের প্রেমে পড়া, মস্তিষ্কের কেমন পরিবর্তন "

এখানে দেখানো হবে কিশোর বয়সে প্রেম, আকর্ষণ, ও আবেগের পেছনের নিউরোসায়েন্স,
এবং কীভাবে বাবা-মা এই বিষয়টি সচেতনভাবে সামলাতে পারেন ,ভয় নয়, ভালোবাসা দিয়ে।

আজকাল সামাজিক অবক্ষয় এতোটাই বেড়েছে, যা বলার মতোন না, টিনএজদের অপরাধমুলক কাজ ও ভুল পথে পা বাড়ানোর হাড় অনেক। তাই ভাবলাম, টিনএজ সন্তানদের বাবা-মা এর জন্য একটা সিরিজ লেখা দরকার। ৮টি পর্বের এই সিরিজে সব জানানোর চেষ্টা করবো। আপনারা উপকৃত হবেন।
আরো কোনো বিষয়ে জানার থাকলো জানাবেন, কমেন্ট সেকশনে।

নিজে জানুন, অন্য বাবা-মা কে সাহায্য করুন।
ধন্যবাদ 🙏

লেখা ঃ #সংগৃহীত

02/11/2025

# #যেভাবে টিনএইজ সন্তানের প্রেম হ্যান্ডেল করবেন # #

গতকাল টিনএইজ প্রেমের সমস্যা নিয়ে লিখেছিলাম। আজ লিখছি, এধরনের সমস্যা বাবা-মা কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন সে ব্যাপারে। একমাত্র ভুক্তভোগী জানেন এটি কত বড় সমস্যা। তাই এ লেখার মাধ্যমে একজন উপকৃত হলেও ধন্য হবো।

১। প্রথমে নিজেকে সামলান।

টিনএইজ বাচ্চার প্রেমের খবর জানলে মা-বাবা সাধারণত খুব দ্রুত রিয়্যাক্ট করেন। সাধারণত তা হয় রাগারাগি, কান্নাকাটি, চেঁচামেচি, মারধোর। দয়া করে এগুলো করবেন না। শান্ত থাকুন। এ ধরনের সমস্যা কমন। আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রথম হয়নি। তাই রাগারাগি বা খুব ইমোশোনাল আচরণ না করে ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটি হ্যান্ডেল করুন। এটা নিয়ে যত চেঁচামেচিই করুন না কেন সমস্যার সমাধান হবে না।বরং আপনার সন্তান আরো জেদি হয়ে উঠবে এবং কোনো কথা শুনবে না। তাই সবার আগে নিজেকে সামলান।

২। পার্টনারের সাথে আলোচনা করুন।

এ সমস্যার মুখোমুখি হলে স্বামী-স্ত্রী একান্তে তা কীভাবে মোকাবেলা করবেন সে ব্যাপারে আলোচনা করুন। এক্ষেত্রে মায়েরা অনেক সময় একটি ভুল করেন। তাহলো, ব্যাপারটি জানলে স্বামী রাগ করবেন ভেবে তা তাঁর কাছে গোপন রাখেন।নিজে নিজে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাচ্চার বাবা যখন জানতে পারেন তখন সমস্যাটি এত প্রকট হয়ে যায় যে, সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই মা কিংবা বাবা যেই প্রথম ব্যাপারটি জানবেন, তিনি তা অপরজনকে জানাবেন। একার বুদ্ধিতে নয়, দুজনের বুদ্ধিতে সমস্যাটি মোকাবেলা করুন।

৩। সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন।

রাগারাগি না করে ব্যাপারটি নিয়ে সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। বোঝার চেষ্টা করুন ব্যাপারটি কতদূর এগিয়েছে। তাকে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ দিন। শোনার আগেই বিচারের রায় না দিয়ে তার বক্তব্য কী, কেন সে এ পছন্দে জড়ালো তা বলতে দিন। ওর বক্তব্য হয়ত আপনার পছন্দ হবে না, তারপরও শুনুন। এধরনের সমস্যা সমাধানে তার কথা শোনা অনেক কাজে লাগবে।

৪। ঠান্ডা মাথায় বোঝান।

তার বক্তব্য শোনার পর খুব ঠান্ডা মাথায় কেন আপনি এ সম্পর্ক সমর্থন করেন না তা বোঝান। বিপক্ষে বলার অনেক ক্লু ওর কথাতেই পেয়ে যাবেন। যেমন, যার সাথে সম্পর্ক তার অনিশ্চিত ভবিষ্যত, পারিবারিক ঝামেলা, যা ভবিষ্যতে সমস্যা করবে, এরকম অনেক ক্লু। তবে যাকে ওর পছন্দ তার বদনাম করবেন না, তার পরিবারকে টেনে এনে ছোটো কথা বলবেন না। এটি উলটো সমস্যা করবে। বরং ওকে বোঝান কেন এ সম্পর্ক প্র্যাকটিক্যাল নয়। ও যদি বুঝতে পারে আসলেই সম্পর্কটির ভবিষ্যত নেই তাহলে নিজেই সরে আসবে।

৫। টিনএইজ প্রেমের সমস্যা সম্পর্কে বলুন।

ওকে উদাহরণ দিয়ে টিনএইজ প্রেমে কী কী সমস্যা হয় তা বুঝিয়ে বলুন। আপনার আশেপাশেই এরকম উদাহরণ আছে। আমি গতকাল এধরনের প্রেমে কী সমস্যা হয় তা লিখেছি। চাইলে আমার পেইজ স্ক্রল করে তা পড়তে পারেন।

৬। ওর বন্ধুদের সাহায্য নিন।

এ বয়সের ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কথা যত শুনে তার চেয়ে বেশি শুনে ওদের বন্ধু বা সমবয়স্কদের কথা। তাই ওর সবচে কাছের বন্ধবান্ধব বা কাজিনের সাথে কথা বলুন। তাদের অনুরোধ করুন ওকে বুঝিয়ে বলতে। ওরা বোঝালে কাজ হতে পারে।

৭। হুমকি দেবেন না।

অনেক মা-বাবা এধরনের সম্পর্কের কথা শুনে যার সাথে সম্পর্ক তাকে হুমকি দেন, ভয় দেখান, ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেন। প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে এর ফলাফল নেগেটিভ। এতে দুজনে জেদ আরো বাড়ে এবং শুধু জেদের কারণে আরো গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

৮। বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন।

এরকম সমস্যায় পড়লে নিজেকে সন্তানের কাছে শত্রু বানাবেন না। বরং তার বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন। সে বিশ্বাস করবে, আপনি মান-সম্মান বা নিজ স্বার্থে নয়, ওর ভালোর জন্য উপদেশ দিচ্ছেন। এরকম একটি জায়গা তৈরি করলে সে আপনার উপর আস্থা রাখবে এবং ভুল সম্পর্ক থেকে সরে আসবে।


৯। সবাইকে বলে বেড়াবেন না।

দয়া করে জনে জনে আলাপ করে পরামর্শ চাইবেন না। এতে আপনার সন্তান অপমানিতবোধ করবে এবং আরো জেদি হয়ে উঠবে। ফলাফল হচ্ছে, সম্পর্কচ্ছেদ না করে সে জিদ করে আরো বেশি জড়াবে।

১০। ওর অনুভূতিকে অপমান করবেন না।

টিনএইজ বাচ্চারা খুব অনুভূতিপ্রবণ। ওদের অনুভূতিতে আঘাত করলে ওরা কখনোই তা মেনে নেয় না। বরং উল্টো আচরণ করে। তাই ওর অনুভূতিকে আঘাত না করেই ওকে বোঝান। মাথায় হাত বুলান, বলুন, 'এ সম্পর্ক শেষ করার কষ্ট আমি বুঝি। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। তোমার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তোমাকেও মানতে হবে।'

১১। বিশ্বস্ত কারো পরামর্শ চাইতে পারেন।

জনে জনে না বললেও, খুব বিশ্বস্ত এবং আস্থা রাখা যায় এরকম কারো সাথে আলাপ করতে পারেন। যিনি পুরো প্রাইভেসি বজায় রেখে আপনাকে পরামর্শ দেবেন।

১২। ঘরে আটকে রাখবেন না: পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।

পারতপক্ষে প্রেমের কারণে ওকে ঘরে আটকে রাখবেন না। যোগাযোগের এ যুগে চার দেয়ালের মাঝে আটকে রেখে প্রেম আটকে রাখা যায় না। ওকে স্কুল-কলেজে যেতে দিন। তবে তাকে একটি কথা বলবেন, তাহলো, ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি, এর অমর্যাদা করো না।‘ তার প্রতি এ শ্রদ্ধা ও আস্থা তাকে বন্দি রাখার চাইতে বেশি কাজ করবে বলে আমার ধারণা। তবে কতক্ষণ বাইরে থাকবে তা ঠিক করে দিন। যেমন, স্কুল বা কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে হবে। অন্যকোথাও গেলে কোথায় যাচ্ছে তা জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এধরনের পরিস্থিতিতে কখনোই পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।এতে তার জীবন ধ্বং*স হয়ে যাবে।

১৩। একে অন্যকে দোষ দেবেন না।

এধরনের সমস্যায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করেন। বিশেষ করে বাচ্চার মাদের দায়ী করা হয়। দয়া করে তা করবেন না। বরং দুজনে একসাথে সমস্যা মোকাবেলা করুন। নিজেরা ঝগড়াঝাটি করলে বাচ্চাকে সামলাবেন কখন?

১৪। ইট'স অ্যা পিউর মাইন্ড গেইম।

মনে রাখবেন, আপনার সন্তানকে এ সমস্যা থেকে বের করে আনার জন্য আপনি একটি মাইন্ড গেইম খেলছেন। এতে কে জিতবে আপনি না আপনার সন্তানের সর্বনাশা প্রেম? আপনি জিতবেন, যদি কৌশলী হন।যে কৌশলগুলোর কথা বলেছি সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। মাইন্ড গেইম সাপ-লুডু খেলার মতো। একটি ভুল চাল দিলেন তো সাপ আপনাকে খেয়ে ফেলবে। তাই সাবধানে খেলুন। ভেবেচিন্তে খেলুন। আপনার জেতার উপর নির্ভর করছে সন্তানের ভবিষ্যত।


১৫। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর।

অপ্রিয় সত্য হলো, টিনএইজ এমন একটি বয়স যখন কথা শোনানো খুব কঠিন। তাই সম্পর্কে জড়ালে তা থেকে সরিয়ে আনা খুব কঠিন। সেজন্য তাতে যাতে না জড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এর জন্য যা করা দরকার তাহলো,

ক) টিন এইজে পা দিলেই সন্তানের সাথে এ ধরনের সম্পর্কের খারাপ পরিণতি নিয়ে খোলামেলা আচরণ করুন। আমার মেয়ে এ বয়সে পড়লে তার মা ব্যাপারটি নিয়ে ওর সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। এটি খুব কাজে লেগেছে।

খ) তার প্রতি সতর্ক নজর রাখুন। কার সাথে মিশছে খেয়াল রাখুন। বন্ধুদের মাঝে মাঝে বাসায় ডাকুন।তাহলে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

গ। স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। রাতে ঘুমানোর সময় ওর নাগালে এ দুটো বস্তু যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করুন। বাসায় ওয়াইফাই থাকলে তা রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখুন। মোবাইল সেট আপনার কাছে জমা দিতে বলুন। একেবারে প্রথমদিকে যদি এ নিয়মগুলো বেঁধে দেন ও মেনে নেবে। তাই স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার আগেই এ শর্ত ক্লিয়ার করুন। গভীর রাতে বাচ্চার হাতে মোবাইল ফোন ‘ইবলিশ’ হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা হচ্ছে, টিন এইজ সন্তানের প্রেমের কথা জানলে ঝাঁটা নিয়ে 'তোর প্রেম বের করছি' বলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। লম্বা দম নিন, তারপর ভাবুন, 'আমি একটু যুদ্ধে নামছি এবং যুদ্ধে জিতে ঠান্ডা মাথা, গরম মাথা নয়। তাই আমার মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।'
তারপর যুদ্ধে নামুন। দেখবেন, আপনি জিতবেন।

Copy from syed badol wall

10/10/2025
02/10/2025

আপনি যদি দিনের প্রায় ১১ ঘণ্টা বসে কাটান তাহলে আপনার আগামী ৩ বছরের মধ্যে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০%।

* বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস আপনার ঘাড় ও গলার ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এবং এর পাশাপাশি মেরুদণ্ড সুস্থ রাখে।

* একজন মানুষের উচ্চতা নির্ধারিত হয় তার বাবা ও তার ওজন নির্ধারিত হয় মায়ের মাধ্যমে।

* মানুষের মস্তিষ্ক ৩ টি জিনিসের দিক থেকে নজর ফেরাতে পারে না তা চোখের নজর হোক বা মনের নজর হোক। আর সে ৩ টি জিনিস হচ্ছে খাবার, আকর্ষণীয় মানুষ ও বিপদ।

*ডানহাতি মানুষেরা খাবার চিবোনোর সময় ডান চোয়াল ব্যবহার করেন।

*অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মতে, ‘যদি পৃথিবীতে মৌমাছি না থাকে তাহলে পৃথিবীর সব মানুষ ৪ বছরের মধ্যে মারা যাবে’।

* পৃথিবীতে এতো বেশি প্রজাতির আপেল রয়েছে যে, আপনি যদি প্রতিদিন ভিন্ন প্রজাতির ১ টি করে আপেল খান তারপরও সবপ্রজাতির আপেল খেতে আপনার ২০ বছর সময় লাগবে।

* আপনি খাবার ছাড়া প্রায় ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ২৮ দিন বেঁচে থাকতে পারলেও ১১ দিন না ঘুমালে আপনার মৃত্যু অনিবার্য।

* যারা অনেক বেশি হাসেন তারা অন্যান্য মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ এবং ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী। বলা হয় হাসি বিষণ্ণতা রোগের সবচাইতে বড় ঔষধ।

* ধূমপানের কারণে যতো মানুষ মারা যায় ঠিক ততো মানুষই অলসতা এবং পরিশ্রমবিহীন জীবনের জন্যও মারা যান।

*মানুষের মস্তিষ্ক উইকিপিডিয়াতে যতো তথ্য রয়েছে তার ৫ গুণ তথ্য ধারণ ধারণ ক্ষমতা রাখে।

*আমাদের দেহ ৩০ মিনিটে যতোটা তাপমাত্রা নির্গত করে তা দিয়ে দেড় লিটার পানি ফুটানো সম্ভব।

*আমাদের পাকস্থলীতে যে অ্যাসিড রয়েছে তা রেজর ব্লেড গলিয়ে ফেলতে সক্ষম।

*মানুষ আনমনে আপনার জুতোর দিকে নজর দেবেন এটি মানুষের প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার। তাই সুন্দর জুতো পড়ুন। কারণ মানুষ অনেক সময় জুতো দেখেই ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করে ফেলেন।
🌸🌸🌸🌸🌸

Address

Sylhet District Bar Association. Sylhet
Sylhet
3100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Learn for Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share